ব্যাংককে একটি বারে লাইভ মিউজিক চলাকালীন ভয়াবহ আগুনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে, যার পেছনে জরুরি বহির্গমন পথ বন্ধ থাকা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বারে ভয়াবহ আগুনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত ও গ্রহণ করেছেন।
গত রোববার রাতে দেশটির রাজধানীর রং বিয়ার না লাট ফ্রাও বার ও রেস্তোরাঁয় লাইভ মিউজিক চলাকালে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে মানুষ বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজনের পোশাকে আগুন ধরে যায়।
সোমবার ভোরে ২৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে একই দিনে আরো একজনের মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার সকালে ব্যাংককের চাতুচাক জেলা কার্যালয় জানায়, মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৭৫ জন, যাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের লাশ গ্রহণ করতে পুলিশ জেনারেল হাসপাতালে জড়ো হন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
ব্যাংককের গভর্নর চাডচার্ট সিট্টিপান্ট বলেন, বেশিভাগ মানুষ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছিল এবং কেন তা এত প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল, তা জানতে ফরেনসিক পুলিশ ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করছে। তদন্তে সম্ভাব্য বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং জরুরি বহির্গমন পথ বন্ধ ছিল কি না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মধ্যরাতের আগে তারা ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পান এবং হঠাৎ আলো নিভে যায়। এরপর বিস্ফোরণ ও তীব্র আগুন ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন আতঙ্কে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা উনসিত সামপুনথারাত মঙ্গলবার জানান, ওই বারের লাইসেন্স নিয়েও তদন্ত চলছে। বিশেষ করে সেখানে লাইভ মিউজিক আয়োজনের অনুমতি ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: নয়া দিগন্ত