হামের পর অনেক শিশুর নিউমোনিয়া হতে দেখা যাচ্ছে
হাম নিজে কোনো জটিল সংক্রমণ নয়, তবে হামের ভাইরাস রোগীর রোগ প্রতিরোধ-ব্যবস্থাকে আঘাত করে। কিছুদিনের জন্য হলেও অকার্যকর করে দেয় শিশুদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা। এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ঢুকে পড়ে নানা জীবাণু। হামের কারণে শরীরের ভিটামিন এ–এর মজুতও ঘাটতিতে পড়ে। শিশুমৃত্যুর মূল কারণ এই পরবর্তী সংক্রমণ, বিশেষ করে নিউমোনিয়া।
হামে কী কী জটিলতা হতে পারে
- নিউমোনিয়া।
- ভিটামিন এ ঘাটতি হওয়ার কারণে চোখের পানি কমে যাওয়া, রাতকানা, কর্নিয়া ঘোলাসহ অন্ধত্ব।
- ডায়রিয়া, শরীরে পানিশূন্যতা ও প্রস্রাব কমে যাওয়া।
- কান পাকা।
- মুখের ভেতর ঘা।
- ব্রেনে প্রদাহসহ দীর্ঘমেয়াদি খিঁচুনি রোগ।
কাদের জটিলতা বেশি হয়
- হামের বিরুদ্ধে যারা আগে পূর্ণ ডোজ কোনো টিকা পায়নি।
- যারা মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে।
- যেসব শিশুর বয়স ৫ বছরের কম, বিশেষ করে নবজাতক।
- যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা প্রথম থেকেই কম।
- যারা দীর্ঘদিন কেমোথেরাপি বা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে আসছে।
- অন্তঃসত্ত্বা।
তাদের হাম হলে জটিলতা অনেক বেশি হয়। কখনো কখনো তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এসব জটিলতার মধ্যে নিউমোনিয়াই বেশি ও গুরুতর। হামে আক্রান্ত শিশুর নিউমোনিয়া হলে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।
নিউমোনিয়া হয়েছে কি না, তা কীভাবে বুঝবেন
হামে আক্রান্ত শিশুর সাধারণত নাকে পানি আর হালকা কাশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে তার যদি শ্বাসকষ্ট হয়, তবে সতর্ক হতে হবে। মাকে খেয়াল করতে হবে যে—
- শিশুর বুকের ওঠানামার গতি অন্য সময়ের তুলনায় বেশি বেশি মনে হচ্ছে কি না।
- শ্বাস নেওয়ার সময় তার সামনের বুকের নিচের অংশ দেবে যাচ্ছে কি না।
- সে কোঁকাচ্ছে কি না।
- দুধ টানতে পারছে, না অস্থিরতা দেখাচ্ছে।
- যদি তার আঙুলে সেট করা পালস অক্সিমিটারে (যদি থাকে) অক্সিজেনের মান ৯০-এর কম দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ শিশুকে জরুরিভাবে হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসক অবস্থা বিচার–বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবেন। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেবেন। হাম হলে শিশুর সঠিক পুষ্টির দিকে নজর দিতে হবে। বুকের দুধ বন্ধ করা যাবে না। অন্যদের থেকে আলাদা করে পরিচর্যা করতে হবে। পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ভিটামিন এ খাওয়াতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো