শিশুর সঙ্গে মা–বাবার ইতিবাচক, আনন্দঘন মুহূর্ত শিশুর স্নায়ু শান্ত করে
জন্মের পর একটি শিশুর খাবার ও আশ্রয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় আবেগ, নিরাপত্তা, দিকনির্দেশনা ও ভালোবাসা। গবেষণা ও বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, স্থিতিশীল দুই অভিভাবকের (মা–বাবা) পরিবার সাধারণত শিশুর বিকাশে বেশি সহায়ক। মা ও বাবা, এই দুই অভিভাবক শিশুর ইমোশনাল বিকাশে ভারসাম্য আনেন। তবে এখানে বলে রাখা ভালো, শিশুর মা–বাবা অভিভাবক থাকার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেই মা–বাবার মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক থাকা।
মানসিক বিকাশ ও ইমোশনাল নিরাপত্তা
বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই অভিভাবকের উপস্থিতিতে শিশু সাধারণত বেশি স্থিতিশীল আবেগপ্রবণ পরিবেশ পায়। ২০ লাখের বেশি শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব পরিবারে দুই অভিভাবক উপস্থিত থাকেন, সেখানে শিশুদের শিক্ষাগত সাফল্য তুলনামূলক বেশি হয়। আর একক অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সব ধাপ শেষ করা ওই সন্তানদের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। কারণ, সিঙ্গেল বাবা অথবা সিঙ্গেল মা কাজ ও দায়িত্ব একা সামলাতে গেলে চাপ বেশি পড়ে। এতে শিশুর মানসিক সমর্থন কমে যেতে পারে। পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে আর্থিক অসংগতিও কারণ হিসেবে উঠে আসে।
আর্থিক ও দৈনন্দিন স্থিতি
গবেষণার তথ্য বলছে, দুই অভিভাবকের পরিবারে সাধারণত আয়ের উৎস বেশি থাকে। জীবনযাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল হয়। অন্যদিকে একক অভিভাবকের পরিবারে অনেক সময় আর্থিক চাপ বেশি থাকে। সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুর যত্নের ত্রুটি হতে পারে। এসব শিশুর শিক্ষা ও দৈনন্দিন বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
আবেগপ্রবণ সহায়তা ও সময় ভাগাভাগি
দুই অভিভাবক থাকলে একজন কাজের চাপ সামলানো বা অর্থনৈতিক বিষয়টা দেখভাল করলে, অন্যজন শিশুর পাশে থাকতে পারেন। ফলে শিশুকে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয়। এতে শিশু বেশি মনোযোগ, নিরাপত্তার অনুভূতি ও মানসিক সমর্থন পায়।
প্রত্যেক মানুষই সাধারণত আলাদাভাবে চিন্তা করেন, আলাদাভাবে সমস্যা সমাধান করেন। তাঁদের আচরণও হয় আলাদা। এতে শিশু জীবনের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্নভাবে শিখে বড় হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো, এসব কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন শিশুর মা ও বাবার মধ্যে বিশ্বাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আন্তরিকতা অটুট থাকবে।
গবেষণাগুলো একই সঙ্গে এটাও বলছে, শিশুর ভালো বিকাশ শুধু দুই অভিভাবকের ওপর নির্ভর করে না। পারিবারিক সম্পর্ক ভালো হলে, ভালোবাসা, যত্ন ও নিরাপত্তার অনুভূতি থাকলে একক অভিভাবকের পরিবারেও শিশুরা ভালোভাবে বড় হতে পারে।
শেষ কথা
মা–বাবা দুজনকেই শিশুর প্রয়োজন। তবে শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদ, ভালোবাসাপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশে থাকা। সেটা যদি মা–বাবা আলাদা থেকেও নিশ্চিত করতে পারেন, সেটিও ভালো। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি মা–বাবা এক ছাদের নিচে থেকে সন্তানকে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকর সুন্দর পরিবেশ দিতে পারেন। যদি পরিবারে বিচ্ছেদই ‘তুলনামূলকভাবে ভালো’ বিকল্প হয়, সে ক্ষেত্রে মা–বাবার বিচ্ছেদের পরও দুজনকেই সন্তানের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব যথাসম্ভব পালন করতে হবে। তাতে ব্রোকেন পরিবারের সন্তানদের ট্রমা ও ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্র: প্রথম আলো