সময়মতো খাবার না খেলে কী হয়?

ডুৃব্ও

সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে দৌড়। তাড়াহুড়োয় খাবার খাওয়ার সময় পেলেন না। অফিসে গিয়েই মিটিং। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল। তখনো খাবার খাওয়া হলো না। আবার রাতের খাবার যে কখন খাওয়া হয় তার কোনো সঠিক সময় নেই! সময়মতো খাবার না খেলে তৎক্ষণাৎ কোনো সমস্যা হয় না বলে অনেকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে অসুস্থ হতেই হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শারমিন রুমী আলীম জানালেন, সময়মতো না খাবার খাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি হয় গ্যাসট্রিকের সমস্যা। বদহজম, গ্যাস ও অম্বল হওয়ার আশঙ্কা তো আছেই। সঠিক সময়ে সঠিক খাবার না খাওয়ার কারণে বয়স যখন ৪০ পেরিয়ে যায়, তখন তাঁদের শরীর খুব দ্রুত ভেঙে পড়ে। তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কমে যায়। দ্রুত বৃদ্ধ হয়ে
পড়েন তাঁরা।
অনিয়মিত খাবারদাবার ও বেশি রাত করে রাতের খাবার খাওয়া প্রভাব ফেলে আপনার নিত্যদিনের কাজেও। কারণ, সঠিক সময়ে খাবার না খেলে শরীর খুব দ্রুত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে। লো প্রেশারের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু খাবার সময়মতো খেয়ে ফেললে শরীর তরতাজা থাকে। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বজায় থাকে। বেশির ভাগ তরুণ সকালবেলা খাবার খেতে আগ্রহী হন না। কিন্তু দিন যত গড়ায় শরীরের পরিপাক হারও তত বেড়ে যায়। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর পরিপাক হারও কমতে থাকে। ফলে দুপুর বা রাতের চেয়ে সকালে খাবারদাবার অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। সকালে নাশতা কখনোই বাদ দেওয়া উচিত নয়। সকালের খাবার যেমন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে বিরত রাখে, তেমনি সারা দিন কাজ করার শক্তি প্রদান করে। ছোট বয়স থেকেই সঠিক সময়ে খাবার খেলে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হয়।
গবেষণা থেকে পাওয়া
* অক্সফোর্ড জার্নাল অনুসারে, কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারী যদি তাঁর খাবার নিয়ম অনুসারে না খান, তাহলে তাঁর অনাগত সন্তানের ওপর এর নানা
প্রভাব পড়ে।
* চীনের মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক তাঁর গবেষণায় জানিয়েছেন, কখনোই একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া ঠিক নয়৷ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া উচিত৷ সময়মতো খাবার খেলে হজম-প্রক্রিয়া ভালো হয়, যা স্বাস্থের জন্য ভালো৷
* যুক্তরাষ্ট্রের জীববিজ্ঞানী গিরিশ মেলকানি তাঁর এক গবেষণাপত্রে লিখেছেন, সময়মতো খাবার গ্রহণ করার ফলে কম বয়সে বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া ও হার্টের যে সমস্যা হয় তাও দূর হয়।
* বোস্টনের ব্রড ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সময়মতো খাবার খাওয়া আপনাকে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, ওজনহীনতাসহ মারাত্মক কিছু রোগ থেকে রক্ষা করে আপনাকে রাখবে সুস্থ, সবল ও সতেজ।
বিষয়:
অধুনা পরামর্শ

ননদ–ভাবির টানাপোড়েন

hbjuy

শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে আমার কোনো সমস্যাই ছিল না। কারণ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তো বারো বছর পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে আমার সামনাসামনি দেখাই হয় না। স্বামীর অ্যালবামে ছবি দেখেছি। ফোনে কথা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু দেশে এসে গোলমাল হলো। স্বামীর টাকা-পয়সার সবই দেওয়া হতো তাঁদের। আমি ভুলেও কখনো না করতাম না, কিংবা কম দেওয়ার কথা বলতাম না। তাঁদের মন পেতে চাইলাম আমি—কিন্তু সন্দেহ-অবিশ্বাস কিছুতেই কাটছে না। তাঁদের ধারণা, আমার স্বামীর কাছে তাঁদের আরও অনেক পাওনা। সেসব থেকে আমি তাঁদের খুব ঠকাচ্ছি।’
অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা এই বাঙালি বউটি আক্ষরিক অর্থেই কেঁদে ফেললেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা কি আমাদের মানসিক সমস্যা! ছেলের বউ বা ভাবিকে বিশ্বাস করা যাবে না! কিংবা আমিও ননদকে বিশ্বাস করতে পারব না?’
এমন চিত্র নিশ্চয় সমাজের সব জায়গায় এক রকম নয়; বরং একজন নারীর তো অবশ্যই আরেকজন নারীর পাশে দাঁড়ানোর কথা। একজন মেয়ে নতুন কোনো সংসারে গিয়ে যদি সেই পরিবারের নারীদের পাশে না পান—তিনি কেমন করে মানিয়ে চলবেন?
ননদ-ভাবি টানাপোড়েন ও জটিলতা নিয়ে কম ঘটনা নেই। দোষ কার! কাকে দুষব। ননদকে নাকি ভাইয়ের বউকে।
অভিযোগ থাকে দুই তরফেই। এক পক্ষ বলছে, ননদ কেন যেন প্রথম থেকেই শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নিয়ে সংসারে কুটিল পরিবেশ তৈরিতে তৎপর। ননদের ধারণা, তাঁর এলাকায় ভাগ বসানোর লোক এসেছে। তাঁর বা তাঁদের আধিপত্য আর থাকবে না। ভাবির মত হলো, বাড়ির বউয়ের পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব কম দেওয়া হচ্ছে। ননদের ধারণা, ভাবি হঠাৎ এসে জুড়ে বসে ভাইকে বশ করে। যে ভাইকে ছোটবেলা থেকে চিনি-জানি, তার ভাবখানা এমন যে ভাইকে সে আমাদের চেয়েও বেশি চেনে।
ননদের ধারণা, ভাবি হঠাৎ এসে জুড়ে বসে ভাইকে বশ করে। যে ভাইকে ছোটবেলা থেকে চিনি-জানি, তার ভাবখানা এমন যে ভাইকে সে আমাদের চেয়েও বেশি চেনে।

আর তাতেই যত যন্ত্রণার শুরু। একাধিক সংসার বিশেষজ্ঞ শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে শুনেছি সুখের সংসারের নিগূঢ় তত্ত্ব, ‘মেয়ে বিয়ে দাও বড় ঘরে আর ছেলের বউ আনো গরিব ঘর থেকে।’ উদ্দেশ্য একটাই ঘরের বউ যেন সব সময় আতঙ্কে থাকে। গরিবের মেয়েকে ‘টাইট’ দেওয়া সহজ।

কেন এই ঈর্ষাকাতরতা?
এমন নারীর মধ্যে গভীরে কাজ করে—নিরাপত্তাহীনতা। তাই ননদ মনের অজান্তে ভাবতে থাকেন তাঁর বাড়ি আর নিজের নেই। সব ভাবির দখলে চলে যাচ্ছে। হিংসা, কূটকাচালি বাড়তে থাকে। শাশুড়ি কখনো দেখেও না দেখার ভান করেন। তবে বলা দরকার, কিছু পরিবার দেখেছি, যেখানে শাশুড়ি নিজগুণে পুত্রবধূর জন্য মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করেন। সেসব সংসারে চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা হয়। সুখেরও হয়।
অন্যদিকে ভাবিদের নিয়ে অভিযোগ কম নয়। স্বামীর মন জুগিয়ে অনেক সময় ননদদের হিস্যাবঞ্চিত করায় তাঁরা ভূমিকা রাখেন। নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে শুরুতে ঠেলাঠেলি হবেই। আর সেটাই স্বাভাবিক। ফলে উভয় পক্ষের ঠোকাঠুকি থাকবেই।

এই সমস্যার সমাধান কী?
পরিবারে সবার যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকে, তবে এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। এখানে মায়ের দায়িত্ব কিছুটা হলেও বেশি। তিনি তাঁর মেয়েকে মদদ দেন। কারণ বাড়িতে বউ আসায় তাঁর জায়গাটাও যে কিছুটা হলেও হেলে পড়েছে। সেটা উনি টের পান। কখনো প্রকাশ করেন আবার কখনো ভিন্নভাবে ঘুঁটি চালান দেন। এই মনোভাব বদলাতে হবে। সবার আপন জায়গাটা চিনতে ও জানতে হবে। নিজের অধিকার আদায় আর ননদ বা ভাবির প্রতি বিদ্বেষ এক কথা নয়। সচেতন মানুষকে কেউ ঠকাতে পারে না। একটা পরিবারে একজন স্ত্রীর অধিকার, সম্মান, মর্যাদা, সংসার পরিচালনায় নেতৃত্ব কখনোই ননদের অধিকারকে খর্ব করে না। দুপক্ষের মধ্যে সহনশীলতা, সমঝোতা সংসারকে মাধুর্যপূর্ণ করে তোলে।
তাই শুরুতেই যদি নিজেদের চাহিদা, দায়িত্ব-কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে বুঝে নেওয়া যায় তাতে সবার লাভ। এখানে শাশুড়ির মনে রাখতে হবে তাঁর মেয়েও একদিন অন্যের বাড়ি যাবেন। তাঁর মেয়ের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ হওয়া উচিত। সেই আচরণটাই যদি নিজের পরিবারে শুরু করেন, তবে ঝামেলা শুরুতেই শেষ হয়ে যাবে। ভালো ব্যবহার করলে অবশ্যই ভালো ব্যবহার তিনি আশা করতে পারেন। যেমন অনুশীলন; তেমনই ফল।
অন্যের কন্যাকে নিজের কন্যা বলে আপন করে নিলে তাঁর কন্যাও অন্য পরিবারে কন্যার মর্যাদা পাবেন। একটি শুভ কাজ আরেকটি শুভ কাজের জন্ম দেয়।

সহযোগী অধ্যাপক
মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

সম্পর্কে প্রতারণা কি খুবই সাধারণ ঘটনা?

yudf

সম্পর্কে প্রতারণার ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নানা অভিযোগ পেয়ে থাকেন। পরামর্শ চান ভুক্তভোগীরা। এমই এক মানুষ প্রশ্ন রাখেন, সম্পর্কে প্রতারণার ঘটনা কতটা সাধারণ বা এটা কি খুব সহজেই ঘটে থাকে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নটির জবাব দারুণ কঠিন। এটা যার যার মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। প্রতারণার সংজ্ঞা একেক মানুষের কাছে একেক ধরনের হতে পারে। তবে সাধারণ অর্থে মানুষ আবেগ বা যৌনতার ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতার কথাই বলে থাকে।

বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা নিয়ে গবেষণা করেন। বিচিত্র ফলাফল বেরিয়ে আসে। ২০১০ সালের এক বিশ্লেষণমূলক গবেষণায় ৩১টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই বিশ্লেষণী গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ‘পারসোনালিটি অ্যান্ড ইন্ডিভিজুয়াল ডিফারেন্সেস’-এ। গবেষণায় দেখা গেছে, ১.২ শতাংশ থেকে ৮৫.৫ শতাংশ পর্যন্ত মানুষের জীবনে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।

সংকীর্ণ অর্থে প্রতারণাকে যৌনতার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা কর হয়। আর ব্যাপক অর্থে আবেগ ও যৌনতা উভয় ক্ষেত্রে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫.৫ শতাংশ মানুষ প্রতারণাকে ব্যাপক অর্থে ব্যাখ্যা করছেন। এর মধ্যে সঙ্গী-সঙ্গিনীকে এড়িয়ে অন্যের সঙ্গে ভাব জমানোর মতো বিষয়ও রয়েছে।

মানুষের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য এবং সম্পর্কের ধরনের ওপর ভর করে প্রতারণার নানা ধরন গড়ে ওঠে। গবেষণায় বলা হয়, নারী অপেক্ষা পুরুষের মধ্যে প্রতারণার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া বিবাহিতদের চেয়ে অবিবাহিত জুটিদের মধ্যে প্রতারণার ঘটনা বেশি বলে তুলে ধরা হয়।

২০১০ সালের গবেষণাপত্রে বলা হয়, বিবাহিতদের প্রতি ৪-৫ জনের মধ্যে একজন তার সঙ্গী ছাড়াও অন্য মানুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। আবার কলেজপড়ুয়া প্রেমিক জুটিদের মধ্যে প্রতি ২-৩ জনের মধ্যে একজন সঙ্গী-সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

তবে যারা প্রতারণা করেন তারা যে বিষয়টিকে সমর্থন দেন তা নয়। সংক্ষেপে বলা যায়, প্রতারণা অতি সাধারণ একটি ঘটনা। এ প্রশ্নের জবাব ব্যক্তিভেদে ভিন্নরকম হতে পারে, জবাবটা তার মানসিকতার ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

ঘরে বানাই জুস

86tr

রোদ থেকে বাসায় ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা জুস! আহ্ সে কী শান্তি! এই গরমে আরাম দেবে তাজা ফলের রস। আর তার জন্য ঘরে
থাকতে হবে একটি জুসার। তবে ব্লেন্ডারেও কাজ চলে। ফল থেকে রস বের করে নেওয়ার এই যন্ত্রটির চাহিদা বেড়ে যায় গরম এলেই।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ট্রান্সকম ডিজিটালের বিক্রয় নির্বাহী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গরমের সময় এই ধরনের যন্ত্র বেশি বিক্রি হয়। তবে এবার বেশি চলছে একের মধ্যে অনেক সুবিধা আছে এমন যন্ত্রগুলো। যেমন ব্লেন্ডার। যেখানে জুস, মসলা, কিমার মতো বিষয়গুলো এক যন্ত্রেই সারা যায়।’
দামের ওপর নির্ভর করে লম্বা, গোলাকার ও নৌকার মতো বাঁকানো নকশার ব্লেন্ডার ও জুসার পাবেন। ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল দুই ধরনের জুসারই আছে। ফিলিপসের মাল্টি-ইউজ ব্লেন্ডারে জুস করার জন্য ছাঁকনি ব্যবহারের সুবিধা আছে। এ ছাড়া কিমা ও আদা-রসুন বাটার জন্য আছে আলাদা প্যানেল। দেড় লিটারের মিয়াকোর ব্লেন্ডারে চারটি জার ব্যবহার করে চার ধরনের উপকরণ ব্লেন্ড করা যায়। প্রেস্টিজের স্টেইনলেস স্টিলের ব্লেড দেওয়া ব্লেন্ডারটিতে ভিন্ন তিনটি জার রয়েছে। লম্বা আকারের এই ব্লেন্ডারের ক্ষমতা আড়াই শ ওয়াট। এ ছাড়া নোভার তিনটি জারের প্লাস্টিক বডির ব্লেন্ডারও পাওয়া যাবে। এই ব্লেন্ডারগুলো দিয়ে ফলের রস তৈরি করা যায়। শুধু জুসের জন্য মিয়াকোর দুই চেম্বারের দুটি সেফটি লক ও স্টেইনলেস স্টিলের ব্লেডযুক্ত জুসার পাওয়া যাবে এবং এতে শক্ত ও নরম ফলের জন্য দুই ধরনের স্পিড মোড রয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে আরও আছে প্যানাসনিক, মলিনেক্স, সেবেক ইত্যাদি। এ ছাড়া প্লাস্টিকের বিভিন্ন নন-ব্র্যান্ডের ম্যানুয়াল জুসার রয়েছে বাজারে।
গরম যেহেতু বেশি, এসব যন্ত্রের ব্যবহারও হচ্ছে বেশি। তাই যন্ত্র ব্যবহারের আগে-পরে একটু যত্ন নিলে আপনার জুসার বা ব্লেন্ডারটি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।
ব্লেন্ডার বা জুসারটি যে ব্র্যান্ডেরই হোক না কেন তার যত্ন কিন্তু চাই সঠিকভাবে। কীভাবে যত্ন নিলে ব্লেন্ডার বা জুসার যন্ত্রটি ভালো থাকবে সে সম্পর্কে রান্নাবিদ সিতারা ফিরদৌস বলেন, ‘জুসার বা ব্লেন্ডার যেহেতু বৈদ্যুতিক যন্ত্র, তাই খেয়াল রাখতে হবে যেন এর মোটরে পানি না ঢোকে। আবার একটানা অনেকক্ষণ ব্যবহার করলে মোটর পুড়ে যেতে পারে। তাই পাঁচ মিনিট ব্যবহারের পর একটু বিরতি দিতে হবে। আবার যেহেতু লোডশেডিং হয়, তাই ব্যবহারের পর প্লাগ খুলে রাখতে হবে। কারণ, তাতে মোটর ভালো থাকবে।’

বাজারে আছে নানারকম জুসার ও ব্লেন্ডার। ছবি: নকশাযেখানে পাবেন
জুসার ও ব্লেন্ডার পাওয়া যাবে রাজধানীর নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডের বিভিন্ন দোকানে। এ ছাড়া গুলশান ডিসিসি মার্কেটে, পল্টন ও গুলিস্তানের বিভিন্ন মার্কেটে ব্র্যান্ড, নন-ব্র্যান্ড—সবই মিলবে। ইলেকট্রনিকসের বিভিন্ন শোরুমে মিলবে জুসার ও ব্লেন্ডার। সিঙ্গার, ফিলিপস, ওয়ালটনের শোরুমে পাওয়া যাবে নানা ধরনের জুসার। তার পাশাপাশি নোভা, মিয়াকো, উসান, নোয়া, প্রেস্টিজের ব্লেন্ডার পাওয়া যাবে। আর নন-ব্র্যান্ড কিনতে চাইলে বিভিন্ন চীনা ও জাপানের জুসার ও ব্লেন্ডার রয়েছে দোকানগুলোতে। ব্র্যান্ডের জুসার কিনলে কয়েক বছরের ওয়ারেন্টিও পাওয়া যাবে। তবে যাঁরা ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহার করতে চান না, তাঁদের জন্য বাজারে ম্যানুয়াল জুসার রয়েছে। এসব জুসারের দাম পড়বে একটু কম।

দরদাম
বাজারে এখন ব্লেন্ডার বা জুসারের দাম একটু বাড়তি। ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডার বা জুসার ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। তবে ওয়ারেন্টি পেতে হলে ২ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে হবে। যদি নন-ব্র্যান্ড কিনতে চান তবে খরচ পড়বে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা। বাজারে ম্যানুয়াল ব্লেন্ডার ও জুসার পাওয়া যায়। এর খরচ পড়বে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

শার্টে বৈচিত্র্য

্রিট্র

কাপড় এখানে ক্যানভাস। রং তো এতে লাগেই, কাঁচির কাটাকুটি আর সুই-সুতা, টানে ফুটে ওঠে নকশা। শিল্পীর ভূমিকায় থাকা ডিজাইনার চেষ্টা করেন নতুন কিছু তৈরি করার। গতানুগতিক পোশাকে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তনেই চলে আসে আধুনিকতা। মুগ্ধ হন ক্রেতারা। ধরা যাক সাধারণ শার্টের কথাই। ছেলেরা বোধ করি এ পোশাকটাই বেশি পরেন। মেয়েরাও পরেন শার্ট। পরিচিত শার্টগুলোই রং, নকশা আর কাটের পরিবর্তনে পাচ্ছে নতুন নতুন চেহারা। এ কারণেই এবার গরমের ফ্যাশনে ছেলেমেয়ে সবার জন্যই শার্ট নতুন মাত্রা যোগ করবে। এমনটাই মনে করছেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিশেষজ্ঞরা।
সারা দিনের ছোটাছুটিতে আরাম দেবে শার্টএক কাপড়েই সবকিছু। কলার, হাতা—সবকিছুতেই একই কাপড় ব্যবহার করা হতো। কিন্তু একটু খেয়াল করে দেখুন এখন কলারের ভেতরেও অন্য রঙের কাপড় দিয়ে ভিন্নতা নিয়ে আসা হয়েছে। হাতার কাফেও তা-ই। এখন দুই রং বা দুই রকমের নকশা করা কাপড় দিয়ে শার্ট বানানো হচ্ছে—জানালেন ফ্যাশন হাউস আরমাডিওর ক্রিয়েটিভ অ্যাডভাইজার ফারহিন লালারুখ খুররম। বাজার ঘুরে দেখা গেল রং আর নকশায় এ বছর বেশ ভিন্নতা আনার চেষ্টা করছে ফ্যাশন হাউসগুলো। বছরজুড়েই চলবে এ রকম পরিবর্তন। ফারহিন লালারুখ খুররম বলেন, ‘ছেলেদের শার্টে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফ্যাশন-সচেতনরা বুঝতে পারছেন। কাফে দুটো বোতাম থাকলে একটা হয়তো লাল, আরেকটা সাদা রঙের। শার্টে বোতাম লাগানোর জন্য বিপরীত রঙের সুতারও ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতি, ইজিপসিয়ান কটন, মিশ্র কাপড়, লিনেন দেখা যাচ্ছে।’ প্রিন্টেড শার্টে ছাপা নকশার কোনো একটা রং বেছে নিয়ে দেওয়া হচ্ছে গলা কিংবা হাতায়। ছেলেরা এখন স্লিম কাটের দিকে বেশি ঝুঁকছে। প্যান্টের ভেতরে টাক-ইন করে পরা যায়, প্যান্টের ওপরে রেখেও পরা যাবে। এখন শার্টেও টিকিং দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডিজাইনাররা।
.মেয়েদের শার্টে নজর কাড়ছে ফুলেল প্রিন্টের নকশা। পলকা ডট, বিমূর্ত প্রিন্টগুলো শার্টে নিয়ে এসেছে আভিজাত্য। মেয়েদের শার্টে এবার নতুনত্ব আনবে লম্বা কাট। পেছনের লেয়ারটা বেশি লম্বা থাকবে। সামনের দিকে লেয়ারটা একটু খাটো থাকবে। এ রকম শার্ট তাঁদের জন্য আদর্শ, যাঁরা ছোট শার্টে স্বস্তিবোধ করেন না। শার্টের নিচের দিকে রাউন্ড লেয়ার, ডিশ লেয়ার কাট দেওয়া হচ্ছে। ফ্যাশন হাউস দর্জিবাড়ির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাশন দুনিয়ায় প্রতিবছরই ডিজাইন বদলে যায়। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের সঙ্গে মিলিয়ে শার্টে কাট দেওয়া হয়ে থাকে। ছেলেদের শার্টে সুতি, ভয়েল কাপড় ব্যবহার করা হচ্ছে। রেগুলার ও ফিটেড দুটি কাটই থাকবে ফ্যাশনে।’
ছেলেদের শার্টে ফুলেল নকশা ছিল। তবে সেটা হাওয়াই শার্টে বেশি দেখা যেত। এখন সাধারণ শার্টে ফুলেল ছাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। দেখতে একদমই খারাপ লাগছে না। ছেলেদের ফুলগুলো সূক্ষ্ম আকারের হয়। মেয়েদের ফুলগুলোর আকার থাকছে বড়। ওটুর উইমেন্স বিভাগের প্রধান ডিজাইনার সৈয়দা রুমানা হক বলেন, ‘ঢিলেঢালা কাটের শার্টগুলো চলবে এবার।
মডেল: তুষারমেয়েদের শার্টেও বোতামের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যাবে। লেসের কাজের সঙ্গে মুক্তার বোতাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফুলের মতো বোতাম লাগানো হয়েছে ফুলেল প্রিন্টের শার্টের ওপর। শার্টে সব ধরনের হাতা থাকবে।’ মেয়েদের শার্টে এবার প্যাটার্ন বেসড কাট বেশি দেখা যাবে। শার্টে বিভিন্ন নকশার পকেটও দেখা যাবে।
মেয়েদের শার্টে দুটি কাট খুব চলছে। একটা একদম ঢিলেঢালা লম্বাটে। শেষের অংশটা কিছুটা কুর্তার মতো থাকছে বলে জানান ফারহিন লালারুখ খুররম। এগুলো ভালো মানাবে ফিটেড জিনস, টাইটসের সঙ্গে। অনেকে বেল্ট পরছেন। আবার অনেকে টাক-ইন করে পরছেন। সুতি কাপড়ের ওপর হালকা রঙের শেডের ব্যবহার করা হচ্ছে। পাতলা কাপড়ের ওপরে ফুলেল প্রিন্টগুলো গরমে স্নিগ্ধতা নিয়ে আসছে। ফিটেড শার্টগুলোর সঙ্গে স্কার্ট, পালাজ্জো ভালো মানাবে।
রঙের ক্ষেত্রে হালকা ও গাঢ় দুই ধরনের রংই পছন্দ করছেন ক্রেতারা। হালকা কাজ, লম্বা হাতার এক রঙের শার্টগুলো অনুষ্ঠানে বেশি মানাবে। প্রতিদিনের ছোটাছুটির জন্য প্রিন্টেড শার্টগুলোই ভালো।
কলারে এ বছর হালকা ভিন্নতা দেখা যাবে। ডবল কলার, বেন্ট কলার চলবে। হাতা লম্বা হোক বা ছোট—গুটিয়ে পরা হবে বেশি। শার্টে স্ট্রেট কাট থাকলেও পকেটের আশপাশে পিনটাকস, পেছনে কুঁচি থাকছে এখনকার ফ্যাশনে। কাঁধের অংশে শোল্ডার স্ট্র্যাপও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বেস মেকআপ এখন

h

নেমন্তন্ন আসে এই গরমেও। আর সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে সাজটা কেমন হবে তা নিয়ে কি চিন্তায় পড়তে হয়? শাড়ি-গয়নার সঙ্গে এই সময়ে সাজটাই বা কেমন হবে? কেননা শুধু তীব্র গরমই নয়, ঘামের কথাও মাথায় রাখতে হয়। সাজার পর যদি ঘেমে গিয়ে মেকআপ নষ্ট হয়ে যায় তাহলে নেমন্তন্নই মাটি।

রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন বলেন, এই সময় একদিকে ত্বক খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে মেকআপ বাঁচিয়ে রাখাটাও কষ্টকর৷ ঘামের কারণেই অর্ধেক মেকআপ গলে যায়।

গরমে কীভাবে ঠিকমতো মেকআপ বসানো যায়, কোনো আয়োজনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় সে ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন।


বেস দেওয়ার প্রস্তুতি

দিন বা রাত, অনুষ্ঠানটা কখন হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে মেকআপের বেস করতে হবে৷ যদি দিনের অনুষ্ঠান হয় তবে বেসটা হালকা হবে৷ রাতের অনুষ্ঠানে একটু ভারী বেস হলে সমস্যা হয় না। প্রথমে ফেসওয়াশ এবং ক্লিনজার দিয়ে ত্বক খুব ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। মুখ ধোয়ার সময় এক টুকরো বরফ ঘষে নিলে ত্বকটা সতেজ দেখাবে। এতে করে মেকআপ ত্বকে বেশিক্ষণ ধরে থাকবে।

বেস দেওয়ার পদ্ধতি

প্রয়োজনীয় উপকরণ: ফেস প্রাইমার, ফাউন্ডেশন/প্যানকেক, কনসিলার, ফেসপাউডার, মেকআপ সেটিং স্প্রে ও ফেস ব্রাশ বা স্পঞ্জ।

শুষ্ক ও মিশ্র ত্বকে

প্রথমে প্যানস্টিক হাত দিয়ে ভালোভাবে পুরো মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। তবে যা-ই ব্যবহার করুন কমপ্যাক্ট পাউডার লাগাতে ভুলবেন না। এবার ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ফাউন্ডেশন ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন, যেন ত্বকে ভালোভাবে মিশে যায়। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতাযুক্ত বা ময়েশ্চারাইজার আছে এমন ফাউন্ডেশন প্রয়োজন। যেকোনো ক্রিম বেসড ফাউন্ডেশন কিনতে পারেন। কপালে, নাকে, থুতনিতে ফাউন্ডেশনের কালার টোনের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চেষ্টা করুন। চোখের পাতায়ও ফাউন্ডেশন লাগাবেন এবং ভালোভাবে স্পঞ্জ করবেন।

মডেল: আফরিন সাজ: মিউনিস ব্রাইডাল ছবি: নকশাতৈলাক্ত ত্বকে
ফেস প্রাইমার আঙুলের মাথায় নিয়ে পুরো মুখে ঘষে ঘষে লাগাতে হবে৷ প্রাইমার দেওয়ার পর মিনিট দশেক অপেক্ষা করতে হবে। প্রাইমারটা মুখে বসার পর মুখে গাঢ় কোনো দাগ থাকলে কনসিলার দিয়ে হালকা করে ঢেকে দিন। শুধু গাঢ় দাগ থাকলে এখন কনসিলিং করুন, দাগ হালকা হলে ফাউন্ডেশনের পর কনসিলিং করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ওপর দিলে ত্বকের তেল ফাউন্ডেশনে মিশে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্লেট বা প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করতে পারেন। ফাউন্ডেশন যদি ভারী হয় বিউটি ব্লেন্ডার বা স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। ব্লেন্ডার পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত পানি ফেলে দিয়ে তাতে ফাউন্ডেশন নিয়ে মুখে ব্লেন্ড করুন। আবার হালকা ধরনের ফাউন্ডেশনের জন্য ফেস ব্রাশ করা যায়। অনেকে আবার আঙুল দিয়ে ব্লেন্ড করতেই পছন্দ করেন। তবে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হাতের ব্যবহার না করাই ভালো। পরিষ্কার ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার করা উচিত। সাধারণত রাতের জমকালো অনুষ্ঠানের জন্য মেকআপে ভারী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা হয়। দিনের কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হলে প্যানকেক ব্যবহার করা যায়। কেননা প্যানকেক বেশি সময় ধরে তেলমুক্ত থাকে, গলে যায় না। দিনের সাধারণ পার্টি হলে হালকা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।
প্যানকেক ব্যবহার করতে চাইলে আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী দুটি প্যানকেক কিনে নিন। চাইলে একটা দিয়েও করতে পারেন। স্পঞ্জ ভিজিয়ে বাড়তি পানি ফেলে দিয়ে তারপর স্পঞ্জে প্যানকেক লাগিয়ে ধীরে ধীরে বেস তৈরি করুন। চাইলে প্রথমে হলুদ একটা শেড দিয়ে এক স্তর (লেয়ার) করে এর ওপর ন্যাচারাল শেড দিয়ে বেস তৈরি করতে পারেন। আবার দুই শেড মিশিয়েও করতে পারেন।
ফাউন্ডেশন বা প্যানকেক দিয়ে বেস হয়ে গেলে এবার যদি মেকআপ সেটিং স্প্রে থাকে, তবে স্প্রে করে দিতে পারেন এই বেসের ওপর।
এবার ফাউন্ডেশন বা প্যানকেকের বেসটা ফেস পাউডার দিয়ে ঠিক করে নিন। পাউডার পাফ দিয়ে হালকা করে বেসের ওপর বুলিয়ে সেট করে নিতে পারেন।

তানজিমা শারমিনের মতে মেকআপের অর্থ মুখোশ পরা নয়, আপনার চেহারার সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলাই মেকআপের উদ্দেশ্য। তাই যেকোনো সময়ের মেকআপে খেয়াল রাখতে হবে কোনটি আপনার উপযুক্ত সাজ, কী আপনার পছন্দ, কোনটি আপনাকে মানাবে এবং কোনটি ধারণ করতে পারবেন আপনি নিজে।

এই গরমে নিরাপদ পানীয়

ািব

এই গ্রীষ্মের প্রখর রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাব, শরবত, আখের রস, লেবুপানি ও বিভিন্ন জুসের কদরও বাড়ে। রাস্তার মোড়ে, হাটবাজারে দেখা যায় নানা রকমের পানীয় বিক্রির হিড়িক।
কিন্তু খোলাবাজারের এসব পানীয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়। কারণ, প্রায়ই অনিরাপদ পানি ও বরফ দিয়ে অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর উপায়ে এসব প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হয়। তা ছাড়া, এসব অনিরাপদ পানি বা বরফে থাকতে পারে নানা রোগজীবাণু। ফলে এগুলো পান করলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিসসহ পানিবাহিত নানা রোগ হতে পারে। আর তাই বাজারের এসব খোলা পানীয়র পরিবর্তে নিরাপদ পানীয় পান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজলভ্য ও কার্যকরী হচ্ছে সাধারণ কিন্তু নিরাপদ পানি।
প্রচণ্ড দাবদাহে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে এই ঘাটতি মেটানো সম্ভব। এ ছাড়া এ সময় পান করতে পারেন ডাবের পানি। এতে প্রচুর খনিজ উপাদান থাকে, যা আমাদের শরীরকে চাঙা করতে সহায়ক। তরমুজ, ফুটি, বেল, কাঁচা আমের জুস অথবা লেবুপানিও পান করতে পারেন।
ডা. এ হাসনাত শাহীন
ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতাল

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: ডায়রিয়া হলে কখন শিরায় স্যালাইন দেওয়া উচিত?

উত্তর: ডায়রিয়ার কারণে পানিশূন্যতা না হলে বা মৃদু পানিশূন্যতা হলে মুখে খাওয়ার স্যালাইন নিলেই চলবে। কিন্তু তীব্র পানিশূন্যতায় যখন চোখ দেবে যায়, জিব-ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় অথবা শিরা দুর্বল হয়ে পড়ে—তখন শিরায় স্যালাইন দেওয়া উচিত। ডায়রিয়ার সঙ্গে বারবার বমি হলে বা স্যালাইন খেতে না পারলেও শিরায় স্যালাইন দিতে হবে।

অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ
ডিন, মেডিসিন অনুষদ, বিএসএমএমইউ

এই বয়সে এই সময়ে

TY6

শুরু হয়েছে হাওয়া বদল। পাতায় নিশির শিশির তো পড়ছেই, ঠান্ডার ছোঁয়া লাগছে ত্বকেও। তাই চুল থেকে নখ—এ সময়ে চাই বাড়তি যত্ন। ৩০ পেরোনো পুরুষেরা নিজের ত্বক নিয়ে থাকেন উদাসীন। অথচ একটু নিয়ম মেনে চললেই নিজেকে আরও সতেজ রাখতে পারেন পুরো শীতজুড়ে।
চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস বলেন, সব বয়সের মানুষেরই শরীর ও ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত। আর নিজের সতেজতা ধরে রাখতে খাবার একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে সবারই তাজা শাকসবজি খাওয়া উচিত। এ সময়ে ভোরের কুয়াশামাখা বাতাস শরীরকে সতেজ করে। তাই অন্যদের মতো ৩০ পেরোনো পুরুষদেরও সকালের বাতাসে হাঁটাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া শুষ্ক ত্বকে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে ঝরঝরে।
৩০ পেরোনোর পর ত্বকের রং পরিবর্তন, বলিরেখা, চোখের নিচে কালো দাগ, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা চুল পড়ার সমস্যা খুব দেখা যায়। ফলাফল ৪০ আসতেই যেন বুড়িয়ে যাওয়া। তবে নিয়মিত যত্ন নিলে সেসব থেকে নিজেকে অনেকটা বাঁচিয়ে রাখা যায়। নিয়মিত কাজের অংশ
হিসেবে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের প্রতি কিছুটা হলেও সময় ব্যয় করে দেখতে পারেন।
ছেলেদের সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্র হেয়ারোবিক্সের রূপ পরামর্শক শাদীন মাহবুব বলেন, ‘মধ্যবয়সে শরীরের যত্ন নেওয়াটা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। শীতের আগেই নিজের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে।’
এ সময়ে মধ্যবয়সীদের যেসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, তার একটি তালিকা তৈরি করে দিয়েছেন রূপ পরামর্শক শাদীন মাহবুব।
l এই বয়সে ত্বকের উপরিভাগে জৈবিক তেলের সরবরাহ কমতে থাকে। ফলে ত্বক আগের টানটান ভাব হারিয়ে কিছুটা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই সব সময় খেয়াল রাখবেন আপনার ত্বকের তৈলাক্ত ভাব যেন কোনো কিছুতে হারিয়ে না যায়।
l ক্ল্যারিফাই ক্লিনজারের পরিবর্তে তুলনামূলক কোমল ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।
l শেভের সময় ফোম ব্যবহার না করে অ্যান্টি এজিং ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।

l ক্লিনজিং টোনার ব্যবহার না করে ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার করুন।

l যেকোনো প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে তাতে অ্যালকোহলের মাত্রা যেন তুলনামূলক কম থাকে, সেটি দেখে নেবেন।

l মাসে অন্তত দুবার ভালো কোনো রূপবিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে ফেসিয়াল করিয়ে নিন।

l শীত পড়লে রাতে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ভালো ব্র্যান্ডের কোনো নাইট ক্রিম মুখে লাগিয়ে শোবেন।

l গোসলের পরে সারা গায়ে ময়েশ্চারাইজার লোশন লাগাতে ভুলবেন না।

l খাদ্যাভ্যাস ফলমূল, শাকসবজি ও পানির মাত্রা বাড়িয়ে নিন।

l যেকোনো ধরনের বাদাম খেতে পারেন। বাদাম চুল ও ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।

l যত দূর সম্ভব দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন।

l প্রতিদিন কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুমান।

l প্রতিদিনের রুটিনে ইয়োগা অথবা হালকা ব্যায়াম রাখুন।

নিমন্ত্রণে চুলের সাজ

t56ffg

বছরের এই সময়টা যেন অলিখিত নিমন্ত্রণের মৌসুম। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব পড়তে শুরু করা মানেই জমকালো দাওয়াত কিংবা বিয়ের নিমন্ত্রণ। মেকআপ বা পোশাক তো ঠিক হলো, চুল সাজাতে গিয়ে বাধে বিপত্তি। কেমন স্টাইল চলছে, কোন ধরনের চুলে কেমন স্টাইল তা দেখে নিন এবার। পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, ‘খোলা চুলই মেয়েদের বেশি পছন্দ বলে মনে হয়। আর যেহেতু শীত প্রায় চলে এল তাই এখন কোঁকড়ানো স্টাইল দেখা যাবে।’
আজকাল পোশাকের সঙ্গে চুলের স্টাইলের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। খোলা চুল তো আছেই, তাতেও রয়েছে নানা কায়দা। সোজাসাপটা খোলা চুলে বদলে দেখা যাচ্ছে নানা বৈচিত্র্য। এ ছাড়া নানা রকম বেণি, এলোমেলো স্টাইল, কার্ল, সোজা সবই এখন চলছে। তাই চুল বাঁধতে পারেন ইচ্ছেমতো। তবে নিজের সঙ্গে যা মানানসই সেই স্টাইলকেই প্রাধান্য দিন।
মডেল: প্রিয়তিমাঝারি চুলের স্টাইল
মাঝারি চুলে ইচ্ছামতো স্টাইল করা যায়। বিশেষ দিনে অনেক সময় পারলারে গিয়ে চুল বাঁধা সম্ভব না। তাই আফরোজা পারভিন বলেন, ‘চাইলে আগের দিন রাতে চুল পেঁচিয়ে রাখা যেতে পারে। পরদিন সকালে চুল খুলে দেখবেন খুব সুন্দর একটা কোঁকড়া ভাব আসবে।’
ছোট চুলের স্টাইল
ছোট চুলের স্টাইলে তেমন বৈচিত্র্য নেই, এমন কথাই প্রচলিত। তবে এখন ছোট চুলের স্টাইলেও এসেছে অনেক বৈচিত্র্য। বিভিন্ন ধরনের স্টাইলিশ ব্যান্ড দিয়েও সাজে ভিন্নতা আনা যেতে পারে। কার্ল করলেও ভালো দেখাবে।
মডেল: আশাখোলা চুলে স্টাইল
চুল খোলা রাখলে একদম সোজাসাপটা ছেড়ে না রেখে ব্লো ড্রাই করে নিন। কিংবা রোলার স্টাইলার দিয়ে হালকা কুঁকড়ে নিন। পুরো চুল স্পাইরালও করতে পারেন। ওপরের দিকে সোজা রেখে নিচের দিকে কোঁকড়া করে রাখতে পারেন।
ছবি: নকশালম্বা চুলের স্টাইল
লম্বা চুলে বেণির শোভা দেখতে দারুণ লাগে। একসময় সালোয়ার-কামিজ বা শাড়ির সঙ্গেই করা হতো বেণি। ইদানীং স্কার্ট, টপ বা ড্রেসের সঙ্গেও দিব্যি বেণি করছেন অনেকে। তবে সাদামাটা বেণির দিন ফুরিয়েছে বলা যায়। নানা স্টাইলেই বেণি করা যায় যেমন: ফ্রেঞ্চ বেণি, মারমেইড বেণি ইত্যাদি। মাথার মাঝখান থেকে কিছু চুল নিয়ে টুইস্ট করে বেণি বা পনিটেইল করে নিতে পারেন। চাইলে খোঁপাও করতে পারেন।
জেনে নিন
উৎসবের আগে পারলারে গিয়ে চুলের ধরন বুঝে হেয়ার ট্রিটমেন্ট দিয়ে নিন। কিংবা বাড়িতেই করে নিন চুলের যত্ন।
তাৎক্ষণিকভাবে চুল মসৃণ দেখাতে আধা মগ পানিতে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে তা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
চুলে স্টাইল করার আগে হেয়ার ক্রিম লাগিয়ে নিন।
বিভিন্ন স্টাইল করতে গিয়ে চুলে অনেক ধকল পড়বে। তাই উৎসব শেষে চুলে হট ওয়েল ম্যাসাজ করুন।

সেই মেয়েটিও আমাকে খুব ভালোবাসে

7yg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন।—বি. স.

সমস্যা

তিন বছর ধরে একটা মেয়েকে ভালোবাসি। মেয়েটিও আমাকে খুব ভালোবাসে। এতটাই ভালোবাসে যে ও ভাবে, সব ছেলেই খারাপ শুধু আমি ব্যতিক্রম। ওর নাম সুমি (ছদ্মনাম)। এদিকে কয়েক মাস আগে অন্য আরেকটি মেয়েকে আমার ভালো লেগে যায়। সেই মেয়েটিও আমাকে খুব ভালোবাসে। আমিও ভালোবাসি। ধরা যাক ওর নাম শান্তা। আমার কাছাকাছি থাকে বলে এখন শান্তার সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে। সেটা সুমি জানে না। শান্তা সম্পর্কে সুমি যেটুকু জানে তা হচ্ছে, শান্তা আমার ফেসবুক বন্ধু, নিয়মিত কথা হয়—এটুকুই। শান্তার সঙ্গে আমার পরিচয় ফেসবুকে। প্রথম দিকে শান্তা জানত আমার কোনো ‘অ্যাফেয়ার’ নেই। এদিকে সুমির বিশ্বাস, আমি শুধু ওকেই ভালোবাসি। কিন্তু এ অবস্থায় আমার মনে হচ্ছে আমি দুজনকেই ভালোবেসে ফেলেছি। তারা উভয়ই আমার দুই বছরের ছোট। এদের কারও একজনের সঙ্গে সমস্যা হলে আমি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়ি। বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করেছিলাম। সারাক্ষণ এ নিয়ে খুব মানসিক হতাশায় ভুগছি। রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান হিসেবে কাউকে বলতেও পারছি না বিষয়টি। আমি মা-বাবার একমাত্র ছেলে। তাঁরা সবাই আমাকে খুব ভালোবাসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

পরামর্শ

তুমি যে নিজের এই নৈতিক মূল্যবোধের দুর্বলতার দিকটি সততার সঙ্গে প্রকাশ করেছ, সে জন্য ধন্যবাদ। একজনকে ভালোবাসলে অথচ তাকে না জানিয়ে অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করলে, এতে দুটো সম্পর্কেই শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের অনেকখানি ঘাটতি হয়েছে।

ভালোবাসার সঙ্গে এই দুটোর মিশ্রণ না থাকলে সেটিকে সত্যিকারের ভালোবাসা বলা যায় না। তবে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, তুমি নিজের ক্ষতি করার জন্য কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছ। খুব ভালো করে ভেবে দেখার চেষ্টা করো, এটি কি তুমি এদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বা সমবেদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করছ, নাকি নিজের ওপর রাগ করে?

অন্যের কাছে সমবেদনা চাওয়ার চাইতে কিন্তু নিজের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান থাকলে তা অনেক মানসিক প্রশান্তি তৈরি করে।

তুমি যেহেতু এখন সচেতন হয়েছে, সেহেতু আর দেরি না করে এ ধরনের হঠকারিতা থেকে বেরিয়ে এসো। তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ ওরা যখন এ ব্যাপারে নিশ্চিত হবে, তখন দুজনই তোমাকে কৃপার দৃষ্টিতে দেখবে। এরপর তারা তোমাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস বা শ্রদ্ধা কোনোটিই করতে পারবে না। এতে তোমার ভেতরে অপরাধবোধ বেড়ে যাবে।

কাজেই তাদের আর প্রতারিত না করে অকপটে তোমার চরিত্রের দুর্বলতার কথাটি প্রকাশ করো। তারা যা সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিকে মাথা পেতে গ্রহণ করার মতো মনোবলও তোমাকে তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে দুটো ভালোবাসার সম্পর্ক চালিয়ে গেলে তোমাদের তিনজনের মানসিক স্বাস্থ্যই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে সবাইকেই অনেক বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তুমি যোগব্যায়াম, মেডিটেশন ইত্যাদি করে মনকে প্রশান্ত রাখতে সহায়তা করবে।

আত্মহত্যার প্রবণতাটি যদি থেকেই যায়, তাহলে অবশ্যই তোমাকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিত্সকের সাহায্য নিতে হবে।

আপনি সত্যিই সুন্দরী, দেখুন রাধিকার ভিডিও

ed5r

প্রকৃত সুন্দরী ছাড়া যোগাযোগ অপ্রয়োজনীয়। এই লাইনটা আর নতুন করে চিনিয়ে দিতে হবে না নিশ্চয়ই? রোজ সকালে খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনের পাতা খুললেই জ্বলজ্বল করে এই বাক্য। পরমা সুন্দরী না হলে নিদেন পক্ষে সুশ্রী, গায়ের রং ফর্সা, ছিপছিপে গড়ন, গৃহকর্মে নিপুণা হলেই বিয়ের বাজারে দাম বেড়ে যায় চড়চড় করে। এই শতাব্দী ১৬ পেরিয়ে প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক হতে চলল তবু বিজ্ঞাপন রয়ে গেল সেই তিমিরেই। থাকবে নাই বা কেন? আমরাই তো ছুটছি এর পেছনে।

মেয়ে ফর্সা না হলেই চিন্তা শুরু। ‘রংটা একটু চাপা’, ‘কালোর মধ্যে মুখটা মিষ্টি’-নিজেদের বাড়ির মেয়েদেরই তো এভাবে দেখি আমরা। কালো গায়ের রঙের মেয়েকে ‘উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ’ লিখে উপযুক্ত পাত্রদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় মরিয়া বাবা। কত বার নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে বলেছেন সে কত সুন্দর? তাকে বুঝিয়েছেন কোনও দিন সু্ন্দর মানে আসলে কী? সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বদলে হীনমন্যতায় পথ নিজেই তৈরি করে দিয়েছেন।

অতি পরিচিত এই গল্পগুলোই উঠে এসেছে সাড়ে চার মিনিটের এই ভিডিওতে। কে তৈরি করেছে সুন্দরের সংজ্ঞা? ঠিক কেমন হলে সুন্দর হয় মানুষ? সেই প্রশ্নগুলোই রাধিকা আপতে তুলে ধরেছেন এই ভিডিওতে। আর সেই সঙ্গেই রয়েছে সেই অমূল্য মেসেজ। ‘ইউ আর বিউটিফুল’। মুহূর্তে এক চিলতে হাসি ফোটনো থেকে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য, নিজেকে চেনার জন্য এই একটা কথাই যে যথেষ্ট।

সূত্র: আনন্দবাজার

সব ব্যাংকের জন্য সমন্বিত প্রস্তুতি

ডুপ

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক বা বিশেষায়িত ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে গঠিত হয়েছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি বা বিএসসি। ইতিমধ্যে বিএসসি থেকে জনতা, সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে চারটি পদে সব মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২২৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পত্রিকায় ভিন্ন ভিন্ন চারটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে। এর মধ্যে ৮৩৪ জন এক্সিকিউটিভ অফিসার ছাড়াও অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (এইও) পদে ৪৬৪ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার-টেলার (এইও-টেলার) পদে ৫৩৬ জন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার-পল্লিঋণ (এইও-আরসি) পদে ৩৯৫ জন লোক নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে তিনটি পদে মোট ২ হাজার ২৭৬ জনকে নিয়োগের প্যানেল প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে ভিন্ন ভিন্ন তিনটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে। এতে অফিসার ক্যাশ পদে ৭৫৫ জন, অফিসার পদে ৮২০ জন ও সিনিয়র অফিসার পদে ৭০১ জন নিয়োগ করা হবে।
ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য ব্যাংকের জন্যও হয়তো শিগগিরই অনুরূপ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে। এ ছাড়া বর্তমানে বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিয়মিতভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে। সুতরাং ব্যাংকার হিসেবে নিজেকে দেখতে চাইলে এখন থেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা শুরু করে দিন। সময়ের সঙ্গে যাতে সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে পারেন, সে জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হতে পারে।

১.
শুরুতে বিভিন্ন ব্যাংকের বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নের ধরন দেখে ধারণা স্পষ্ট করে নিন। যেহেতু ব্যাংকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য আপনাকে তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে, তাই প্রথম তিন মাসেই শক্ত ভিত তৈরি করে ফেলুন। বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তরপর্ব বা এমসিকিউ আপনার জন্য যেমন টিকে থাকার লড়াই নিয়োগকর্তার কাছে, তেমনি ছেঁটে ফেলার কৌশল। তাই প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আপনি একটু কৌশলী হলেও দোষের কিছু নেই।

২.
গুনে গুনে পাঁচটি সাদা পাতা নিন। পাঁচ পাতার প্রতি পৃষ্ঠায় আলাদাভাবে বাংলাদেশের জিডিপি, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রপ্তানি আয়, কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্য হ্রাস, পর্যটন বিকাশ ও পরিবেশ-সম্পর্কিত পাঁচ বছরের তথ্য লিখে রাখুন। সম্ভব হলে রেফারেন্সসহ সাল অনুযায়ী গ্রাফ বা টেবিল করে রাখতে পারেন। লিখিত পরীক্ষায় জাতীয় উন্নয়ন, অগ্রগতি ও অর্থনীতিবিষয়ক যেকোনো লেখায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য এই পাঁচ পাতা হবে আপনার ‘হাতের প্যাঁচ’। এগুলো প্রিলিমিনারি ও ভাইভার জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিমধ্যে বিএসসি থেকে জনতা, সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে

৩.
পাঁচটি সাদা পাতা ভরার জন্য ভালোভাবে পত্রিকা পড়ার বিকল্প নেই। প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি উভয় পত্রিকা পড়লে যেমন অনুবাদ দক্ষতা বাড়ে, তেমনি ভালো লেখার কৌশলও আয়ত্ত করা যায়। জাতীয় দৈনিকের অর্থনীতি, সাহিত্য ও প্রযুক্তি পাতা নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।

৪.
বিশেষ দিবস বা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যু দিবসের দিকে খেয়াল রাখুন। ওই দিনের দৈনিকে বিশেষ নিবন্ধ, আলোকপাত বা ক্রোড়পত্র থাকে, সংগ্রহে রাখুন। সময় করে বিস্তারিত পড়ে নিন। অনলাইনেও পড়তে পারেন। এতে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ব্যক্তি-সম্পর্কিত তথ্য সহজেই মনে থাকবে। যেমন কোনো কবি বা লেখকের গ্রন্থের নাম, বিজ্ঞানীর আবিষ্কারের নাম বা অবদান বারবার পড়েও মনে রাখা কঠিন কিন্তু তার ওপর আলোচনামূলক লেখা পড়ে দেখুন সহজেই মস্তিষ্কে গেঁথে যাবে।

৫.
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি সমার্থক শব্দ বা বিপরীত শব্দ মুখস্থ করলেও ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বারবার পড়তে হবে। যেকোনো বই বা ইংরেজি পত্রিকা দেখে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচটি নতুন শব্দ আয়ত্ত করার চেষ্টা করলে ভালো ফল পাবেন। এতে ৯০ দিনে সাড়ে ৪০০ শব্দ শেখা হয়ে যাবে।

৬.
ক্যালকুলেটর-নির্ভরতা কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসুন। ‘অঙ্কে কাঁচা’ এই অজুহাত ভুলে প্রতিদিন অঙ্ক অনুশীলন করুন, দেখবেন আয়ত্তে চলে আসবে। পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো আলাদা করে যেকোনো বই থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে অনুশীলন করলে ভয় থাকবে না। ইংরেজিতে অঙ্ক মানেই দুর্বোধ্য না। সাহস নিয়ে শুরু করেই দেখুন।

৭.
আসক্তি বা পড়াশোনার বিরক্তি কাটানোর জন্য যদি একবার ফেসবুকে ঢুঁ মারতেই হয়, তবে সময়টা প্রস্তুতিতে কাজে লাগান। চাকরির প্রস্তুতি-সংক্রান্ত ফেসবুকে অনেক গ্রুপ আছে সেগুলোতে যুক্ত হন। গ্রুপের সদস্যদের শেয়ার করা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্ন-উত্তর, তথ্য বা প্রয়োজনীয় লিংক ঘেঁটে ঝালিয়ে নিতে পারেন নিজের প্রস্তুতি। ফেসবুকের ‘গ্রুপ স্টাডি’ বেশ কাজে দেয়। তবে তথ্য বিভ্রাটে যাতে বিভ্রান্ত না হন সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

৮.
সপ্তাহে একটি দিন নিজেই নিজের কাছে পরীক্ষা দিন। আগের প্রশ্ন বা কোনো বইয়ের মডেল টেস্ট নিয়ে ঘড়ি ধরে বসে যান। এতে সময়-সতর্ক হতে পারবেন। নেতিবাচক নম্বর কাটা যাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে। নিজের প্রস্তুতির ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস যত বাড়াতে পারবেন, ততই আরও ভালো পড়াশোনা করতে পারবেন। আর পড়াশোনা করলে তা কখনো বৃথা যায় না।
লেখক: সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

মেয়েরা কোন ধরনের উপহার পেলে সব থেকে বেশি খুশি হয়?

হকহগ

শোপিচ বা পুতুল জাতীয় গিফট মেয়েরা বেশি পছন্দ করে। এছাড়া সাজগোজের জিনিস তো আছেই। টেডি বিয়ার হল সবচেয়ে বেস্ট গিফট গার্লফ্রেন্ডকে খুশি করার জন্য।

১) একটি ছোট্ট চিরকুটঃ
মেসেজিং আর মেইলের এই যান্ত্রিকতার সময় আপনার প্রিয়জনকে জন্মদিনের উইশ বরং একটি চিরকুটে লিখে জানান। আশা করা যায় এটি আপনার প্রিয়জনের জন্য সুন্দর আর রোমান্টিক একটি উপহার হবে।

২) তার পছন্দের খাবার নিজে বানিয়ে খাওয়ানঃ
কথায় আছে হৃদয় জয় করতে হলে আগে তাকে পেট ভরিয়ে তৃপ্ত করুন। তাই আপনার প্রিয় মানুষটির জন্মদিনের আনন্দ বাড়িয়ে তুলতে নিজ হাতে তার পছন্দের খাবার বানিয়ে খাওয়ান। তাকে অবাক করে দিতে কিছু নতুন ধরণের খাবারও বানাতে পারেন।

৩) ঘুরতে চলে যানঃ
প্রিয়জনের এই বিশেষ দিনটির বিশেষত্ব বাড়াতে দুজনের স্মৃতিবিজড়িত কোথাও ঘুরতে চলে যান, জন্মদিনের উপহারের সাথে সাথে নিজেদের সম্পর্কটাও আরেকটু মধুর হয়ে উঠবে এতে। দেখতে যেতে পারেন রোমান্টিক কোন মুভি।

৪) দুজনের সুন্দর কিছু মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটি সিডি বানিয়ে ফেলুনঃ
উপহার হিসেবে তাকে আপনার আর তার কিছু সুন্দর মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটি সিডি বানিয়ে দিতে পারেন, সাথে যোগ করতে পারেন তার পছন্দের গানের অংশ বিশেষ বা আপনার নিজের বলা কিছু ভালবাসার উক্তি। এর থেকে ভালো আর রোম্যান্টিক কোন উপহার তাকে বেশী খুশী করতে পারবেনা।

৫) সম্পূর্ণ দিনটা তাকে উৎসর্গ করুনঃ
হোকনা বয়সটা একটু বেশী কিন্তু একটি দিন ছেলেমানুষি করতে কোন বাধা নেই। আপনার প্রিয়জনের এই দিনটিকে আরো স্মরণীয় করে তুলতে দিনের পুরো সময়টা তাকে দিন। তার ইচ্ছেমত সময়টা কাটিয়ে দিন দেখবেন এতে সে যতোটা খুশী হবে তার তুলনা আর অন্য কিছুতে হবেনা। আমাদের জীবনের এই ছোট ছোট মুহূর্ত গুলো চাইলেই আমরা সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারি। সময় চলে গেলেও এই স্মৃতিগুলো আমাদের আরো অনেক বছর ভালভাবে বাঁচতে প্রেরণা দেবে।

গরমে শিশুর যত্ন

uib

কাঁঠাল পাকা গরম এখন! কিন্তু মাঝেমধ্যেই প্রচণ্ড গরম ছাপিয়ে ওঠে কালবৈশাখী। দ্রুত নেমে যায় তাপমাত্রা। তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যের প্রথম শিকার হয় শিশুরা। বয়স্করা এই আবহাওয়ায় নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারলেও শিশুরা অনেক সময়ই পেরে ওঠে না। ফলাফল জ্বর, পেট খারাপ, সর্দি, কাশিসহ নানা শারীরিক অসুবিধা। তাই এই গরমে দরকার শিশুর বাড়তি যত্ন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘গরমে শিশু অনবরত ঘামে। এই ঘামের ফলে শিশুর শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে শিশু পানিশূন্যতাসহ ভাইরাল জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগতে পারে। এই সময়টায় শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাওয়ান। যেকোনো সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।’
গরমে শিশুর পেট খারাপ হওয়ার শঙ্কাটাও বেশি থাকে। পেট খারাপ হলে অবশ্যই শিশুকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সঙ্গে ডাবের পানিও দিতে পারেন। এই সময় অন্যান্য তরল খাবারও দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, শিশু যেন পানিশূন্যতায় না ভোগে। তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক আছে কি না, খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায়, তবে অবশ্যই শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ছয় মাস বয়সী শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধের সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে।
এই সময়টায় শিশুর শরীরে ঘামাচি ওঠার প্রবণতা থাকে। তাই শিশুকে প্রতিদিন গোসল করিয়ে পরিষ্কার পোশাক পরাতে হবে। ঘামাচির জায়গায় শিশুদের উপযোগী পাউডার লাগান। পাউডার লাগানোর আগে শিশুর শরীর মুছে নিন নরম ভেজা কাপড় দিয়ে। গরমে শিশুকে বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো।
গরমেই শিশুর ঠান্ডা লাগে বেশি। কারণ অতিরিক্ত ঘাম। ঘেমে গেলে দ্রুত শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলানো বাধ্যতামূলক। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং তাকে সব সময় সুতি কাপড়ে তৈরি পোশাক পরালে আরাম পাবে।
এই গরমে শিশুর চুলেরও বাড়তি যত্ন নিতে হবে। গরমে চুলের গোড়া ঘেমে যায় দ্রুত। সঙ্গে বাতাসে ওড়া ধুলাবালুর কারণে ঘামে ভিজে চুলে জড়িয়ে যায়। এটি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বকে খুশকি, ঘামাচিসহ নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। গরমে শিশুর চুল ছেঁটে ছোট করে দিতে পারেন। এক বছর বা তার কম বয়সের শিশুর চুল ফেলেও দিতে পারেন। শিশুর জন্য এই কাজটা মঙ্গলজনকই হবে। বড় চুল হলে নিয়মিত যত্ন নিন। গোসল করার পর চুল ভালোভাবে মুছে নিয়ে আঁচড়ে দিন চিরুনি দিয়ে। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে ভালোভাবে বেঁধে দিন। চুল ধোয়ার জন্য শিশুদের উপযোগী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
গরমে শিশুর বাড়তি একটুখানি যত্নে পুরো গরমটাই উপভোগ্য হতে পারে। এই সময়ে প্রচুর ফল পাওয়া যায়। মৌসুমি ফল শিশুকে খেতে দিন। ফলে অরুচি থাকলে জুস করে দিতে পারেন। শিশুর পুষ্টি পূরণও হবে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়বে।

টমেটো কীভাবে খাবেন?

w3

কাঁচা টমেটো খাবেন, নাকি রান্না করা টমেটো? কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর? পুষ্টি ও গুণের কথা বিচার করলে কাঁচা সবজি বা সতেজ ফলেরই পাল্লা ভারী। কারণ, রান্না করলে অনেক সময় ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি সত্যি হলেও টমেটোর ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে।
টমেটো লাল হওয়ার পেছনে যে লাল রঙের পিগমেন্ট থাকে, তার নাম লাইকোপেন। এই লাইকোপেন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। এমনকি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি উপকারী। টমেটো রান্না করে খেলে এই লাইকোপেনের ঘনত্ব আরও বাড়ে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকেরা বলেন, এক টুকরো কাঁচা টমেটোতে ৫১৫ মাইক্রোগ্রাম লাইকোপেন থাকে আর দুই চা–চামচ টমেটো ক্বাথে ১৩ হাজার ৮০০ মাইক্রোগ্রাম লাইকোপেন থাকতে পারে। অর্থাৎ, টমেটো রান্না করে খেলে বেশি লাইকোপেন পাওয়া যায়। তাই টমেটো থেকে অধিক স্বাস্থ্যকর উপাদান পেতে সস, ক্বাথ, সরুয়া ও রোস্ট বানিয়ে খেতে পারেন। তথ্যসূত্র: জিনিউজ।