গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২০ ইউনিট। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনীর দমকলকর্মী, বিজিবি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে লাগা আগুন দুপুর দেড়টায়ও নেভানো সম্ভব হয়নি। 

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে। আগুনে ফায়ার সার্ভিসের একজনসহ আহত ১০ জনকে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহীন আলম দেড়টার দিকে যুগান্তরকে বলেন, ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সকাল ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে টঙ্গী ও গাজীপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আগুনের লেলিহান শিখা অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বাদল বলেন, কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও আগুনের তীব্রতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়েছে। 

টঙ্গীর বেক্সিমকো রোডে অবস্থিত কারখানাটির দ্বিতীয় ইউনিটের চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে দুজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে কারখানার শ্রমিক সাদেক হোসেনের (৩৮) নাম জানা গেছে। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি। সাদেককে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ওষুধ তৈরির কাঁচামালে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। পরে ঢাকার উত্তরা ও কুর্মিটোলা এবং গাজীপুরের আরও ১৬টি ইউনিট যোগ দেয়।

এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দমকলকর্মীরাও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছেন।

 

সূত্র : যুগান্তর