অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ী স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে সেলিনা জেটলির।
মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স খেতাবজয়ী ২০০৩ সালে ফিরোজ খানের ‘জানশীন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির। এরপর ‘নো এন্ট্রি’, ‘গোলমাল রিটার্নস’ ও ‘থ্যাঙ্ক ইউ’-এর মতো একাধিক সফল বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। কিন্তু অভিনয়ে সাফল্য থাকলেন দাম্পত্যজীবনে ব্যর্থ অভিনেত্রী।
অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ী স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে সেলিনা জেটলির। এবার সামাজিক মাধ্যমে দাম্পত্যের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী।
অভিযোগ, চার সন্তানের কথা ভেবে স্বামীর কাছে শান্তিপূর্ণভাবে বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। উল্টো বিবাহবিচ্ছেদের আইনি খরচ চালাতে না পারলে তাকে বুয়ার কাজ করে উপার্জন করতে বলা হয়েছিল। এমনই জানিয়েছেন সাবেক মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স খেতাবজয়ী।
পিটার হাগের সঙ্গে ১৫ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
সেলিনা বলেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গোড়ায় তাদের বিবাহবার্ষিকীর উপহার পাবেন ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু হাতে আসে বিচ্ছেদের নোটিশ। সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী লিখেছেন— ‘এক বছর আগে একটি সুটকেস নিয়ে মুম্বাইয়ে ফিরেছিলাম। তাতে ছিল প্রয়োজনীয় নথি, প্রয়াত মায়ের শাড়ি আর একরাশ যন্ত্রণা।’
তিনি বলেন, মামলার প্রথম শুনানিতে বিচারক তাদের সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। সেই সুযোগে সন্তানদের কথা ভেবে স্বামীকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
সেলিনা বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম, ওর অত্যাচার ও মানসিক যন্ত্রণার কথা আদালতে বলব না। সন্তানদের কথা ভেবে যেন শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাই— এটুকুই চেয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, আইনি খরচ চালাতে না পারার কথা জানালে পিটার তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। টাকার অভাব হলে পরিচারিকার কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল তাকে বলে জানান। অভিনেত্রী বলেন, ‘১৫ বছরের দাম্পত্য, চার সন্তান। এই কি সেই মানুষ?’
সেলিনা বলেন, তার বিয়ের আগের সম্পত্তির ওপর দাবি জানানো হয়েছিল। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে অস্ট্রিয়ায় থাকতে হবে বলেও তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও একসময় বন্ধ হয়ে যায়।
অভিনেত্রী বলেন, সন্তানদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ মা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়ার প্রতিবেশীদের সাহায্যে রাত ১টায় বাড়ি ছাড়েন তিনি। বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্তও তার সঙ্গে ঘটে চলা পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন বলে দাবি সেলিনার।
সন্তানদের যৌথ অভিভাবকত্ব নিয়ে এখনও আইনি লড়াই চলছে বলে জানিয়েছেন সেলিনা জেটলি। তিনি বলেন, ‘তবু আমি ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করব। এই একা মা লড়াই চালিয়ে যাবে।’
সূত্র : যুগান্তর