এখন ঝরঝরে চুল

পটচুysjm

ঠান্ডার সঙ্গে বুঝি ত্বক ও চুলের খুব শত্রুতা, তা না হলে হেমন্তের শেষদিক থেকেই এত সমস্যা দেখা দেবে কেন? না, আসল ব্যাপার কিন্তু সে রকম নয়। এ মৌসুমে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, অন্যদিকে বেড়ে যায় ধুলাবালির প্রকোপ। সে কারণে চুল রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে, দেখা দেয় আরও কিছু সমস্যা। যথাযথ যত্ন নিলে এখনও চুল থাকবে ঝরঝরে, সুন্দর। তার আগে জেনে নিতে হবে এ সময় চুলে কী কী সমস্যা হতে পারে। সমস্যা আগে থেকে জানা থাকলে তার সমাধানও সহজ হবে। এ সময় চুলের সাধারণ সমস্যা এবং তার প্রতিকারের উপায় জানিয়েছেন হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকের প্রধান নির্বাহী শাহিনা আফরিন।
শাহিনা আফরিন জানিয়েছেন, স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক হয় দুই রকমের—শুষ্ক ও তৈলাক্ত। শুষ্ক ত্বকে খুশকির সমস্যা বেশি দেখা দেয় আর মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলেও চুল শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের যেমন ধরন বুঝে যত্ন নিতে হয়, তেমনি চুলেরও ধরন বুঝে যত্ন নিতে হবে।

মাথার তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে

এ ধরনের ত্বকে লুক্কায়িত খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। মানে, খুশকি ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে মৌরি এবং সমপরিমাণ পানি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন ভালোমতো বেটে মাথার ত্বকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন, খুশকি দূর হবে।

মাথার শুষ্ক ত্বকের যত্নে
যাঁদের মাথার ত্বক শুষ্ক তাঁদের ত্বক এ মৌসুমে আরও বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। গুঁড়া খুশকি বেড়ে যায়, বাড়ে বিড়ম্বনাও। এ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে দেড় টেবিল চামচ মেথি ও দেড় টেবিল চামচ শুকনা আমলকী এক কাপ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখার পর বেটে ফেলুন। এরপর এর সঙ্গে মেশান দুই-তিন চা-চামচ মধু। এই মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগালে খুশকি যেমন দূর হবে তেমনি চুলে পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করবে। শাহিনা আফরিন বলেন, এ ক্ষেত্রে উপাদানগুলো সঠিক পরিমাণে নেওয়া খুব জরুরি।

নিয়মিত চুল ধুই
ঠান্ডার দিনে অনেকেরই ‘পানি ভীতি’ দেখা যায়। গায়ে যদিও বা গরম পানি ব্যবহার করা যায়, তবে মাথায় কি আর গরম পানি ঢাললে চলে? এ জন্য অনেকেই দুই একদিন পরপর চুল ভেজান। শ্যাম্পু হয়তো করা হয় আরও কিছুদিন বিরতি দিয়ে। শাহিনা আফরিনের মতে, এটি একেবারেই করা উচিত নয়। বরং এ সময় বাইরে অনেক বেশি ধুলাবালি উড়ে বলে রোজ চুল পরিষ্কার করা উচিত। ঠান্ডা পানি দিয়েই চুল ধোয়ার কাজ সেরে ফেলতে হবে।
রুক্ষ আবহাওয়ায় মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। এক কাপ গরম পানিতে পাঁচ থেকে ছয়টা রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন তা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন। এটি শ্যাম্পুর কাজ করে থাকে। চুল রং করা থাকলে এই মিশ্রণের ব্যবহারে অনেক সময় চুল রুক্ষ বোধ হতে পারে, এমন হলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া যেহেতু রোজ শ্যাম্পু করা হবে তাই শ্যাম্পুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এরপর চুল ধুয়ে নিবিড় কন্ডিশনিং করুন।

রুক্ষতা রোধে
চুলের রুক্ষ ভাব দূর করতে নিয়মিত তেল মাখতে হবে। তবে চুলে তেল দিয়ে বাইরে বের হওয়া ঠিক হবে না, এতে আরও বেশি ময়লা জমবে। বাইরে বের হলে চুল ভালোমতো বেঁধে, ঢেকে রাখতে হবে।
চুল ঝলমলে ও কোমল করতে একটি প্রণালি জেনে রাখুন। একটি আস্ত পাকা কলা, ছোট আকারের তিনটি দেশি পেঁয়াজ ও এক টেবিল চামচ মধু বেটে একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর চুলের গোড়া এবং সম্পূর্ণ চুলে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। কিছুদিন ব্যবহারে চুল যেমন মোলায়েম হবে তেমনি গোড়াও হবে মজবুত।
খুশকির সমস্যা বেশি বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বলেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রাশেদ মোহাম্মদ খান। তিনি জানান খুশকি এক ধরনের একজিমা। এর সংক্রমণে মাথার চামড়া উঠে যেতে পারে, অনেক সময় লালচে গুড়ি গুড়ি গোটা দেখা দেয়। চুলকালে এটি থেকে ঘা হয়ে যেতে পারে। এমন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ অথবা মলম ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া অল্প খুশকি দেখা দিলেই ভালো মানের খুশকিনাশক শ্যাম্পু নিয়মিত ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

নতুন চুল গজানোর উপায়

76

চুল ঝরে পড়ছে। এই সমস্যার কথা বলেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই ভার। কত কারণেই তো অকালে চুল ঝরে পড়ে। সেটা শারীরিক সমস্যা থেকে আবহাওয়ার কারণও হতে পারে। আর চুল ঝরতে শুরু করলেই কপালে ভাঁজ পড়ে আমাদের। কারণ একটাই, নষ্ট হয়ে যাবে সৌন্দর্য। টাক পড়ে গেলে তো আর কেউ পছন্দই করবে না, এমন আতঙ্কেও ভোগেন অনেকে। এর আগে আমরা আলোচনা করেছি, পাতা ও ফলের রস দিয়ে ঘন চুল পাওয়ার উপায় নিয়ে। আজকের বিষয় তেল। তেল ব্যবহার করেও নতুন চুল পেতে পারেন আপনি।

কীভাবে ?
নতুন চুল পেতে আপনাকে যেতে হবে না চিকিৎসকের কাছে। যেতে হবে না পার্লারে। এককাঁড়ি টাকা খরচ করে নিতে হবে না স্পেশাল কোনও ট্রিটমেন্টও। শুধু হাতের কাছে থাকলেই হল ক্যাস্টার অয়েল। এই তেলই আপনার মাথায় নতুন চুল গজানোর সহায়ক হবে।

ব্যবহার পদ্ধতি

ক্যাস্টার অয়েল খুব ঘন হয়। তাবলে এড়িয়ে যাবেন না যেন। ব্যবহার করতে করতে অভ্যাস হয়ে যাবে। একটি পাত্রে স্কাল্পে লাগানোর মতো ক্যাস্টার অয়েল নিন। তাতে মিশিয়ে নিতে পারেন ভিটামিন E ক্যাপসুলের তরল অংশ। তাহলে আরও ভালো ফল পাবেন।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই মিশ্রণটি ম্যাসাজ করুন চুলের গোড়ায়। সারারাত রেখে দিন। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে নিন।

একটানা প্রতিদিন ব্যবহার না করে, সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করলেই চলবে। এইভাবে টানা ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ ব্যবহার করুন। দেখবেন, মাথায় নতুন চুল গজাতে শুরু করেছে।

আর চুল রুক্ষ হলে স্কাল্পের পাশাপাশি চুলেও লাগাতে পারেন মিশ্রণটি। সেক্ষেত্রে তেল নিতে হবে বেশি পরিমাণে। আর তাতে কয়েকটি বেশি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ লাগালে চুল হবে মসৃণ। ভুরু পাতলা হলে মিশ্রণটি সেখানেও লাগাতে পারেন। ঘন সুন্দর ভুরু পাবেন আপনি। বাড়বে মুখের সৌন্দর্য।

চুলের যত্নে জেনে নিই

67GF

চুলের যত্নে এই প্যাক, সেই প্যাক—আরও নানা কিছু ব্যবহার করছেন, কিন্তু পরিচর্যার একদম প্রাথমিক কিছু ধাপেই যদি থেকে যায় গলদ, তা হলে কি চলে? ‘শ্যাম্পু করা, তেল দেওয়া—এসব তো রোজকার ঘটনা, এতে আর অত মনোযোগের কী প্রয়োজন’—এমন ভেবেছেন তো ভুল করেছেন। চুলের যত্নে খুব সাধারণ কিছু বিষয়ও জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ, অনেক ভুল ধারণাও রয়েছে এসব নিয়ে। এ প্রসঙ্গে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন ও শারমিন কচি।
চুল কি রোজ ধুতে হবে?
রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, আমাদের দেশের আবহাওয়ায় প্রতিদিনই শ্যাম্পু করা উচিত। যাঁরা রোজ বাইরে যান, তাঁদের জন্য এটি অবশ্যই করণীয়। বাইরে বের না হলে ধুলাবালুতে চুল তেমন ময়লা হয় না। তাই সে ক্ষেত্রে এক দিন পরপর চুল পরিষ্কার করলেও কোনো ক্ষতি নেই। তবে চুল ও মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে বাইরে বের না হলেও প্রতিদিনই শ্যাম্পু করার পরামর্শ দেন তিনি। এই নিয়ম যেকোনো ঋতুতেই মেনে চলা উচিত। আর শ্যাম্পু কী পরিমাণে নিতে হবে, তা নির্ভর করবে চুলের ঘনত্ব ও দৈর্ঘ্যের ওপর। শ্যাম্পুর সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে নিলে চুল পরিষ্কার করতে সুবিধা হবে। শ্যাম্পু করতে হবে দুবার। অর্থাৎ একবার শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে আবার করতে হবে। শারমিন কচি বলেন, ‘শীতের সময় ধুলাবালুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় খুশকির সমস্যা বৃদ্ধি পায়, এ সময় তাই প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত।’
কন্ডিশনিং কয়বার
চুল বেশি শুষ্ক হলে প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনিং করা উচিত। অবশ্য চুল তেলতেলে হলে কন্ডিশনার এড়িয়ে যাওয়া যায়। মিশ্র ধরনের চুল হলে এক দিন পরপর কন্ডিশনার করলেও চলবে। আর এটি চুলে লাগাতে হবে চুলের আগা থেকে ওপরের দিকে। গোড়ায় কোনোমতেই লাগানো যাবে না। কন্ডিশনার ব্যবহারের পরিমাণও নির্ভর করবে চুলের দৈর্ঘ্যের ওপর। ছোট চুল হলে কম, লম্বা হলে অপেক্ষাকৃত বেশি কন্ডিশনার নিতে হবে।
তেল কত দিন পরপর
চুলের পুষ্টি জোগাতে নিয়মিত তেল ব্যবহার করতে হয়। তবে কি শ্যাম্পুর মতো তেলও রোজ লাগাতে হবে? না, প্রতিদিন চুলে তেল দেওয়াটা জরুরি নয়। তবে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলের গোড়ায় এবং পুরো চুলে তেল লাগাতেই হবে। চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হলে দুই দিন পরপর তেল ম্যাসাজ করা ভালো। তেল দিয়ে এক ঘণ্টার মতো রেখেই চুল শ্যাম্পু করে ফেলতে পারেন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত চুল হলে এত ঘন ঘন তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

যন্ত্রের ব্যবহার

চুল শুকাতে প্রায়ই হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া স্টাইলিংয়ের জন্য আয়রন কিংবা কার্লারও ব্যবহার করেন অনেকে। তবে নিয়মিত চুলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা কি ঠিক? অথবা আয়রন বা হেয়ার কার্লারের মতো সরঞ্জাম ব্যবহার করলে চুলের কোনো ক্ষতি হয় কি না, প্রশ্ন করা হয়েছিল শারমিন কচি ও আফরোজা পারভীনের কাছে। উত্তরে তাঁরা দুজন একই মত জানান, খুব প্রয়োজন না হলে এগুলো ব্যবহার না করাই ভালো, তবে একেবারে বাদও তো দেওয়া যাবে না। তাই চুলের ওপর দিয়ে এসবের ধকল গেলে নিতে হবে বাড়তি যত্ন। নিয়মিত গরম তেল মালিশ এবং চুলের ধরন বুঝে হেয়ার প্যাকের ব্যবহারে চুলের এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। শারমিন কচি বলেন, গরম বাতাসের হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করে ঠান্ডা বাতাসেরটি ব্যবহার করতে হবে। আর আয়রন বা হেয়ার কার্লারের তাপ চুলে লাগানোর পর বাড়ি ফিরে নিবিড় কন্ডিশনিং করতে হবে।

হেয়ার স্প্রে কি ক্ষতিকর?
চুল সেট করতে হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করতে হতেই পারে। ভালো মানের হেয়ার স্প্রে চুলে রোজ ব্যবহার করলেও কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি এটি চুলে রাখা ঠিক হবে না। তেল দিয়ে স্প্রে তুলে ফেলে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। লক্ষ রাখবেন, ময়লা চুলে স্প্রে লাগাবেন না যেন। একইভাবে মুজ লাগানোর পরেও চুলের যত্ন নিন।

চুল রাঙাব কদিন বাদে?

আফরোজা পারভীনের মতে, যখনই মাথায় সাদা চুল দেখা যায়, তখনই চুলে রং করা যাবে। ফ্যাশনের জন্য হলে বছরে তিনবারের বেশি রং করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, চুলে যেকোনো রাসায়নিকের ব্যবহারের পরেই বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার।’ এ প্রসঙ্গে রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, ‘চুলে একবার রং করার পর ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় রং করানো উচিত নয়। বছরে দুবারের বেশি রং করার দরকার নেই।’

ত্বকের যত্নে কমলা

YGUVFG

শীত চলে যাওয়ার এই সময়টায় ত্বকের যত্নে প্রয়োজন হয় বিশেষ পরিচর্যার। শুষ্ক ত্বক তো বটেই, তৈলাক্ত ত্বকও এ সময় হয়ে ওঠে প্রাণহীন। ত্বকের রংটা যেমনই হোক না কেন একটা কালচে আবরণ দেখা দেয় ত্বকে। মৌসুমি ফলের খোসার ব্যবহারেই এই সময় ত্বক পেতে পারে উজ্জ্বলতা। বাজারে এখন কমলার মৌসুম। আর এই সময় কমলার খোসা বা কমলার রস হতে পারে আপনার দৈনন্দিন রূপচর্চার উপকরণ। কীভাবে? জানালেন হারমোনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা।
ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে কমলার খোসার রয়েছে অপরিসীম গুণাগুণ। ভেতর থেকে তেলকে আটকে রেখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে কমলার খোসা। কমলার খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এসিড৷ তাই এটা সরাসরি ত্বকে ব্যবহার না করাই ভালো। ত্বকের ধরন অনুযায়ী কমলার খোসা বাটার সঙ্গে কী কী মিশিয়ে ত্বকে লাগাবেন তা-ই জানালেন তিনি।
স্বাভাবিক ত্বকে আধা চা-চামচ কমলার খোসা বাটার সঙ্গে ২ চা-চামচ তরল দুধ মিশিয়ে নিন। গুঁড়া দুধ হলে আধা চা-চামচ ব্যবহার করতে পারেন। এবার এর সঙ্গে পৌনে এক চা-চামচ মধু আর ১ টেবিল চামচ লাল আটা মিশিয়ে নিন।
শুষ্ক ত্বকে দুধের পরিবর্তে দুধের সর ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আধা চা-চামচ কমলার খোসা বাটার সঙ্গে ১ চা-চামচ টকদই, ১ টেবিল চামচ আটা মিশিয়ে নিন। ত্বকের যত্নে যে মিশ্রণটিই ব্যবহার করুন না কেন তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি ত্বকে না রাখাই ভালো। স্বাভাবিক আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ১ দিন আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ২ দিন এই মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারেন।
ত্বকের মরা চামড়া তুলতেও অপরিহার্য কমলার খোসা। এ জন্য ১ টেবিল চামচ কমলার খোসা বাটার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ তরল দুধ এবং আধা চা-চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্র্যাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। গোসলের আগে ত্বকের মরা চামড়া তুলতে যেকোনো ধরনের ত্বকের জন্য এই স্ক্র্যাবটি বেশ কার্যকর। এ ছাড়া যাঁদের ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত তাঁরা সপ্তাহে দুই দিন কমলার রসে পানি মিশিয়ে তুলা দিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে দশ মিনিট অপেক্ষা করুন। এটা ত্বকে কালচে পোড়া দাগ তুলতেও সাহায্য করবে।

সংরক্ষণ
রূপচর্চার উপকরণ হিসেবে বছরজুড়েই কমলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য কমলা থেকে খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে মচমচে করে নিন। এবার মিক্সচারে ভালো করে গুঁড়ো করে বাতাস যাবে না এমন পাত্রে সংরক্ষণ করুন। খেয়াল রাখবেন, কমলার খোসার গুঁড়া যাতে কোনোভাবে পানির সংস্পর্শে না আসে। সাধারণত এই মিশ্রণ পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশেষ সতর্কতা

যাঁদের ত্বকে উচ্চমাত্রার অ্যালার্জি রয়েছে তাঁদের কমলার খোসা ত্বকের যত্নে ব্যবহার না করাই ভালো। এ ছাড়া কমলার খোসাবাটা বা কমলার রস কোনোটাই ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করবেন না, কারণ অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে কমলার রস ব্যবহারের ফলে ত্বক পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বসন্ত বাতাসে সতেজ ত্বক

JI99

এই রে! পয়লা ফাল্গুন চলে এল বলে। বাইরে ঘোরাঘুরির কত পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অথচ কী একটা ব্রণ উঠে আছে কপালে। ত্বক দেখাচ্ছে রুক্ষ। এভাবে কি বাইরে যাওয়া যায়? শীতের শেষে ফাল্গুন আসার আগেই এ ধরনের সমস্যায় পড়েন অনেকে। ঋতুবদলের এই সময়ে ধুলাবালু একটু বেশিই ওড়ে বাতাসে। ধুলাবালুতে ত্বক আক্রান্ত হয়ে সমস্যাগুলো দেখা দেয়৷ জানালেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান রাশেদ মোহাম্মদ খান।
এখন ত্বকের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সেটাও বললেন রাশেদ মোহাম্মদ খান। ‘ত্বক পুড়ে যাওয়া, ত্বকে লাল লাল ছোপ পড়া, ব্রণ, একজিমা, চুলকানি, রুক্ষ ত্বক এই সময়ে বেশি দেখা যায়৷ আগে থেকে সতর্ক থাকলে এই ধরনের সমস্যাগুলো হয় না। ধুলাবালু এড়াতে বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা ভালো৷ আর এ সময়ে ভালো ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বক নরম থাকবে, রুক্ষও হবে না। সেই সঙ্গে ভিটামিন এ, সি ও ই সমৃদ্ধ অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে।’ বললেন এই বিশেষজ্ঞ।
ত্বক পুড়ে গেলে, একজিমা কিংবা চুলকানি বেশি হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। যেহেতু ত্বকের বিষয় তাই হেলাফেলা করা যাবে না৷ এই সময়ে সচেতন থাকলে ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস কাটবে নিশ্চিন্তে।
রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘এ কটা দিন ভালোভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। যেহেতু মুখের ত্বক সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর, তাই আগেই যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে নিন৷’ আফরোজার পরামর্শ—ত্বকে ব্রণ, কালো ছোপ কিংবা ত্বক পুড়ে গেলে সে ক্ষেত্রে কয়েকটি পর্বে ভিন্ন ও উপযুক্ত ফেসিয়াল–সুবিধা নিতে হবে। আর তা করতে হবে ফাল্গুন আসার আগেই। তা না হলে বিশেষ দিনে সাজতে ত্বকের সমস্যা ঢাকতে অনেক ভারী মেকআপ নিতে হবে। এর ফলে পরবর্তী সময়ে সমস্যাগুলো আরও বেড়ে যাবে।
আফরোজা পারভীন জানালেন ফাল্গুনের পোশাক বেশ বর্ণিল হয়৷ তাই পোশাকের সঙ্গে হালকা সাজ দিলে ভালো দেখাবে৷ ঘোরাফেরা শেষে বাসায় ফিরে অবশ্যই মুখের ত্বক ডিপ ক্লিন করে নিতে হবে। যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরা অয়েল ফ্রি ময়েশ্চরাইজার এবং যাঁদের ত্বক রুক্ষ, তাঁরা ক্রিমি ময়েশ্চারাইজার দিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ত্বক পরিষ্কার করে নিতে পারেন।
এ ছাড়া ঘরে তৈরি প্যাক দিয়েও ম্যাসাজ করতে পারেন। ত্বকের ধরন বুঝে আফরোজা বলে দিলেন কিছু প্যাকের প্রণালি।

শুষ্ক ত্বক

অ্যাভোকাডোর সঙ্গে দুধ ও মধুর মিশ্রণ শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো।

তৈলাক্ত ত্বক
যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরা মুলতানি মাটির সঙ্গে কমলার রস মিশিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে শসার রস মিশিয়ে নিলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

স্বাভাবিক ত্বক
স্বাভাবিক ত্বকের জন্য বেসন, দুধ ও মধুর মিশ্রণ খুব উপকারী।

রোদেপোড়া দূর করতে সবজি

fg6

গরমকালে রোদে ত্বক পুড়বেই। সহজলভ্য সবজি দিয়ে এই পোড়া ত্বকের যত্ন করা যায় সহজেই।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে রোদেপোড়া ত্বকের যত্নে উপকারী কিছু সবজির ব্যবহার উল্লেখ করা হয়।

টমেটো: টমেটো নিয়ে তা ভালোভাবে মিহি পেস্ট করে পোড়াত্বকে সরাসরি লাগিয়ে নিতে হবে। পুরো শুকিয়ে গেলে এর উপরে আরেক পরত পেস্ট লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

টমেটোতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা ত্বকের কোষের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সাহায্য করে। এতে রোদের তাপের কারণে হওয়া লালচে ও পোড়াভাব দূর হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্যও করে।

অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা পাতার উপরের চামড়া পাতলাভাবে কেটে ভিতরের জেলের মতো অংশ বের করে নিতে হবে। এর সঙ্গে খানিকটা লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের সুরক্ষা পরত হিসেবে কাজ করে ঘৃতকুমারীর নির্যাস। তাছাড়া ত্বকের ক্ষতি পুষিয়ে ত্বকে আর্দ্রতা জোগায় ও কোমল রাখতে সাহায্য করে।

আলু: আলু এবং লেবুর রসের মিশ্রণ ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই দুটি মিশ্রণ ঘন পেস্টের মতো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর আক্রান্ত ত্বকে মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ত্বকের পোড়াভাব দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে দারুণ কার্যকর এই মিশ্রণ।

ছবির প্রতীকী মডেল: শারমিন রমা। ছবি: ই স্টুডিও এবং দীপ্ত।

বৈশাখ আয়োজন

2-5

মায়াসির
বর্ষবরণে নতুন কাজের পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউস মায়াসির। শাড়ির সংগ্রহে থাকছে শিফন, অ্যান্ডি সিল্ক ও মসলিন। এ ছাড়া শিশুদের জন্য পাঞ্জাবি, কামিজ, টপ, থ্রিপিসসহ নানা ধরনের পোশাকে করা হয়েছে এমব্রয়ডারি ও নকশি কাঁথার কাজ। উজ্জ্বল রং থাকছে পোশাকে।

ডুয়েটঅ্যাড ঐতিহ্যডুয়েটঅ্যাড ঐতিহ্য
বাংলা নতুন সনকে বরণ করে নিতে ফ্যাশন হাউস ডুয়েটঅ্যাড ঐতিহ্য নিয়ে এসেছে নতুন নকশার পঞ্চাশটির বেশি টি-শার্ট। ছেলে, মেয়ে ও শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা নকশা। ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেট ও মেট্রো শপিংমলে পাওয়া যাবে এসব পোশাক।

নিপুণনিপুণ
নানা রং দিয়ে বৈশাখের পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউস নিপুণ। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি থাকছে শিশু ও কিশোরদের সংগ্রহ। গরমের কথা মাথায় রেখে ব্যবহার করা হয়েছে আরামদায়ক কাপড়। পাওয়া যাবে নিপুণের সব শাখায়।

চেঞ্জ
ফ্যাশন হাউস চেঞ্জ বৈশাখে এনেছে লোকজ মোটিফের নকশা করা টি-শার্ট। আলপনা, ঢোল, তবলা, দোতরাসহ নানা ধরনের ছবি থাকছে টি-শার্টের বুকে।

ফড়িং

ফ্যাশন হাউস ফড়িং সেজেছে উৎসবের সাজে। অ্যাপ্লিক, ব্লক, হাতের কাজ, স্প্রে, টাইডাইসহ নানা ধরনের নকশা থাকছে বিভিন্ন পোশাকে।

সেইলরসেইলর
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস সেইলর পোশাকে বিভিন্ন বিষয় ধরে কাজ করেছে। কুর্তায় থাকছে লোকজ শিল্প, আলপনা ও ফুলেল মোটিফ। পোশাকে দেওয়া হয়েছে ফটো প্রিন্ট, ডিপ ডায়িং, ব্রাশ পেইন্টসহ নানা কাজের ছোঁয়া।

গ্রামীণ ইউনিক্লোগ্রামীণ ইউনিক্লো
নববর্ষের পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউস গ্রামীণ ইউনিক্লো। ছেলে ও মেয়েদের কামিজ, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট ইত্যাদি পোশাকে থাকছে বৈশাখের রং ও নকশা।

চুড়ি ফিতা গামছা…

zeddz

বৈশাখ মানেই অনেক রঙের খেলা। রঙিন বৈশাখকে আরেকটু রঙিন করে তোলে নানা রকমের অনুষঙ্গ। সেটি হতে পারে পোশাকের, হতে পারে সাজের। অনেকে তো ছবি ভালো করার জন্যও জোগাড় করে রাখেন ফুলের ব্যান্ড, গামছা বা পাখা। নিজেকে দেখতে একটু ভিন্ন লাগল। আবার ছবিটাও সুন্দর হলো।
ব্যাগ
পয়লা বৈশাখের সকালেই বেরিয়ে পড়েন অনেকে। ফলে খুব ভারী ব্যাগ না নেওয়াই ভালো। বটুয়া ধরনের ব্যাগ নিতে পারেন। আবার ক্লাচ ব্যবহার করা যেতে পারে। কম বয়সী মেয়েরা আজকাল একটু ঝোলানো ছোট আকারের ব্যাগ ব্যবহার করছে। সেদিনও তা নিতে পারেন। তবে পানির বোতল, ছাতা নেওয়া যায় কি না, তা খেয়াল করবেন আগেই। আর মেকআপ ঠিকঠাক রাখার জন্য কমপ্যাক্ট লিপস্টিক নিতে পারেন সেই ব্যাগে।
অনেকের মধ্যে একটু আলাদা কিছু করতে চাইলে পোশাকের কাপড়ের সঙ্গে মিলিয়ে গামছা দিয়েও তৈরি করতে পারেন ব্যাগ। পাটের তৈরি নকশা করা ব্যাগ, হাতের কাজ করা ব্যবহারের চলও আছে। বিডস, কুন্দনের ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
গরম থেকে রেহাই পেতে নানা রকমের পাখা পাওয়া যায়। মেলা থেকে কিনতে পারেন। আবার আগে কিনেও ব্যাগে রেখে দিতে পারেন। তালপাতার পাখার চারপাশে কাপড় দিয়ে কুঁচি দিলে বেশি ভালো দেখাবে। সেসব পাখা অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করে ছবি তুলে ফেসবুকে দিলে লাইক একটু বেশিই পড়তে পারে।
টিপ, চুড়ি, ফিতা.
‘ভালে সিন্দুরের টিপ, নয়নে কাজল/রক্তাম্বর পট্টবাস, সোনার আঁচল/শুধাইল দর্পণেরে-কহো সত্য করি/ধরাতলে সবচেয়ে কে আজি সুন্দরী’-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বিম্ববতী’ কবিতায় লিখেছিলেন এমন কথা। তখন আয়নার সামনে কপালে টিপ, চোখে কাজল দিয়ে নিজের মধ্যেই হয়তো মুগ্ধতা এসে পড়ত। পয়লা বৈশাখের সাজগোজ টিপ, চুড়ি, ফিতা না হলে যেন পরিপূর্ণ হয় না। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কাচের চুড়ি পরেন মেয়েরা। অনেকে মেলায় গিয়ে চুড়িওয়ালির কাছ থেকে হাতভর্তি করে কাচের চুড়ি কেনেন; চুড়ি ভেঙে হাত কেটে যাওয়ার ভয়ে কাঠ, মাটি বা তামার চুড়ি পরেন।
কম বয়সী মেয়েরা বেণিতে ফিতা দিয়ে নানা রকম নকশা করতে পারে। ফিতা দিয়ে মাথার দুই পাশে দুই বেণি বা বেণি করে খোঁপাও করা যায়। এবার গুঁজে দাও তাজা ফুল। নান্দনিক নকশার চুলের কাঁটা ব্যবহার করলেও ভালো দেখাবে।
যাঁরা টিপ পরেন না, পয়লা বৈশাখে তাঁদের টিপ পরতে দেখা যায়। একটা সময়ে কুমকুম দিয়ে কপালে টিপ আঁকতেন মেয়েরা। এখন বাজারে ভিন্ন রকমের নকশা করা টিপ পাওয়া যায়। ছোট টিপ, বড় টিপ যেকোনো ধরনের টিপ আরও অনন্য করে তুলবে আপনাকে।
শরৎচন্দ্রের অরক্ষণীয়া উপন্যাসেও মাধুরীর চওড়া লালপেড়ে শাড়ি, পিঠের এলো চুল, কপালে টিপের সাজে তাঁকে স্বর্ণপ্রতিমার মতো লাগছিল। চোখের পলক পড়ে না এমন অবস্থা। বোঝাই যাচ্ছে, আবহমান কাল ধরে এই সাধারণ বিষয়গুলো কবি-সাহিত্যিকের গল্প-উপন্যাসেও উঠে এসেছে।
পয়লা বৈশাখে সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে মুখচিত্র স্থান পেয়েছে। দেশীয় মোটিফ, যেমন: প্যাঁচা, ঢাক, ঢোল, একতারা, তবলা, পালকি, কলস, পাখা আঁকেন মুখে। রং-তুলির ছোঁয়া দিয়ে কেউ কেউ শুধু বাংলায় লিখে নেন ‘পয়লা বৈশাখ’। ব্যস, ঘুরতে ঘুরতে এটিও আনন্দ দেয় ছোট-বড় সবাইকে।.
ফুলের ব্যান্ড, ব্যান্ডানা ও গামছা
দুই-তিন বছর ধরে নানা রকম ফুল দিয়ে বানানো গোল ব্যান্ডের চল দেখা যাচ্ছে পয়লা বৈশাখে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারীরা এটি পছন্দ করছেন। একজন আরেকজনকে তাজা ফুলের ব্যান্ড পরিয়ে দিচ্ছেন। ঢাকার শাহবাগের ফুল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পয়লা বৈশাখের দিনে খুব চাহিদা থাকে ব্যান্ডের। অনেকে ফুল পছন্দ করে দিয়ে ব্যান্ড বানিয়ে দিতে বলেন। .
কম বয়সী ছেলেরা বেছে নেয় ব্যান্ডানা। পয়লা বৈশাখের দিনে ফেরি করে কিছু ব্যান্ডানা বিক্রি করতে দেখা যায়। সেখান থেকেও কেনেন তরুণেরা। রুমালকেও ব্যান্ডানার মতো করে ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে চাইলে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন ব্যান্ডানা।
তরুণদের একটা বড় অংশ বৈশাখের প্রথম দিনে মাথা ও কোমরে গামছা পরে। সাধারণত ওই দিন আবহাওয়া গরম থাকে। ‘গা মোছা’ থেকে গামছা শব্দটি এলেও ঘাম মুছতে বেশি ব্যবহার করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াসাত সারা বছর গামছা ব্যবহার করেন না, শুধু পয়লা বৈশাখের দিন পাঞ্জাবির সঙ্গে বেছে নেন ছোট গামছা। ‘আগেই গামছা কিনে ধুয়ে রাখি। নরম হয় তাহলে। গলায় ঝুলিয়ে রাখি। মাথায়ও ব্যান্ডানার মতো করে বাঁধি। বেশ একটা ভাব আসে। আমরা আটজন বন্ধু সবাই গামছা পরি সেদিন।’ বলেন রিয়াসাত।
স্যান্ডেল
দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে হয় বৈশাখের প্রথম দিনে। তাই পায়ের স্যান্ডেল বা জুতার দিকে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে। একেবারে নতুন স্যান্ডেল না পরাই ভালো-মনে করেন ডিজাইনার মাহিন খান। এতে পায়ে ফোসকা পড়তে পারে। যদি নতুন পোশাকের সঙ্গে নতুন স্যান্ডেল পরতে চান, তাহলে বাড়িতে কয়েক দিন আগে পরে হাঁটাচলা করতে হবে। মেয়েদের খুব উঁচু স্যান্ডেল না পরে পাম্প শু বা ফ্ল্যাট কিছু পরাই ভালো। একান্তই পরতে হলে ছোট হিলের স্যান্ডেল পরতে পারেন। পায়ে আরাম না থাকলে ঘোরাটাই বৃথা হয়ে যাবে। কোলাপুরি, পাথরের কারুকাজ করা স্যান্ডেল বেশ চলছে।
ছেলেরা জুতাও পরতে পারেন। আবার স্যান্ডেল শুও বেছে নিতে পারেন। যাঁরা স্লিপার পরে অভ্যস্ত, তাঁদের তা-ই পরা উচিত। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এমন কিছু পরবেন না। জিনস বা চুড়িদারের সঙ্গে নাগড়া বেশ ভালো মানায়।
*পয়লা বৈশাখ নিয়ে আরও নানা আয়োজন নিয়ে প্রথম আলোর বিশেষ ম্যাগাজিন ‘বর্ণিল বৈশাখ’ এখন বাজারে। বিস্তারিত পড়তে আপনার কপিটি সংগ্রহ করুন।
বিষয়:
স্টাইল বর্ণিল বৈশাখ ১৪২৩

সব পোশাকেই বর্ষবরণ

5rsd

পাঞ্জাবি তো বৈশাখেরই। তাই বলে এদিন কি অন্য পোশাক পরতে মানা? বৈশাখের নকশা তো আর শুধু পাঞ্জাবির গায়েই লেগে নেই। তা এখন ছড়িয়ে গেছে টি-শার্ট, ফতুয়া বা শার্টের মতো পোশাকেও। বিশেষ করে তরুণদের কথা ভেবেই ভিন্ন ভিন্ন পোশাকে বৈশাখের নকশা আঁকছেন ডিজাইনাররা। কী নেই এসব নকশায়। এবার প্রায় প্রতিটি ফ্যাশন হাউস ছেলেদের পোশাকের নকশা করেছে কোনো না কোনো বিশেষ থিম ধরে। সেখানে যেমন শখের হাঁড়ির রং লেগেছে পাঞ্জাবির জমিনে; তেমনি টি-শার্টের বুকের ওপরে বসেছে গোমড়া মুখের প্যাঁচা বা লোকজ মেলার রমরমা বাজার। লাল-সাদার একটা বড় সমন্বয় তো আছেই, সেখানে যোগ হয়েছে আরও কয়েকটি উজ্জ্বল রং। বিশেষ করে নীল রঙের তৈরি পোশাক এনেছে অনেক ফ্যাশন হাউস। পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়ায় ব্যবহার হচ্ছে পিওর নীল রং। কখনো তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে লাল-সাদা বুটি, ব্লক ইত্যাদি। ছেলেদের পোশাকের রং নিয়ে ব্যাঙের প্রধান ডিজাইনার সায়েম হাসানও জানালেন একই তথ্য, বৈশাখে এবার নীল রঙের একটা প্রচলন দেখা যাচ্ছে ছেলেদের পোশাকে। লাল আর সাদা রঙের আবেদন বৈশাখে চিরন্তন। এই দুটি রঙেই আসল রূপ ফুটে ওঠে। তবে এ বছর নীল, কমলা, কচি সবুজের মতো রংগুলো থাকছে বাঙালির একান্ত উৎসবে।

রং নিয়ে তো একটা ধারণা পাওয়া গেল, কিন্তু পোশাকের ধরন হবে কী? পাঞ্জাবি পরে সারা দিন অনেকেই ঘোরাফেরা করতে স্বস্তি পান না। এ ছাড়া মুঠোফোন বা মানিব্যাগ রাখা নিয়েও বিপত্তি দেখা দেয়। আবার এটাও ঠিক যে সারা দিনে একবার পাঞ্জাবি না পরলেও ঠিক মন ভরে না অনেকের। বিশেষ করে কোনো দাওয়াতে বা বৈশাখের সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এরও একটা সমাধান দেখা গেল অনেক ফ্যাশন হাউসের পাঞ্জাবিতে। নতুন পাঞ্জাবির দুই দিকে থাকা পকেটের মধ্যে আলাদা একটা কাপড়ের চেম্বার করে মুঠোফোন বা মানিব্যাগ সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা থাকছে। পাঞ্জাবিকে বৈশাখের রঙে রাঙাতে ব্যবহৃত হচ্ছে নানা ধরনের মোটিফ।
লাল, সাদা বা নীল—একরঙা পাঞ্জাবি তো থাকছেই, বৈশাখ ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার হচ্ছে লোকজ মোটিফ। গ্রামীণ বাংলাদেশের ছোট ছোট নানা দিক উঠে আসছে ছেলেদের পোশাকে। টেপা পুতুল, শখের হাঁড়ি, সরা, নৌকা, ধানখেত, তালগাছ, মাছ, প্যাঁচা, কবিতার পঙ্‌ক্তি দিয়ে করা হচ্ছে ছেলেদের পোশাকের নকশা। পাঞ্জাবি, ফতুয়া বা টি-শার্টের এই ট্রেন্ড নিয়ে ফ্যাশন হাউস দেশালের ডিজাইনার ইশরাত জাহান বলেন, নানা ধরনের ফোক মোটিফ থাকছে বৈশাখের পোশাকে। দেশাল এসব ফোক মোটিফকে আবার খানিকটা নিজেদের মতো করে সংযোজন করে নকশা করছে বৈশাখের কাপড়ে। পাখি, নানা ধরনের মাছ ও প্যাঁচার আদলে বানানো হচ্ছে পাঞ্জাবি, ফতুয়ার মতো পোশাকগুলো।
অনেকেই বৈশাখে শখ করে ফতুয়া পরেন। ডিজাইনারদের পরামর্শ সেটা ফুলহাতা না পরে হাফ বা হাতাকাটা হতে পারে। ফতুয়ার সঙ্গে চাইলে একটা লুঙ্গি পরে মিশে যেতে পারেন মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এতে শোভাযাত্রারও শোভা বাড়বে। ফিটিং ও লম্বা ঝুল দুই ধরনের ফতুয়াই চলবে বৈশাখে। এক রঙের স্ক্রিন প্রিন্ট করা বা নানা ধরনের গ্রামীণ চেকের সুতি ফতুয়াই ভালো দেখাবে পয়লা বৈশাখে। আর পাঞ্জাবির কাটে চলছে স্লিমফিট। ফ্যাশন হাউস ওটুর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার জাফর ইকবাল বলেন, ছেলেদের পাঞ্জাবির ঝুল খানিকটা কমে হাঁটুর একটু নিচে এসেছে। ঢিলেঢালা ভাব ছেড়ে এসব পাঞ্জাবিতে স্লিমফিট কাট জনপ্রিয় তরুণদের কাছে। কলার, বোতাম, পকেট বা বুকের সামনে বাটন প্লেটে ছোট ছোট পরিবর্তন পাঞ্জাবির চেহারা বদলে দিচ্ছে। ফতুয়ার চেয়ে একটু বড় ও নিচের দিকে খানিকটা গোলাকার কাটের পোশাক কাতুয়াও পরতে পারেন ছেলেরা। থ্রি-কোয়ার্টার হাতার এই নতুন পোশাকটাও বৈশাখের রং পেয়ে হয়ে উঠেছে বর্ণিল।
গত বছরের শেষ দিক থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়া শার্টের প্রিন্ট এবার বৈশাখের টি-শার্টেও দেখা যাচ্ছে। কলকা প্রিন্ট, ডট প্রিন্ট, আবহমান বাংলার আলোকচিত্রসহ নানা ধরনের প্রিন্ট করা হচ্ছে টি-শার্টে। বিশেষ করে তরুণদের কথা মাথায় রেখেই নকশা করা হচ্ছে টি-শার্ট। ফ্যাশন হাউস নিত্য উপহারের স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান বলেন, আলোকচিত্র দিয়ে টি-শার্ট করার চল বাড়ছে। তরুণেরাও পছন্দ করছেন। এ ছাড়া লোকজ মোটিফ বা আঁকা চিত্রকর্ম দিয়ে করা টি-শার্ট বৈশাখে দিব্যি মানিয়ে যাবে। এই সময়ের আবহাওয়া যেহেতু গরম, তাই পাতলা কাপড় বেছে নিতে হবে পোশাকে। পোলো বা গোল গলা—যে টি-শার্টই হোক, বৈশাখের রং বেছে নিলেই ভালো দেখাবে।
পাঞ্জাবি, শার্ট বা টি-শার্ট—যেটাই হোক, সেটা সুতি কাপড়ের হলেই ভালো বলে মনে করেন ডিজাইনাররা। আর তাই অধিকাংশ দোকানেই সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করা হয়েছে। কাপড়কে পাতলা ও আরামদায়ক করতে সফটনার ওয়াশ বা সিলিকন ওয়াশ করা হচ্ছে।

দরদাম
এক বা দুই রঙের সাদামাটা পাঞ্জাবি হলে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা, ব্লক বা প্রিন্টের কাজ করা পাঞ্জাবির দাম পড়বে ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা, ভারী কাজ হলে দাম আরও হাজার খানেক বাড়াতে হবে। ফতুয়ার দাম পড়বে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাতুয়া হলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি। টি-শার্ট হলে ২৮০ থেকে ৬০০ টাকা, পোলো শার্ট পাওয়া যাবে ৪০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। এ ছাড়া শার্ট কিনতে চাইলে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মতো খরচ হবে।

যেখানে কিনতে পারেন
রাজধানীর নিউমার্কেটে গেলে ফ্যাশন হাউসের মতো ট্রেন্ডি পোশাক না খুঁজে রং ধরে কিনে আনতে পারবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের মধ্যে আড়ং, যাত্রা, ক্যাটস আই, ওটু, লা রিভ, দেশী দশের সব ফ্যাশন হাউস, বিশ্বরঙ, স্টুডিও এমদাদ, কুমুদিনী, ইয়েলো, স্মার্টেক্স, স্বদেশীর সব ব্র্যান্ডে, ইজি, মনসুন রেইন, আর্টিস্টি, লুবনান, ফ্রিল্যান্ড, এক্সট্যাসি, ইনফিনিটি, কাপড় ই বাংলা, নিত্য উপহার, আজিজ সুপার মার্কেটের বিভিন্ন দোকান, প্লাস পয়েন্ট, সেইলর, ট্রেন্ডসসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। এ ছাড়া এলিফ্যান্ট রোড, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, স্বপ্ন, রাপা প্লাজা, কারুপল্লীসহ বিভিন্ন সুপারশপে মিলবে বৈশাখের পোশাক।

*পয়লা বৈশাখ নিয়ে আরও নানা আয়োজন নিয়ে প্রথম আলোর বিশেষ ম্যাগাজিন ‘বর্ণিল বৈশাখ’ এখন বাজারে। আপনার কপিটি সংগ্রহ করতে হকারকে বলুন।

কিশোর ত্বকে

hyfct

কৈশোরে পড়াশোনার চাপ থাকে প্রচুর। বয়স কম থাকে বলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও তেমন মনোযোগ দেওয়া হয় না অনেকের। অনেকে মনে করেন, এত কম বয়সে আবার রূপচর্চা! তবে একটু যত্ন নিলে কিশোরীর ত্বক থাকবে কোমল ও ব্রণমুক্ত৷ কিশোর বয়সেও প্রকৃতির হাওয়া বুঝে ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন রূপবিশেষজ্ঞরা। বয়ঃসন্ধিতে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে শারীরিক অনেক পরিবর্তন আসে৷ ১৩-১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মুখে ব্রণ ওঠা খুব পরিচিত একটি সমস্যা। ত্বকের যত্নের সঠিক নিয়ম না জানলে, অথবা এই সময়ে বড়দের নিয়ম অনুসরণ করতে গেলেই বাধতে পারে বিপত্তি। মিউনিস ব্রাইডালের স্বত্বাধিকারী তানজিমা শারমিন বলেন, এই বয়সী ছেলেমেয়েদের সুন্দর ও সুস্থ থাকার জন্য খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। ভালো থাকার জন্য খুব সাধারণ ও প্রচলিত কিছু নিয়ম অনুসরণ করলেই এ সময় ওরা ত্বক ও চুলের সুস্থতা ধরে রাখতে পারবে। এই বয়সটাতে পড়াশোনার বাড়তি একটা চাপ থাকে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। আর শীতকালে পানিও বেশি খেতে চায় না। ত্বক এভাবে পানিশূন্য ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে৷
কিশোর-কিশোরীদের ত্বক ও চুলে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞরা—
* ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে এসেই মুখ, হাত, পা কুসুম গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
* এই বয়সী ছেলেদের ত্বক বড়দের মতো পরিপক্ব নয়৷ তাই কিশোরদের বড় ছেলেদের বা মেনজ ফেসওয়াশ ব্যবহার করা ঠিক নয়। তার বদলে মাইল্ড বা মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বক শুষ্ক করে দেয় এমন কোনো সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যাবে না।
* ত্বক পরিষ্কার করার জন্য আঙুরের রস, শসার রস ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে।
* মুখ ধোয়ার পর ভেজা ভাব থাকতেই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। ত্বকে যদি ব্রণের সমস্যা খুব বেশি থাকে, তাহলে ওয়াটার বেজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
* এই বয়সে হোয়াইট হেডস, ব্ল্যাক হেডসের সমস্যাও অনেকের বেড়ে যায়। বাজারের স্ক্রাবের চেয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করলেই ভালো।
* চালের গুঁড়া, দুধ বা টক দই, পেস্তা বাদাম, মসুর ডাল অল্প পরিমাণে নিয়ে তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ মুখে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ব্ল্যাক হেডস ও ত্বকের মৃত কোষ দূর হবে।
* নিম পাতা, তুলসী পাতা এবং অ্যালোভেরা সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে ব্রণের সমস্যা দূর হবে, ত্বক হবে মসৃণ।
* শীতে খুশকির সমস্যা অনেক বেড়ে যায়, চুলের খুশকি চোখ ও ত্বকে লাগলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেথি, মেহেদি পাতা, টক দই ও লেবুর রস ভালো মতো মিশিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি দুই থেকে তিনবার ব্যবহারেই খুশকি কমে আসার কথা।
* হাত-পায়ে লোশন ব্যবহার করতে হবে, আর ত্বক বেশি শুষ্ক হলে এই ঋতুতে লোশনেও কাজ না দিতে পারে। তখন জলপাই তেল ত্বক কোমল করবে।
বিষয়:
রূপচর্চা

দারাজ বৈশাখী মেলা ১৪২৩

cc

পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ উপলক্ষ্যে সানসিল্ক ও দারাজ ডটকম মিলিতভাবে আয়োজন করেছে ‘দারাজ বৈশাখী মেলা ১৪২৩’।

ই-কমার্স সাইট দারাজ ডটকমে এই অনলাইন মেলা চলবে ৮ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। মেলা উপলক্ষ্যে এই সাইটের নির্দিষ্ট পণ্যে মিলবে ৩৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

রাজধানীর গুলশানে এক নম্বরে অবস্থিত স্পেক্ট্রা কনভেশন হলে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার ঘোষনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দারাজ ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেঞ্জামিন দু ফোউসিয়ে এবং ইউনিলিভার বাংলোদেশের ব্র্যান্ড বিল্ডিং ডিরেক্টর জাভেদ আখতার। অনুষ্ঠানে ছাড়ের পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্য বাড়তি কিছু উপহারের আশ্বাস দেওয়া হয়।

নখ যখন ক্যানভাস

কয়েক বছর ধরেই নখ আঁকা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। পোশাক ও চুলের স্টাইলের পাশাপাশি নেইল আর্টের মাধ্যমেও নিজেকে ট্রেন্ডি ও ফ্যাশনেবল হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। প্রতিবছরই ফ্যাশনের বিভিন্ন অনুষঙ্গের মতো নখের এই সাজসজ্জারও পরিবর্তন হয়। রং, নকশা, নখের আকৃতি—সবকিছুতেই আসে নতুনত্ব।

নানা রকম নখের সাজ

প্রতিবছরই নখের রং, নকশা, আকৃতি সবকিছুতেই আসে নতুনত্ব। মডেল: লাবণ্য, সাজ: কিউবেলা, ছবি: সুমন ইউসুফনানা রকম নখের সাজ
বরাবরের মতো এ বছরও নখের সাজে নতুনত্ব এসেছে। কিউবেলার রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা মুন্নী জানালেন, ‘বর্তমানে নখের ক্ষেত্রে গাঢ় রংগুলো চলছে। একদম একরঙা না করে এগুলোর ওপর নানা ধরনের প্যাটার্ন ও নকশা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এ সময়ের জনপ্রিয় তিনটি ডিজাইন হচ্ছে রংধনু, অর্ধেক চাঁদ ও মারবেল আর্ট। একঘেয়েমি কাটাতে চার নখে এক রং ও একটি নখে আলাদা রং করা হচ্ছে। পাশাপাশি এক নখেই ব্যবহার করা হচ্ছে দুইটি রং। এগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সাজানো হচ্ছে গ্লিটার, বিভিন্ন রঙের পাথর ও ছোট ছোট মুক্তা দিয়ে।’
এ বছর আশির দশকের রীতি অনুসরণ করা হবে। আশির দশকে প্রচলিত সাদাকালো জ্যামিতিক নকশা, গ্লিটার, সিকুইন, একরঙা সাদা প্রাধান্য পাবে। চুলের রং ও মেকআপের সঙ্গে মিল রেখে নেইল আর্ট করার প্রবণতা থাকবে এ বছর। ফ্রেঞ্চ টিপ, বোল্ড মেটালিক, রেডিয়েন্ট ওপাল, লেটারিং, ডটেড ডিজিটস, স্পারকাল, ইলেকট্রিক প্রিন্ট, গ্রাফিক লাইনস, মাল্টিকালার স্ট্রাইপসহ বিভিন্ন নকশা চলবে বছরজুড়ে।

কেমন হবে নখের আকৃতি

বর্তমানে লম্বা সুচালো নখের চল ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে। ফারজানা মুন্নী জানালেন, ‘এখন ছোট নখের চল বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে ডিম্বাকৃতি, চারকোনা ও স্কোভাল আকৃতিতে ছোট করে কাটা নখের চল থাকবে।’ এ বছর নখের জন্য ‘স্কোওভাল’ আকৃতিটি নতুন। এটি অনেকটা চারকোনা (স্কয়ার) ও ডিম্বাকৃতির (ওভাল) মিশেল। নখের এই আকৃতিটি দেখতে প্রায় চতুষ্কোণের মতো কিন্তু প্রান্তগুলো থাকবে বৃত্তাকার। এই আকৃতিটি ছোট নখের জন্য বেশ সুবিধাজনক।

.কীভাবে ও কী দিয়ে নখ সাজাবেন

চলতি বছরের ফ্যাশন ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন নকশা ও রং দিয়ে নিজের নখকে সাজিয়ে নিতে পারেন। পারলারে গিয়ে এমনকি নিজে নিজেই সেরে নিতে পারেন নখ আঁকা। এমনই একজন তরুণী নাজিয়া শারমিন। নেইল আর্টের ক্ষেত্রে তিনি সব সময় ট্রেন্ড অনুসরণ না করলেও সাধারণত উজ্জ্বল রংগুলোই বেছে নেন। নানা ধরনের নকশার মধ্যে পল্কা ডটই তাঁর বেশি পছন্দ।
নিজে নিজে নেইল আর্ট করতে চাইলে ইন্টারনেট ও ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ ঘেঁটে নিজেই নকশা পছন্দ করতে পারেন। এ ছাড়া ইউটিউবে নেইল আর্টের বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে পছন্দমতো নখ সাজিয়ে নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে চিকন তুলি, আইলাইনারের ব্রাশ, আলপিন, ববি পিন দিয়েই পল্কা ডট, ঢেউ, স্ট্রাইপ ইত্যাদি নকশা করা যায়। এ ছাড়া বাজার থেকে নেইল আর্ট কিটস কিনে সহজেই নখ সাজাতে পারেন। এসব নেইল আর্ট কিটসে থাকে নানা ধরনের টুলস ও ব্রাশ, যেমন- ফ্ল্যাট ব্রাশ, প্যাটার্ন ব্রাশ, ড্রয়িং ব্রাশ, লাইনার, ডটিং পেন, স্ট্রাইকার ইত্যাদি। এগুলো দিয়ে সহজেই কম সময়ে নখ সাজানো যায়।

.নখের যত্ন

নখ সাজানোর পাশাপাশি নখের প্রতি হতে হবে যত্নশীল। কেননা নেইলপলিশ ও রিমুভার ব্যবহার করার ফলে নখের আর্দ্রতা চলে যায়। এ ছাড়া নেইলপলিশের রাসায়নিক দ্রব্যও নখের ক্ষতি করতে পারে। তাই কিছু জিনিস সব সময় খেয়াল রাখা উচিত—
* সব সময় ভালো মানের নেইলপলিশ ব্যবহার করা উচিত।
* দুই দিনের বেশি নেইলপলিশ নখে রাখা ঠিক না। তাই দু-তিন দিনের মধ্যেই ভালো কোনো রিমুভার দিয়ে নেইলপলিশ তুলে ফেলতে হবে।
.* রিমুভার নখের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। তাই ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ রিমুভার ব্যবহার করতে হবে।
* রিমুভার ব্যবহারের পর কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ হাত ভিজিয়ে রেখে ভালো কোনো লোশন লাগাতে হবে।
* নখ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। পারলারে গিয়ে নিয়মিত মেনিকিউর করালে ভালো হয়। এ ছাড়া বাসায় ঘরোয়া পদ্ধতিতেও মেনিকিউর করতে পারেন।
* প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

বিষয়:
রূপচর্চা নকশা

যদি সুন্দর থাকতে চান

fgyu

সুন্দর হতে হলে সুস্থ থাকতে হবে। সুন্দর ও সুস্থ থাকার জন্য পরিমিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে জীবনযাপনে শৃঙ্খলা রক্ষা করা দরকার। নিয়মিত শরীর চর্চা আর স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানুষের জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনে। এ ক্ষেত্রে ইচ্ছাটা অনেক জরুরি। এ ছাড়া ত্বকের নিয়মিত যত্ন নিলে স্বাভাবিক সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে রাখা যায়। এ পরামর্শগুলো ভারতের সৌন্দর্যবিষয়ক ব্র্যান্ড ভিএলসিসির প্রতিষ্ঠাতা বান্দানা লুথরার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ভারতের পদ্মশ্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত এই উদ্যোক্তা। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভিএলসিসির কার্যালয়ে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক এ পরামর্শগুলো দেন তিনি।

লুথরা বলেন, চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে এলেন তিনি। দেশটিকে তাঁর নিজের দেশের মতোই মনে হয়। বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ ভালো। এ ছাড়া এ দেশে সৌন্দর্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের বাজারে তাই বিনিয়োগ বাড়াতে চায় ভিএলসিসি।

স্লিমিং, বিউটি এবং ফিটনেস সেন্টার বাড়ানোর পাশাপাশি সৌন্দর্য ও পুষ্টি বিষয়ক কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও পরিবেশক নেটওয়ার্ক বাড়াবে ভিএলসিসি।
বর্তমানে ঢাকার গুলশান ও ধানমন্ডিতে দুটি স্লিমিং, বিউটি অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টার রয়েছে ভিএলসিসির। এ ছাড়া এ ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য এ দেশে বিক্রি হচ্ছে। দেশের জামালপুরে ভিএলসিসির একটি পণ্য উৎপাদনকারী কারখানা আছে।

বান্দানা লুথরা বলেন, ২০১১ সালে বাংলাদেশে ভিএলসিসির কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালে এ দেশে কারখানা করে ভিএলসিসি। এ বছর থেকে এ দেশে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিউটি সেন্টার সম্প্রসারণে কাজ শুরু হয়েছে।
লুথরা আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভিএলসিসি স্লিমিং, বিউটি অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টার করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভিএলসিসি ইন্সটিটিউট অব বিউটি অ্যান্ড নিউট্রিশন প্রতিষ্ঠা করার কথা ভাবছে। এতে তরুণেরা কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে পারবে।
ওজন কমানো ও সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রতিষ্ঠান ভিএলসিসি কার্যক্রম শুরু করে ১৯৮৯ সালে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া, উপ-মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব আফ্রিকার ১১টি দেশের ১৩৫টি শহরের ৩১৩টি স্থানে ভিএলসিসির সেবাকেন্দ্র রয়েছে। ভিএলসিসিতে চার হাজারেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে পেশাদার চকিৎিসক, পুষ্টিবিদ, ফিজিও থেরাপিস্ট এবং প্রসাধন বিশেষজ্ঞ।

বিষয়:
রূপচর্চা

হেয়ার মাস্ক

7h8g

চুলের যত্নে নিয়ম করে শ্যাম্পু করা ও কন্ডিশনার ব্যবহার অথবা মাঝেমধ্যে তেল দেওয়াই যথেষ্ট নয়।

চুলের বাড়তি পুষ্টির জন্য ‘হেয়ার মাস্ক’ ব্যবহার করাও জরুরি।

তেল, দই, মধু, জুঁইফুল ইত্যাদি সাধারণ উপকরণগুলো চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই ধরনের উপকরণ ব্যবহার করে রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট অবলম্বনে চুলের মাস্ক তৈরির কিছু পদ্ধতি দেওয়া হল।

জুঁই ফুলের মাস্ক: এই প্যাক তৈরি করতে লাগবে আধা কাপ ক্যাস্টর তেল, আধা কাপ কারিপাতা, আধা কাপ নারিকেল তেল, এক কাপ জুঁইফুল।

সব উপাদান এক সঙ্গে মিশিয়ে একটি পাত্রে নিয়ে হালকা তাপে চুলায় বসাতে হবে। অনবরত নাড়তে থাকুন যেন সব উপাদান মিশে যায়। চুলা থেকে নামিয়ে পাতা ও ফুল ছেঁকে তেল থেকে আলাদা করে নিন। কুসুম গরম অবস্থায় ওই তেল মাথার ত্বকে চুলের গোড়ায় ও পুরো চুলে মালিশ করুন। এরপর একটি তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে পানি চিপে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। ভালোভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

নিয়মিত এই তেল ব্যবহারে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকবে ও খুশকি দূর হবে।

ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক: চুলের দৈর্ঘ্য অনুসারে পরিমাণ মতো মেয়োনেইজ নিন এবং অর্ধেক পাকা-অ্যাভকাডো নিন। অ্যাভাকাডোর মাংসল অংশ বের করে ভালোভাবে চামচ দিয়ে চটকে নিতে হবে। এর সঙ্গে মেয়োনেইজ মিশিয়ে চুলে, বিশেষ করে আগার দিকে ভালোভাবে মাখতে হবে। ভেজা ও গরম তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন চুল। এতে চুল পুষ্টি ভালোভাবে শুষে নেবে। ২০ ‍মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

অ্যাভাকাডো না পেলে মধু ও লেবুও ব্যবহার করা যেতে পারেন। এই মাস্ক চুল নরম করবে এবং আগা ফাটা সমস্যা রোধ করবে।

শরীর ঠাণ্ডা রাখার খাবার

gy

গ্রীষ্মেকালে গরম লাগবেই। তবে এ সময় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খেতে পারেন নানান রকম ফল।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এমনই কিছু খাবারের নাম উল্লেখ করা হয়। খাবারগুলো প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

দই
: দই এক ধরনের ‘সুপার ফুড’ এমনটাই বলেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ ডা. নিতি দেসাই।

তিনি বলেন, “গরমে নিয়মিত দই খাওয়া উপকারী। এমনকি যারা ‘ল্যাকটস ইনটলারেন্ট’ সমস্যায় ভুগছেন তারাও দই খেতে পারবেন। দইয়ে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে, এছাড়াও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনেরও ভালো উৎস এই খাবার। আরও আছে ভিটামিন বি টুয়েলভ ও ভিটামিন ডি। তাছাড়া দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। সরাসরি না খেতে চাইলে লাচ্ছি বা দই থেকে তৈরি পানীয় পান করা যায়।”

আইসড টি:
যারা চা-প্রেমী তাদের জন্য উপযোগী পানীয় আইসড টি। নিজের পছন্দের চা বানিয়ে তা ঠাণ্ডা করে বরফ কুচি মিশিয়ে পান করুন। গরমে লেবু, স্ট্রবেরি, কমলা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি চা বেশ উপযোগী।

মরিচ:
স্বাদে ঝাল। তবে মরিচ শরীর ঠাণ্ডা রাখে। শুনতে অবাক লাগলেও কথা সত্যি। মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন উপাদান শরীরের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এতে শরীরে ঘাম হয়। আর ঘামই শরীরের বাড়তি তাপ কমিয়ে শরীর ঠাণ্ডা করে আনতে সাহায্য করে।

পেঁয়াজের রস:
হিট স্ট্রোক এড়াতে বেশ উপযোগী ঘরোয়া টোটকা পেঁয়াজের রস। এক চামচ পেঁয়াজের রস পান করলে, অতিরিক্ত সূর্য তাপের কারণে শরীর ও মস্তিষ্কের যে কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেগুলো সেরে উঠতে থাকে। তাছাড়া শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে বুকের উপর খানিকটা পেঁয়াজের রস লাগিয়ে রাখা যেতে পারে। গরমে সালাদের সঙ্গে পেঁয়াজ খাওয়া বেশ উপকারী।

তরমুজ:
গরমে বেশ জনপ্রিয় এবং উপকারী ফলের নাম তরমুজ। লাইকোপেন সমৃদ্ধ তরমুজের ৯০ শতাংশই পানি। তাই গরমে পানি শূন্যতা এড়াতে এই ফল বেশ উপকারী। এছাড়াও ঘামের কারণে শরীর থেকে যে খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়, তরমুজ সেগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে উঠতেও সাহায্য করে।

নারিকেলের পানি: গরমের দিনে তৃষ্ণা মেটাতে নারিকেলপানির জুড়ি নেই। এই প্রাকৃতিক সুস্বাদু পানীয় রক্তের ইলেট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং এতে শরীর ঠাণ্ডা থাকে। তাছাড়া নারিকেলের শাঁসে আছে প্রচুর আঁশ, প্রাকৃতিক এনজাইম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়াশ-সহ আরও বেশ কিছু খনিজ উপাদান। তাই নারিকেল খাওয়া গরমে বেশ উপকারী।

ফলের তৈরি পপসিকল:
বাজার থেকে ললি বা আইসক্রিম না কিনে ঘরেই বিভিন্ন মৌসুমি ফল ব্লেন্ড করে পপসিকল তৈরি করে নিন। স্ট্রবেরি, আম, নারিকেলের পানি, তরমুজ ইত্যাদি মিলিয়ে ফ্রিজের বরফ জমার ফ্রেমে দিয়ে জমিয়ে নিন। সঙ্গে দিতে পারেন কমলার সুগন্ধি বা আদার রস। ঠাণ্ডায় অল্প জমে আসতেই প্রতিটি খোপে কাঠি গুঁজে দিতে পারেন।

ডায়াবেটিকদের জন্য এই পানীয়র সঙ্গে ভাজা জিরাগুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন জামুন পপসিকল।