আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মানতে পারছেন না শহিদ আফ্রিদি। আইসিসির দ্বিমুখী আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক।

শনিবার দিবাগত রাতে এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে হতাশা ব্যক্ত করেন সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।

‘বাংলাদেশে ও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির আচরণে আমি খুবই হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের বোঝাপড়া ভিন্ন।’

গত বছর পাকিস্তানে গিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে চায়নি ভারত। আইসিসি তাদের দাবি মেনে নিয়ে ফাইনালসহ তাদের ম্যাচগুলো আয়োজন করে দুবাইয়ে। অংশগ্রহণকারী অন্য সব দল পাকিস্তানে গেলেও ভারতের সঙ্গে খেলার জন্য সব দলকেই দুবাইয়ে যেতে হয়েছিল।

বাংলাদেশের চাওয়া অতটা কঠিনও ছিল না। নিরাপত্তার কারণে বিসিবির দাবি ছিল তাদের ম্যাচ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে। কিন্তু তাদের এই যৌক্তিক দাবি মানেনি আইসিসি।

আইসিসির এমন দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে আফ্রিদি লিখেছেন,  ‘ক্রিকেট পরিচালনায় সবার জন্য একই নিয়ম ও ন্যায্যতা থাকা দরকার। বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোটি কোটি সমর্থক সম্মানের দাবিদার—মিশ্র নীতি নয়। আইসিসির উচিত সম্পর্ক গড়া, ভাঙা নয়।’

এর আগে পাকিস্তানের আরেক সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিও একই সুরে কথা বলেন। রশিদ বলেন, বাংলাদেশকে বাদ দিলে পাকিস্তানেরও বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত।

শনিবার লাহোরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাকভি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড মিটিংয়েও একই কথা বলেছি। আপনারা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করতে পারেন না, যেখানে একটি দেশ যখন ইচ্ছা যেমন খুশি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আর আরেক দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করা হয়।’

স্বৈরাচারী আওয়ামী লিগ সরকার পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শীতল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেই আগুনে ঘি ঢালে নিরাপত্তার অজুহাতে আসন্ন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি বাতিলের ঘটনা। এর জেরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জোরালো করে বিসিবি।


বিসিবির শঙ্কার জায়গাটা হলো, ভারত যদি একজন খেলোয়াড়কেই নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে পুরো একটি দল, দলের কোচিং স্টাফ, সাংবাদিক ও ভক্ত-সমর্থকদের কিভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি ক্রিকেট ভক্তের কথা বিবেচনা না করে ভারতের পক্ষই নেয় তাদেরই আশীর্বাদপুষ্ট আইসিসি।

বাংলাদেশ নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেয়। যান প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেয় আইসিসি।


তথ্য সূত্র : ইনকিলাব