ত্বকের যত্নে প্রকৃতি

edtdhf

বাতাসে উষ্ণতা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে ত্বকেও। আবহাওয়া বদলের এ সময়ে ত্বকে দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা। সূর্যের তাপ এবং ধুলার কারণে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। মৌসুমি সবজি, ফলের রস, খোসা কিংবা যেকোনো সহজলভ্য উপাদানই অনেক সমস্যার সমাধান দিতে পারবে চটজলদি। তবে ত্বক বুঝে ত্বকের জন্য নিতে হবে ফেসপ্যাক। জেনে নেওয়া যাক তেমনই কয়েকটি ঘরোয়া প্যাকের কথা।
আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, এ সময়ে বেশি পরিমাণে পানি পান ও ফল খাওয়া ভালো। পাশাপাশি, সপ্তাহে অন্তত দুবার মুখে ফেসপ্যাক লাগানো অত্যন্ত জরুরি। ভেষজ উপাদান ব্যবহারে ত্বকের যত্ন হয় প্রাকৃতিক উপায়ে। ত্বকে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। তাই ত্বকের সজীবতা ও সৌন্দর্য বাড়াতে হারবাল ফেসিয়ালের গুরুত্ব বেশি।
শসা
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শসা খুব ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। শসার রস, সয়াবিন, মধু, আঙুরের পেস্ট লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং তৈলাক্ত ভাব কমে। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ১ চা-চামচ ওটমিল এবং পরিমাণমতো শসা পেস্ট একসঙ্গে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। মুখে ও ঘাড়ে মিশ্রণটি ভালোমতো মেখে ২০ মিনিট রাখুন। চাইলে সঙ্গে মধুও যোগ করতে পারেন। মধু ত্বকে লাবণ্য ধরে রাখবে। ত্বক স্বাভাবিক থাকলে সমস্যাও অনেক কম হয়। মুখের ত্বক পরিষ্কার করার জন্য শসার চাকা, পাতিলেবুর রস ভালো কাজ করে বলে জানান রাহিমা সুলতানা।

হাতে ও পায়ের ত্বকে: শসার রস, আলুর রস, মধু হাতে-পায়ে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তরমুজ
নমনীয় ত্বকের জন্য ১ টেবিল-চামচ তরমুজের রস ও ১ টেবিল-চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাকটি আপনার মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকে ১ টেবিল-চামচ তরমুজের রস ও ১ টেবিল-চামচ মধু নিন। দুটি উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট ত্বকে রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তরমুজের রস না নিয়ে বরং তরমুজ চটকে সেটা মধু দিয়ে মিশিয়ে আপনার ত্বকে লাগান। ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর আপনার মুখ স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
হাতে পায়ের ত্বকে: কয়েক টুকরা তরমুজ ব্লেন্ড করে এর সঙ্গে ১ টেবিল-চামচ চালের গুঁড়া মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
কাঁচা হলুদ
শুষ্ক ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ করতে কাঁচা হলুদ, অলিভ অয়েল, লেবুর রস, ডিমের সাদা অংশ, গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। কাঁচা হলুদ, চন্দন গুঁড়া, কমলার রসের মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগালে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা কমে। স্বাভাবিক ত্বকে একটু হলুদ গুঁড়া আর মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট রাখার পরামর্শ দেন রাহিমা সুলতানা।
হাতে পায়ের ত্বকে: হাত-পায়ের দাগ দূর করতে হলুদের বিকল্প নেই। কাঁচা হলুদ গুঁড়া, লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট করে লাগিয়ে নিন।

আঙুরের রস

সব ধরনের ত্বকের জন্য আঙুরের রস উপকারী। কয়েকটি আঙুর হাত দিয়ে আলতো করে পুরো মুখে মিনিট খানেক ঘষে নিন। কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। একেবারেই প্রাকৃতিক ফেসওয়াশের কাজ করবে এটা সব ধরনের ত্বকে। এ ছাড়া আঙুর ম্যাশ করে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। রোদের পোড়া ভাব কাটিয়ে এতে আপনার ত্বক আরও উজ্জ্বল হবে।
রাহিমা সুলতানা আরও বলেন, সপ্তাহে এক দিন বাসায় ওপরের ফেসপ্যাকগুলো স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। তবে অতিরিক্ত রূপচর্চা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

কপালে দিয়েছি টিপ

iwi

টিপ বাঙালি মেয়েদের সাজে থাকেই। একসময় মেয়েরা সিঁদুর দিয়ে টিপ আঁকতেন, এরপর লাল রং দিয়ে কপালে বৃত্ত আঁকার চল এল। আরও পরে কাপড়ের টিপ পরা শুরু হয়। যুগে যুগে পরিবর্তন হয়েছে এর রং, আকার ও ধরনে। তবে গোলাকৃতির লাল টিপের আবেদন চিরদিনই এক রয়ে গেছে।
‘টিপ ছাড়া বাঙালি সাজ যেন পূর্ণতা পায় না, এর উপস্থিতিতেই তো সাজে ষোলোআনা বাঙালিয়ানা ফুটে ওঠে।’ বলছিলেন রূপ পরামর্শক শারমিন কচি। তিনি নিজে সব সময় টিপ পরতে ভালোবাসেন, তাঁর রয়েছে নানা রকমের টিপের সংগ্রহ।
শাড়ির সঙ্গে টিপ সবচেয়ে মানানসই। পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাকের সঙ্গে টিপ খাপ খায় না বটে, তবে জিনস ফতুয়ার সঙ্গেও তো অনেকে দিব্যি কপালে আঁকছেন নানা আকৃতির টিপ। যিনি বহন করতে পারবেন তিনি চাইলে পশ্চিমা ধাঁচের পোশাকের সঙ্গেও টিপ পরতে পারেন। দেশি নকশার লম্বা স্কার্টের সঙ্গে কপালে খুব সাধারণ একটি ছোট গোল টিপ বা লম্বাটে টিপও মানিয়ে যেতে পারে। কেমন দেখাবে তা নির্ভর করবে সাজের অন্য অনুষঙ্গের ওপরেও। যেমন খুব আধুনিক বা জাঙ্ক গয়নার সঙ্গে এটি ঠিক যায় না। কিন্তু তারপরেও কথা থেকে যায়, কাউকে মানিয়ে গেলে পরা যায়।
একসময় পাথর, জরি দিয়ে কারুকার্য করা টিপের প্রচলন শুরু হয়েছিল। এখন একদম সাধারণ নকশার গোল বা লম্বা টিপ মেয়েদের পরতে দেখা যাচ্ছে। গোল টিপে আবার কখনো ফুটে উঠছে ফুল। একটু জমকালো ভাব আনতে কেউ কেউ আবার টিপের ওপর বসিয়ে নিচ্ছেন একটি পাথর। বউসাজে লাল টিপের চারপাশে বিন্দু বিন্দু চন্দনের ফোঁটা দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে, আবার কখনো শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে মাঝখানে নকশা করা হয় আফসান দিয়ে।
টিপের ধরনে অনেকে নিজস্ব একটি স্টাইল বেছে নেন। যেমন ভারতের ‘পপ সম্রাজ্ঞী’ ঊষা উত্থুপ সব সময় শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কপালে পরেন একই ধরনের গোল টিপ, তার ওপরে লেখা থাকে ‘ক’। এটা তাঁর নিজস্ব স্টাইল। এদিকে আমাদের দেশের নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সব সময় কপালে টিপ পরতে দেখা যায়। তিনি নাকি রোজ ঘুম থেকে উঠেই টিপ পরে নেন, তা না হলে নাকি নিজেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে চিনতে পারেন না। তিনি বলছিলেন, ‘কবে শেষ টিপ ছাড়া ছিলাম মনে করতে পারি না। আমি সব সময় মেরুন রঙের গোল টিপ পরি। মাঝে মাঝে হয়তো তার ওপর আলপনা এঁকে নিই বা মেরুনের ওপর কালো রঙের আরেকটি টিপ পরি।’
শারমিন কচি জানালেন, শৌখিন মেয়েরা চাইলে সোনার টিপও গড়িয়ে নিতে পারেন। তিনি নিজেই এমনটি করে থাকেন। সোনার দোকানে, পছন্দের নকশা অনুযায়ী সোনা আর পাথর দিয়ে নানা আকৃতির টিপ বানিয়ে নিয়েছেন।
কোন মুখে কেমন টিপ মানাবে সেই পরামর্শ দিয়েছেন এই রূপ পরামর্শক—
* গোল মুখে সাধারণত সব আকারের টিপই মানিয়ে যায়। তবে লম্বা আকৃতির টিপে বেশি ভালো লাগে।
* মুখ লম্বাটে হলে পরুন গোল টিপ।
* কপাল বড় হলে ছোট নয়; মাঝারির চেয়ে একটু বড় টিপ পরুন।
* ছোট কপালের জন্য খুব বড় টিপ একেবারে মানানসই নয়।
* টিপের আকার ছোট হলে তা পরতে হবে দুই ভ্রুর মাঝ বরাবর।
* বড় ও মাঝারি টিপ হলে তা ভ্রু থেকে সামান্য ওপরে পরুন।
* যাঁদের জোড়া ভ্রু, তাঁরাও টিপ খানিকটা ওপরে পরবেন। আর সব সময় বেছে নেবেন উজ্জ্বল রঙের টিপ।

চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে ভ্রু

r5

মুখের সৌন্দর্যে ছোটখাটো বিষয় অনেক বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন ধরুন ভ্রু জোড়ার কথা। যত সুন্দর ও সঠিকভাবে মেকআপ করা হোক না কেন, ভ্রুর আকৃতি যদি মুখের সঙ্গে মানানসই না হয়, তাহলে চেহারার পুরা লুকটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শুধু চেহারার নয়, চোখের সৌন্দর্যের অনেকটাই নির্ভর করে চোখের ওপর বসে থাকা ভ্রু জোড়ার ওপর। চিকন ভ্রুকে সরিয়ে এখন ফ্যাশনে অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছে মোটা ভ্রু।
চুলের সাজবিশেষজ্ঞ কাজী কামরুল ইসলাম বলেন,‘ ভ্রু জোড়া হতে হবে মুখের সঙ্গে মানানসই। চিকন বা মোটা ভ্রুর ধারা চলতেই থাকবে। তবে মুখমণ্ডলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভ্রুই হলো সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়।’ মুখের সঙ্গে মিলিয়ে ভ্রু সাজানোর ব্যাপারে কাজী কামরুল ইসলাম দিয়েছেন পরামর্শ।
ভ্রু আঁকার আগেডিম্বাকার মুখ
কোমল-ত্রিকোণাকৃতির ভ্রু আপনার জন্য বেশি মানানসই। এ ক্ষেত্রে প্রথমে সোজা হয়ে ঠিক মাঝখানে ত্রিকোণ তৈরি করবে। সর্বাধিক সেলিব্রিটি এই স্টাইলে ভ্রু রাখেন।
গোলাকার মুখ
এ ক্ষেত্রে উঁচু করে ভ্রু প্লাক করুন। মনে রাখবেন, গোল মুখের সঙ্গে গোল আকারের ভ্রু একদমই মানানসই নয়। বাইরের দিকে উল্লম্বভাবে ভ্রুর আকৃতি করুন।
লম্বা মুখ
ফ্লাট ভ্রু রাখুন, তবে দীর্ঘ আকৃতির হতে হবে। এতে আপনার মুখ অনেক বেশি লম্বা দেখাবে না এবং এটা বহাল রাখাও খুব সহজ।
চারকোনা মুখ
এ ক্ষেত্রে পুরু এবং সামান্য বৃত্তাকার আকৃতির ভ্রু রাখুন। কখনোই বক্র আকৃতির করবেন না।
পাতলা ভ্রু ঘন দেখানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন বাদামি আইব্রো পেনসিল বা পাউডারহৃদয়াকৃতির মুখ
আপনি অবশ্যই গোলাকৃতির ভ্রু রাখবেন। ভ্রুতে একটু ড্রামাটিক ভাব বা স্টাইলও আনতে পারেন। যেমন ত্রিকোণাকৃতি থেকে নিচু করে প্লাক করতে পারেন। তবে গোলাকৃতিতেই বেশি ভালো লাগবে। কিন্তু ভ্রু যাতে নাকের দিকে বেশি থাকে। কখনোই একেবারে সোজা ভ্রু রাখবেন না।
হীরক আকৃতির চেহারা
গোলাকৃতি হয়ে কোনার দিকটা একটু বাঁকা করে ওঠানো ভাবে ভ্রু প্লাক করুন।
প্লাকের জন্য কীভাবে ভ্রুয়ের পরিমাপ করবেন
নাকের যেখান থেকে ভ্রু শুরু, সে বরাবর একটি দাগ টানবেন। ঠিক নাকফুলের জায়গা থেকে ভ্রু যেখানে শেষ হয়েছে, সে বরাবরও কোনা করে আবার দাগ টানুন। এই দুই লাইনের মাঝামাঝি জায়গায় আরেকটি দাগ টানুন। এই দাগ ধরেই ভ্রুয়ের ওঠানো-নামানো, বাড়ানো-কমানোর কাজ করবেন। চটপট বের হয়ে যাওয়ার সময় পাতলা ভ্রু ঘন দেখানোর জন্য বাদামি আইব্রো পেনসিল বা পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া নিচের নিয়মগুলোও সহায়তা করবে পাতলা ভ্রু ঘন করার জন্য
.* পেট্রোলিয়াম জেলি ভ্রুর চারপাশে লাগালে তা ভ্রুকে ঘন ও আর্দ্র রাখবে। নিয়মিত মাখলে ভ্রু ঘন হয়ে উঠবে।
* ক্যাস্টর অয়েল, জলপাই তেল, বাদাম তেল, নারকেল তেলের মতো প্রাকৃতিক তেলও ভ্রু ঘন করতে বেশ পটু।
* ভ্রু ঘন করতে চাইলে টুইজারটা দূরেই সরিয়ে রাখুন। বারবার ভ্রুর লোম তুললে লোমের গোড়ায় স্থায়ী ক্ষতি হয়, ফলে ভ্রু এমনিতেই পাতলা হয়ে যায়।
* চুল গজাতে সাহায্য করে এমন পণ্য আপনার ভ্রুতে মাখুন।
* গোসলের সময় ভ্রুতে কন্ডিশনার লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। এটি করলে ভ্রুর রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং নতুন লোম গজায়।

ফুলে ফুলে চুলে চুলে

ft5

বাংলা নববর্ষের আগে আগে এখন সবখানেই সাজ সাজ আয়োজন। নববর্ষকে বরণ করে নিতে সবাই নিজেকে সাজিয়ে নেবেন সাদা-লাল রঙে। এই দিন চুলের সাজে ফুলের ব্যবহার নিয়ে আসবে নান্দনিকতা।

লাল-সাদা রঙের শাড়ি, হাতভরা কাচের চুড়ি, চোখে কাজল আর খোঁপায় গুঁজে দেওয়া ফুল—এই হলো মেয়েদের নববর্ষের ষোলো আনা বাঙালি সাজ। বললেন, কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী। উৎসব কিংবা অনুষ্ঠানে চুলে ফুল না হলে তাঁর চলে না। নিজের ব্যক্তিত্ব, ভালো লাগা, গড়ন—সব মিলিয়ে তিনি খোলা চুলে, কানের পাশে পছন্দের যেকোনো ফুল গুঁজে নেন। সব ধরনের ফুলই তাঁর ভালো লাগে। হতে পারে সেটা পথের পাশে ফুটে থাকা নাম না জানা বুনোফুল, ঘাসের ডগাসহ ঘাসফুল। কখনো শুধু শিকড় ফেলে দিয়ে ফুলসহ পুরো গাছটাই গুঁজে নেন চুলে। আবার কখনো ফুলের বদলে কচি সবুজ পাতাও চুলে পরে নেন। তবে সব থেকে বেশি ভালো লাগে দোলনচাঁপা, বেলি আর কাঠগোলাপ। চুলে ফুল সাজানো হলেই তাঁর মনে হয় সাজটা পরিপূর্ণ হয়েছে।

ছিমছাম খোঁপায় যেকোনো ফুলের সাজই পয়লা বৈশাখের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দেয়। নিখুঁত, নিপাট, সাধারণ একটি খোঁপায় ফুল লাগিয়ে নিলে সবার মাঝে থেকেও একজনকে খুব আলাদা লাগে। এমনটাই জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন। তাঁর মতে, কাকে, কোন ধরনের খোঁপায়, কোন ফুলে কেমন লাগবে, সেটা বুঝে নিতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা উচিত। যেমন কপালের ধরন, গলার দৈর্ঘ্য, চুলের ধরন, মুখের গড়ন ইত্যাদি। এসব একটু খেয়াল করে খোঁপাটি বেঁধে নিলে দেখতে অনন্য লাগবে।

তানজিমা শারমিন চুল বাঁধার কয়েকটি ধরনও জানালেন।

ববি খোঁপা মডেল:
সায়রা সাজ: মিউনিস ব্রাইডাল শাড়ি: দেশাল ছবি: নকশাববি খোঁপা: এ খোঁপাটি করতে, মাঝখানে সিঁথি করে দুই পাশে দুটি পনিটেইল করে নিতে হবে। এবার দুদিকেই খানিকটা ফোল্ড করে চুলগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে পিন দিয়ে আটকে নিতে হবে। দীর্ঘ সময় রাখতে হেয়ার স্প্রে করে নিলে ভালো হবে। সারা দিন চুলের সাজে কোনো ঝক্কি সামলাতে হবে না।

টুইস্ট খোঁপা:
সামনে ও পেছনে অর্ধেক চুল দুই ভাগে ভাগ করে নিন। পেছনের ভাগের কিছু চুলে খোঁপা করে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। এবার বাকি যে চুলগুলো আছে, সেগুলো কয়েক ভাগে ভাগ করে টুইস্ট করে পেঁচিয়ে মূল খোঁপার সঙ্গে মিলিয়ে সেট করে নিতে হবে। সঙ্গে খোঁপায় পরে নিন জারবেরা, কাঠগোলাপ বা জিনিয়া ফুল।

রিং লেটস রোল:
সামনের চুলের মাঝখানে বাঁ পাশে সিঁথি করে নিতে হবে। কপাল বড় হলে সাইডে সিঁথি করুন। না হলে মাঝ বরাবর সিঁথি টেনে সেট করে নিন। তারপর পেছনের চুলে পনিটেইল করে ওই চুলগুলোকে সমান কয়েক ভাগে ভাগ করে নিন। চুলগুলো পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিতে হবে। এরপর হেয়ার স্প্রে করতে হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে খোঁপাটি ঠিকঠাক থাকে। এবার এক পাশে অথবা প্যাঁচানো চুলের রিঙের ভাঁজে ভাঁজে পরতে পারেন পছন্দের যেকোনো ছোট ছোট ফুল।
আবার যাঁরা চুল ছাড়া রাখতে চান, তাঁরা চুল সেট করে নিয়ে যেকোনো এক পাশে কসমস, ডালিয়া চন্দ্রমল্লিকা পরে নিতে পারেন। ছোট চুলের অল্প বয়সী মেয়েরা হেয়ার ব্যান্ডের মতো করে পরে নিতে পারেন রজনীগন্ধার মালা বা কাঠবেলির লহর। সঙ্গে এক পাশে জুড়ে দিতে পারেন একটি গোলাপ কলি। চুলে ফুল সাজাতে বাজারে পাওয়া যায় নানা রকমের তাজা ফুল। মনের মতো চুল সাজিয়ে পরে নিতে পারেন বাসার পাশেই ফুটে থাকা সাদা টগর। বেণির ভাঁজে, খোলা চুলে কানের পাশে গুঁজে রাখতে পারেন অপরাজিতার একটা ফুল অথবা খোঁপায় এক থোকা বাগানবিলাস কিংবা মাধবীলতার কয়েকটি পাতা।

দিনভর উৎসব-আনন্দে চুল যেন রোদ, গরমে কোনো বিরক্তির কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ভালো করে চুলটা বেঁধে নিলে কেটে যাবে দীর্ঘ সময় ফুরফুরে মনে বৈশাখী দিন।

নিজের যত্ন

†ibv

সূর্যের তাপ এবং ধুলাবালির কারণে এ সময়ে ত্বকের জন্য প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। মন উদাস করা এমন দিনে ত্বকের যত্নে উদাসীন হলে চলবে না।

বেশি করে পানি পান আর ফলমূল খাওয়ার পাশাপাশি, সপ্তাহে অন্তত দুবার মুখে ফেইসপ্যাক লাগানো অত্যন্ত জরুরি।

এই সময়ে কীভাবে ত্বকের চর্চা করবেন জেনে নিন নভীনস অ্যারোমা থেরাপি সেন্টারের কর্ণধার আমিনা হকের কাছ থেকে।

শুষ্ক ত্বক:
শীতের পরে ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বেশি সমস্যা হয় শুষ্ক ত্বকের জন্য। তাই দরকার ময়েশ্চারাইজার।

ঘরে এমন উপাদান দিয়ে মাস্ক তৈরি করতে হবে যাতে ময়েশ্চারাইজার থাকে। যেমন: তরমুজ, কমলা, মধু, দুধের সর ইত্যাদি। এ ধরনের উপাদান, বিশেষ করে মধু ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। মধু দিয়ে মালিশের কাজ বা প্যাক তৈরি করে ত্বকে ব্যবহার করা যায়।

এজন্য মধুর সঙ্গে ময়দা ও দুধের সর মিলিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করতে হবে। আবার বাদাম পেস্ট করে মধু ও ময়দা দিয়ে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়। ত্বকের জন্য পাকাপেঁপেও অনেক উপকারি। মধু, ময়দা ও পাকাপেঁপে একত্রে পেস্ট করে লাগানো যায়।

যত গরম বাড়তে থাকে, ত্বকে তত সমস্যা দেখা দিতে থাকে। তাই এই সময়ে করলার রসের সঙ্গে ময়দা বা শসার রসের সঙ্গে পেস্ট করে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

এ সময়ে রোদে পুড়ে ত্বক কালো হয়ে যায়। এর সমাধানে সাত, আটটি কাঠবাদাম সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে বেটে এতে এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে পেস্ট তৈরি করে ১৫ মিনিটের জন্য মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে হালকা ঘষে তুলে ফেলতে হবে। এই ফেইসপ্যাক সপ্তাহে দুবার ব্যবহারে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে।

তৈলাক্ত ত্বক:

এ ধরনের ত্বকে ব্রণের আধিক্য দেখা যায়। এই সমস্যা সমাধানে একটি টমেটো টুকরা করে কেটে, চিপে রস বের করে, তিন চা-চামচ চালের গুঁড়া, এক চা-চামচ মধু দিয়ে ভালো করে মেশাতে হবে। এরপর মিশ্রণটি দিয়ে মুখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ১৫ মিনিট টানা ম্যাসাজ করে ৫ মিনিট ত্বকে রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুতিন বার ব্যবহারে ত্বকের সকল সমস্যার সমাধান হবে।

সাধারণ ত্বক:
স্বাভাবিক বা মিশ্র ত্বকের এই সময়ের যত্ন নিতে, একটি বাটিতে তিন চা-চামচ চালের গুঁড়া, এক চিমটি হলুদ গুঁড়া, এক চা-চামচ মধু নিয়ে পেস্ট তৈরি করে, পরিমাণ মতো শসার রস নিন। এই ফেসপ্যাকে পেস্ট তৈরি করতে, পানির বদলে শসার রস ব্যবহার করতে হবে।

শসার রস নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মসৃণ পেস্টের মতো তৈরি করে ১৫ মিনিটের জন্য ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে আলতো ঘষে তুলে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করুন।

ব্যস্ততার ফাঁকে নিজের যত্ন

BIe

সাধারণ কিছু বিষয় জানা থাকলেই হাজারও ব্যস্ততার ফাঁকে নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য সময় বের করে নেওয়া সম্ভব।

যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে, বেশ প্রচলিত একটি প্রবাদ। তবে আধুনিক যুগে নারীরা শুধু রাঁধে না তাদের বাইরেও কাজ সামলাতে হয়। আর এই ব্যস্ততায় নিজের নিয়মিত যত্ন নেওয়ার সুযোগ পান না অনেকেই।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে ব্যস্ত নারীরা কীভাবে নিয়মিত নিজের যত্ন নেবেন তার কিছু পন্থা উল্লেখ করা হয়।

নিজের যত্ন নেওয়ার প্রথম ধাপ হল স্বাস্থ্যকর ও সব ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে পাশাপাশি ত্বক ভিতর থেকে পুষ্টি পাবে। তাই ত্বক উজ্জ্বল হবে।

সুন্দর ও তারুণ্যদীপ্ত ত্বক চাইলে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণে লাগাম টানতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আরও কিছু টিপস এখানে উল্লেখ করা হল:

– প্রচুর পরিমাণে সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে নিয়মিত।

– স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পানি শরীরের কোষ গঠনে সহায়তা করে তাই ত্বক উজ্জ্বল ও তারুণ্যদীপ্ত হয়ে ওঠে।

– লবণ, চিনি, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণে লাগাম টানতে হবে।

– প্রচুর সামুদ্রিক মাছ এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

রোমশ আভা দূর করতে

ZZ

পরিপাটি সাজের পরেও ঠোঁটের উপর মোচের আভাস থেকে গেলে পুরো সাজটাই বারোটা।

দিল্লির রূপবর্ধক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. মেঘনা গুপ্তা সম্প্রতি ভারতীয় একটি লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনে জানিয়েছেন ঠোঁটের উপরের কালো দাগের কারণ ও এর থেকে পরিত্রাণের উপায়।

কারণ:
ঠোঁটের উপরে কালো দাগের প্রথম এবং প্রধান কারণ হচ্ছে ঠোঁটের পাতলা লোমের স্তর। যে কারণে ঠোঁটের উপরের অংশকে চেহারার অন্য অংশের থেকে কালো দেখায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এই গোঁফের মতো পাতলা লোমের স্তর ফেলে দিলেও দাগ দূর হয় না।

ড. মেঘনা গুপ্তা বলেন, “এর কারণ হতে পারে হরমোনের প্রভাব। বয়ঃসন্ধিতে এবং গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের সময় ঠোঁটের উপরে কালো দাগ পড়তে পারে।”

এ ছাড়াও, ভিটামিন-ই এবং আয়রনের অভাবে কালো ছোপ পড়ে। কেউ যদি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহার করেন বা অন্যান্য ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমনটা হতে পারে।

আলকাতরার উপাদান আছে এমন উপকরণে সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহারে দাগ পড়াও বিরল নয়। এ ছাড়াও ত্বকের মেলালিন ঘটিত রোগ মেলানোসিস এবং সূর্যের আলোতে বেশি সময় কাটালে ঠোঁটের উপর কালো ছোপ পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ড. গুপ্তা।

যদিও ঠোঁটের উপরের লোম ফেলে দিলে কালো ভাবটা দূর হয় তবে বার বার ঠোঁটের উপরের লোম উপরে ফেলতে থাকলে স্থায়ীভাবে কালো দাগ পড়ে যায়।

পরিত্রাণের উপায়

১। কী খাচ্ছেন সেই বিষয়ে লক্ষ রাখুন। একজন মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৭২ ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলের প্রয়োজন হয়। এসব পুষ্টি উপাদান প্রতিদিনের খাবারে নিশ্চিত করতে নানান ধরনের ফল ও সবজি প্রতিদিন খেতে হবে জানিয়েছে মুম্বাইয়ের রেজিস্টার্ড পুষ্টিবিদ ড. স্মিতা নন্দা।

তার মতে, “প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। ফল চিবিয়ে খেতে হবে। তবে এর রস পান করা যাবে না। পাশাপাশি প্রতিদিন যেন প্রচুর পরিমাণে সবজি খাওয়া হয় সেই বিষয়েও যত্নশীল হতে হবে। যে সব খাবারে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড রয়েছে যেমন: ঘানিতে ভাঙা তেল, তোকমা দানা, আখরোট ইত্যাদি আপনাকে উপকৃত করতে পারে।

২। এই দাগ একটা সতর্ককারী সংকেত হতে পারে যে, আপনার দেহে হয়ত কিছু একটা ঠিক নেই। তাই একটি স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন আপনাকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে এমন সব ওষুধ সেবন করতে যেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই অথবা তুলনামূলক কম।

কিছু খাবার আছে যেগুলো আপনার ক্ষতি করবে কিন্তু সেগুলোর লোভ সামলানো খুবই কষ্টসাধ্য, এই খাবারগুলো কম করে খাওয়ার চেষ্টা করুন। চর্বিযুক্ত খাবার, বেশি পরিমাণে খাবার, ক্যাফেইনযুক্ত খাবার আপনার ধারণার থেকে বেশি ক্ষতি করে থাকে।

অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমান, এই সাত ঘণ্টার বিষয়ে কোনো প্রকার আপোষ করবেন না।

মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ শ্রেয়। তাই, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা, শরীরচর্চা করা, ধ্যান করা, গান শোনা, নিজেকে প্রশ্রয় দেওয়া, ম্যাসেজ করার মতো কাজগুলো করবেন। এতে মন প্রফুল্ল থাকে এবং কাজ করতে ভালো লাগে।

৩। আপনার ত্বকের নিয়মিত যত্ন নিন। ত্বকে এসপিএফ ফিফটি মানের সানস্ক্রিন মাখুন, শুধু গরমে নয় শীতকালেও। ঘর থেকে বের হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন মাখুন। ঠোঁটের উপরের লোম ওয়াক্স করার বদলে সুতা দিয়ে তুলুন।

৪। রূপ-ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলেন, ত্বকের রং হালকা করার ক্রিম, পিল অফ মাস্ক, ত্বকের উপরের ত্রুটিপূর্ণ দাগ তুলে ফেলার জন্য করা কসমেটিক চিকিৎসা, লেজার দিয়ে করা চিকিৎসার সাহায্যেও ঠোঁটের উপরের কালো দাগ দূর করা যায়।

দেশীয় পোশাকে বৈশাখী আয়োজন

„why&

বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ বরণ করার জন্য দেশের সব জায়গায় শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। প্রতিষ্ঠিত দেশীয় পোশাক-ঘরগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য দোকানও সেজেছে বৈশাখী সাজে।

বসুন্ধরা সিটির দেশীদশে দেখা যায় বৈশাখের জোরসোর আয়োজন। ৩০ মার্চ দেশীদশের দশটি ফ্যাশন ঘরের এবারের বৈশাখী আয়োজন নিয়ে আয়োজিত হয় একটি ফ্যাশন শো। যেখানে ফ্যাশনঘরগুলোর এবারের আয়োজন তুলে ধরে।

ফ্যাশন হাউজ বিবিয়ানায় তাসের নকশাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, শাড়ি ও পাঞ্জাবি। এইখানে পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকায়। কুর্তি সাড়ে ৯শ’ থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকা। সালোয়ার কামিজ ১ হাজার ৮শ’ থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকায় এবং শাড়ি ১ হাজার ৮শ’ ৫০ থেকে ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও তাঁতের ও সুতি স্কার্ট পাওয়া যাবে সাড়ে ৮শ’ টাকায়।

নগরদোলায় ব্লকের কামিজ পাওয়া যাবে ১ হাজার ৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়। টাইডাই ও সুতার কাজ করা শাড়ির দাম ২ হাজার ২শ’ টাকা। হাতের কাজের নকশি কাঁথার কাজ করা শাড়ির দাম ১৮ হাজার টাকা। নগরদোলায় ব্লক ও সুতার কাজ করা পাঞ্জাবি কিনতে গুনতে হবে ১ হাজার ৫শ’ থেকে ১ হাজার ৮শ’ টাকা।

পহেলা বৈশাখে অঞ্জন’সয়ের আয়োজন।

পহেলা বৈশাখে অঞ্জন’সয়ের আয়োজন।
ফ্যাশন ঘর কে ক্রাফটের বৈশাখী আয়োজনে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে শাড়িতে। তাদের আয়োজনে থাকছে নিজস্ব তাঁতে বোনা বিভিন্ন মোটিফের শাড়ি। লাল-সাদার পাশাপাশি অন্যান্য রংও প্রাধান্য পেয়েছে বৈশাখী আয়োজনে। ধরন, কাজ এবং কাপড়ের ভিত্তিতে এই শাড়িগুলোর দাম হতে পারে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বা আরও বেশি।

কে ক্রাফটের ব্লক বাটিকের সালোয়ার কামিজের দাম পড়বে ১ হাজার ৮শ’ টাকা। পাঞ্জাবির দাম শুরু ১ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে।

অঞ্জন’সয়ের আয়োজনেও থাকছে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, পাঞ্জাবি, টপস, ফতুয়া এবং সালোয়ার-কামিজ। ব্লকের উপর পাড় বসানো শাড়ির দাম পড়বে ৪ হাজার টাকা। পাঞ্জাবির দাম ১ হাজার ৫শ’ টাকা। সালোয়ার কামিজের দাম শুরু ২ হাজার টাকা থেকে। এছাড়াও অ্যাপ্লিকের শাড়ি পাওয়া যাবে যার দাম ৩ হাজার ২শ’ টাকা।

