ত্বক যত্নের ভুলগুলো

5dirug

ভুল সানস্ক্রিন বাছাই, ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার ইত্যাদির কারণে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের ত্বক।

ত্বকের বাড়তি যত্ন নিতে গিয়ে না জেনে প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে আমরা উল্টা ক্ষতিই করছি বেশি। আর তাই আগেই জেনে নেওয়া উচিত এমন সাধারণ ভুলগুলো।

দিল্লির মায়রা স্কিন অ্যান্ড হেয়ার সলুশনের পরিচালক সোনিয়া মঙ্গল ত্বকের যত্নের এমনই কিছু ভুলের বিষয় উল্লেখ করেন।

ভুল সানস্ক্রিন বাছাই: সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর, তাই ব্যবহার করতে হয় সানস্ক্রিন। কিন্তু ভুল সানস্ক্রিন ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি থাকে। ইউভিএ থেকে সুরক্ষা দিবে এবং এসপিএফ ৩০ রয়েছে এমন সানস্ক্রিন বেছে নিতে হবে।

শীতে এবং বর্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা:
মেঘলা বা কুয়াশা ঢাকা দিনে বেশিরভাগই সানস্ক্রিন এড়িয়ে চলেন। কিন্তু মেঘ বা কুয়াশা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আটকাতে পারে না। তাই সারা বছর বাইরে এবং ঘরের ভিতরে থাকলেও সানস্কিন ব্যবহার করা উচিত।

ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার
: ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহারের ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই সাবানবিহীন ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে ত্বক পরিষ্কার করার জন্য।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব:
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হয় এতে করে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও বলিরেখা পড়ে। তাছাড়া চোখের নিচে কালি পড়ার সমস্যাও বৃদ্ধি পায়। তাই সুন্দর ত্বকের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

পানি পান না করা:
শরীর ও ত্বকের সুস্থতার জন্য পানি পান অপরহার্য। পানি কম পান করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় ও ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করতে হবে।

ভুল প্রসাধনী বাছাই:
বিজ্ঞাপনের ‘মিষ্টি কথায় ভুলে’ প্রসাধনী কেনা উচিত নয়। কারণ এগুলো ত্বকের কোনো উপকারই করে না উল্টা এতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

ধৈর্য্য না ধরা: ভালো প্রসাধনীর ফলাফল আমরা খুব দ্রুতই আশা করি। জলদি ফলাফল না পেলে বারবার প্রসাধনী বদলাতে থাকেন অনেকেই। যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই ভালো ফল পেতে সময় নিয়ে অপেক্ষা করে প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।

ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নেওয়া: ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই নিজের মতো করে প্রসাধনী ব্যবহার করতে থাকেন। যা ক্ষতি করে। যে কোনো ত্বকের সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ত্বক ভিতর থেকে সুন্দর রাখতে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভিটামিন সি, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে সুন্দর ত্বকের জন্য।

ত্বকের প্রদাহ দূর করার উপায়

4sziuszis

ত্বকের সৌন্দর্য ম্লান করে দেয় চামড়ায় লালচেভাব, ছোট ফুসকুড়ি বা ব্রণ, র‌্যাশ ইত্যাদি সমস্যা। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে জানা চাই কিছু ঘরোয়া টোটকা।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করার জন্য ব্যবহৃত বেশ উপযোগী কিছু ঘরোয়া উপাদানের বিষয় উল্লেখ করা হয়।

ত্বক সুন্দর না হলে নামীদামী মেইকআপও তা পুরোপুরি ঢেকে ফেলতে পারে না। সুন্দর মেইকআপের প্রথম শর্ত হল সুন্দর ত্বক। তাই প্রথমেই ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত। এখানে এমনই কিছু বিষয় উল্লেখ করা হল।

নিয়মিত সানস্কিন ব্যবহার: সৌন্দর্য ধরে রাখতে চাইলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে হবে। ঘর থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ আগে এসপিএফ ১৫ বা তারও বেশি এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। কারণ ত্বকে কোনো প্রদাহ বা র‌্যাশের সমস্যা থাকলে সূর্যের তাপ তা আর বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গোলাপ জল ও চন্দন: ত্বকের প্রদাহ দূর করতে বেশ উপযোগী মিশ্রণ। এই মিশ্রণ তৈরি করতে প্রয়োজন হবে সমপরিমাণ লেবুর রস, চন্দন-গুঁড়া ও গোলাপ জল। ঘন পেস্ট তৈরি করে ত্বকে মেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই ত্বকের পরিবর্তন চোখে পড়বে।

কমলা ও কাঠবাদাম: একটি পাত্রে কমলার খোসার গুঁড়া এবং ভালোভাবে মিহি করে নেওয়া কাঠবাদামের গুঁড়া নিতে হবে। এর সঙ্গে পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এই পেস্ট স্ক্রাব হিসেবে কাজ করবে। পেস্ট দিয়ে ঘষে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড ত্বক স্ক্রাব করতে হবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

আলু: ত্বকের দাগ এবং অসম রং দূর করতে এমনকি চোখের নিচের কালচেভাব হালকা করতেও সাহায্য করে। তাই র‌্যাশ বা ব্রণের কারণে ত্বকের যে কোনো দাগ ও লালচেভাব দূর করতেও আলুর রস বেশ উপকারী।

একটি আলু কুচি করে চেপে রস বের করে নিতে হবে। এরপর রস তুলা বা ব্রাশের সাহায্যে পুরো মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাওয়া যাবে।

কলার খোসা: একটি পাকা কলার খোসার ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের উপর আলতো করে ঘষে নিতে হবে ১০ মিনিট। খোসা বাদামি হয়ে গেলে ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

বাইরের দূষণ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব ইত্যাদি কারণে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তাই ত্বকের নিয়মিত যত্নে পাশাপাশি প্রচুর পানি পান ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

গ্রিন টিয়ে দিয়ে সৌন্দর্যচর্চা

3zawsfgv

স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য গ্রিন টি’র উপকারীতা নতুন করে বলার কিছু নেই। পান করার পাশাপাশি ত্বক, চুল ও চোখের যত্নেও গ্রিন টি বেশ উপকারী।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে গ্রিন টি’র কিছু উপযোগী ব্যবহার উল্লেখ করা হয়। এখানে ওই বিষয়গুলোই তুলে ধরা হল।
ব্রণের দাগ দূর করতে: অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের ক্রিমও ব্রণের জেদী দাগ দূর করতে ব্যর্থ হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। এক্ষেত্রে বেশ উপকারী গ্রিণ টি। গরম পানিতে গ্রিন টির ব্যাগ ভিজিয়ে রাখতে হবে। পানি আলাদা করে নিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। মুখ ধোয়ার সময় ওই পানি ব্যবহার করুন।

তবে ধোয়ার পর মুছে ফেলবেন না। পানি মুখে শুকাতে দিন এতে ত্বক গ্রিন টি শুষে নেবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ হালকা হয়ে আসবে।

গ্রিন টি ময়েশ্চারাইজার: সমপরিমাণে নারিকেল তেল, বাদাম তেল ও গ্রিন টির পাতা নিন। সঙ্গে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল তেল মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। সুগন্ধের জন্য সুগন্ধি এসেনশিয়াল অয়েল যুক্ত করা যেতে পারে। সব উপাদান ব্লেন্ড করে ঘন একটি মিশ্রণ তৈরি হবে। এটি মুখ এবং শরীরের জন্য বেশ উপকারী ময়েশ্চারাইজার।
উজ্জ্বল চোখ: দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা বা টিভি দেখার অভ্যাস, রোদের তাপ, বাইরের দূষণ এমনকি মেইকআপ— ইত্যাদি কারণে চোখের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে থাকে। চুলকানো, জ্বালাপোড়া ভাব হওয়া, লাল হয়ে যাওয়া এমনকি পানি পড়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে ব্যবহৃত গ্রিন টি ব্যাগ।

ব্যবহৃত গ্রিন টির ব্যাগ ফেলে না দিয়ে তা ঠাণ্ডা করে চোখের উপর দিয়ে ২০ মিনিট চোখ বুজে বিশ্রাম করুন। এটি চোখ পরিষ্কার করবে পাশাপাশি চোখের শিরায় আরাম দেবে।

ঝলমলে চুলের জন্য: বিভিন্ন চুলের প্রসাধনীতে গ্রিন টি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে অযথা বাড়তি খরচ না করে নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন চুলের উপযোগী গ্রিন টি কন্ডিশনার।

পানিতে বেশ কিছু টি ব্যগ ভিজিয়ে রেখে পানি আলাদা করে ঠাণ্ডা অবস্থায় সংরক্ষণ করুন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনারের বদলে গ্রিন টি ভেজানো পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

গ্রিন টি চুলের ফলিকল গঠনে সাহায্য করে। এতে চুল মজবুত ও লম্বা হয়। চুলের বাড়তি পুষ্টির জন্য তৈরি করে নিতে পারেন হেয়ার মাস্ক।

ডিম, গ্রিন টির পাতা এবং টক দই একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ও পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল মজবুত হবে।

মাড়ির রক্তক্ষরণ

2uyiu

প্রকৃতিক উপাদান দিয়ে সমস্যা দূর করা যেতে পারে।

স্বাস্থবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে ধরে নেওয়া যেতে পারে হয়ত জিনজিভাইটস বা মাড়ি ফোলো রোগ হয়েছে।

অনেকেই এই সমস্যায় ভুগলেও অনেক ক্ষেত্রেই খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ সমস্যা বেড়ে গেলে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে মাড়ির রক্তক্ষরণ রোধে ঘরোয়া কিছু উপাদান বেশ উপযোগী।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে মাড়ির রক্তক্ষরণ রোধের ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।

অ্যালোভেরা: ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরার উপকারীতা সম্পর্কে জানে না এমন মানুষ নেহাত কম। তবে এই ভেষজ উপাদান মাড়ি সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে। মাড়ির ফোলা এবং জ্বালা ভাব কমিয়ে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া রোধে সাহায্য করে।

একটি পাতার ভিতরের জেল খানিকটা আঙুলে নিয়ে মাড়িতে ভালোভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কুলি করে মুখ ধুয়ে ফেলা যাবে। সামান্য মাড়ির সমস্যা সেরে উঠবে এই পদ্ধতিতে।

দাঁত মাজা এবং ফ্লসের ব্যবহার: যে কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো। তাই নিয়মিত দুবার অন্তত দাঁত মাজা এবং দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা দূর করতে ফ্লস ব্যবহার করা উচিত। এতে পরিষ্কার ও ঝকঝকে থাকার পাশাপাশি দাঁতের অনেক সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

তাজা ফল ও সবজি: শুধু সুস্বাস্থ্যের জন্য নয়, সুস্থ দাঁত ও মাড়ির জন্যেও দরকার। ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং স্বল্প পরিমানে ক্যালরি থাকে। তাই কাঁচাসবজি ও ফল চিবিয়ে খেলে দাঁত থেকে রক্ত পড়ার সমস্যা কমতে পারে।

লবণপানি দিয়ে গারগল করা:
মুখ ও দাঁতের সমস্যা সমাধানে দারুণ উপকারী একটি উপায়। গরম পানিতে লবণ গুলিয়ে দিনে তিনবার গারগল করলে দাঁত থেকে রক্ত ক্ষরণের সমস্যা কমে আসবে।

মুখের ভেতরের যত্ন

young beautiful mother teaching her daughter brushing teeth

মুখের দুর্গন্ধ বা হলুদ দাঁত নিয়ে যে শুধু বিব্রতকর অবস্থাতেই পড়তে হয় তা নয়, মুখের এই সমস্যাগুলো স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

মুখের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতন না হলে মুখে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, যা দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের একটি প্রতিবেদনে মুখের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি বিষয় উল্লেখ করা হয়। এ প্রতিবেদনে সেই ধাপগুলোই উল্লেখ করা হলো।

দাঁত ব্রাশ

মুখের যত্নে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার আর কোন বিকল্প নেই। ফ্লুরাইডসমৃদ্ধ টুথপেস্ট দিয়ে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত ও মুখ সুস্থ থাকে এবং জীবাণুর সংক্রমণ রোধ করা যায়। এতে করে মুখের দুর্গন্ধ কম হয় এবং দাঁতের হলদেটেভাবও দূর হয়। তাছাড়া দাঁত ক্ষয় বা ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

পানি পান

মুখের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পানের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বেশি করে পানি পান করার কারণে মুখে জীবানুর সংক্রমণ কম হয়। তাছাড়া পানি পান বা কুলিকুচি করার ফলে দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার হয় এবং ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়া দূর করে।

জিহ্বা পরিষ্কার করা

জিহ্বা মুখের স্বাস্থ্য ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার আবাসস্থল। তাই নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার না করলে জীবাণুর সংক্রমণ বাড়তে থাকবে। তাই নিয়মিত জিহ্বার উপরের আস্তরণ পরিষ্কার করতে হবে।

আপেল ও গাজর

আপেল মুখে লালারসের প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যা মুখের ক্ষারভাব দূর করে এবং দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। গাজরও ঠিক একইভাবে দাঁতের জন্য উপকারী।

বেকিং সোডা

বেকিং সোডা একটি ক্ষারীয় উপাদান। সপ্তাহে একদিন বেকিং সোডা দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের উপর জমে থাকা আস্তরণ দূর হয়। তাছাড়া বেকিং সোডা দাঁতের হলদেটেভাব দূর করতে সাহায্য করে।

৫টি সহজ উপায়ে রাগ কমান

jiub

রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। অনেকেরই হিতাহিত জ্ঞান থাকে না রেগে গেলে৷ জিনিস ছুঁড়ে ফেলা , রাগের মাথায় ভালোমন্দ বলা , গায়ে হাত তোলার ঘটনাও ঘটে৷ সময়ে -অসময়ে আমরা সবাই একটু-আধটু রেগে যাই৷ তবে রাগ যদি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় , তা মোটেই ভালো নয়৷ তবে রাগ নিয়ন্ত্রণ করাও খুব একটা কঠিন নয়৷ কারণ পুরোটাই আপনার হাতে৷ এবার থেকে রেগে গেলে কয়েকটা কথা মাথায় রাখুন৷

১) রাগের মাথায় কাউকে কোনও কথা বলার আগে একবার ভাবুন৷ রাগের মাথায় খারাপ কথা বলে পরে অনুশোচনা করবেন না তো ? অনেক সময় এর ফলে আমাদের প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে৷ তাই কিছু বলে ফেলার আগেই রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন৷ হয় মাথা ঠাণ্ডা রেখে , ধৈর্য ধরে কথা বলুন , না হলে এই বিষয়ে পাল্টা কিছু বলতে হলে একটু সময় নিন | আপনার রাগ হয়েছে , সেই ব্যাপারটা শান্ত ভাবে থেকেও বুঝিয়ে দেওয়া যায়৷

২) কোনও সমস্যা দেখা দিলে , যদি তা সহজে সমাধান না হয় , তাহলে সবার আগে মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করুন৷ রাগের মাথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন৷ তাতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে৷ বরং ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যার সমাধানের রাস্তাগুলো ভাবুন৷ বা কারও সঙ্গে কোনও বিষয়ে মতের অমিল হলেও , তাঁর উপর রেগে ভালোমন্দ কথা না বলে , তাঁর সঙ্গে মনোমালিন্যের বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন৷

৩) আপনার রাগ যদি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায় , তবে কাউন্সেলিং -এর কথা ভাবতে পারেন৷ সঠিক কাউন্সেলিং -এর সাহায্যে অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট করতে সুবিধা হবে৷ তাছাড়া নিয়মিত ওয়ার্ক আউট করুন৷ খেয়াল করে দেখুন আমাদের রাগের কারণ আসলে স্ট্রেস৷ নিয়মিত শরীর চর্চা করলে সহজেই স্ট্রেসড হয়ে পড়ার আশঙ্কা কম৷ তাই এবার থেকে যখনই রেগে যাবেন , একটু রাস্তায় বেরিয়ে হেঁটে আসুন৷ খানিক পরে দেখবেন , রাগ অনেকটাই কমে গিয়েছে৷ মিউজিকও রাগ কমিয়ে দিতে পারে৷

৪) রাগ হলে , অন্যের দোষ না দেখে একটু বিষয়টি নিরপেক্ষ ভাবে দেখার চেষ্টা করুন৷ আপনার নিজের দোষটা চোখে পড়বে তাহলে৷ তাতে অপর ব্যক্তির প্রতি আর ততটা রাগ হবে না৷ কারোর সঙ্গে কোনও সমস্যা হলে , তা মিটিয়ে নিন৷ রাগ পুষে রাখলে আপনারই ক্ষতি৷

৫) যদি কারও উপর রাগ হয় , নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন৷ কথা কাটাকাটির কোনও পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগেই , হালকা ঠাট্টা বা প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দিন৷ তাতে পরিস্থিতি অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে৷

শিশুর ঘুমের সময় পরিবর্তন করতে

fcgyiuyk7gf

নবজাতক শিশু দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝে না। এমনিতে যদিও তারা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটায়। তবে যখন বাবা মায়েরা বিশ্রাম নেন তখন দেখা যায় সন্তান জেগে বসে আছে।

সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুকে কীভাবে ঘুমের সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে তাই জানিয়েছে অভিভাবকত্ব নিয়ে পরামর্শ দেয় এমন একটি ওয়েবসাইট—

দিন ও রাতের পার্থক্য বুঝতে পারা: শিশুদের ঘুমের সময়টা লম্বা হলেও তারা দিন রাতে পার্থক্য করতে পারে না। একটা শিশুর ঘুমের ধরণ ঠিক করার প্রথম ধাপ হচ্ছে তাকে দিন ও রাতের মধ্যের পার্থক্য তৈরি করতে সাহায্য করা। শিশুকে বোঝাতে হবে দিনের সঙ্গে জেগে থাকার এবং রাতের সঙ্গে ঘুমানোর একটি সম্পর্ক রয়েছে।

সারাদিন শিশুকে কিছুটা ব্যস্ততার অনুভব দিতে হবে, কথা বলে, হাত পা নাড়িয়ে দিয়ে দিনের জাগরণের অনুভূতি বোঝানো যেতে পারে।

রাত হলে এসব ব্যস্ততা কমিয়ে আনতে হবে, চোখে চোখ রেখে বা জোরে শব্দ করে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। ঘরের আলো ও শব্দ কমিয়ে শিশুর মনে এই প্রভাব দিতে হবে যে এখন শান্ত হয়ে ঘুমানোর সময়।

ছোট ছোট ঘুম: শিশুরা বেশি ক্লান্ত হয়ে গেলে তাদের শান্ত করা কষ্টকর। শিশু যখন ক্লান্ত হয়, একটু বিশ্রাম নিতে চায় তখন তারা কিছু সংকেত দেয়। এই সংকেত বোঝা খুব জরুরি।

এই সংকেত নানান রকম হতে পারে, নাক ঘষে, চোখ রগড়ে, চিৎকার করে বা কান্না করে সাধারণত শিশুরা বুঝিয়ে থাকে যে তাদের এখন বিশ্রাম দরকার। এরকম সংকেত দেখলে সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিতে হবে।

প্রথম মাসেই শিশু তার ঘুমের একটি নিয়মিত রুটিন তৈরি করে নেয়। সাধারণত প্রতিবার ঘুম থেকে ওঠার দেড় ঘণ্টা পরে শিশু আবার ঘুমাতে চায়। এই ধরন বোঝার জন্য একটা ডায়েরিতেও ঘুম এবং জাগার সময়টা লিখে রাখা যায়। কিছু দিনের সূচি মিলিয়ে দেখলে দেখা যাবে- ঘুম ও জাগরণের নিয়মিত চক্র সে তৈরি করে ফেলেছে।

ঘুমের সূচির সঙ্গে পরিচয় ঘটানো:
প্রতিদিন ঘুমের আগে নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস ঘুমের সময়কে বোঝতে সাহায্য করে। যেমন ঘুমের আগে পেট ভরে খাওয়া, পোশাক বদলানো, গা মুছে দেওয়া, প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা ঘুমের পোশাক পরা ইত্যাদি শিশুর মস্তিষ্কে সংকেত দেবে যে এখন ঘুমানোর সময় হয়েছে, এখন ঘুমাতে হবে।

দুধ খাওয়া এবং ঘুমানো আলাদা বিষয়: অধিকাংশ মা শিশুকে দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে ঘুম পাড়ান। এই অভ্যাস বেশ অস্বাস্থ্যকর। কারণ শিশুর ঘুমের সঙ্গে কিছু চোষার একটা সম্পর্ক বের করে ফেলে এবং ঘুমানোর জন্য কিছু না কিছু চোষার আশ্রয় নিতে চায়।

এ থেকে রক্ষা পেতে শিশুকে দুধ খাওয়ানো এবং ঘুমের মধ্যে অন্য কিছু একটা করতে হবে যেন দুধ খাওয়া ও ঘুমের মধ্যকার সম্পর্কটা ভেঙে যায়।

যেমন- খাওয়ানোর পরে গা ধুয়ে দেওয়া যায়, অথবা বই পড়ে শোনানো যায়। এতে শিশু চোষার উপরে নির্ভর হওয়া বাদ দিবে।

ঘুমের জায়গা চেনা: শিশুকে ঘুম পাড়াতে সবাই কম বেশি দোল দেওয়া, কোলে নিয়ে হাঁটা ইত্যাদি করেন। চেষ্টা করতে হবে এটা যেন শিশুর অভ্যাসে পরিণত না হয়।

তাই যখন শিশু ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায় থাকবে তখনই তাকে নিজের শোবার জায়গায় পাঠিয়ে দিতে হবে। এতে শিশু নিজের শোবার জায়গা চিনতে এবং বুঝতে শুরু করবে। আর সেই জায়গায় নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলবে।

ঘুমের জায়গায় শোবার পরে শিশুর তন্দ্রা যেন টুটে না যায় সে জন্য হালকা আওয়াজে নরম শব্দের সুর শোনানো যেতে পারে। ঘুম পাড়ানি গান, হালকা গুনগুন আওয়াজও একই রকম উপকারী।

শিশুকে নিজের বিছানায় স্থায়ী করা খুব জরুরি। কেননা রাতে নানান কারণে শিশুর ঘুম ভেঙে যেতে পারে। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে অচেনা একটি জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করলে শিশু ঘাবড়ে যেতে পারে।

নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমে সাহায্য করা:
ঘুম এবং জাগরণের মধ্যের চক্র একটা নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে হয় সর্বোচ্চ ৬০ মিনিটের। অর্থাৎ ৬০ মিনিট পরে নবজাতকের ঘুম ভেঙে যায়।

তিন মাসে গিয়ে এই চক্র হয় ৯০ মিনিটের। এই ঘুম ভাঙার পরে তাদের নিজেদেরকে আবার নিজে থেকে ঘুমিয়ে পড়ার মতো সাহায্য করতে হবে।

এই সাহায্যই তাকে সারা রাত নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলবে।

এত কিছুর পরেও যদি মনে হয় ঘুমের সূচিতে পরিবর্তন আসছে এবং শিশু কিছুতেই সঠিক সময়ে ঘুমাচ্ছে না অথবা ঘুমালেও ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠছে তাহলে দেখতে হবে শিশুর কোনো সমস্যা হচ্ছে কি-না।

সে পেট ভরে খেয়েছে কি-না, ডায়পার পরিচ্ছন্ন আছে কি-না অথবা তার খুব বেশি গরম বা ঠাণ্ডা লাগছে কি-না।

সব কিছু ঠিক থাকলে শিশুকে আবার ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করতে হবে, হালকা নাড়িয়ে চাড়িয়ে, দোল দিয়ে শিশুকে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া যায়।

রূপচর্চায় ফল ও সবজি

drs6u

ত্বক কালো হয়ে যাওয়া, কালো ছোপ পড়া, ত্বকের রংয়ের অসমতা ইত্যাদি সমস্যাগুলোতে কমবেশি সবাই ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা সমাধানে আলু ও পেঁপে অনেক উপকারী। কারণ এতে থাকে ত্বকের কোষ পুণর্গঠনকারী এবং স্কিন এক্সফোলিয়েশন উপাদান।

ত্বকের এসব সমস্যা সমাধানের উপায় জানিয়েছেন ভারতের সোহাম ওয়েলনেস ক্লিনিকের কর্ণধার ও রূপবিশেষজ্ঞ দিভিয়া অরি।

আলু

bhvbujy

এই সবজিকে তুলনা করা যেতে পারে ভিটামিনের গুপ্তধনের সঙ্গে। ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, দস্তা, ফসফরাস সবই মিলবে। আলুতে থাকে ত্বকের রং ফর্সা করার ‘বিল্ট-ইন’ উপাদান। আলুর ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স কোষ পুণর্গঠক হিসেবে পরিচিত। বিশেষত ‘নিয়াসিনামাইড’, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স থেকে উৎপন্ন হওয়া এই উপাদান একটি গুরত্বপূর্ণ রং ফর্সাকারী উপাদান।

ব্যবহার পদ্ধতি: আলু পাতলা করে কেটে টুকরোগুলো নিয়ে ১০ মিনিট ধরে ত্বকে আলতোভাবে ঘষতে হবে। কাটা টুকরোগুলো শুকিরে গেলে পরিবর্তন করে নিতে হবে।

লেবু
dsrjkrfr5jh

ভিটামিন সি-তে টইটম্বুর একটি ফল লেবু। এটি ত্বকের মেলানিন কমাতে কার্যকর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টধারী হিসেবেও সুপরিচিত। লেবুতে থাকা সিট্রিক অ্যাসিড উৎকৃষ্ট মানের ‘এক্সফোলিয়েটিং’ উপাদান। সিট্রিক অ্যাসিড ত্বকের মৃতকোষ অপসারণ করে। ফলে ত্বকের রং হালকা ও উজ্জ্বল হয়।

ব্যবহার পদ্ধতি: এক টেবিল-চামচ বাদামি চিনির সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। এত যোগ করুন এক টেবিল-চামচ লেবুর রস। এই মিশ্রণ ত্বকে আলতো মাখিয়ে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে

,lbypivo

‘পাপাইন’ বা ‘পাপায়া প্রোটেইনিজ’ হল পেঁপেতে থাকা এক ধরনে এনজাইম যা ত্বকের উপরে জমে থাকা ময়লা ও মৃতকোষের আস্তর অপসারণে সহায়ক। ত্বকের চিকিৎসায় পেঁপে ব্যবহারে চামড়ায় নতুন কোষের উৎপাদনের প্রক্রিয়া চালু হয়।

ব্যবহার পদ্ধতি: পাকাপেঁপের রস তৈরি করে ত্বকের কালো হয়ে যাওয়া অংশে ১০ মিনিট মাখিয়ে রাখতে হবে। আবরণটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। এক মাস এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফল মিলবে।

ছবি: দীপ্ত।

নিজেই বদলে ফেলুন হেয়ার স্টাইল

iasoyeps

সামনের চুলের ধরন বদলে দিলেই পুরো বেশই যেন পাল্টে যায়। তবে এজন্যে বারবার পর্লারে গিয়ে টাকা খরচের দরকার নেই, একটু চেষ্টা করলে নিজেই বদলে নেওয়া যাবে সামনের চুলের নকশা।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে নিজেই নিজের সামনের চুল কাটা ও স্টাইল করার কিছু সহজ উপায় উল্লেখ করা হয়। এর জন্য প্রয়োজন হবে সঠিক অনুষঙ্গ বাছাই এবং খানিকটা চেষ্টা।

সঠিক অনুষঙ্গ বাছাইঃ চুল কাটার জন্য আলাদা একটি কাঁচি রাখা উচিত। অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত কাঁচি কোনোভাবেই চুল কাটার জন্য আদর্শ নয়। চুল কাটতে বেছে নিতে হবে চিরুনি ও ধারালো কাঁচি।

প্রথমে চুলের স্টাইল ঠিক করুন: সামনের চুলের স্টাইল কেমন চান সেটি প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে। এতে পিছনের চুলের সঙ্গে মিলিয়ে সামনের চুল কাটা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

চুল আলাদা করে নেওয়া:
সামনের ঠিক যতটুকু চুল কাটতে চান ঠিক ওইটুকুই আলাদা করে নিতে হবে পেছনের বাকি চুল থেকে। আলাদা করে নেওয়ার পর পেছনের চুলগুলো ক্লিপ দিয়ে আটকে নিতে হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় চুল কেটে ফেলার ঝুঁকি থাকবে না।

ট্রিম করুন:
প্রথমেই সামনের ঠিক যতটুকু চুল কাটতে চান তা মুখের উপর নিয়ে এসে সমানভাবে আঁচড়ে নিন। চুল ঠিক যেখানে কাটবেন তার উপর পর্যন্ত আঁচড়ে নিয়ে চিরুনি ধরুন। এবার কাঁচি উপরের দিকে সোজাভাবে ধরে ঠিক মাঝামাঝি থেকে কাটা শুরু করতে হবে। মাঝখান থেকে বাইরের দিকে কাটতে হবে। বাইরের দিকে কাটার সময় কাঁচি ৪৫ ডিগ্রি বাঁকিয়ে ধরে চুল কাটা শুরু করতে হবে।

মন মতো কাটা হলে ভালোভাবে আঁচড়ে মিলিয়ে দেখতে হবে চুল সব সমানভাবে কাটা হয়েছে কিনা।
কিছু পরামর্শ

– চুল কাটার আগে ভিজিয়ে নেওয়া উচিত নয়। কারণ ভেজা চুল শুকনা চুলের তুলনায় লম্বা হয়ে থাকে। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চুল কেটে ফেলার ঝুঁকি থেকে যায় ভেজা চুলের ক্ষেত্রে।

– চুল সবসময় কিছুটা বাঁকাভাবে কাটতে হবে। সামনের চুল একভাবে সোজাসুজি কাটলে দেখতে খারাপ লাগতে পারে।

ছবি: রয়টার্স।

ত্বক ঝুলে পড়া থেকে বাঁচতে

jfolio


সমবয়সি বন্ধুদের সঙ্গে সেলফিতে যদি নিজেকে বয়স্ক মনে হয় তবে বুঝতে হবে সময়ের আগেই ত্বকে পড়েছে বয়সের ছাপ। ত্বক ঝুলে পড়া এর মধ্যে অন্যতম।

ভারতের ন্যাশনাল স্কিন কেয়ার সেন্টারের ত্বকবিশেষজ্ঞ নাভিন তানেজা জানাচ্ছেন ত্বক ঝুলে পড়া কমানোর কিছু ঘরোয়া উপায়।

স্ট্রবেরি: ত্বকে কোষ সংকোচনকারী রাসায়নিক ‘অ্যাস্ট্রিজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে স্ট্রবেরি। তবে এটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। সদ্য থেতলানো তাজা স্ট্রবেরি দিয়ে মাস্ক তৈরি করে ত্বকে প্রয়োগ করতে হবে।

শসা ও অ্যাভোকাডো
: চামড়া ঝুলে যাওয়া রোধ করতে শসা ও অ্যাভোকাডোর মিশ্রণ বেশ কার্যকর। অপরদিকে শসাকুচি করে পুরো মুখে মাখলেও ঝুলে যাওয়া চামড়া দূর হবে।

টকদই ও ডিমের সাদা অংশ: দুটি ডিম ফেটে ফোমের মতো করে মুখ ও ঘাড়ে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া এই মিশ্রণের সঙ্গে এক টেবিল-চামচ টকদই মিশিয়ে ভালো মতো ফেটে নিতে হবে। মিশ্রণ ২০ থেকে ৩০ মিনিট ত্বকে মাখিয়ে রাখতে হবে।

দারুচিনি: ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে দারুচিনি-গুঁড়া, হলুদগুঁড়া, চিনি ও অলিভ ওয়েল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে প্রয়োগ করতে পারেন।

চালের গুঁড়া:
এতে থাকে অ্যান্টি-এইজিং উপাদান। দুই টেবিল-চামচ চালের আটা, দুই টেবিল-চামচ গোলাপ জল অথবা গ্রিন টি মিশিয়ে ত্বকে প্রয়োগ করতে হবে। কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

পেঁপে:
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর পেঁপে, যা ত্বকের মরা চামড়া অপসারণের পাশাপাশি মৃতকোষও অপসারণ করে। পেঁপে, চালের আটা, মধু একসঙ্গে থেতলে নিয়ে মুখে প্রয়োগ করতে হবে। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ছবি: রয়টার্স।

চুল ঘন দেখানোর উপায়

po9-[r

মাথার সঙ্গে লেপ্টে থাকা চুল দেখতে খুব একটা ভালো লাগে না। তাই চুলে খানিকটা ফোলাভাব অথবা চুল ঘন দেখাতে অনেক ধরনের শ্যাম্পু ও প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন অনেকে।

স্টাইলবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে চুলে তাৎক্ষণিক ফোলাভাব আনতে বেশ কার্যকর কিছু উপায় উল্লেখ করা হয়। এখানে সেসব বিষয় তুলে ধরা হল।

লেয়ার কাট: চুলের স্টাইল বা ছাঁট চুলের ধরনে পরিবর্তন আনতে বেশ কার্যকর। তাই যাদের চুল বেশি লেপ্টে থাকে মাথার সঙ্গে তাদের জন্য লেয়ার কাট বেশ উপযোগী। এতে চুল দেখতে কিছুটা ফোলা লাগবে।

ভলিউমিইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার: যাদের চুল বেশি লেপ্টে থাকে তারা ‘ভলিউমাইজিং শ্যাম্পু’ বেছে নিতে পারেন। এতে চুল ফোলা লাগবে এবং বাউন্সি হবে।

চুল ঢিলা করে বাঁধা: গরমের মৌসুমে চুল না বেঁধে ঘর থেকে বের হওয়া দুষ্কর। তবে সবসময় চুল অতিরিক্ত শক্ত করে বেঁধে রাখলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এতে চুল আরও লেপ্টে থাকবে। তাই চুল মাঝে মধ্যে হালকাভাবে বেঁধে রাখতে হবে।

চুল উল্টে ব্লো-ড্রাই করা: চুল জলদি শুকানোর ক্ষেত্রে তোয়ালে দিয়ে বেশি ঘষাঘষি না করে সুতির তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে মুছে নিতে হবে। এরপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে চুল উল্টে নিয়ে ব্লো-ড্রাই করে শুকিয়ে নিলে স্বাভাবিকের তুলনায় ফোলা লাগবে। তবে চুল ড্রায়ার দিয়ে শুকানোর পর ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে এরপর চুল আঁচড়ে নিতে হবে।

সিঁথির দিক পরির্তন করে নেওয়া:
মাঝে মধ্যে সিঁথির দিক পাল্টে নেওয়া যেতে পারে। একই জায়গায় নিয়মিত সিঁথি করার কারণে ওই জায়গার চুল পাতলা হয়ে একটি ভাগ হয়ে যেতে পারে। তাই চুল উল্টেপাল্টে স্টাইল করে নিলে চুলের ফোলাভাব চোখে পড়বে।

মডেল: তামান্না। ছবি: প্রামানিক।

নকশাদার কাজলরেখা

4sziuszis
একইরকম কাজল রেখার একঘেয়েমি দূর করতে চাইলে, কাজল রেখার সঙ্গে কিছু বিচিত্র নকশা যোগ করতে পারেন।

সাজের প্রথম কথা হচ্ছে বৈচিত্র্য যোগ করা। নকশাদার কাজলরেখা একে কীভাবে সাজটি অনন্য করে ফেলা যায় তাই জানিয়েছে সাজসজ্জাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট।

দুই ডানার কাজলরেখা: যে কোনো ভালো মানের জেল আই লাইনার শক্ত সূচালো একটা তুলি দিয়ে চোখের পাপড়ির ধার ঘেঁষে লাগাতে হবে। পাপড়ির কিনারা ঘেঁষে কাজলের রেখা চোখ থেকে একটু বাইরের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তবে উপর এবং নিচের রেখা একে অপরের সঙ্গে মিলবে না। ঠিকঠাক মতো দিতে পারলে রেখা দুইটি একে অপরের সমান্তরাল হবে।

তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা: যারা জ্যামিতিক নকশা সমঝদার এই কাজলরেখা তাদের জন্য একদম উপযুক্ত। এক্ষেত্রে নরম চ্যাপ্টা মুখের একটা পেন লাইনার প্রয়োজন হবে। তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা টানতে প্রথমে উপরের পাপড়ির পাড় ঘেঁষে রেখা টেনে চোখের প্রান্তে এসে থেমে যেতে হবে। এরপর নিচের পাপড়ির প্রান্ত ঘেঁষে কাজল রেখা টেনে চোখের সীমানার বাইরে উপর দিকে টেনে নিতে হবে। উপরের রেখা সামান্য আগিয়ে নিচের রেখার সঙ্গে মিলিয়ে দিলেই হয়ে যাবে তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা।

চৌকো কাজলরেখা: একটি শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করে, উপরের কিনারা রেখা বরাবর একটি পুরু রেখা আঁকাতে হবে। রেখা চোখের সামনের কিনারার সামান্য বাইরে থেকে শুরু হবে। তবে লক্ষ রাখতে হবে, রেখা যেন চোখ পার করে বাইরে না যায়। চোখের সামনের চারকোণা জায়গাটুকু কালো আই লাইনার দিয়ে ভরাট করতে হবে। যদি একটু সাহসী ব্যতিক্রম সাজ দিতে আগ্রহী হলে কালো না দিয়ে অন্য কোনো রংয়ের লাইনার ব্যবহার করা যেতে পরে। এই ক্ষেত্রেও জেল লাইনার ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

প্রচ্ছদের ছবির মডেল: তাসমিয়া মীম। ছবি: দিপ্ত।

আরও পড়ুন

রঙিন কাজলের ছোঁয়া

মেইকআপ ‘ট্রিকস’

উজ্জ্বল চোখের ঘরোয়া টোটকা

তারুণ্য ধরে রাখে নারিকেল তেল

65usx

নারিকেল তেল দামে সস্তা হলে কাজে এটি দারুণ পটু।

একটি সৌন্দর্যবিষয়ক ওয়েবসাইট জানিয়েছে ত্বকের তারুণ্য রক্ষায় নারিকেল তেলের উপযোগিতা প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

নারিকেল তেল কীভাবে কাজ করে? বয়সের বলিরেখা ত্বকের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিতে পারে। যেমন চোখের নিচে, কপালে বা মুখে। বলিরেখা দূর করার হাজার রকমের পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। তবে এই পণ্যগুলো বেশ দামী এবং এগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সেসব সমস্যা থেকে বাঁচতে নারকেল তেল অসাধারণ ফল দেয়। এটি ত্বকের কোলাজেন নামক কলার বৃদ্ধি ঘটায়। কোলাজেন হল তন্তু জাত প্রোটিন, এর কাজ কোষগুলোকে যুক্ত করা। এটি বৃদ্ধি পেলে ত্বকের কোষের শুকিয়ে যাওয়া ঝুলে হ্রাস পায়।

যেভাবে নারিকেল তেল ব্যবহার করতে হবে

– ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে সব ময়লা দূর করে তারপর মুখে নারিকেল তেল মাখতে হবে।

– নারিকেল তেল মাখার আগে ত্বক অবশ্যই মেইকআপ বিহীন হতে হবে। মেইকআপ দেওয়া ত্বক নারিকেল তেল শোষণ করতে পারে না।

– নারিকেল তেল হাতে নিয়ে আলতো করে ত্বকে ম্যাসাজ করে মাখতে হবে। এতে ত্বক নারিকেল তেল শোষণ করতে পারবে।

– প্রতিদিন ঘুমানোর আগে উপরোক্ত পদ্ধতিতে নারকেল তেল ত্বকে মেখে ঘুমাতে হবে।

কেনো নারকেল তেল উপকারী

– নারিকেল তেলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা সব ধরনের মুক্ত মৌলকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং বলিরেখাকে বাধা দেয়।

– নারিকেল তেল ব্যবহারে ত্বক আরাম পায়, এনজাইমকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং লাল ছোপ ছোপ দাগ ও চুলকানি থেকে রক্ষা করে।

– মেইকাপ তুলতেও নারিকেল তেল খুব কার্যকর।

– নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে নিজস্ব একটা আর্দ্রতা তৈরি হয় যা ত্বককে নরম রাখে।

সতর্কতা

কারও যদি উচ্চ-রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকে তাহলে নারিকেল তেল ব্যবহার করা ঠিক না। এতে উপকারের থেকে সমস্যাই বেশি হয়। তাছাড়া নারিকেল তেল থেকে অনেক রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

তাই ব্যবহার বা খাওয়ার সময় অবশ্যই পরিমান মতো নিতে হবে। আর কেউ যদি খাবার হিসেবে নারিকেল তেল ব্যবহার করেন তাহলে মুখে মাখার দরকার হয় না।

ছেলে-মেয়ের কি শুধুই বন্ধুত্ব হয়?

uh8ogyf7

ইংরেজি সাহিত্যের লেখক ভার্জিনিয়া উলফ বলেছিলেন, ‘কেউ কেউ পুরোহিতের কাছে যায়, কেউ কবিতার কাছে, আমি যাই বন্ধুর কাছে।’ বন্ধু কিংবা বন্ধুত্ব। স্কুলজীবনের শুরুর দিনগুলোতে অনেকেরই নতুন অভিজ্ঞতার নাম বন্ধুত্ব। পরিবারের চেনা জগত্টা যে এক লাফে অনেক দূর চলে গিয়েছিল সে তো বন্ধুদের হাত ধরেই। জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে যে যেখানেই থাক না কেন, চলার পথে বন্ধুত্ব নামের এই পাথেয়টির তুলনা বোধ হয় আর কিছুর সঙ্গেই চলে না। এ এমনই বিষয় যেন কিছু না থাকলেও বন্ধুত্ব থাকলে চলে। আবার সব থাকলেও বন্ধুত্ব ছাড়া চলে না!
এই বন্ধুত্ব যদি ছেলেমেয়ের মধ্যে হয়? তা কি নিছকই বন্ধুত্ব নাকি ভিন্ন কিছু। এ ক্ষেত্রে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি উদ্ধৃতি—ছেলে এবং মেয়ে বন্ধু হতে পারে কিন্তু তারা অবশ্যই একে অপরের প্রেমে পড়বে। হয়তো খুবই অল্প সময়ের জন্য অথবা ভুল সময়ে। কিংবা খুবই দেরিতে, আর নাহয় সব সময়ের জন্য। তবে প্রেমে তারা পড়বেই।
বন্ধুত্ব ও প্রেম! এ নিয়ে কয়েকজন তরুণ পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাঁদের মতামত।

* ছেলেমেয়ের সম্পর্ক বন্ধুত্বেরও হয়, আবার ভালোবাসারও হয়। অবস্থা বুঝে হয় একেক রকম। অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলোই ভালোবাসার দিকে গড়ায়। তা থেকে শেষ পর্যন্ত পাশাপাশি হেঁটে একটা জীবন পার করে দেওয়া যায়।
তুহিন সাইফুল
মনোবিজ্ঞান বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

* একজন ছেলে আর একজন মেয়ে অবশ্যই প্রথমে বন্ধু হয়। ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা হতেই পারে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে হবে এমনটা না। যেমন একজন মেয়ের যদি একাধিক বন্ধু হয়, তার মানে এটা না সে ওদের সবাইকে ভালোবাসে। একই কথা ছেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বন্ধুত্ব যদি সীমার মধ্যে থাকে, তবে অবশ্যই সারা জীবন বন্ধু হয়ে থাকা সম্ভব।
শামীমা নাসরিন
শেষ বর্ষ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

* সম্পর্ক কীভাবে কোন দিকে মোড় নেবে তা একান্তই দুটো মানুষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। যদি ভালোবাসা হয়েও যায়, তবে বন্ধুকে ভালোবাসা যায়। বন্ধুত্বেও ভালোবাসা থাকে।
নুরাঈয়ান নিসা
প্রথম বর্ষ, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

* একজন ছেলে ও একজন মেয়ের মধ্যে শুধু ভালোবাসার সম্পর্ক হয়, এটা ভুল। বরং তার চেয়ে একটা ছেলের সঙ্গে একটা মেয়ের খুব ভালো বন্ধুত্ব হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা দেখা যায়। সবাই তো আর বন্ধুত্বকে ভালোবাসায় গড়িয়ে নেয় না।
তামান্না ইয়াসমিন
অর্থনীতি বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ
ইডেন কলেজ, ঢাকা।

* বন্ধুর মধ্যে তফাত আছে। অনেক বন্ধু আছে যাদের সঙ্গে দিনে একবারও কথা হয় না। আবার কিছু আছে যাদের নাড়ির খবর প্রতিমুহূর্তে না জানলে ঘুম হারাম হয়ে যায়। এ রকম বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে যে যা-ই বলুক, অনেক কিছু সম্ভব। আর প্রেম-ভালোবাসা ব্যাপারটা বড়ই আজব। এটা যে কখন কার মধ্যে আসে, বোঝা বড় দায়।
সাকিব নাহিদ
টেক্সটাইল প্রকৌশলী
তাকওয়া ফেব্রিকস লিমিটেড।

* একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই এই বন্ধুত্ব ভালোবাসাতে পরিণত হয়। কারণ, ভালোবাসার মানুষে পরিণত হতে হলে আগে ভালো বন্ধু হতে হয়। বন্ধুত্ব থেকেই পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত ভালো বন্ধু শুধুই বন্ধু হয়ে থাকতে পারে না। যদি দুজনের মনের মিল হয়ে যায়, তাহলে ভালোবাসা হতে পারে। সব ভালোবাসার মানুষই ভালো বন্ধু, কিন্তু সব ভালো বন্ধু ভালোবাসার মানুষ নাও হতে পারে।
লামিয়া রহমান
প্রথম বর্ষ, রংপুর মেডিকেল কলেজ।

* খুব ভালো বন্ধুত্ব থেকে অনেক সময় ভালোবাসার জন্ম নিতে পারে। তবে সাধারণত বন্ধুত্বের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই উত্তম।
সাজিদ আরাফাত
গবেষক, সময় টেলিভিশন

* চলার পথে দুজন ছেলেমেয়ের মধ্যে অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্মানজনক সম্পর্ক থাকা দরকার। এ ধরনের সম্পর্ককে আমি ইতিবাচক মনে করি। হ্যাঁ, অনেক সময় দেখা যায়, তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বন্ধুত্বের সম্পর্ক যদি ভালোবাসায় রূপ নিতে থাকে, তাহলে দুজনের সমান সম্মতিতে সম্পর্ক এগোনো যেতে পারে।
নুসরাত উষা
সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

* বন্ধুত্ব কখনো ছেলে বা মেয়ে এটার ওপর নির্ভর করে না। যখন কাউকে বন্ধু ভাবা হয় সে বন্ধুই থেকে যায়। আর তার স্থায়িত্বও উল্লেখ করার মতো।
রাযীন হালিম
তৃতীয় বর্ষ, ব্যবসায় প্রসাশন বিভাগ
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

* একজন ছেলের সঙ্গে যখন আরেকজন মেয়ের ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন তারা একে অপরের নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতে পারে। কোনো একসময় একজনের বা দুজনেরই মনে হতে পারে, ‘আমাকে আমার মতো শুধু এই বন্ধুটাই বুঝতে পারে, যা আর কেউ পারে না।’ ঠিক তখনই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভিন্ন পথে এগোতে পারে।
মানজারুল ইসলাম
তৃতীয় সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসন
সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

* বন্ধুত্ব মানে পবিত্র কিছু। সেটা ছেলে-ছেলে হোক বা ছেলে-মেয়ে হোক কিংবা মেয়ে-মেয়ে। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে যে কেবল ভালোবাসা হতে পারে তা নয়, তারা ভালো বন্ধুও হতে পারে। পাশাপাশি হাঁটলে, আড্ডা দিলেই মানুষটা ভালোবাসার মানুষ হয় না। আর স্বভাবতই মেয়েরা তাদের কাছের বন্ধুর সঙ্গে সব শেয়ার করতে পছন্দ করে। আর কোনো ক্ষেত্রে যদি সেটা ভালোবাসায় রূপ নেয়, তবে আমার মতে সেটা হবে সুন্দরতম সম্পর্ক। যেখানে একজন আরেকজনকে বোঝা-জানার সব রকম সুযোগ পায়।
ফারজানা ফারিয়া
প্রথম বর্ষ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম।

* নারী-পুরুষের সম্পর্ককে শুধুই প্রেম নামক বলয়ে আটকানোর উচিত নয়। একজন ভালো বন্ধু জীবনের অনেক বড় অর্জন। আমি মেয়ে বলে আমার বন্ধু শুধু মেয়েরাই হবে এমনটা হতে পারে না। চলার পথে একজন মেয়েবন্ধু যেমন জীবনের অংশ, একজন ছেলেও ঠিক তেমনই। তবে এ সম্পর্কের পরিণতি ক্ষেত্রবিশেষে প্রণয়ে গড়ায়, সব সময় নয়।
ইসমাত জাহান
গ্রাফিক ডিজাইনার, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, ঢাকা।

* একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্পর্কটি কখনো সারা জীবন বন্ধুত্বের পর্যায়ে থাকে না, ভিন্ন সম্পর্কে যেতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে খুব কমই ভিন্নতা আছে।
সেলিম জাহাঙ্গীর
দ্বিতীয় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

* ভালোবাসা সব সম্পর্কেই বিদ্যমান। ছেলেমেয়ের সম্পর্ক যদি বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু হয়, তবে একটা সময়ে এসে সেটা ভালোবাসায় গড়াতে পারে। সেটি বেশি দিন না চললে আবার আগের বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফিরতেই পারে।
জান্নাতুল ফেরদৌস
দ্বিতীয় বর্ষ, জীবপ্রযুক্তি বিভাগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নোয়াখালী ।

* বন্ধুত্ব তো বন্ধুত্বই। আমি বন্ধুকে বন্ধু ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এখানে ছেলে নাকি মেয়ে তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। তাই আমি মনে করি, একজন মেয়ে আরেকজন ছেলের ভালো বন্ধু এবং শুধুই বন্ধু হতে পারে। তবে ভালোবাসা বা প্রেম অন্য বিষয়, মনের বিষয়। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে ভালোবাসা হয়েও যেতে পারে!
ইফফাত হিমু
তৃতীয় বর্ষ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

.বন্ধুত্বের জন্য কাঁদতে হবে তা কখনো ভাবিনি…
লোকে বলত ছেলেমেয়েদের নাকি ভালো বন্ধুত্ব হয় না। একসময় তা প্রেমে রূপ নেয়। কিন্তু আমি আর তুই তা মিথ্যা প্রমাণিত করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তুই আমার কাছে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ উপহার ছিলি। প্রতিদিন নিজে খাওয়ার আগে আমার খবর নিতি যে আমি খেয়েছি কি না। ক্যাম্পাসের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তোর আর আমার স্মৃতিচিহ্ন নেই। বলতে গেলে আমার সবকিছুর কেন্দ্রেই ছিলি তুই। আজ সেই তুই আট মাস ধরে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করিস না। আমি এমন কী করেছি বন্ধু যার জন্য আমাকে এত বড় শাস্তি দিচ্ছিস তুই? আমাদের স্মৃতিগুলো আজ আমাকে বড় বেশি কাঁদায়। আমার কষ্টগুলো কাউকে বোঝাতে পারি না। তুই শুধু আমার বন্ধু ছিলি না, ছিলি বোন, ছিলি অভিভাবক, ছিলি সুখ-দুঃখের সাথি। আমি আর পারছি না। দয়া করে আমার কাছে ফিরে আয় বন্ধু।
ইতি
তোর পাগল বন্ধু
সন্ধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত সংগ্রহ: এস এম নজিবুল্লাহ চৌধুরী

দাঁত সুস্থ রাখতে যা করবেন

ipyo

খাবার যত সুস্বাদুই হোক না কেন, দাঁত সুস্থ না থাকলে খেয়ে মজা নেই। আবার এমন খাবারও খাওয়া উচিত নয়, যা দাঁতের বারোটা বাজিয়ে দেয়। কাজেই দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাবার-দাবার একটু বেছে নেওয়াই ভালো। দাঁত সুস্থ রাখতে যা যা করতে পারেন, তা এখানে তুলে ধরা হলো:
১. এমন খাবার না খাওয়াই ভালো, যা খেলে দাঁতের ‘অমর্যদা’ হয়! তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন। ব্ল্যাক টি, রেড ওয়াইনজাতীয় পানীয়কে ‘না’ বলুন। ধূমপান তো আপনার সাদা দাঁত হলদেটে বানানোর জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া কোমলপানীয়, চাটনি, সয়া সস এবং ঘন জুসও দাঁতের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
২. চেঞ্জ উই নিড—প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এটাই ছিল বারাক ওবামার মূলমন্ত্র। আপনার টুথব্রাশের বেলায়ও এই মূলমন্ত্র প্রয়োগ করুন। ব্রাশের বয়স দু-তিন মাস হলেই সেটাকে অবসরে পাঠান। না হলে সেই ব্রাশই আপনার মুখে ছড়িয়ে দেবে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত মাজার সময় মুখের ভেতর ব্রাশ রাখতে হবে ৪৫ ডিগ্রি কোণে। শরীরের সব শক্তি দিয়ে ঘষলেই দাঁত পরিষ্কার হয় না। ফলে দাঁতের সঙ্গে কুস্তি না লড়ে আস্তে-ধীরে মাজুন। ব্রাশ ধরুন ঠিক পেনসিল যেভাবে ধরা হয়।
৩. ‘যার মুখে গন্ধ, তার ভোট বন্ধ’—এমন একটা স্লোগান শোনা যায় দাঁতের মাজনের বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপনের বাণী ফেলনা নয়। মুখে দুর্গন্ধ মানেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া। জিব পরিষ্কার না থাকা এর অন্যতম কারণ। তাই প্রতি সকালে জিব পরিষ্কার করুন। এর জন্য টুথব্রাশ ব্যবহারের চেয়ে স্ক্র্যাপার ব্যবহার করাই ভালো।

৪. ‘ডিটারজেন্ট’ খাবার খান! আঁতকে ওঠার কোনোই কারণ নেই। ডিটারজেন্ট খাবার সেগুলোই, যেগুলো খেলে দাঁত পরিষ্কার হয়। এই খাবারগুলোর মধ্যে আছে মূলত ফলমূল, শাক-সবজি। খেতে পারেন আপেল, গাজর, পেয়ারা। পপকর্নও বেশ কাজে দেয়। সবচেয়ে ভালো হয় এ ধরনের খাবার মূল খাবারের পর খেলে। মানে সকাল, দুপুর বা রাতের খাবার খেয়ে একটা আপেল বা গাজর খেলেই দাঁত মোটামুটি পরিষ্কার!
৫. একটা পরীক্ষা চালাতে পারেন। শুনতে বিদঘুটে লাগলেও, এটা বেশ কেজো। হাতের তালু জিব দিয়ে ভেজান। ভেজা থাকতে থাকতে শুঁকে দেখুন। বাজে গন্ধ পেলে ব্যবস্থা নিন। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাউথওয়াশ পাবেন হাতের কাছেই। তবে মাউথওয়াশ যেন অ্যালকোহলমুক্ত হয়। বেশি অ্যালকোহলযুক্ত মাউথওয়াশ উল্টো আপনার দাঁতের বারোটা বাজাতে ওস্তাদ!
৬. দিনে দুবার দাঁত মাজুন। একবার সকালে, আরেকবার রাতে। মুখের লালা দাঁতের প্লাক (ময়লা) ধরে রাখে। ঘুমানোর সময় এই প্লাক শুকিয়ে দাঁতে জমে যায়। ঘুমানোর আগে দাঁত মাজলে প্লাক জমে না। আর সকালে নাশতার পর দাঁত মাজাই ভালো। এতে রাত আর সকালের প্লাক একসঙ্গে দূর হবে। রিডার্স ডাইজেস্ট অনলাইন অবলম্বনে