ডেঙ্গু জ্বরের কারণ লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জেনে নিন

আজকাল ঘরে ঘরে ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে। বিগত ২০ বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। যার ফলে আমাদের মনে এই নিয়ে চরম ভীতি কাজ করছে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। একটু সচেতন আর সাবধানতা অবলম্বন করলেই আমরা এ জ্বর থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি। তাহলে চলুন ডেঙ্গু জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও…

স্বাস্থ্যের উন্নতিতে উপাত্তের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি

sy6

স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যানের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। মানসম্পন্ন উপাত্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করে। এ জন্য এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে শুরু হওয়া ‘স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি ও সূচক পরিমাপ’ শীর্ষক আন্তর্দেশীয় সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, কম্বোডিয়া, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থাপনায় বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে নজরদারি ও মূল্যায়ন খাতে মোট বরাদ্দের মাত্র ৪ শতাংশ ব্যয় করা হয়। জবাবদিহি বাড়াতে নজরদারি ও মূল্যায়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়। সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উপাত্তের চাহিদা নিরূপণ, স্বাস্থ্য উপাত্ত পদ্ধতির উন্নতিতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিয়ম করার উদ্দেশ্যে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।
নেতৃত্ব, সুশাসন ও অংশীদারত্ব–বিষয়ক অধিবেশনে সেভ দ্য চিলড্রেনের (বাংলাদেশ) কর্মকর্তা ইশতিয়াক মান্নান বলেন, উপাত্ত যদি মানুষের জীবন নিয়ে হয়, তা হলে মানুষ সেই উপাত্ত সংরক্ষণ করে। মা নিরক্ষর হলেও উপাত্ত তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি তা ব্যবহার করেন। যেমন স্বাস্থ্যকর্মীর তথ্য তাঁর কাছে থাকে এবং প্রয়োজনে মুঠোফোনে তিনি ঠিকই স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইশতিয়াক মান্নান আরও বলেন, উপাত্ত ছাড়া বাকি সবকিছুই মতামত। উপাত্ত তৈরি ও প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
এই অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যানবিদ মোসিদি নেলাপো বলেন, ব্যক্তির তথ্য গোপন রাখা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইন থাকলে সবচেয়ে ভালো।
একাধিক আলোচক বলেন, উপাত্তের মান ভালো হলে তার চাহিদা অনেক বেশি হয়। আর জাতীয় উপাত্তের মান নির্ভর করে স্থানীয় পর্যায় থেকে আসা উপাত্তের মানের ওপর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি, জার্মানি দাতা সংস্থা জিআইজেড ও হেলথ ডেটা কলাবরেটিভ এ সম্মেলন আয়োজনে সরকারকে সহযোগিতা করছে।

পুরস্কার পেলেন ফারুক চৌধুরী ও শাহীন আখতার

ZZERZ

২০১৪ সালের জন্য আইএফআইসি পুরস্কার পেলেন সাবেক কূটনীতিক ফারুক চৌধুরী ও লেখক শাহীন আখতার। গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে দুই লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বই দুটো প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন।
ফারুক চৌধুরী তাঁর আত্মজীবনী জীবনের বালুকাবেলায় এবং শাহীন আখতার তাঁর উপন্যাস ময়ূর সিংহাসন-এর জন্য এ পুরস্কার পেয়েছেন। প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত লেখকদের হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক, একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন। তিনি বলেন, আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার অর্থমানের বিচারে দেশের সব থেকে বড় সাহিত্য পুরস্কার। এই পুরস্কার সাহিত্যিকদের অনুপ্রাণিত করবে। তিনি এই পুরস্কারের ধারাবাহিকতা ও গুণগত মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, এই পুরস্কার সাহিত্যিকদের যে অনুপ্রেরণা দেবে তার স্থায়ী ফল ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, সাহিত্যক্ষেত্রে আইএফআইসি ব্যাংক প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি অর্থ ও গুণমানের বিচারে ইতিমধ্যেই সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান বলেন, ব্যাংক যত দিন থাকবে তত দিন এই পুরস্কার অব্যাহত থাকবে।
পুরস্কারের প্রতিক্রিয়ায় ফারুক চৌধুরী বলেন, বৃদ্ধ বয়সেও পুরস্কারপ্রাপ্তি আনন্দদায়ক। দীর্ঘ কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি লেখালেখি শুরু করেছেন। তাঁর কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং তাঁর জীবনকালে ব্রিটিশ শাসন থেকে পাকিস্তান এবং তারপর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভব তিনি বইটিতে তুলে ধরেছেন।
শাহীন আখতার বলেন, উপন্যাসটিতে ব্রিটিশ ঐতিহাসিকেরা মোগলদের নিয়ে যে বিকৃত ইতিহাস রচনা করেছেন সেখান থেকে সরে এই উপন্যাসে ঐতিহাসিক সত্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসনসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব জামাল আহমেদ, সাবেক পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলি খান। ধন্যবাদ জানান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ এ সারওয়ার।
এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুরানা পল্টনে আইএফআইসি ব্যাংকের নবনির্মিত বহুতল করপোরেট ভবনেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

যশোরে বোমা বিস্ফোরণে দুজনের মৃত্যু

hukygi

যশোরে বোমা বিস্ফোরণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মধ্যে দুজন মারা যান।

পুলিশ বলছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে যশোর সদর উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামের মাঠের মধ্যে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে তাঁরা আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, স্থানীয় বাজারে অবস্থান করার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা বোমা হামলা চালায়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ইবাদুল ইসলাম (৩৮) ও মো. সবুজ (২৯)। তাঁদের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের কাঠামারা গ্রামে। অন্য তিনজন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁরা হলেন গোলাম মোস্তফা (৩০), রুবেল হোসেন (২১) ও রাকিব হোসেন (২৫)।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেনের ভাষ্য, ‘বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই পাঁচজন আন্দোলপোতা মাঠের মধ্যে বোমা তৈরি করছিলেন। এ সময় বিস্ফোরণ হয়।

আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা আন্দোলপোতা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, পাঁচজন আন্দোলপাতা বাজারে অবস্থান করছিলেন। মোটরসাইকেলে কয়েকজন এসে তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। পরে পালিয়ে যায়।

পরিবার পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

uyfyo

পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম মানুষের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি নারীরা এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন কখন তারা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সন্তান নেবেন। শুধু তাই নয়, সন্তানের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারেও মায়েরা এখন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
২০১২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত পরিবার পরিকল্পনা-বিষয়ক সম্মেলনে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে আরও ১২ কোটি নারীর কাছে আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কয়েকটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ‘এফপি ২০২০’ শীর্ষক ওই লক্ষ্যমাত্রায় বেঁধে দেওয়া সময়সীমার অর্ধেক সময় পেরিয়ে যাচ্ছে ২০১৬ সালে। বিশ্বে এবং বাংলাদেশে ওই লক্ষ্যমাত্রার কিছুটা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে।
এফপি ২০২০ লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০৩০ সালের ওই লক্ষ্যমাত্রায় সবার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের গল্প
পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি বড় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মোট প্রজনন হার ১৯৭৫ সালে যেখানে নারীপ্রতি ৬ দশমিক ৩ ছিল, তা ১৯৯১ সালে ৪ দশমিক ৩ এবং তারপর ২০১৪ সালে ২ দশমিক ৩-এ নেমে আসে (বিডিএইচএস ২০১৪)। ১৯৭৫ সালে প্রথম জাতীয় জরিপের সময় সন্তানধারণের উপযোগী বয়সী বিবাহিত নারীদের মাত্র ৮ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করতেন। ২০১৪ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার ৬২ শতাংশে পৌঁছায়। সেই সাফল্যের ধারা বর্তমানে কিছুটা থেমে আছে বলে মনে হচ্ছে। ২০১৬ সালে প্রজনন হারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ০। আর জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার ৭৫ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু এখনো এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে মোট প্রজনন হার স্থির ছিল। তবে কয়েকটি এলাকায় তা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। চিত্রটা বাংলাদেশের একেক জায়গায় একেক রকম। মোট প্রজনন হার, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী প্রাপ্তির দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের। তবে এই তিন ক্ষেত্রেই রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অবস্থা সবচেয়ে ভালো ছিল। এখন সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অবস্থা ভালো হতে শুরু করেছে। তবে ঢাকা বিভাগে আবার মোট প্রজনন হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার মাত্র ১ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য অন্তত ৪ লাখ ৫০ হাজার নতুন নারীকে যেকোনো পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এতে এখানে বিভিন্ন সেবা, অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর অত্যধিক চাপ পড়ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমালেও ২০১১ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে দেশটিতে আরও ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষ যোগ হবে। ইউএনএফপিএর সহায়তায় ডেমোগ্রাফিক ইমপ্যাক্ট স্টাডি (ডিআইএস ২০১৫) এ তথ্য দিয়েছে। বাড়তি ওই জনসংখ্যার কারণে দেশের শ্রমবাজার প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, নগরবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। জনসংখ্যার বৃদ্ধি কমাতে যত শিগগির সম্ভব জন্মহার কমাতে হবে। তারপরও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে স্থিতিশীল করতে আরও ২০ থেকে ৩০ বছর লাগবে।

সুপারিশমালা
পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে এমন নববিবাহিত দম্পতিদের কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছানো
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নারী-পুরুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এ ধরনের নববিবাহিত দম্পতিদের কাছে যেতে হবে। এ ছাড়া গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত কিশোরী-তরুণী ও নারীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, তাঁদের কাছে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দেওয়াটা কঠিন। এ ছাড়া চা-বাগানে কর্মরত নারী, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী, শরণার্থী নারী, জেলে সম্প্রদায় এবং নগরের বস্তি এলাকার নারীদের প্রতিও বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে যেন তাদের কাছে সকল সেবা পৌঁছায়।

দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের হার বাড়ানো

যেসব দম্পতির ইতিমধ্যে সন্তান হয়েছে এবং আরও দীর্ঘদিন সন্তান জন্মদানে সক্ষম থাকবেন, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী পদ্ধতিগুলো আদর্শ পদ্ধতি। এটা গর্ভধারণের হারকে বছরে ৩০ শতাংশ কমাবে। আমাদের দেশে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণের হার অস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের তুলনায় কম। দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণের হার বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রসব-পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা
বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা রয়েছে ১২ শতাংশ। তারপরও প্রসব-পরবর্তী প্রথম দুই বছর পরিবার পরিকল্পনা করছেন এমন ৪৪ শতাংশ নারীর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী পদ্ধতি নেন। অথচ তাঁরা ইচ্ছে করলেই আইইউডির মতো দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। প্রসব-পরবর্তী সময়ে সেবাকেন্দ্রে গেলে যেন তাঁরা একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা সেবাগুলোও পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সমন্বিত মানসম্মত সেবা প্রদান
পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানকারী, বিশেষত দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে দক্ষ সেবাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো দরকার। সেবার গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা সেবা সবার নাগালের মধ্যে এবং আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে হবে। প্রত্যেকের জন্য সঠিক ব্যবস্থাটি কী হবে, সে সম্পর্কে সেবাকর্মীরা যেন গ্রাহকদের সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ওই কর্মীরা গ্রাহকের প্রথম সন্তান দেরিতে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেবেন এবং পরিবারপিছু শিশুসংখ্যা সীমিত রাখার উপযোগী সেবা দেবেন।
ইউএনএফপিএর একটি প্রতিবেদন থেকে অনূদিত

কবর থেকে তোলা হলো তনুর লাশ

fpoxipox

আদালতের নির্দেশে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে।

বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহারের উপস্থিতিতে মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে তার লাশ তোলা হয়।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নিজের বাড়ির কয়েকশ গজের মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনুর লাশ পাওয়া যায়। তখন ময়নাতদন্তের পর তনুকে তার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে দাফন করা হয়।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে আসা সিআইডির কর্মকর্তারা আসার পর বেলা পৌনে ১২টার দিকে তনুর লাশ উত্তোলনের পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুপুরে এসপি কার্যালয়ে লাশ উত্তোলনসহ সামগ্রিক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলেও জানান তিনি।

লাশ উত্তোলনের সময় তনুর বাবা মো. ইয়ার হোসেন, কুমিল্লার এসপি শাহ মো. আবিদ হোসেন ও সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খানসহ গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেও খুনি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় গত শুক্রবার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে।

সোমবার ডিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্তে পুনরায় ময়নাতদন্ত করতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেয় কুমিল্লার একটি আদালত।

তনু হত্যার ঘটনায় তার বাবা ক্যান্টনবোর্ডের কর্মচারী ইয়ার আলীর মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এক সপ্তাহ পর ডিবিতে তা স্থানান্তর হয়। এখন তদন্তের ভার চেপেছে সিআইডির উপর।

খুনের আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া না যাওয়ায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। তবে তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা করতে হবে।

সোমবার বিকালে তনুর পোশাকসহ পাওয়া কিছু আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয় বলে কুমিল্লা ডিবির ওসি মনজুর আলম জানান।

এদিকে, তনু হত্যার বিচার দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ বুধবার সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ঘণ্টা ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে।

সেনানিবাসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে অনেকের পক্ষ থেকে সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে; যদিও সেনা কর্তৃপক্ষ তদন্তে বেসামরিক প্রশাসনকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

তনুর লাশ তুলে আবার ময়নাতদন্তের নির্দেশ

r5454es

হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহে কোনো সুরাহা না হওয়ার মধ্যে সোহাগী জাহান তনুর লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশে দিয়েছে কুমিল্লার আদালত।

এই কলেজছাত্রী হত্যাকাণ্ড তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ মনজুর আলমের আবেদনে সোমবার এই আদেশ দেন জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম।

এদিকে তনুর ব্যবহৃত পোশাক ও শরীরে পাওয়া অন্যান্য আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নিজের বাড়ির কয়েকশ গজের মধ্যে খুন হন ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু। তখন ময়নাতদন্তের পর তনুকে তার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে দাফন করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেও খুনি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় গত শুক্রবার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয ডিবিকে।

এরপর ডিবি আবেদন করলে আদালত সুষ্ঠু তদন্তে পূর্ণ ময়নাতদন্ত করতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন বলে কুমিল্লার পিপি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন জানিয়েছেন।

মুরাদনগরে তনুকে কবর দিয়ে বাবার আহাজারি (ফাইল ছবি)

মুরাদনগরে তনুকে কবর দিয়ে বাবার আহাজারি (ফাইল ছবি)

তিনি বলেন, “অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।”

আদালতের আদেশের পর তনুর কবরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে মুরাদনগর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন। লাশ না তোলা পর্যন্ত পুলিশ সেখানে থাকবে।

খুনের আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি, ফলে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের প্রাথমিক তদন্তে ধষণের আলামত মিলেছে। তবে তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা করতে হবে।

সোমবার বিকালে তনুর পোশাকসহ পাওয়া কিছু আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয় বলে কুমিল্লা ডিবির ওসি মনজুর আলম জানান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তদন্ত কাজ বিরামহীনভাবে চলছে।”

তনুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরসহ চারটি নম্বারের কললিস্ট বের করে, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে।

তনু হত্যার প্রতিবাদ চলছে সারাদেশে, এই ছবিটি এই কলেজছাত্রীর জেলা কুমিল্লার চান্দিনার

তনু হত্যার প্রতিবাদ চলছে সারাদেশে, এই ছবিটি এই কলেজছাত্রীর জেলা কুমিল্লার চান্দিনার

এদিকে তনু হত্যার মামলায় আসামির পক্ষে না দাঁড়ানোর আগাম ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, “তনু হত্যা মামলায় বাদী পক্ষে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু আসামির পক্ষে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য দাঁড়াবেন না।”

বাগেরহাটে নদী থেকে একজনের লাশ উদ্ধার

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বিষখালী নদী থেকে গতকাল শনিবার রাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওই ব্যক্তিকে কেউ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তাঁর লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

আজ রোববার বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে ওই ব্যক্তির লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ ঘটনায় মোরেলগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তারক বিশ্বাস বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া বিষখালী নদীতে এক ব্যক্তির ভাসমান লাশ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। তারা পুলিশকে খবর দেয়। লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ওই ব্যক্তিকে চেনা যাচ্ছে না।

তারক বিশ্বাস আরও বলেন, আলামত দেখে মনে হচ্ছে, সপ্তাহখানেক আগে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে তাঁর লাশ নদীতে ফেলা হয়েছে। তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

টেকনাফে অস্ত্রসহ ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মী আটক

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি পিস্তলসহ কক্সবাজার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোর্শেদ হোসেন তামিমসহ ছয়জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।

আজ রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে হোয়াইক্যং বিজিবি তল্লাশিচৌকিতে গাড়ি তল্লাশি করে অস্ত্রসহ তাঁদের আটক করা হয়।

বিজিবি-২-ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, আজ টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন চলছে। নির্বাচনী এলাকায় আসার জন্য কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোর্শেদ হোসেন তামিমের নেতৃত্বে দুটি গাড়ি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ আসছিল। হোয়াইক্যং এলাকায় বিজিবির তল্লাশি চৌকিতে গাড়ি দুটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোর্শেদ হোসেন তামিমের গাড়িতে একটি এলজি পিস্তল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মোর্শেদ হোসেন তামিমসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। ইশতিয়াক আহমদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির পথে পায়ে পায়ে এগিয়ে চলা

এই তো সেই শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফটক। এখানেই জ্বলছিল আগুন, লাশ পড়ে ছিল পথে পথে, ৪৫ বছর আগের এই দিনে। ঢাকাকে সেদিন পাকিস্তানি হানাদার সেনাবাহিনী এক বধ্যভূমিতে পরিণত করে তুলেছিল। সেই বর্বরতা প্রতিরোধ করতে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ঘাতকদের বিরুদ্ধে। আজ আমরা সেই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের। তাঁদের আত্মদান, তাঁদের আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যাব। এই বলে যাত্রা শুরু হয়েছিল গতকাল শনিবার যখন আকাশ আলো করে সূর্য উঠেছে।
মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের তহবিল সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ৩৬ মাইল পদযাত্রার আয়োজন করেছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও অভিযাত্রী নামের একটি সংগঠন। অভিযাত্রী তিন বছর ধরে স্বাধীনতা দিবসে এই পদযাত্রার আয়োজন করে আসছে। এবার তাদের সঙ্গে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে যুক্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। ‘শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রা’ স্লোগান নিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণে হাঁটি এক মাইল’ নামের এই পদযাত্রা শুরু হয়েছিল ভোর ছয়টায়। তবে তার আগে থেকেই শহীদ মিনারে আয়োজক সংগঠনের কর্মীরা পদযাত্রায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক অভিযাত্রীদের সঙ্গে এসে জড়ো হন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণে এক হাজার টাকা অনুদান দিয়ে তাঁরা এই এক মাইল প্রতীকী পদযাত্রায় অংশ নেন। অনুদানদাতা পদযাত্রীদের জাদুঘর থেকে দেওয়া হয়েছে সনদপত্র। তবে এক মাইলই হাঁটতে হবে তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। যার যেমন সামর্থ্য, সে অনুসারে কেউ এক গন্তব্য থেকে পরবর্তী গন্তব্যে, কেউ আবার একাধিক গন্তব্য, কেউ বা পুরোটা পথই পায়ে-পায়ে এগিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিজড়িত স্থানগুলো অতিক্রম করে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাত্রার শুরুতেই অভিযাত্রীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘রক্তের দাগ মুছে যায়, কিন্তু রক্তের স্মৃতি মোছে না। সেই রক্তদানের গৌরময় উত্তরাধিকার আমরা বহন করছি। শোককে শক্তিতে পরিণত করে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন হানাদারদের রুখে দাঁড়িয়ে পরাজিত করেছিল, তেমনি নতুন প্রজন্মকেও শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। বিশ্বের কাছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে নতুন করে তুলে ধরতে হবে।’ অভিযাত্রীর পক্ষে ইনাম আল হক বলেন, ‘জীবনের প্রাত্যহিকতায় আমরা অনেক বিষয় ভুলে যাই। সেই বিস্মৃতি ফিরিয়ে আনতে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।’ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়া উদ্দিন তারিক আলী, দেশের প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার, পর্বতারোহী এম এ মুহিত।
সংক্ষিপ্ত আলোচনার পরে সবাই মিলে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। তারপর ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল’ গানটি গাইতে গাইতে শুরু হয় পদযাত্রা। প্রথম গন্তব্য জগন্নাথ হলো। প্রতিটি গন্তব্যেই ছিল নিবন্ধনের ব্যবস্থা। আর সেই ফাঁকে মুক্তিযুদ্ধে সেই স্থানের জড়িত ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয় অভিযাত্রীদের কাছে। জগন্নাথ হলো থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের রাসেল স্কয়ার, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর শরীরচর্চা কলেজ, শ্যামলীর এসওএস শিশুপল্লি, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান। সেখান থেকে নৌকায় তুরাগ নদ পাড়ি দিয়ে পায়ে-পায়ে সাদুল্যাপুর শতবর্ষী বটতলা হয়ে আকারাইন বাজার। এখানে ছিল দুপুরের খাবারের বিরতি। বিকেলের ছায়ায় ছায়ায় আবার পদযাত্রা শুরু হয় খাগাইন, আইয়ুকপাড়া, বেলমা, কুটুরিয়া, ঢাকা-আরিচা সড়কের বিশ মাইল হয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছাতে ডুবে যায় বেলা।

স্বাধীনতার মাসে ! ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ জাতীয় শ্লোগান ঘোষণার দাবি ! আসুন এগিয়ে আসি আমরা

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার হৃদয়ে ছিলেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান ধারণ করেই সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন।
 স্থানীয় সময় রবিবার ১০ আগষ্ট, ২০১৫ ইং ১৪:৪৩ মিঃ  নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
 জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন।
 এইচ টি ইমাম বলেন, জাতির পিতা ১৯৪৮ সাল থেকে সব আন্দোলন-সংগ্রামে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দেন। গোটা জাতিকে ধাপে ধাপে বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করেন। এভাবে ১৯৬৬, ৬৮ ও ৬৯ এর পথ বেয়ে সত্তরের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে।
 তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর পরই দেশের প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ শুরু করে। তখনকার বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের বিষয়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
 এইচ টি ইমাম তার লেখা দু’টি বই ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১’ এবং ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-১৯৭৫’- এর বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। তখনকার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন।
 তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। যা ইপিআরের ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচারিত হয়।
 এইচ টি ইমাম বলেন, জাতির পিতার স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র জারির মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন।
জাতির পিতাকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি করে সরকার গঠিত হয়। স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর দেখানো হয়। এই সরকারই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে।
 এইচ টি ইমাম জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন এবং কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা সচল করার ক্ষেত্রে সরকারের কর্মকাণ্ড বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

ব্রেকিং নিউজ ! চারদিকে ধর্ষণ ধর্ষণ !! কলেজ ছাত্রী তনুর পর এবার ফরিদপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ !!

ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব চরচাঁদপুর গ্রাম এক প্রতিবন্ধী শিশু কে ধর্ষন করেছে মাইনুদ্দীন প্রমানিক(৩৬)। ধর্ষনকারী ওই গ্রামের মৃত ওহিদ প্রমানিকের ছেলে।বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই গ্রামের মল্লিক পাড়ায় মাইনুদ্দীন আট বছরের প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ধর্ষন করে। পরে শিশুটির পরিবার তাকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত ও মারাত্মক অসুস্থ্য অবস্থায় দুপুর তিনটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
গরিব শিশুটির বাবা জানান, ২ সন্তানের পিতা প্রতিবেশী মাইনুদ্দীন প্রমানিক (৩৫) নামের এক নরপশু এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেয়ে শিশুটি শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। মেয়েটি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ায় ওকে স্কুলে ভর্তি করা যায়নি। ফরিদপুর শহরে ডাব বিক্রি করে জীবিকা চালাই। আমার ওই অবুঝ শিশুটির উপর এই নির্যাতনের বিচার চাই।
শিশুটির মা জানান, আজ দৌল পূজা দেখার জন্য দুপুর ১২টার দিকে তার মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। মাইনুদ্দিন তাকে রাস্তা থেকে মিথ্যা কথা বলে ডাক দিয়ে আমাদের বাড়ি অদুরেই একটি স্যালো মেশিন ঘরে নিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষন করেছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার রুপা জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়। তখন তার যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্ত বের হয়ে প্যান্ট ভিজে যাচ্ছিল। প্রাথমিক ভাবে শিশুটিকে ধর্ষন হয়েছে বলে ধারনা করা যায় বলেও তিনি জানান। আমরা তার পরবর্তী চিকিৎসা দিচ্ছি বলেও জানান ঐ চিকিৎসক।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এস আই মিরাজ হোসেন বলেন, হাসপাতালে গিয়ে ঐ শিশুটির অবস্থা দেখেছি এবং তার পরিবারের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর এই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ধর্ষককে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। সূত্র: বিডি২৪লাইভ

তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনায় সিআইডির তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছেন ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা এক কর্মকর্তা।

সিআইড সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তার পরামর্শেই নিয়োগ দেয়া হয় রাকেশ আস্তানার নামের ওই আইটি প্রতিষ্ঠানকে। শুধু তাই নয়, তার ছত্রচ্ছায়াতেই সেখানে একটি দুর্নীতি পরায়ণ গোষ্ঠি সংঘবদ্ধ হয়েছে।

মঙ্গলবার মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থচুরির মামলা করার পরপরই শীর্ষ ওই কর্মকর্তার ছত্রচ্ছায়ায় থাকা ৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে গোয়েন্দারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, অনেকেই বিস্মিত হলেও সদ্য নিয়োগ পাওয়া ওই আইটি কনসালটেন্টের মৌখিক পরামর্শে সব বিভাগ, সেল, ইউনিট, উইং এবং শাখা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও সার্ভারের সরবরাহকৃত সিকিউরিটি প্যাচ নামের সার্ভার ইনস্টল করা হয়। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সব তথ্য ফাঁস হওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়ম অনুযায়ী, রিজার্ভ থেকে যে কোনো লেনদেনের তথ্যের ম্যাসেজ জেনারেট করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফ্রন্ট অফিসের এক কর্মকর্তা। ভেরিফাই করেন একই অফিসের আরেক কর্মকর্তা। আবার মেসেজ ট্রান্সশিপমেন্ট করেন একই বিভাগের আরেক কর্মকর্তা। আর মিডল অফিসের দুই কর্মকর্তা ফ্রন্ট অফিসের মেসেজ যথাযথ হয়েছে কিনা, তা তদারকি করে থাকেন।

রিজার্ভ ম্যানেজমেন্টের জন্য এ দুই অফিস নিয়ন্ত্রণ করে ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্টের বিভাগ। অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাক অফিস। এ ব্যাক অফিস ফ্রন্ট ও মিডল অফিসের কাজগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কিনা বা পাঠানো বার্তা অনুযায়ী ঠিকমতো রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কেটে রাখা হয়েছে কিনা, দেশের রিজার্ভ কী পরিমাণে রয়েছে এগুলো দেখাশোনা করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের ব্যাংক হিসাবে রক্ষিত বাংলাদেশের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করা হয়েছে। এর একটি অংশ (২০ মিলিয়ন) গেছে শ্রীলঙ্কায়, আরেকটি অংশ (৮১ মিলিয়ন) গেছে ফিলিপাইনে। সম্প্রতি ফিলিপাইনের একটি ইংরেজি দৈনিকে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিলিপাইনে পাচার হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।

প্রশ্ন উঠেছে, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার আগে থেকেই কেন ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডিলিং রুমের দুটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বিকল ছিল? যার ফলে ওই ঘটনার সময় ডিলিং রুমে কারা ছিল, সুইফট কোড ব্যবহার করে কারা কাজ করছিল- তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মির্জা আব্দুল্লাহেল বাকী।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। শুধু তথ্য সংগ্রহের জন্য কথা বলেছি। যে কর্মকর্তাকে মনে হচ্ছে যে উনি কিছু হলেও জানেন, তার সঙ্গেই আমরা কথা বলছি।’ সার্ভারের কম্পিউটারগুলো থেকেও তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সিআইডির ডিআইজি সাইফুল আলম তদন্তের কাযক্রম পযবেক্ষণ করছেন। তদন্ত কমিটিতে কতজন রয়েছেন তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। একেকজন তদন্ত কর্মকর্তা একেকটি বিষয় তদন্ত করবেন। তার অংশটুকু শেষ হলে তাকে আমরা তদন্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দেব। তদন্তের স্বার্থে নতুন কাউকেও সংযোজন করা হতে পারে। আনুমানিক ২০ জন কর্মকর্তা মামলাটি নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে উপ-কমিটিও রয়েছে। চুরির ঘটনায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে সেটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনাটিতে বাংলাদেশসহ চারটি দেশের সম্পৃক্ততা রয়েছে, সেহেতু তদন্তের স্বার্থে সে সকল দেশেও আমাদের তদন্ত কর্মকর্তারা যেতে পারেন। প্রয়োজনে ইন্টারপোলসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিধান মেনে ফরমাল-ইনফরমাল যোগাযোগ করা হবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরির পর প্রায় দেড় মাস বিষয়টি গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ফিলিপাইন মিডিয়ায় এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হলে তা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ মিডিয়ায়ও। এ ঘটনায় বেশ বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হয় সরকার। অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে পদত্যাগ করতে হয়। দেশের মিডিয়ায় আসার চারদিন পর মতিঝিল থানায় মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তি সই – See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2016/03/21/338613#sthash.M9kNN4YU.dpuf

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এই চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইন অ্যাসিউরড সিকিউরিটি।

রাজধানীতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরে আজ সোমবার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শাহজালাল বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নুরুল ইসলাম ও রেডলাইনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল মেসন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন উপস্থিত ছিলেন।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2016/03/21/338613#sthash.M9kNN4YU.dpuf

যৌনপল্লি থেকে প্রতিবন্ধী তরুণী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লি থেকে এবার মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে (২০) গত রোববার রাতে উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ যৌনকর্মী মোমেনা বেগম (৩৫) ও স্থানীয় সোনাউল্লাহ ফকির পাড়ার নায়েব আলী শেখ (৪২) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে যৌনপল্লির যৌনকর্মী মোমেনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌনকাজ করানোর অপরাধে বাড়িওয়ালি ও তাঁর কথিত স্বামী নায়েব আলীকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া তরুণীর বরাত দিয়ে থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, যশোরের বেনাপোল পোর্ট এলাকার মানসিক প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে কাজ দেওয়ার কথা বলে তার দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল পোর্ট এলাকার ছোট আচড়া গ্রামের এক তরুণী (৩০) তাঁকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির কর্মী মোমেনার কাছে মাত্র ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করেন। মোমেনাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন তাঁরই কথিত স্বামী নায়েব আলী শেখ। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারেন রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এস এম শাহজালালকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ টি এম রফিক উদ্দিন অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।