অন্দরে বৈশাখ

tyr5

পয়লা বৈশাখের ছোঁয়া লাগে মানুষের পোশাকে, অন্দরে, খাবার থেকে সবখানে। বাংলা নতুন বছর বরণ করে নেওয়ার এই উৎসবে মানুষ নিজে যেমন সাজতে ভালোবাসে, তেমনি সাজাতে ভালোবাসে আপন গৃহকোণকেও। সাজানোর উপকরণে দেশি ভাব থাকলে পুরো বাড়িটিই সেজে উঠবে উৎসবের রঙে।

বসার ঘর

সাজানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন মাটির শোপিস, প্রদীপ, নকশি কাঁথা, হাতপাখা ইত্যাদি। মেঝের কোনো অংশে আঁকা যেতে পারে আলপনা। মেঝেতে বসার আয়োজনও করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শীতল পাটি, শতরঞ্জি, নকশি কাঁথা ইত্যাদির ওপর রঙিন কুশন ছড়িয়ে দিয়ে তৈরি করে নিন এই আয়োজন। হালকা কোনো রঙের স্বচ্ছ পর্দা লাগান। ঘরের কোনাগুলো সবুজ গাছ আর মাটির শোপিস দিয়ে সাজাতে পারেন। বিভিন্ন কোনায় রাখতে পারেন ল্যাম্পশেড। ভিন্নতা আনতে ঘরের এক কোনায় তিনটা ল্যাম্পশেড ঝুলিয়ে দিতে পারেন। প্রথমটি ছাদ থেকে ৭ ফুট, দ্বিতীয়টি সাড়ে ৬ ফুট ও তৃতীয়টি ৬ ফুট নিচে ঝুলবে। অন্দরসজ্জাবিদ গুলসান নাসরিন চৌধুরীর পরামর্শ, ‘এই সময়ে ঘরের সাজে লাল, সাদা, নীল, হলুদ, সবুজ রংগুলো প্রাধান্য দিতে পারেন।’


খাবার ঘর

এই ঘরের প্রধান অংশ হচ্ছে খাবার টেবিল। টেবিলটিকে সাজিয়ে তুলুন দেশীয় উপাদান দিয়ে। এ ছাড়া বাঁশ ও বেতের নান্দনিক ট্রের ব্যবহার আপনার বৈশাখের আয়োজনে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করবে। টেবিল রানারটি শীতল পাটি, বাঁশ অথবা নকশি কাঁথার তৈরি হতে পারে। রানারের ওপর মাটির মোমদানি, বাঁশের তৈরি গ্লাস স্ট্যান্ড ও মাটির ফুলদানিতে কিছু তাজা ফুল দিয়ে সাজালে টেবিলটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এই ঘরের পর্দা হিসেবে বাঁশের চিক ব্যবহার করলে ভালো লাগবে। এই ঘরের দেয়ালে টেরাকোটা ঝোলালে ঘরটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে।

দেয়াল ও দরজা সাজানো যায় দেশি উপকরণেশোবার ঘর
শোবার ঘরে বিছানার চাদর ও পিলো কভারে ব্যবহার করুন উজ্জ্বল রং। চাদরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন পর্দার রং। কাপড়ের ওপর আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, লোকশিল্পের নানা মোটিফ থাকতে পারে। ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর, কুশন কভার, টেবিল ক্লথ, টেবিল রানার ইত্যাদিতে দিতে পারেন রঙের ছোঁয়া। কাপড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদ্দি, খাদি, সুতি, ভয়েল ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন।
গুলসান নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন আকৃতির মাটির হাঁড়িতে নানা ধরনের ফুল এবং ইনডোর প্ল্যান্টসের ব্যবহার সুগন্ধি এবং সবুজের ছোঁয়া মন ভরিয়ে দেয় প্রশান্তিতে। ছোট-বড় কিছু পটারি দিয়ে সাজাতে পারেন সিঁড়িঘরকে। বাড়ির সদর দরজার দেয়ালে টাঙিয়ে দিতে পারেন মাটির, বেতের অথবা কাঠের কারুকার্য করা আয়না।’
অন্দরসজ্জা প্রতিষ্ঠান লুক লাইকের ডিজাইনার রাহেলা খাতুন নিজের বাড়ি সাজাতে প্রাধান্য দিয়েছেন দেশীয় উপকরণের ওপর। যান্ত্রিক ঢাকার ইট-কাঠের দালানে তিনি তুলে ধরেছেন নিজস্বতা। রাহেলা খাতুন বলেন, ‘বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসব। তাই অন্দরের সাজে দেশীয় জিনিসের ব্যবহার করে আনতে চেয়েছি নান্দনিকতা। ঘর সাজাতে হলে দামি উপকরণ লাগবে, এমন ধারণা অনেকেরই। এটা ঠিক নয়। ঘর সাজাতে চাই আন্তরিকতা ও নিজস্বতা।’ এ ছাড়া পুরো বাড়িতে আছে সবুজের স্নিগ্ধতা। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের গাছ।

কোথায় পাবেন

উত্তরার দুর্লভে মাটির পট, প্রদীপ, ধাতব ও বাঁশের মুখোশ এবং বাঁশের মগ পাওয়া যাবে। মাটির পুতুল, গ্রামীণ হুঁকো, হাতে বানানো মুখোশ, ওয়াল ম্যাট, বাঁশের তৈরি ফুলদানি, আয়না, বেতের টেবিল, টেবিল ল্যাম্প, ঝাড়বাতি ইত্যাদিও আছে সেখানো। আসাদগেটের আইডিয়াসে পাওয়া যাচ্ছে ঘর সাজানোর মাটির উপকরণ। আড়ংয়ে আছে কাঁসা-পিতলের নানা ধরনের শোপিসের মধ্যে বিভিন্ন জীবজন্তুর প্রতিকৃতি, রিকশা, ফুলদানি, ঘটি, গ্লাস, কলস, পানের বাক্স, মোমদানি, ফুলের টব, দেয়ালে সাজানোর থালা। অ্যান্টিক এবং ব্রাশ অ্যান্টিক দুটোই পাওয়া যায়। আসাদগেটের ‘সোর্স’-এ পাওয়া যায় নানা ধরনের কাপড়, কাগজ এবং বিভিন্ন উপকরণে তৈরি শোপিস। এ ছাড়া কাচ, মাটি, চীনামাটির বিভিন্ন ধরনের শোপিসে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। পিরানে পাওয়া যাবে বিভিন্ন ধরনের উইন্ড চাইম। যাত্রায় রিকশা পেইন্ট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে ঘড়ি, গয়না রাখার বাক্স, মোমদানি, ধূপদানিসহ অনেক কিছুই।

কৃতজ্ঞতা: রাহেলা খাতুন

বর্ষবরণ পরম্পরায়

ghyp

অনুষ্ঠান যেমন প্রাণবন্ত হতো, শ্রোতারাও সে রকম আত্মঙ্গম করতে পারতেন, তখন বাঙালিদের মধ্যে একটা নিবিড় আত্মিক যোগাযোগ ছিল। বাঙালি সমাজের মানুষের মধ্যে একটা নিবিড় সম্পর্ক ছিল। যেটাকে আমরা একতা বলতে পারি। একই বোধে উদ্বুদ্ধ ছিল তারা। দেশটা ছিল পাকিস্তান। তখন ওই পাকিস্তানের চারপাশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বাঙালিরা যেভাবে তাদের প্রাণের সম্পদ, সংগীত, তাদের ঐতিহ্য, হাজার বছরের ইতিহাস—সবকিছু সামনে এনে সেগুলোকে অবলম্বন করে বাঁচতে চাইত, সেই চাওয়ার মধ্যে একটা প্রচণ্ড জোর ছিল। আর তার অত্যন্ত সুন্দর একটা প্রকাশ ছিল।

পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানগুলোতে যে গানগুলো গাওয়া হতো, সেগুলো আমাদের প্রাচীন কবিদের রচিত গান ও রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ছাড়াও আর যাঁরা আমাদের বড় কবি ছিলেন, গীতিকার ছিলেন—সবার গানই তালিকায় ঠাঁই পেত। আমি এই অনুষ্ঠানগুলো দেখেছি অত্যন্ত কম বয়স থেকে। মহড়া দেখেছি, অনুষ্ঠান দেখেছি। মা-বাবার সঙ্গে গিয়েছি এবং তখন মনে হতো যে এটা আমার অনুষ্ঠান, একদিন আমিও এ অনুষ্ঠানে গান গাইতে পারব। এ রকম মনে হতো। ওই সময়টা ছিল ষাটের দশকের শেষভাগে। আমার বোঝার বয়স তখনো হয়নি। এর আগে যদিও ছায়ানটের শুরু হয়েছে। তখন হয়তো আমি বুঝতে পারিনি কিছু। সে সময়টা শুরু হলো—আসলে মুক্তিযুদ্ধের একটা পটভূমি তৈরি হলো। সে সাংস্কৃতিক আন্দোলন দিয়ে হোক, যেভাবেই হোক। রাজনীতির একটা উত্তপ্ত অবস্থায় তখন মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিটা খুব শক্ত একটা মাটি পেল। সে রকম একটি বিশ্বাস-আস্থা ছিল বাঙালিদের মধ্যে।
মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক প্রস্ত্ততি, সর্বময়তার ভেতর দিয়ে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান বা বাঙালির যা কিছু নিজস্ব অনুষ্ঠান—প্রতিটি অনুষ্ঠানই হতে থাকল আরও জোরের সঙ্গে, অনেক বেশি ভালোবাসার সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী একটা ভঙিমায়। বাংলাদেশের আনাচকানাচে চলল অনুষ্ঠান আয়োজন। তখনই মুক্তিযুদ্ধের সময় এল। সে সময় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, নিত্যদিনের চলাফেরা, খাওয়া-ঘুম এসব কাজ অত্যন্ত দুরূহ ছিল। যখন-তখন মানুষ মারা যাচ্ছে। তখন কিছুটা ভাটা পড়েছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। কিন্তু আন্দোলনটা মনে দানা বাঁধছিল যেভাবে সেটার স্ফুরণ মুক্তিযুদ্ধেই ঘটে। এরপরে আমরা দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি।
ছবি: জিয়া ইসলামস্বাধীনতার পর আস্তে আস্তে আমাদের সর্বজনীন উৎসবগুলো আরও দানা বাঁধতে থাকল। আরও স্বাধীনভাবে ঘটতে থাকল। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত যে জীবনটা বাঙালি যাপন করেছে—মোটা চালের মোটা ভাত খেয়েছে, হয়তো মোটা কাপড় পরেছে, হয়তো রিলিফের কাপড়ও পরেছে। কিন্তু তারা মনেপ্রাণে সবকিছুতে যে স্বাধীনতা অনুভব করত, সাংস্কৃতিক যে স্বাধীন জীবনটা চিন্তা করত, যে জীবনটা তাদের অর্জিত হয়ে গেছে বলে ভাবত, সেটিতে অকস্মাৎ ছেদ পড়ল। ধীরে ধীরে দেশটা দাঁড়াবে—এই যে একটা গতি, সেটাকে একদম ঘুরিয়ে দিল ৭৫-এর ১৫ আগস্ট। এরপরও হয়েছে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান। হয়নি তা নয়। ভয়ের মধ্যে ভীষণ রকমের পুলিশি পাহারার মধ্যে শুধু পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান নয়, উদীচীর অনুষ্ঠান, সবই হয়েছে। তবে বাঙালির সর্বজনীন অনুষ্ঠান, উৎসবগুলোতে কেমন যেন ভাটা পড়তে থাকল এবং সেই উৎসবগুলোতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা যেন আটকে রাখল।
দেশের রাজনৈতিক পটভূমি, অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা সবকিছুই বেশ কয়েকবার পাল্টেছে। এখন যেটা বলতে পারি, এটা সব বাঙালিই জানে। তারপরও এ উৎসবগুলো এখন বাঙালির প্রাণে পৌঁছে গেছে। এটা শুধুই যে ছায়ানট, শুধুই যে কোনো সংগঠন, শুধুই যে কোনো গোষ্ঠী, এ রকম বিষয়ে আর বাঁধা থাকেনি। এটা বাঙালির প্রাণের উৎসব হয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকেই যেহেতু আমি দেখেছি আমার পরিবারের মানুষ এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। তাই আমার কাছে এটি পারিবারিক উৎসব বলেই মনে হয়েছে সব সময়। আমারা চাচা-চাচিসহ (ওয়াহিদুল হক ও সানজিদা খাতুন) অনেক শিল্পীর সঙ্গে আমিও মিশে যেতাম বর্ষবরণের আনন্দযজ্ঞে। ছোটবেলা থেকেই এসব অনুষ্ঠানের সূত্রে মালেকা আজিম খান, ইফফাত আরা দেওয়ান, সেলিনা মালেক, মাহমুদুর রহমান বেনু, শাহিন সামাদসহ অনেকের ভালোবাসা পেয়েছি। কাছ থেকে দেখেছি। এরপর একটু একটু করে আমিও জড়িয়ে পড়েছি আষ্টেপৃষ্ঠে। একই বিষয় দেখেছি আমার মেয়ে জয়িতার বেলাতেও। জয়িতা ছোটবেলা থেকে এই পরিবেশ দেখেছে। এর মধ্যে দিয়েই সে বেড়ে উঠেছে। তাই ওর কাছেও এটা একান্ত নিজেদের একটি আয়োজন। শুধু পয়লা বৈশাখ না, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বসন্ত, বর্ষা বা অন্যান্য আয়োজন। সবই আমাদের পরিবারে উদ্যাপন হয় উৎসাহ নিয়ে।
এখন পয়লা বৈশাখের উৎসব রমনা বটমূলে জাতীয় পর্যায়ে সবাইকে নিয়ে যেমন হয়, তেমন বাংলাদেশের সব জেলায়, আনাচকানাচেও হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলে হচ্ছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন করা হচ্ছে। এর পেছনে বাংলা ভাষা, একুশ ফেব্রুয়ারির একটা বড় অবদান রয়েছে। কোনো ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হয়তো আগে ভাবেনি। এখন তারাও ভাবছে। তারাও পয়লা বৈশাখ, বসন্ত উৎসব উদ্যাপন করছে।
আজ বাংলাদেশের চেহারায় পয়লা বৈশাখ এমন একটি মান পেয়েছে, এমন একটি জায়গায় চলে গেছে যে পৃথিবীর নানা দেশ থেকে বাঙালিরা তো বটেই বিদেশিরাও আসেন এই পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে, অংশগ্রহণ করতে। এই রকম উৎসব আরও হচ্ছে বাংলাদেশে—নবান্ন উৎসব, পৌষ উৎসব, শারদ উৎসব, বর্ষা উৎসব। এগুলোও বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে, বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল করছে। তো পরিবর্তন বলতে কিছু নেই। ব্যাপকতা বেড়েছে এবং একসময় স্বাধীনতার আগে মানুষ নির্ভয়ে করত। তখন ভয় থাকলেও সাহসটা তার চেয়ে শতগুণ বেশি ছিল। কিন্তু পঁচাত্তরের পরে যেন সাহসটা অনেকখানি গুটিয়ে রাখতে হয়েছে। এখন আবার আশা করি দিনটা ফিরছে। এখন আবার দিনটা হয়তো বাঙালির দিন হয়ে উঠবে।
লেখক: সংগীতশিল্পী

যে কারণে ব্রেকআপ যন্ত্রণাময়, ব্যাখ্যা করলেন গবেষকরা –

mnbvhjkl

সম্পর্ক গড়ে তোলার পর বিচ্ছেদ বহু মানুষের জন্যই প্রচণ্ড যন্ত্রণাময় অনুভূতি সৃষ্টি করে। কিন্তু কী কারণে এমনটা হয়? সম্প্রতি গবেষকরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেছেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট।
ব্রেকআপ বা আপনি অন্যের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হন কিংবা কোনো কারণে আপনার সম্পর্কটি ভেঙে দিতে হয়, উভয় ক্ষেত্রেই তা যন্ত্রণাময় অনুভূতি তৈরি করে। তবে এটি শুধু আপনার ক্ষেত্রেই নয়, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
কিন্তু কী কারণে এ যন্ত্রণাময় অনুভূতি? গবেষকরা বলছেন, সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর যন্ত্রণাময় অনুভূতির জন্য দায়ী মস্তিষ্ক। মূলক মস্তিষ্কই সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর পুরনো স্মৃতিগুলো বারবার মনে করিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে মস্তিষ্ক গবেষক ড. লুসি ব্রাউন ও তার টিম ২০১০ সালে একটি গবেষণা করেন। সে গবেষণায় তারা সাম্প্রতিক বিচ্ছেদের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের এমআরআই পরীক্ষা করেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের পরিবর্তন ধরার জন্য যার সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়েছে তার ছবি ও অতীতে সম্পর্ক ছিল এমন কোনো ব্যক্তির ছবি দেখানো হয়। এতে মস্তিষ্ক যেভাবে সাড়া দেয় তা লিপিবদ্ধ করা হয়।
গবেষকরা জানান, মূলত সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর মস্তিষ্কের পক্ষে সে বিষয়টি আত্মস্থ করতে কিছু সময় প্রয়োজন হয়। আর এ কারণেই সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর এ প্রতিক্রিয়া হয়।
এ বিষয়ে ড. ব্রাউন জানান, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, বিচ্ছেদের শিকার হওয়ার পর আমরা যদি তার ছবি আবার দেখি তখন যন্ত্রণাময় অনুভূতি হয়। এর মূল কারণ হলো, আপনার মস্তিষ্ক তখনও তার প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে। এটি মস্তিষ্কের একটি বিশেষ পর্যায়।’
এ বিষয়ে একটি ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে আরও তথ্য-

এখন কেমন ফেসপ্যাক

desdrftgyu

বাতাসের হিম ছোঁয়ায় প্রকৃতির সঙ্গে ত্বকও হয়ে পড়ে প্রাণহীন নির্জীব। ধুলাবালু, শুষ্ক বাতাস, কখনো মাথার ওপরের কড়া রোদ ত্বককে করে তোলে প্রাণহীন ও মলিন। অতিরিক্ত রুক্ষতা থেকে বাঁচতে এ সময় ত্বকের চাই বিশেষ যত্ন। বাড়িতে নিয়মিত যত্ন তো চাই-ই; পারলারে মাসে অন্তত একবার ফেসিয়াল করান অনেকে। তবে এই আবহাওয়ায় কোন ধরনের ফেসিয়াল উপযুক্ত হবে ত্বকের জন্য, তা বোঝেন না কেউ কেউ। আবার বাড়িতেও কেমন ফেসপ্যাক ব্যবহার করা চাই, তা জেনে রাখা ভালো। কোনো কোনো উপাদান এই আবহাওয়ায় ত্বকের শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। গরমের সময় যেসব উপকরণ দিব্যি ব্যবহার করতেন, তা হয়তো এই সময় উপযোগী না-ও হতে পারে।
ফেসিয়ালের মূল কাজ হলো ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করা এবং আর্দ্রতা জোগানো, জানালেন রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে ত্বকে খসখসে অমসৃণ একটা ভাব চলে আসে, হাত-পা ফেটে যায়। তাই শীতে ত্বকের যত্নে ফেসিয়াল করা অনেক বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ফেসিয়ালে ম্যাসাজ করার ফলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। তাই ত্বকে বয়েসের ছাপ পড়ে না সহজে। এর ফলে মরা কোষ উঠে যায়, ব্ল্যাক হেডস দূর হয়, ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে প্রাণহীন মলিন ত্বকে এনে দেয় সতেজতা।
* ত্বক সুন্দর ও প্রাণবন্ত রাখতে সপ্তাহে দুই দিন মৃদু স্ক্রাব করতে পারেন। যাঁদের ত্বক স্বাভাবিক, তাঁরা টকদই, মধু ও চালের গুঁড়া একত্রে মিশিয়ে নিন। ত্বকে হালকা করে ঘষে নিয়ে কুসুম গরম পানিতে ত্বক ধুয়ে নিন।
* তৈলাক্ত ত্বক হলে মধু, লেবুর রস, ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে পুরো মুখ ও গলায় লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
* যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁরা টকদই, মধু, দুধ, চালের গুঁড়ার সঙ্গে কাঠবাদামের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এতে শুষ্ক ভাব চলে গিয়ে ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
* শুষ্ক ত্বকে ফেসপ্যাক হিসেবে দুধের সর, মধু, টমেটো, লাল আটার একটি পেস্ট তৈরি করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। পরে ধুয়ে নিন। শুষ্ক ভাব চলে গিয়ে ত্বক মসৃণ ও কোমল হবে।
* তৈলাক্ত ত্বকে খানিকটা শসা, লাল আটা ও কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ত্বকে লাগালে তৈলাক্ত ভাব চলে যাবে। যাঁদের ব্রণ আছে, তাঁরা একটু নিমপাতা লাগালে উপকার পাবেন।
এ ছাড়া রাতের বেলা হাত-পা ভালো করে ধুয়ে গ্লিসারিন, গোলাপজল ও অলিভ অয়েল সমপরিমাণ নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে হাতে-পায়ে বা পুরো শরীরে লাগিয়ে ঘুমালে শুষ্ক ভাব আর থাকবে না। আর যাঁদের হাত-পা একটু বেশি শুষ্ক বা ফেটে গিয়েছে, তাঁরা পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে খানিকটা লোশন মিশিয়ে হাতে-পায়ে লাগাতে পারেন। রাহিমা সুলতানা জানান, সকালবেলা এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা-চামচ মধু আর আধা চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ত্বক সজীব থাকবে এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। ত্বক ভালো রাখতে শাকসবজি, স্যুপ বা পানি-জাতীয় খাবার প্রতিদিন খেতে হবে।

নববর্ষে ভালো থাকুন

ডyuaiu

বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষে বৈশাখে বাইরে যাবেন না, তা কি হয়? রমনা বটমূল, চারুকলা, টিএসসি, ঢাকা শহরের পথে পথে বৈশাখী মেলা ছাড়াও এই বিশেষ দিনে বন্ধুবান্ধব, স্বজন, ভাইবোন নিয়ে অকারণে ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া আর উৎসবে শামিল হতে চান সবাই। যুক্ত হতে চান উৎসব-আনন্দে। তবে মনে রাখবেন, উৎসব-পার্বণেও সুস্থ থাকা চাই। কোনো কারণে অুসস্থ হয়ে পড়লে আনন্দটাই মাটি।

বৈশাখের আগেই কিন্তু এবার বেশ গরম পড়ে গেছে। আকাশে এখন গনগনে রোদ। এই গরমে আর রোদে বেশিক্ষণ বাইরে ঘোরাঘুরি করলে পানিশূন্যতা হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে হতে পারে লবণশূন্যতাও। তাই ঘুরবেন তো নিশ্চয়, তবে যথেষ্ট পানিও পান করবেন। বিশুদ্ধ পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে বেরোনোই ভালো। সব জায়গায় বিশুদ্ধ পানি নাও পাওয়া যেতে পারে।

রাস্তাঘাটে দেখবেন, এদিন আখের রস, শরবত, লেবু-পানি ইত্যাদি দেদার বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সাবধান! ওগুলো স্বাস্থ্যকর নয়। এই মৌসুমেই কিন্তু ডায়রিয়া, টাইফয়েড আর জন্ডিসের প্রকোপ বাড়ে, বাড়ে পানিবাহিত রোগের আক্রমণ। তাই বোতলজাত পানিই ভালো। একইভাবে পথেঘাটে বিক্রি হতে থাকা শসা, আমড়া, কাঁচা ফলমূল—এগুলোও এড়িয়ে চলুন।

অপরিচ্ছন্ন কাঁচা ও খোলা খাবার থেকে নানা রোগ ছড়ায়। খুব ঘেমে গেলে বা পিপাসা পেলে অবশ্য ডাবের পানি খাওয়া যায়। ডাবের পানিতে যথেষ্ট পরিমাণে লবণ রয়েছে, যা লবণশূন্যতা রোধ করবে। পিপাসা পেলে অনেকে চটজলদি কোমল পানীয় বা আইসক্রিম কিনে খান। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে এগুলো আরও পিপাসা বাড়িয়ে দিতে পারে। আর খুব গরমের মধ্যে ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম খেলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।

সকালবেলা পান্তা-ইলিশ বা ভর্তা দিয়ে খিচুড়ি ইত্যাদি হলো নববর্ষের খাবার। কিন্তু সবাই এতে অভ্যস্ত নাও হতে পারেন। খুব ঝাল, অনেক কাঁচা মরিচ বা লাল মরিচ খেতে অভ্যস্ত না হলে না হয় এড়িয়েই গেলেন; বন্ধুদের চাপে পড়ে খেতেই হবে, এমন যেন না হয়। পরে দেখা যাবে, সারা দিন এ নিয়ে গলা জ্বলা, টক ঢেকুর বা অস্বস্তি ভাব চলছে। উৎসবটাই তখন মাটি।

নববর্ষে সাজগোজ তো থাকবেই, কিন্তু হালকা সুতির জামাকাপড় পরাই ভালো এই গরমে। হাঁটতে হবে অনেক, তাই পায়ে উঁচু হিলের জুতা না পরে বরং ফ্ল্যাট স্যান্ডেল বা আরামদায়ক জুতাই বেছে নিন। প্রখর রোদ ও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য খারাপ। তাই রোদ থেকে বাঁচতে রোদচশমা ও ছাতা ব্যবহার করুন। সারা দিনের জন্য বেরোলে একটা বড়সড় ব্যাগ সঙ্গে নিন, যাতে পানির বোতল, ছাতা, রুমাল, ভেজা টিস্যু ইত্যাদি সঙ্গে নিতে পারেন। এদিন একটু বিশেষভাবে সাজতে চান সবাই, কিন্তু ভারী মেকআপ এই গরমে আরামদায়ক নাও হতে পারে। বরং গরমে ঘেমে-নেয়ে এই প্রসাধনী গলে গিয়ে ত্বকের লোমকূপ দেবে বন্ধ করে। তাই স্বাভাবিক ও সহজাত প্রসাধনই যথেষ্ট। তার আগে ত্বকে সানস্ক্রিন তো লাগাতেই হবে। কেবল মুখে নয়, হাত-পায়ের খোলা অংশেও সানস্ক্রিন লাগানো উচিত। আর বাইরে থেকে ফিরে এসে ভালো করে প্রসাধনী তুলে ত্বক পরিষ্কার করবেন।

শিশুদের নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় একটু বাড়তি সাবধানতা জরুরি। শিশুরা দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে, তাই বারবার পানি খাওয়ান। শিশুকেও রোদ থেকে আগলে রাখুন। খুব ভিড়ের মধ্যে শিশুকে নিয়ে না ঢোকাই ভালো। অপেক্ষা করুন, ভিড় কমলে উপভোগ করবেন। আর অবশ্যই শিশুদের চোখে চোখে রাখুন বা হাত ধরে রাখুন, যাতে হারিয়ে না যায়। সঙ্গে বাড়তি পোশাক রাখতে পারেন, যাতে খুব ঘেমে গেলে পাল্টে দেওয়া যায়।

খুব রোদে বা গরমে বেশি হাঁটাহাঁটি করলে হিটস্ট্রোক হতে পারে। এমন হলে আক্রান্ত ব্যক্তি চোখে ঝাপসা দেখেন, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, ভুল বকতে পারেন বা খিঁচুনি হতে পারে। এমনটা হলে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা জায়গায় বা ছায়ায় নিয়ে যেতে হবে, জামাকাপড় ঢিলে করে দিয়ে পানি দিয়ে ত্বক স্পঞ্জ করে দিতে হবে, সেই সঙ্গে ভেজা শরীরে ফ্যানের বা হাতপাখার বাতাস করলে ভালো হয়। দেহের তাপমাত্রা কমানোর জন্য বগলের নিচে, ঘাড়ের পেছনে বা কুঁচকিতে বরফ বা আইসপ্যাক দেওয়া যায়। ভিড়ের মধ্যে অনেকেই এ রকম অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। সুনাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে যে-কারও সমস্যায় দ্রুত এগিয়ে যাওয়া ও সাহাঘ্য করা। অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা বা হাসপাতালে নিতে সাহাঘ্য করা। উৎসবটা তো সবার, সবাই মিলেই হাসি-আনন্দে পার করতে চাই দিনটা, তাই পরিবারের দেখভাল করাও দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সবাইকে শুভ নববর্ষ।

ঠোঁট বাঁচাতে ঠোঁট সাজাতে

fdxzr

বাইরে হিমেল হাওয়া বইছে, কদিন পর শীত জেঁকে বসলেই ধোঁয়া ওঠানো ভাপা পিঠা খাওয়ার মজা জমবে। কিন্তু গরম-গরম পিঠায় কামড় বসাতে গিয়েই বিপত্তি! ফেটে গেছে ঠোঁট। তার চেয়ে বরং শীতে ঠোঁট সুরক্ষিত রাখতে এখন থেকেই শুরু হোক পরিচর্যা। এ সময় ঠোঁট রাঙাতে কোন রংগুলো বেছে নেবেন, তা-ও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রসঙ্গে কথা হলো আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানার সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, আবহাওয়ায় আর্দ্রতার অভাব ও শরীরে পানিশূন্যতার জন্যই ঠোঁট শুকিয়ে যায়। আর ঠোঁটের রুক্ষতা বেড়ে গিয়ে একসময় ঠোঁট ফাটতে শুরু করে। ঠোঁট সতেজ ও কোমল রাখতে কীভাবে যত্ন নেবেন, সেই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সব সময় লিপবাম ব্যবহার করুনঠোঁটে আর্দ্রতাযুক্ত লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে হবে। কেবল ঠোঁট ফেটে যাওয়ার পর নয়, বরং আগে থেকেই এটির ব্যবহার শুরু করতে হবে, তাহলে আর ঠোঁট ফাটার ভয় থাকবে না।
ঠোঁট শুকিয়ে গেলে জিব দিয়ে ঠোঁট ভেজান অনেকে, এটি একেবারেই করা যাবে না। সব সময় সঙ্গে লিপবাম রাখতে পারেন। বাজারে এসপিএফ ১৫ যুক্ত লিপবাম কিনতে পাওয়া যায়। এটি ঠোঁটকে সূর্যের তাপ থেকেও রক্ষা করে।
সপ্তাহে এক দিন সমপরিমাণ মধু ও পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর পরিষ্কার তুলা দিয়ে আস্তে আস্তে তুলে ফেলুন, এতে ঠোঁট কোমল হবে।
ঠোঁট মোলায়েম রাখতে তিলের তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে।
সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও অলিভ ওয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালেও তা ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।
যাঁদের অতিরিক্ত ঠোঁট ফাটার প্রবণতা আছে, তাঁরা চালের গুঁড়ার সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট এই মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। এতে ঠোঁটের মরা চামড়াগুলো সহজেই উঠে আসবে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ঠান্ডায় ঠোঁট অনেক সময় কালচে হয়ে যেতে পারে। রাহিমা সুলতানা জানান, অতিরিক্ত চা, কফি, পান ও ধূমপানের ফলেও ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে।
.ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ও গোলাপি আভা বজায় রাখার কিছু উপায় বাতলে দিয়েছেন রাহিমা সুলতানা।
গোলাপ ফুলের পাপড়ি বেটে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ২০ মিনিট ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন, ঠোঁটের গোলাপি ভাব ফুটে উঠবে।
কাঁচা দুধ তুলায় ভিজিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে ঘষুন।
ঠোঁটের কালচে ভাব ঠেকাতে কাঠবাদামের তেলও বেশ উপকারী।
কথা হলো হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিমের সঙ্গে। তিনিও জানিয়েছেন, এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে বলেই হাত-পায়ের মতো ঠোঁটের ত্বকও শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। এই সময় বাইরে বের হলেই ঠোঁটে লিপজেল বা ক্রিম-জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে বলেন তিনি। তবে এ সময় ধুলাবালুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জেল বা আঠালো-জাতীয় প্রসাধনীতে ধুলা আরও বেশি আটকে যেতে পারে। তাই বাইরে থেকে এসেই প্রথমে তুলা বা পাতলা কাপড় ভিজিয়ে ঠোঁট পরিষ্কার করে নিতে পারেন। পানি লাগানোর পরপর আবারও পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভালো মানের গ্লিসারিন লাগিয়ে নিতে হবে।
এ ছাড়া শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে শীতে প্রচুর পরিমাণে পানি, গরম স্যুপ, তাজা ফলের শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক ব্যবহারের চল এখনঠোঁট রাঙাব যে রঙে
পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান জানালেন, কিছুদিন ধরে শকিং বা খুব চড়া রঙের লিপস্টিকগুলো বেশ চলেছে, ইদানীং একটু কালচে শেডের রংগুলোই বেশি চলছে। গাঢ় বেগুনি, জাম রং, ইট লাল, কফি, বেরি রং এখন খুব চলছে। এ ছাড়া ওমব্রে ঢঙে লিপস্টিক দেওয়ার চলও এখন জনপ্রিয়। ঠোঁটের চারদিকে গাঢ় রং লাগিয়ে মাঝের অংশে একই রঙের অপেক্ষাকৃত হালকা শেডের লিপস্টিক দেওয়াটা ওমব্রে স্টাইল। নুজহাত জানালেন, দুটি রং সুন্দর মতো মিশিয়ে দিতে পারলে এটি দেখতে খুব ভালো লাগে।
এই ঋতুতে ম্যাট লিপস্টিকে ঠোঁট আরও বেশি শুষ্ক বোধ হতে পারে। তাই লিপস্টিক লাগানোর আগে পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে ঠোঁট আর্দ্র ও কোমল করে নিতে পারেন। তবে এমন আবহাওয়ায় গ্লসি বা ক্রিমি লিপস্টিক লাগানোই ভালো।
বাইরে থেকে এসে তুলায় অলিভ ওয়েল লাগিয়ে লিপস্টিক সম্পূর্ণ তুলে ফেলতে যেন ভুলবেন না। ঠোঁটের চামড়া অনেক নাজুক থাকে, তাই জোরে ঘষা উচিত নয়, আস্তে আস্তে ঘষেই ভালোমতো তুলে ফেলুন।

আমাদের রং মিলান্তি

7r65e

শিশুকে বাঙালির ঐতিহ্য চেনানোর প্রথম পাঠ মানেই বাংলা নববর্ষের শুভ দিনটি। তাই বর্ষবরণ সামনে রেখে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো ঐতিহ্য, ঋতু আর সমসাময়িক নকশার সমন্বয়ে সাজায় ছোটদের পোশাকের পসরা। ভাইবোন হোক আর কাছের আত্মীয়, অনেকেই রং মিলিয়ে শিশুদের জন্য কিনে নেন পোশাক।

বরাবরের মতোই ছোটদের পোশাক বেশ গুরুত্ব দিয়েই তৈরি করছে ফ্যাশন হাউসগুলো। আড়ং, মায়াসির, বিশ্বরঙ, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, যাত্রা, সাদাকালো, নগরদোলা, শৈশব প্রভৃতি ফ্যাশন হাউস এবং নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট থেকে শুরু করে রাজধানীর পিংক সিটি, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, মেট্রোর মতো শপিং মলের দোকানিরাও শিশুদের জন্য নিয়ে এসেছেন বৈশাখের পোশাক।
.ডিজাইনার মাহিন খান জানান, এবার মায়াসিরের ছোটদের পোশাকগুলোতে বড় পরিবর্তন আসবে হেমলাইন আর নেকলাইনে। লেয়ার থাকবে, হাই-লো কাট থাকবে, পাশাপাশি পোশাকে পছন্দের খেলনার মতো অনুষঙ্গগুলোও যোগ হতে পারে। পোশাকে বেশি থাকবে নীল, হলুদ, কালো, রানি কমলার মতো উজ্জ্বল রং। মেয়েদের সিঙ্গেল ও টু পিসের পাশাপাশি ছেলেদের জন্য থাকছে আফগানি প্যান্ট, ফতুয়া, বডি ফিটেড পাঞ্জাবি।
.এদিকে অঞ্জন’সের প্রধান নির্বাহী শাহীন আহমেদ বলেন, বৈশাখী পোশাকের রঙে লাল-সাদার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। ফুলের প্রিন্টকে প্রাধান্য দিলেও এবার জ্যামিতিক নকশা দেখা যাবে। আর প্রিন্টের কাজ থাকবে বেশি, পাশাপাশি এমব্রয়ডারিও বেশ দেখা যাবে এবার।
.আজকাল পয়লা বৈশাখেও অনেক জমকালো পার্টি থাকে, যেখানে অনেক শিশুই সুতির পোশাক পরতে চায় না। তাদের জন্য ভয়েল, জয় সিল্ক, সিল্ক, হাফ সিল্কের কাপড় ব্যবহার হয়েছে প্রচুর। ছেলেশিশুদের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া তো থাকছেই। মেয়েশিশুদের জন্যও শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপ রাখা হয়েছে দেশীয় পোশাকের দোকানগুলোয়।
ফ্যাশন হাউস যাত্রা দেশি মোটিফ আর রং নিয়ে কাজ করছে অনেক দিন ধরেই। যাত্রার ফ্যাশন ডিজাইনার দলের পক্ষ থেকে ফারহানা হামিদ বললেন, ‘কয়েক মাস ধরেই আমরা বর্ণমালা নিয়ে কাজ করছি। পয়লা বৈশাখে পুরো স্বরবর্ণের সম্ভার পাওয়া যাবে। অ-তে অজগর হলে সেটি ধরে টি-শার্ট, ফতুয়া থাকছে। আবার আ-তে আম—সেখানো আমের রঙে জামা। রং হিসেবে আমরা বেছে নিয়েছি গ্রীষ্মের কৃষ্ণচূড়া, নতুন পাতার উজ্জ্বল রং, যেমন : কমলা, লাল, সবুজ, নীল, হলুদ। টাইডাই আর ব্লক প্রিন্টের কাজই থাকবে বেশি। ব্লকের ক্ষেত্রে সাত রঙের ফুল ও পাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের রেডিমেড শাড়ি থাকবে প্রচুর। কাপড় হিসেবে আমরা বেছে নিয়েছি তাঁতে বোনা সুতি।’
নিউমার্কেটে পয়লা বৈশাখে শিশুদের একটি বিশাল সম্ভার থাকে প্রতিবছর। কথা হচ্ছিল বিক্রেতা নাহিদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা “লট” ধরে কাপড় নিয়ে আসি। সেখানে আধুনিক সব ডিজাইনেরই কাপড় থাকে। শিশুদের ফ্রক, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট, ফতুয়া আর রেডিমেড ধুতির চাহিদাই সব সময় থাকে। আর হাতাছাড়া ফ্রক ও ফতুয়াই বেশি পছন্দ করেন মায়েরা।’
বসন্তের শেষ আর গ্রীষ্মের শুরু। পয়লা বৈশাখের দিন তাই গরম ও ধুলোর প্রভাব থাকে চারদিকে। এদিন শিশুর পোশাক যতই আধুনিক হোক, টেকসই রং আর আরামের কথা মাথায় রেখে পোশাক বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন ডিজাইনাররা।

তাঁদের রূপকথন

67rtr

রান্নাঘর থেকেই আসে রূপচর্চার উপকরণ
শারমিন লাকি, উপস্থাপক, টিভি ব্যক্তিত্ব
স্বাস্থ্য এবং রূপসচেতন শারমিন লাকি ত্বকের যত্নে ভেষজ উপাদানের ওপরেই বেশি নির্ভরশীল বলে জানালেন। রাসায়নিক প্রসাধনীর মধ্যে খুব ভালো মানের একটি রাতের ক্রিম ব্যবহার করেন, যা বাড়তি আর্দ্রতাযুক্ত। শীত হোক বা গ্রীষ্ম—প্রতি মাসে একবার আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকে গিয়ে মুখ এবং হাত–পায়ের ত্বকের যত্ন নেন তিনি, এর কোনো ব্যতিক্রম হয় না কখনো। আবহাওয়া এবং ত্বকের ধরন বুঝে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে এই ফেসিয়ালটি করানো হয়। ‘আমার ত্বক মিশ্র। শুধু মুখের টি জোনটা (কপাল ও নাক) সামান্য তৈলাক্ত। আমার ত্বকের জন্য ভালো—এমন সব ভেষজ উপাদান দিয়েই প্রতি মাসে এই ফেসিয়ালটি করিয়ে থাকি। এখন শীত পড়তে আরম্ভ করেছে বলে ফেসিয়ালের উপাদানেও কিছু পার্থক্য আসবে।’ বললেন শারমিন লাকি। আরও জানালেন, এটি ছাড়াও প্রতি মাসে দুবার ভালো কোনো পারলারে গিয়ে সাধারণ ফেসিয়াল করিয়ে থাকেন। শারমিক লাকি মনে করেন, ৩৫ পেরিয়ে গেলে ত্বকের প্রতি বেশি যত্নশীল হওয়া উচিত। আর ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টা এবং পরবর্তীকালে শীতের সময়ে ত্বক ভালো রাখার জন্য নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। তিনি এই নিয়মই মেনে থাকেন। রান্নায় পটু শারমিন লাকি তাঁর রূপচর্চার অনেক উপাদান নাকি রান্নাঘর থেকেই জোগাড় করে ফেলেন। নিজের ব্যবহৃত ঘরোয়া একটি ফেসপ্যাকের প্রণালিও জানিয়েছেন পাঠকদের। বললেন, ‘হাতের কাছে থাকা জিনিসপত্র দিয়ে চট করেই একটা ফেস প্যাক বানিয়ে ফেলা যায়। যেকোনো ঋতুতে শসা, টমেটো, কলা একটু চটকে নিয়ে বেসন ও মধু দিয়ে ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া দুধ খুব ভালো ক্লেনজারের কাজ করে। চিনি, মধু, ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর রসের মিশ্রণ খুব ভালো ক্লেনজার এবং স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে। আমি এই প্যাকটি বানিয়ে শরীর এবং মুখে মাঝে মাঝে ব্যবহার করি। মুখের ত্বক নাজুক বলে মৃদু মালিশ করি, শরীরে একটু জোরে ঘষলেও ক্ষতি নেই।’ এ ছাড়া প্রচণ্ড শীতে হাত–পা যখন খসখসে হয়ে যায় তখন পেট্রোলিয়াম জেলি এবং পানির সঙ্গে মিশিয়ে গ্লিসারিন ব্যবহার করেন। ত্বক ভালো রাখার জন্য মেকআপ খুব ভালোমতো তোলা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। বাদামের তেল দিয়ে প্রথমে ভারী মেকআপ তুলে ফেলেন। এরপর ভালো কোনো বেবি লোশন, স্ক্রাবার এবং ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মালিশ করে মেকআপ সম্পূর্ণভাবে তুলে ফেলেন। শীতের সময় প্রচুর টাটকা ফল, শাকসবজি খান তিনি। আর এ সময় পানি কম খাওয়া হয় বলে পারলে কুসুম কুসুম গরম করে পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন, তবু কোনোমতে পানি খাওয়া কমানো যাবে না এ সময়।
ত্বক শুষ্ক বলে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন মিম, ছবি: নকশাসঠিক উপায়ে মেকআপ তোলা জরুরি
বিদ্যা সিনহা মিম অভিনেত্রী, মডেল

পেশাজীবনে এখন খুব ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে মিমকে। ছোট এবং বড় পর্দায় নিত্য উপস্থিতি তাঁর, নিজের জন্য তেমনভাবে সময় বের করতে পারছেন না এই অভিনেত্রী। প্রকৃতিপ্রদত্তভাবেই সুন্দর ত্বকের অধিকারী বলেই হয়তো ত্বকের যত্নে খানিকটা হেলাফেলা করার পরও সতেজ আছেন। তবে যত যা–ই হোক, ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেন। মিমের কথায়, ‘মানুষ হিসেবে আমি খুব অলস প্রকৃতির। তার ওপর কাজের চাপ। এ জন্য প্রতি মাসে নিয়মমাফিক ফেসিয়াল করার সময়ও হয়ে ওঠে না। এক–দেড় মাস পরপর ভালো পারলারে গিয়ে ফেসিয়াল করাই। ভেষজ ফেসিয়ালটাই সাধারণত করা হয়। পারলারে গেলেই ফেসপ্যাক ব্যবহার করি। অন্য সময় বাড়িতে কোনো ফেসপ্যাক ব্যবহার করা হয় না।’ আরও জানালেন, তাঁর ত্বক খুব শুষ্ক। দেশের বাইরে থেকে নিয়ে আসা একটি ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার মুখে ব্যবহার করেন তিনি। এটি নিয়মিত ব্যবহার করেই ত্বক অনেক ভালো আছে তাঁর। সূর্যের আলো থেকে ত্বক রক্ষা করতে সানস্ক্রিন লোশন মাখেন। আর শীতের এই সময়টা হাত–পায়ে ত্বক খুব শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায় বলে একটু পরপর লোশন মালিশ করেন। লোশনের বোতল তাই সব সময় নিজের সঙ্গেই রাখেন বলে জানালেন। প্রয়োজন ছাড়া খুব চড়া মেকআপ কখনোই নেন না। মেকআপ করার পর আলসেমি বোধ করলেও সঠিক উপায়ে তা তুলে ফেলা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। নিয়মিত মেকআপ করার ফলে মুখে মেকআপ জমে জমে ব্ল্যাক হেডস দেখা দেয়, তাই স্ক্রাবার দিয়ে মুখ এবং নাকের চারপাশে আলতো ঘষে তা তুলে ফেলেন। আর যদি মেকআপ না করা হয়, তাহলে স্ক্রাবিং ছয়–সাত দিন পরপর করেন। শীতে ত্বকের বাড়তি যত্ন বলতে, অয়েল বেজড একটি ময়েশ্চারাইজার ও লোশন ব্যবহার করেন। এর বেশি কিছু নয়। ত্বক সুন্দর রাখতে মিম কি কোনো বিশেষ খাবার খেয়ে থাকেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রূপ লাবণ্যের জন্য আলাদাভাবে তেমন কিছু খাওয়া হয় না, তবে আমি এমনিতেই নিয়মিত সবুজ চা (গ্রিন টি), মালটার রস, নারকেল—এসব খেয়ে থাকি, এগুলোই আমার ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।’

চোখের পাতায় গোটা

fxcdzedf

চোখের ওপরের পাতা বা নিচের পাতার কোনো অংশ ফুসকুড়ির মতো কিছুটা ফুলে ওঠা মূলত দুটি ভিন্ন সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে একটির নাম ক্যালাজিয়ন, অন্যটি স্টাই। একটির জন্য দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন, অন্যটির জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা না করালেও ক্ষতি নেই। তবে এগুলোর লক্ষণ জেনে রাখা ভালো।
ক্যালাজিয়ন হলে সাধারণত চোখের পাতার ধার থেকে একটু দূরের অংশে ছোট একটি গোটা হতে বা কিছুটা ফুলে উঠতে দেখা যায়। এতে ব্যথা থাকে না। চোখে লালচে ভাবও থাকে না। স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তিরও কোনো সমস্যা হয় না। এ রকম হলে কুসুম গরম পানিতে পরিষ্কার তুলা ভিজিয়ে নিয়ে চোখের ফুলে যাওয়া অংশে কয়েকবার হালকা চাপ দিন। চোখের পাতা এবং এর চারপাশে ময়লা জমে থাকলেও তা এভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া যায়। সারা দিনে দুবার এভাবে কুসুম গরম পানির সেঁক দিতে পারেন।
কারও কারও এক চোখের পাতার ফোলা অংশ সেরে যাওয়ার পরে অন্য চোখেও এ ধরনের ফোলা অংশ দেখা দিতে পারে। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে এ ধরনের ফোলা সেরে যায়। তা না সারলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ধরনের ফোলা অংশ বড় হতে থাকলে বা ব্যথা হলে ওই অংশটি বা চোখ লালচে হয়ে যায়। এ অবস্থায় দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
স্টাই নামের অন্য যে সমস্যাটি চোখের পাতায় হয়, সেটিতে চোখের পাতার কিনারায় ছোট একটি গোটা বা ফুলে ওঠা অংশ দেখা যায়। এতে ব্যথা থাকে, লালচে ভাবও থাকে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

অধ্যাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ
বিভাগীয় প্রধান, চক্ষু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

গরমে আরামে থাকুক ত্বক

dftyf

গরমের রোদ, তাপ, ঘামে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় ত্বক। ত্বককে গরমের দৌরাত্ম্য থেকে বাঁচানোর উপায় জেনে নিন।

গ্রীষ্মকালে ত্বক ভুগতে থাকে নানান রকমের সমস্যায়। শুধু ত্বকই নয়, চুল, নখ এসবও বাদ যায় না। এইসব সমস্যাগুলো থেকে কীভাবে রক্ষা করতে পারবেন ত্বক তাই জানিয়ে রূপচর্চা বিষয়ক একটি ওয়েবসাইট—

গরমে একটা মূল সমস্যা পরিছন্ন থাকা। পরিচ্ছন্ন থাকতে দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার গোসল করা উচিত।

শরীরের যেসব জায়গা ঘাম জমে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে থাকার সম্ভবনা থাকে, যেমন বাহুর নিচে, গলার নিচে, স্তনের নিচে, বদ্ধ জুতা পরলে আঙ্গুলের ফাঁকে- সেসব জায়গায় আলাদা করে পাউডার মেখে নিতে পারেন। এতে সেসব জায়গায় জমে থাকা ঘাম শোষণ করে জায়গাটি শুষ্ক থাকে।

পা খোলা স্যান্ডেল পরার চেষ্টা করা উচিত। ব্যাক্টেরিয়া বদ্ধ আর্দ্র জায়গায় মনের সুখে বংশ বাড়াতে থাকে।

রোদে বের হলে অবশ্যই উন্মুক্ত ত্বকে সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন মাখতে হবে। সানস্ক্রিন নিয়ে এখনও নানান ধরনের ভ্রান্তি আছে। যেমন অনেকেই ভাবেন সান প্রোটেকশন ফরমুলা ‘এসপিএফ’য়ের মানের উপর রোদ ঠেকানোর হার নির্ভর করে।

প্রকৃতপক্ষে এসপিএফ-টেন এবং এসপিএফ-সিক্সটি’র মধ্যে মাত্র দুতিন শতাংশ পার্থক্য থাকে। এসপিএফ’য়ের মান যতোই হোক এর উপরে এটি কতক্ষণ কাজ করবে এটা নির্ভর করে না। তাই দিনে অন্তত তিন থেকে চারবার সানস্ক্রিন মাখা উচিত।

সানস্ক্রিন মাখলেই যে ত্বকে রোদেপোড়া ভাব আসবে না এমন নয়। সানস্ক্রিনের কাজ ত্বককে রোদের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করা যেন ত্বক অকালে বুড়িয়ে না যায় অথবা কোনো রোগে আক্রান্ত না হয়। রোদের হাত থেকে বাঁচতে ছাতা, রোদ চশমা এগুলোকে ভুললে চলবে না।

ঘামের সঙ্গে শরীরের পানি বের হয়ে যায় এতে শরীর তো বটেই ত্বকও পানি শূন্যতায় ভোগে। শরীরকে পানি শূন্যতা থেকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে, দিনে অন্তত তিন লিটার। ত্বকে মাখতে হবে হালকা ময়েশ্চারাইজার।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে রোদ থেকে রক্ষা—

* শসার রস বা গোলাপ জল তুলায় ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এটা বার বার ত্বকে চেপে চেপে লাগিয়ে ত্বককে ঠাণ্ডা রাখা যায়।

* ঘর থেকে বের হলে অবশ্যই রোদ চশমা পরতে হবে।

* গাড়িতে রোদ আটকানোর জন্য পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্তত সরসরি যেন রোদ না লাগে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

বদলে যাবে চেহারা

klj;io

গালটা কেটে দিয়েই’, ‘নাক কাটলেন না তো!’ বিউটি পারলারে গেলে এই কথাগুলো কানে উড়ে আসবে প্রায়ই। কাটার কথা শুনে ভড়কে যাবেন না। এই কাটে মানে স্থল ‘কনট্যুরিং’। নাক, গালের হাড় ইত্যাদি অংশ আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য মেকআপের এই বিশেষ কৌশলটি ব্যবহার করা হয়। হলিউড তারকা কিম কারদাশিয়ানকে পছন্দ বা অপছন্দ যা-ই করুন, তাঁর মেকআপ যে প্রায় নিখুঁত তা বলা যেতেই পারে। কনট্যুরিং তাঁর মেকআপের বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা ধাপ। তাঁর মেকআপ আর্টিস্ট মারিও ডেডিভানোভিক তো রীতিমতো কর্মশালার আয়োজন করে দেখান কীভাবে কিমের মুখে কনট্যুরিং করেন তিনি। ইন্টারনেটে পাবেন এ রকম নানা ভিডিও টিউটোরিয়াল।
নকশার আয়োজনেও দেখানো হলো কনট্যুরিংয়ের কৌশল। কনট্যুরিংয়ের কিছু কৌশল আছে, যার দক্ষ ব্যবহারে চেহারায় আনা যেতে পারে আমূল পরিবর্তন। এমনটা জানালেন ডিভাইন বিউটি লাউঞ্জের মেকআপশিল্পী বাপন রহমান। রোজকার সাজে হয়তো কনট্যুরিং করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে ভারী বা জমকালো মেকআপে এটি লাগেই। বিশেষ করে কনে সাজে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছবিতে ভালো দেখানোর জন্য কনট্যুরিং প্রয়োজনীয়।
ধাপে ধাপে কনট্যুরিং করার পদ্ধতি দেখিয়েছেন বাপন রহমান।
ধাপে ধাপে কনট্যুরিং। মেকআপ: বাপন রহমান

মেকআপের মাধ্যমে চেহারার কোন অংশের পরিবর্তন যেভাবে আনবেন
.কপালের চওড়া ভাব কমাতে

অনেকের কপাল বেশ চওড়া থাকে। সে ক্ষেত্রে কপালের ওপরের অংশে এবং এর দুই পাশে ত্বকের রঙের চেয়ে গাঢ় রঙের কনসিলার বা ফাউন্ডেশন দিয়ে চওড়া ভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।
.ভারী চোয়াল চাপা দেখাতে
যদি কারও চোয়াল ভারী থাকে তাঁরা গাঢ় রঙের ফাউন্ডেশন বা কনসিলার দিয়ে গলার নিচের অংশ থেকে চোয়ালের নিচের অংশ পর্যন্ত কনট্যুরিং করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভালো কোনো ব্রাশের সাহায্যে বাদামি কোনো ফেইস হাইলাইটার চোয়ালের নিচের অংশে বুলিয়ে নিতে পারেন।
মুখের সরু ভাব কমাতে
যাঁদের মুখের নিচের অংশ এমনিতেই খুব সরু তাঁরা ত্বকের রঙের চেয়ে এক শেড গাঢ় ফাউন্ডেশন নিয়ে কানের পাশ থেকে ঠোঁটের কাছাকাছি পর্যন্ত মিশিয়ে নেবেন তাহলে মুখের নিচের অংশ আর অতটা সরু দেখাবে না।
চওড়া নাক সরু দেখাতে
ভ্রু যুগলের মাঝখানের দুই অংশ থেকে নাক বরাবর একটা লাইন নাকের নিচ পর্যন্ত টানতে হবে, মাঝের অংশ বাদ দিয়ে। তারপর তা নাকের দুপাশে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর নাকের মাঝের অংশটিতে সাদা বা পার্ল টোনের ম্যাট পাউডার আলতোভাবে লাগাতে হবে।

.গাল ভারী হলে
যাঁদের গালের দুপাশ খুব ভারী তাঁরা কানের কোনা বরাবর অংশ ঠোঁটের কিছুটা আগ পর্যন্ত কনসিলার বা গাঢ় ফাউন্ডেশন দিয়ে একটা লাইন টানুন। এবার এটি মুখের ওপরের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে। এরপর হালকা বাদামি ম্যাট ব্লাশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
মুখের ওপরের অংশ সরু হলে
যাঁদের গাল একটু চাপানো তাঁরা শুধু চোখের একটু নিচের অংশ থেকে চিক লাইন পর্যন্ত বাদামি ব্লাশন লাগিয়ে এরপর ত্বকের রঙের সঙ্গে মানায় এমন যেকোনো রঙের ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন।

যা যা প্রয়োজন
 ত্বকের রঙের চেয়ে গাঢ় শেডের কনসিলার, ফাউন্ডেশন অথবা প্যানস্টিক।
 কমপ্যাক্ট পাউডার বা ম্যাট পাউডার।
 ভালো মানের মেকআপ ব্রাশ এবং তুলি। সরু থেকে মোটা কয়েক মাপের ভালো মানের স্পঞ্জ।
 বাজারে কনট্যুরিং কিট সেট হিসেবেও কিনতে পাওয়া যায়।

কনট্যুরিংয়ের স্থানগুলো এভাবে আগে চিহ্নিত করে নিনকীভাবে করবেন

 ফাউন্ডেশন দিয়ে সবার প্রথমে বেস মেকআপ করে নিতে হবে।
 মুখের কোন কোন লাইনে কনট্যুর করা হবে তা ত্বকের চেয়ে এক শেড গাঢ় প্যানস্টিক, কনসিলার, পেনসিল বা লিকুইড ফাউন্ডেশন দিয়ে চিহ্নিত করে নিতে হবে।
 যেখানে প্রয়োজন সেসব জায়গায় কনট্যুরিং কিট ব্যবহার করবেন এবং তা ভালোমতো মিশিয়ে নেবেন।
 এই ধাপে কমপ্যাক্ট পাউডার, লুজ পাউডার দিয়ে কনট্যুর করা লাইন একটু মিশিয়ে নিতে পারেন। স্পঞ্জের সাহায্যে এটি করা যেতে পারে।
 চারটা ধাপ হয়ে গেলে কনট্যুর সম্পূর্ণ হবে। এবার ব্লাশন, শিমার ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে। চোখ ও ঠোঁটের সাজ করে নিলে সাজ শেষ হয়ে যাবে।

বৈশাখী ঢঙে বেণি

5645

বৈশাখী ঢঙে বেণি। ছবি: সুমন ইউসুফশাড়ির সঙ্গে চুল বোধ হয় ছেড়ে দিলেই ভালো লাগবে, কিন্তু বাইরে যা গরম! চুলে খোঁপা বাঁধবেন ভাবছেন, সেটাও তো বেশ পুরোনো স্টাইল। পয়লা বৈশাখের দিনে চুলের বাঁধনে একটু নতুনত্ব না এলে কি চলে? কারণ, সাজের ক্ষেত্রে মেকআপের চেয়ে চুল বাঁধাটাই গুরুত্ব পায় এদিন। চুলে নানা ঢঙের স্টাইলিশ বেণিতে আনতে পারেন নতুনত্ব। আরামও হবে, আবার চলতি ফ্যাশনের সঙ্গে তা মানিয়েও যাবে বেশ। বৈশাখে বিভিন্ন রকম পোশাকের সঙ্গে কয়েক ঢঙের বেণি করে দেখিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন।

আরাধনা ঢঙে খেজুর বেণিআরাধনা ঢঙে খেজুর বেণি
১. প্রথমে চুলকে দুই ভাগে ভাগ করতে হবে। প্রতিটি ভাগের চুল দিয়ে একটি অথবা দুটি বেণি করে নিন।
২. চার আঙুল পর্যন্ত খেজুর বেণি করে একটা রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে নিন। এরপর আবার একইভাবে বেণি করে রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে দিন। চুলের দৈর্ঘ্য বুঝে এভাবে তিন বা চার ধাপে খেজুর বেণি করে নিন। প্রতিটি ধাপ যেখানে শেষ হবে, সেখানে ছোট কোনো ফুল কাঁটার সাহাঘ্যে লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
৩. সামনের চুল সাইড করে আঁচড়ে কিছু চুল নিয়ে সাধারণ একটি বেণি করে ফেলুন।
৪. পাশে ও পেছনে, বেণির গোড়ার দিকে অল্প কিছু চুল হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন।

চেক বেণিচেক বেণি
১. প্রথমে সমানভাবে চুল ছয় ভাগে ভাগ করে নিতে হবে।
২. এরপর চেক প্রিন্টের মতো করে চুলগুলোকে একটির ওপর আরেকটি নিয়ে বেণি করতে হবে।
৩. এ ধরনের বেণির সঙ্গে সামনে সাইডে সিঁথি করে পেছনের চুল হালকা পাফ করে ফুলিয়ে নিয়ে পারেন।

সাইড বেণিসাইড বেণি

১. এক পাশে সিঁথি করুন। সেই পাশের চুল টুইস্ট করে ভাঁজ করার পর সেখান থেকেই বেণি শুরু করে অন্য পাশে গিয়ে শেষ করুন।
২. মাথার মাঝ বরাবর চুলগুলোকে আগেই ফুলিয়ে নিন।
৩. ফোলানো অংশ ও বেণির মধ্যে মুক্তা বসিয়ে দিতে পারেন।

দুই বেণিদুই বেণি

১. অর্ধেক সিঁথি মাঝখানে এবং বাকি চুল ফুলিয়ে উঁচু করে বাঁধবেন।
২. দুটি বেণির জন্য দুই পাশে চুল আলাদা করে নিন। এরপর সাধারণ বেণি করে নিন। তবে একটু স্টাইলিশ লুক দেওয়ার জন্য বেণি করার সময় চুলগুলো পেঁচিয়ে নিন।

দড়ি ঢঙে বেণিদড়ি ঢঙে বেণি
১. চুলকে চার ভাগে ভাগ করে দুটি দড়ির মতো বেণি করে নিন।
২. দুটি বেণি দিয়ে এবার একটি বেণি করুন।
৩. সামনের চুলগুলো আলগা টুইস্ট করে ক্লিপ লাগিয়ে নিন।
৪. এক পাশে গোলাপ বা অন্য কোনো শুকনো ফুল লাগাতে পারেন।

বিয়ে করার আগে অবশ্যই এই লেখাটি ভালো ভাবে পড়ে নিন, না হলে পস্তাবেন

ftdr

বিয়ে সম্পর্কে এই উক্তিগুলোর অনেকগুলো করেছেন বিখ্যাত মানুষেরা। তাদের নাম এখানে উল্লেখ করা হল না এই কারণে যে এগুলো আসলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষেরই মনের কথা,প্রাণের কথা। আর এই কথা গুলোকেই আমরা বাণী চিরন্তনী বলে আখ্যায়িত করেছি।

১-আমি আর আমার স্ত্রী জীবনের ২৫টা বছর বড়ো আনন্দে কাটিয়েছি। তারপর আমাদের পরিচয় হল।
২-“A man is incomplete until he is married. After that, he is finished.”
৩-আমি বহুদিন আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলি নি, আমি আসলে তাকে কথার মাঝখানে থামাতে চাই নি।
৪-সব বিয়েই সুখের। পরবতী সময়ে একসঙ্গে থাকতে গিয়েই যত ঝামেলা হয়।
৫-বিয়েঃ একটি বৈধ ও ধর্মসম্মত অনুষ্ঠান যেখানে দুজন বিপরীত (সাধারণত) লিঙ্গের মানুষ পরস্পরকে জ্বালাতন করা এবং পরস্পরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার শপথ নেয় ততদিনের জন্য যতদিন না মৃত্যু এসে তাদেরকে আলাদা করে।

৬-সুখি দাম্পত্য জীবনের জন্য একজন পুরুষের উচিত তার মুখ বন্ধ রাখা আর চেকবই খোলা রাখা।
৭-সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে একটু ভালোবাসা,একটু আদর,একটু কোমলতা পাওয়া – একে এক কথায় কি বলে বলতে পারেন? একে বলে আপনি ভুল বাসায় এসেছেন।
৮-মেয়েরা কেমন পুরুষ চায়? সুদর্শন, বিত্তবান এবং নিবোধ।
৯-একজন পুরুষের শেষ কথা কি হওয়া উচিত? “ঠিক আছে, কিনে ফেলো”।
১০-স্বামী আর স্ত্রী হল একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, একসাথে থাকলেও তারা কখনো মুখোমুখি হতে পারে না।

১১-স্বামী হিসেবে প্রত্নতত্ত্ববিদরাই সবচেয়ে আদর্শ। পুরনো জিনিসের প্রতিই তাদের আগ্রহ বেশি।
১২-“Three rings of marriage are the engagement ring, the wedding ring, and the suffering.”
১৩-মেয়েরা আশা করে ছেলেরা বিয়ের পরে বদলাবে, কিন্তু তা হয় না। আর ছেলেরা আশা করে মেয়েরা বিয়ের পরেও একইরকম থাকবে, কিন্তু তারা বদলে যায়।
১৪-“The secret of a happy marriage remains a secret.”
১৫-বিষয়টি মজার যে একটি ছেলের জীবনে যখন কোন ধরণের দুশ্চিন্তা থাকেনা, সে বিয়ে করে। এটা অনেকটা সুখে থাকতে ভূতে কিলানোর মত।

১৬-আপনার স্ত্রী আপনার কৌতুক শুনে হাসল, এর অর্থ হচ্ছে হয় কৌতুকটি খুব ভালো, নয় আপনার বউ খুব ভালো।
১৭-বিয়ের আগে পযন্ত আমি জানতাম না সত্যিকারের সুখ কাকে বলে। যখন জানলাম তখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
১৮-অনেকেই আমাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের রহস্য নিয়ে প্রশ্ন করে। তাদেরকে বলি, সপ্তাহে দুদিন ভালো রেস্তোঁরায় ডিনার, মৃদু আলোতে সফ্‌ট মিউজিক, একটুক্ষণ নাচ – এই তো। আমি যাই বিষ্যুদবারে, আমার স্ত্রী সোমবারে।
১৯-বিয়ে না করলে ছেলেরা সারাজীবন ধরে ভাবত, তাদের জীবনে কোন ভুল নেই।
২০-একজন নববিবাহিত যখন বলে সে সুখি, আমরা জানি, কেন। একজন ১০বছরের বিবাহিত মানুষ যখন বলে সে সুখি, আমরা ভাবি,কেন?

২১-ছেলেটি বলেছিল মেয়েটির জন্য সে নরক পযন্ত যেতে রাজী। ঈশ্বর তাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের বিয়ে হয়েছে।
২২-বিয়ের আগে ছেলেটি যখন মেয়েটির হাত ধরে, সেটি হচ্ছে ভালোবাসা। আর বিয়ের পরে যখন ধরে, সেটি হচ্ছে আত্মরক্ষা।
২৩-ভালবাসা হচ্ছে একটি মিষ্টি স্বপ্ন আর বিয়ে হচ্ছে এলার্মক্লক।
২৪-এটা সত্যি যে কেউ পরাধীন হয়ে জন্মায় না, কিন্তু অনেকেই বিয়ে করে ফেলে।
২৫-এটা সত্যি যে ভালোবাসা অন্ধ, তবে বিয়ে চোখ খুলে দেয়।

২৬-মেয়েটি তার মাকে গিয়ে বলল, “আমি এমন একটি ছেলেকে খুঁজে পেয়েছি যে ঠিক বাবার মত”। মা বললেন, “এখন তুমি আমার কাছে কি চাও? সান্ত্বনা?”
২৭-বিয়ে হচ্ছে বুদ্ধিমত্তার বিরুদ্ধে কল্পনার জয়। আর দ্বিতীয় বিয়ে হচ্ছে অভিজ্ঞতার বিপক্ষে আশাবাদের জয়।
২৮-মেয়েরা সত্যিই unpredictable. বিয়ের আগে তারা একজন পুরুষকে expect করে, বিয়ের পরে তাকে suspect করে, আর তার মৃত্যুর পরে তাকে respect করে।
২৯-In the beginning, God created earth and rested. Then God created man and rested. Then God created woman. Since then, neither God nor man has rested.
৩০-পত্রিকায় একটি ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন ছাপা হল, “Husband Wanted”। পরদিন কয়েকশ’ মহিলা যোগাযোগ করলেন, “আমারটি নিতে পারেন”।

৩১-একটি ছেলে ১টাকার জিনিস ২টাকায় কিনবে যদি এটা তার প্রয়োজনে লাগে। আর একটি মেয়ে ২টাকার জিনিস ১টাকায় পেলেই কিনবে জিনিসটা তার কাজে লাগুক চাই না লাগুক।
৩২-একটি মেয়ে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিন্তিত থাকে যতদিন তার বিয়ে না হয়। ছেলেদের চিন্তাটা বিয়ের পরে শুরু হয়।
৩৩-একজন সফল পুরুষ সে-ই যে এত টাকা আয় করতে পারে যা তার বউ খরচ করে শেষ করতে পারে না। একজন মেয়ের ক্ষেত্রে সাফল্য হচ্ছে এরকম একজন পুরুষকে খুঁজে বের করতে পারা।
৩৪-একজন পুরুষের সাথে সুখে থাকার মন্ত্র কি? You must understand him a lot and love him a little. একটি মেয়ের সাথে সুখে থাকতে হলে you must love her a lot and not try to understand her at all.
৩৫-বিয়ে করার একটা সুবিধা হচ্ছে, তোমার ভুল-ত্রূটিগুলো আর তোমার কষ্ট করে মনে রাখার দরকার নেই। এক কাজ দুজনের করার অর্থ কি?
৩৬-বিবাহিত পুরুষেরা চিরকুমারদের চেয়ে বেশি দিন বাঁচে। মানুষ যা চায় তা কখনোই পায় না

গরমে আরামে থাকুক ত্বক

-089

গরমের রোদ, তাপ, ঘামে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় ত্বক। ত্বককে গরমের দৌরাত্ম্য থেকে বাঁচানোর উপায় জেনে নিন।
গ্রীষ্মকালে ত্বক ভুগতে থাকে নানান রকমের সমস্যায়। শুধু ত্বকই নয়, চুল, নখ এসবও বাদ যায় না। এইসব সমস্যাগুলো থেকে কীভাবে রক্ষা করতে পারবেন ত্বক তাই জানিয়ে রূপচর্চা বিষয়ক একটি ওয়েবসাইট—

গরমে একটা মূল সমস্যা পরিছন্ন থাকা। পরিচ্ছন্ন থাকতে দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার গোসল করা উচিত।

শরীরের যেসব জায়গা ঘাম জমে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে থাকার সম্ভবনা থাকে, যেমন বাহুর নিচে, গলার নিচে, স্তনের নিচে, বদ্ধ জুতা পরলে আঙ্গুলের ফাঁকে- সেসব জায়গায় আলাদা করে পাউডার মেখে নিতে পারেন। এতে সেসব জায়গায় জমে থাকা ঘাম শোষণ করে জায়গাটি শুষ্ক থাকে।

পা খোলা স্যান্ডেল পরার চেষ্টা করা উচিত। ব্যাক্টেরিয়া বদ্ধ আর্দ্র জায়গায় মনের সুখে বংশ বাড়াতে থাকে।

রোদে বের হলে অবশ্যই উন্মুক্ত ত্বকে সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন মাখতে হবে। সানস্ক্রিন নিয়ে এখনও নানান ধরনের ভ্রান্তি আছে। যেমন অনেকেই ভাবেন সান প্রোটেকশন ফরমুলা ‘এসপিএফ’য়ের মানের উপর রোদ ঠেকানোর হার নির্ভর করে।

প্রকৃতপক্ষে এসপিএফ-টেন এবং এসপিএফ-সিক্সটি’র মধ্যে মাত্র দুতিন শতাংশ পার্থক্য থাকে। এসপিএফ’য়ের মান যতোই হোক এর উপরে এটি কতক্ষণ কাজ করবে এটা নির্ভর করে না। তাই দিনে অন্তত তিন থেকে চারবার সানস্ক্রিন মাখা উচিত।

সানস্ক্রিন মাখলেই যে ত্বকে রোদেপোড়া ভাব আসবে না এমন নয়। সানস্ক্রিনের কাজ ত্বককে রোদের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করা যেন ত্বক অকালে বুড়িয়ে না যায় অথবা কোনো রোগে আক্রান্ত না হয়। রোদের হাত থেকে বাঁচতে ছাতা, রোদ চশমা এগুলোকে ভুললে চলবে না।

ঘামের সঙ্গে শরীরের পানি বের হয়ে যায় এতে শরীর তো বটেই ত্বকও পানি শূন্যতায় ভোগে। শরীরকে পানি শূন্যতা থেকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে, দিনে অন্তত তিন লিটার। ত্বকে মাখতে হবে হালকা ময়েশ্চারাইজার।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে রোদ থেকে রক্ষা—

* শসার রস বা গোলাপ জল তুলায় ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এটা বার বার ত্বকে চেপে চেপে লাগিয়ে ত্বককে ঠাণ্ডা রাখা যায়।

* ঘর থেকে বের হলে অবশ্যই রোদ চশমা পরতে হবে।

* গাড়িতে রোদ আটকানোর জন্য পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্তত সরসরি যেন রোদ না লাগে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

ধুলা থেকে সাবধান!

ghku

আবহাওয়াই কেমন যেন! না শীত না গরম। এমন আবহাওয়ায় পোশাক নির্বাচন নিয়ে যেমন খানিকটা চিন্তায় থাকতে হয়, তেমনি চিন্তায় থাকতে হয় পথের ধুলোবালি নিয়েও। কারণ এ সময় চারপাশে ধুলোর কমতি নেই। বিশেষ করে যাঁরা মোটরবাইক চালান নিয়মিত তাঁরা তো বটেই, বাইরে বের হলে যে-কেউ পরতে পারেন ধুলোর কবলে। বলে রাখা ভালো, ধুলো যে শুধু শরীরেই লেপ্টে থাকে তা কিন্তু নয়। অনেকের অ্যালার্জি এবং হাঁচি-কাশির কারণ হতে পারে এই ধুলোই।
ত্বক পরিষ্কার রাখুন এ সময়ে। মডেল: শুভএকটু সতর্ক থাকলে কিন্তু এসব ধুলো থেকে সহজেই মুক্তি মেলে। না, বিশেষ সুরক্ষা নিয়ে রাস্তায় বেরোতে হবে এমন নয়। তবে ধুলা গায়ে লাগার পর কীভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা যায় তার কিছু ব্যবস্থা আমরা নিতেই পারি।
হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম বললেন, ‘এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে। তাই শরীরে বাতাস যেন কম লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ তিনি যোগ করলেন আরও কয়েকটি পরামর্শ।
* সাধারণত এই সময় সবারই ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে আর্দ্রতাযুক্ত সানস্ক্রিন লোশন লাগানো যেতে পারে।
* বাইরে থেকে আসার পরে পরিষ্কার পানি ও আর্দ্রতাযুক্ত সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এতে করে ত্বকের আর্দ্রতা ফিরে আসবে। আপনার ত্বকের ধরন বুঝে সাবান বেছে নিন।
* মুখ ধোয়ার পরে ত্বকে ভেজা ভাব থাকতেই কোনো ক্রিম দেওয়া যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন বেশি তৈলাক্ত না হয়ে যায়।
* মুখের পাশাপাশি প্রতিদিন একবার পুরো শরীরে লোশন লাগান।
* আর বাইরে বেরোনোর সময় যথাসম্ভব ধুলো এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এই সময় ধুলোতে অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে।
আফজালুল করিমের টিপসের সঙ্গে একমত হলেন মেনজ কেয়ার স্যালনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন। তবে তিনি যোগ করলেন আরও কয়েকটি।
* অফিসে বা বাসায় আগে থেকে শসার রস ব্লেন্ড করে রাখা যেতে পারে। বাইরে থেকে এসে তুলোতে সেই রস লাগিয়ে পরিষ্কার করা যেতে ত্বক।
* মোট কথা ত্বক যেকোনো মূল্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* এ ছাড়া সপ্তাহে একবার পার্ল ফেশিয়াল বা ভেজিটেবল পিল ফেশিয়াল করলে ত্বক ভালো থাকবে।