দেশালের কামিজ ও ফতুয়ার নকশায় প্যাঁচা, মাছ, পাখি, ফুল ইত্যাদি মোটিফকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এইসব ফতুয়ার দাম ৬শ’ টাকা থেকে শুরু। পাঞ্জাবির দাম সাড়ে ৮শ’ টাকা। এছাড়াও আছে একরঙা ও জলছাপের শাড়ি। দাম ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৪শ’ টাকার মতো।

পহেলা বৈশাখে বাংলার মেলা’র আয়োজন।

পহেলা বৈশাখে বাংলার মেলা’র আয়োজন।
পহেলা বৈশাখে বিবিয়ানা’র আয়োজন।

পহেলা বৈশাখে বিবিয়ানা’র আয়োজন।
প্রতিটি পোশাক-ঘরই ছোট-বড় ও নারী-পুরুষ সবার কথা বিবেচনা করে নানা রকমের আয়োজন করেছে।

স্মার্টেক্স, ইয়েলো, ক্যাট’স আই, এক্সটাসি, লা রিভ, আর্টিস্টি, ওয়েস্টেক্স, ইনফিনিটি ইত্যাদি দোকানগুলোতেও রয়েছে বৈশাখী আয়োজন। এসব দোকানে পাবেন ছেলেদের শার্ট, পাঞ্জাবি। মেয়েদের জন্য রয়েছে সিঙ্গেল কামিজ, থ্রি পিস, পশ্চিমা ধাঁচের টপস, স্কার্ট, গাউন ইত্যাদি।

আজিজ সুপার মার্কেটের ফ্যাশন ঘরগুলোও বৈশাখী আয়োজনের বেশ সরব।

এখানকার দোকানগুলোতে দামের খুব একটা পার্থক্য চোখে পড়েনি। প্রায় প্রতিটি দোকানেই ফতুয়া পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। সালোয়ার কামিজের দাম ১ হাজার ৪শ’ ৫০ থেকে ২ হাজার ১শ’ টাকা। পাঞ্জাবি সাড়ে ৮শ’ থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকা। মান ও কাজ ভেদে শাড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে।

পহেলা বৈশাখে কে ক্র্যাফট’য়ের আয়োজন।

পহেলা বৈশাখে কে ক্র্যাফট’য়ের আয়োজন।
একটু সস্তায় পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে চাইলে চলে যেতে পারেন গাউছিয়া বা নিউমার্কেটে। এখানে ব্লকের শাড়ি পাওয়া যাবে ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। অ্যাপ্লিকের শাড়ির দাম ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ২শ’ টাকা। তাছাড়া জামদানি বা কাতানের শাড়ি কিনতে চাইলে গুনতে হবে আড়াই হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা।

সালোয়ার কামিজ পাওয়া যাবে ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ছোটদের পোশাকের দাম ৩শ’ থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকার মধ্যে। নিউমার্কেট এবং গাউছিয়া থেকে সুলভ মূল্যে কিনতে পারবেন ছেলেদের পাঞ্জাবি ও ফতুয়া।

তবে এখানে কেনাকাটা করার সময় জিনিসের মান বিবেচনা করে দরদাম করে কিনতে হবে। দোকানিরা একটু বেশিই দাম চেয়ে থাকেন, বিশেষত উৎসব উপলক্ষ্যে দাম কিছুটা বেশিই চেয়ে থাকেন তারা।

অদ্ভুত যত রূপচর্চা!

PR„h

যদিও অনেকে বলছেন রূপচর্চা বলে কথা। তাই বলে সে চর্চায় শামুক! আচ্ছা শামুক না হয় মানা গেল তাই বলে শুঁয়োপোকা? আরও আছে, ইদানিং রূপচর্চায় নাকি আগুন, সাপের বিষ সবই ব্যবহূত হচ্ছে! বলা যেতে পারে কি নেই সেখানে!
সেই প্রাচীনকাল থেকেই নানা ধরনের উপাদান ব্যবহূত হয়ে আসছে রূপচর্চায়। তবে ইদানিং রূপচর্চার ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে এমনই সব অদ্ভুত উপাদান। সৌন্দর্য-সচেতনরা অবশ্য জোর দাবি করছেন, সৌন্দর্যের সাধনায় নাকি মনের জোরও থাকতে হয়! ভয় পেলে রূপচর্চা হয় না। যাঁরা সুন্দর ত্বকের পূজারি তাঁদের কাছে গা ছমছম করার অনুভূতির চেয়ে সজীব, পেলব ত্বকই মুখ্য। ফেসিয়ালের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়েই যেসব অদ্ভুত পদ্ধতিগুলো রয়েছে তা নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিনিউজ।

মুখের ওপর শুঁয়োপোকার বাসা
শুঁয়োপোকা! নাম শুনলেই অনেকের গা শিরশির করে! প্রজাপতিতে পরিণত হওয়ার আগে যে কচি কলা পাতা রঙের মিল্কউইডে এ শুঁয়োপোকা বাসা বাঁধে তা দিয়েই রূপচর্চা করা হয়। মিল্কউইডের সঙ্গে ইয়োগার্ট মিশিয়ে যে উপাদান তৈরি হয় তা ফেসিয়াল হিসেবে ব্যবহূত হয়। বিকট গন্ধের ফেসিয়ালের উপাদানটি মুখে মাখার পর এক ঘণ্টা বিশ্রামে থাকতে হয়। গন্ধ যতই কটু হোক না কেনো ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে এবং মসৃণ ত্বক পেতে অনেকেই এ ফেসিয়াল করান। এর নাম মিল্কউইড ফেসিয়াল।

মুখের ওপর আগুনমুখের ওপর আগুন

মুখের ওপর আগুন জ্বালানোর এ পদ্ধতিটির নাম ফায়ার ফেসিয়াল। এ ফেসিয়ালটি চীনে ব্যাপক জনপ্রিয়। চামড়া কুচকে যাওয়া, বলিরেখা প্রভৃতি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চীনে ‘হুয়ো লিয়াউ’ নামের এই ফেসিয়াল করান সৌন্দর্য-সচেতন অনেকেই। তোয়ালেতে বিশেষ ধরনের রাসায়নিকের সঙ্গে অ্যালকোহল মিশিয়ে ত্বকের ওপর বসানো হয় এবং তাতে আগুন জ্বালানো হয়। ত্বক পুড়ে যাওয়ার আগে আবার আগুন নিভিয়ে ফেলাও হয়। আগুন আর রাসায়নিকের বিশেষ এই ফেসিয়ালে ত্বকে আগুনের মতো আভা দেখা যায় বলেই মনে করেন অনেকে।

মুখের ওপর সাপের বিষমুখের ওপর সাপের বিষ
ইদানিং সাপের বিষের ফেসিয়ালও অনেক সৌন্দর্য-সচেতন ফ্যাশনপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। এটি বোটক্সের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে যে বিশেষ উপাদান রয়েছে তা নাকি ত্বকের বলিরেখা ঠেকাতে সক্ষম। সাপের কামড়ে যেমন দেহ অচল হয়ে পড়ে, সাপের বিষের ফেসিয়ালে ত্বকের ওপর সেরকম প্রভাব পড়ে। মুখের ওপর বয়সের ছাপ দূর করতে অনেকেই সাপের বিষের এই ফেসিয়াল করান যাতে তাঁদে মুখের বলিরেখা দূরে থাকে।

রক্ত-স্নানরক্ত-স্নান!
এই ফেসিয়াল পদ্ধতিটি মোটেও দুর্বলচিত্তের জন্য নয়। তারকা অভিনেত্রীদের মধ্যে এ ধরনের ফেসিয়াল করা প্রবণতা রয়েছে। এ পদ্ধতিটি অনেকটাই চলচ্চিত্রে দেখানো ড্রাকুলা চরিত্রগুলোর রক্ত শোষণ করার মতো। এ পদ্ধতিতে প্রথমে লেজার চিকিত্সা করা হয় পরে ব্যক্তির শরীর থেকে প্লাটিলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা (পিআরপি) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুঁই ব্যবহার করে মুখে যোগ করা হয়। মুখে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুটো করে এ ফেসিয়াল করা হয়। এই ফেসিয়াল করা হলে সহজে বলিরেখা পড়ে না এবং ত্বক টানটান থাকে বলে দাবি করা হয়।

সজীব ত্বকের জন্য বিড়ালের মল!

অবিশ্বাস্য শোনালেও বিড়ালের মলকে পাউডার বানিয়ে তা বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ফেসিয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্রী গন্ধ দূর করতে এর সঙ্গে গোলাপ জলও যোগ করা হয়। দাবি করা হয়, অদ্ভুত এ ফেসিয়াল নরম ও পেলব ত্বক পেতে সহায়ক।

মুখের ওপর ভেড়ার গর্ভফুলমুখের ওপর ভেড়ার গর্ভফুল
ভেড়ার প্ল্যাসেন্টা বা গর্ভফুলকেও ফেসিয়ালের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিটি নাকি ব্যবহার করেন ভিক্টোরিয়া বেকহাম। শুনতে যতই বিদঘুটে শোনাক, এ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভেড়ার গর্ভফুল ব্যবহার করে ত্বকে আর্দ্রতা আনা যায় ফলে ত্বক সজীব ও পেলব থাকে।

শামুক থেরাপি

রূপচর্চার উপাদান জীবন্ত শামুক! মুখের ওপর জীবন্ত শামুক ছেড়ে, এক ঘণ্টার পরিপূর্ণ বিশ্রাম! এতে ত্বক হবে সতেজ। জাপানে ব্যবহূত হচ্ছে এই শামুক থেরাপি। শামুক থেকে নির্গত বিশেষ আঠালো উপাদানই মুখের ত্বকের কোষগুলোকে সতেজ করে তোলে। শামুক থেকে নির্গত বিশেষ আঠালো পদার্থে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপাদান হিসেবে রয়েছে প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও হায়ালিউরনিক অ্যাসিডের মিশ্রণ। এ রাসায়নিক উপাদানগুলো ত্বকের আর্দ্রতা বাড়ায়, প্রদাহ কমায় ও মৃত কোষগুলো সরিয়ে ফেলে।

মাড থেরাপি বা কাদা চিকিৎসা

সৌন্দর্যচর্চাতেও মাটির ব্যবহার দীর্ঘদিনের। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই মাটি দিয়ে রূপচর্চা করার চল রয়েছে। মাটিতে যেসব খনিজ উপাদান রয়েছে, তা ত্বকে মৃত কোষ পরিষ্কারের পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। মুলতানি মাটি, লাল আঠালো এঁটেল মাটির ব্যবহার দেখা যায়।

কিডনির চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তি নয়

78W79

কিডনি অকার্যকর হয়ে গেলে বেঁচে থাকার পথ দুটি: ডায়ালাইসিস করা অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন। দুটি বিষয় নিয়েই রয়েছে নানা বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও ভুল ধারণা। কিডনির চূড়ান্ত পর্যায়ের অকার্যকারিতা বা এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ হলে তবেই বিকল্প উপায়ে কিডনির কাজ চালানোর কথা ভাবা হয়।
নানা কারণে কিডনি নিষ্ক্রিয় বা অকার্যকর হতে পারে। এ জন্য অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির নানা রকম রোগ দায়ী। কিডনির প্রধান কাজ হচ্ছে রক্ত শোধন করা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বর্জ্য প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়া। না হলে রক্তে দূষিত পদার্থ জমে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডায়ালাইসিস বা বিকল্প উপায়ে তখন ওই বর্জ্য নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হয়। এখন প্রশ্ন ওঠে, কোনটা ভালো? ডায়ালাইসিস নাকি কিডনি সংযোজন?
কিডনি প্রতিস্থাপন করাটাই তুলনামূলক ভালো পন্থা, কেননা সফলভাবে কিডনি সংযোজনের পর রোগীর জীবনের গুণগত মান ডায়ালাইসিস করানো রোগীর চেয়ে ভালো হয়। কিন্তু কিডনি পাওয়াটাই বড় সমস্যা। আত্মীয়স্বজন বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কিডনি সংগ্রহ করাটা সহজ ব্যাপার নয়। অনেক সময় দাতা পাওয়া গেলেও সেটা রোগীর শরীরের উপযোগী হয় না বা সঠিক ম্যাচিং হয় না।
কিডনি বিক্রি নিয়ে বিভ্রান্তিকর অনেক কথার প্রচলন রয়েছে। আইনত কাউকে কিডনি দান করা যায়, কিন্তু বিক্রি করা যায় না। কিডনি প্রতিস্থাপনের আগে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সঠিক ম্যাচিং ও প্রস্ততির ব্যাপার রয়েছে। সবকিছু মিলে গেলে তবেই কিডনি দাতা ও গ্রহীতা দুজনের অস্ত্রোপচার একই সঙ্গে শুরু হয়। এই অস্ত্রোপচার জটিল এবং যেকোনো জায়গায় যে কেউ করতে পারেন না।
আইন অনুযায়ী জীবিত দাতার কাছ থেকে কিডনি নিয়ে সংযোজন করা যায়। এ ক্ষেত্রে মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা, মামা, খালা, ফুফু ও স্বামী-স্ত্রী কিডনি দান করতে পারেন। কেউ যদি মৃত্যুর আগে কিডনি দান করে যান, তাঁর আত্মীয়স্বজনের অনুমতি সাপেক্ষে সেই কিডনি অন্য কারও শরীরে সংযোজন করা যায়।
অধ্যাপক জামানুল ইসলাম ভুঁইয়া

প্রাক্তন পরিচালক, জাতীয় কিডনি ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট

স্বাস্থ্যবটিকা ® ব্রোন স্মিথ
‘হোয়াইট টি’ কী?
‘হোয়াইট টি’ বা সাদা চা নামটি এসেছে চা গাছের রুপালি-সাদা কুঁড়ি থেকে

‘গ্রিন টি’, ‘ব্ল্যাক টি’ বা ‘ওলং টির’ মতো একই রকম চা পাতা থেকে হোয়াইট টি তৈরি করা হয়। সব রকমের চায়ের মধ্যে এটি সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত চা। ঘূর্ণনের মাধ্যমে চূর্ণ করা হয় না বলেই হোয়াইট টির স্বাদ অন্য রকম। এই চায়ের অধিকাংশ সরবরাহ আসে চীনের ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে।
‘স্বাস্থ্যবটিকা’র লক্ষ্য রোগনির্ণয় গোছের কিছু নয়

প্রশ্নোত্তর

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রয়েছে নানা রকম স্বাস্থ্যসমস্যা। অনেক সময় ঘরে বসেই কিংবা জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। আপনার সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন পাঠান। উত্তর দেবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। বয়স লিখতে ভুলবেন না।
স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন এই ঠিকানায়: ভালো থাকুন
প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার ঢাকা-১২১৫

ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের করণীয়

tfy

ত্রিশের পর নারীদের ত্বকে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এ সময় প্রয়োজন হয় কিছু অতিরিক্ত যত্ন। নতুবা খুব দ্রুত ত্বকে পড়তে পারে বয়সের ছাপ।
তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিছুটা সময় আলাদা করে নিজের যত্ন নিলেই ধরে রাখা যাবে ত্বকের তারুণ্য।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে বয়সের সঙ্গে কীভাবে ত্বকের যত্ন নিলে তারুণ্য বজায় থাকবে দীর্ঘদিন তারই কিছু উপায় জানানো হয়।

এখানে ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের ত্বকের কিছু বিশেষ যত্নের বিষয় উল্লেখ করা হল।

– ক্লিনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং, ত্বকের সুরক্ষায় যে কোনো বয়সের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। ত্রিশের পর এই ধাপগুলো আরও ভালোভাবে অনুসরণ করা উচিত। কারণ এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করা হয়, যাতে করে ত্বক সুস্থ থাকবে।

– প্রসাধনী কেনার আগে তাতে থাকা উপাদানগুলো ত্বকের জন্য কতটা উপকারী তা যাচাই করে নিন। হারবাল হোক বা বাজারে প্রচলিত কেমিকেলে তৈরি প্রসাধনী, প্রতিটি পণ্য কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করে ত্বকের জন্য উপযোগী প্রসাধনী বেছে নিতে হবে। এতে করে অবাঞ্ছিত র‌্যাশ বা ত্বকের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে। বিশেষত প্রসাধনীতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, গ্লাইকোলিক ইত্যাদি উপাদান থাকলে তা বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

– পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত। বাইরের যত্ন ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করলেও সুন্দর ত্বকের জন্য চাই ভিতর থেকে যত্ন। তাই সুস্থ ও সুন্দর ত্বক পেতে প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে এবং পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে।

– ত্রিশের পর ভিটামিন সি ও ই সাপ্লিমেন্ট ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। এ উপাদানগুলো ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখে যা তরুণ ত্বকের মূল শর্ত।

– ত্বকের যত্নে ফেইস মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব নতুন করে বলার কিছু নেই। ত্বকের বাইরের আস্তরণ সুস্থ রাখতে ফেইস মাস্ক জরুরি।

তবে কেমিকলযুক্ত মাস্ক ব্যবহার না করে ঘরোয়া উপাদানে তৈরি মাস্ক ব্যবহার ত্বকের জন্য বেশি উপকারী। যেমন, ত্বকে টক দই লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে পারেন। এছাড়া মধু, লেবু, বেসন, পাকাকলা, পেঁপে ইত্যাদিও ত্বকে মাস্ক হিসেবে ব্যবহারে উপকার পাওয়া যাবে।

– ত্রিশের পর ত্বকের যত্নে নিয়ম করে ফেইশল করানো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এতে ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া হবে এবং নিজেই পরিবর্তণ লক্ষ করবেন।

– ওজন কমাতে এবং সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ একইভাবে ত্বকের জন্য উপকারী অভ্যাস এটি। নিয়মিত ৩০ মিনিটের ব্যায়াম ত্বক পরিষ্কার করে ত্বকে পুষ্টি যোগায় এবং রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে। যা ত্বকের বয়সের কাটাকে ধীর করে দিতে কার্যকর।

– ত্বকের উপরের স্তরে জমে থাকা মৃত কোষের স্তর পরিষ্কার করতে এক্সফলিয়েট করা অত্যন্ত জরুরি। এতে মৃত কোষ ও জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়।

– সুন্দর ত্বকের জন্য আর্দ্রতা ধরে রাখা জরুরি। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পানের পরামর্শ দিয়ে থাকের বিশেষজ্ঞরা।

– সুন্দর ত্বক ও তারুণ্য ধরে রাখতে ত্যাগ করতে হবে কিছু বদভ্যাস। মদ্যপান এবং ধূমপানের কারণে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমতে থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিজের জন্য এই অভ্যাসগুলো বাদ দিতে হবে।

– ত্রিশের পর রাতে ঘুমানের আগে অবশ্যই একটি ভালো এবং ত্বক উপযোগী নাইট ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। নাইট ক্রিম সারাদিনে ক্ষতি পুষিয়ে ত্বক ময়েশ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করবে।

– বয়সের রেখা পড়তে শুরু করে চোখের আশপাশেই। এর মূল কারণ হতে পারে চোখের আশপাশের ত্বকের শুষ্কতা। তাই চোখের চারপাশের ত্বক সুন্দর রাখতে ভালো মানের আই ক্রিম ব্যবহার করা উচিত।

– শুধু মুখের ত্বকের নয়, যত্ন প্রয়োজন পুরো শরীরের। সারা শরীরের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে ময়েশ্চারাইজ রাখতে দিনে অন্তত দুবার লোশন ব্যবহার করা উচিত।

– যে কোনো বয়সেই সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। আর ত্রিশের পর এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া উচিত। তাছাড়া মেইকআপের ক্ষেত্রেও এসপিএফ যুক্ত ফাউন্ডেশন বেছে নিতে হবে।

বিয়ে নিয়ে যত কথা, ‘বৌকথা’য়

kiw8e

প্রকাশিত হল বিয়ে বিষয়ক সাময়িকী ‘বৌকথা’র প্রথম সংখ্যা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশনা এই ম্যাগাজিনে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে বিয়ের প্রস্তুতি ও নব-দাম্পত্য বিষয়ক নানান বিষয়।

“বিয়ে করতে গেলে মধ্যবিত্তকে ভাবতে হয় নানা ভাবনা, মেলাতে হয় নানা হিসাব। এতে ‘বৌকথা’ সহায়ক হতে চায়”, বলেন, ম্যাগাজিনটির নির্বাহী সম্পাদক নাজিয়া আফরিন।

বিয়ে নিয়ে বাজারে আরও কিছু ম্যাগাজিন রয়েছে। তাহলে ‘বৌকথা’ কেনো? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটু আলাদা। আমরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকছি না। আমরা গুরুত্ব দিয়েছি বিয়ের পরের দিনগুলিকেও।”

বিয়ের পর সংসার গোছানোর নানা পরামর্শ রয়েছে ম্যাগাজিনটিতে।

‘বৌকথা’র প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ কাহিনি বেনারসি শাড়ির ওপর। বেনারসি নিয়ে কয়েকটি নিবন্ধ রয়েছে এতে। বেনারসি কেনার টিপস থেকে শুরু করে বেনারসির আদি ইতিহাস পর্যন্ত সবই তুলে ধরা হয়েছে।

শাড়ি ছাড়াও শেরওয়ানি, গয়না, জুতা ইত্যাদি অনুষঙ্গ নিয়ে লেখা রয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিকরা ছাড়াও এতে লিখেছেন তরুণ লেখক, গবেষক, ওয়েডিং প্ল্যানার, মনোবিজ্ঞানী, পুষ্টিতত্ত্ববিদেরা।

বাংলাদেশের প্রধান ইন্টারনেট পত্রিকার ম্যাগাজিন ছাপায় এলো কেনো এই প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক অনিন্দ্য রহমান বলেন, “আমরা আমাদের উৎকর্ষের প্রকাশ নানা মিডিয়ামে ঘটাতে চাই। বই তো আমরা ছেপেই থাকি। আর এই ম্যাগাজিন নিয়ে অনলাইনেও আমারদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগিরই সেটা পাঠকের জন্য উন্মুক্ত হবে।”

‘বৌকথা’য় প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেছেন আসাদুজ্জামান প্রামানিক। সহযোগী সম্পাদক তৃষা সামীরা। প্রথম সংখ্যায় প্রচ্ছদে জায়গা করে নিয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী শায়লা সাবি।

ম্যাগাজিনটি দেশজুড়ে পত্রিকা স্ট্যান্ডে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও বিশেষ মূল্যে পাওয়া যাবে একুশে বই মেলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর পাবলিশিং লিমিটেডের স্টলে (স্টল ৬২-৬৩, বাংলা একাডেমি পুকুর পাড়)। অনলাইনের অর্ডার করুন এখানে

হঠাৎ মানসিক সমস্যা দেখা দেয়

rmt,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন।—বি. স.

সমস্যা

আমি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ছি। পড়াশোনার জন্য চার বছর ধরে বাড়ির বাইরে আছি। বছর খানেক আগে হঠাৎ আমার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, মেসে থাকতে ভালো লাগে না, শুধু বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে। পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে। কিন্তু পড়াশোনা করতে হলে বাড়ির বাইরে থাকতেই হবে। আমি আগে একা একাই বেশি থাকতাম, এ জন্য আমার ভালো কোনো বন্ধু নেই। বাড়িতে বাবার মৃত্যুর পর মাও একা হয়ে গেছেন। বাসায় থাকলে পড়াশোনা নিয়ে টেনশন হয়। ইচ্ছে করে এখনই মেসে চলে যাই। কিন্তু মেসে এলে আবার ভালো লাগে না। বাসায় যেতে ইচ্ছে করে। আমি আমার উভয়সংকট বুঝতে পারি। কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। সামনে আমার ফাইনাল পরীক্ষা।
নাঈম খান, সিলেট।

পরামর্শ

তুমি লিখেছ এক বছর ধরে সমস্যাটি হচ্ছে। ঠিক তার আগে কি কোনো নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছিল? তোমার বাবা ঠিক কবে মারা গেছেন তা জানাটাও প্রয়োজন ছিল। এরপর থেকেই কি তোমার মনে হচ্ছে যে মাকে সঙ্গ দেওয়া তোমার বেশি প্রয়োজন? আমাদের জীবনে বন্ধুত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটি বয়সের পরে আমরা পরিবারের বাইরের কিছু মানুষের সঙ্গেও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলি। কোনো কিছু নিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলে আমরা কষ্ট লাঘব করার চেষ্টা করি। বন্ধুর অভাব বা কাছের মানুষের অনুপস্থিতির কারণে মনের দ্বন্দ্বটি নিয়ে তুমি আলোচনা করতে পারছ না। এখন তোমাকে নিজে নিজেই চেষ্টা করতে হবে নিজের মনকে বুঝতে। তুমি একটি কাগজে লিখে ফেল যখন মেসে যাচ্ছ তখন তোমার কী কী অনুভূতি বা আবেগ হচ্ছে। আবার যখন মায়ের কাছে যাচ্ছ তখন তোমার কী অনুভূতি ও ভাবনাগুলো হচ্ছে তাও লিখে ফেল। যেহেতু তোমাকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে, সেই কারণে মেসে থাকাটা এই মুহূর্তে খুব জরুরি। তুমি সেখানে থাকার সময় যে চিন্তাগুলো করতে থাকো, সেগুলোর মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। নিজেকে উত্সাহ দিয়ে মেসে থাকলে তোমার কী উপকার হবে সে কথাগুলোও লিখে ফেলবে। মায়ের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ তো তুমি রাখতেই পারো, তাই না? তাকে বলো, তিনি যেন তোমাকে মেসে মন বসাতে উৎসাহিত করেন। এ ছাড়া তুমি চেষ্টা করো মেসে অন্তত দু-একজনের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি করতে। বাবা যেহেতু গত হয়েছেন, তোমাকে কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে উপার্জনক্ষম হতে হবে।

‘সম্পর্ক আছে, কিন্তু অন্যের প্রেমে পড়েছি, করণীয় কি?’

9vcjm9cjvd

সঙ্গী-সঙ্গিনীর সাথে বেশ সুখেই আছেন আপনি। ভালো সময় কাটছে। কিন্তু এরই মাঝে হঠাৎ উপলব্ধি করলেন, অন্য কাউকে ভালোবাসেন। এ মানুষটি যে কেউ হতে পারেন। বহুকালের পুরো বন্ধু বা পরিচিত কেউ। এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন বহু মানুষ। আমেরিকার এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ অনুভব করেন, তারা অন্য কাউকে ভালোবাসেন।

যেকোনো কারণে একজন কারো প্রেমে পড়ে যেতে পারেন। হয়তো মানুষটি সঙ্গে চমৎকার কিছু সময় কাটিয়েছেন। অথবা আন্তরিক হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে তার চেহারা, যার প্রেমে পড়েছেন। অথবা তিনি দারুণ ব্যক্তিত্বের মানুষ। অথবা আপনা সঙ্গী-সঙ্গিনীর বিষয়ে আপনি যথেষ্ট বিরক্ত। এ ধরনের নানা কারণেই অন্যের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।

এমন সমস্যা অনেকটা মধুর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা মারাত্মক পরিণতি টানতে পারে। বর্তমান সম্পর্কে সমস্যার সৃষ্টি হলে হঠাৎ করেই ভালোবাসার মানুষটির কথা মন থেকে মুছে ফেলা যায় না। ভোলার চেষ্টায় উল্টো প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তাকে নিয়ে ভালোবাসা বা যৌনতা বিষয়ে নানা কল্পনা তৈরি হয়। আবার সঙ্গী-সঙ্গিনীর উভয়ের বন্ধু এমন কারো প্রেমে পড়লে সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়। পরিস্থিতি বেশি ঘোলাটে হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।

এ ধরনের অবস্থায় গোপনীয়তা রক্ষা বড় বিষয়। কিন্তু এটা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো বন্ধুর সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করতেই হয়। এই শেয়ারিংয়ের কারণে ঘটনা আরো জটিল হতে থাকে।

প্রথমেই এ ধরনের অনুভূতির কাছে নিজে সঁপে দিতে হয় না। অন্যের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা বা কারো প্রেমে পড়ে যাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। আবার অন্যের মনে মানুষ হয়ে ওঠার অনুভূতি আত্মবিশ্বাস ও আশাবাদ বাড়িয়ে দেয়। তাদের আমরা চিনি বা নাই চিনি। এতে খুব ভালো বোধ হয়। যাকেই ভালো লাগুক না কেন, তার কাছ থেকে ইতিবাচক মনোভাব, অনুপ্রেরণা এবং কামনার প্রকাশ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ সমস্যা বর্তমান সম্পর্কে ভাঙন ধরাতে যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে অন্য কারো প্রতি আকাঙ্ক্ষা বোধ হলেও সমস্যা থেকে যায়।

কারো প্রতি এমন আকর্ষণবোধ কি নতুন সম্পর্কে পরিণত হতে পারে? অনেকেই মনে করেন, অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া যায় বর্তমান সঙ্গী-সঙ্গিনীর চোখের আড়ালেই। কিন্তু এটা নৈতিকতাবিরোধী, প্রতারণার শামিল। আবার অনেকে তার সঙ্গী-সঙ্গিনীর প্রতারণার শিকার হয়ে নিজেও এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এমন পরিস্থিতি যাদের জীবনে চলে এসেছে তাদের বন্ধু হিসাবে পাশে সুপরামর্শ নিয়ে দাঁড়ানো উচিত। কারণ পরিস্থিতি তাদের বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি বর্তমান সম্পর্কের হুমকি হওয়ার আগেই তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

যদি এমন পরিস্থিতিতে কেউ পড়েই যান, তবে প্রাথমিক অবস্থায় এতে খুব কম সময় দিন। পছন্দের মানুষটির সঙ্গে ঘুরতে না গিয়ে তার সঙ্গে অল্প-স্বল্প আলাপ করতে পারেন। খুব দ্রুত তাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে নেই। হয়তো এই আকর্ষণবোধ সাময়িক সময়ের জন্যে হতে পারে। খুব বেশি জড়িয়ে গেলে বড় ধরনের ভুল হয়ে যাবে।

নকশাদার কাজলরেখা

6jkk

একইরকম কাজল রেখার একঘেয়েমি দূর করতে চাইলে, কাজল রেখার সঙ্গে কিছু বিচিত্র নকশা যোগ করতে পারেন।

সাজের প্রথম কথা হচ্ছে বৈচিত্র্য যোগ করা। নকশাদার কাজলরেখা একে কীভাবে সাজটি অনন্য করে ফেলা যায় তাই জানিয়েছে সাজসজ্জাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট।

দুই ডানার কাজলরেখা: যে কোনো ভালো মানের জেল আই লাইনার শক্ত সূচালো একটা তুলি দিয়ে চোখের পাপড়ির ধার ঘেঁষে লাগাতে হবে। পাপড়ির কিনারা ঘেঁষে কাজলের রেখা চোখ থেকে একটু বাইরের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তবে উপর এবং নিচের রেখা একে অপরের সঙ্গে মিলবে না। ঠিকঠাক মতো দিতে পারলে রেখা দুইটি একে অপরের সমান্তরাল হবে।

তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা: যারা জ্যামিতিক নকশা সমঝদার এই কাজলরেখা তাদের জন্য একদম উপযুক্ত। এক্ষেত্রে নরম চ্যাপ্টা মুখের একটা পেন লাইনার প্রয়োজন হবে। তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা টানতে প্রথমে উপরের পাপড়ির পাড় ঘেঁষে রেখা টেনে চোখের প্রান্তে এসে থেমে যেতে হবে। এরপর নিচের পাপড়ির প্রান্ত ঘেঁষে কাজল রেখা টেনে চোখের সীমানার বাইরে উপর দিকে টেনে নিতে হবে। উপরের রেখা সামান্য আগিয়ে নিচের রেখার সঙ্গে মিলিয়ে দিলেই হয়ে যাবে তীক্ষ্ণ প্রান্তের কাজলরেখা।

চৌকো কাজলরেখা: একটি শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করে, উপরের কিনারা রেখা বরাবর একটি পুরু রেখা আঁকাতে হবে। রেখা চোখের সামনের কিনারার সামান্য বাইরে থেকে শুরু হবে। তবে লক্ষ রাখতে হবে, রেখা যেন চোখ পার করে বাইরে না যায়। চোখের সামনের চারকোণা জায়গাটুকু কালো আই লাইনার দিয়ে ভরাট করতে হবে। যদি একটু সাহসী ব্যতিক্রম সাজ দিতে আগ্রহী হলে কালো না দিয়ে অন্য কোনো রংয়ের লাইনার ব্যবহার করা যেতে পরে। এই ক্ষেত্রেও জেল লাইনার ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাবে।