সামনের পাঁচ ম্যাচের হিসাবটা এখন কী?

drtjk

হঠাৎ করেই আবার জমজমাট লা লিগার শিরোপা-লড়াই। লা লিগায় টানা চার ম্যাচে জয়হীন বার্সেলোনা, ২০০৩ সালের পর প্রথম টানা তিন ম্যাচে হার। ৩৩ ম্যাচ শেষে বার্সার পয়েন্ট ৭৬, অ্যাটলেটিকোরও তা–ই। ১ পয়েন্ট পেছনে থেকে রিয়াল মাদ্রিদ নিশ্বাস ফেলছে ঘাড়ের ওপর।

বার্সার জন্য সামান্য স্বস্তি হতে পারে, হেড টু হেডে তারাই এগিয়ে। কিন্তু এই স্বস্তিটা আসলেই কতটুকু স্বস্তির? কী সমীকরণ দাঁড়াল এখন লা লিগায়?
দেপোর্তিভোর সঙ্গে এই সপ্তাহেই আবার মাঠে নামবে বার্সেলোনা। তাদের মাঠে গিয়ে কাজটা মোটেই সহজ হবে না। দেপোর্তিভো তো গত ডিসেম্বরে ন্যু ক্যাম্পে এসে ২-২ গোলে ড্র করে গিয়েছিল। দেপোর্তিভোর অবস্থা অতটা ভালো নয়, ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৩ নম্বরে আছে। কিন্তু এই বার্সাকে পেলে ন্যু ক্যাম্পের আগের স্মৃতি জেগে উঠবে না, সেটা কে বলতে পারে? সর্বশেষ ১৯ ম্যাচে মাত্র একটি জয় তাদের। কিন্তু এর মধ্যে আট ম্যাচে ড্রও করেছে। আর এই মুহূর্তে এক ম্যাচে ড্র করা মানেই বার্সার সর্বনাশ।
বার্সার এর পরের ম্যাচটা অবশ্য কাগজে–কলমে সহজ। অবনমন অঞ্চলে থাকা স্পোর্টিং গিহনের সঙ্গে নিজেদের মাঠে জিততে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। এর পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ রিয়াল বেটিসও পয়েন্ট তালিকার ১৪ নম্বরে ধুঁকছে। নিজেদের মাঠে ১৬ ম্যাচের ১০টিতে অপরাজিত রিয়াল বেটিস কি কঠিন পরীক্ষা নিতে পারবে বার্সার? বেটিস ম্যাচের পর কাতালুনিয়ান ডার্বিতে মুখোমুখি এসপানিওল। কী অদ্ভুত, দেপোর্তিভো, বেটিস, এসপানিওল এই মুহূর্তে পয়েন্ট তালিকার ১৩ থেকে ১৫ পর্যন্ত পরপর! আর এই মৌসুমের শেষ ম্যাচটা বার্সা খেলবে গ্রানাডার সঙ্গে। গ্রানাডাও লড়াই করছে অবনমনের সঙ্গে। খালি চোখে সহজ ম্যাচগুলো কিন্তু ইদানীং বার্সার জন্য অনেক কঠিন হয়ে উঠছে!
অ্যাটলেটিকো-রিয়াল মাদ্রিদেরও খুব বড় কোনো প্রতিপক্ষ নেই। অ্যাটলেটিকোর কাজটা তুলনামূলক সহজ, তাদের তিনটি ম্যাচই নিজেদের মাঠে। মালাগা, রায়ো ভায়েকানো ও সেল্টা ভিগোর সঙ্গে খেলতে হবে নিজেদের মাঠে। দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচ অ্যাথলেটিক বিলবাও ও লেভান্তের সঙ্গে। লেভান্তে পয়েন্ট টেবিলের ১৯ নম্বর দল। তবে বরাবরই লড়াকু ক্লাব বিলবাও আছে পাঁচে। বলতে গেলে অ্যাটলেটিকোর এই একটাই বড় পরীক্ষা।
রিয়ালের পথ সেই তুলনায় একটু কঠিন। রিয়ালের তিনটি ম্যাচ প্রতিপক্ষের মাটিতে। ভায়েকানো, সোসিয়েদাদ ও দেপোর্তিভোর মাঠে গিয়ে খেলতে হবে রোনালদোদের। নিজেদের মাঠে দুইটি ম্যাচও সহজ হবে না, প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়াল ও ভ্যালেন্সিয়া।

আফগানদের কোচের পদ ছাড়লেন ইনজামাম

cd

আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্কটা চুকিয়ে দেশের ক্রিকেটেই ফিরছেন ইনজামাম-উল-হক। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে প্রধান নির্বাচকের পদে বসাচ্ছে। সাবেক এই ব্যাটসম্যান তাই আফগানদের প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

ইনজির পদত্যাগের খবরটা দিয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান শফিক স্তানিকজাই, “ই-মেইলে ইনজামামামের পদত্যাগের চিঠি পেয়েছি আমরা। শাহরিয়ার খান (পিসিবি চেয়ারম্যান) আমাকে ফোন করে ইনজামাম-উল-হককে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন। তারা তাকে নিতে চায়। আমরা দেশপ্রেমিক মানুষ। ইনজামামকে যদি তার দেশের দরকার পড়ে তাহলে আমরা তাকে ছেড়ে দিচ্ছি।”

গত বছরের শেষের দিকে আফগানিস্তানের জিম্বাবুয়ে সফরের আগে কোচ হয়েছিলেন ইনজি। জিম্বাবুয়েকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানরা হারানোর পর তার সাথে চুক্তি নবায়ন করা হয়। এই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন চুক্তি হয়। এর মধ্যে আফগানদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিয়ে যান ইনজি। সেখানে বাছাই পর্ব পেরিয়ে সুপার টেনেও খেলে আইসিসির সহযোগী সদস্য আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল আফগানরা। তবে তাদের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়লেন ইনজামাম।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজি এর আগে ২০১২-১৩ তে পাকিস্তান জাতীয় দলের ব্যাটিং উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি পাকিস্তানকে ৩১ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যার ১১টি জিতেছিল পাকিস্তান, ১১টি হেরেছিল। ৯টি ড্র হয়েছিল। ৮৭টি ওয়ানডেতেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইনজি। এর ৫১টি জিতেছে পাকিস্তান। হেরেছে ৩৩টি। ক্যারিয়ারের ১২০ টেস্টে ২৫ সেঞ্চুরিতে ৪৯.৬০ গড়ে ৮৮৩০ রান তার। আর ৩৭৮ ওয়ানডেতে ১০টি সেঞ্চুরিতে ১১৭৩৯ রান ইনজির।

বার্সেলোনার সামনে নির্ভয় ভ্যালেন্সিয়া

[oiuh

থেমে গেছে অশ্বমেধের ঘোড়া, বসে গেছে রথের চাকা। টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকা দলটির খেলোয়াড়দের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে ছিটকে যাওয়ার পর আজই মাঠে নামছে বার্সেলোনা, লা লিগার ৩৩তম রাউন্ডের ম্যাচে। প্রতিপক্ষ ভ্যালেন্সিয়া, যাদের মাস দুয়েক আগে কোপা দেল রে’র ম্যাচে কাতালানরা হারিয়েছিল ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। অথচ সেই দলেরই এখনকার কোচ পাকো আয়েস্তারান জোর গলাতেই বলছেন, তাঁরা কোনো ভয়টয় পাচ্ছেন না!

৭ গোল হজমের সেই ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার কোচ ছিলেন গ্যারি নেভিল। চাকরিটা তিন মাসের বেশি টেকেনি তাঁর, এখন কোচের চেয়ারে আয়েস্তারান, ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠস্বর, ‘আমি ম্যাচের আগে কখনো ভয় পাই না। ভয় তখনই লাগবে যখন কারো প্রস্তুতি খারাপ হয়, আমার দল পুরো প্রস্তুত।’ লিগে এল ক্লাসিকো হারের পর রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে হেরেছে বার্সা, ছিটকে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকেও। এমন দুঃসময়ে ভ্যালেন্সিয়ার জয়ের সুযোগ বেশি কি না, এমন প্রশ্নে কোচের উত্তর, ‘বার্সেলোনার মতো বড় দলগুলো যখন টানা কয়েকটা ম্যাচ খারাপ করে, তখন তাদের সামনে পড়ার চেয়ে যখন তারা ভালো করছে এমন সময়ই তাদের মুখোমুখি হতে পছন্দ করব। কারণ তখন তাদের চমকে দেওয়া যায়।’ বার্সা কোচ লুই এনরিকে অবশ্য প্রতিপক্ষ নয় নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবনায়, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে উত্তরণের জন্য প্রচণ্ড চেষ্টার দরকার। আমাদের অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামতে হবে। মাঠে পরস্পরকে সহায়তা করতে হবে, একজোট হতে হবে এবং সমর্থকদেরও পাশে থাকতে হবে।’

এ সপ্তাহটা বেশ ব্যস্ত কাটবে মেসি-নেইমারদের, নিজেদের মাঠে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলার পর বুধবার দেপোর্তিভো লা করুনার মাঠে গিয়ে খেলতে হবে। এরপর শনিবারেই আবার স্পোর্তিং গিজনের সঙ্গে ম্যাচ। তবে এসব নিয়ে এখনই ভাবছেন না এনরিকে, ‘আগামী তিনটি ম্যাচের দুটিই নিজেদের মাঠে, তাই আমি আশাবাদী। যদিও এ পরিস্থিতিটা আমার ভালো লাগছে না, তবে আমরা লিগ চ্যাম্পিয়ন হতেই পারি। কাজটা অবশ্য সহজ হবে না, আর আমরাও কিন্তু কখনো বলিনি কাজটা সহজ হবে।’ ট্রেবল জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর, এবার লিগ ও কাপ জিতে টানা দ্বিতীয় মৌসুম ডাবল জয়ের রেকর্ডটা গড়ার দিকেই এনরিকের চোখ, ‘আমাদের সামনে একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। খুব কম দলই স্পেনের ইতিহাসে টানা দুই মৌসুম লিগ ও কাপ জিততে পেরেছে।’ কিছুদিন আগেও যাদের জন্য লা লিগা জয়টা স্রেফ সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, টানা দুটি হারে আচমকাই সেই সম্ভাবনায় লেগেছে ধাক্কা। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে কি স্বরূপে ফিরবেন এমএসএন, নাকি লম্বা হবে দুঃসময় সেই প্রশ্নেরই উত্তর দেবে আজ ন্যু ক্যাম্পের ৯০ মিনিট। কাল বার্সেলোনার আগে অবশ্য মাঠে নামবে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে নাম লেখানো অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদও, তাদের প্রতিপক্ষ গ্রানাদা।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রবিবার তিনটি ম্যাচ। ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে ওঠা লিভারপুলের আজকের প্রতিপক্ষ বোর্নমাউথ, শিরোপাপ্রত্যাশী লিস্টার সিটি নিজেদের মাঠে খেলবে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে আর আর্সেনালের প্রতিপক্ষ ক্রিস্টাল প্যালেস। লিভারপুলের কাছে হেরে ইউরোপা লিগ থেকে ছিটকে পড়া বরুশিয়া ডর্টমুন্ড বুন্দেসলিগায় আজ খেলবে হামবুর্গের বিপক্ষে। গোলডটকম

বিসিবির ছাড়পত্র পেলেন না পেসার শাহাদাত

fdd

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীবকে খেলার ছাড়পত্র দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শাহাদাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

ডিসিপ্লিনারি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের আসর। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম বৃহৎ এই আসরে খেলার জন্য বিসিবির অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব, যিনি শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছেন। তবে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ার আগ পর্যন্ত শাহাদাতকে নিষিদ্ধ রাখার বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, শাহাদাতের বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন। এ ব্যাপারে আমরা সুস্পষ্ট কিছু জানতে পারিনি। যে কারণে তার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। যদি আদালত তার পক্ষে রায় দেন, সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এবারের ডিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটে শাহাদাত হোসন রাজীবের নাম না থাকলেও পরবর্তীতে তাকে দলে নিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শনিবার মোহামেডানের হয়ে অনুশীলনও করেছেন তিনি। কিন্তু বিসিবি অনুমতি না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাঠে ফেরা হচ্ছে না বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলা এই পেসারের।

‘অন্য গ্রহের’ মেসির কাছে রেকর্ড হারাতে দুঃখ নেই বাতিস্তুতার

ftcxu

কীভাবে ব্যাপারটা ঘটে গিয়েছিল, সেটা নাকি বুঝতেই পারেননি গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। ১৯৯১ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের পর একদিন দেখলেন, তিনি দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে! তবে দেশের জার্সিতে তাঁর ৫৬ গোল এখন হুমকির মুখে। আর ৬টি গোল করলেই বাতিস্তুতাকে ছুঁয়ে ফেলবেন লিওনেল মেসি। এত দিন শীর্ষে থাকার পর নিজের স্থানটি অন্যকে ছেড়ে দিতে কারই–বা ভালো লাগে! বাতিস্তুতাও ব্যতিক্রম নন। তবে তিনি সান্ত্বনা খুঁজছেন অদ্ভুত এক উপায়ে!
বাতিস্তুতা সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলে। ১৯৯৬ সালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলেছিলেন বাতিস্তুতা, ‘আমি একেবারেই বুঝতে পারিনি, কীভাবে ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেললাম। একদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, আমি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গিয়েছি।’
দেশের আকাশি-নীল জার্সিতে ৭৮ ম্যাচে ৫৬ গোল বাতিস্তুতার। বিশ্বকাপে দুই হ্যাটট্রিকসহ (১৯৯৪ সালে গ্রিস ও ১৯৯৮ সালে জ্যামাইকার বিপক্ষে) তাঁর গোলসংখ্যা ১০। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাতিস্তুতা বলেছেন, ‘নিজের রেকর্ড ভাঙতে দেখলে কার মনে দুঃখবোধ তৈরি হয় না, বলুন তো! তবে আমার একটা সান্ত্বনা আছে। আমার রেকর্ডটি এই গ্রহের কেউ ভাঙছে না!’
২০০৬ সালে খেলা ছাড়ার পর ফুটবলের সঙ্গে সেভাবে আর নিজেকে জড়াননি বাতিস্তুতা। কিছু দিন আগে নিজের পুরোনো ক্লাব ফিওরেন্টিনা থেকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তা গ্রহণ করেননি আর্জেন্টনার সাবেক নাম্বার নাইন। কেন করেননি? বাতিস্তুতার উত্তরটা খুব মজার, ‘ফিওরেন্টিনায় আমি অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। কোচ হয়ে সেটা হারানোর ঝুঁকি নিতে চাই না।’ সূত্র: গোল ডটকম।

আর্জেন্টিনার পক্ষে সর্বোচ্চ পাঁচ গোলদাতা
১. গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা—৫৬ গোল
২. লিওনেল মেসি—৫০ গোল
৩. হার্নান ক্রেসপো—৩৫ গোল
৪. ডিয়েগো ম্যারাডোনা—৩৪ গোল
৫. সার্জিও আগুয়েরো—২৯ গোল

সাকিবদের সঙ্গে পারলেন না মুস্তাফিজরা

bn gh

মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হয়ে গেলেন আন্দ্রে রাসেল। ছবি: এএফপিক্রিকেট এখন ব্যাটসম্যানদের খেলা, টি-টোয়েন্টি তো আরও বেশি। বোলারের গতিতে পরাস্ত হয়ে উইকেটের ওপর ব্যাটসম্যানের মুখ থুবড়ে পড়ার দৃশ্য তো এখন ভাবাই যায় না। হায়েদরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের দর্শকদের কাল সেই সৌভাগ্য হলো মুস্তাফিজের সৌজন্যে। মুস্তাফিজুর রহমানের দূদান্ত ইয়র্কারে আন্দ্রে রাসেল শুধু বোল্ডই হলেন না, একেবারে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে পড়লেন উইকেটের ওপরই। ম্যাড়মেড়ে ম্যাচে তবু ফিরল না উত্তেজনা। মুস্তাফিজের উচ্ছ্বাসও তাই সীমাবদ্ধ এক টুকরো হাসিতে।

কাল ছিল আইপিএলের ‘বাংলাদেশ’ ম্যাচ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-কলকাতা নাইট রাইডার্স ম্যাচটি তো রূপ নিয়েছিল ‘সাকিব-মুস্তাফিজ’ ম্যাচেই! তবে ম্যাচের আগেও অনিশ্চয়তা ছিল, শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের জায়গা হবে তো কলকাতা দলে? আগের দুই ম্যাচে তাঁর না খেলাই এই দুশ্চিন্তার কারণ। সব দুশ্চিন্তা দুরে সরিয়ে কাল মাঠে নামলেন সাকিব। বলও করলেন ৩ ওভার, ১৮ রান দিয়ে থাকলেন উইকেট শূন্য। অন্য বোলাররাও সাকিবের মতো কৃপণ থাকায় মুস্তাফিজের দল করতে পারল মাত্র ১৪২ রান।
তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে আসা ৯২ রানেই ম্যাচের ফল প্রায় নির্ধারণ করে ফলে কলকাতা। মুস্তাফিজের দুর্দান্ত সেই ইয়র্কার কিংবা অননুমেয় কাটারেও কোনো লাভ হয়নি। কলকাতা ম্যাচ জিতে যায় ৮ উইকেটে, ১০ বল হাতে রেখেই। সাকিবকেও নামতে হয়নি ব্যাটিংয়ে। ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে মুস্তাফিজ পেয়েছেন শুধু রাসেলের উইকেটটিই।

ক্রিকেটের চেয়েও টেন্ডুলকারের কাছে যা কঠিন

oi-0p

ব্রেট লির গতির ঝড়, ওয়াসিম আকরামের সুইং, কার্টলি অ্যামব্রোসের বাউন্সার—কোনো কিছুই খুব একটা আহামরি মনে হতো না, যেদিন শচীন খেলতেন শচীনের মতো। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের সেরা সেরা সব বোলারদের নাকের জল চোখে জল এক করা শচীন টেন্ডুলকার এখনো ব্যাট হাতে স্বপ্ন বুনতে জানেন। এই ৪২ বছর বয়সেও ভয়ংকর সব বোলারের বল খেলতে আগ্রহী টেন্ডুলকার, তাও ক্যামেরা সামনে দাঁড়াতে রাজি নন!

কিছুদিন আগে ক্রিকেট অলস্টার সিরিজেই তাঁর ব্যাটিং দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। কিন্তু অবসরে চলে যাওয়া এক ক্রিকেটারের জন্য সেটি ছিল বাড়তি কিছু। আর যে ব্যাট বলের মায়ায় পড়ে থেকে লাভ নেই সেটি খুব ভালো করেই জানেন টেন্ডুলকার। তবুও নিজের ফেলে আসা সে দিনগুলোর কথা ভেবে একটু স্মৃতিকাতর হতেই পারেন, বিশেষ করে নতুন এক উপলক্ষকে ঘিরে। ‘লিটল মাস্টার’কে নিয়ে ছোট এক আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র বানানো হচ্ছে—‘শচীন, এক শ কোটি স্বপ্ন’। সে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে হচ্ছে শচীনকেই।

জীবনের এই পর্যায়ে এসে আবারও ক্যামেরার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে অস্বস্তিতে পড়ে গেছেন টেন্ডুলকার। এর চেয়ে নতুন করে ব্যাট হাতে নামতেই আগ্রহী তিনি, ‘অনেকগুলো বছর আমি যা করতে চেয়েছি সেটাই করেছি, ক্যামেরা সেটি নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু এখন আমাকে বলে দেওয়া হচ্ছে কী করতে হবে, এবং তারপর সেটি ক্যামেরাতে ধারণ করা হবে। এটা বেশ কঠিন। বিশ্বাস করুন, প্রথম কাজটিই(ব্যাটিং) সহজ।’

আড়াই বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়া এই কিংবদন্তি ব্যাট হাতে যতটা স্বচ্ছন্দ, অভিনয়ে ঠিক ততটাই অপটু, ‘আমি কখনো অভিনয় করার স্বপ্ন দেখিনি। কোনো সন্দেহ নেই ক্রিকেট খেলার চেয়ে অভিনয় করা অনেক কঠিন। আমি খেলতেই ভালোবাসি।’

তবু নিজের চলচ্চিত্র বলে কথা, অভিনয় তো করতেই হবে। ভাগ্যিস, ক্যারিয়ারের পূর্ণ গগনে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে হালকা অভিনয় করে কিছুটা কাজ এগিয়ে রেখেছিলেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

রোনালদোর অসাধারণ কিছু ব্যাপার

cxdsz

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আসাধারণ ফুটবলার। দুর্ধর্ষ অ্যাথলেট। হ্যান্ডসাম মানুষ। খেলা দিয়ে মুগ্ধ করে রেখেছেন বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের। কিন্তু এর বাইরেও আরো অনেক ব্যাপার আছে রোনালদোর যা আপনাকে অভিভুত করবে।

হার্টের সমস্যা:

১৫ বছর বয়সে রোনালদোর হার্টের গুরুতর সমস্যা হয়েছিল। তাকে সারিয়ে তুলতে বাবা-মায়ের অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছিল রোনালদোর। আবার খেলার কথা ভুলে যেতে বলা হয়েছিল তাকে। কিন্তু এখনকার রোনালদোকে দেখে কে বলবে এমন একটি সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তার টিনেজ বয়সেই!

মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা:

মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসার ইতিহাস আছে রোনালদোর। ৯ বছর বয়সী এক ছেলের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ তিনি নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ছেলেটি ক্যান্সারে ভূগছিল। রিয়াল মাদ্রিদের ফ্যান সে। তার কথা জেনে এগিয়ে যান রোনালদো।

ছেলেবেলার বন্ধুত্ব ও কৃতজ্ঞতা
ছেলেবেলার বন্ধু হোসে সেমেদো। পর্তুগালে এক সাথে বেড়ে উঠেছেন। একদিন একটি ক্লাব তাদের দলের নতুন সদস্য নিতে এলো। বলা হলো, ম্যাচে যে বেশি গোল করবে তাকে নেয়া হবে। সেমেদো গোল করে রোনালদোকে পেছনে ফেলতে পারতেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রোনালদোকে বল দিলেন, তিনি গোল করলেন। এরপর রোনালদো দ্রুত এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে পড়েন সেমেদো। তাকে ভোলেননি রোনালদো। বন্ধু বেকার। আর তার বিলাসবহুল জীবন ধারণের সব খরচই বহন করেন তিনি।

মদ-সিগারেট মুক্ত:
জীবন তার কঠিন ছিল। বাবা ছিলেন মদে আসক্ত। ৫২ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে তাতেই। মদের এক ফোটাও কখনো গ্রহণ না করার পণ আছে রোনালদোর। তার টিনেজার ও তরুণ ফ্যান অনেক। রোনালদো চান মদ-সিগারেট ছাড়াও যে অসাধারণ জীবন যাপন করা যায় সেই উদাহরণ ভক্তদের সামনে তুলে ধরতে।

আইপিএলের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে

gft7y

মহারাষ্ট্রের খরায় বেশ ঝামেলা হয়ে গেল এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আয়োজনে। এরই মধ্যে স্টেডিয়ামে পানির অপচয় বন্ধ করতে মুম্বাইয়ের আদালত ১৩টি ম্যাচ মহারাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায় মেনেও নিচ্ছে আইপিএল। ম্যাচগুলোকে কীভাবে আয়োজন করা যায় সেই পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে খরার সমস্যার কারণে এভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি আয়োজনে বাধা তৈরি করার পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
মহারাষ্ট্র জুড়ে এখন ভীষণ খরা চলছে। চারিদিকে পানির জন্য মানুষের হাহাকার, আর এমন সময়ে আইপিএলের ম্যাচ আয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্যালন গ্যালন পানি! এই অপচয় বন্ধ করতেই মুম্বাইয়ের আদালত ৩০ এপ্রিলের পর মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই, পুনে ও নাগপুর ভেন্যুতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ২৯ মের ফাইনালসহ এই তিন ভেন্যুতে ৩০ এপ্রিলের পর মোট ১৯টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে ১৩টিই এখন সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
আয়োজনের মাঝপথে এসে এভাবে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পাওয়ার পর আইপিএল নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিসিসিআই সচিব অনুরাগ ঠাকুর, ‘আমরা ভালো পানি ব্যবহার করছি না। বরং নর্দমার পানিই শোধন করে ব্যবহার করছি। এখানে কয়টি পাঁচ তারকা হোটেলের সুইমিং পুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে? মানুষ কী তাঁদের ঘরের বারান্দা ধোয়া বন্ধ করে দিয়েছে? এখন এমন একটা সময় এসেছে, যে প্রতিটি ইস্যুতে আমরা নেতিবাচক কিছু খোঁজার চেষ্টা করি। আইপিএলে মাত্র ০.০০০৩৮ শতাংশ পানি ব্যবহার করা হতো। এটা খুব বেশি তো নয়।’
খুব বেশি না হলেও আদালতের চোখে খরার মধ্যে এই পরিমাণ পানি ব্যবহারও অপচয়। অবশ্য খরার মধ্যে আইপিএল আয়োজনের বিষয়টি আদালতে গড়ানোর পর থেকেই আইপিএল কর্তৃপক্ষ অনেক বিকল্প পদ্ধতি প্রস্তাব করে আসছিল—সেটি অর্থ সাহায্যই হোক আর বিনামূল্যে পানি সরবরাহ। তবু আদালত আইপিলের বিপক্ষেই রায় দিয়েছেন। আয়োজনের মাঝপথে এসে হঠাৎ এই নির্দেশ নিয়ে কিছুটা বিপাকেই আইপিএল কর্তৃপক্ষ। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লাও বলেছেন, ‘মূল সমস্যা ছিল কৃষকদের জন্য পানি সরবরাহ করা নিয়ে। এ ব্যাপারে কিছু সমাধানের পথও খুঁজছিলাম। আমরা পানি দিতে চাইছিলাম, মূখ্যমন্ত্রীর তহবিলে অর্থ দিতে চেয়েছিলাম। এখন এভাবে ম্যাচ সরিয়ে নিলে ঝামেলা হয়ে যাবে। যদি ম্যাচ সরাতে হয়, তাহলে কোথায় সরিয়ে নেব, কীভাবে সরিয়ে নেব, এই বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।’

আইপিএলের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার এতদিন পর কেন এই প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েই প্রশ্ন শুক্লার, ‘সবকিছু হচ্ছে এখন, অথচ কিছুদিন আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২৪টি ম্যাচ হয়ে গেল তখন কেউ কিছু বলেনি। ছয় মাস আগেও সবাই চুপ ছিলেন। যা কিছু করার ছিল, আমরা করতে চেয়েছি। সত্যি বলতে, আরও অনেক খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে মহারাষ্ট্রে, যেগুলোতে পানির ব্যবহার হচ্ছে। সেগুলোও তাহলে বন্ধ করে দিন। চিনির ফ্যাক্টরিতে পানি লাগে, নির্মাণ কাজে পানি লাগে। সবগুলো গলফ কোর্স তো প্রচুর পরিমান পানি ব্যবহার করে। সেগুলো নিয়ে কিছু হচ্ছে না।’
ষড়যন্ত্রের দাবি করছেন, ঝামেলার কথাও উঁচুগলায় জানিয়ে দিচ্ছেন। তবে সেসবই অন্যদের বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশের প্রতি অবশ্য যথাযথ সম্মান রাখছেন রাজীব। নির্দেশ বাস্তবায়নের পথও খুঁজছেন, ‘এখনও লিখিত আদেশ আমরা পাইনি। পাওয়ার পর সেটি ভালোভাবে বুঝে নিয়ে বিকল্প কোনো পথ খুঁজে বের করব। আমরা সব সময়ই আদালতকে সম্মান করি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে কথা বলতে হবে। মহারাষ্ট্রের ১৯ ম্যাচের মধ্যে ১৩টি সরিয়ে নিতে হবে, এসব নিয়ে এখন কাজ করতে হবে।’ সূত্র: এনডিটিভি।

ইতিহাসও ছিল মেসিদের প্রতিপক্ষ

km mj

মাত্র সপ্তাহ তিনেক আগের কথা। বার্সেলোনা কেন আরও একবার মৌসুমের তিনটি শিরোপাই জিতবে না, সেটিই ছিল আলোচনায়।
কিন্তু তিন সপ্তাহের মধ্যেই কেমন যেন সব কিছু বদলে গেল। বার্সেলোনার ট্রেবলের আশা এখন হাওয়া। টানা দুটি ম্যাচ হেরে ‘পর্বত-প্রমাণ’ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার সুবিধা এখন নেমে এসেছে ‘টিলা’ সমান দূরত্বে। কে জানে, আর একটি ম্যাচে হোঁচট খেলেই লিগ জয়ের আশাতেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
লিগে ধাক্কা লাগতে পারে, চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা কাল লেগেই গেল বার্সার গায়ে। ভিসেন্তে ক্যালদেরনে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছেন মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা।
কেন এমন হলো, কী হলে কী হতে পারত—কাঁটাছেড়া চলছে এসব নিয়েই। বার্সেলোনা সমর্থকদের হতাশা, ক্রোধ সবকিছুর মধ্যে হয়তো সান্ত্বনার বাণী হয়ে আসতে পারে এই তথ্যটি—এমনটা হয়তো হওয়ার কথাই ছিল। ইতিহাসই বলছে, এবারও বার্সার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যই ছিল। ১৯৯২ সালে নতুন নামে, নতুন রূপে পথচলা শুরুর পর থেকে যে কখনো কোনো একটি ক্লাবকে টানা দুবার আপন করে নেয়নি চ্যাম্পিয়নস লিগ।
সব ইতিহাসেরই শুরু থাকে, শেষও থাকে। কোনো না কোনো সময় হয়তো এই ইতিহাসও ভাঙা হয়ে যাবে। তবে মৌসুমের শুরু থেকে সব সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকা বার্সার পক্ষে সেটি সম্ভব হলো না, এই যা। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিও কাল ম্যাচের পর এটিকেই কারণ হিসেবে তুলে এনেছিলেন। আগের মৌসুমের শিরোপাজয়ীদের প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘অভিশাপ’কেই বার্সার হারের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন ইতালিয়ান কোচ।

অভিশাপই তো! ১৯৯২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ থেকে নাম বদলে চ্যাম্পিয়নস লিগ নামকরণ করা হলো, ফরম্যাটটা বদলে দেওয়া হলো। ব্যাস, নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল ক্লাবগুলোর ভাগ্যও। সেখানেই সমাধি হয়ে গেল কোনো ক্লাবের ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন।
অথচ পরিবর্তনের আগের ইতিহাসটা দেখুন। ১৯৫৫ সাল থেকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস ক্লাব কাপ (সংক্ষেপে ইউরোপিয়ান কাপ) নামে শুরু হয়েছিল ইউরোপের ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতা। সে বছর শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তখন থেকেই শুরু ষাটের দশকের রিয়ালের ইউরোপ দাপিয়ে বেড়ানো। টানা পাঁচবার ইউরোপিয়ান কাপ গেছে ‘লস ব্লাঙ্কো’দের ঘরে।
রিয়ালের হাত থেকে ব্যাটনটা সরাসরি চলে যায় ইউসেবিওর বেনফিকার কাছে। ১৯৬০ ও ১৯৬১—টানা দুবার ইউরোপিয়ান কাপ জেতে পর্তুগালের ক্লাবটি। এরপর টানা দুবার বা এর বেশি ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে আরও ৬টি ক্লাব। ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে এই কীর্তি ইন্টার মিলানের, ১৯৭১ থেকে টানা তিনবার ইয়োহান ক্রুইফের আয়াক্সের।
ক্রুইফের পর ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। জার্মান কিংবদন্তি ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬—টানা তিনবার ইউরোপিয়ান কাপ জেতালেন বায়ার্ন মিউনিখকে। সত্তরের দশকের ইউরোপ মাতানো লিভারপুলও স্বর্ণযুগটাকে আলোকিত করে রেখেছে ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালে টানা দুবার শিরোপাটি জিতে।
লিভারপুলের পর টানা দুবার জেতে ইংল্যান্ডের আরও একটি ক্লাব—নটিংহ্যাম ফরেস্ট। কিংবদন্তি কোচ ব্রায়ান ক্লফ ও তাঁর সহকারী পিটার টেলরের অধীনে অবিশ্বাস্য সাফল্য পাওয়া নটিংহ্যাম ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালের ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল। এরপর শুধু আর একটি ক্লাবই এমন অর্জনের ভাগ নিতে পেরেছে—এসি মিলান। আরিগো সাচ্চির অধীনে ইতালিয়ান পরাশক্তিরা ইউরোপ সেরা হয় ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে।
ইতিহাসের পাঠ ওখানেই শেষ। এরপর আর কখনো কোনো ক্লাবের সৌভাগ্য হয়নি ইউরোপে টানা দুবার রাজত্ব করার। এই মৌসুমে বার্সেলোনার তেমন কিছু করার সম্ভাবনা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল। কিন্তু দিয়েগো সিমিওনে এবং তাঁর শিষ্যদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কাছেই বার্সেলোনার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।
ইতিহাস আরও একবার অলক্ষ্যে প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াল কোনো ক্লাবের টানা দুবার শিরোপা জয়ের স্বপ্নে। কেউ কী আদৌ খুলতে পারবে এই গেরো? তা জানতে অন্তত দুই মৌসুম অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

অভিষেকেই আলো ছড়ালেন মুস্তাফিজ

nbvgcdxf

আইপিএলেও : এবি ডি ভিলিয়ার্স-বিরাট কোহলির তাণ্ডবে বেসামাল অবস্থা সানরাইজারস হায়দরাবাদের। বেধড়ক পিটুনির পরও অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার বল দেননি মুস্তাফিজুর রহমানকে। প্রথম দুই ওভারে মাত্র ১০ রান দেওয়া বাংলাদেশি ‘কাটার’কে রেখে দিয়েছিলেন যে স্লগ ওভারের জন্য। অবশেষে এলেন তিনি ১৭তম ওভারে, আর বল হাতে তুলেই ফেরালেন বিধ্বংসী হয়ে ওঠা ডি ভিলিয়ার্সকে। পরের বলেই শেন ওয়াটসনকে আউট করে হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগানো মুস্তাফিজ সেটা করতে না পারলেও আইপিএল অভিষেকটা রাঙিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট নিয়ে। ছবি : এএফপি
অ- অ অ+

আইপিএলের মঞ্চটা একটু আলাদা। এখানে কোটি কোটি টাকা দিয়ে কেনা খেলোয়াড় যেমন হতাশায় লুকিয়েছেন মুখ, তেমনি আবার অখ্যাত কেউ তারকাখ্যাতি পেয়ে গেছেন রাতারাতি। মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য কুড়ি ওভারের এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি তাই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জ কি চমত্কারভাবেই না জিতে গেলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেকে আলো ছড়ানো বাংলাদেশি পেসার আইপিএলের শুরুতেও যে করলেন বাজিমাত!

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অফিশিয়াল টুইটার পেজে পোস্ট হচ্ছে একের পর এক তাঁর ছবি। সতীর্থদের সঙ্গে অবকাশ যাপন কিংবা অনুশীলনে ঘাম ঝরানোর ছবিগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছিল হায়দরাবাদে কতটা গুরুত্ব পাচ্ছেন বাংলাদেশি পেসার। তবু সংশয় ছিল, বিদেশি কোটায় সুযোগ মিলবে তো মুস্তাফিজের? সাকিব আল হাসানের মতো পরীক্ষিত বোলারকে যেখানে বসিয়ে রেখেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, সেখানে আইপিএলে একেবারে অনভিজ্ঞ মুস্তাফিজের খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক ছিল না। এর ওপর আবার একাদশের লড়াইটা ছিল তাঁর ট্রেন্ট বোল্টের সঙ্গে। অবশ্য ২০১৫ বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো কিংবা আইপিএল অভিজ্ঞতায় নিউজিল্যান্ড বোলার যতই এগিয়ে থাক, সদ্য শেষ হওয়া বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে একটি ম্যাচও যে খেলেননি তিনি। তাই মুস্তাফিজের খেলার সম্ভাবনা ছিল বেশি। আর সেটা নিশ্চিত হয় টস করতে এসে হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার যখন বললেন, ‘মুস্তাফিজের থাকাটা আমাদের বোলিংয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।’ আইপিএল মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটাও তাতে পেয়ে যান বাংলাদেশি ‘কাটার’।

একাদশে তো সুযোগ মিলল, এবার নিজেকে প্রমাণের পালা মুস্তাফিজের। প্রথম দুই ওভারে সুযোগ পাননি, তৃতীয় ওভারে এসে তাঁর হাতে বল তুলে দিলেন ওয়ার্নার। ক্রিজে তখন এখনকার ক্রিকেটের সেরা দুই ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। বিশ্বসেরা দুই ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে রান দিলেন মোটে ৪। দুই ওভার পর ফিরে দিলেন আরো ৬ রান, সব মিলিয়ে মুস্তাফিজের বোলিং ফিগারটা দাঁড়ায় এমন—২-০-১০-০। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তিনিই কেবল পেরেছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের শান্ত রাখতে। সতীর্থরা তো ‘মুক্তহস্তে’ খরচ করেছেন রান! স্পিনার কর্ণ শর্মা ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৫৭ রান! রান খরচের প্রতিযোগিতায় একটুর জন্য তাঁর সঙ্গে পেরে ওঠেননি ভুবনেশ্বর কুমার। ভারতীয় পেসার দিয়েছেন ৫৫ রান।

এই দুই বোলারের ওপর দিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ঝড় তুলেছিলেন ডি ভিলিয়ার্স-কোহলি। তাঁদের বেধড়ক পিটুনির পরও মুস্তাফিজকে বোলিংয়ে আনেননি ওয়ার্নার। প্রথম ২ ওভারে মাত্র ১০ রান খরচ করা ‘কাটার’কে রেখে দিয়েছিলেন যে স্লগ ওভারের জন্য। অবশেষে বাংলাদেশি পেসার এলেন ১৭তম ওভারে। আর ফিরেই করলেন বাজিমাত। দ্বিতীয় বলেই ‘অফকাটার’-এ ফেরালেন বিধ্বংসী হয়ে ওঠা ডি ভিলিয়ার্সকে। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান ৪২ বলে ৮২ রান করে আউট হন এউইন মরগানের মুঠোবন্দি হয়ে। পরের বলে আবার উইকেট-উৎসব মুস্তাফিজের। এবার শেন ওয়াটসনকে (১৯) উইকেটরক্ষক নামান ওঝার গ্লাভসবন্দি করে জাগালেন হ্যাটট্রিক সম্ভাবনাও। শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে আইপিএল অভিষেকটা দারুণভাবে রাঙিয়ে নিয়েছেন মুস্তাফিজ।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তিনি আলো ছড়ালেও তাঁর আনন্দটা ম্লান হয়ে গেছে দলের হারে। ডি ভিলিয়ার্স-কোহলি ঝড়ে ২০ ওভারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর করা ২২৭ রানের কঠিন লক্ষ্য পেরোতে পারেনি হায়দরাবাদ। ৬ উইকেট হারিয়ে মুস্তাফিজের দল করতে পেরেছে ১৮২। তাই ৪৫ রানে হেরে আইপিএলের নবম আসর শুরু করেছে হায়দরাবাদ। ক্রিকইনফো

Auto Draft

xzzcv

কেভিন ডি ব্রুইনের ৭৬ মিনিটের গোলটিই গড়ে দিল ইতিহাস। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে শামিল হলো ম্যানচেস্টার সিটি। গত চার মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুটো শিরোপাজয়ী সিটি যেন নিজেদের নামটাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করল বিশ্ব ফুটবলে প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) টপকে শেষ চারের টিকিট পেতে অবশ্য বেশি কিছুর দরকার ছিল না।

প্যারিসে আগের লেগে ২-২ গোলে ড্র করেই ইতিহাসযাত্রা অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিল ম্যানুয়াল পেলেগ্রিনির দল। ড্র হলেও চলত। কিন্তু একটি গোল হলে আরও নিশ্চিত হয়। সেই হিসেবি ফুটবলটাই সিটিকে ইতিহাস লেখাল। ফরাসি ক্লাবটির বিরুদ্ধে হোম-অ্যাওয়ে মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমবারের মতো বড় স্বপ্নের পথে ম্যানচেস্টার সিটি।

ডি ব্রুইনের গোলটির আগে ম্যাচটি অবশ্য ইতিহাদ স্টেডিয়ামে যথেষ্ট উত্তেজনাই ছড়িয়েছে। ৩০ মিনিটের মাথায় প্রাপ্ত পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেননি সিটির সার্জিও আগুয়েরো।

পিএসজির জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বেশ কয়েকবার ভীতি ছড়িয়েছিলেন সিটির রক্ষণে, কিন্তু কাজের কাজটি করতে পারেননি। অফ সাইডের খাঁড়ায় গোলও বাতিল হয়েছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ লম্বা সময় পিএসজির কাছে থাকলেও পেলেগ্রিনির অভিজ্ঞতা আর কৌশলের কাছে বারবারই হোঁচট খেতে হয়েছে লঁরা ব্লাঁর দলকে।

