রূপচর্চায় ফল ও সবজি

drs6u

ত্বক কালো হয়ে যাওয়া, কালো ছোপ পড়া, ত্বকের রংয়ের অসমতা ইত্যাদি সমস্যাগুলোতে কমবেশি সবাই ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা সমাধানে আলু ও পেঁপে অনেক উপকারী। কারণ এতে থাকে ত্বকের কোষ পুণর্গঠনকারী এবং স্কিন এক্সফোলিয়েশন উপাদান।

ত্বকের এসব সমস্যা সমাধানের উপায় জানিয়েছেন ভারতের সোহাম ওয়েলনেস ক্লিনিকের কর্ণধার ও রূপবিশেষজ্ঞ দিভিয়া অরি।

আলু

bhvbujy

এই সবজিকে তুলনা করা যেতে পারে ভিটামিনের গুপ্তধনের সঙ্গে। ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, দস্তা, ফসফরাস সবই মিলবে। আলুতে থাকে ত্বকের রং ফর্সা করার ‘বিল্ট-ইন’ উপাদান। আলুর ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স কোষ পুণর্গঠক হিসেবে পরিচিত। বিশেষত ‘নিয়াসিনামাইড’, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স থেকে উৎপন্ন হওয়া এই উপাদান একটি গুরত্বপূর্ণ রং ফর্সাকারী উপাদান।

ব্যবহার পদ্ধতি: আলু পাতলা করে কেটে টুকরোগুলো নিয়ে ১০ মিনিট ধরে ত্বকে আলতোভাবে ঘষতে হবে। কাটা টুকরোগুলো শুকিরে গেলে পরিবর্তন করে নিতে হবে।

লেবু
dsrjkrfr5jh

ভিটামিন সি-তে টইটম্বুর একটি ফল লেবু। এটি ত্বকের মেলানিন কমাতে কার্যকর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টধারী হিসেবেও সুপরিচিত। লেবুতে থাকা সিট্রিক অ্যাসিড উৎকৃষ্ট মানের ‘এক্সফোলিয়েটিং’ উপাদান। সিট্রিক অ্যাসিড ত্বকের মৃতকোষ অপসারণ করে। ফলে ত্বকের রং হালকা ও উজ্জ্বল হয়।

ব্যবহার পদ্ধতি: এক টেবিল-চামচ বাদামি চিনির সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। এত যোগ করুন এক টেবিল-চামচ লেবুর রস। এই মিশ্রণ ত্বকে আলতো মাখিয়ে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে

,lbypivo

‘পাপাইন’ বা ‘পাপায়া প্রোটেইনিজ’ হল পেঁপেতে থাকা এক ধরনে এনজাইম যা ত্বকের উপরে জমে থাকা ময়লা ও মৃতকোষের আস্তর অপসারণে সহায়ক। ত্বকের চিকিৎসায় পেঁপে ব্যবহারে চামড়ায় নতুন কোষের উৎপাদনের প্রক্রিয়া চালু হয়।

ব্যবহার পদ্ধতি: পাকাপেঁপের রস তৈরি করে ত্বকের কালো হয়ে যাওয়া অংশে ১০ মিনিট মাখিয়ে রাখতে হবে। আবরণটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। এক মাস এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফল মিলবে।

ছবি: দীপ্ত।

নিজেই বদলে ফেলুন হেয়ার স্টাইল

iasoyeps

সামনের চুলের ধরন বদলে দিলেই পুরো বেশই যেন পাল্টে যায়। তবে এজন্যে বারবার পর্লারে গিয়ে টাকা খরচের দরকার নেই, একটু চেষ্টা করলে নিজেই বদলে নেওয়া যাবে সামনের চুলের নকশা।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে নিজেই নিজের সামনের চুল কাটা ও স্টাইল করার কিছু সহজ উপায় উল্লেখ করা হয়। এর জন্য প্রয়োজন হবে সঠিক অনুষঙ্গ বাছাই এবং খানিকটা চেষ্টা।

সঠিক অনুষঙ্গ বাছাইঃ চুল কাটার জন্য আলাদা একটি কাঁচি রাখা উচিত। অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত কাঁচি কোনোভাবেই চুল কাটার জন্য আদর্শ নয়। চুল কাটতে বেছে নিতে হবে চিরুনি ও ধারালো কাঁচি।

প্রথমে চুলের স্টাইল ঠিক করুন: সামনের চুলের স্টাইল কেমন চান সেটি প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে। এতে পিছনের চুলের সঙ্গে মিলিয়ে সামনের চুল কাটা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

চুল আলাদা করে নেওয়া:
সামনের ঠিক যতটুকু চুল কাটতে চান ঠিক ওইটুকুই আলাদা করে নিতে হবে পেছনের বাকি চুল থেকে। আলাদা করে নেওয়ার পর পেছনের চুলগুলো ক্লিপ দিয়ে আটকে নিতে হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় চুল কেটে ফেলার ঝুঁকি থাকবে না।

ট্রিম করুন:
প্রথমেই সামনের ঠিক যতটুকু চুল কাটতে চান তা মুখের উপর নিয়ে এসে সমানভাবে আঁচড়ে নিন। চুল ঠিক যেখানে কাটবেন তার উপর পর্যন্ত আঁচড়ে নিয়ে চিরুনি ধরুন। এবার কাঁচি উপরের দিকে সোজাভাবে ধরে ঠিক মাঝামাঝি থেকে কাটা শুরু করতে হবে। মাঝখান থেকে বাইরের দিকে কাটতে হবে। বাইরের দিকে কাটার সময় কাঁচি ৪৫ ডিগ্রি বাঁকিয়ে ধরে চুল কাটা শুরু করতে হবে।

মন মতো কাটা হলে ভালোভাবে আঁচড়ে মিলিয়ে দেখতে হবে চুল সব সমানভাবে কাটা হয়েছে কিনা।
কিছু পরামর্শ

– চুল কাটার আগে ভিজিয়ে নেওয়া উচিত নয়। কারণ ভেজা চুল শুকনা চুলের তুলনায় লম্বা হয়ে থাকে। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চুল কেটে ফেলার ঝুঁকি থেকে যায় ভেজা চুলের ক্ষেত্রে।

– চুল সবসময় কিছুটা বাঁকাভাবে কাটতে হবে। সামনের চুল একভাবে সোজাসুজি কাটলে দেখতে খারাপ লাগতে পারে।

ছবি: রয়টার্স।

ত্বক ঝুলে পড়া থেকে বাঁচতে

jfolio


সমবয়সি বন্ধুদের সঙ্গে সেলফিতে যদি নিজেকে বয়স্ক মনে হয় তবে বুঝতে হবে সময়ের আগেই ত্বকে পড়েছে বয়সের ছাপ। ত্বক ঝুলে পড়া এর মধ্যে অন্যতম।

ভারতের ন্যাশনাল স্কিন কেয়ার সেন্টারের ত্বকবিশেষজ্ঞ নাভিন তানেজা জানাচ্ছেন ত্বক ঝুলে পড়া কমানোর কিছু ঘরোয়া উপায়।

স্ট্রবেরি: ত্বকে কোষ সংকোচনকারী রাসায়নিক ‘অ্যাস্ট্রিজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে স্ট্রবেরি। তবে এটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। সদ্য থেতলানো তাজা স্ট্রবেরি দিয়ে মাস্ক তৈরি করে ত্বকে প্রয়োগ করতে হবে।

শসা ও অ্যাভোকাডো
: চামড়া ঝুলে যাওয়া রোধ করতে শসা ও অ্যাভোকাডোর মিশ্রণ বেশ কার্যকর। অপরদিকে শসাকুচি করে পুরো মুখে মাখলেও ঝুলে যাওয়া চামড়া দূর হবে।

টকদই ও ডিমের সাদা অংশ: দুটি ডিম ফেটে ফোমের মতো করে মুখ ও ঘাড়ে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া এই মিশ্রণের সঙ্গে এক টেবিল-চামচ টকদই মিশিয়ে ভালো মতো ফেটে নিতে হবে। মিশ্রণ ২০ থেকে ৩০ মিনিট ত্বকে মাখিয়ে রাখতে হবে।

দারুচিনি: ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে দারুচিনি-গুঁড়া, হলুদগুঁড়া, চিনি ও অলিভ ওয়েল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে প্রয়োগ করতে পারেন।

চালের গুঁড়া:
এতে থাকে অ্যান্টি-এইজিং উপাদান। দুই টেবিল-চামচ চালের আটা, দুই টেবিল-চামচ গোলাপ জল অথবা গ্রিন টি মিশিয়ে ত্বকে প্রয়োগ করতে হবে। কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

পেঁপে:
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর পেঁপে, যা ত্বকের মরা চামড়া অপসারণের পাশাপাশি মৃতকোষও অপসারণ করে। পেঁপে, চালের আটা, মধু একসঙ্গে থেতলে নিয়ে মুখে প্রয়োগ করতে হবে। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ছবি: রয়টার্স।

চুল ঘন দেখানোর উপায়

po9-[r

মাথার সঙ্গে লেপ্টে থাকা চুল দেখতে খুব একটা ভালো লাগে না। তাই চুলে খানিকটা ফোলাভাব অথবা চুল ঘন দেখাতে অনেক ধরনের শ্যাম্পু ও প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন অনেকে।

স্টাইলবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে চুলে তাৎক্ষণিক ফোলাভাব আনতে বেশ কার্যকর কিছু উপায় উল্লেখ করা হয়। এখানে সেসব বিষয় তুলে ধরা হল।

লেয়ার কাট: চুলের স্টাইল বা ছাঁট চুলের ধরনে পরিবর্তন আনতে বেশ কার্যকর। তাই যাদের চুল বেশি লেপ্টে থাকে মাথার সঙ্গে তাদের জন্য লেয়ার কাট বেশ উপযোগী। এতে চুল দেখতে কিছুটা ফোলা লাগবে।

ভলিউমিইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার: যাদের চুল বেশি লেপ্টে থাকে তারা ‘ভলিউমাইজিং শ্যাম্পু’ বেছে নিতে পারেন। এতে চুল ফোলা লাগবে এবং বাউন্সি হবে।

চুল ঢিলা করে বাঁধা: গরমের মৌসুমে চুল না বেঁধে ঘর থেকে বের হওয়া দুষ্কর। তবে সবসময় চুল অতিরিক্ত শক্ত করে বেঁধে রাখলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এতে চুল আরও লেপ্টে থাকবে। তাই চুল মাঝে মধ্যে হালকাভাবে বেঁধে রাখতে হবে।

চুল উল্টে ব্লো-ড্রাই করা: চুল জলদি শুকানোর ক্ষেত্রে তোয়ালে দিয়ে বেশি ঘষাঘষি না করে সুতির তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে মুছে নিতে হবে। এরপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে চুল উল্টে নিয়ে ব্লো-ড্রাই করে শুকিয়ে নিলে স্বাভাবিকের তুলনায় ফোলা লাগবে। তবে চুল ড্রায়ার দিয়ে শুকানোর পর ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে এরপর চুল আঁচড়ে নিতে হবে।

সিঁথির দিক পরির্তন করে নেওয়া:
মাঝে মধ্যে সিঁথির দিক পাল্টে নেওয়া যেতে পারে। একই জায়গায় নিয়মিত সিঁথি করার কারণে ওই জায়গার চুল পাতলা হয়ে একটি ভাগ হয়ে যেতে পারে। তাই চুল উল্টেপাল্টে স্টাইল করে নিলে চুলের ফোলাভাব চোখে পড়বে।

মডেল: তামান্না। ছবি: প্রামানিক।

নকশাদার কাজলরেখা

4sziuszis
একইরকম কাজল রেখার একঘেয়েমি দূর করতে চাইলে, কাজল রেখার সঙ্গে কিছু বিচিত্র নকশা যোগ করতে পারেন।

সাজের প্রথম কথা হচ্ছে বৈচিত্র্য যোগ করা। নকশাদার কাজলরেখা একে কীভাবে সাজটি অনন্য করে ফেলা যায় তাই জানিয়েছে সাজসজ্জাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট।

দুই ডানার কাজলরেখা: যে কোনো ভালো মানের জেল আই লাইনার শক্ত সূচালো একটা তুলি দিয়ে চোখের পাপড়ির ধার ঘেঁষে লাগাতে হবে। পাপড়ির কিনারা ঘেঁষে কাজলের রেখা চোখ থেকে একটু বাইরের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তবে উপর এবং নিচের রেখা একে অপরের সঙ্গে মিলবে না। ঠিকঠাক মতো দিতে পারলে রেখা দুইটি একে অপরের সমান্তরাল হবে।

তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা: যারা জ্যামিতিক নকশা সমঝদার এই কাজলরেখা তাদের জন্য একদম উপযুক্ত। এক্ষেত্রে নরম চ্যাপ্টা মুখের একটা পেন লাইনার প্রয়োজন হবে। তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা টানতে প্রথমে উপরের পাপড়ির পাড় ঘেঁষে রেখা টেনে চোখের প্রান্তে এসে থেমে যেতে হবে। এরপর নিচের পাপড়ির প্রান্ত ঘেঁষে কাজল রেখা টেনে চোখের সীমানার বাইরে উপর দিকে টেনে নিতে হবে। উপরের রেখা সামান্য আগিয়ে নিচের রেখার সঙ্গে মিলিয়ে দিলেই হয়ে যাবে তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা।

চৌকো কাজলরেখা: একটি শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করে, উপরের কিনারা রেখা বরাবর একটি পুরু রেখা আঁকাতে হবে। রেখা চোখের সামনের কিনারার সামান্য বাইরে থেকে শুরু হবে। তবে লক্ষ রাখতে হবে, রেখা যেন চোখ পার করে বাইরে না যায়। চোখের সামনের চারকোণা জায়গাটুকু কালো আই লাইনার দিয়ে ভরাট করতে হবে। যদি একটু সাহসী ব্যতিক্রম সাজ দিতে আগ্রহী হলে কালো না দিয়ে অন্য কোনো রংয়ের লাইনার ব্যবহার করা যেতে পরে। এই ক্ষেত্রেও জেল লাইনার ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

