চুল পড়া রোধ করার কার্যকরী ৫টি প্যাক

93
চুল পড়া একটি ভয়ংকর সমস্যা। নারী-পুরুষ উভয়েরই এই সমস্যা হয়ে থাকে। চুল পড়ার নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই। যেকোন বয়সে চুল পড়তে পারে। বংশগত, পরিবেশগত, দুশ্চিন্তা, পুষ্টিহীনতা স্ট্রেস ইত্যাদি নানা কারণে চুল পড়তে পারে।

প্রথম দিকে চুল কম পড়লেও আস্তে আস্তে চুল পড়ার হার অনেক বেড়ে যায়। তাই শুরু দিকে এটি প্রতিরোধ prevent করা সম্ভব হলে, চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব। কিছু প্যাক ব্যবহারে চুল পড়া রোধ করা সম্ভব।

১। ডিমের প্যাক –
১টি ডিম, ১ কাপ দুধ, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং অলিভ অয়েল ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার এটি মাথায় লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। ডিম চুল পড়া রোধ করে, চুলের গোঁড়া মজবুত করে থাকে।

২। তেল এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুল –
নারকেল তেল অথবা বাদাম তেল অথবা জোজবা অথবা অলিভ অয়েলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিন। এটি চুলে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। সারা রাত মাথায় তেল লাগিয়ে রাখুন। এই প্যাকটি চুল কন্ডিশন, নারেশিং করে থাকে। এর সাথে চুল পড়া রোধ Hair fall prevent করে থাকে। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে ২-৩ বার এটি ব্যবহার করুন।

৩। জবা ফুলের প্যাক –
জবা ফুলের পেস্ট, কাঁচা দুধ, এবং অলিভ অয়েল একটি পাত্রে মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি মাথায় দিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এটি চুল পড়া রোধ করে চুল সিল্কি করে থাকে।

৪। টক দইয়ের প্যাক –
১/২ কাপ টকদই
১টি ডিম
১/৪ কাপ মেয়োনিজ

ডিম ভাল করে ফেটে ফেনা তুলে ফেলুন। এরপর এতে টক দই, মেয়োনিজ মিশিয়ে নিন। এবার এটি মাথায় ভাল করে লাগান। ১ ঘণ্টার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। হার্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না।

৫। মধু, অ্যালোভেরা, আদার রসের প্যাক –
১ চা চামচ আদার রস, মধু, ডিমের কসুম এবং ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। মাথার তালুতে ভাল করে লাগান। ১ ঘন্টার পর শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। অ্যালোভেরা চুল পড়া রোধ করে চুলের গোড়া মজবুত করে থাকে। মধু চুলকে নরম কোমল করে তোলে।

চুলের যত্নে নিয়মিত প্যাক ব্যবহার করা উচিত। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করা উচিত।

তথ্যসুত্রঃ প্রিয় লাইফ

নির্জীব চুল ঝলমলে করে তুলুন ৯টি সহজ উপায়ে

92

চুল স্ট্যাটিক হয়ে গেলে দেখতে প্রাণহীন, ভোঁতা ও শুষ্ক হয়ে যায়। এই স্ট্যাটিক চুলের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে চূলকে স্বাস্থ্যবান রাখতে হবে এবং সঠিক ভাবে পুষ্টি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। যখন বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে তখন অর্থাৎ শীতের সময়ে চুলের এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। ভালো শ্যাম্পু ও ভালো কন্ডিশনার ব্যবহার করে চুলের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও আরো কিছু উপায়ে চুলের এই সমস্যার সমাধান করা যায়, চলুন জেনে নেই সেই উপায় গুলো কী।

১। ভেজা চুল আঁচড়ান –
স্ট্যাটিক হেয়ার থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে ভেজা চুল আঁচড়ানো। চুল ভেজা আছে এমন অবস্থায় মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান। চুল ভেজা অবস্থায় দুর্বল থাকে তাই মোটা দাঁতের চিরুনি প্রয়োজন।

২। হেয়ার সিরাম ব্যবহার করুন –
চুলে ভালো কন্ডিশনার ব্যবহার করুন এবং চুলের আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য হেয়ার সিরাম লাগান। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করবেন না। তাহলে চুল তেলতেলে দেখাবে। ৩ থেকে ৪ ফোটাই যথেষ্ট।

৩। প্লাস্টিকের চিরুনি বাদ দিন –
প্লাস্টিকের চিরুনি ঘর্ষণের সৃষ্টি করে যা স্ট্যাটিক হেয়ারের জন্য দায়ী। তাই প্লাস্টিকের পরিবর্তে মেটাল বা কাঠের চিরুনি ব্যবহার করুন। চুলের hair জট ছাড়ানোর জন্য অবশ্যই মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করবেন তারপর অন্য চিকন দাঁতের চিরুনি দিয়ে চূলকে সাজান।

৪। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার কমিয়ে দিন –
চুল শুকানোর জন্য খুব বেশি ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। ভেজা চুল পাতলা সুতির তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন। এতে চুলের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। যদি ড্রায়ার ব্যবহার করতেই হয় তাহলে চুলের কিছু অংশে ব্যবহার করুন। আয়নিক ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ আয়নিক ড্রায়ার চুলের ইলেকট্রিক চার্জ প্রতিরোধ করে। ইলেকট্রিক চার্জের কারনেই চুল স্ট্যাটিক বা নির্জীব হয়।

৫। লোশন ব্যবহার করুন –
তাৎক্ষণিক ভাবে চুল এর নির্জীবতা দূর করতে হ্যান্ড লোশন ব্যবহার করতে পারেন। সামান্য লোশন হাতে নিয়ে ঘষুন, তারপর আপনার চুলের ভেতর হাত বুলিয়ে নিন। এতে চুলের নির্জীবতা দূর হবে।

৬। হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করুন –
আপনার হেয়ার ব্রাশে স্প্রে লাগিয়ে চুল ব্রাশ করুন, এতে চুলের উস্কোখুস্কোভাব দূর হয়।

৭। পানি ব্যবহার করুন –
সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকরী হচ্ছে পানিতে হাত ভিজিয়ে নিয়ে চুলের মধ্যে হাত বুলিয়ে নিন। এতে তাৎক্ষণিক ভাবে চুল ঠিক হয়ে যায়।

৮। ড্রায়ার শিট ব্যবহার করুন –
আপনার চিরুনি ড্রায়ার শিট দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন এবং আপনার চুলেও ড্রায়ার শীট ব্যবহার করুন। এতে চুলের নির্জীবতা দূর হয়।

৯। রাবারের সোল যুক্ত জুতা পরিধান করা বাদ দিন –
রাবারের সোল চুলের বৈদ্যুতিক আধান তৈরি করে যা চুলের নির্জীবতা Lifeless hair সৃষ্টিকারী। অন্য দিকে চামড়ার জুতা জামা কাপড় ও চুলের বৈদ্যুতিক আধান কমায়। তাই রাবারের জুতা না পরে চামড়ার জুতা পড়ুন।

তথ্যসুত্রঃ প্রিয় লাইফ

সারাদিনের ক্লান্ত ত্বকের যত্ন কীভাবে নিবেন? জেনে নিন!

91

সংসার, কর্মক্ষেত্র সব সামলে যখন আপনি ক্লান্ত তখন মনে রাখতে হবে আপনার সাথে সাথে আপনার ত্বকও বেশ ক্লান্ত, নিজের ক্লান্তি দূর করতে হয়তো আপনি বিশ্রাম নিচ্ছেন খাচ্ছেন বা ঘুমুচ্ছেন কিন্তু ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে আপনি কী করছেন। ত্বকের যত্ন নিয়ে আপনার এমন অসচেতনতাই ত্বক নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই এবার আপনার জন্য রইল কিছু পরামর্শ।

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই একগাদা কাজ। নাস্তা বানানো, দুপুরে অফিসে নিয়ে যাওয়ার খাবার রেডি করা, স্বামীর নতুন কিছু খেতে চাওয়ার আবদার, বাচ্চার স্কুল—সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড। যৌথ পরিবারে থাকলে তো কথাই নেই, এর সঙ্গে আবার সবার মনও জুগিয়ে চলতে হবে।

রাস্তার দূষণ, জ্যামের অত্যাচার সহ্য করে অফিসে গিয়েও একগাদা কাজ, আবার বাসায় ফিরেই দশভুজা হয়ে কাজে লেগে যাওয়া। সন্ধ্যার চা-নাস্তা, রাতের খাবার তৈরি, বাচ্চাকে পড়ানো—সবশেষে খাওয়া দাওয়া সেরে একটু ক্লান্তির ঘুম। বেশিরভাগ কর্মজীবী নারীর দৈনন্দিন রুটিন এটি। কাজ করেই কূল-কিনারা পাওয়া যায় না—এর মধ্যে আবার ত্বক পরিচর্যার সময় কোথায়! কিন্তু আপনি কি জানেন আপনার আর দশটা অভ্যাসের মতো আপনার ত্বকও আপনার কাছে একটু যত্নআত্তি চায়। প্রতিদিনকার এত ধকল, সাথে অফিসে যাওয়া-আসার পথের দূষণে আপনার ত্বক ম্লান হয়ে যেতে থাকে দিন দিন। সবার তো আর এত কাজের ভিড়ে পার্লারে গিয়ে পরিচর্যা করা হয়ে ওঠে না। আপনি আপনার এই নিজস্ব রুটিনের মধ্যে থেকেই আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে পারেন। এতে আপনার খুব একটা সময় যাবে না।

যেমন, সকালে উঠে আপনি যখন ফ্রেশ হতে যাবেন, সেই সময়টাতেই একটু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। ঘুম থেকে ওঠার পর ত্বকে যে তৈলাক্ত ভাব থাকে, এটা চলে যাবে। অফিসে যাওয়ার সময় একটু ময়েশ্চারাইজার লাগান, যদি কড়া রোদের মধ্যে বের হতে হয় তাহলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। অফিসে দিনের প্রায় পুরোটা সময়ই চলে যায়। তাই নিয়মিত কাজের ফাঁকে ৩-৪ বার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পানি দেওয়া সম্ভব না হলে ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে ফেলে একটু ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। আপনি যেমন সারাদিনের ধকলে ক্লান্ত হয়ে যান, তেমনি কিন্তু ক্লান্ত হয়ে যায় আপনার ত্বক।

যদি বাসায় ফিরে গোসল করার অভ্যাস থাকে তাহলে গোসলের আগে মুখে একটু মধু ম্যাসাজ করতে পারেন নয়তো ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। গোসল শেষে শীতকাল হলে বডি লোশন ব্যবহার করুন। আর মুখে মাখুন হালকা কোল্ডক্রিম। শোবার আগে একবার মুখ ধুয়ে নিন। একটু নাইট ক্রিম বা অ্যান্টি অ্যাজিং ক্রিম মুখে মেখে নিয়ে চোখের চারপাশে আই ক্রিম লাগিয়ে ঘুমোতে যান। ছুটির দিনে অবশ্যই একটু সময় বের করে মুখে ফেসপ্যাক লাগান। মুলতানি মাটি, মধু আর দই দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে লাগান। আর যদি একান্তই বানাতে না পারেন তাহলে বাজারে অনেক রেডি ফেসপ্যাক পাওয়া যায়, এগুলো কিনে ব্যবহার করতে পারেন। শুধু এই একটু সময় আপনার ত্বক পরিচর্যার জন্য ব্যয় করুন, দেখবেন আপনার ত্বকের জেল্লা ঠিকই বজায় থাকবে।

চটজলদি কিছু সমাধান –
যখনই ক্লান্তি অনুভব করবেন তখনই মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, যার প্রভাব আপনি খুব তাড়াতাড়িই অনুভব করতে পারবেন। তবে ফ্রিজের পানি কখনও ব্যবহার করবেন না। এক্সারসাইজ বা শরীর চর্চা করুন নিয়ম করে। এতে আপনার সারা শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকবে এবং ত্বকও থাকবে টান টান। ক্লান্তি দূর করার জন্য অনন্য একটি উপায় হলো—ম্যাসাজ। এগুলো করতে অসুবিধা হলে বেশি করে হাঁটুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন

যে ৩টি কারনে জাপানি মেয়েদের বয়স বাড়তে চায় না!

90

কোয়ার্টার শতক ধরে বিশ্ব রেকর্ডে গড় হিসেবে দীর্ঘায়ু হওয়ার শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছেন সূর্য উদয়ের দেশ জাপানের মেয়েরা। জাপানি মেয়েরা গড়ে প্রায় ৮৪ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকেন। শুধু দীর্ঘায়ুই নয়, স্লিম ফিগারের অধিকারীও তারাই। এসব কিছুর পেছনে কী এমন গোপন রহস্য?

জাপানি মেয়েদের এই রহস্য নেপথ্যে রয়েছে ৩টি কারন_

শরীরচর্চা:
নিজেদের ফিট রাখার সহজ মন্ত্র হলো শরীরচর্চা। সাইক্লিং হোক বা ওয়াকিং, নিয়মিত শরীরচর্চা কখনও বাদ পড়ে না জাপানি মেয়েদের Japanis girl রুটিন থেকে।

মিষ্টি থেকে দূরে:
মিষ্টি থেকে সবসময়ই দূরত্ব বজায় রেখে চলেন জাপানি মেয়েরা। তাদের মেনু menu কার্ডে থাকে না কোনও ডেজার্ট।

ভারি জল খাবার:
জাপানি মেয়েরা দিনের শুরুটা করেন ভারী জল খাবার দিয়ে। গ্রিন টি, স্যুপ থেকে শুরু করে ওমলেট, স্টিমড রাইস সবই থাকে জল খাবারে।

হাল্কা ডিনার:
দিনের শুরুটা তাদের ভারী জল খাবার দিয়ে হলেও তারা দিনের শেষটা করেন হাল্কা ডিনার dinner দিয়ে। তারা কখনই রাতে ভারি খাবার খায় না ।

ব্রণের দাগ নির্মূলের সহজ উপায়

89

ব্রণ, অ্যাকনের দাগে লজ্জায় বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না? সুন্দর মুখ ঢেকে যাচ্চে দাগ ছোপে। তাহলে অবশ্যই এই পদ্ধতিগুলো নিয়মিত ব্যবহার করুন। নিশ্চিত আপনি দাগের spots হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

১) মুখের যে কোনও দাগ নির্মূল করতে পাতিলেবুর রস খুবই উপকারী। দাগের জায়গায় রোজ যদি পাতিলেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে দাগ ছোপ ধীরে ধীরে কমে যাবে।

২) মধু আমাদের চামড়ার পক্ষে খুবই উপকারী। অ্যাকনের বা ব্রণের দাগ Acne spots কমানোর জন্য প্রত্যেক দিন রাতে সারা মুখে মধু মেখে শুয়ে পড়ুন। আর সকালে হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩) অ্যালোভেরা শুধু রোদের তাপ থেকেই আমাদের চামড়াকে বাঁচায় না। অনেক গুণ রয়েছে অ্যালোভেরার। চামড়ার ক্ষতিগ্রস্থ টিশুগুলিকে সরিয়ে নতুন টিশু তৈরি করতে খুব সাহায্য করে অ্যালোভেরার রস। এটি দিনে ২ বার মুখে লাগান। কিছুক্ষন পর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

যে ৬টি খাবার যা ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকারক

88

খাদ্য যেমন শরীরের উপকারি, তেমনই সমান ভাবে অপকারিও। কারণ বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন আপনাকে উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী করে তুলতে পারে, ঠিক তেমনই অনায়াসেই ত্বক খারাপও করে দিতে সক্ষম। ঠিক তেমনই অতরিক্ত তেল খাওয়ার ফলে মুখে ব্রণ হতে পারে। আবার অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ত্বকের ওপর বলিরেখা সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই এবার এক ঝলকে দেখে নিন কোন কোন খাবার আপনার ত্বক এবং শরীরে উভয়ের ওপরেই খারাপ প্রভাব ফেলে…

১. লবন :
যদি আপনার চোখের তলায় কালি এবং মুখ অতিরিক্ত ফোলা দেখায় তাহলে বুঝবেন এর জন্য দায়ী কিন্তু নুন। খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত সোডিয়াম খাওয়ার ফলে চোখের তলায় কালি পরে যায়। এমনকি ভালো ঘুম হওয়ার পরেও মুখে ক্লান্তির ছাপ লেগেই থাকে। তাই খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত নুন না খাওয়াই ভালো।

২. অ্যালকোহল :
অল্প পরিমাণে অ্যালকোহল খেলে কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু অ্যালকোহলের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে শরীরের সঙ্গে ত্বকও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যেমন অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল খেলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। যার জন্য ত্বকে বলিরেখা সহ ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। এমনকি ব্রণের সমস্যাও acne problem দেখা দিতে পারে। তাই রোজ অ্যালকোহল না খাওয়াই ভালো।

৩. কার্বোহাইড্রেট :
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট শরীরের পক্ষে খুবই খারাপ। যেমন ধরুন, পাঁউরুটি, লজেন্স, পাস্তা, সোডা প্রভৃতি খাবার শরীরের পক্ষে খুবই খারাপ।

৪. কফি :
কফি খেলে ক্লান্তি দূর হয় ঠিকই। কিন্তু জানেন অতিরিক্ত কফি খাওয়ার ফলে আপনার শরীরে স্ট্রেস হরমোনের আধিক্য ঘটে। যার ফলে ডিহাইড্রেশন এবং বলিরেখার সমস্যা দেখা দেয়।

৫. চিনি :
সকলেই হয়ত যানেন, অতিরিক্ত চিনি শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। খুব বেশি পরিমাণে চিনি খেলে শরীরে কোষের আধিক্য ঘটতে দেয় না। যার ফলে কোষের ক্ষতি হয়।

৬. ফ্যাট জাতীয় খাবার :
সব ধরনের ফ্যাট কখনওই মোটা হতে সাহায্য করে না। শরীর এবং ত্বক ভালো রাখার জন্য অবশ্যই ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জাতীয় খাবার খাওয়া খুব জরুরি। কারণ এই ফ্যাটি অ্যাসিড বলিরেখা, রুক্ষ ত্বক skin প্রভৃতির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যার জন্য ওয়ালনাট, সয়াবিন, মাছ প্রভৃতি খাবার অত্যন্ত জরুরি।

ঘাড়, ঠোঁট ও চোখের নিচের কালো দাগ উঠাতে করণীয়

87

অনেকের গায়ের রং ফর্সা হলেও ঠোটের রং কালচে। কিন্তু এ নিয়ে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে প্রাকৃতিক কিছু উপায়। যা দিয়ে এই ঠোঁটের কালচে রংসহ আরও বেশ কিছু উপকার পাওয়া যাবে।# কয়েক ফোটা পাতি লেবুর রস, মধু ও ম্যাসাজ ক্রিম মিশিয়ে দিনে দু’বার করে ঠোটে ম্যাসাজ করলে মাস খানেকের মধ্যেই সুফল পাওয়া যাবে। তবে নিয়মিত ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

# অনেকের চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। তারা লেবুর রসে মধু মিশিয়ে ম্যাসাজ করলে চোখের নিচের কালো দাগ দূর হতে পারে।

# গলায় ও ঘাড়ের কালো দাগ তুলতে হলে: ৪টি বড় এলাচ, ৫/৬টি দারুচিনি, ১০/১২টি কিসমিস, ৪/৫টি চিনা বাদাম রাতভর ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সবগুলো একসঙ্গে মিহি করে বেটে নিয়ে একটা কৌটা ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। এই অবস্থায় ৭ দিন পর্যন্ত এটি অবিকৃত থাকবে। প্রতিদিন একটু করে ওই বাটা বের করে বাড়িতে পাতা দই, মধু ও গুড়ো চিনি মিশিয়ে প্যাকের মতো মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রোদে পুড়ে মলিন হওয়া চামড়া এবং স্বাভাবিক কালো ত্বকের পক্ষে এই প্যাকটি খুবই কার্যকর।

# অনেক সময় (গায়ের স্বাভাবিক রং) প্রবলেমের জন্য গায়ের রং কালো হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এক চামচ বেশন, এক চামচ পাকা আমের শাস, আধা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা। এক চামচ গাঁদা ফুলের পাঁপড়ি কাঁচা দুধ দিয়ে মিশিয়ে গোসলের আধা ঘণ্টা আগে লাগাতে হবে। এমন জায়গায় লাগাবেন যেখানে পিগমেন্টেশন হয়েছে।

চিনে নিন বাজারের সেরা ৫ অ্যান্টি এজিং ক্রিম

86
তারুণ্য উজ্জ্বল দীপ্তিময় ত্বক সব নারীর কাম্য। মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ত্বকের বয়স বৃদ্ধি পায়। আর ত্বকের বয়স বৃদ্ধির কারণে ত্বকে দেখা দেয় বলিরেখা। ত্বকে বলিরেখা পড়া রোধ করার জন্য অনেকেই অ্যান্টি এজিং ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। বাজার ঘুরলে নানা ব্র্যান্ডের নানা অ্যান্টি এজিং ক্রিম পাওয়া যায়। এত সব ক্রিমে ভিড়ে কার্যকর ক্রিমটি খুঁজে পাওয়া ভার। আপনার এই কঠিন কাজটি সহজ করে দেবে এই ফিচারটি। চিনে নিন বাজারের কিছু কার্যকর অ্যান্টি এজিং ক্রিম।
১। হিমালয় হারবালস অ্যান্টি-রিংকেল ক্রিম (Himalaya Herbals Anti-Wrinkle Cream)

ভারতে বেশ জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড হিমালয়। হিমালয় হারবাল অ্যান্টি-এজিং ক্রিম ত্বকের বলিরেখা, রিংকেল এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামত করে থাকে। এতে আঙ্গুর,লেবুর নির্যাস, অ্যালোভেরা, চন্দনের গুঁড়ো রয়েছে, যা ত্বকে পুষ্টি যুগিয়ে থাকে। দাম পড়বে আনুমানিক ৩৫০ টাকা।

২। লোটাস হারবাল আলমন্ড ইয়োথ অ্যান্টি রিংকেল ক্রিম (Lotus Herbals Almond Youth Anti Wrinkle Cream)

লোটাস হারবালের এই ক্রিমটি রিংকেল দূর করে দেয় অল্প কিছুদিন ব্যবহারে। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। এর দাম পড়বে আনুমানিক ৬০০ টাকা।

৩। ওলে সিরাম (Olay Regenerist Regenerating Serum Fragrance)

এই ক্রিমটি ত্বকের বলিরেখা দূর করে নরম উজ্জ্বল খুব অল্প সময়ের মধ্যে দিয়ে থাকে। দ্রুত রিংকেল দূর করতে চাইলে এই ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারেন। এর আনুমানিক দাম পড়বে ১৮০০ টাকা।

৪। শাহ্‌নাজ হোসেন অ্যান্টি- রিংকেল-বিউটি-বাম (Shahnaz Husain Anti-Wrinkle Cream-Beauty Balm)

সকল ধরণের ত্বকে শাহ্‌নাজ হোসেনের এই ক্রিমটি ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বক নরম করে এবং ত্বক ময়োশ্চারাইজ করে। ত্বক উজ্জীবিত করে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে তুলে এই ক্রিমটি।

৫। অ্যানহার্ব নেচারাল প্রিমিয়াম কেয়ার অ্যান্টি সেন্স ক্রিম (Anherb Natural Premium Care Anti Sensece Cream)

মধ্যবয়সীদের ত্বকের বলিরেখা দূর করা সমস্যা সমাধানে এই ক্রিমটি বেশ কার্যকর। এর ওমেগা থ্রি, ভিটামিনস, অলিভ এবং অন্যান্য উপাদান ত্বকে রিংকেল দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্নির হাত থেকেও রক্ষা করে থাকে। দাম পড়বে আনুমানিক ১২০০ টাকা।

উৎসবের আগে ঘরেই পার্লারের মতো ফেসিয়াল সেরে নিন

85
মুখের ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে ফেসিয়ালের তুলনা নেই। পার্লারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে না চাইলে যেকোনো উৎসবের আগে নিজেই করে নিতে পারেন সুন্দর ভাবে ফেসিয়াল। সেজন্য দরকার ফেসিয়ালের উপযুক্ত ধাপ সম্পর্কে জেনে নেয়া। আসুন দেখে নেয়া যাক, বাসায় বসে কীভাবে পার্লারের মতো কার্যকরী ফেসিয়াল facial করা যায়।
ক্লিঞ্জিং :
প্রথমে মুখের ত্বকে গরম ভাপ নিয়ে নিন। এটি আপনার মুখের লোমকুপগুলো খুলে দিতে সাহায্য করবে। ভাপ নেয়া হয়ে গেলে ক্লিঞ্জার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন ভালো করে। দুধে তুলা ভিজিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

ম্যাসাজ :
ফেসিয়াল ক্রিম দিয়ে ১০ মিনিট ত্বকে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে নিন। চোয়ালের নিচ থেকে উপরের দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। এতে প্রতিটি লোমকুপের ভেতর থেকে ময়লা বের করতে সুবিধা হয়।

স্ক্র্যাবিং :
ম্যাসাজ ক্রিম ধুলে এবার স্ক্র্যাব দিয়ে মুখ আলতো ভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘষতে থাকুন। তারপর উষ্ণ তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ফেলুন। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য চালের গুঁড়া, সুজি অথবা চিনি হতে পারে সবচেয়ে ভালো স্ক্র্যাব।

টোনিং :
সমপরিমাণ ভিনেগার ও গোলাপ জল মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন টোনার। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে খুবই উপযোগী। তুলা দিয়ে টোনার মুখে লাগান কিন্তু ভুলেও ঘষবেন না। চোখের চারপাশ বাদ দিয়ে টোনার লাগাতে হবে।

এবার ফেসিয়ালের জন্য যে কোনো একটি মাস্ক প্রস্তুত করুন –

শশা মাস্ক :
একটা শসার রস বের করে এক চামচ চিনি ভালো করে মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। ত্বকে মেখে দশ মিনিট রেখে ধুতে হবে। শসার রস ত্বককে হাইড্রেট করে, ফলে ত্বক অনেক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।

দই মাস্ক :
শসার রস, এক কাপ ওটমিল ও এক টেবিল চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণটা পুরো মুখে মেখে তিরিশ মিনিট রেখে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিন।

ডিম মাস্ক :
একটা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে এই মিশ্রণটা ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

টমেটো মাস্ক :
একটি টমেটো ভালো করে চটকে নিন। সঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে আমাদের ত্বকের দাগগুলো সব মিলিয়ে যাবে।

মাস্ক ব্যবহারের পর ফুটন্ত গরম পানিতে ১ চামচ গ্রিন টি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। ১টি বাটিতে ২ চামচ মুলতানি মাটি, ২ থেকে ৩ চামচ গ্রিন টি ভেজানো পানি এবং ঘৃতকুমারীর রস মেশান। তারপর প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করুন নতুন আপনাকে।

চুলে তেল দেওয়া ভালো না খারাপ? জেনে রাখুন

60

সেই আদিযুগ থেকে নারীরা চুলে তেল ব্যবহার করে আসছে। আমরা সবাই জানি, চুল ঘন ও ঝলমলে করতে তেল বেশ কার্যকর। কিন্তু সত্যিই কী তেল চুলের জন্য উপকারী? এ বিষয়ে চুল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে আইডিভা ওয়েবসাইটে।
ভালো না খারাপ?
বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হসপিটালের ড. কেভি হারিশ বলেন, ‘খারাপ আবহাওয়া, তাপ ও সূর্যের রশ্মির বিকিরণ থেকে চুলকে রক্ষা করে তেল।’ তিনি মনে করেন, ‘তেল হচ্ছে এমন একটি পিচ্ছিল পদার্থ যা ময়লা-ধুলাবালি ও রোদ থেকে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে চুল ভালো রাখে।’ তাই ড. হারিশের মতে, তেল চুলের জন্য খুবই উপকারী।

তেল আসলে চুলে কী করে?
তেল মূলত চুলের আবরণ হিসেবে কাজ করে, যাতে চুল নষ্ট না হয় এবং তেল চুলের গোড়া শক্ত করে। এ ছাড়া চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যারও সমাধান করে তেল’, বললেন চুল বিশেষজ্ঞ জাওয়েদ হাবিব।

বাজারে অনেক ধরনের তেল কিনতে পাওয়া যায়। একেকটি তেল একেক ধরনের চুলের জন্য কার্যকর। এই যেমন- শুষ্ক তুলের জন্য আমন্ড অয়েল উপকারী, আবার নারকেল তেল চুলের রুক্ষতা দূর করতে বেশ কার্যকর। এ ক্ষেত্রে আপনাকে বেছে নিতে হবে কোনটি আপনার চুলের জন্য ভালো।

কীভাবে চুলে তেল ব্যবহার করবেন?
“চুলে তেল দেওয়া কোনো দীর্ঘ বা ব্যয়বহুল পদ্ধতি না। সপ্তাহের যেকোনো একদিন রুটিন করে চুলে তেল দিন যা আপনার জন্য খুব বেশি ঝামেলার হবে না’, বললেন ড. হারিশ। চুলে তেল মেখে সারারাতও রেখে দিতে পারেন আবার শ্যাম্পু করার ৩০ মিনিট আগেও তেল লাগাতে পারেন। দুটি পদ্ধতিই সমান উপকারী।

তেল ব্যবহারের সময় খুব বেশি গরম না করাই ভালো। হালকা গরম অথবা কক্ষ তাপমাত্রায় গরম থাকলে তেল বেশি কার্যকর হয়। ‘অতিরিক্ত গরম তেল মাথার তালুর জন্য ক্ষতিকর এবং এই তেল ব্যবহারে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

⇒ ভালো লাগলে প্লিজ ব

প্রাকৃতিক মধুর জাদুতে সুন্দর ও কোমল ত্বক

59
মধু এক ধরনের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এটি ত্বকের গভীরে নমনীয়তা ধরে রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘসময় ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে মধু দারুণ উপকারী। বিশেষ করে গরমের দিনে ত্বকে জমে থাকা ঘাম, ময়লা, জীবানুতে সৃষ্টি করা ব্রণ আর র‌্যাশের থাকে আধিপত্য। এসব তাড়িয়ে সুন্দর ও কোমল ত্বক পেতে সাহায্য করবে মধু। খাওয়ার পাশাপাশি ত্বকচর্চায় এর জুড়ি নেই। তাই আপনার ত্বকের যত্নে দেখে নিতে পারেন মধুর কয়েকটি অসাধারণ ব্যবহার।
⇒ নিয়মিত ১ টেবিল-চামচ পরিমাণ মধু Honey পরিষ্কার ও শুষ্ক ত্বকে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর কুসুমগরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে ত্বকে ফিরে আসবে কোমলতা ও মসৃণতা।

⇒ মধুতে আছে এনজাইম যা ত্বক ও লোমকূপের গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে। এছাড়াও মধুতে বিদ্যমান অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে। মধু দিয়ে ত্বক ম্যাসাজ করলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

কর্মক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহারে সাবধান : কী বলবেন আর কী বলবেন না জেনে নিন

53

কর্মক্ষেত্রে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সবারই নিজস্ব ঢং থাকে। গবেষক লিন টেলরের মতে, অফিসের অনেক সহকর্মীই আপনার বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন। এর পরও তাঁদের সঙ্গে ভাষার ব্যবহারে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ আপনার প্রতিটি শব্দ আপনার প্রতিনিধিত্ব করে। তাই কর্মক্ষেত্রে কোন ধরনের ভাষা এড়িয়ে চলা ভালো, তাই নিয়ে আজকের আয়োজন।
১. ‘যাই হোক’
কোনো বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই শব্দ দুটি ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে ব্যক্তির দুর্বলতাই প্রকাশ পায়। এ ছাড়া কথাটির মাধ্যমে কোনো ঘটনার গুরুত্বও নষ্ট করে ফেলা যায়।
২. কুরুচিপূর্ণ শব্দ
কোনো অবস্থাতেই অফিসে বাজে কথা বলা যায় না। কুরুচিপূর্ণ শব্দ আপনার অপেশাদার ও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় ফুটিয়ে তোলে। বাজে কথার মানুষ কখনোই কর্মক্ষেত্রে স্বীকৃতি পায় না।
৩. চিত্কার-চেঁচামেচি করা
ঘটনার ব্যাপকতার সঙ্গে কণ্ঠস্বর ওঠানামার একটা সম্পর্ক আছে, এ কথা ঠিক। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে কখনোই চিত্কার-চেঁচামেচি করা উচিত নয়। এমনকি কারো বিশাল সাফল্যেও চিত্কার করে অভিনন্দন জানানোর দরকার নেই।
৪. ও মাই গড!
উত্তেজনা বা বিস্ময় প্রকাশের আরো অনেক উপায় আছে। কিন্তু ‘ও মাই গড’ বলে কোনো আবেগ প্রকাশ করলে তা নেতিবাচক হিসেবেই গণ্য হয়।
৫. আমি জানি, তাই না?
কোনো বিষয়ে আপনি জানেন, তার জানান দিতে দোষ নেই। কিন্তু ‘আমি জানি, তাই না?’—এমন বাক্য প্রায়ই বিরক্তিকর ও অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে।
৬. অসাধারণ!
প্রশংসার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটাতে পারে এ শব্দটি। কিন্তু প্রশংসা করার জন্য শব্দ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাবধান।
৭. শব্দের অপব্যবহার
যদি বিশেষ কোনো শব্দের অর্থ ও ব্যবহারিক প্রয়োগ না জানেন, তবে ভুলেও তা উচ্চারণ করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে বুঝেশুনে নতুন শব্দের প্রয়োগ দারুণ আনন্দ দিতে পারে। এ জন্য অভিধানের সহায়তা নিতে পারেন।
৮. নিজের বানানো শব্দ
কোনো অবস্থাতেই এটা করতে পারেন না আপনি। অর্থহীন এসব শব্দ পেশাক্ষেত্রে কেনই বা বলতে যাবেন?
–বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

‘আমার মেয়ে ও ভাগ্নে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে, কি করবো?’ –

52

মানুষের জীবনে নানা অস্বস্তিকর সমস্যা থাকে। তেমনই এক ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন। যারা এ ধরনের সমস্যায় পড়েন তাদের কাছের মানুষ হিসাবে আপনি কি করতে পারেন তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিনি লিখেছেন, আমার বোনের ছেলের বয়স ২৫। বেশ সুদর্শন। আর আমার মেয়েটির বয়স ১৮ বছর। দুজনই ছোটকাল থেকেই খেলাধুলা করে বড় হয়েছে। সম্প্রতি আমি খেয়াল করি, আমার মেয়েটির একটি ডায়েরি আছে। এটা সে খুব গোপনে সংরক্ষণ করে। গোপনে দেখতে গিয়েই আমি রীতিমতো বাকরুদ্ধ। তারা একে অপরের সঙ্গে প্রেমে জড়িত। মেয়েটি যৌন উত্তেজক কাজ করতে তাকে উদ্বুদ্ধ করে। তারা সৈকতে সাঁতার কাটতে যায়। তারা গোপনে সেক্স করে যা কিনা পুরোপুরি অনিরাপদ। মেয়েটি ডায়েরিতে লিখে রেখেছে, সে তার কাজিনকে দারুণ পছন্দ করে। তারা সময়গুলো খুব উপভোগ করে। শুধু তাই নয়, মেয়েটি নিয়মিত পিল খায়। যদিও কাজিনদের মধ্যে সেক্স যার যার ধর্মীয় রীতি-নীতিতে একেকভাবে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি চরম বিরক্তিকর। তার মা হিসাবে কি আমার উচিত তার মুখোমুখি হওয়া? তা ছাড়া আমার বোনকেও তার ছেলের বিষয়টি জানানো উচিত? নাকি জেনেও না জানার ভান করবো?

যিনি এ ধরনের সমস্যায় ডুবে রয়েছেন তার জন্যে কি করা উচিত তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১. এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাকে কিছু বলার সময় আপনার মনে রাখতে হবে যে, বিষয়টি স্পর্শকাতর। কাজেই আপনার বক্তব্য বা কথা অবশ্যই বাস্তবমুখী হবে। আপনার মনে সহমর্মিতা থাকতে হবে। কারো ব্যক্তিগত জীবনের অস্বস্তিকর একটা সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন আপনি। কাজেই ভাষা ও কণ্ঠে সমবেদনা থাকা উচিত।

২. ভুক্তভোগীর হয়ে অনলাইনে বা মুখোমুখি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পেতে চাইলে সংক্ষিপ্তভাবে পরিস্থিতির বয়ান করুন। যৌন সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

চুল লম্বা করার কয়েকটি কার্যকরী ঘরোয়া টিপস

46

অযত্নের কারণে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। তাই সুন্দর লম্বা চুল চাইলে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। রূপচর্চা বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও লম্বা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়।

চুলে সঠিক যত্ন এবং পুষ্টির অভাবে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারও প্রয়োজন।

লম্বা চুল পছন্দ হলেও বেশিরভাগ সময়ই চুল লম্বা হচ্ছে না এমন সমস্যায় ভুগতে হয়। এর কারণ হতে পারে অতিরিক্ত কেমিকল সমৃদ্ধ প্রসাধনীর ব্যবহার, স্ট্রেইটনার ও কার্লারের ব্যবহার, ক্যামিকল ট্রিটমেন্ট ইত্যাদি। এসব কারণে চুলের আগা ফাটা সমস্যা হওয়া, চুল ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া ও চুল পড়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই লম্বা চুল long hair পেতে হলে মেনে চলতে হবে বিশেষ কয়েকটি পন্থা।

নিয়ম করে চুলের আগা ছাঁটুন:
আগা ফাটার কারণে চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই তিন মাসের বিরতিতে চুলের আগা ছেঁটে নিতে হবে।

চুলের প্রতি কোমল হন:
চুল শরীরের খুবই কোমল একটি অংশ। তাই খুব সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেঙে পড়ে। তাই চুল আঁচড়ানোর সময় এবং বিশেষভাবে জট ছাড়ানোর সময় খুবই যত্ন নিয়ে চিরুনি চালানো উচিত। অতিরিক্ত জট বেঁধে গেলে প্রথমে আঙুল দিয়ে জট হালকা করে নিয়ে পরে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়াতে হবে। আর অবশ্যই নিচের অংশ থেকে আঁচড়ে উপরের দিকে উঠতে হবে।

স্টাইলিং এড়িয়ে চলুন:
প্রতিদিন চুল সোজা ও কোঁকড়া করার জন্য যদি স্ট্রেইটনার ও কার্লার ব্যবহার করা হয় তাহলে চুল নষ্ট হয়ে যাবে অকালেই। তাই প্রতিদিনের জন্য বেণি, খোঁপা, ঝুটি ইত্যাদি স্টাইলই চুলের জন্য উপকারী। বিশেষ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টাইলিং টুল বেছে নেওয়া যেতে পারে ‘লুক’ পরিবর্তনের জন্য।

সঠিক অনুষঙ্গ বাছাই:
বড় দাঁতের চিরুনি চুল ভাগ করতে এবং তা সঠিকভাবে স্টাইল করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ফাঁকা দাঁতের চিরুনি চুলের জট ছাড়ানোর জন্য সবচেয়ে উপযোগী। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হেয়ার ব্রাশ মাথার ত্বকের তেল চুলে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। এমনই একেকটি অনুষঙ্গ ভিন্নভাবে চুলের জন্য উপকারী। এ বিষয়গুলো জেনে তবেই অনুষঙ্গ বাছাই করতে হবে।

এছাড়াও অতিরিক্ত শক্ত করে চুল বাঁধা উচিত নয়, এতে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘুমের সময়ও যত্ন:
ঘুমানোর সময়ও চুলের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। শুনতে অবাক লাগলেও এটি বেশ জরুরি। নরম এবং সাটিনজাতীয় কাপড়ের তৈরি বালিশের কভারে মাথা রেখে ঘুমানো উচিত। অথবা মাথায় স্কার্ফ পেঁচিয়ে ঘুমানো যেতে পারে। এতে বালিশের সঙ্গে ঘষার ফলে চুলের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কমে আসবে।

সহজ ৫টি উপায়ে চুল দ্রুত লম্বা করুন!

45

চুল পড়ার সমস্যার পাশাপাশি আরেকটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মেয়েদের, তা হল চুল লম্বা না হওয়া। অনেক মেয়েই অভিযোগ করে থাকেন যে তাদের চুল লম্বা হয় না। মূলত চুল তিনটি ধাপে লম্বা হয়ে থাকে। অ্যানাজেন, ক্যাটাজেন, এবং টেলোজেন।

অ্যানাজেন ধাপে চুল জন্ম গ্রহণ করে এবং তা দুই থেকে ছয় বছর পর্যন্ত থাকে। ক্যাটাজেন ধাপে নতুন চুল গজিয়ে থাকে, টেলোজেন ধাপে চুল জন্মানো বন্ধ হয়ে যায়। এটি চুলের জীবনচক্র। কিছু উপায়ে আছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার চুল দ্রুত লম্বা long hair করতে পারেন।

১। স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া –
একটি সুষম ডায়েট নতুন চুল গজাতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। সবুজ শাকসবজি, বিনস, মাছ এবং মাংস হতে পারে পুষ্টির সবচেয়ে ভাল উৎস। প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকায় মাছ, সবুজ শাক সবজি, বাদাম, ডিম এবং মুরগির মাংস রাখুন। এটি আপনার চুল পড়া hair fall রোধ করে চুল লম্বা হতে সাহায্য করবে।

২। শ্যাম্পু করার সময় স্কাল্প ম্যাসাজ করুন –
শ্যাম্পু করার সময় আলতো ভাবে মাথার তালু ম্যাসাজ করুন। আঙুল দিয়ে এক থেকে দুই মিনিট মাথা ম্যাসাজ করুন। এটি মাথার তালুর রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে নতুন চুল hair growth গজাতে সাহায্য করবে।

৩। গরম তেল ম্যাসাজ –
খুব সহজ উপায়ে চুল বৃদ্ধি করার কার্যকরী উপায় হল গরম তেল ম্যাসাজ করা। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, জোজোবা অয়েল যেই তেল আপনি ব্যবহার করেন না কেন সেটি কিছুটা গরম করে নিন। এইবার এই তেলটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে মাথায় ম্যাসাজ করুন। এক দুই ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪। কাস্টর অয়েল ব্যবহার করা –
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কাস্টর অয়েল ম্যাসাজ করে নিন। এভাবে সারারাত রাখুন। পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক বা দুইবার করুন। কিছুদিনের মধ্যে আপনি নিজেই নিজের চুলে পার্থক্য দেখতে পাবেন।

৫। বালিশের কভার পরিবর্তন করুন –
Townsend সুতির বালিশের কভার ব্যবহার করার পরিবর্তে সাটিনের কভার ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এটি আপনার চুলকে নরম রাখবে। সুতির কভারে ঘষা লেগে অনেক সময় চুল ঝরে পড়তে পারে। সাটিন এটি প্রতিরোধ করে থাকে।

এছাড়াও প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। চুলের বৃদ্ধি করতে পানির তুলনা হয় না।