৭৬তম মিনিটে ফার্নান্দোর পাস থেকে বল পেয়ে করা ডি ব্রুইনের গোলটির পরেও সিটি সমর্থকদের কেটেছে উৎকণ্ঠিত কিছু সময়। এডিনসন কাভানির একটি শট একটু বাদেই বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিল তাদের। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ইব্রাহিমোভিচও বল জালে জড়িয়ে ​গ্যালারি ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য রিপ্লেতে দেখা গেছে, ইব্রা অফসাইডেই ছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনেক স্নায়ু ক্ষরণের পরে প্রথমবারের মতো ফাইনাল থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে পৌঁছে গে​ল সিটিজেনরা। এত দিন শুধু ম্যানচেস্টার শহরের ওপর প্রান্তের প্রতিদ্বন্দ্বীদেরই ইউরোপ সেরার এই টুর্নামেন্ট নিয়ে হাসিকান্নায় মাততে দেখেছে। এবার তাদের পালা।

২০১১-১২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে নাম লেখালেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় হয়েছিল সিটির। পরের দুইবার শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোনো হয়নি। এবার নতুন কিছু করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে ইউরোপ-সেরা লড়াইয়ে অবতীর্ণ সিটি শেষ চারে উঠে রুপালি ট্রফিতে চোখ রাখার সাহস কিন্তু দেখাতেই পারে। গার্দিওলার হাতে কি আরেকটি ইউরোপ-চ্যাম্পিয়ন দলই উঠতে যাচ্ছে? সময়ই বলে দেবে। সূত্র: রয়টার্স।

টি-টোয়েন্টিতে ব্রাভোর ৩০০ উইকেটের রেকর্ড

gfcx

শ্রীলঙ্কার পেসার লাসিথ মালিঙ্গা ওই মাইলফলকের কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন আগেই। কিন্তু ইনজুরির কারণে তিনি প্রথম হতে পারলেন না। তাকে পেছনে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ফাস্ট বোলার ডোয়াইন ব্রাভো হলেন ইতিহাসের প্রথম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রথম বোলার হিসেবে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শের রেকর্ড গড়েছেন ডিজে ব্রাভো। সোমবার আইপিএলে গুজরাট লায়ন্সের এই বোলার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তাতে অসাধারণ মাইলফলক পেরিয়ে এখন ৩০২ উইকেট ব্রাভোর। ২৯৯ উইকেট মালিঙ্গার।

৩২ বছরের ব্রাভো কদিন আগে ক্যারিবিয়ানদের বিশ্বকাপ জয়ে রেখেছেন বড় ভূমিকা। আর এবার আইপিএল শুরু করলেন স্টাইলের সাথে। পাঞ্জাবকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে গুজরাট। পাঞ্জাব করেছিল ৬ উইকেটে ১৬১ রান। ১৪ বল হাতে রেখেই জিতেছে ব্রাভোর দল। আর ব্রাভো ৪ ওভারে ২২ রানে নেন ৪ উইকেট। ১২তম ওভারে ২ উইকেট নিয়েছেন এই ডান হাতি সিমার। ম্যাচের শেষ ওভারে পরপর দুই বলে শিকার করেছেন আরো দুই উইকেট। মালিঙ্গার পেছন থেকে উঠে এসে তাকে ছাড়িয়ে গিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ব্রাভো।

২০০৬ সাল থেকে খেলছেন। ২৯২ ম্যাচে ব্রাভো ৩০২ উইকেট নিয়েছেন ২৪.০৪ গড়ে। ইকোনোমি ৮.০০। ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী এই বোলার যেভাবে খেলছেন তাতে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া হবে কঠিন। মালিঙ্গা এখনো খেলছেন। কিন্তু এরপর থাকা চারজন অবসরে গেছেন। সাঈদ আজমল ২৪০ ও শহীদ আফ্রিদি ২৩০ উইকেট নিয়ে তার পরে আছেন। ১৮৬ ম্যাচে ২২৫ উইকেট নিয়ে সাকিব আল হাসান আছেন আফ্রিদি ও একজনের পর। ব্রাভোর সাথে তার কাছাকাছি থাকা তিনজনেরও বিস্তর ফারাক! ব্রাভো খেলেন বিশ্বের নানা প্রান্তের ঘরোয়া লিগে। আইপিএল ছাড়াও বাংলাদেশের বিপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্ল্যাস্ট, পাকিস্তানের সুপার লিগ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয় খেলোয়াড় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ থিম সং ‘চ্যাম্পিয়ন’ এর স্রষ্টা ডিজে ব্রাভো।

মাশরাফিকে পেল কলাবাগান

tdrt

লটারিভিত্তিক দলবদল প্রক্রিয়া ফিরতেই যেন এক বিন্দুতে মিলে গেলেন সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা। কারণ প্রথমবার ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ পদ্ধতির দলবদলে যে দলে ঠাঁই হয়েছিল ওয়ানডের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের, সেই একই ঠিকানা এবার সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অধিনায়কেরও। সাকিবের পর এবার মাশরাফিও ঢাকার প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের।

ক্রিকেটারদের নিজেদের পছন্দের দল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা না থাকায় যেকোনো দলে খেলার প্রস্তুতিই নিয়ে রাখতে হয়। যেমনটি ২০১৩ সালে নিয়ে রেখেছিলেন সাকিবও। সেবার অন্য ধারার দলবদলের সময় দেশের বাইরেই ছিলেন তিনি। ফিরে বলেছিলেন, ‘আমারও মনে হচ্ছিল এমন একটা দলে হয়তো আমাকে খেলতে হবে, যে দলে খেলার কথা আমি চিন্তাও করিনি।’ এবার তাঁর মতো যেকোনো দলে খেলার প্রস্তুতি নিশ্চয়ই নিয়ে রেখেছিলেন পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন ভারতের কাশ্মীরে অবস্থান করা মাশরাফিও।

দুজনের দল ঠিক হওয়ার ধরনেও খুব একটা পার্থক্য ছিল না বললেই চলে। ২০১৩-র ২৫ আগস্ট হওয়া আগেরবারের ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’-এ সাকিবকে নিয়েও তেমন একটা আগ্রহ ছিল না দলগুলোর। সেবারও ‘আইকন’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা সবাই দল পেয়ে যাওয়ার পর একমাত্র অবশিষ্ট সাকিবকে দলে ভিড়িয়েছিল কলাবাগান। এবার একই ক্যাটাগরির সাতজনের অন্যতম মাশরাফির ক্ষেত্রেও ঘটনা একই রকম। লটারিতে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত সিরিয়াল পাওয়া ক্লাবগুলোর জন্য একই সঙ্গে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির ছয় জন থেকেও খেলোয়াড় বাছার সুযোগ ছিল। প্রথম ডাকার সুযোগ পাওয়া ১০টি দলের মধ্যে কয়েকটি তাই ‘আইকন’ না নিয়ে খেলোয়াড় তুলে নেয় ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি থেকেও। ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো দল না পাওয়া মাশরাফিকে অবশেষে ডেকে নেয় ১২ দলের মধ্যে ১১ নম্বর সিরিয়ালে থাকা কলাবাগান ক্রীড়া চক্র।

রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে হওয়া অনুষ্ঠানে আগেরবারের ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’-এর সঙ্গে আরো কিছু মিলও থাকল। যেমন ২০১৩-র দলবদলেও লটারিতে ক্রিকেটার বেছে নেওয়ার প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। প্রথম সুযোগেই তারা লুফে নিয়েছিল মুশফিকুর রহিমকে। যিনি ২০১১ মৌসুমে শেখ জামালের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে এক হাজারের বেশি রান করেছিলেন। এবারও লটারিতে ‘আইকন’ ক্রিকেটার ডাকার প্রথম সুযোগটি তাদের। সেই সুযোগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের জন্য মাহমুদ উল্লাহকে আর অবশিষ্ট রাখেনি তারা। সবশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজের নেতৃত্বগুণ দিয়েও নজরকাড়া এ ক্রিকেটার গত মৌসুমে প্রাইম ব্যাংকের শিরোপা জয়েও সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ওপর তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা যোগ হওয়া রীতিমতো ‘হটকেক’ মাহমুদ উল্লাহকে শেখ জামাল নিয়ে নেওয়ায় লটারিতে দুই নম্বর সিরিয়ালে থাকা প্রাইম ব্যাংককে অন্য বিকল্প খুঁজতে হয়েছে। তারা নিয়েছে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ে অপরিহার্য হয়ে ওঠা নাম সাব্বির রহমানকে।

তবে তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব কোনো ‘আইকন’-এর দিকে হাত বাড়ায়নি। গতবারের রানার্স-আপরা বেছে নেয় জাতীয় দলের একাদশ ভাবনায় গত বেশ কিছুদিন ধরেই উপেক্ষিত ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির নাসির হোসেনকে। চার নম্বর সিরিয়ালে থাকা আবাহনী বহুদিন পর আবার বুঝে নেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বাঁহাতি তামিম ইকবালকে। ২০০৮-০৯ মৌসুমে আবাহনীতে খেলা এ বিস্ফোরক ওপেনার ফিরলেন প্রায় সাত বছর পর। এর পরপরই এই দলবদলে প্রথমবারের মতো নজর কাড়তে সক্ষম হয় মোহামেডান। একেবারে সাধারণ মানের দল সাজাতে থাকা দলটি মুশফিকুর রহিমকে বেছে নিতেই মনে হতে থাকে যে ভালো কিছু করার লক্ষ্য আছে তাঁদেরও। মোহামেডানের পর লটারির সিরিয়ালে ছয় নম্বরে থাকা ভিক্টোরিয়া ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি থেকে বেছে নেয় মমিনুল হককে। সাত ও আট নম্বরের লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এবং প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সও ভরসা খুঁজে পায় একই ক্যাটাগরিতে। গত মৌসুমে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেই ২০১৫-র বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই পাওয়া সৌম্য সরকারের নতুন ঠিকানা তাই হয়ে যায় রূপগঞ্জ। আর আপাতত জাতীয় দলের বাইরে থাকা এনামুল হক (বিজয়) ঢুকে পড়েন গাজী ক্রিকেটার্সে। নিজেদের পালায় কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমী ও ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস) কোনো ক্যাটাগরি থেকেই কাউকে না নেওয়ার পর কলাবাগান ক্রীড়া চক্র নেয় মাশরাফিকে। শেষ দল ব্রাদার্স ইউনিয়ন ইমরুল কায়েসকে নেওয়ার পরও দল না পাওয়া তিনজন তবু থেকে যান। এঁদের মধ্যে আইপিএলে যাওয়া সাকিব ও মুস্তাফিজুর রহমানের দল না পাওয়াটা আগেই অনুমান করা যাচ্ছিল। তবু দ্বিতীয় দফার ডাকে এঁরা দুজন আবাহনী ও মোহামেডানে ভাগাভাগি হয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন। লিগের শেষ দিকে সাকিবকে পাওয়ার আশা আবাহনী কর্মকর্তা জালাল ইউনুসের, ‘সুপার লিগের শেষ পর্যায়ে হয়তো আমরা সাকিবকে পাব। তখন লিগের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ওকে খুব কাজেও লাগবে।’ মোহামেডানের ক্রিকেট সম্পাদক মাসুদুজ্জামানও বোলিংয়ের নতুন বিস্ময়কে নেওয়ার পেছনে ওই সময়টিই টার্গেট করেছেন, ‘লিগের শেষ দিকে কয়েকটি ম্যাচের জন্য মুস্তাফিজকে পেলে খুবই ভালো হবে আমাদের জন্য।’ দ্বিতীয় দফার ডাকে ওই দুজনের মতো দল মিলেছে মোহাম্মদ মিঠুনেরও। তাঁকে নিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ মাঠে নামছে

tfhf

সাকিব আল হাসান এবারের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম ম্যাচ খেলেননি। একাদশে ছিলেন না। আইপিএল অভিজ্ঞতা তার অনেক। তারপরও। তাহলে ২০ বছরের বাঁ হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের কি আইপিএল অভিষেক হতে সময় লাগবে? বোঝা যাচ্ছে না। কাটার বিশেষজ্ঞ মুস্তাফিজ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে নাম লিখিয়েছেন। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে স্বাগতিক রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাথে লড়াই সানরাইজার্সের। দুই দলেরই প্রথম ম্যাচ। মুস্তাফিজ হতে পারেন এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ।

এই প্রথম দেশের বাইরের কোনো ঘরোয়া আসরে খেলতে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দল লাহোর কালান্দার্স কিনেছিল তাকে। ইনজুরির কারণে খেলা হয়নি মুস্তাফিজের। বেঙ্গালুরু অবশ্য অচেনা জায়গা না এই পেসারের। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা ৩ ম্যাচের ২টি খেলেছেন এই স্টেডিয়ামে। অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতের বিপক্ষেও ২ উইকেট নিয়েছিলেন।

মুস্তাফিজদের দল এবার অনেক গোছানো। ভিভিএস লক্ষ্মণ এই দলের মেন্টর। ২০১৩ তে আইপিএল শুরুর পর এখনো খুব ভালো কিছু করা হয়নি দলটির। ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বে এবার দারুণ কিছু করতে চায়। মুস্তাফিজের সাথে পেস বোলিংয়ে আশিস নেহরা, ভুবনেশ্বর কুমার, ট্রেন্ট বোল্টরা আছেন। স্পিনে কার্ন শর্মা, ডিপক হুডা সহ আরো পার্টটাইমার রাখা হয়েছে। যুবরাজ সিং কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারবেন না ইনজুরির কারণে। ব্যাটিংয়ে শিখর ধাওয়ান, এউইন মরগ্যান, কেন উইলিয়ামসনরা দারুণ।

তবে আরসিবির এবারের মিশনটা ভিন্ন। চেয়ারম্যান বিজয় মালিয়া বিতর্ক পেছনে ফেলে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াতে চায় তারা। কখনো না জেতা আইপিএল শিরোপা জিততে চায়। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় শেন ওয়াটসন এখানে। টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ক্রিস গেইলও আছেন। আছেন বিপজ্জনক এবি ডি ভিলিয়ার্সও। যে কোনো বোলিংকে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়ার মতো ব্যাটিং লাইন আপ। মিচেল স্টার্ক ইনজুরিতে। অ্যাডাম মিলনে, কেন রিচার্ডসন, হার্শাল প্যাটেল, বরুন অ্যারনরা পেস বোলিংয়ে হাল ধরবেন।