প্রচ্ছদের ছবির মডেল: তাসমিয়া মীম। ছবি: দিপ্ত।

আরও পড়ুন

রঙিন কাজলের ছোঁয়া

মেইকআপ ‘ট্রিকস’

উজ্জ্বল চোখের ঘরোয়া টোটকা

তারুণ্য ধরে রাখে নারিকেল তেল

65usx

নারিকেল তেল দামে সস্তা হলে কাজে এটি দারুণ পটু।

একটি সৌন্দর্যবিষয়ক ওয়েবসাইট জানিয়েছে ত্বকের তারুণ্য রক্ষায় নারিকেল তেলের উপযোগিতা প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

নারিকেল তেল কীভাবে কাজ করে? বয়সের বলিরেখা ত্বকের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিতে পারে। যেমন চোখের নিচে, কপালে বা মুখে। বলিরেখা দূর করার হাজার রকমের পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। তবে এই পণ্যগুলো বেশ দামী এবং এগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সেসব সমস্যা থেকে বাঁচতে নারকেল তেল অসাধারণ ফল দেয়। এটি ত্বকের কোলাজেন নামক কলার বৃদ্ধি ঘটায়। কোলাজেন হল তন্তু জাত প্রোটিন, এর কাজ কোষগুলোকে যুক্ত করা। এটি বৃদ্ধি পেলে ত্বকের কোষের শুকিয়ে যাওয়া ঝুলে হ্রাস পায়।

যেভাবে নারিকেল তেল ব্যবহার করতে হবে

– ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে সব ময়লা দূর করে তারপর মুখে নারিকেল তেল মাখতে হবে।

– নারিকেল তেল মাখার আগে ত্বক অবশ্যই মেইকআপ বিহীন হতে হবে। মেইকআপ দেওয়া ত্বক নারিকেল তেল শোষণ করতে পারে না।

– নারিকেল তেল হাতে নিয়ে আলতো করে ত্বকে ম্যাসাজ করে মাখতে হবে। এতে ত্বক নারিকেল তেল শোষণ করতে পারবে।

– প্রতিদিন ঘুমানোর আগে উপরোক্ত পদ্ধতিতে নারকেল তেল ত্বকে মেখে ঘুমাতে হবে।

কেনো নারকেল তেল উপকারী

– নারিকেল তেলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা সব ধরনের মুক্ত মৌলকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং বলিরেখাকে বাধা দেয়।

– নারিকেল তেল ব্যবহারে ত্বক আরাম পায়, এনজাইমকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং লাল ছোপ ছোপ দাগ ও চুলকানি থেকে রক্ষা করে।

– মেইকাপ তুলতেও নারিকেল তেল খুব কার্যকর।

– নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে নিজস্ব একটা আর্দ্রতা তৈরি হয় যা ত্বককে নরম রাখে।

সতর্কতা

কারও যদি উচ্চ-রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকে তাহলে নারিকেল তেল ব্যবহার করা ঠিক না। এতে উপকারের থেকে সমস্যাই বেশি হয়। তাছাড়া নারিকেল তেল থেকে অনেক রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

তাই ব্যবহার বা খাওয়ার সময় অবশ্যই পরিমান মতো নিতে হবে। আর কেউ যদি খাবার হিসেবে নারিকেল তেল ব্যবহার করেন তাহলে মুখে মাখার দরকার হয় না।

যশোরে বোমা বিস্ফোরণে দুজনের মৃত্যু

hukygi

যশোরে বোমা বিস্ফোরণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মধ্যে দুজন মারা যান।

পুলিশ বলছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে যশোর সদর উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামের মাঠের মধ্যে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে তাঁরা আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, স্থানীয় বাজারে অবস্থান করার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা বোমা হামলা চালায়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ইবাদুল ইসলাম (৩৮) ও মো. সবুজ (২৯)। তাঁদের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের কাঠামারা গ্রামে। অন্য তিনজন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁরা হলেন গোলাম মোস্তফা (৩০), রুবেল হোসেন (২১) ও রাকিব হোসেন (২৫)।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেনের ভাষ্য, ‘বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই পাঁচজন আন্দোলপোতা মাঠের মধ্যে বোমা তৈরি করছিলেন। এ সময় বিস্ফোরণ হয়।

আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা আন্দোলপোতা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, পাঁচজন আন্দোলপাতা বাজারে অবস্থান করছিলেন। মোটরসাইকেলে কয়েকজন এসে তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। পরে পালিয়ে যায়।

‘আসতে দিন গেইলকে!’

yuhk

ক্রিস গেইল কী, সেটাই দেখাতে চাই’—ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে হুংকার ক্যারিবীয় ওপেনারের। রবি শাস্ত্রীও কম যান না। ভারতের টিম ডিরেক্টরের পাল্টা জবাব, ‘আসতে দিন, আমাদের সব বোলার তাকে টার্গেট করবে।’ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সেমিফাইনালের আগে দুই দল রীতিমতো যুদ্ধংদেহী মেজাজে। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোড়কে লড়াইটা আরও দুজনের। বিস্ফোরক ক্রিস গেইলের মুখোমুখি দুর্দান্ত বিরাট কোহলি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৫৫, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অপরাজিত ৮২—চাপের মুখে কোহলির অসাধারণ ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ বিশ্ব ক্রিকেট। ভারতের ‘রানমেশিনে’র পারফরম্যান্স নিয়ে কাল সংবাদ সম্মেলনে আরও একবার মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন শাস্ত্রী, ‘এটা ছিল অসাধারণ ইনিংস (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)। টি-টোয়েন্টির অন্যতম সেরা ইনিংস। আরও অনেক টি-টোয়েন্টি হবে। কিন্তু যদি উপলক্ষ ও চাপ বিবেচনা করেন, সে যে ধরনের শট খেলেছে, অবিশ্বাস্য! মাঠজুড়ে ক্রিকেটের সব ধরনের শটই খেলেছে।’
নির্ধারিত ওভারের ক্রিকেটে ক্রমেই নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন কোহলি। তাঁর সাফল্যের কিছু কারণ জানেন শাস্ত্রী, ‘সেরাদের কাতারে সে থাকতে পারে, এই বিশ্বাস তার মধ্যে জন্মেছে। এ জন্য তাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। বিরাটের চেয়ে বেশি পরিশ্রম আর কেউ করে না। গত ১৮ মাসে সে যেভাবে সাফল্য পেয়েছে, কৃতিত্ব তাকে দিতে হবে।’
কোহলি কতটা ভয়ংকর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেটি অজানা নয়। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টেনে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রোহিত শর্মার ৬২ রানের সঙ্গে কোহলির ৫৪ রানের ইনিংসের কাছেই হার মেনেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজও কোহলি দাঁড়িয়ে গেলে স্যামিদের কপালে বড় দুর্ভোগই আছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে শুরু হলেও পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা ভারত ছন্দ ধরে রাখতে চায় শেষ চারেও। আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে শাস্ত্রীর, ‘এই সংস্করণে তারা ভয়ংকর একটা দল। তাদের দলে রয়েছে বেশ কয়েকজন বিস্ফোরক খেলোয়াড়। অনেক ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় আছে দলটিতে। তবে জানি তাদের বিপক্ষে কী করতে হবে। আমরা প্রস্তুত। এটাই আমাদের প্রথম নকআউট নয়। নকআউট ছিল সর্বশেষ ম্যাচটিও (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)। সেটা ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। এটা সেমিফাইনাল।’
এ পর্যায়ে পা হড়কালে পরিণতি কী, শাস্ত্রী কি সেটি জানেন না! দলের বিদায় হলে তাঁকেও পড়তে হবে তোপের মুখে। এক সাংবাদিক অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে জিজ্ঞেস করলেন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে। শাস্ত্রীর জবাব, ‘কাল (আজ) কী হয়, সেটা আগে দেখেন। এটা সেমিফাইনাল। আপনি আচ্ছা মানুষ তো!’
আইপিএলের সৌজন্যে গেইল-স্যামিরা ভারতে যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাঁদের কঠিন কাজই করতে হবে আজ। ভারতীয়দের কাঁদিয়ে উঠতে হবে ফাইনালে। ভারত নিশ্চয়ই কাঁদতে চাইবে না। বরং অতিথিদের বিদায় করাই তাদের লক্ষ্য।
জানি তাদের বিপক্ষে কী করতে হবে। আমরা প্রস্তুত—রবি শাস্ত্রী
বিষয়:
খেলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টি-২০ বিশ্বকাপ ২০১৬

