বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন

tfg6

পাহাড় চূড়াতেও!

রাজবধূ বলে কথা। তাঁকে তো সব সময় থাকতে হবে রূপকথার রাজকন্যাদের মতোই পরিপাটি। সাম্প্রতিক ভুটান সফরে ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটন বৌদ্ধ আশ্রম দেখতে সমতল ভূমি থেকে ২ হাজার ৭০০ ফুট ওপরে ওঠেন। তাঁর সঙ্গে এ সময় ছিলেন তাঁর স্বামী রাজপুত্র উইলিয়াম। এ সময় রাজবধূর সঙ্গে আরও ছিলেন তাঁর কেশসজ্জাকার অ্যামান্ডা কুক টাকার, ব্যক্তিগত সহকারী ও স্টাইলিস্ট নাতাশা আর্চার। এই পাহাড় চড়ার অভিযানে কেট পরেছিলেন স্কিনি জিনস, সাদা শার্ট, ওয়েস্ট কোট, হাঁটু পর্যন্ত ওঠানো বুট, আর চোখে ছিল রে-ব্যানের রোদচশমা।
সূত্র: ইয়াহু স্টাইল

.সাজসজ্জায় ভিক্টোরিয়া বেকহাম
বিশ্বখ্যাত পোশাক ডিজাইনার ভিক্টোরিয়া বেকহাম এবার নতুন পরিচয়ে পরিচিত হতে যাচ্ছেন। পোশাক নকশা নয়, এবার তিনি নামছেন সাজসজ্জার সরঞ্জাম তৈরির ব্যবসায়। এ বছরই বাজারে আসছে এই স্পাইস গার্লস তারকার ‘লিমিটেড অ্যাডিশন মেকআপ কালেকশন’। বিশ্বখ্যাত সাজসজ্জার সরঞ্জাম তৈরির প্রতিষ্ঠান এসে লওডনের সঙ্গে এক হয়ে এই বিশেষ মেকআপ পণ্য বাজারে ছাড়বেন ভিক্টোরিয়া। এর আগে ২০১৪ সালে নেইলস ইনকরপোরেটেডের সহযোগিতায় ভিক্টোরিয়া দুটো নেইল পলিশ বাজারে এনেছিলেন। সে সময়ই এই গায়িকা ও ডিজাইনার জানিয়েছিলেন, পোশাক নকশার পাশাপাশি তিনি সাজসজ্জার ব্যবসাতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে আগ্রহী। সূত্র: ভোগ বিউটি

প্রিয়াঙ্কা চোপড়াদেশি সাজে প্রিয়াঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রকে ছোট্ট এক ছুটি দিয়ে ভারতে ফিরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। একের পর এক কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আবারও ফিরে গেলেন সেখানে। এরপর সিরিয়াল কোয়ান্টিকোর শুটিংয়ে কানাডায়। কিন্তু এবারের ভারতের সফর প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জন্য ছিল বিশেষ। কারণ এবার তিনি এসেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কাছ থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কার গ্রহণ করতে। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিতে আগে থেকেই ছাঁটা ছিল প্রিয়াঙ্কার চুল। এর সঙ্গে মিলিয়ে হালকা সবুজ রঙের পাতলা শাড়ি বেছে নিয়েছিলেন এই ‘দেশি গার্ল’। গলায় পরেছিলেন ভারতীয় ডিজাইনার সুমিতের নকশা করা একটি হার। একই দিনে পদ্ম বিজয়ীদের সম্মানে একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানেও পোশাকে দেশি আমেজ ধরে রাখেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি পরেন সব্যসাচীর নকশা করা সোনালি রঙা এক ভারী আনারকলি। সঙ্গে হালকা গয়না ও সাজ।
সূত্র: বলিউড লাইফ


পরিণীতি চোপড়াপরিণীতি চোপড়াসাগরের নীলে পরিণীতি

নতুন ছবি আসতে আরও সময় বাকি ভারতীয় অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার। তিনি এখন ব্যস্ত বিভিন্ন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের জন্য ফটোশুটে। সম্প্রতি ভারতের একটি নামী সাময়িকীর গ্রীষ্ম সংস্করণের জন্য মডেল হলেন পরিণীতি চোপড়া। যেখানে তাঁকে দেখা গেছে সাগরের নীলের সঙ্গে মিলিয়ে পরা হালকা পোশাকে। ছবি তোলা হয় ভারতের একটি সমুদ্রসৈকতে। এখনো সাময়িকীটি বাজারে আসেনি। তবে পরিণীতির অপেক্ষার বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। নিজের সেই ফটোশুটের ছবি পরিণীতি আগেভাগেই টুইটারে মেলে ধরেছেন ভক্তদের সামনে। সূত্র: বলিউড লাইফ

গরমে ফিট থাকতে

hy

গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। অসহ্য লাগছে। এর মধ্যে ব্যায়াম। ধুর, ফিট থাকা যায় নাকি গরমে। এমনটা অনেকে ভাবেন। এই গরমেও সুস্থ থাকতে, ফিট থাকতে ব্যায়াম তো করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীর শিক্ষাকেন্দ্রের ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর হাবিবুর রহমান জানালেন, বছরের যেকোনো সময় শরীর চনমনে রাখতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম করতেই হবে। গরম পড়েছে বলে যে ওজন বাড়বে না তা নয়; বরং তীব্র গরমে শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়া থেকে বাঁচায় ব্যায়াম।
গ্রীষ্মকালীন ব্যায়াম বলে কিছু নেই। সাধারণত যেসব ব্যায়াম করেন, সেগুলোই করতে পারেন। তবে গরমের সময়ে দুপুরে ব্যায়াম করা ঠিক নয়। ঢাকার মগবাজারের ‘মাসল অ্যান্ড ফিটনেস’ জিমের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আকাশ বলেন, গরমে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন ইত্যাদির সমস্যা দেখা দেয়, ফলে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যায়াম করলে ভালো।
এ সময় ব্যায়াম করলে ঘাম বেশি হয়, তাই হালকা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। গরমে ফিট থাকতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কমপক্ষে ১০ মিনিট দড়ি-লাফ দিতে পারেন মডেল: আইরিন* অফিস থেকে ফেরার পথে বা আশপাশে যেকোনো জায়গায় যাওয়ার সময় রিকশা না নিয়ে হেঁটে যান অথবা দিনের যেকোনো সময়ে কিছুক্ষণ অযথা হাঁটাহাঁটি করুন।
* ব্যায়ামের জন্য হাঁটাহাঁটি করতে ইচ্ছা না হলে কোনো শপিং সেন্টারে বা মার্কেটে ঘুরতে যেতে পারেন। সেখানে কিছু পছন্দের বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কেনা হবে আবার আপনার ব্যায়ামও হয়ে যাবে।
* ইয়োগা বা ধ্যানও করতে পারেন। এটি কোনো ঘাম না ঝরালেও শরীর সুস্থ রাখতে এবং আপনাকে ফিট রাখতে অনেক সাহায্য করবে।
* বাসায় বা অফিসে বা অন্য কোথাও ওপরে উঠতে লিফট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সিঁড়ি ব্যবহার করুন। আপনার সারা দিনের ব্যায়ামের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে সিঁড়ি দিয়ে কয়েকবার ওঠানামা করা।
* দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে কমপক্ষে ১০ মিনিট দড়ি-লাফ দিন। দিনে দিনে সময় আরও বাড়িয়ে দিন। কম সময়ে সহজ ব্যায়াম এটি।
* দুপুরে ও রাতে খাওয়ার পর ছাদে বা বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় বা সামনের রাস্তায় একটু হেঁটে আসুন। এই ছোট ব্যায়াম আপনার খাবার হজম করতে এবং শরীর ফিট রাখতে সহায়তা করবে।
* গরমকালে সবচেয়ে ভালো ব্যায়ামগুলোর একটি হলো সাঁতার কাটা। এতে গরম লাগারও আশঙ্কা নেই। তবে সাঁতার কাটার সময় বেশি পানি পান করতে হবে।
* নিজের শরীরকে গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন। প্রথম কয়েক দিন একটু কম সময়, কম কষ্ট হবে এ রকম কিছু ব্যায়াম করুন। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে নিন।
* রাতের বেলা ভালো করে ধুয়েমুছে শুয়ে পড়ুন মেঝের ওপর। মেঝের শীতলতা আপনাকে গরম থেকে মুক্তি দেবে। আর আপনার কোমরে কিংবা পিঠে ব্যথা থাকলে তা সারিয়ে দেবে।
* বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেচিং ব্যায়াম, যেমন—আর্ম স্ট্রেচিং বা লেগ লিফটিং করতে পারেন। এতে খুব একটা ঘাম হয় না কিন্তু রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং বিভিন্ন অংশের চর্বি ঝরে যায়।
* দিনের কিছু সময় ধরে সাইকেল চালানোর অভ্যাস করতে পারেন। সাইকেল চালানোতে একদিকে যেমন ব্যায়াম হয়ে যাবে, অন্যদিকে গরমের প্রকোপ আপনাকে স্পর্শ করবে না।

গরমে যেভাবে চুলের যত্ন নেবেন

as34uexs

বাইরে এখন প্রচণ্ড গরম৷ এ সময় কমবেশি সবাইকে চুল নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়৷ লম্বা বা ছোট—চুল যেমনই হোক, এই আবহাওয়ায় চাই চুলের বিশেষ যত্ন৷ বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভের রূপবিশেষজ্ঞ শারমীন কচি তেমনটাই জানালেন৷ চুলের ধরন অনুযায়ী কোন চুলের যত্ন কেমন হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত জানালেন তিনি৷ শুষ্ক চুলের জন্য গরমে শুষ্ক চুল আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে৷ এ জন্য নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন৷ যেমন সপ্তাহে দুদিন যেকোনো তেল ভালো করে গরম করে চুলে ম্যাসাজ করুন৷ এর মধ্যে একটু পেঁয়াজের রস মিশিয়ে নিলে আরও ভালো হয়৷ পেঁয়াজের রস চুল নরম রাখতে সাহায্য করে৷ এই ম্যাসাজ নেওয়া যায় রাতে ঘুমানোর আগে৷ তেল ম্যাসাজের পর একটা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে চুলে ২০ মিনিট পেঁচিয়ে রাখুন৷ তা ছাড়া এ সময় এক কাপ টক দইয়ের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে লাগাতে পারেন চুলে৷ তারপর বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুলগুলো ১০ মিনিট ধরে আঁচড়ে নিন৷ এবার চুলে কাঁকড়া ক্লিপ পেঁচিয়ে আটকে রাখুন৷ ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেই দেখবেন চুল পাবে অন্য চেহারা!
তৈলাক্ত চুলের জন্য এই আবহাওয়ায় তৈলাক্ত চুলে দেখা দেয় খুশকি৷ গরমে চুলের গোড়া ঘেমে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা হয়৷ তা ছাড়া তৈলাক্ত চুল প্রচুর ময়লা টানে৷ এটাও গরমে খুশকি হওয়ার একটা কারণ৷ এ জন্য তিন চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চা-চামচ তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন৷ সম্ভব হলে সপ্তাহে প্রতিদিন এই ম্যাসাজ নেওয়ার চেষ্টা করুন৷ ম্যাসাজ শেষে ভালো করে চুল ধুয়ে নিন৷ প্রতিদিন শ্যাম্পু না করলেও চলবে৷ লেবুব রস চুলের গোড়ার তৈলাক্ততা দূর করে৷ যে কারণে চুলের গোড়ায় ঘাম কম হয়৷

সাধারণ চুলের জন্য
চুলের ধরন যাঁদের সাধারণ, গরমে তাঁদেরই সবচেয়ে কম ঝামেলা পোহাতে হয়৷ তবে যাঁরা নিয়মিত বাইরে বের হন, তাঁদের জন্যও চাই বিশেষ যত্ন। চুল স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য হারায় রোদে ঘোরাফেরার কারণে। চুলের এই পোড়াভাব এড়াতে আধা কাপ চায়ের লিকারের সঙ্গে একটা ডিম মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন৷ এ ক্ষেত্রে ডিমটাকে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে৷ এই প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন৷ এরপর শ্যাম্পু করে নিন৷
লম্বা চুলের জন্য
যাঁদের চুল লম্বা, গরমে তাঁদের চুলে আগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এ জন্য গোসলের পর প্রতিদিনই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন৷ এ ছাড়া শাওয়ার নেওয়ার পর ঠান্ডা বাতাসে চুল শুকিয়ে নিন৷ বাইরে বের হতে হলে চুলে বেণি বা খোঁপা করে নিতে পারেন৷
ছোট চুলের জন্য
গরমে ছোট চুল বেশ আরাম দেয়৷ কিন্তু চুলে কোনো সমস্যা না দেখা দিলেও চুল ছোট হওয়ার কারণে ঘাড়ের ত্বকে এ সময় দেখা দেয় নানা সমস্যা৷ যেমন রোদে পুড়ে কালচে হয় ত্বক৷ এ জন্য যাঁদের চুল ছোট, তাঁরা বাইরে বের হওয়ার আগে ঘাড়ে ওড়না বা স্কার্ফ পেঁচিয়ে নিতে পারেন৷ তা ছাড়া বাইরে থেকে ঘরে ফিরে ঘাড়ের ত্বকে হালকা বরফ ঘষে নিলে উপকার পাবেন৷

গরমে ঠান্ডা বাড়ি

cgh

আহা, বাড়িতেই যদি কাটিয়ে দিতে পারতাম গরমের সময়টুকু! চলতি পথে রোদের দাপটে নিশ্চয়ই এ কথা মনে হয়। কিন্তু ঘরের ভেতরেও কি মিলছে দুদণ্ড শান্তি? ইট-কাঠ-ইস্পাতের এই নগরে এখন রোদের কারণে বাড়ি হয়ে থাকে গরম। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরোনোর স্বাস্থ্য টিপস তখন করুণ কৌতুকই মনে হয়। তাহলে নিজের ঘরে কীভাবে মিলবে আরাম। জানতে চেয়েছিলাম স্থপতি নাহাস আহমেদ খলিলের কাছে। ঘরের আসবাবপত্র যেন তাপ না বাড়ায়,ঘরের পাশে এক চিলতে সবুজ, গাছ তাপ কমাবে, বড় জানালার পাশে ছোট বাঁশঝাড়তিনি বললেন, ‘গরমে ঘরের বাইরের চেয়ে ভেতরটা খুব বেশি শীতল করা যাবে না। তবে বাইরের চেয়ে উত্তাপ যাতে বেশি না হয়, সে ব্যবস্থা করার বেশ কিছু উপায় আছে। ঘর শীতল রাখার বিষয়টি বাড়ি তৈরির পরিকল্পনার সময়ই আমাদের বিবেচনা করতে হবে। খেয়াল করতে হবে ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকছে কি না। যদি ঘরটা খোলা থাকে সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করাটা সে রকম ক্ষতিকর নয়। তবে সূর্যের আলো ঘরের বেষ্টনীর যে তলগুলোতে পড়ছে, সেগুলো ছায়ায় রাখতে পারলে ঘর অনেকটা কম উত্তপ্ত হবে। বাড়ি বা ফ্ল্যাট দক্ষিণ-পূর্ব দিকমুখী করে তৈরি করা সব থেকে ভালো। বেশি ব্যবহৃত ঘরগুলো দক্ষিণমুখী হলেই ভালো। তবে দক্ষিণ দিকের বাতাস যেন ঘরে প্রবেশ করতে পারে।’
বাড়ি বানাতে দিক বিবেচনার কারণ হলো সূর্য গরমকালে দক্ষিণ দিকে খাড়াখাড়িভাবে থাকে, তাই দেয়ালে ছায়া ফেলে সহজে। পূর্ব দিকেও সূর্য একটু হেলে থাকে গরমের সকালবেলায়। শুধু বাড়ি নির্মাণে নজর দিলেই হবে না। গরমে স্বস্তির সন্ধান পেতে অন্দরের আসবাব ও গায়ে পোশাক জড়ানোর ক্ষেত্রেও হতে হবে সতর্ক। পশ্চিমের বদ্ধ পোশাক বাদ দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ঢিলে সুতির পোশাক অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।
নাহাস আহমেদ বলেন, ‘ঐতিহ্যগত প্রতিটি জিনিস উদ্ভবের পেছনেই কারণ থাকে, যা আমাদের সংস্কৃতি ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই। স্যুট-টাই পরা হয় শরীরের গরম আটকানোর জন্য, তাই এটা শীতপ্রধান পশ্চিমা দেশের পোশাক। ঘরের সোফা, বালিশ, তোশক শুধু আরামদায়ক হলেই হবে না, তা কতটা তাপ উৎপন্ন করবে, সে বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে।’
বহুতল ভবনে যে বাসিন্দারা একেবারে ওপরের তলায় (টপ ফ্লোর) থাকেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় বেশি গরমে থাকেন। সে ক্ষেত্রে শীতলীকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সম্ভব হলে আরেকটি জলছাদ তৈরি কিংবা ফাঁপা ইটের (হলো ব্রিক) মাধ্যমেও গরমের প্রকোপ কামানো যেতে পারে। এ ছাড়া ছাদে বাগান করলেও তাপ সরাসরি ঘরে আসবে না। শুধু ছাদের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেই নয়, ঘর শীতল রাখতে বারান্দায় গাছ রাখতে পারেন সবাই। রোদের তাপ গাছ শোষণ করে, ঘর ঠান্ডা থাকবে।
নাহাস আহমেদের কিছু পরামর্শ—
* ঘরের দেয়ালের ছাদকে ছায়ায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে বারান্দা, সানশেড, কার্নিশ ব্যবহার করুন।
* বাতাস চলাচলের জন্য দক্ষিণ, পূর্ব-দক্ষিণ দিকে যতটা পারা যায় খোলা জায়গা রাখতে হবে।
* বেশি ব্যবহৃত কক্ষগুলো দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখা ভালো।
* উত্তর দিকে সূর্য আসে না, তাই বাড়তি উত্তাপও হয় না। তবে গরমকালে বাতাসও আসে না, তাই ভেতরের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। পশ্চিমে সূর্যের আলো অনেকটা হেলানভাবে দেয়ালে পড়ায় দেয়ালে ছায়া পাওয়া যায় না। পশ্চিমের দেয়াল তাতে গরম হয়।
* কার্পেটসহ তাপ ধরে রাখে এমন আবরণ ব্যবহার না করা ভালো।
* সোফা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা তাপ উৎপন্ন করে ও ধরে রাখে সে বিষয় মাথায় রাখতে হবে।
* বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারে ঘর গরম হয় কি না, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।

গরমেও ময়েশ্চারাইজার!

g

গরম দেখে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর চিন্তাও কি বাদ? গরমের দিনে ক্রিম লাগানোর কথা চিন্তাতেও হয়তো আসে না। কিন্তু গরমেও ত্বক আর্দ্রতা হারায়। এ সময় সার্বিকভাবে শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। আর তাই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গরমেও ভোলা যাবে না ময়েশ্চারাইজারের কথা। হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা জানালেন, এই সময়ে ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। শীতের সময়টার মতো ভারী কোনো ময়েশ্চারাইজার নয়, বরং হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন তিনি।

গরমে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
প্রতিবার মুখ ধোয়ার পরই ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকে বাড়তি কোনো আর্দ্রতা তৈরি হয় না, বরং ক্ষারজাতীয় পদার্থের বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো। ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর ময়েশ্চারাইজার লাগানো না হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
সমপরিমাণ গোলাপজল ও গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। এটিকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক শুষ্ক-প্রকৃতির হলে এতে সামান্য জলপাই তেল যোগ করতে পারেন। চাইলে মধুও লাগাতে পারেন। মধু ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে। লাগানোর কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে ক্লেনজারের পরিবর্তে দুধের সর আর মধু দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে পারেন। দুধের সর ও মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সোনালী’স এইচডি মেকআপ স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী সোনালী ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘রোদে যাওয়ার মিনিট বিশেক আগে ময়েশ্চারাইজিং সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। এতে ত্বকে রোদের বিরূপ প্রভাব কম পড়বে, আবার ত্বক আর্দ্র থাকবে।’ এই সময়টার জন্য ওয়াটারবেসড ময়েশ্চারাইজার ভালো। মুখে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর গলার ত্বকেও লাগিয়ে নিন। হাত ও পায়ের জন্যও আলাদা ময়েশ্চারাইজিং সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে এটি। রোদ থেকে ফিরে ত্বক পরিষ্কার করে হালকা লোশন লাগিয়ে নিতে পারেন। গোসলের পর এবং ঘুমানোর আগে হালকা কোনো লোশন লাগিয়ে নেওয়া ভালো। অ্যালোভেরা ও জোজোবার মতো হালকা উপাদান ব্যবহারে আরাম পাবেন। জেলজাতীয় ময়েশ্চারাইজারও এই আবহাওয়ায় মন্দ নয়। সহজেই ত্বকে মিশে যায় এবং ত্বকে চিটচিটে ভাবও থাকে না। রাহিমা সুলতানা ও সোনালী ফেরদৌসী মজুমদার দুজনেই জানালেন, এই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি, ডাবের পানি, ফলমূল ও সবজি রাখতে হবে।

গরমে বড় সমস্যা জন্ডিস

gcfd

গরমে আর ক্লান্তিতে বাইরের খোলা খাবার ও পানীয় গ্রহণের হার বেড়ে যায়। তার ওপর গরমে সহজেই খাদ্যদ্রব্য দূষিত হয়। বাড়ে মাছি ও পোকামাকড়ের বিস্তার, যা রোগবালাই ছড়াতে সাহায্য করে। এসবের ফলে বাড়ে পানি ও খাবারবাহিত রোগের প্রকোপ। এর মধ্যে একটি বড় সমস্যা হলো জন্ডিস।
পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস। এই ভাইরাস দুটির কারণে সব বয়সের মানুষই জন্ডিসে আক্রান্ত হতে পারে। পানীয় ও খাবারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অসচেতনতাই জন্ডিসের জন্য মূলত দায়ী।
জন্ডিস থেকে বাঁচতে বিশেষ করে রাস্তার খোলা খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। খাবারে ধুলাবালি, মাছি ও তেলাপোকার মাধ্যমে জীবাণু ঢুকে যেতে পারে। তাই বাড়িতেও সব সময় খাবার ঢেকে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পচা-বাসি খাবার খাওয়া চলবে না।
যেকোনো স্থানে পানি বা শরবত খাওয়ার আগে পানির উৎস ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বাইরে বেরোনোর সময় খাবার ও পানি সঙ্গে নেওয়া উচিত। ফুটানো পানি বা টিউবওয়েলের নিরাপদ পানি পান করতে হবে। ফলমূল ও সবজি খাওয়ার আগে সেগুলোও ফুটানো পানি বা টিউবওয়েলের পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
খাবার খাওয়ার আগে যেমন সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, ঠিক তেমনি খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময়ও হাত ধুতে হবে। পানি ও খাবার রাখার পাত্রগুলোকেও রাখতে হবে পরিষ্কার। খাওয়ার পরে এঁটো থালাবাসন দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা ঠিক নয়। খাওয়ার পরে বাসনগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, অন্যথায় মাছি আর তেলাপোকার মাধ্যমে জীবাণুর অনুপ্রবেশ হবে সেসবেও। তীব্র অরুচি, বমি ভাব বা বমি, জ্বর, সঙ্গে প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া জন্ডিসের লক্ষণ। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ
মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ঘরের রঙে জীবন রঙিন

hgfd

কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা ও নানা চাপে আমাদের জীবন অস্থির হয়ে উঠতে পারে। মনে ভর করতে পারে অশান্তি। কাজকর্মে আসতে পারে অনীহা। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত ঘরে তো একটু শান্তি চাই। সেক্ষেত্রে ঘরে জুতসই রঙের ব্যবহার মানুষের জীবন ও মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন তাই।
সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘরের রং জীবনের রংকে প্রভাবিত করে। জীবনের ঘটনাপ্রবাহে চারপাশের রঙের দারুণ প্রভাব আছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, মানুষের জীবনে নানা বাধাবিপত্তি থাকে। সমস্যা ব্যক্তিগত বা পেশাগত-যা-ই হোক না কেন, পারিপার্শ্বিক পরিবেশে রঙের সঠিক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মনকে সতেজ ও ফুরফুরে রাখা যায়। ঘরে প্রশান্তির রং বাসিন্দাদের মন-মেজাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
ঘরে সঠিক রঙের ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে নকশাকার অ্যামান্ডা ট্যালবটের ভাষ্য, মানুষের মেজাজকে বদলে দিতে পারে রং। এটা সুখ, দুঃখ, উদ্যম ও প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
একেকটি রং একেক পরিবেশ ও আবহ তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ রঙের সঙ্গে সুখ, স্বস্তি, আশা, উচ্ছ্বাস ও শান্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
নীল রং আমাদের মনকে শাণিত করতে পারে। লাল ও নীলের মিশ্রণ স্বস্তিদায়ক।
কোন রং কার জন্য উপযোগী, তা ব্যক্তি ও জেন্ডার ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। নিজের পছন্দের কথা তো কম-বেশি সবারই জানা। এরপরও প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করা যেতে পারে।

পাতলা ভ্রু ঘন হবে?

ugyh
ঘন ভ্রু হলে থ্রেডিং করে পছন্দমতো আকার দেওয়া যায়। কিন্তু যাঁদের ভ্রু স্বাভাবিকভাবেই পাতলা, তাঁরা কী করবেন। চোখের পাপড়ি পাতলা হলেই বা সমাধান কী। কৃত্রিম পাপড়ি ও মাসকারার মাধ্যমে ভ্রু ও পাপড়ি ঘন দেখানো যায় কীভাবে। প্রাকৃতিকভাবে পাতলা ভ্রু ও পাপড়ি কি ঘন করা সম্ভব? জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রূপবিশেষজ্ঞ আমিনা হক জানালেন, অনেক সময় খুশকি বা ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে পাপড়ি ও ভ্রু পড়ে যেতে শুরু করে। খারাপ মানের প্রসাধনী ব্যবহার এবং প্রসাধনী ব্যবহারের পর ঠিকমতো পরিষ্কার না করলেও এমন হতে পারে বলে জানিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন। তাঁর মতে স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ সুস্থতা না থাকলে বাহ্যিক রূপ কখনোই সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে না, তা ত্বকের ক্ষেত্রেই হোক কিংবা চুলে।
রূপচর্চার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা সমাধানের আগে কোনো চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত। হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আফজালুল করিম জানালেন, অনেক সময় দেখা যায় ভ্রুর কোনো একটি অংশের চুল ঝরে যেতে থাকে। এটি একধরনের রোগ, যাকে এলোপেশিয়া এরিয়েটা বলে। এমন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অনেক সময় মাথায় খুশকি হলে ভ্রু ও পাপড়িতে তা ছড়িয়ে পড়ে, এটিও সমাধান করতে হবে চিকিৎসার মাধ্যমে। অবশ্যই চুল, চোখের পাপড়ি ও ভ্রু যুগলের খুশকি দূর করার চিকিৎসা শুরু করতে হবে একসঙ্গে, তা না হলে খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে। চুল পড়ে যাওয়া রোধ করতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
রূপবিশেষজ্ঞরা জানান, ক্যাস্টর ওয়েল বা তিলের তেল তুলায় ভিজিয়ে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ভ্রুতে আলতো করে কিছুক্ষণ ঘষলেও প্রাকৃতিকভাবে ভ্রু ঘন হয়ে ওঠে। তবে এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, এ জন্য ধৈর্য ধরতে হবে।
ভ্রু ও পাপড়ি ঘন দেখাতে যা যা করতে পারেন
* মেকআপের সময় ভ্রু ঘন দেখানোর জন্য কালো বা বাদামি আইব্রও পেনসিল, ব্ল্যাক ডাস্ট পাউডার ইত্যাদির সাহায্যে ভ্রু এঁকে মোটা ও ঘন দেখানো যায়।

* ভ্রু আঁকার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভ্রুর শুরুতে হালকা করে, মাঝের অংশ একটু গাঢ় এবং একদম শেষের ধারটা
চিকন করে আনতে হবে। তা না হলে কৃত্রিম মনে হবে।
* পাপড়ি ঘন দেখানোর জন্য মাসকারা তো সব সময় ব্যবহার করা যায়। কয়েক পরত ব্যবহার করলে তা আরও ঘন দেখাবে। তবে প্রতিবার দেওয়ার পর পরবর্তী পরত মাসকারা দেওয়ার জন্য আগেরটি শুকিয়ে নিতে হবে।
* কৃত্রিম পাপড়িও ব্যবহার করা যেতে পারে। অল্প ঘন, বেশি ঘন বেশ কয়েক রকমের কৃত্রিম আইল্যাশ বা পাপড়ি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। বয়স ও পরিবেশ বুঝে তা ব্যবহার করতে পারেন।

মনে রাখুন
* চোখে যেকোনো প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার মান এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া দরকার।
* আই মেকআপ রিমুভার বা কোনো ভালো লোশন দিয়ে খুব ভালোমতো চোখের মেকআপ তুলে ফেলুন।
* চোখের মেকআপ তোলার জন্য পরিষ্কার তুলা বা কাপড় ব্যবহার করবেন। টিস্যু পাতলা থাকে বলে তা ভিজে চোখের ভেতর রিমুভার ঢুকে যাওয়ার ভয় থাকে। কিংবা টিস্যুর অংশও ঢুকে যেতে পারে।
* খুশকি হলে চুলকানো এবং চোখ জোরে জোরে ঘষাঘষি করবেন না।
* নিয়মিত প্রোটিন এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খা

কী খেলে সুন্দর থাকবেন

r5

নানান উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে বা গুঁড়া করে নানান প্যাক তৈরির ঝক্কিতে হয়তো নিজের ত্বক বা চুলের যত্ন নেওয়াই হয় না। ব্যস্ত জীবনে এই হ্যাপা কজন সামলাতে পারেন, বলুন তো? সময় নেই, তাই বলে থেমে থাকবে রূপচর্চা? একদমই তা নয়। রোজকার খাবারদাবার একটু বুঝেশুনে খেলে খাবার থেকেই মিলবে চুল, ত্বক ও নখের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল বলেন, চুল, নখ ও ত্বক সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস। প্রতিটি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করতে হবে পরিমাণমতো। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, স্নেহজাতীয় পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও পানি রাখতে হবে সঠিক পরিমাণে। কোনো খাদ্য উপাদান ত্বক বা চুলের জন্য উপকারী বলে সেই উপাদানটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনো একটি খাদ্য উপাদান দৈনন্দিন চাহিদার চেয়ে কম পরিমাণে গ্রহণ করাও উচিত নয়।
তিনি আরও জানালেন, পানি যেমন ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করলে কিডনিতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পানি পান করা কোনোটিই ঠিক নয়; যতটা প্রয়োজন, ততটাই পান করতে হবে। আপনার শরীরের পানির চাহিদা মিটছে কি না, তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। পানির চাহিদা পূরণ না হলে প্রস্রাবের রং হলুদ দেখায়, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াও থাকতে পারে।
রূপচর্চায় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানালেন সোনালী’স এইচডি মেকআপ স্টুডিওর রূপবিশেষজ্ঞ সোনালী ফেরদৌসি মজুমদার। দেখুন তাঁর পরামর্শ।
* চুল মজবুত ও সুস্থ রাখতে আমিষজাতীয় খাবার প্রয়োজন। আমিষের অভাবে চুল পড়ে যেতে পারে। উজ্জ্বল ত্বক ও সুন্দর নখের জন্যও চাই আমিষজাতীয় খাবার। মাছ, মাংস, ডিম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার থেকে আমিষ পাওয়া যায়।
* আয়রনের অভাবেও চুল পড়তে পারে। কচুশাকসহ অন্যান্য সবুজ শাক, পেয়ারা, আপেল, কলিজা প্রভৃতিতে আয়রন রয়েছে।

* ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথা ও দেহের ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। মাছের তেল ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস।
* সুস্থ চুল ও সুস্থ ত্বকের জন্য আরেকটি প্রয়োজনীয় উপাদান ভিটামিন এ। রঙিন শাকসবজি ও ফলমূলে রয়েছে ভিটামিন এ।
* চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করবে বায়োটিন। কাঠবাদাম, ডিমের কুসুম, কলিজা প্রভৃতি থেকে মিলবে প্রয়োজনীয় এই উপাদানটি।
* চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করবে জিংক। ত্বকের কোষগুলোর জন্যও জিংক প্রয়োজন। গম, যবসহ বিভিন্ন শস্যকণায় মিলবে জিংক।
* ত্বকের জন্য আরও একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ভিটামিন সি। লেবু, আমড়া, পেয়ারাসহ বিভিন্ন টক ফলে পাবেন প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি।
* এ ছাড়া চুল ও ত্বকের সৌন্দর্যে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

রাখাইনদের পানিখেলা উৎসবে

huyyr6te7

বাংলাদেশর প্রধান দুটি সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ও কুয়াকাটার আশপাশে বসবাস করেন রাখাইন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রচুর মানুষ। এ নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের আকর্ষণীয় অংশ হল পানিখেলা। কক্সবাজার শহর এবং আশপাশের রাখাইন আধিবাসীরা এ পানিখেলার আয়োজন করেন ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল।

সাগরকন্যা কুয়াকাটা এলাকায় বসবাসরত রাখাইন সম্প্রদায়ও একই সময়ে পানিখেলা বা জলকেলি উৎসবের আয়োজন করে।

কক্সবাজার

কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় বিভিন্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করেন বাংলা নববর্ষ। চৈত্র সংক্রান্তি থেকে এ উৎসব শুরু হয়ে চলে প্রায় সপ্তাহজুড়ে। তবে এর আকর্ষণীয় পর্ব পানি খেলা শুরু হয় বৈশাখের চতুর্থ দিন থেকে। আর চলে ষষ্ঠ দিন পর্যন্ত।

ইংরেজী তারিখ হিসেবে রাখাইনদের এ পানি খেলা হয় ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল।

কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের এ উৎসবের মূল জায়গা হল শহরের খ্যায়াং পাড়া, হাংগর পাড়া, মাঝপাড়া, বড় বাজার, মাছপাড়া, চাউল বাজার ও টেকপাড়া। বাড়ির আঙিনায় আঙিনায় এখানে চলে পানি খেলার আয়োজন। সঙ্গে রাখাইন সম্প্র0দায়ে সব বয়সের নারী পুরুষের সম্মিলিত নাচ আর গান।

মূল উৎসবে রাখাইন যুবকরা বাদ্য আর গানের তালে তালে এসে উপস্থিত হন বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায়। সেখানে ফুলে ফুলে সুজ্জিত প্যান্ডেলের ভেতরে পানি নিয়ে অপেক্ষা করেন রাখাইন তরুণীরা। চলে একে অপরকে পানি ছিটানো।

পানিকে পবিত্রতার প্রতীক ধরে নিয়ে রাখাইন তরুণ-তরুণীরা পানি ছিটিয়ে নিজেদের শুদ্ধ করেন। পুরানো বছরের সব কালিমা আর জীর্ণকে ধুয়ে নতুন বছর বরণ করে নেন তারা। এ উৎসব উপলক্ষে এ সময়ে সবাই নতুন পোশাক পরেন।

রাখাইনদের এ জলকেলি উৎসব দেখার পরে বেড়াতে পারেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও।

কক্সবাজার শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার হাইটুপি, টেকনাফের খ্যায়াংখালী ও চৌধুরী পাড়া এবং মহেশখালী উপজেলা শহরেও পানিখেলার আয়োজন করেন স্থানীয় রাখাইন অধিবাসীরা।

যাতায়াত ও থাকা

সড়ক ও আকাশ পথে ঢাকা থেকে সরসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে সড়কপথে টি আর ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন সার্ভিস, দেশ ট্রাভেলস, সোহাগ পরিবহন, গ্রিনলাইন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজের, এসি বাস কক্সবাজার যায়। ভাড়া ১ হাজার ৬শ’ থেকে ২ হাজর ৫শ’ টাকা। এছাড়া এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল প্রভৃতি পরিবহনের নন এসি বাসও চলে এ পথে। ভাড়া ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভো এয়ার, ইউএস বাংলা এয়ার, রিজেন্ট এয়ার ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান যায় সৈকত শহর কক্সবাজারে।

কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন মানের বেশ কিছু হোটেল রিসোর্ট রয়েছে। পাঁচ তারকা থেকে শুরু করে সব ধরনের হোটেল আছে এ জায়গায়। কক্সবাজারে সাধারণত ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকায় হোটেল কক্ষ মিলবে। এসময়ে কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে ‘অফ সিজন’ ছাড় পাওয়া যাবে।

কুয়াকাটা

রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম সামাজিক এ উৎসব দেখা ছাড়াও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দেখে আসতে পারবেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় জলকেলি উৎসবের আয়োজন থাকে গোড়া আমখোলা পাড়ায়। এতে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রাখাইন তরুণ-তরুণীরা এ উৎসবে যোগ দেন। তাদের বিশ্বাস এ দিনগুলোতে পরস্পরের প্রতি পানি ছুড়ে পাপ পঙ্কিলতাকে ধুয়ে ফেলা যাবে।

উৎসবে রাখাইন তরুণ-তরুণীদের সংগীত আর রাখাইন নৃত্যও উপভোগ্য।

যাতায়াত ও থাকা

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার সহজ উপায় হলো লঞ্চে বরিশাল কিংবা পটুয়াখালী গিয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা।

ঢাকার সদরঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র রকেট স্টিমার পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ এবং পিএস লেপচা, পিএস শেলা, পিএস টার্ন এবং এমভি বাঙ্গালী ও মধুমতিতে বরিশাল যাওয়া যায়।

এছাড়াও সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাতে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছাড়ে এমভি সুন্দরবন, এমভি সুরভী, এমভি ফারহান, এমভি দ্বীপরাজ, এমভি কীর্তনখোলা, এমভি কালাম খান, এমভি পারাবাতসহ বিভিন্ন লঞ্চ।

ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যায় এমভি দ্বীপরাজ, এম ভি সৈকত, এম ভি সুন্দরবন, এম ভি রেড সান ইত্যাদি লঞ্চ।

বরিশালের রূপাতলী বাস স্টেশন ও পটুয়াখালী আন্তঃজিলা বাস স্টেশন থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় কুয়াকাটার বাস আছে।

এছাড়া ঢাকার গাবতলী থেকে সাকুরা পরিবহন, সুরভী পরিবহন, দ্রুতি পরিবহনের বাসেও সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়া যায়।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ইয়ুথ ইন ও পর্যটন হলিডে হোমস ছাড়াও বিভিন্ন মানের হোটেল আছে।

শুষ্ক হাত পায়ের যত্নে

vy76gtf

মুখের ত্বকের যত্ন নিয়মিত নিলেও অনেক সময় হাত-পায়ের দিকে খেয়াল করেন না অনেকেই। ফলে হাত ও পায়ের ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে। ত্বকের এমন শুষ্কতা খুব অস্বস্তিদায়ক। অনেকের পানিতে হাত ধুলেই হাত সাদা হয়ে যায়। আঙুলের ফাঁকের ত্বক উঠে যায়। পায়ের ত্বকের এমন হতে পারে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় এসব সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অধ্যাপক রেজা বিন জাভেদ বলেন, বংশগত বা জিনগত কারণে অনেকের ত্বকে তেল গ্রন্থিগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকে। ফলে ত্বকের প্রয়োজনমতো তেল নিঃসৃত হয় না। তাই শুষ্কতা দেখা যায়। আবার কিছু রোগের কারণেও হতে পারে। যেমন একজিমা, সোরিয়াসিস ইত্যাদি চর্মরোগের জন্য ত্বক রুক্ষ হয়। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পানিশূন্যতার কারণেও ত্বক শুষ্ক হতে পারে। ময়েশ্চারাইজার লোশনে কাজ না হলে সমস্যা চিহ্নিত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ত্বক সুন্দর রাখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত যত্নের। রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন বলেন, ত্বক শুষ্ক হলে পানির কাজ করার পরেই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। অনেকের পা ফেটে চামড়া উঠে যায়। এমনকি রক্তও বের হতে পারে। তাই প্রয়োজন হাত-পায়ের ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখা, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন প্যাডিকিওর, মেনিকিউর করা। হাতের ত্বক মসৃণ করতে অলিভ অয়েল ১ চামচ, ৫ চামচ লবণ, ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে স্ক্রাব করতে পারেন।œএ ছাড়া বাজারে হ্যান্ড ক্রিম ও পা ফাটা রোধের জন্য বিশেষ ক্রিম পাওয়া যায়। সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
জেনে নিন
* সারা দিনে বারবার ময়েশ্চারযুক্ত লোশন ব্যবহার করুন।

* রাতে ঘুমানোর আগে হাত-পায়ে অলিভ অয়েল, গ্লিসারিন বা লোশন ব্যবহার করুন।
* শুষ্ক স্থানে মধু ও অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করে দু-তিন মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
* পরিমিত পানি পান করুন।
* অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করে সুষম খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করুন।
* প্রয়োজনে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান।

শিশুর ঘামাচি: কী করবেন

huiuh

গ্রীষ্মের দাবদাহে ছোটরা এমনিতেই অস্থির। এর মধ্যে শরীরে ঘামাচি হলে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়ে। এটি মূলত ঘর্মগ্রন্থির সমস্যা। শরীরে ঘাম তৈরি হলে ওই গ্রন্থির মাধ্যমে তা ত্বকের উপরিভাগে চলে আসে। প্রচণ্ড গরমে ঘাম অনেক বেশি তৈরি হয়, তখন এত বেশি পরিমাণ ঘাম ঘর্মগ্রন্থির ছিদ্রপথে বেরোতে পারে না। ফলে তা ত্বকের নিচে এসে জমা হতে থাকে এবং সে স্থান ফুলে ওঠে। এভাবেই ঘামাচি তৈরি হয়, সেই সঙ্গে থাকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া।
গরমে শিশুদের ঘামাচি থেকে বাঁচাতে করণীয়:
* ঘামাচিগুলোকে নখ দিয়ে খোঁচানো যাবে না।
* পাতলা কাপড় সামান্য ভিজিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিন। কাপড়ের ভেতর বরফকুচিও ব্যবহার করতে পারেন।
* শিশুকে যথাসম্ভব শীতল পরিবেশে রাখুন। ফ্যান বা পাখা চালাতে বাধা নেই। ফ্যানের বাতাসে শিশুর ঠান্ডা লাগার ভয় নেই, তার চেয়ে গরমে ঘাম থেকে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা বেশি।
* গরমের দিনে শিশুকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে কোনো অ্যান্টিসেপ্টিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
* শিশুকে হালকা সুতির কাপড় পরান ও প্রচুর পানি পান করান।
* গরমে তেল, লোশন একেবারেই ব্যবহার করবেন না। তবে ঘামাচি পাউডার দিতে পারেন।
লালচে দানার মতো দেখতে সব ফুসকুড়ি বা র্যাশই কিন্তু ঘামাচি নয়। তাই এ ধরনের র্যাশের সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য জটিলতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. আবু সাঈদ
শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: বেশিক্ষণ টিভি দেখলে কি চোখের ক্ষতি হয়?
উত্তর: দীর্ঘ সময় টিভি দেখলে চোখে ক্লান্তি আসে। চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং চোখে অস্বস্তি হয়। দীর্ঘদিন এভাবে অনেকটা সময় ধরে টিভি দেখলে ধীরে ধীরে চোখের স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
অধ্যাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ
বিভাগীয় প্রধান, চক্ষু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

মাহির সুন্দর জীবন

ygtov

একেক সময় একেক পোশাক পরেন। তবে সব সময়ই গুরুত্ব পায় আরাম। বাসায় ঢিলেঢালা পোশাক পরেন। বাইরে পশ্চিমা ঢঙের পোশাক পরা হয় বেশি।

মাহি বলেন, ‘কেনাকাটা কিংবা যেকোনো প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হলে জিনস, টি-শার্ট বা শার্ট পরে নিই। আরামদায়ক মনে হয়।’ দেশের বাইরে ঘুরতে বা শুটিংয়ে গেলে ভ্রমণের সময় হাফপ্যান্ট, টি-শার্টের মতো পশ্চিমা পোশাকই পরে নেন বড় পর্দার এই তারকা।
বিদেশ ভ্রমণে মাহি পশ্চিমা ঢঙের পোশাক পরেন। ছবি: সুমন ইউসুফছবির মহরত কিংবা প্রিমিয়ার শোসহ বিশেষ অনুষ্ঠানে গাউনই পরেন বেশি। গাউনের রং অবশ্যই লাল, নীল বা কালো হতে হবে। মাহি বলেন, ‘দিন বা রাতের অনুষ্ঠানের পরিবেশ বুঝে গাউনের রং ঠিক করে নিই।’ দেশীয় কোনো অনুষ্ঠানে শাড়ি বেছে নেন তিনি। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে কপালে লাল টিপ পরেন। মাহি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই লাল টিপ আমার পছন্দ।’
গয়নার প্রতি কোনোই দুর্বলতা নেই তাঁর। হাতে একটি প্লাটিনামের চুড়ি পরেন। আর হাতের আঙুলে সব সময়ই থাকে রুবি পাথরের আংটি। মাহি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরু থেকেই রুবি পাথরের আংটি পরি। এই আংটি আমার জন্য আশীর্বাদ মনে হয়।’
দেশি অনুষ্ঠানে পরেন দেশি শাড়িপায়ের জন্য স্লিপারে বেশি আরাম পান। তবে জিনসের সঙ্গে নাইকি ও অ্যাডিডাস ব্র্যান্ডের কেডস পছন্দ।
শীতকালে যেমন ঘুরতে মজা, আবার খাবারদাবারের উপাদানগুলো ভালো থাকে। আর এই পছন্দের ঋতুতে সালোয়ার-কামিজের ওপর শাল বা হুডি চাপিয়ে নেন তিনি। শীতকাল মাহির প্রিয় ঋতু।
সুগন্ধির প্রতি দুর্বলতা আছে এই চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর। বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের সুগন্ধির যেমন পছন্দ, তেমনি আতরও তাঁর বিশেষ পছন্দ। মাহি বলেন, ‘আতরের ঘ্রাণটা অন্য রকম মনে হয়। সেই ছোটবেলা থেকেই আমার পছন্দ।’ গিভেন্সি ও ভিক্টোরিয়া সিক্রেটসের সুগন্ধি তাঁর ভালো লাগে।
পার্টিতে দেখা যায় গাউনেটকজাতীয় খাবার তাঁর পছন্দ। গরুর কালো ভুনা পেলে সব ভুলে যান তিনি। আর সেটা নিজের হাতেই রান্না করতে পছন্দ করেন। তবে মায়ের হাতে শুঁটকি রান্না তাঁর খুব প্রিয়। পছন্দের তালিকায় তেহারীর কথা না বললেই নয়। তেহারী খেতে রাতবিরাতে বন্ধুরা মিলে প্রায়ই পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজারে ঢুঁ মারেন।
শুটিং থাকলে ভোর চারটা, না থাকলে বেলা করেই ঘুম থেকে ওঠেন মাহি। ঘুম থেকে উঠে নিয়ম করে প্রতিদিনই মধু-পানি পান করেন।
সিনেমার নায়িকা, সিনেমা না দেখলে কি হয়! মাহি জানান, বলিউডের নতুন নতুন ছবিগুলো দেখা হয় তাঁর। আর শাবনূর, সালমান শাহ অভিনীত ছবিগুলো নিয়মিতই দেখেন তিনি।
শুটিংয়ের জন্য প্রতিদিনই মুখে ভারী মেকাপ নিতে হয় তারকাদের। আর এ কারণে দরকার হয় ত্বকের বাড়তি যত্নও। মাহি বলেন, ‘ত্বকের বাড়তি যত্ন নিতে আমি নিয়মিত মুখে টমেটো লাগাই। এতটুকুই।’ শুটিংয়ে চুলের ওপরও কম ধকল যায় না। তাই যত্নে নিতে নিয়মিতই চুলে তিলের তেল ব্যবহার করেন তিনি। এতে চুল শক্ত থাকে।
আলো-ছায়া দিয়ে নিজের ঘর সাজিয়েছেন মাহি। কাঠ, মাটি বা চীনামাটির তৈরি জিনিসপত্র দিয়ে আলোর বিভিন্ন শেড বানিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন। নিজ হাতেই এই আলো-ছায়ার আবহ তৈরি করেন তিনি। আবার বিভিন্ন ধরনের ঝাড়বাতিও তাঁর পছন্দ।
মাহির স্কুলজীবনের বন্ধুরাই যেন প্রাণ। অবসর পেলেই বন্ধুদের নিয়ে মেতে ওঠেন এই তারকা। ঢাকার বাইরে দূরের রাস্তায় নিজেই গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কখনো সিলেট, কখনো বান্দরবান—পাহাড়ঘেরা অরণ্যে ঘুরতে চলে যান। কখনো কখনো গাড়ি রেখে বান্দরবানের পাহাড়ি রাস্তায় যাত্রীবাহী বাসের ছাদে দলবল মিলে উঠে পড়েন। মাহি জানান, বন্ধুরা মিলে দূরে কোথাও ঘুরতে গেলে নিজেকে আর অভিনেত্রী ভাবেন না। যা মন চাই, তা-ই করেন। ভাবেন, জীবনটা ছোট কিন্তু অনেক সুন্দর!

বর–কনে প্রস্তুত তো?

bv cbj

বিয়ের অনুষ্ঠান তিন-চার দিনে শেষ হয়ে গেলেও এর প্রস্তুতি কিন্তু চলতে থাকে অনেক দিন থেকেই। বিয়ের মূল কেন্দ্রে থাকেন বর-কনে, তাই তাঁদের প্রস্তুতি নেওয়ার একটা ব্যাপার থাকে। বিয়ের দিনটিতে সবাই চায় তাঁকে সুন্দর দেখাক। নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য তাই রূপচর্চার প্রস্তুতিও শুরু করে দেওয়া উচিত অনেক দিন আগে থেকেই।
রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় খুঁটিনাটি সব বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে বিয়ের কাজগুলো দায়িত্বশীল কয়েকজনের হাতে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে। মাথায় দুশ্চিন্তা থাকলে তার প্রভাব পড়বে চেহারাতেও। এ জন্য নিজের রূপচর্চা ও শারীরিক পরিচর্যার কাজটি বিয়ের কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু করে দেওয়া প্রয়োজন।
বর ও কনে কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা ও কাজী কামরুল ইসলাম।
কাজী কামরুল ইসলাম মনে করেন, নিজেদের সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিয়ের আগেই বর-কনেকে একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে রূপচর্চাবিষয়ক পরামর্শ নিতে হবে। ব্যস্ততার কারণে হয়তো দুই-এক মাস আগে থেকে সময় বের করে নিয়মিত রূপচর্চা করা সম্ভব নয়।
গায়েহলুদের অনুষ্ঠান দিয়েই সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি গায়েহলুদের এক বা দুই দিন আগে থেকেই শুরু করতে হবে। রাহিমা সুলতানাও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

চুল
বিয়ের একদম আগে বর বা কনের চুলের কাট বা রং নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়। কারণ চেহারার সঙ্গে তা মানিয়ে যাওয়ার একটি বিষয় আছে। তাই অন্তত সাত দিন আগে এই কাজগুলো সেরে ফেলা উচিত।

ওয়্যাক্স ও থ্রেডিং
হলুদের অনুষ্ঠানের আগে এগুলো শেষ করে ফেলতে হবে। তবে অনেকেরই দ্রুত লোম গজানোর প্রবণতা থাকে। তাই দরকার হলে অনুষ্ঠানের আগের দিন ওয়্যাক্স ও থ্রেডিংয়ের কাজ করা উচিত।
ছেলেদের কানের কাছের লোমও ওয়্যাক্স করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন কাজী কামরুল ইসলাম।

ফেশিয়াল
বিয়ের কয়েক দিনে মেয়েদের ত্বকের ওপরে মেকআপের বড় রকমের একটা ধকল যায়। তাই বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে নয় বরং পরেই ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে ফেিশয়াল করিয়ে নিতে হবে। গায়েহলুদের আগে ত্বক ভালোমতো পরিষ্কার করার জন্য ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস ওঠানোর জন্য একটি ফেস ক্লিনিং করানো যেতে পারে। অবশ্য ছেলেরা ফেশিয়ালের কাজটি হলুদের আগেই সেরে নিতে পারেন।

হেয়ার ট্রিটমেন্ট

এ ক্ষেত্রেও মেয়েরা অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ার পর হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিতে পারেন। ক্লান্তি দূর করার জন্য দুই দিন আগে একটি হট অয়েল ম্যাসাজ নেওয়া যেতে পারে। ছেলেরা হেয়ার ট্রিটমেন্ট বিয়ের আগে করিয়ে ফেললে সমস্যা নেই।

স্পা
বিয়ের আগের ক্লান্তি কাটাতে ফুল বডি স্পা করাতে পারেন। বর-কনে দুজনের জন্যই এটি প্রয়োজনীয়।

হাত ও পায়ের যত্ন

মেহেদি পরতে হবে বিয়ের ঠিক আগের রাতে। এর আগেই পেডিকিওর ম্যানিকিওর ও ওয়্যাক্সিং করে ফেলা ভালো।

পরিচ্ছন্নতা ও মেকআপ তোলা
কাজী কামরুল ইসলাম শরীর দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে এক মাস আগে থেকে রোজ এক বালতি পানিতে এক চামচ ফিটকিরি মিশিয়ে গোসল করার পরামর্শ দেন। দাঁতে স্কেলিংয়ের প্রয়োজন হলে তা বিয়ের ১৫ বা ৩০ দিন আগেই করিয়ে ফেলা উচিত।

অনুষ্ঠানের দিন

ঘুম থেকে উঠে ভালো করে গোসল করতে হবে অনুষ্ঠানের দিনটিতে। চুল শ্যাম্পু করে এরপর কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ভালোমতো শুকিয়ে নিন। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ত্বক শুষ্ক হলে কাঁচা হলুদ বা কোনো উপটান এদিন ব্যবহার করা উচিত হবে না, এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাবে।
চুলে জেল লাগালে তা পরদিন ভালোমতো ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যতই ক্লান্তি থাকুক, কনেরা যেন ঠিকমতো মেকআপ তুলতে ভুলে না যান। জলপাই তেল ও ক্লেনজার দিয়ে সম্পূর্ণ মেকআপ ভালোমতো তুলে ফেলতে হবে।
দিন শেষে চুলের ক্লিপ ও কাটা আস্তে আস্তে খুলে ফেলতে হবে, সেদিন চুলে আর কিছু করার দরকার নেই। পরদিন সকালে অনেক বেশি পরিমাণ তেল পুরো চুলে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর ভালোমতো শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগানোর পর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আস্তে আস্তে করে চুলের জট ছাড়াতে হবে। তাড়াহুড়া করে জট ছাড়ানোর চেষ্টা করলে চুল ছিঁড়ে যাবে।

খাওয়া ও ঘুম
বিয়ের আগে উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনায় পাত্রপাত্রীর ঘুম গায়েব হবে, তবে এটি মোটেও কোনো কাজের কথা নয়। বিয়ের আগে নির্ভার থাকতে হবে। দুশ্চিন্তা করে ঘুম আর আহারে অনিয়ম করা যাবে না। বিয়ের দিন বেশির ভাগ মানুষই ঠিকমতো খেতে পারেন না, অনুষ্ঠানের সময় তখন দুর্বল বোধ করতে থাকেন। রাহিমা সুলতানা বিয়ের দিন কনে ও বরকে প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার পানের পরামর্শ দেন। সঙ্গে অবশ্যই কিছু খেতে হবে। ভাত জাতীয় কিছু খেতে না পারলে মিষ্টি, চকলেট, টাটকা ফলের রস, ডাবের পানি একটু পরপর পান করতে হবে। বিয়ের আগে ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ঝুম পূর্ণিমা দ্বীপ নিঝুম

tfrdr

ফাল্গুনী পূর্ণিমা রাত ছিল তখন। সেই পূর্ণিমার আলোয় ভেসে যেতে উতলা হয়েছিল আমার মতো আরও ২৬ জনের মন। কাজকে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদকে আপন করে ছুটে গিয়েছিলাম ঢাকা থেকে অনেক দূরে—জল-জঙ্গলের নিঝুম দ্বীপে।
অ্যাডভেঞ্চার যাদের নিত্যসঙ্গী, তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধেও ঘরে রাখা সম্ভব না। এই যাত্রার শুরুটাই হয়েছে লঞ্চ ধরার অ্যাডভেঞ্চার দিয়ে। যে লঞ্চ ছাড়ার কথা ঠিক বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে, সেই লঞ্চ আমরা টেনেটুনে ঘাটের সঙ্গে আটকে রেখেছি ৫টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত—আমাদের দুজন সময়মতো এসে পৌঁছায়নি বলে। হাদী ভাই আর তামান্না ভাবি সদরঘাটের তীব্র যানজটে সিএনজি ছেড়ে পাক্কা সাড়ে তিন কিলোমিটার দৌড়ে এসে যেই না লঞ্চে উঠলেন, তখনই সশব্দে হুড়হাড় করে ছেড়ে দিল আমাদের ভ্রাম্যমাণ এক রাতের বাড়ি। সেই মুহূর্ত থেকেই অ্যাডভেঞ্চারের শুরু।
এরপর লঞ্চ ছাপিয়ে অ্যাডভেঞ্চার ছড়িয়ে গেছে দোদুল্যমান ট্রলারে, এক আনাড়ি মাঝির হাতে পড়ে। হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাট থেকে রওনা দিলাম নিঝুম দ্বীপের উদ্দেশে। মাঝি সবাইকে ডান দিকে তাকাতে বলে চালায় বাঁ দিকে, আর বাঁ দিকে তাকাতে বলে সোজা ঠেকিয়ে দেয় কোনো এক বালুচরে! এভাবেই পৌঁছে যাই নোয়াখালী জেলায় বঙ্গোপসাগরের সর্বদক্ষিণের দ্বীপ নিঝুম দ্বীপে। কাদা, জল আর লোনা পানি ডিঙিয়ে যখন তীরে নামি, তখন পুব আকাশে উঁকি দিচ্ছে রুপালি চাঁদের আভা।
এরপরের গল্পটুকু তুমুল উচ্ছ্বাসের, বাঁধভাঙা আনন্দের আর অজানাকে আপন করে নেওয়ার, মধ্যরাতে মাঝপুকুরে কাদাজলে লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে গোসল করার, সারা নিঝুম দ্বীপ ঘুরে আটটা মুরগি এনে বারবিকিউ করার, বাঁশের আর গাছের সাঁকো পার হয়ে শুলোবনের মাঝ দিয়ে হরিণ খুঁজে বেড়ানোর, আর মধ্যরাতে চলল নিঝুম দ্বীপের সাদা বালুর সৈকতে জ্যোৎস্নায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
পরের দিনের শুরুটা হলো কবিরার চরের সবটুকু প্লাস্টিক আর অপচনশীল জিনিস খুঁজে বের করে আগুন জ্বালিয়ে। তাঁবু খাটিয়ে ইলিশ ও চেউয়া মাছ ভাজি দিয়ে বনভোজন শেষে যখন ঠিক হলো আমাদের সেদিনের রাত কাটবে নিঝুম দ্বীপের গহিন জঙ্গলে, তখনই বুঝতে পেরেছিলাম এ রাত হবে জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর রাত! তবে কে জানত সেই রাতে আমি, জাফর, কবির, মণ্ডল আর মাহফুজ জঙ্গলে ঢুকে যাব লাকড়ি টোকাতে! কে জানত, লাকড়ি খুঁজতে গিয়ে নিজের মাত্রই কিনে আনা মোবাইল ফোনটি জঙ্গলে হারিয়ে আসবে জাফর!
আমাদের ১১ জনকে নামিয়ে দিয়ে যে দলটা চলে গিয়েছিল বাকি সব বাক্সপেটরা নিয়ে আসতে, তারা পেয়েছে আরেক দারুণ দৃশ্য! ১৬ জনের দলটা রাত ১০টায় যখন বঙ্গোপসাগরে আবার নৌকা ভাসাল, ততক্ষণে তাদের পথ দেখাতে পুরো আকাশ আলো করে উঠল ফাল্গুনী পূর্ণিমার চাঁদ! উথালপাতাল বাতাস আর ঘোরলাগা চন্দ্রাহত হয়ে যখন তারা ভিড়ল মূল ক্যাম্পিং সাইটে, তখন সেটা একটা অন্য দুনিয়া—আগুন জ্বলছে তাঁবুগুলোকে ঘিরে। আর সেই আলোতে কেওড়াবনজুড়ে তৈরি হয়েছে মায়াবী এক লালচে মোহনীয়তা।
সেই রাতটা ছিল অস্থির এক মাদকতায় পূর্ণ! শহুরে যে ছেলেগুলো কোনো দিন নিজের বিছানা ছেড়ে মাটিতে ঘুমায়নি, তারাই ঘুমাল চাঁদের আলোয় ভেসে যাওয়া খোলা জঙ্গলের এক তাঁবুতে। ঠান্ডায় শিশিরভেজা তাঁবুর পর্দায় কাঁপতে কাঁপতে বের হয়ে সেই আগুন পোহাতে লাগল মাঝরাত্তিরে…এখানে-ওখানে ক্যাম্পফায়ার আর ভর্তা-ভাতের পাট চুকিয়ে যেই চোখ বোজার সময় হলো, ঠিক তখনই রাতের নিস্তব্ধতাকে চিরে দিয়ে আমাদের চারপাশে ডেকে উঠল শিয়ালের দল—বুনো শিয়াল। ভয়ার্ত আমরা দিগ্বিদিকজ্ঞান হারিয়ে টর্চলাইট ধরলাম তাদের চোখ বরাবর! জ্বলজ্বলে সেই চোখের ভাষা বুঝতে বাকি নেই কারও—যেন ঠান্ডা চোখে জানিয়ে দিচ্ছে আমরাই অনাহূত এখানে, এটা তাদের এলাকা।
কে শোনে কার কথা! ভোর চারটায় ধুম করে শাহেদ চেঁচিয়ে উঠল, ‘বস্তিবাসী জাগোওওও, হুঁশিয়ার, সাবধান’—আর পায় কে! ধুমধাম করে তাঁবু ফুঁড়ে বেরিয়ে এল ট্যুরিস্টের দল। সবাই ছুটে গেল আগমনরত শিয়ালের দিকে, ভয় পেয়ে ভেগে গেল শিয়ালের পাল, এরপর ঘণ্টা খানেক ধরে চলল এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ওরা দল বেঁধে আসে, আমরা দল বেঁধে ওদের তাড়াই। আবার আসে, আবার তাড়াই। শেষমেশ যখন ভোরের আলো ফুটল, তখন ২১ ফেব্রুয়ারি।
খালের পানিতে ভরা জোয়ারের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, কুয়াশাঢাকা ১৩টা তাঁবুর মাঝখানে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পতাকাটা, ধোঁয়া ওঠা ক্যাম্পিং সাইট, আর হিমশীতল ঠান্ডা বাতাসে হেলানো-দুলানো কেওড়াবাগান। আমাদের ফেরত নেওয়ার ট্রলার যখন আবার জঙ্গলের খালে আসছে, তখন পেছনে ফেলে যাচ্ছি শান্তস্নিগ্ধ এক জল-জঙ্গলের গল্প। আর সামনে অবারিত জলরাশি হাতছানি দিয়ে ডাকছে নতুন কোনো অ্যাডভেঞ্চারের নেশায়।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন একটামাত্র লঞ্চই হাতিয়ায় যায়। লঞ্চ ছাড়ে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে। সেই লঞ্চ পরদিন সকালবেলা হাতিয়া পৌঁছায়। হাতিয়া থেকে ট্রলারে করে সোজা নিঝুম দ্বীপ যাওয়া যায়। সময় লাগবে প্রায় দুই ঘণ্টা, আর ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে। ফেরার সময় একই পথে আসতে পারেন, অথবা হাতিয়া হয়ে চলে আসতে পারেন। ফেরার লঞ্চ কিন্তু দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে।