রাগ-জেদ থেকেই এই উইন্ডিজ-ভয়ংকর!

w45c

এই দলের সঙ্গেই আছেন কার্টলি অ্যামব্রোস। খেলোয়াড়ি জীবনে যাঁর প্রিয় একটা কথা ছিল, ‘সাবধান, আমাকে রাগিও না। রেগে যাওয়া কার্টলি অ্যামব্রোস খুব ভয়ংকর।’
এখন তো দেখা যাচ্ছে শুধু কার্টলি অ্যামব্রোসই নন, রেগে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান মাত্রই ভয়ংকর। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি দল! সবাইকে দেখিয়ে দেওয়ার রাগ-জেদ ড্যারেন স্যামির এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে এমনই অদম্য বানিয়ে দিয়েছে যে, শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার থাকলে মাত্র অষ্টম টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম ইনিংস খেলতে নামা অনভিজ্ঞ এক তরুণ পরপর চার বলে ছক্কা মেরে দেন!
ম্যাচসেরার ট্রফি নিতে গিয়ে মারলন স্যামুয়েলস সোজা বলে দিলেন, এই ট্রফিটা শেন ওয়ার্নের জন্য। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই দেখছিলাম, লোকটা বকবক করেই যাচ্ছে।
অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই আবার তোপ দাগলেন মার্ক নিকোলাসের দিকে। ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনেও এ-সংক্রান্ত প্রশ্নেই সবচেয়ে বড় উত্তর দিয়েছেন। তবে নামটা উল্লেখ করেননি। এবার আর রাখঢাক নেই। সরাসরি নাম বলেই জানিয়ে দিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের মাথায় মস্তিষ্কের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিকোলাসের ওই মন্তব্যই এই দলকে একতাবদ্ধ করায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এই টুর্নামেন্ট খেলতে আসার আগে স্যামির ভাষায় ‘তথাকথিত’ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডও তাঁর দলের প্রতি যে তাচ্ছিল্য দেখিয়েছে, সেটিই নাকি তাতিয়ে দিয়েছিল সবাইকে। প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়েছেন, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনো ফোন না পাওয়ার কথাও জানিয়ে দিলেন প্রকাশ্যে। পরে সংবাদ সম্মেলনেও যেভাবে বোর্ডের সমালোচনা করলেন, তাতে মনে হতেই পারে স্যামি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন না তো!
এই প্রশ্নের উত্তর এখনই জানার উপায় নেই। তবে স্যামি এই বলে দুঃখ করলেন, দলের বাকি খেলোয়াড়দের আবার কবে এক ড্রেসিংরুমে পাবেন, সেটি তিনি জানেন না। এ বছর সামনে কোনো টি-টোয়েন্টি নেই, ভবিষ্যতে এই ‘পনেরো ম্যাচ উইনার’ আবার কবে একসঙ্গে মাঠে নামবেন, আদৌ নামবেন কি না কে জানে!
প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাঁর। এবারের টুর্নামেন্ট-পূর্ব পরিস্থিতির কারণে অনায়াসে পেছনে পড়ে যাচ্ছে ২০১২। ছেলেদের আগে ফাইনাল জিতেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েরা। ‘ডাবল’ তো সবার চোখের সামনেই ঘটল। স্যামি এর সঙ্গে বাংলাদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকেও যোগ করে ‘ট্রেবল’ বানিয়ে দিলেন। পনেরো ম্যাচ উইনারের ব্যাখ্যায় বললেন, ‘সবাই তো বলছিল আমরা নাকি একজনের দল। তা প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির পর ক্রিস (গেইল) তো আর কিছু করতে পারেনি। তারপরও আমরা ঠিকই এগিয়ে গেলাম। কারণ, আমাদের মধ্যে বিশ্বাস ছিল।’
সেই বিশ্বাস এমনই যে, ম্যাচ যখন শেষ ওভারের অনিশ্চয়তায় এসে দাঁড়াল, তখনো নাকি স্যামির মনে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারতে পারে! বোর্ডের সঙ্গে বিরোধ, এতজনের এত কথা—এসব অনুপ্রেরণার জ্বালানি হয়েছে। আরেকটা জ্বালা মেটানোরও ছিল। দুদিন পরপর টাকাপয়সা নিয়ে বোর্ডের বিরোধের কারণে একটা ধারণা ছড়িয়ে পড়েছিল বা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল-ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়েরা শুধুই টাকার কথা ভাবেন, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের মানুষের ভালোবাসার প্রতি তাঁদের কোনো দায় নেই। স্যামির আগে স্যামুয়েলসও বলে গেছেন, শিরোপা জিতেই এর জবাব দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য, এটি ক্যারিবীয়দের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ক্রিকেট খেলে এর চেয়ে বড় কিছু পাওয়ার নেই তাঁদের।
এমন আবেগ, এমন মনপ্রাণ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই টুর্নামেন্টটা খেলল যে, কথাটা বিশ্বাস করতেই হচ্ছে।

স্বপ্নে বিভোর নতুন ইংল্যান্ড

yusei

ভারতীয় উপমহাদেশে এসে তাদের তালগোল পাকিয়ে ফেলার নজির খুঁজতে খুব বেশি পেছনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে হওয়া আগের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে যথেষ্ট। সেবার সন্ধ্যার শিশিরে যাতে নাকাল হতে না হয়, সেজন্য ইংল্যান্ডের অনুশীলন মানেই ছিল ভেজা বলে ব্যাটিং অনুশীলন। বালতিভর্তি পানিতে ভিজিয়ে রাখা বলে অনুশীলন নজর কাড়লেও সুফল দিতে পারেনি। এমনকি নেদারল্যান্ডসের কাছেও হারা স্টুয়ার্ট ব্রডের দল সুপার টেন পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। তবে উপমহাদেশের কন্ডিশন এবং এখানকার স্পিন উপযোগী উইকেটে অনভ্যস্ত এউইন মরগানের দলও এবার ভারতে খুব ভালো কিছু করবে বলে অনুমান ছিল না। কিন্তু আগেরবারের তুমুল ব্যর্থ দলটিই এবার চরম সাফল্যের সিঁড়ির শেষ ধাপে এসে দাঁড়িয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্বের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একেবারে নতুন এক ইংল্যান্ড। যাদের পারফরম্যান্সে এই কিছুদিন আগেও আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। বিশ্বকাপের আগেই তারা গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে ওয়ানডে সিরিজে হারা দলটি দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। এর চেয়েও বড় কথা প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ঘূর্ণিবলে খাবি খাওয়া দলটির পক্ষে ভারতে এসে এভাবে নিজেদের মেলে ধরার ব্যাপারটি কষ্ট-কল্পনাই ছিল। এ জন্য টুর্নামেন্ট পূর্ব আলোচনায় ইংল্যান্ডকে কেউ হিসাবের মধ্যে রাখার ক্ষেত্রেও ছিলেন দ্বিধাহীন।

ফলে ফাইনালে পৌঁছে যাওয়া ইংল্যান্ড চমক হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে যেন। অবশ্য এই টুর্নামেন্টের একমাত্র চমক তারাই নয়, নিউজিল্যান্ডও ছিল। ভারতের স্পিন সহায়ক উইকেটে বাজিমাত কিউইরাও করেছিল। এখানে অনেকের মতেই তাদের ইতিহাসের সেরা পেস জুটিকে বসিয়ে স্পিনার বাড়িয়ে নামা নিউজিল্যান্ড এমনকি স্পিন বিষে নীল করেছে স্বাগতিক ভারতকেও। আর স্পিন চমকেই সেমিফাইনালে পৌঁছে যাওয়া কিউইদের দৌড়ও শেষ হয়েছে ইংল্যান্ডের সামনে পড়েই। যাদের কাছে এমনকি কোনো বাধাই বাধা বলেও মনে হওয়ার কথা নয়।

টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রান করেও ক্রিস গেইলের ৪৭ বলে করা সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত হারের বিষাদেই ডুবেছিল। কিন্তু পরের ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার ২৩০ তাড়া করে জেতা এমন ছন্দ ধরিয়ে দিয়েছে যে এর পর থেকেই বিপুল বেগে এগোতে থাকা নতুন এক ইংল্যান্ডকেই দেখা গেছে। গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেও বিদায় নেওয়া ইংলিশদের সামনে এবার দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টির বিশ্বজয় করার সুযোগ। দলের সেরা ব্যাটসম্যান জো রুটের কাছে তো এটি স্বপ্নপূরণের মতো একটি ব্যাপারই, ‘শৈশব থেকে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নই তো দেখে এসেছি!’

সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হচ্ছে। তবে স্বপ্নটি চ্যাম্পিয়ন হওয়া পর্যন্তও নিশ্চিতভাবেই বিস্তৃতি পেয়েছে। রুট সতীর্থদের চোখেমুখে সেই সাফল্য-তৃষ্ণাও মূর্ত হয়ে উঠতে দেখেছেন, ‘গত কয়েক দিন থেকেই ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে টিম বাস—সবখানেই আমি ছেলেদের লক্ষ করেছি। সবার চোখমুখই বলে দিচ্ছিল যে ওরা কতটা রোমাঞ্চিত। রবিবারের ফাইনাল খেলতে মাঠে নেমে পড়তে যেন আর তরই সইছে না ওদের।’ নতুন ইংল্যান্ড শেষটাও শিরোপা দিয়েই টানতে চাইবে।

বিটিআই ওপেন জিতলেন সিদ্দিক

ygu

বহুদিন শিরোপার দেখা নেই। পারফরম্যান্সও ভালো না। কিন্তু কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে শনিবার বিটিআই ওপেনের শেষ হাসি হাসলেন বাংলাদেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। শিরোপা খরায় ভুগতে থাকা সিদ্দিক হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। এটি তার পঞ্চম পিজিটিআই শিরোপা।

খেলাটা গড়িয়েছিল প্লে-অফে। সেখানে সজীব আলি পারেননি সিদ্দিকের সাথে। আসরে তৃতীয় হয়েছেন ভারতের সুজান সিং। শেষ রাউন্ডে লড়াইটা চলে যায় প্লে-অফে। শেষ দিনে সিদ্দিক পারের চেয়ে ১ শট কম খেলেছেন। সজীব খেলেছেন পারের চেয়ে ৬ শট কম। চার রাউন্ড মিলিয়ে তাতে দুজনার স্কোর সমান হয়ে যায়। দুজনই মোট ১৫ আন্ডার পার খেলেছেন। প্লে-অফে ১ হোলের খেলা। সেখানে সিদ্দিক করেন বার্ডি। পারের সমান খেলেন সজীব। চ্যাম্পিয়ন হয়ে যান সিদ্দিক। ২০১৩ সালে শেষ ট্রফিটা সিদ্দিক জিতেছিলেন দিল্লির এশিয়ান ট্যুরে।

ছাঁটাই হতে যাচ্ছেন আফ্রিদি!

ty

ইংল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার দিয়ে শুরু, এরপর এশিয়া কাপেও ব্যর্থ। কফিনে শেষ পেরেক ঠুকল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সেখানে গ্রুপ পর্বের তিনটিতেই হার। পাকিস্তান ক্রিকেটে তোলপাড় শুরু হয়ে যাওয়ার জন্য এটাই তো যথেষ্ট। পাকিস্তানে ফিরতে না ফিরতেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হয়েছে কোচ ওয়াকার ইউনিস ও ম্যানেজার ইন্তিখাব আলমকে।
দুই প্রতিবেদনেই দারুণ মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। শহীদ আফ্রিদির অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কোচ-ম্যানেজার দুজনই। আফ্রিদি প্রসঙ্গে কেউই তাঁদের বিরক্তি লুকাননি। ওয়াকার বলেই দিয়েছেন, ‘ব্যাটিং, বোলিং কিংবা নেতৃত্ব কোনো কিছুতেই আফ্রিদি ভালো না। কিন্তু আমার কথা কানেই তোলা হয়নি। মাঠে তার বাজে সিদ্ধান্তই আমাদের ডুবিয়েছে।’ ইন্তিখাব আফ্রিদি প্রসঙ্গে আরও কঠোর, ‘ভারতে প্রতিযোগিতা হচ্ছে, দলের সবাই ছিল কঠোর নজরদারির মাঝে। এতেই যথেষ্ট চাপ ছিল। এর চেয়েও হতাশাজনক ছিল অধিনায়কত্ব, তা-ও এমন একজন, যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ বছর কাটানোর পরও নির্বোধের মতো নেতৃত্ব দিয়েছে।’
এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফ্রিদির অধিনায়কত্ব নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ম্যাচে আনোয়ার আলীকে খেলানো, বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচে আফ্রিদির নিজে তিনে নামা, হাফিজ ও সরফরাজকে পরে নামানো—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ভারতে পৌঁছে, ‘পাকিস্তানের চেয়ে এখানে বেশি ভালোবাসা পাই’—মন্তব্যের জন্যও আফ্রিদির ওপর চটেছেন ইন্তিখাব। আহমেদ শেহজাদ ও উমর আকমলের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কোচ ওয়াকারের প্রতিবেদনেও এসেছে প্রসঙ্গটি, ‘আগের সফরেই যাদের বাদ দেওয়া হলো, পরের সফরে তারা দলে আসে কীভাবে! মিডিয়ার চাপে আপনি দল নির্বাচন করতে পারেন না।’
ইন্তিখাব অবশ্য নিজের প্রতিবেদনে শুধু ব্যর্থতার কারণ খুঁজেই বের করেননি, এর থেকে পরিত্রাণের উপায়ও খুঁজেছেন। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য দুটি পরামর্শ দিয়েছেন:
১. দল নির্বাচনে একটি মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া উচিত, দলে আসতে হলে যা থাকতেই হবে (খেলোয়াড়ের ফর্ম, পরিসংখ্যান, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সহযোগিতার মনোভাব—সবকিছুই বিবেচনায় থাকবে)।
২. দলের ফিটনেস ভালো করার জন্য ইংল্যান্ড সফরের আগ পর্যন্ত ট্রেনিং ক্যাম্প করা উচিত, যাতে দলের ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ে উন্নতি আসে।
ইন্তিখাব ও ওয়াকারের প্রতিবেদন দুটি জমা দেওয়া হয়েছিল তদন্ত কমিটির কাছে। টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক ও ইউনিস খানও আছেন এই কমিটিতে। কমিটি আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দিয়েছে আফ্রিদিকে। পাকিস্তান বোর্ডের এক সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু বিবেচনা করে এই কমিটি নাকি ইতিমধ্যে পিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। সেই অনুযায়ী আফ্রিদির অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়াই শুধু নয়, দল থেকেই বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান সরফরাজ আহমেদকে অধিনায়ক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি অবশ্য এখানেই থামেনি, কোচ ওয়াকারকেও ছাঁটাই এবং একাধিক খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট তাহলে আবারও টালমাটাল!

মরগানের কাছে ম্যাচটা অন্য রকম

huj

এউইন মরগানের স্মৃতিতে ওই ম্যাচটা এখনো টাটকা। মাত্রই তো দুই সপ্তাহ আগের কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হারতে হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে, বলা ভালো, ক্রিস গেইলের কাছে। তখন কি ভেবেছিলেন, ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার সুযোগটা পেয়ে যাবেন চূড়ান্ত মঞ্চেই?
ইডেন গার্ডেনের ফাইনালের আগে কাল সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ অধিনায়ক অবশ্য প্রতিশোধের কথাটা সরাসরি বলেননি। তবে ফাইনাল বলেই এই ম্যাচটা যে অন্য রকম সেটি তো তাঁকে মানতেই হয়, ‘আমরা জানি, এই ম্যাচটা আর দশটা ম্যাচের মতো হবে না। এমনকি সেমিফাইনালের আগেও ফাইনাল নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হচ্ছিল। আমি চাই, খেলোয়াড়েরা নিজেদের উজ্জীবিত করুক। হয়তো আজ সবাই একটু চাঙা থাকবে। তবে যখন দরকার, আমাদের উত্তেজনাটা কমিয়ে আনতে হবে। নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে।’
১২ মাস আগেও এই দিনের কথা হয়তো মরগানের সুদূরতম কল্পনাতেও ছিল না। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে অচল বলেই রায় দিয়ে দিয়েছিলেন অনেকে। মরগান নিজেই তো এত দূর ভাবেননি, ‘১২ মাস আগের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি একেবারেই অন্য রকম। সত্যি বলতে কী, এটা বিশ্বাস করা একটু কঠিনই। আমি কখনোই ভাবিনি, এত দ্রুত আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। বা দাঁড়ালেও সেটা এমন হবে।’ কিন্তু এই ঘুরে দাঁড়ানো ইংল্যান্ডের রহস্য কী? মরগান নিজেদের বদলে যাওয়া মানসিকতাকেই বড় করে দেখছেন, ‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে খেলোয়াড় ও নেপথ্যের স্টাফদের সবার মানসিকতায় একটা পরিবর্তন এসেছে। কালকে (আজ) সেই বদলে যাওয়ার একটা ফল দেখার সুযোগ আমাদের সামনে। খুবই রোমাঞ্চিত। আমি গর্বিত। খুবই, খুবই গর্বিত।’
কিন্তু ইংল্যান্ডের সেই পালাবদলে শুভ সমাপ্তি টানার পথে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাধা তো একজনই, গেইল। গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার অমন অতিমানবীয় হয়ে দাঁড়াতেই তো ইংল্যান্ডের ১৮৩ রানও হয়ে গেল সামান্য। তবে সেমিফাইনালে ভারতের সঙ্গে ম্যাচের পর শুধু গেইল-জুজুতে সন্ত্রস্ত হয়ে থাকাটাও বোকামি। মরগান সেটাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমাদের গ্রুপ ম্যাচের আগেই বলেছিলাম, গেইল মানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়। একটা ভালো দলের বিপক্ষে খেললে এক বা দুজনকে গুরুত্ব দেওয়াও উচিত নয়। যে কেউই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। আমার মনে হয়, ভারতও সেটা দেখেছে, যারা আগের ম্যাচটা দেখেছে তারাও এটার সাক্ষী।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড। শুধু গেইলরা নয়, ইতিহাসও আজ ইংলিশদের সামনে বাধা। মরগান অবশ্য অতীত নিয়ে আচ্ছন্ন নন, ‘আমার মনে হয় না এটা বড় কোনো ব্যাপার হবে। আমার মনে হয়, এটা পুরোপুরি আলাদা দুটি দল। আর আমরাও প্রথম ম্যাচের পর একটু একটু করে উন্নতি করেছি। তাই ওই ম্যাচের সঙ্গে ফাইনালের তুলনা করা কঠিন।’
ইডেন গার্ডেন মরগানের নিজের কাছেও চেনা। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে এখানে দুই মৌসুম আগেও খেলেছেন। দল ভালো খেললেও নিজের ব্যাট এখনো সেভাবে হাসছে না। আজ চেনা ইডেনেই মরগান হয়তো সব অতৃপ্তি ঘোচাতে চাইবেন।

স্যামিকে ডাকছেন লয়েড

9i

সেমিফাইনালে গেইল-ঝড়ের দেখা মেলেনি, ফাইনালে ক্রিস গেইলের কাছ থেকে পাওনাটা চাইবেন উইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। ইংল্যান্ড কোচ ট্রেভর বেলিস ও অধিনায়ক এউইন মরগান তা জানেন। আজ ইংল্যান্ডের রণকৌশলের বড় একটা অংশজুড়েই থাকবেন গেইল। কাল ইডেনে l এএফপিদুজনের কোনো তুলনাই চলে না।
একজন তাঁর সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। তার চেয়েও বড় পরিচয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণযুগের সারথি।
অন্যজন একটু ব্যাটিং পারা-একটু বোলিং পারা অলরাউন্ডার। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় যাকে বলে ‘বিটস অ্যান্ড পিসেস্ ক্রিকেটার।’
চরিত্রেও কোনো মিল নেই।
একজন রাশভারী, বেশির ভাগ সময়ই গম্ভীর মুখ যেন জানিয়ে দেয়, জীবনটা হাসি-তামাশার ব্যাপার নয়।
অন্যজনের মুখে সব সময়ই হাসি। কথাবার্তায়, দেহভঙ্গিমায় চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া বার্তা—জীবন হলো উপভোগের আরেক নাম।
একজন ক্লাইভ লয়েড।
অন্যজন ড্যারেন স্যামি।
খেলোয়াড়ি কীর্তি আর চরিত্রে বিপরীত এই দুজনকে একটা জায়গায় মিলিয়ে দিতে পারে আজকের রাত।
ক্রিকেটের প্রথম দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুবারই অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলে প্রথমবারের মতো একই অধিনায়কের হাতে দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উঠবে। মিলে যাবেন ক্লাইভ লয়েড আর ড্যারেন স্যামি। ট্রফি নিয়ে দুজনের একটা ছবিও হয়ে যাওয়ার কথা। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক লয়েড তো স্যামির দলের সঙ্গেই ঘুরছেন।
স্যামির অধিনায়কত্ব পাওয়ায় টাকাপয়সা নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়দের বিরোধের বড় ভূমিকা ছিল। সঙ্গে তাঁর আমুদে চরিত্র আর ইতিবাচক মানসিকতারও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ মানে এক ছাতার নিচে ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব দ্বীপরাষ্ট্রের খেলোয়াড়। যাঁদের একতাবদ্ধ রাখাটা অধিনায়কের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। লয়েড তা খুব ভালো পেরেছিলেন। অতটা না হলেও পেরেছেন স্যামিও। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্লোগান ছিল—এক দল, এক মানুষ, এক লক্ষ্য। যেটি পূর্ণতা পেয়েছিল শিরোপা জয়ে। এই বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজও মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই স্লোগানটা। স্যামি-গেইল-ব্রাভোরা যেন বিনি সুতোয় গাঁথা এক মালা। তা এই মালা গাঁথার কাজটা কে করল? স্যামির অবশ্যই ভূমিকা আছে। তবে আসল কাজটা করে দিয়েছে বিতর্ক আর সমালোচনা। এই বিশ্বকাপের আগেও গত কয়েক বছর নিয়মিত হয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সেই পুরোনো সমস্যা। টাকাপয়সা নিয়ে গন্ডগোলে মূল দল পাঠানোই পড়ে গিয়েছিল সংশয়ের আবর্তে। দলকে এমন একতাবদ্ধ করে তোলায় অনিশ্চয়তার ওই সময়টার বড় ভূমিকা দেখেন স্যামি।
সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও কিছু ব্যাপার। পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চার বছর পর, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপেরও তিন বছর বাকি। এই দলের অনেকের জন্য এটাই তাই হতে যাচ্ছে শেষ বিশ্বকাপ। সেটি স্মরণীয় করে রাখার একটা বাড়তি প্রেরণা তো থাকবেই। স্যামি সেই প্রেরণার আগুনটাই জ্বেলে দিয়েছেন গেইল-স্যামুয়েলস-বদ্রিদের বুকে। বাকি কাজটা করেছেন মার্ক নিকোলাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই বিশ্বকাপ জিতলে নিশ্চিতভাবেই একটা ‘ধন্যবাদ’ পাবেন সাবেক হ্যাম্পশায়ার ব্যাটসম্যান। স্যামিদের তাতিয়ে তোলার কৃতিত্ব তো তাঁরই।
ক্লাইভ লয়েডের সঙ্গে স্যামি: ফাইল ছবিটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে ক্রিকেটের বিখ্যাত ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোতে একটা কলাম লিখেছেন মার্ক নিকোলাস। যাতে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারদের মাথায় মস্তিষ্ক নামক বস্তুটির অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সেমিফাইনালে জেতার পরই টুইটারে যেটির জবাব দিয়েছেন কোচ ফিল সিমন্স—‘মস্তিষ্কহীন কিছু মানুষের কী দুর্দান্ত প্রদর্শন—মস্তিষ্ক থাকলে না জানি কী হতো!’ স্যামির সংবাদ সম্মেলনেও প্রসঙ্গটা উঠল। ড্যারেন স্যামি যে রাগতেও জানেন, সেটিও জানা গেল এর কল্যাণে! ‘কীভাবে কেউ কারও সম্পর্কে বলে যে, তাঁর মস্তিষ্ক নেই। আরে, জন্তুদেরও তো মস্তিষ্ক আছে। আমরা তো জড়বস্তু নই। ওই কথাটাই আমাদের সবাইকে তাতিয়ে দিয়েছে’—এটি বলার পরই রাগত মুখে আবার ফিরে এল হাসি। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা খুব রংচং মাখিয়ে কথা বলেন। স্যামিও যেমন বললেন, ‘ঈশ্বর কুৎসিত কিছু পছন্দ করেন না। আমাদেরও খুব সুন্দর করে বানানো হয়েছে। এ কারণেই আমরা এমন রোমাঞ্চক ক্রিকেট খেলি।’
এর আগেও বলেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্য এই বিশ্বকাপ ‘আমরা বনাম বাকি সবাই’। ফাইনালের আগে আবারও সেই একই কথা। বোর্ডের সঙ্গে সমস্যা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে হেয় চোখে দেখা, মার্ক নিকোলাসের ওই মন্তব্য—এসব কিছু মিলিয়ে-মিশিয়ে ‘আমরা বনাম বাকি সবাই’-কে দলের জন্য জ্বালানি বানিয়ে নিয়েছেন স্যামি। যে কারণে তাঁর কণ্ঠে খেলা করে অপার আত্মবিশ্বাস, ‘কাপটা হাতে নিতে আর একটা ধাপ বাকি। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা তা করতে পারব।’
তা পারলে ম্যাচ শেষের উদ্যাপনটাও দেখার মতোই হবে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজেদের ব্যাটিং-বোলিংয়ের তুলনা করতে করতেই স্যামি বলে দিলেন, ‘উদ্যাপনের কথা যদি বলেন, ওরা আমাদের কাছে পাত্তাই পাবে না।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলে গেইলই হয়তো মধ্যমণি হয়ে থাকবেন সেই উদ্যাপনের। স্যামিও বোধ হয় খুব একটা পিছিয়ে থাকবেন না। ক্লাইভ লয়েডের পাশে নিজের নাম লেখানোটা তো উদ্দাম উদ্যাপনেরই উপলক্ষ!