পরিবার পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

uyfyo

পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম মানুষের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি নারীরা এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন কখন তারা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সন্তান নেবেন। শুধু তাই নয়, সন্তানের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারেও মায়েরা এখন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
২০১২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত পরিবার পরিকল্পনা-বিষয়ক সম্মেলনে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে আরও ১২ কোটি নারীর কাছে আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কয়েকটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ‘এফপি ২০২০’ শীর্ষক ওই লক্ষ্যমাত্রায় বেঁধে দেওয়া সময়সীমার অর্ধেক সময় পেরিয়ে যাচ্ছে ২০১৬ সালে। বিশ্বে এবং বাংলাদেশে ওই লক্ষ্যমাত্রার কিছুটা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে।
এফপি ২০২০ লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০৩০ সালের ওই লক্ষ্যমাত্রায় সবার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের গল্প
পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি বড় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মোট প্রজনন হার ১৯৭৫ সালে যেখানে নারীপ্রতি ৬ দশমিক ৩ ছিল, তা ১৯৯১ সালে ৪ দশমিক ৩ এবং তারপর ২০১৪ সালে ২ দশমিক ৩-এ নেমে আসে (বিডিএইচএস ২০১৪)। ১৯৭৫ সালে প্রথম জাতীয় জরিপের সময় সন্তানধারণের উপযোগী বয়সী বিবাহিত নারীদের মাত্র ৮ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করতেন। ২০১৪ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার ৬২ শতাংশে পৌঁছায়। সেই সাফল্যের ধারা বর্তমানে কিছুটা থেমে আছে বলে মনে হচ্ছে। ২০১৬ সালে প্রজনন হারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ০। আর জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার ৭৫ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু এখনো এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে মোট প্রজনন হার স্থির ছিল। তবে কয়েকটি এলাকায় তা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। চিত্রটা বাংলাদেশের একেক জায়গায় একেক রকম। মোট প্রজনন হার, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী প্রাপ্তির দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের। তবে এই তিন ক্ষেত্রেই রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অবস্থা সবচেয়ে ভালো ছিল। এখন সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অবস্থা ভালো হতে শুরু করেছে। তবে ঢাকা বিভাগে আবার মোট প্রজনন হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার মাত্র ১ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য অন্তত ৪ লাখ ৫০ হাজার নতুন নারীকে যেকোনো পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এতে এখানে বিভিন্ন সেবা, অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর অত্যধিক চাপ পড়ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমালেও ২০১১ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে দেশটিতে আরও ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষ যোগ হবে। ইউএনএফপিএর সহায়তায় ডেমোগ্রাফিক ইমপ্যাক্ট স্টাডি (ডিআইএস ২০১৫) এ তথ্য দিয়েছে। বাড়তি ওই জনসংখ্যার কারণে দেশের শ্রমবাজার প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, নগরবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। জনসংখ্যার বৃদ্ধি কমাতে যত শিগগির সম্ভব জন্মহার কমাতে হবে। তারপরও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে স্থিতিশীল করতে আরও ২০ থেকে ৩০ বছর লাগবে।

সুপারিশমালা
পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে এমন নববিবাহিত দম্পতিদের কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছানো
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নারী-পুরুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এ ধরনের নববিবাহিত দম্পতিদের কাছে যেতে হবে। এ ছাড়া গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত কিশোরী-তরুণী ও নারীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, তাঁদের কাছে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দেওয়াটা কঠিন। এ ছাড়া চা-বাগানে কর্মরত নারী, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী, শরণার্থী নারী, জেলে সম্প্রদায় এবং নগরের বস্তি এলাকার নারীদের প্রতিও বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে যেন তাদের কাছে সকল সেবা পৌঁছায়।

দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের হার বাড়ানো

যেসব দম্পতির ইতিমধ্যে সন্তান হয়েছে এবং আরও দীর্ঘদিন সন্তান জন্মদানে সক্ষম থাকবেন, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী পদ্ধতিগুলো আদর্শ পদ্ধতি। এটা গর্ভধারণের হারকে বছরে ৩০ শতাংশ কমাবে। আমাদের দেশে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণের হার অস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের তুলনায় কম। দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণের হার বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রসব-পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা
বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা রয়েছে ১২ শতাংশ। তারপরও প্রসব-পরবর্তী প্রথম দুই বছর পরিবার পরিকল্পনা করছেন এমন ৪৪ শতাংশ নারীর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী পদ্ধতি নেন। অথচ তাঁরা ইচ্ছে করলেই আইইউডির মতো দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। প্রসব-পরবর্তী সময়ে সেবাকেন্দ্রে গেলে যেন তাঁরা একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা সেবাগুলোও পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সমন্বিত মানসম্মত সেবা প্রদান
পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানকারী, বিশেষত দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে দক্ষ সেবাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো দরকার। সেবার গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা সেবা সবার নাগালের মধ্যে এবং আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে হবে। প্রত্যেকের জন্য সঠিক ব্যবস্থাটি কী হবে, সে সম্পর্কে সেবাকর্মীরা যেন গ্রাহকদের সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ওই কর্মীরা গ্রাহকের প্রথম সন্তান দেরিতে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেবেন এবং পরিবারপিছু শিশুসংখ্যা সীমিত রাখার উপযোগী সেবা দেবেন।
ইউএনএফপিএর একটি প্রতিবেদন থেকে অনূদিত

ছেলে-মেয়ের কি শুধুই বন্ধুত্ব হয়?

uh8ogyf7

ইংরেজি সাহিত্যের লেখক ভার্জিনিয়া উলফ বলেছিলেন, ‘কেউ কেউ পুরোহিতের কাছে যায়, কেউ কবিতার কাছে, আমি যাই বন্ধুর কাছে।’ বন্ধু কিংবা বন্ধুত্ব। স্কুলজীবনের শুরুর দিনগুলোতে অনেকেরই নতুন অভিজ্ঞতার নাম বন্ধুত্ব। পরিবারের চেনা জগত্টা যে এক লাফে অনেক দূর চলে গিয়েছিল সে তো বন্ধুদের হাত ধরেই। জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে যে যেখানেই থাক না কেন, চলার পথে বন্ধুত্ব নামের এই পাথেয়টির তুলনা বোধ হয় আর কিছুর সঙ্গেই চলে না। এ এমনই বিষয় যেন কিছু না থাকলেও বন্ধুত্ব থাকলে চলে। আবার সব থাকলেও বন্ধুত্ব ছাড়া চলে না!
এই বন্ধুত্ব যদি ছেলেমেয়ের মধ্যে হয়? তা কি নিছকই বন্ধুত্ব নাকি ভিন্ন কিছু। এ ক্ষেত্রে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি উদ্ধৃতি—ছেলে এবং মেয়ে বন্ধু হতে পারে কিন্তু তারা অবশ্যই একে অপরের প্রেমে পড়বে। হয়তো খুবই অল্প সময়ের জন্য অথবা ভুল সময়ে। কিংবা খুবই দেরিতে, আর নাহয় সব সময়ের জন্য। তবে প্রেমে তারা পড়বেই।
বন্ধুত্ব ও প্রেম! এ নিয়ে কয়েকজন তরুণ পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাঁদের মতামত।

* ছেলেমেয়ের সম্পর্ক বন্ধুত্বেরও হয়, আবার ভালোবাসারও হয়। অবস্থা বুঝে হয় একেক রকম। অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলোই ভালোবাসার দিকে গড়ায়। তা থেকে শেষ পর্যন্ত পাশাপাশি হেঁটে একটা জীবন পার করে দেওয়া যায়।
তুহিন সাইফুল
মনোবিজ্ঞান বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

* একজন ছেলে আর একজন মেয়ে অবশ্যই প্রথমে বন্ধু হয়। ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা হতেই পারে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে হবে এমনটা না। যেমন একজন মেয়ের যদি একাধিক বন্ধু হয়, তার মানে এটা না সে ওদের সবাইকে ভালোবাসে। একই কথা ছেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বন্ধুত্ব যদি সীমার মধ্যে থাকে, তবে অবশ্যই সারা জীবন বন্ধু হয়ে থাকা সম্ভব।
শামীমা নাসরিন
শেষ বর্ষ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

* সম্পর্ক কীভাবে কোন দিকে মোড় নেবে তা একান্তই দুটো মানুষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। যদি ভালোবাসা হয়েও যায়, তবে বন্ধুকে ভালোবাসা যায়। বন্ধুত্বেও ভালোবাসা থাকে।
নুরাঈয়ান নিসা
প্রথম বর্ষ, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

* একজন ছেলে ও একজন মেয়ের মধ্যে শুধু ভালোবাসার সম্পর্ক হয়, এটা ভুল। বরং তার চেয়ে একটা ছেলের সঙ্গে একটা মেয়ের খুব ভালো বন্ধুত্ব হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা দেখা যায়। সবাই তো আর বন্ধুত্বকে ভালোবাসায় গড়িয়ে নেয় না।
তামান্না ইয়াসমিন
অর্থনীতি বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ
ইডেন কলেজ, ঢাকা।

* বন্ধুর মধ্যে তফাত আছে। অনেক বন্ধু আছে যাদের সঙ্গে দিনে একবারও কথা হয় না। আবার কিছু আছে যাদের নাড়ির খবর প্রতিমুহূর্তে না জানলে ঘুম হারাম হয়ে যায়। এ রকম বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে যে যা-ই বলুক, অনেক কিছু সম্ভব। আর প্রেম-ভালোবাসা ব্যাপারটা বড়ই আজব। এটা যে কখন কার মধ্যে আসে, বোঝা বড় দায়।
সাকিব নাহিদ
টেক্সটাইল প্রকৌশলী
তাকওয়া ফেব্রিকস লিমিটেড।

* একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই এই বন্ধুত্ব ভালোবাসাতে পরিণত হয়। কারণ, ভালোবাসার মানুষে পরিণত হতে হলে আগে ভালো বন্ধু হতে হয়। বন্ধুত্ব থেকেই পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত ভালো বন্ধু শুধুই বন্ধু হয়ে থাকতে পারে না। যদি দুজনের মনের মিল হয়ে যায়, তাহলে ভালোবাসা হতে পারে। সব ভালোবাসার মানুষই ভালো বন্ধু, কিন্তু সব ভালো বন্ধু ভালোবাসার মানুষ নাও হতে পারে।
লামিয়া রহমান
প্রথম বর্ষ, রংপুর মেডিকেল কলেজ।

* খুব ভালো বন্ধুত্ব থেকে অনেক সময় ভালোবাসার জন্ম নিতে পারে। তবে সাধারণত বন্ধুত্বের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই উত্তম।
সাজিদ আরাফাত
গবেষক, সময় টেলিভিশন

* চলার পথে দুজন ছেলেমেয়ের মধ্যে অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্মানজনক সম্পর্ক থাকা দরকার। এ ধরনের সম্পর্ককে আমি ইতিবাচক মনে করি। হ্যাঁ, অনেক সময় দেখা যায়, তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বন্ধুত্বের সম্পর্ক যদি ভালোবাসায় রূপ নিতে থাকে, তাহলে দুজনের সমান সম্মতিতে সম্পর্ক এগোনো যেতে পারে।
নুসরাত উষা
সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

* বন্ধুত্ব কখনো ছেলে বা মেয়ে এটার ওপর নির্ভর করে না। যখন কাউকে বন্ধু ভাবা হয় সে বন্ধুই থেকে যায়। আর তার স্থায়িত্বও উল্লেখ করার মতো।
রাযীন হালিম
তৃতীয় বর্ষ, ব্যবসায় প্রসাশন বিভাগ
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

* একজন ছেলের সঙ্গে যখন আরেকজন মেয়ের ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন তারা একে অপরের নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতে পারে। কোনো একসময় একজনের বা দুজনেরই মনে হতে পারে, ‘আমাকে আমার মতো শুধু এই বন্ধুটাই বুঝতে পারে, যা আর কেউ পারে না।’ ঠিক তখনই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভিন্ন পথে এগোতে পারে।
মানজারুল ইসলাম
তৃতীয় সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসন
সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

