আফগানিস্তানের ড্রোন

আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢোকার পর আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে চারটি তোরখাম সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এবং অন্য চারটি কোহাট সীমান্তের কাছের পাহাড়ি এলাকায় ভূপাতিত করা হয়। 

পাকিস্তানে ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (২৩ সেপ্টেম্বর) জানায়, নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী আফগান তালেবান সরকারের চালানো হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করেছে। তাদের দাবি, সক্রিয় ও সতর্ক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আটটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। তারা এ ঘটনাকে আফগান ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসীদের সরাসরি সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতার ‘আরো প্রমাণ’ বলে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের জনগণকে রক্ষায় সব সময় প্রস্তুত বলেও তারা জানিয়েছে। 

এর আগে সোমবার পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের কাছে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় ‘পরিমিত’ বিমান হামলা এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক স্থল অভিযান চালায়। এতে ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানায় পাকিস্তান। কোহাট ও হাঙ্গুতে অভিযানে নয়জন ‘খারিজি’ নিহত এবং তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি করা হয়। এর মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রও ছিল। 

কোহাটের পুলিশ লাইন্স মসজিদে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণে ২৩ জন নিহত হওয়ার পর এসব অভিযান চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। পরে আফগানিস্তানভিত্তিক হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান হামলার দায় স্বীকার করে। 

আফগানিস্তান থেকে ড্রোন ঢোকার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ৩০ জুন বেলুচিস্তানে ঢোকা চারটি ‘অপরিণত ড্রোন’ ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ১৯ জুনও খাইবারে একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়। 

পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানে টিটিপি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি রয়েছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হয়েছে। কাবুল অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

গত বছর খাইবার-পাখতুনখোয়ায় পাঁচ শতাধিক সশস্ত্র হামলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সীমান্ত সংঘর্ষের পর পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ শুরু করে। পরে ১৮ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। 

এদিকে এপ্রিল মাসে উরুমচিতে শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান টিটিপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা, তাদের অবকাঠামো ধ্বংস এবং এর প্রমাণ দেয়ার তিনটি দাবি তোলে। সর্বশেষ পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় ‘নির্ভুল হামলা’ চালিয়ে ২৬ জন ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

 

সূত্র : নয়া দিগন্ত