সৌভাগ্য নিয়ে উড়ে আসা সিমন্স

10kude

অদ্ভুত সব ঘটনাগুলো কেন যেন লেন্ডল সিমন্সের সঙ্গেই বারবার ঘটে! বছর দুই আগে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের খেলা খেলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছিলেন। কেন যেন বিমানবন্দরে মার্কিন শুল্ক কর্মকর্তার সন্দেহ হলো, ব্যাটের ভেতর লুকিয়ে নেওয়া হচ্ছে মাদক! সন্দেহের চোটে ব্যাটটা ড্রিল মেশিন দিয়ে এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেললেন। তাঁর সন্দেহ তো টিকলই না, সিমন্সের ব্যাটটা গেল! গত বছর আইপিএলের কথা। অ্যারন ফিঞ্চ ওপেন করবেন পার্থিব প্যাটেলের সঙ্গে—মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের কর্তাব্যক্তিরা এমনটাই ঠিক করেছেন। এমন সময় ফিঞ্চের চোট, দায়িত্ব পেলেন সিমন্স। সেবার পার্থিবের সঙ্গে তাঁর জুটিটা দারুণ জমে গেল, গড়ে তাঁরা ম্যাচপ্রতি ৫০ রানের জুটি গড়লেন, যেটা বড় ভূমিকা রাখে মুম্বাই ইনডিয়ানসের আইপিএল শিরোপা জেতায়। এখানেই শেষ নয়, মার্চের ৫ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোর্ড জানায় পিঠের চোটের কারণে সিমন্সের পক্ষে বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে খেলা সম্ভব নয়। তাঁর বদলে এলেন এভিন লুইস। কি আশ্চর্য, আরেকজনের চোটের কারণে সিমন্সকে আসতেই হলো ভারতে! আন্দ্রে ফ্লেচারের চোট তাঁকে ধরাল বাড়ির পথ আর শুক্রবার আইপিএল খেলতে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো থেকে ভারতে আসার অপেক্ষায় থাকা সিমন্সকে এগিয়ে আনতে হলো ফ্লাইট। বাকিটুকু তো ইতিহাস! মুম্বাই ইনডিয়ানসের এক ঘরের ছেলেই তো টিম ইন্ডিয়াকে ঘরের মাঠে দর্শক বানিয়ে দিল বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ফাইনালে। যে ফরম্যাটের ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসরের আয়োজক ভারত, গত সাতটি বছর ধরে সেই ফরম্যাটেই কিনা দেশের মাঠে ভারতীয় দল নেই ফাইনালে! নিয়তির এই পরিহাসের নেপথ্য নায়ক সেই সিমন্স, যাঁর সঙ্গে অদ্ভুত সব ঘটনার কাকতালীয় সব যোগ!

স্কোরকার্ড বলছে, ৫১ বলে ৮২ রানের ‘একটি’ অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন সিমন্স। দর্শকরা জানেন, সিমন্স আসলে খেলেছেন ‘চারটি’ ইনিংস! দুইবার নো বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচেছেন, একবার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আরেকবার হার্দিক পাণ্ডের বলে। এখানেই শেষ নয়, রবীন্দ্র জাদেজা তাঁর ক্যাচ ধরেও সীমানাদড়ির গায়ে পরানো বিজ্ঞাপনী মোড়কে পা লাগিয়ে দেওয়ায় সম্পূর্ণ বিপরীত ভাগ্য হয়েছে সিমন্সের, অর্থাৎ বিদায়ের বদলে ১ বলে সর্বোচ্চ রানপ্রাপ্তি! ভাগ্যে এমন সওয়ারি বিশ ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর কেউ হয়েছেন কি না, সে গবেষণা থাক। তার চেয়ে বরং জেনে নেওয়া যাক জীবনের সেরা ইনিংস খেলার ৪৮ ঘণ্টা আগে সিমন্সের হাল কী ছিল। ত্রিনিদাদে নিজের বাড়িতে সোফায় আধশোয়া হয়ে টিভি দেখছিলেন, এমন সময় পেলেন ক্লাইভ লয়েডের ফোন। প্রথম দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অধিনায়ক এবং বর্তমানে প্রধান নির্বাচক কথাবার্তায় ছিলেন সংক্ষিপ্ত এবং নিখুঁত ইয়র্কারের মতোই ‘ডেড স্ট্রেইট’, ‘তুমি ঠিক আছো? আন্দ্রে ফ্লেচারের বদলি হিসেবে তুমি কি বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে খেলতে আসতে পারবে?’ লয়েডকে না বলার সাহস কী করে হয়, তাই দুটি ফ্লাইট বদলে মহাদেশ-মহাসাগর পাড়ি দিয়ে মঙ্গলবার সিমন্স পৌঁছে যান মুম্বাইতে, আরব সাগরের তীরের যে শহরটা তাঁর খুব চেনা।

গেইলের সেঞ্চুরির রহস্য যদি স্নেহা উল্লালের সঙ্গে রাতভর পার্টি হয়, সিমন্সেরটা তার ঠিক উলটো; ঘুম। ‘আমি ম্যাচটার আগে খুব বিশ্রাম নিয়েছি। দুটি ফ্লাইটে ঘুমিয়েছি, এসে রাতটা ঘুমিয়ে তারপর সকালে অনুশীলন শেষে আবার ঘুম। একেবারে ৩টা থেকে ১০টা পর্যন্ত, এরপর আবার ১২টা থেকে ৪টা। বলা যায় ভালোই বিশ্রাম নিয়েছি আমি।’ যে আইপিএলে খেলে হাত পাকিয়েছেন কোহলি-ধোনিরা, সেই আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদেরই হারিয়ে দিলেন ভিনদেশি সিমন্স, ‘আমি তো আসতামই, আইপিএলের জন্য শুক্রবারে রওনা হওয়ার কথা ছিল। এটা আমার আইপিএলের হোমগ্রাউন্ড, কন্ডিশনটাও ভালো জানি, তাই চট করে মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম।’ ওয়াংখেড়ে তো রোহিত শর্মা, হার্দিক পাণ্ডের হোমগ্রাউন্ড। মার্চের শেষরাতে ভাগ্যদেবী এই দুই ঘরের ছেলেকে বাদ দিয়ে ভিনদেশি সিমন্সকেই কেন বেছে নিলেন, সেটাও বোধ হয় তাঁর জীবনের অনেক অমীমাংসিত রহস্যের একটা হয়েই থাকবে!

ক্লাব স্বার্থে আবার বলি ক্রিকেটাররা

idfhoyp

প্রত্যেক মৌসুমেই ঢাকার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা অনুদান পেয়ে থাকে। এবার সেই অঙ্কটি বাড়ছে। গতকাল গুলশানের এক রেস্তোরাঁয় ওয়ার্কিং কমিটির সভাশেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস তা কেমন এবং কেন বাড়ছে, জানাতে গিয়ে বলছিলেন, ‘অনুদানের অঙ্কটা শতকরা ২৫ ভাগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাড়ানোর কারণ বৃষ্টির মৌসুমে লিগ হচ্ছে বলে এবার ক্লাবগুলোর খরচও তো বেড়ে যাচ্ছে অনেক।’

বাড়তি খরচ নির্বাহের জন্য ক্লাবগুলোর বড় অঙ্কের ‘বৈশাখী বোনাস’ প্রাপ্তিও নিশ্চিত হয়েছে এনায়েত হোসেন সিরাজের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কিং কমিটির সভায়। ঠিক হয়েছে, ২০ এপ্রিল থেকে প্রস্তাবিত প্রিমিয়ার লিগের খেলা বৃষ্টির মৌসুমে বলে প্রতিটা ম্যাচের জন্যই এবার ‘রিজার্ভ ডে’ থাকবে। কিন্তু তাহলে যে আবার অনুশীলন শিবিরে রেখে ক্রিকেটারদের খাওয়ানোর খরচ বেড়ে যায় ক্লাবগুলোর! সেজন্য তারা এবার ‘ঝোপ বুঝে কোপ’ মেরে রাখতেও বিলম্ব করেনি! বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম আসরের লভ্যাংশ থেকে অর্থের দাবি যখন আগেও পূরণ করা হয়েছে, তখন আবার নয় কেন! এবারও তারা সবশেষ বিপিএলের লভ্যাংশ থেকে একই হারে টাকা চেয়ে রেখেছে। অঙ্কটা সুপার লিগের ছয়টি দলের জন্য ৩৫ লাখ হলেও অন্যান্য দলগুলোর ২৫ লাখ টাকা। এই অঙ্কই দেওয়া হবে কি না, তা চূড়ান্ত না হলেও এ সিদ্ধান্ত ঠিকই হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করলেন জালাল, ‘তৃতীয় বিপিএলে তো আয়ও কমে এসেছে বিসিবির। কাজেই সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই ক্লাবগুলো কত করে পাবে, তা একটু ভেবেচিন্তেই ঠিক করা হবে। তবে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে যে বিপিএলের লভ্যাংশ থেকে টাকা দেওয়া হবে ক্লাবগুলোকে।’

কিন্তু কালকের সভায় ক্লাব স্বার্থরক্ষায় যতটা মনোযোগী ছিলেন বিসিবি কর্মকর্তারা, ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে কিছুতেই তা নন। হলে ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ নামের লটারিভিত্তিক দলবদল পদ্ধতির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের অঙ্কে লাগাম পরানোর পরও কাল আরেক দফা কমিয়ে দিত না! আইকন ও ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকে অবশ্য হাত দেওয়া হয়নি, ৩০ এবং ২৫ লাখই আছে। ঠিক আছে ‘ই’ ক্যাটাগরির সাড়ে ৩ লাখ টাকাও। কিন্তু ‘এ’ ২২ লাখ থেকে ২০, ‘বি প্লাস’ ১৮ লাখ থেকে ১৫, ‘বি’ ১৫ লাখ থেকে ১২, ‘সি’ ১০ লাখ থেকে ৮ এবং ‘ডি’ ৬ লাখ থেকে ৫ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে ওয়ার্কিং কমিটির সভায়। এই কমানোর কারণ ব্যাখ্যায় জালাল বললেন, ‘কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ এবার তো ক্লাবগুলোর খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সিসিডিএম আমাদের কাছে এরকম প্রস্তাবই রেখেছিল।’

সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ) হয়ে ক্লাবগুলোর দাবি নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির সভায় যাঁরা বসেছিলেন, তাঁরা নিজেরাও অবশ্য কোনো না কোনো ক্লাবেরই প্রতিনিধি। তাই তাঁদের কাছে ক্রিকেটারদের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। নানাভাবে ক্লাবের অনুদান বাড়িয়েও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কমানোটা কোন ‘নীতি’র মধ্যে পড়ে, এ প্রশ্ন তবু থাকছেই। ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ঠিক হয়েছে ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ নামের দলবদল হবে আগামী ১০ এপ্রিল। এবার কিছু নতুনত্বও থাকছে বলে জানিয়েছেন জালাল, ‘প্রতিটা দল তাদের আগের মৌসুমের খেলোয়াড় তালিকা থেকে দুজনকে রেখে দিতে পারবে। ওই দুজনের নাম আগেই জানিয়ে দিলে লটারিতে আর ওদের নাম তোলা হবে না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়া হবে ওদের।’ প্রথম বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আসা দুই দলের তো সে উপায় নেই। তাই ব্যবস্থা আছে তাঁদের জন্যও, ‘লটারিতে প্রথম খেলোয়াড় ডাকার সুযোগ পাবে তারা।’ দেশীয় ক্রিকেটারদের কথা ভেবে বিদেশি কমানোর একটি সিদ্ধান্তের কথাও বললেন জালাল, ‘‘আগের প্লেয়ার্স বাই চয়েসে তিনজন বিদেশি খেলানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু এবার প্রত্যেক ম্যাচে একজন বিদেশিই খেলানো যাবে। এতে করে বিদেশি কমে যাওয়ায় আমাদের দেশি খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ কিন্তু বাড়ছে।’

আর যে আসরের লভ্যাংশের দিকে বরাবরই চোখ ক্লাবগুলোর, সেই বিপিএলের চতুর্থ আসর আগামী নভেম্বরেই করার সিদ্ধান্তও কাল পাকা করেছে ওয়ার্কিং কমিটি।

উড়ে এসেই ফাইনাল-ভাগ্য লিখলেন সিমন্স

m,ol

বিরাট কোহলি পারলেন, পারল না তাঁর দল। ক্রিস গেইল পারলেন না, পারল তাঁর দল। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেমিফাইনাল দ্বৈরথে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু ক্রিকেট দেবতা একজনকে ব্যক্তিগতভাবে খুশি করেও পোড়ালেন হতাশার আগুনে। আর আরেকজনের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা জুড়িয়ে দিলেন ফাইনালে ওঠার আনন্দে। মুম্বাইয়ে তাই ক্যারিবীয়দের উৎসবে গ্যালারিতে লজ্জায় মুখ লুকালেন শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বলিউড অভিনেতা অনিল কাপুর।

ক্যারিবিয়ানদের উল্লাস একটু বেশিই যেন। ছেলেদের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মেয়েরাও যে নাম লিখিয়েছে মহিলা বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ফাইনালে। ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জেরেকারের সঙ্গে সেই আনন্দটাও ভাগাভাগি করে গেলেন অধিনায়ক ড্যারেন সামি।

একেই বলে ভাগ্য। একাদশে তো দূরে থাক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি লেন্ডল সিমন্সের। সেই তিনিই কিনা উড়ে এসে ছুড়ি বসিয়ে দিলেন ভারতীয়দের হৃদয়ে! ভারতীয়দের অনেকের এখন মনে হতেই পারে কেন চোটে পড়লেন আন্দ্রে ফ্লেচার! এই ব্যাটসম্যানের চোটের কারণেই যে ডাক পড়ে সিমন্সের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে মুম্বাইয়ে উড়ে এসে একাদশেও মিলে যায় সুযোগ। আর সেটা কি চমত্কারভাবেই না কাজে লাগালেন এই ব্যাটসম্যান। ৫১ বলে হার না মানা ৮২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে ছাড়লেন মাঠ। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে না উঠলে কী হয়! সেই পুরস্কার নিতে এসেই তিনি অনুভূতি ভাগাভাগি করলেন এভাবে, ‘ফ্লাইটের পুরোটা সময় ঘুমে কাটিয়েছি। আফগানিস্তানের ম্যাচের পর ফোন পেয়েছিলাম। আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমি ফিট কি না…বললাম, হ্যাঁ, ওরা (টিম ম্যানেজমেন্ট) বলল, চলে এসো।’

সিমন্সের ডাক পাওয়ার বড় কারণ সম্ভবত মুম্বাইয়ের মাঠে খেলা বলে। আইপিএলে ওয়াংখেড়ে যে তাঁর ঘরের মাঠ। সেই মাঠেই নিজেকে প্রমাণ করতে পেরে ভীষণ খুশি এই ব্যাটসম্যান, ‘মুম্বাইয়ের হয়ে যেহেতু খেলি তাই এই মাঠটা আমার পছন্দের। খুব উপভোগ করি এখানকার খেলা। আমার মনে হয় এটা আমার অন্যতম সেরা ইনিংস। ভীষণ খুশি ভক্তদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়ে।’ শুধু হঠাৎ করে দলে সুযোগ পাওয়াই নয়, সেমিফাইনালে দু-দুবার জীবন পেয়েছেন নো বল ভাগ্যে। আরেকবার বেঁচে গেছেন রবীন্দ্র জাদেজার পা সীমানা ছুঁয়ে যাওয়ায়। নিজেকে তাই সৌভাগ্যবান মনে করাটা স্বাভাবিক সিমন্সের, ‘তিনটি সুযোগ পেয়েছিলাম। দুটো নো বল এবং একবার ছক্কা হয়ে যাওয়ায়। সেটা পুরোপুরি তুলে নিয়েছি। অবশ্যই ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল।’

১৯২ রান, সেমিফাইনালের উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচে নিঃসন্দেহে বড় স্কোর। এর পরও কিনা সামি বলছেন ভারত ১০ রান কম করেছিল, ‘ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় অবশ্যই বিশাল এক ধাপ ফেললাম। দলের সবার প্রশংসা করতে হবে। বিরতির সময় আমরা জানতাম ওরা ১০ রান কম করেছে।’ ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি হারের কারণ হিসেবে ‘১০ রান কম’ করার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন প্রসঙ্গ একটু অন্য দিকে ঘুরিয়ে, ‘স্পিনাররা সুবিধা করতে পারেনি। কন্ডিশন খুব কঠিন ছিল। গোটা ম্যাচে একমাত্র যে বিষয়টি নিয়ে আমি হতাশ, সেটা হলো দুটো নো বল। নইলে ছেলেরা সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটির কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা টুইটারে লিখেছেন, ‘অসাধারণ, অসাধারণ, অসাধারণ! শাবাশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।’ গ্লেন ম্যাকগ্রা আবার লিখেছেন, ‘কী খেলাটাই না হলো! এমনটা আমি কখনো দেখিনি।’ আর গ্যালারিতে বসে ভারতের হতাশাজনক হার দেখা টেন্ডুলকারের টুইট, ‘দুর্ভাগ্য ছেলেদের। ভালো একটা ম্যাচ ছিল, দারুণ লড়াই হয়েছে। ফাইনালের জন্য শুভকামনা রইল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের।’

‘আসতে দিন গেইলকে!’

yuhk

ক্রিস গেইল কী, সেটাই দেখাতে চাই’—ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে হুংকার ক্যারিবীয় ওপেনারের। রবি শাস্ত্রীও কম যান না। ভারতের টিম ডিরেক্টরের পাল্টা জবাব, ‘আসতে দিন, আমাদের সব বোলার তাকে টার্গেট করবে।’ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সেমিফাইনালের আগে দুই দল রীতিমতো যুদ্ধংদেহী মেজাজে। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোড়কে লড়াইটা আরও দুজনের। বিস্ফোরক ক্রিস গেইলের মুখোমুখি দুর্দান্ত বিরাট কোহলি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৫৫, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অপরাজিত ৮২—চাপের মুখে কোহলির অসাধারণ ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ বিশ্ব ক্রিকেট। ভারতের ‘রানমেশিনে’র পারফরম্যান্স নিয়ে কাল সংবাদ সম্মেলনে আরও একবার মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন শাস্ত্রী, ‘এটা ছিল অসাধারণ ইনিংস (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)। টি-টোয়েন্টির অন্যতম সেরা ইনিংস। আরও অনেক টি-টোয়েন্টি হবে। কিন্তু যদি উপলক্ষ ও চাপ বিবেচনা করেন, সে যে ধরনের শট খেলেছে, অবিশ্বাস্য! মাঠজুড়ে ক্রিকেটের সব ধরনের শটই খেলেছে।’
নির্ধারিত ওভারের ক্রিকেটে ক্রমেই নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন কোহলি। তাঁর সাফল্যের কিছু কারণ জানেন শাস্ত্রী, ‘সেরাদের কাতারে সে থাকতে পারে, এই বিশ্বাস তার মধ্যে জন্মেছে। এ জন্য তাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। বিরাটের চেয়ে বেশি পরিশ্রম আর কেউ করে না। গত ১৮ মাসে সে যেভাবে সাফল্য পেয়েছে, কৃতিত্ব তাকে দিতে হবে।’
কোহলি কতটা ভয়ংকর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেটি অজানা নয়। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টেনে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রোহিত শর্মার ৬২ রানের সঙ্গে কোহলির ৫৪ রানের ইনিংসের কাছেই হার মেনেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজও কোহলি দাঁড়িয়ে গেলে স্যামিদের কপালে বড় দুর্ভোগই আছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে শুরু হলেও পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা ভারত ছন্দ ধরে রাখতে চায় শেষ চারেও। আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে শাস্ত্রীর, ‘এই সংস্করণে তারা ভয়ংকর একটা দল। তাদের দলে রয়েছে বেশ কয়েকজন বিস্ফোরক খেলোয়াড়। অনেক ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় আছে দলটিতে। তবে জানি তাদের বিপক্ষে কী করতে হবে। আমরা প্রস্তুত। এটাই আমাদের প্রথম নকআউট নয়। নকআউট ছিল সর্বশেষ ম্যাচটিও (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)। সেটা ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। এটা সেমিফাইনাল।’
এ পর্যায়ে পা হড়কালে পরিণতি কী, শাস্ত্রী কি সেটি জানেন না! দলের বিদায় হলে তাঁকেও পড়তে হবে তোপের মুখে। এক সাংবাদিক অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে জিজ্ঞেস করলেন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে। শাস্ত্রীর জবাব, ‘কাল (আজ) কী হয়, সেটা আগে দেখেন। এটা সেমিফাইনাল। আপনি আচ্ছা মানুষ তো!’
আইপিএলের সৌজন্যে গেইল-স্যামিরা ভারতে যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাঁদের কঠিন কাজই করতে হবে আজ। ভারতীয়দের কাঁদিয়ে উঠতে হবে ফাইনালে। ভারত নিশ্চয়ই কাঁদতে চাইবে না। বরং অতিথিদের বিদায় করাই তাদের লক্ষ্য।
জানি তাদের বিপক্ষে কী করতে হবে। আমরা প্রস্তুত—রবি শাস্ত্রী
বিষয়:
খেলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টি-২০ বিশ্বকাপ ২০১৬

প্যারাগুয়ের মাঠে কোনোমতে রক্ষা ব্রাজিলের

fghjkod

প্যারাগুয়ের মাঠে হারতে হারতে বেঁচে গেল ব্রাজিল। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ম্যাচের শেষ দিকে দুই গোল করে ১ পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

প্যারাগুয়ের আসুনসিওনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলকে কোনঠাসা করে রাখে স্বাগতিকরা। ষোড়শ মিনিটে প্যারাগুয়েকে গোল বঞ্চিত করে পোস্ট। অরিৎসের ফ্লিক গোলরক্ষক আলিসনের হাতে লেগে বারে লাগে। দুই মিনিট পর গোমেসের শট দুর্দান্ত সেভ করে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন আলিসন।

তবে দুর্দান্ত খেলতে থাকা প্যারাগুয়েকে ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। ৪০তম মিনিটে এদগার বেনিতেসের ক্রস থেকে গোল করেন দারিও লেসকানো। ডি-বক্সে বল পেয়ে ভালোমত শট নিতে পারেননি তিনি; তবে ভাগ্য ভালো বল মাটিতে লেগে লাফিয়ে গোলরক্ষক ও গোল লাইনে থাকা ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দেয়।

গোলের জন্য মরিয়া ব্রাজিলের কোচ দুঙ্গা বিরতির পরপরই মিডফিল্ডার ফের্নান্দিনিয়োর বদলে জেনিতের ফরোয়ার্ড হাল্ককে নামান। তবে উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে স্বাগতিকরা। শুরুটা করেছিলেন সান্তা ক্রুস, দারুণ কিছু ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে তিনি বল বাড়ান অরিৎস বুস্ত্রোকে। ডি-বক্সে তার বাড়ানো বল পা বাড়িয়ে দারুণ ভাবে নামিয়ে গোল করেন বেনিতেস।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ব্রাজিল। তবে সুযোগসন্ধানী এক গোলে ম্যাচে ফেরে তারা। ৭৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা হাল্কের দুর্দান্ত শট কোনো মতে ঠেকান গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেযে জালে জড়ান রিকার্দো অলিভেইরা।

আর ব্রাজিলকে যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরান দানি আলভেস। ডি-বক্সের ভেতর থেকে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় নেওয়া কোনাকুনি শটে গোল করেন বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার।

এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার জন্য তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারকে ছাড়া খেলতে নেমে ভালো কোনো আক্রমণ করতে না পারায় মনে হচ্ছিল গত কোপা আমেরিকার মতো এবারও বুঝি প্যারাগুয়ের কাছে হারতে যাচ্ছে ব্রাজিল। তবে শেষ দিকে হাল্করা জ্বলে ওঠায় ২-২ গোলের এই ড্রয়ে সমালোচনার হাত থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন কোচ দুঙ্গা।

বাছাই পর্বের ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল আছে এখন ষষ্ঠ স্থানে। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে প্যারাগুয়ে আছে সপ্তম স্থানে।

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বের অন্য ম্যাচে লিওনেল মেসি ও গাব্রিয়েল মেরকাদোর গোলে বলিভিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে জেরার্দো মার্তিনোর দল।

অন্য ম্যাচে নিজেদের মাঠে এদিনসন কাভানির একমাত্র গোলে পেরুকে হারিয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে উরুগুয়ে।

বাছাইপর্বে প্রথম হারের মুখ দেখেছে একুয়েডর। তবে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে শীর্ষস্থানও খুইয়েছে দলটি। উরুগুয়ের সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে আছে তারা।

ভেনেজুয়েলাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে আগের ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হারা চিলি। দুটি করে গোল করেন আর্তুরো ভিদাল ও মাউরিসিও পিনিয়া। ১০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

সমান ১০ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে কলম্বিয়া আছে পঞ্চম স্থানে।

দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশের মধ্যে প্রথম চারটি দল সরাসরি খেলবে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। বাছাই পর্বে পঞ্চম হওয়া দলটি প্লে-অফ খেলার সুযোগ পাবে।

তাসকিনের ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের আশা হিথ স্ট্রিকের

gvyjt

বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের বিশ্বাস, তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশনের ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা যাবে। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকবে তাসকিন।

গত সোমবার বোলিং অ্যাকশন সংশোধনের কাজ শুরু করেন আরাফাত সানি ও তাসকিন। বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি পাওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই দুই জনের বোলিং নিষিদ্ধ করে আইসিসি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষিদ্ধ হলেও বোর্ডের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ রয়েছে সানি-তাসকিনের। দেশের সেরা ওয়ানডে টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়র ডিভিশন ক্রিকেট লিগে খেলতে পারেন এই দুই বোলার।

তাসকিনের বোলিং সংশোধনের পুরোটা সময় তার সঙ্গে নাও থাকতে পারেন স্ট্রিক। আইপিএল চলার সময় গুজরাট লায়ন্সের হয়ে কাজ করার কথা রয়েছে তার। তিনি এই সময়ে বিসিবি কোচদের দুই বোলারকে পর্যবেক্ষণে রাখার এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা বলেছেন।

“আমাদের সময়ের কোনো চাপ নেই। আমার মনে হয়, আবার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তাসকিনের তৈরি হতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আবার তাকে পাঠানোর আগে আমাদের শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে।”

গত ১৫ মার্চ চেন্নাইয়ে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন তাসকিন। তাতে তার তিনটি ডেলিভারিতে ত্রুটি ধরা পড়ে। স্ট্রিকের বিশ্বাস, এই ত্রুটি দূর করা খুব একটা কঠিন হবে না তাসকিনের জন্য।

জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক স্ট্রিক জানান, চেন্নাইয়ে তাসকিনের শুধু স্লোয়ার বাউন্সারে ত্রুটি পাওয়া গেছে। আর এ কারণেই তার বোলিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৪০টি ডেলিভারির মধ্যে তিনটিতে ত্রুটি পাওয়া গেছে, তাই তাসকিনের বোলিং অ্যাকশনের সংশোধনের জন্য খুব বেশি কিছু নেই বলেই মনে করেন স্ট্রিক।

“আমি তার সঙ্গে প্রথম যখন কাজ শুরু করি, তারপর থেকে তার বোলিং অ্যাকশন খুব একটা পাল্টায়নি। আমাদের কখনও সন্দেহ করার মতো কোনো কারণ ছিল না। তাই এমনকি আমিও বিস্মিত হয়েছিলাম। তার দ্রুত গতির সব ডেলিভারি ত্রুটিমুক্ত। তার স্লোয়ার বাউন্সারে সমস্যা পাওয়া গেছে, এটা ক্লান্তির জন্যও হতে পারে।”

স্ট্রিকের বিশ্বাস, শিগগির ক্রিকেটে ফিরবেন তাসকিন, “আমার মনে হয় না, তার বোলিং অ্যাকশন সংশোধন খুব একটা কঠিন হবে। এটা খুব বেশি সময় নেবে না।”

মোহালির ইনিংসটাকেই ১ নম্বরে রাখছেন কোহলি

3

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে প্রবল চাপ জয় করে খেলা অসাধারণ ইনিংসটিকে নিজের ক্যারিয়ার সেরা বলে মনে করছেন বিরাট কোহলি।

মোহালিতে ৫১ বলে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভারতকে সেমি-ফাইনালে তোলেন কোহলি। রান তাড়ায় শুরু থেকেই রান-বলের সমীকরণে পিছিয়ে ছিল ভারত। কিন্তু সেই চাপের ছাপ একটুও দেখা যায়নি কোহলির ব্যাটিংয়ে। ঠাণ্ডা মাথায় টেনে নিয়ে গেছেন দলের ইনিংস। সময় মত একটি-দুটি চারে রানরেটকে যেতে দেননি নাগালের বাইরে। আর প্রয়োজনমত তুলেছেন ঝড়।

৯টি চার ও ২টি ছক্কা মিলে মোট ১১টি বাউন্ডারির শেষ আটটিই তিনি মারেন শেষ পাঁচ ওভারে, ঠিক যখন প্রয়োজনটা বড় হয়ে ওঠে।

ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে কোহলি বলেন, “নিশ্চিতভাবেই এটা শীর্ষ তিনে থাকবে। সম্ভবত এখন এটাই শীর্ষে, কারণ আমি একটু আবেগী, তাই এটাকে আমি শীর্ষে রাখতে চাইব। বিশ্ব মানের দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটা আমাদের জন্য কোয়ার্টার-ফাইনাল ছিল।”

হারলেই বিদায়- এমন লড়াইয়ে ১৬১ রানের লক্ষ্য বড় কিছু না হলেও রোহিত-ধাওয়ান-রায়নাদের ব্যর্থতায় শুরু থেকেই ধুঁকছিল স্বাগতিকরা। অষ্টম ওভারে স্কোরবোর্ডে ৪৯ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলকে পথ দেখান কোহলি। যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর পর ধোনির সঙ্গে ৩১ বলে ৬৭ রানের জুটিতে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে।

কোহলির প্রশংসায় অধিনায়ক ধোনি বলেন, “আমার মতে, গত দুই-তিন, হয়তো চার বছর ধরে সে অসাধারণ খেলে চলেছে। এক জন ক্রিকেটার হিসেবে তার বেড়ে ওঠা দেখেছি আমরা।”

কোহলি এর আগেও অনেকবার খেলেছেন ম্যাচ জয়ী ইনিংস। এ মাসের শুরুতেই এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংসে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারাতে খেলেন অপরাজিত ৫৫ রানের ম্যাচ সেরা ইনিংস। তবে রোববার যেন ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকেও। মাঠের চারপাশে চমৎকার সব শটে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের প্রশংসাও অর্জন করে নেন কোহলি।

“এটা দারুণ সিরিয়াস একটি ইনিংস। চাপের মুখে সে সব ধরনের শটই খেলেছে এবং ফাঁক খুঁজে নিয়েছে। অনেকটা সময় ধরে সে এটা করেছে, প্রশংসা তার প্রাপ্য।”

আমলার মাইলফলকে দক্ষিণ আফ্রিকার সহজ জয়

8956

হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন হাশিম আমলা। সুপার টেন পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তার দল।

দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে সোমবার সুপার টেন পর্ব থেকে বাদ পড়া দুই দলের লড়াইয়ে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ১২০ রান করে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। জবাবে আমলার অর্ধশতকে ১৭.৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ছোট লক্ষ্যে খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় কুইন্টন ডি কককে হারালেও তা কোনো ভাবনার কারণ হয়নি। দ্বিতীয় উইকেটে আমলা ও ফাফ দু প্লেসি মিলে ৬০ রানের জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে দেন।

সুরঙ্গা লাকমালের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩৬ বলে ৩১ রান করেন অধিনায়ক দু প্লেসি। আমলা অপরাজিত থাকেন ৫৬ রানে। তার ৫২ বলের ইনিংসটি ৫টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ।

ম্যাচ জয়ী ইনিংসের পথে টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছান আমলা। ক্রিকেটের ছোট এই সংস্করণে তার মোট রান হলো ১ হাজার ৮।

এর আগে ইনিংসের শুরুটা ভালোই হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। দিনেশ চান্দিমাল ও তিলকরত্নে দিলশানের দৃঢ়তায় ৪.২ ওভারে ৪৪ রান করে ফেলে তারা।

এরপরই ছন্দপতন হয় শ্রীলঙ্কার। অ্যারন ফ্যাঙ্গিসোর করা পঞ্চম ওভারের শেষ দুই বলে ফিরে যান চান্দিমাল (২০ বলে ২১) ও লাহিরু থিরিমান্নে (০)।

মিলিন্দা শ্রিবর্ধনেকে নিয়ে দিলশান চেষ্টা করলেও পারেননি। ১০ বলে ১৫ করে শ্রিবর্ধনে রান আউট হলে ভাঙে ৩০ রানের জুটিটি।

ইনিংস বড় করতে পারেননি দিলশানও, ৪০ বলে ৩৬ রান করে ফারহান বেহারদিয়েনের বলে এলবিডব্লিউ হন এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। এরপর একমাত্র দাসুন শানাকা দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছান, ২০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

কাইল অ্যাবট, ফ্যাঙ্গিসো ও বেহারদিন দুটি করে উইকেট নেন।

প্রতিশোধের লক্ষ্যে প্যারাগুয়ের মাঠে নেইমারবিহীন ব্রাজিল

 

6
কোপা আমেরিকার গত আসরে প্যারাগুয়ের কাছে হেরেই ছিটকে পড়েছিল ব্রাজিল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এবার সেই দলের বিপক্ষেই মাঠে নামতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রতিযোগিতা ভিন্ন হলেও পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার প্রয়াস থাকবেই দুঙ্গার দলের।

এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়া অধিনায়ক নেইমারকে গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে পাচ্ছে না ব্রাজিল দল। ম্যাচটি আবার হতে যাচ্ছে প্রতিপক্ষের মাঠে। গত ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে এখানে জিততে তাই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে ব্রাজিলকে।
প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনে বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার সকাল পৌনে সাতটায় শুরু হবে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচটি।

গত রাউন্ডে উরুগুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২৬ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত দুই গোল হজম করে ১ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।
এবার তাই আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও মনোযোগ বাড়াতে হবে কোচ দুঙ্গাকে। সে লক্ষ্যে এ দুই জায়গাতেই বড় ধাক্কা সামলে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে তাকে। গত ম্যাচে হলুদ কার্ড পাওয়ায় নেইমারসহ ডিফেন্ডার দাভিদ লুইসও এ ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

গত রাউন্ডে এগিয়ে গিয়ে পরে ড্রয়ে মাঠ ছাড়ার হতাশা আছে প্যারাগুয়েরও। একুয়েডরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের আগ পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে জয়ের প্রত্যাশাই করছিল প্যারগুয়ে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বসে তারা। দলটির জন্যও ম্যাচটি তাই ঘুরে দাঁড়ানো লক্ষ্য।

তবে প্রতিপক্ষ যখন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন, তখন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা মোটেও সহজ নয়। সবশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল অবশ্য তাদের পক্ষে। গত কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার-ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধের গোলে সমতায় ফেরে তারা। পরে টাইব্রেকারে জিতে শেষ চারে ওঠে দলটি।
বাছাইপর্বের পাঁচ রাউন্ড শেষে দুদলের পয়েন্টই ৮। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল। পঞ্চম স্থানে থাকা আর্জেন্টিনার পয়েন্টও সমান ৮।

১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে একুয়েডর।