* বন্ধুত্ব মানে পবিত্র কিছু। সেটা ছেলে-ছেলে হোক বা ছেলে-মেয়ে হোক কিংবা মেয়ে-মেয়ে। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে যে কেবল ভালোবাসা হতে পারে তা নয়, তারা ভালো বন্ধুও হতে পারে। পাশাপাশি হাঁটলে, আড্ডা দিলেই মানুষটা ভালোবাসার মানুষ হয় না। আর স্বভাবতই মেয়েরা তাদের কাছের বন্ধুর সঙ্গে সব শেয়ার করতে পছন্দ করে। আর কোনো ক্ষেত্রে যদি সেটা ভালোবাসায় রূপ নেয়, তবে আমার মতে সেটা হবে সুন্দরতম সম্পর্ক। যেখানে একজন আরেকজনকে বোঝা-জানার সব রকম সুযোগ পায়।
ফারজানা ফারিয়া
প্রথম বর্ষ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম।

* নারী-পুরুষের সম্পর্ককে শুধুই প্রেম নামক বলয়ে আটকানোর উচিত নয়। একজন ভালো বন্ধু জীবনের অনেক বড় অর্জন। আমি মেয়ে বলে আমার বন্ধু শুধু মেয়েরাই হবে এমনটা হতে পারে না। চলার পথে একজন মেয়েবন্ধু যেমন জীবনের অংশ, একজন ছেলেও ঠিক তেমনই। তবে এ সম্পর্কের পরিণতি ক্ষেত্রবিশেষে প্রণয়ে গড়ায়, সব সময় নয়।
ইসমাত জাহান
গ্রাফিক ডিজাইনার, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, ঢাকা।

* একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্পর্কটি কখনো সারা জীবন বন্ধুত্বের পর্যায়ে থাকে না, ভিন্ন সম্পর্কে যেতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে খুব কমই ভিন্নতা আছে।
সেলিম জাহাঙ্গীর
দ্বিতীয় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

* ভালোবাসা সব সম্পর্কেই বিদ্যমান। ছেলেমেয়ের সম্পর্ক যদি বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু হয়, তবে একটা সময়ে এসে সেটা ভালোবাসায় গড়াতে পারে। সেটি বেশি দিন না চললে আবার আগের বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফিরতেই পারে।
জান্নাতুল ফেরদৌস
দ্বিতীয় বর্ষ, জীবপ্রযুক্তি বিভাগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নোয়াখালী ।

* বন্ধুত্ব তো বন্ধুত্বই। আমি বন্ধুকে বন্ধু ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এখানে ছেলে নাকি মেয়ে তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। তাই আমি মনে করি, একজন মেয়ে আরেকজন ছেলের ভালো বন্ধু এবং শুধুই বন্ধু হতে পারে। তবে ভালোবাসা বা প্রেম অন্য বিষয়, মনের বিষয়। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে ভালোবাসা হয়েও যেতে পারে!
ইফফাত হিমু
তৃতীয় বর্ষ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

.বন্ধুত্বের জন্য কাঁদতে হবে তা কখনো ভাবিনি…
লোকে বলত ছেলেমেয়েদের নাকি ভালো বন্ধুত্ব হয় না। একসময় তা প্রেমে রূপ নেয়। কিন্তু আমি আর তুই তা মিথ্যা প্রমাণিত করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তুই আমার কাছে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ উপহার ছিলি। প্রতিদিন নিজে খাওয়ার আগে আমার খবর নিতি যে আমি খেয়েছি কি না। ক্যাম্পাসের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তোর আর আমার স্মৃতিচিহ্ন নেই। বলতে গেলে আমার সবকিছুর কেন্দ্রেই ছিলি তুই। আজ সেই তুই আট মাস ধরে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করিস না। আমি এমন কী করেছি বন্ধু যার জন্য আমাকে এত বড় শাস্তি দিচ্ছিস তুই? আমাদের স্মৃতিগুলো আজ আমাকে বড় বেশি কাঁদায়। আমার কষ্টগুলো কাউকে বোঝাতে পারি না। তুই শুধু আমার বন্ধু ছিলি না, ছিলি বোন, ছিলি অভিভাবক, ছিলি সুখ-দুঃখের সাথি। আমি আর পারছি না। দয়া করে আমার কাছে ফিরে আয় বন্ধু।
ইতি
তোর পাগল বন্ধু
সন্ধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত সংগ্রহ: এস এম নজিবুল্লাহ চৌধুরী

দাঁত সুস্থ রাখতে যা করবেন

ipyo

খাবার যত সুস্বাদুই হোক না কেন, দাঁত সুস্থ না থাকলে খেয়ে মজা নেই। আবার এমন খাবারও খাওয়া উচিত নয়, যা দাঁতের বারোটা বাজিয়ে দেয়। কাজেই দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাবার-দাবার একটু বেছে নেওয়াই ভালো। দাঁত সুস্থ রাখতে যা যা করতে পারেন, তা এখানে তুলে ধরা হলো:
১. এমন খাবার না খাওয়াই ভালো, যা খেলে দাঁতের ‘অমর্যদা’ হয়! তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন। ব্ল্যাক টি, রেড ওয়াইনজাতীয় পানীয়কে ‘না’ বলুন। ধূমপান তো আপনার সাদা দাঁত হলদেটে বানানোর জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া কোমলপানীয়, চাটনি, সয়া সস এবং ঘন জুসও দাঁতের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
২. চেঞ্জ উই নিড—প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এটাই ছিল বারাক ওবামার মূলমন্ত্র। আপনার টুথব্রাশের বেলায়ও এই মূলমন্ত্র প্রয়োগ করুন। ব্রাশের বয়স দু-তিন মাস হলেই সেটাকে অবসরে পাঠান। না হলে সেই ব্রাশই আপনার মুখে ছড়িয়ে দেবে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত মাজার সময় মুখের ভেতর ব্রাশ রাখতে হবে ৪৫ ডিগ্রি কোণে। শরীরের সব শক্তি দিয়ে ঘষলেই দাঁত পরিষ্কার হয় না। ফলে দাঁতের সঙ্গে কুস্তি না লড়ে আস্তে-ধীরে মাজুন। ব্রাশ ধরুন ঠিক পেনসিল যেভাবে ধরা হয়।
৩. ‘যার মুখে গন্ধ, তার ভোট বন্ধ’—এমন একটা স্লোগান শোনা যায় দাঁতের মাজনের বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপনের বাণী ফেলনা নয়। মুখে দুর্গন্ধ মানেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া। জিব পরিষ্কার না থাকা এর অন্যতম কারণ। তাই প্রতি সকালে জিব পরিষ্কার করুন। এর জন্য টুথব্রাশ ব্যবহারের চেয়ে স্ক্র্যাপার ব্যবহার করাই ভালো।

৪. ‘ডিটারজেন্ট’ খাবার খান! আঁতকে ওঠার কোনোই কারণ নেই। ডিটারজেন্ট খাবার সেগুলোই, যেগুলো খেলে দাঁত পরিষ্কার হয়। এই খাবারগুলোর মধ্যে আছে মূলত ফলমূল, শাক-সবজি। খেতে পারেন আপেল, গাজর, পেয়ারা। পপকর্নও বেশ কাজে দেয়। সবচেয়ে ভালো হয় এ ধরনের খাবার মূল খাবারের পর খেলে। মানে সকাল, দুপুর বা রাতের খাবার খেয়ে একটা আপেল বা গাজর খেলেই দাঁত মোটামুটি পরিষ্কার!
৫. একটা পরীক্ষা চালাতে পারেন। শুনতে বিদঘুটে লাগলেও, এটা বেশ কেজো। হাতের তালু জিব দিয়ে ভেজান। ভেজা থাকতে থাকতে শুঁকে দেখুন। বাজে গন্ধ পেলে ব্যবস্থা নিন। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাউথওয়াশ পাবেন হাতের কাছেই। তবে মাউথওয়াশ যেন অ্যালকোহলমুক্ত হয়। বেশি অ্যালকোহলযুক্ত মাউথওয়াশ উল্টো আপনার দাঁতের বারোটা বাজাতে ওস্তাদ!
৬. দিনে দুবার দাঁত মাজুন। একবার সকালে, আরেকবার রাতে। মুখের লালা দাঁতের প্লাক (ময়লা) ধরে রাখে। ঘুমানোর সময় এই প্লাক শুকিয়ে দাঁতে জমে যায়। ঘুমানোর আগে দাঁত মাজলে প্লাক জমে না। আর সকালে নাশতার পর দাঁত মাজাই ভালো। এতে রাত আর সকালের প্লাক একসঙ্গে দূর হবে। রিডার্স ডাইজেস্ট অনলাইন অবলম্বনে

আমার নাকি ‘ভাব’ বেশি

ytofg

নাদিয়া মিম। ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর কাজ করেছেন টিভি নাটকে। এখন অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনা করছেন। এবার তারকার টি-টোয়েন্টির অতিথি তিনি।

নাদিয়া মিম ছবি
: কবির
হোসেনস্ট্রেট বল
প্রিয় মানুষ
আমার আম্মু (সাহানা আফরোজ)।
রাস্তার পাশের পছন্দের খাবার
ফুচকা।
ক্যামেরার সামনে প্রথম দিন
‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায়। সময়টা ছিল ২০১৪ সালের জুন মাস।
ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল
বড় হয়ে প্রকৌশলী হব।

গুগলি
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখতাম
আমি আবার ছোট হয়ে গেছি।
যাকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করি
আম্মুকে।
যে কথাটা দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলি
খাব না। তাই বলে ভাববেন না আমি ডায়েট করছি। আমি কিন্তু অনেক খাই।

জাদুর পাটি, আশ্চর্য প্রদীপ কিংবা একটা জাদুর কাঠি—সুযোগ থাকলে যেটা বেছে নিতাম
জাদুর কাঠি। আর তা দিয়ে ঘড়ির কাঁটা আমার পছন্দের সময়ে থামিয়ে রাখতাম।
বাউন্সার
আমার মুদ্রাদোষ

হুট করে রেগে যাই।
পুরোনো দিনের নায়কদের মধ্যে যাঁকে জীবনের নায়ক হিসেবে পেলে মন্দ হতো না

আমি ছোটবেলায় যাঁদের চলচ্চিত্রের নায়ক হিসেবে দেখেছি, এখনো তাঁরা নায়ক। তবে যেভাবে বলছেন, সেভাবে কখনো ভাবিনি।
আমার পাওয়া সবচেয়ে বিচিত্র প্রেমের প্রস্তাব
বলব কেন?

একাধিকবার দেখা সিনেমা
হোম অ্যালোন আর বেবি’স ডে আউট। এই দুটি ছবি কতবার যে দেখেছি, তার কোনো হিসাব নেই।

ফুল টস
যে কাজটা বারবার করলেও ক্লান্তি লাগে না
আড্ডা।
সারা রাত গল্প করার মতো বন্ধু
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বন্ধু পরিবর্তন হয়। তবে এখন শেফার সঙ্গে গল্প করতে দারুণ লাগে।
সবচেয়ে আনন্দের দিন
২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর। ওই দিন ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে হয়েছিল।
শ্রেষ্ঠ উপহার
আমার মা-বাবা।

পাওয়ার প্লে
প্রথম যেদিন নিজেকে তারকা মনে হলো
‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালের পরদিন। আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বিভিন্ন পত্রিকা আর টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। আরও অনেকে অপেক্ষা করছেন।
টিভিতে যেদিন আমাকে প্রথম দেখা গেল
ডায়েরিতে লিখে রেখেছি। ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার সময়। সম্ভবত ২০১৪ সালের জুলাই মাস ছিল।
নিজের সম্পর্কে শোনা সবচেয়ে বেশি ভুল অভিযোগ
আমার নাকি ‘ভাব’ বেশি।
প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার পর যা মনে হয়েছিল
অদ্ভুত এক অনুভূতি! এক মুহূর্তে সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে যাই!
সাক্ষাৎকার: মাহফুজ রহমান

কবর থেকে তোলা হলো তনুর লাশ

fpoxipox

আদালতের নির্দেশে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে।

বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহারের উপস্থিতিতে মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে তার লাশ তোলা হয়।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নিজের বাড়ির কয়েকশ গজের মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনুর লাশ পাওয়া যায়। তখন ময়নাতদন্তের পর তনুকে তার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে দাফন করা হয়।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে আসা সিআইডির কর্মকর্তারা আসার পর বেলা পৌনে ১২টার দিকে তনুর লাশ উত্তোলনের পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুপুরে এসপি কার্যালয়ে লাশ উত্তোলনসহ সামগ্রিক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলেও জানান তিনি।

লাশ উত্তোলনের সময় তনুর বাবা মো. ইয়ার হোসেন, কুমিল্লার এসপি শাহ মো. আবিদ হোসেন ও সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খানসহ গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেও খুনি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় গত শুক্রবার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে।

সোমবার ডিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্তে পুনরায় ময়নাতদন্ত করতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেয় কুমিল্লার একটি আদালত।

তনু হত্যার ঘটনায় তার বাবা ক্যান্টনবোর্ডের কর্মচারী ইয়ার আলীর মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এক সপ্তাহ পর ডিবিতে তা স্থানান্তর হয়। এখন তদন্তের ভার চেপেছে সিআইডির উপর।

খুনের আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া না যাওয়ায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। তবে তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা করতে হবে।

সোমবার বিকালে তনুর পোশাকসহ পাওয়া কিছু আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয় বলে কুমিল্লা ডিবির ওসি মনজুর আলম জানান।

এদিকে, তনু হত্যার বিচার দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ বুধবার সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ঘণ্টা ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে।

সেনানিবাসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে অনেকের পক্ষ থেকে সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে; যদিও সেনা কর্তৃপক্ষ তদন্তে বেসামরিক প্রশাসনকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

মেইকআপের সহজ কৌশল

e8p[-e7

শুধু নিজেকে সাজালেই চলবে না, সাজসজ্জ্বা সুন্দর করতে এবং তা ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে বেশ কিছু পন্থা জানা থাকা দরকার।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্র্রতিবেদন অবলম্বনে এমনই কিছু কৌশল উল্লেখ করা হল।

– লিপস্টিক সারাদিন স্থায়ী রাখতে লিপস্টিক লাগানোর পর ঠোঁটের উপর একটি টিস্যু ধরে তার উপর একটি ব্রাশের সাহায্যে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বুলিয়ে নিলে লিপস্টিক ম্যাট থাকবে এবং অনেক সময় স্থায়ী থাকবে।

– প্রথম কোট মাস্কারা লাগানোর পর তা শুকিয়ে গেলে চোখের পাপড়িতে হালকা করে বেবি পাউডার ছড়িয়ে নিতে হবে। এরপর দ্বিতীয় কোট মাস্কারা লাগাতে হবে। এতে চোখের পাপড়ি আরও ঘন দেখাবে।

– লাল লিপস্টিক দিলেও ঠোঁট দেখতে পাতলা লাগতে পারে। এক্ষেত্রে ঠোঁটের ঠিক মাঝামাঝি রূপালি বা নীল আইশ্যাডোর ‍গুঁড়া বুলিয়ে নিতে হবে। ঠোঁটের মাঝে এই রংয়ের আইশ্যাডো দিলে তা আলো প্রতিফলিত করবে আর এতে ঠোঁট দেখতে ফোলা লাগবে।

– আইশ্যাডো দেওয়ার আগে চোখের পাতায় প্রাইমার লাগিয়ে এরপর পুরো পাতায় সাদা কাজল লাগিয়ে আঙুল দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে। এর উপর আইশ্যাডো লাগালে তা দীর্ঘক্ষণ একই রকম থাকবে এবং রংগুলোও ফুটবে ভালোভাবে।

– কাজলের রং হালকা মনে হলে একটি লাইটারের সামনে কাজল নিয়ে কয়েক সেকেন্ড গরম করতে হবে। এতে কাজল ভালোভাবে বসবে এবং রংও গাঢ় হবে।

ছবি: দীপ্ত।

হাত পায়ের যত্নে রিফ্লেক্সোলজি

uyaeyi

ম্যানিকিউর এবং পেডিকিউরের আধুনিক পদ্ধতি।

আমরা অনেক সময়ই হাত-পায়ের যত্ন নিতে একটু গাফিলতি করি। দেখা যায় মুখটা অনেক সুন্দর তবে হাত পা রুক্ষ, শুষ্ক। অনেকেরই হাতের ত্বকে এক ধরনের কালো ছোপ পড়ে। সাধারণত যারা বাইরে বেশি বের হন; স্কুল, কলেজ, অফিসে যাওয় আসা করেন তাদের এরকম সমস্যা হতে পারে।

একটু সচেতনতা আপনার হাত পা সুন্দর রাখতে পারে। আর এ জন্য করাতে পারেন রিফ্লেক্সোলজি ম্যানিকিউর এবং পেডিকিউর।

এ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন আকাঙ্ক্ষা’স গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড’য়ের কর্ণধার অ্যারোমা থেরাপিস্ট জুলিয়া আজাদ।

দিনের বেলা যখনই বাইরে বের হন হাতে অবশ্যই সান্সক্রিন লোশন লাগিয়ে পাঁচ দশ মিনিট পর বের হন। এতে হাতের ত্বক কালো হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

বাসায় ফিরে ভালো ভাবে হাত মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার বা হ্যান্ড ও বডি লোশন লাগিয়ে নিন। হাত-পা ধুয়ে হাল্কা করে মুছেই সঙ্গে সঙ্গে লোশন লাগাতে ভুলবেন না। এতে আপনার হাত ও পা নরম থাকবে।

সপ্তাহে একদিন বডি স্কার্ব বা বাথ-সল্ট দিয়ে হাত পা ভালো ভাবে মালিশ করতে ভুলবেন না। এরপর বেশি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হাল্কা করে শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজিং করুন।

রাতের বেলা ভালোভাবে হাত-পা ধুয়ে পেট্রোলিয়াম জেলি অল্প পরিমাণে নিয়ে মালিশ করুন। পাঁচ মিনিট পর ভেজা রুমাল দিয়ে মুছে ফেলুন। এভাবে করলেও আপনার হাত পায়ের ত্বক সুন্দর হবে।

এছাড়া মাসে একবার ভালো কোনো পার্লারে গিয়ে ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করান। ম্যানিকিউর প্যাডিকিউর নানা ধরনের হয়। সমস্যা অনুযায়ী একজন অভিজ্ঞ রূপবিশেষজ্ঞ ঠিক করে দেবেন আপনার জন্য কী ধরনের যত্ন দরকার।

ম্যানিকিউর এবং প্যাডিকিউরের নতুন সংযোজন রিফ্লেক্সোলজিক্যাল ম্যানিকিউর প্যাডিকিউর।

এটা প্রাথমিকভাবে হাত ও পায়ের পাতার নিচে একটি নির্দিষ্ট অংশে টিপে শরীরের নির্দিষ্ট অংশগুলো পরিবর্তন ঘটানোর সদ্ব্যবহার করার থেরাপি।

এটা অ্যারোমা থেরাপির মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিয়মে করা হয়। সাধারণত যাদের ত্বক খুব রুক্ষ বা অসুন্দর অথবা পা ফেটে খারাপ অবস্থা তাদের এই ধরনের একটি সিটিংয়ের মাধ্যমে সমস্যা অনেকটা কমে যাবে।

অনেক সময় দেখা যায় নখের রং হলদে বা কালো হয়ে গেছে। তারাও এই থেরাপির মাধ্যমে নখের রং ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

সমস্যা যাই হোক এই থেরাপি সমস্যা অনেকাংশে সারিয়ে তুলতে সক্ষম। এ ধরনের একটি পেডিকিউর করতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। নখে নখকুনি, পায়ে কড়া, পা ফাটা, নখ কালো বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া সব কিছুই ধীরে ধীরে কমে যাবে।

এতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েল, পেরাফিন ওয়াক্স, বাথ সল্ট, সমস্যা অনুযায়ী ফলের রস। সঙ্গে স্টিমিউলেটিং মালিশের মাধ্যমে এই ধরনের ম্যানিকিওর পেডিকিওর করা হয়।

প্রতীকী মডেল: তাসমিয়া মীম। ছবি: দীপ্ত। কৃতজ্ঞতায়: আকাঙ্ক্ষা’স গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড।