চুল পড়া নিয়ে চিন্তায় আছেন? তাদের জন্য এই তেলটা অনেক উপকারী!

119
চুল পড়া বন্ধ করার জন্য বিউটি পার্লারে চিকিৎসা নেয়ার চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার বেশি কার্যকর। কেননা পার্লারে নেয়া চিকিৎসা পদ্ধতি দ্বারা চুল পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হয় নাহ।

তবে নিচে দেয়া ঘরোয়া উপায়ে তৈরি তেল ব্যবহারে চুল পড়া রোধ করা যায়।

যা যা লাগবে –

↵ আমলকী – ৫টি
↵ রসুন – ১টি
↵ নিমপাতা – ১৫টি
↵ তুলসি পাতা – ৫টি
↵ রসুন – ২০০ গ্রাম
↵ সরিষার তেল – ৫০ গ্রাম
↵ অলিভ অয়েল – ২০ গ্রাম

যেভাবে বানাবেন _

রসুন আর আমলকী একটু ছেঁচে নিতে হবে

একটি পাত্রে সবগুলি তেল সমপরিমান নিয়ে চুলায় বসিয়ে একটু গরম হলে ছেঁচে রাখা রসুন আর আমলকী দিয়ে নাড়তে হবে।

কিছুক্ষন পর নিমপাতা আর তুলসি পাতা দিয়ে নাড়তে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে যেন নিচে লেগে না যায়।
তেল গুলি কিছুক্ষন সময় নিয়ে ফেনের নিচে রাখতে হবে।
পাতার সবুজ রং যখন তেলে চলে আসবে তখন তেল নামিয়ে ফেলতে হবে।

⇒ সব শেষে তেল গুলি ছেঁকে পাতা আলাদা করে তেল গুলো একটা পাত্রে ভরে রেখে ব্যবহার করতে পারবেন। ইনশাল্লাহ চুল পড়া hair fall বন্ধ হয়ে যাবে

মডেলদের মতো নিখুঁত ত্বক পেতে জেনে নিন কিছু কৌশল

116

পেশাদার মডেলদের ত্বক হয় বেশীরভাগ সময়েই দারুণ নিখুঁত আর দীপ্তিময়। যেন একেবারে ফটোশপ করা ত্বক! তারাও তো আমাদের মতোই মানুষ। তারা কীভাবে ত্বকের যত্ন নেয় যে তা হয়ে ওঠে এত সুন্দর?

এর পেছনে কিছুটা কৃতিত্ব হলো মেকআপের। চট করে তাদের চেহারা দেখলে মনে হতে পারে কোনো মেকআপ নেই কিন্তু এই নো-মেকআপ লুকের পেছনেও আসলেও কিছুটা মেকআপের কারসাজি থাকে। তবে এটা ঠিক যে তাদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবেও ভালো রাখতে হয়, নয়তো ত্বকে ভালোভাবে মেকআপ ব্যবহার করা যায় না।

Popsugar এবং totalbeauty.com থেকে জানা যায় মডেলদের ত্বক সুন্দর রাখার প্রক্রিয়াগুলো। আর নো-মেকআপ লুকের কৌশলগুলো জানা যায় Refinery29 থেকে।

১/ সকালে মুখ ধোবার সময়ে ফেসওয়াশের বদলে তারা ব্যবহার করেন টোনার। খুব বেশি ঘন ঘন মুখ ধুতে গেলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল চলে যায়, ফলে আপনার ত্বক আগের চাইতে খারাপ হয়ে পড়ে। মডেলরা শুধু রাত্রে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে থাকে। সকালে টোনার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলেন।

২/ তারা চিনি কম খান এবং নিজেদের ওজন রাখেন নিয়ন্ত্রণে। চিনি ত্বকে ব্রণ তৈরি করে। শুধু তাই না, এটা ত্বক বুড়িয়ে ফেলে খুব দ্রুত। এ কারণে তারা চিনি থেকে দূরে থাকেন। শুধু তাই না, তারা হুট করে ওজন কমানোটাও পছন্দ করেন না। ডায়েট করে দ্রুত ওজন কমাতে গেলে তার একটা খারাপ প্রভাব ত্বকের ওপর পড়ে।

৩/ তারা নিয়মিত ফেসিয়াল করান। প্রতি মাসে ফেসিয়াল করালে ত্বকের অনেক ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয় এবং ত্বক সারিয়ে তোলা যায়।

৪/ মাঝে মাঝে তারা সানস্ক্রিন ছাড়াই চলেন। অনেকেই অবাক হতে পারেন এটা শুনে, কারণ ভালো ত্বকের জন্য সানস্ক্রিন যে জরুরী এটা তো জানা কথা। কিন্তু মাঝে মাঝে দরকার না হলে এটা বাদ দিতে পারেন। কারণ সানস্ক্রিন ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে ব্রণ তৈরি করতে পারে। সানস্ক্রিন বাদ দিলে আপনি বেশ কিছুটা ভিটামিন ডি পাবেন।

৫/ তারা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করেন দৈনিক এবং পানিও পান করেন যথেষ্ট। ফলে ত্বক ভেতর এবং বাহির দুদিক থেকেই আর্দ্র থাকে। ত্বক থাকে সুস্থ, পরিষ্কার এবং বলিরেখা হয় কম।

৬/ পুরো ত্বকে একই ক্রিম, তেল অথবা সিরাম ব্যবহার না করে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী মুখের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরণের পণ্য ব্যবহার করে থাকেন।

৭/ এর পাশাপাশি মডেলরা ব্যায়ামও করে থাকেন নিয়মিত। ব্যায়ামের সময়ে ত্বকে রক্ত চলাচল ভালো হয়, ফলে ত্বক থাকে তরুণ এবং সুস্থ।

এসবের পরেও অনেক সময়ে দেখা যায়, ফটোশুট অথবা ফ্যাশন-শো এর আগে মডেলের ত্বক হয়ে আছে বিবর্ণ। তখন তাদের ত্বককে স্বাস্থ্যজ্জ্বল করে তুলতে মেকআপ আর্টিস্টরা ব্যবহার করেন কিছু ট্রিক। এগুলো হলো-

১. মুখের পুরনো মেকআপ সম্পূর্ণ তুলে তারপরেই নতুন মেকআপ দিতে হবে। এক্ষেত্রে চোখের মেকআপ তুলতে হবে আলতো হাতে।

২. ব্যবহার করতে হবে টোনার।

৩. ত্বকের স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ভাব ফিরিয়ে আনতে মাসাজ করা যেতে পারে।

৪. চোখের ফোলাভাব দূর করতে চোখের ওপরে ১০ মিনিট রাখতে পারেন একটা ঠাণ্ডা কোমল পানীয়ের ক্যান।

মডেলঃ শবনম ফারিহা

ছবিটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত

ঘরেই তৈরি করে নিন ৫ রকমের ফাউন্ডেশন

115

আপনি কি প্রতিদিন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেন? আপনি কি জানেন প্রতিদিন ফাউন্ডেশন ব্যবহারে আপনার ত্বক কি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? আপনি যত দামী ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেন না কেন, বাজারের কোন ফাউন্ডেশনই রাসায়নিক উপাদানমুক্ত নয়।

প্রতিদিন ফাউন্ডেশন ব্যবহারে এর কেমিক্যালগুলো আপনার ত্বকে ধীরে ধীরে ক্ষতি করছে। বাজারের ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করে ঘরে তৈরি করে নিতে পারেন আপনার ফাউন্ডেশনটি। এর জন্য প্রয়োজন পড়বে না খুব বেশি উপাদানের। কয়েকটি উপায়ে আপনি ঘরে ফাউন্ডেশন তৈরি করে নিতে পারেন।

১। পাউডার ফাউন্ডেশন :
২ টেবিল চামচ কর্ণ স্টার্চ পাউডার বা স্টার্চ পাউডার, ১.৫ চা চামচ দারুচিনি পাউডার এবং ১ টেবিল চামচ কোকো পাউডার মিশিয়ে নিন। লক্ষ্য রাখবেন, আপনার ত্বকের রংয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোকো পাউডার মিশিয়ে নিবেন। ব্যস তৈরি হয়ে গেল ফাউন্ডেশন পাউডার। লোশনের সাথে পাউডার ফাউন্ডেশন মিশিয়ে ব্যবহার করুন। লক্ষ্য রাখবেন লোশনটি যেন নন-টক্সিক ফেস লোশন হয়।

২। ফাউন্ডেশন অয়েল :
১ টেবিল চামচ জোজোবা অয়েল এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে ফাউন্ডেশন foundation পাউডার মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এছাড়া অ্যারারূট গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ জোজোবা অয়েল অথবা অলিভ অয়েল এবং ১ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।

৩। লিকুইড ফাউন্ডেশন :
১ চা চামচ শিয়া বাটার, ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ চা চামচ পানি, ১/২ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো এবং ১ টেবিল চামচ কোকো পাউডার একসাথে মিশিয়ে নিন। মাখন গলিয়ে নিবেন অথবা মাখনের পরিবর্তে ঘি ব্যবহার করতে পারেন।

৪। সানস্ক্রিন ফাউন্ডেশন :
১ টেবিল চামচ জিঙ্ক অক্সাইড গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ কোকো পাউডার, ১ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়ো এবং ১ টেবিল চামচ শিয়া বাটার বা গলানো মাখন মিশিয়ে নিন। এর সাথে কিছুটা লোশন মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। ত্বকের রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোকো পাউডার মিশিয়ে নিবেন।

৫। লবঙ্গের ফাউন্ডেশন পাউডার :
১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ স্টার্চ পাউডার বা বেনটোনাইট ক্লে, ১ বা ২ টেবিল চামচ কোকো পাউডার এবং অ্যারারুট পাউডার এবং ১ টেবিল চামচ জয়ফল গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এর সাথে ১ চা চামচ এসেন্সিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। যেকোন এসেন্সিয়াল অয়েল, ল্যাভেন্ডার বা রোজ, মিশিয়ে নিতে পারেন।

প্রতিদিনের ব্যবহৃত লোশন এবং মিনারেল মেকআপ দিয়েও তৈরি করে নিতে পারেন আপনার ফাউন্ডেশনটি। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত ফাউন্ডেশন। যা প্রতিদিন ব্যবহারে ত্বকের কোন ক্ষতি করে না।

মুখের ত্বকের রোমকূপগুলো ছোট করে ফেলুন ৪টি সহজ উপায়ে

114
অনেকের ত্বকেরই একটা সমস্যা হলো বড় বড় রোমকূপ। সাধারণত নাকের পাশে দেখা যাওয়া এসব রোমকূপ মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। এদের কারণে ত্বক দেখায় অমসৃণ। মেকআপের মাধ্যমে অনেকে রোমকূপ ঢাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে আরও বেশি চোখে পড়ে এগুলো। জেনে নিন বড় রোমকূপের সমস্যা দূর করার সহজতম তিনটি উপায়।

মূলত জেনেটিক কারণে রোমকূপ ছোট-বড় হয়। আবার ত্বকের ধরণের কারণেও পোরের আকৃতি একেক রকম হয়। শুষ্ক ত্বকের মানুষের পোর একেবারে নেই মনে হয়। আবার যাদের ত্বকের রংটা একটু শ্যামলা-ঘেঁষা তাদের রোমকূপ বড় লাগে।

রোমকূপ বড় দেখানোর কারণটা হলো তেল। মুখ যতো তেলতেলে হয়ে থাকে, রোমকূপ তত বড় দেখা যায়। এই একই কারণে পিরিয়ডের পর পরই মেয়েদের রোমকূপ বেশি করে বোঝা যায়, কারণ এ সময়ে শরীরের প্রোজেস্টেরন হরমোন বেশি থাকে এবং মুখের সিবাম গ্রন্থিগুলো বেশি করে তেল উৎপাদন করে। তাই মুখের তেলতেলে ভাব কমাতে পারা গেলে এসব রোমকূপ বা পোর দেখতে ছোট মনে হবে।

তৈলাক্ত বা স্বাভাবিক ত্বকের মানুষেরা নিজেদের ত্বকের পোর ছোট করতে দেখে নিতে পারেন এই তিনটি টিপস-

১) ব্যবহার করুন ডিপ-ক্লিনিং ক্লিনজার :
তেল পরিষ্কার করার জন্য ডিপ-ক্লিনিং ফেসিয়াল ক্লিনজার এবং ফেসওয়াশগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো পোর থেকে তেল এবং কালচে ময়লা দূর করে। পোরের মাঝে আটকে থাকা ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে কালো হয়ে যায়, যাতে পোরগুলো আরও ফুটে থাকে ত্বকে। অনেকে ক্লিনজিং ব্রাশ ব্যবহার করেন, আপনিও করতে পারেন। তবে এগুলো দিয়ে বেশি চাপ দিয়ে ত্বক পরিষ্কারের চেষ্টা করবেন না। ত্বকের ওপর আলতো করে ধরবেন। রোমকূপ ছোট দেখাতে এই ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন দৈনিক।

২) মেকআপের আগে ব্যবহার করুন ম্যাটিফাইং প্রাইমার বা পাউডার :
মেকআপ করার আগেই এই কাজটি করলে আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেবে। আর মেকআপের পণ্য কেনার সময়ে দেখে নিন সেগুলো “noncomedogenic” কিনা। এর অর্থ হলো সেই পণ্যটি পোর বন্ধ করবে না। প্রতিদিনের মেকআপ করার সময়েই ম্যাটিফাইং পণ্য ব্যবহারের অভ্যাস রপ্ত করে ফেলুন।

৩) চারকোল অথবা ক্লে ফেসমাস্ক :
ফেসপ্যাক বা ফেসমাস্ক অনেকেই ব্যবহার করেন ছুটির দিনগুলোতে। এক্ষেত্রে চারকোল বা মুলতানি মাটি বা অন্য কোন ক্লে আছে এমন ফেসমাস্ক ব্যবহার করুন। এই মাস্ক ব্যবহারে আপনার ত্বক থেকে চলে যাবে অতিরিক্ত তেল।

৪) স্টিম :
পার্লারে গেলে সব সময়েই দেখা যায় একটা স্টিম মেশিন। এটার মূল কাজই হলো মুখে বাষ্পের ঝাপটা দিয়ে পোরগুলো খুলে ফেলা। এরপর খুলে থাকা পোরের ভেতর থেকে ময়লা বের করে ফেলা হয়। তারপর পোর বন্ধ হয়ে গেলে অনেক ছোট দেখায় এগুলোকে। বাড়িতেও আপনি নিতে পারেন এমন স্টিম। এর জন্য গরম পানি, টাটকা গোলাপের পাপড়ি, তুলসি এবং পুদিনা পাতা নিতে পারেন একটা বড় বোলে। বোলের ওপরে একটা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিন। এর ৫ মিনিট পর তোয়ালে সরিয়ে নিজের মুখ রাখুন বোলের ওপরে ধোঁয়ায়। তোয়ালেটা দিয়ে নিজের মাথা ও বোল একসাথে ঢেকে দিন যাতে পুরো স্টিম আপনার মুখে লাগে। ১০-১৫ মিনিট এভাবে স্টিম নেবার পর মুখ সরিয়ে নিন। ঈষদুষ্ণ পানিতে মুখ ধুয়ে আলতো করে মুছে নিন।

এছাড়াও রইলো রোমকূপ ছোট দেখানো আরও কিছু টিপস-

– মুখ পরিষ্কার রাখুন। কখনো মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যাবেন না।

– পোর বড় হবার পাশাপাশি ব্রণ হবার প্রবণতা থাকলে স্যালিসাইলিক এসিড আছে এমন কোন এক্সফলিয়েটিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।

– সূর্যরশ্মি ত্বকের যে ক্ষতি করে তার ফলেও পোর বড় দেখাতে পারে। সবসময় ব্যবহার করুন সানস্ক্রিন।

ছবিটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত

মুখের বাদামী ছুলি ঘরোয়া কিছু উপায়েই দূর করুন!

1113

মুখের লাল, বাদামী বা গাঢ় বাদামী বর্ণের দাগকে ছুলি বলে। ছুলি স্বাস্থ্যগত কোন ঝুঁকির কারণ না হলেও আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। ফর্সা মানুষদের জন্য এটি বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছুলি পাতলা, চ্যাপ্টা ও গোলাকার হয় এবং দেহের উপরের অংশে যেমন- বাহু, কাঁধ, নাক ও গালে হয়।

ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায় বলে ছুলি হয়। মেলানিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ গুলো হচ্ছে- সূর্যরশ্মি, হরমোনের অসামঞ্জস্যতা ও বংশানুক্রম ইত্যাদি। ছুলি দূর করার অনেক আধুনিক চিকিৎসা আছে যেমন- ব্লিচিং, রেটিনয়েডস, কেমিক্যাল পিল, লেজার ও ক্রায়োসার্জারি ইত্যাদি। তবে এগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা করাতে হয় এবং ব্যায়বহুল ও বটে। রাসায়নিক কোন চিকিৎসা নেয়ার ফলে ত্বকের অন্য ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক কিছু উপায় আছে যা ছুলি নিরাময়ে আশ্চর্যজনকভাবে কার্যকরী। কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি আছে যা ছুলিকে হালকা করে আর কিছু আছে পুরোপুরি দূর করতে পারে। ছুলি দূর করার জন্য রাসায়নিক কিছু ব্যবহার অথবা সার্জারি করার পূর্বে অন্তত একবার হলেও প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখুন। আসুন তাহলে প্রাকৃতিক পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেই এবার।

১। টমেটো জুস :
একটি বড় ও পাকা টমেটো নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। তারপর এটিকে ভালো করে ম্যাশ করে নিয়ে ছুলিতে আক্রান্ত স্থানে লাগান। হাতের তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন যেনো রোমকূপ দিয়ে রস ভালোভাবে প্রবেশ করে। ১৫-২০ মিনিট এভাবে রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত সাবান ব্যবহার করবেন না। দুই সপ্তাহ যাবত দিনে দুই বার এটি ব্যবহার করুন। দুই সপ্তাহ পরে আপনার ছুলি অনেকটাই হালকা হয়ে আসবে এবং আপনার ত্বক উজ্জল ও টানটান হবে।

২। টক দুধ :
যদি জেনেটিক কারণে না হয় তাহলে টক দুধের মাধ্যমে ছুলির সমস্যা দূর করা যায়। দুধের ল্যাক্টিক অ্যাসিড ছুলি দূর করতে চমৎকারভাবে কাজ করে। টাইরোসিনেজ নামক এনজাইম শরীরে মেলানিন ও অন্যান্য রঞ্জক উৎপাদনের জন্য দায়ি। ল্যাক্টিক অ্যাসিড টাইরোসিনেজ এনজাইমের অতিরিক্ত উৎপাদনকে বাধা প্রদান করে এবং এর ফলে ত্বকের হাইপারপিগমেন্টেশনকে রোধ করে। হাইপারপিগমেন্টেশনের একটি প্রকার হচ্ছে ছুলি। ৩চা চামচ টক দুধ নিয়ে একটি কটন বলের সাহায্যে মুখে লাগান এবং ১৫ মিনিট রাখুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে ৩-৪ বার এটি ব্যবহার করুন। যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয় অথবা ব্রণ থাকে তাহলে টক দুধের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করুন। দইও ল্যাক্টিক অ্যাসিডের ভালো উৎস।

৩। লেবুর রস :
ছুলি বা বাদামী দাগ দূরীকরণে লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকরী। লেবুর রসে চামড়ার রঙ হালকা করার উপাদান আছে যা ত্বকের গাঢ় দাগ দূর করে ব্লিচের মাদ্ধমে। লেবুর রস lemon juice চিপে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ভালো ভাবে ম্যাসাজ করুন। ১৫-২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন দুইবার এটি করুন। আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে লেবুর স্ক্রাব। একটি লেবুর অর্ধেকটা অংশ কেটে নিয়ে তার উপর আধা চামচ চিনি ছিটিয়ে নিন। তারপর এটি আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ম্যাসাজ করতে থাকুন। কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে এক বা দুই সপ্তাহ নিয়মিত করুন।

৪। পেঁয়াজ :
পেঁয়াজে এক্সফলিয়েটিভ উপাদান আছে যা ছুলি বা বাদামী দাগ দূর করতে পারে। ভালো ফল পাওয়ার জন্য লাল পেঁয়াজ onion ব্যবহার করুন। একটি লাল পেঁয়াজ মোটা করে কেটে নিয়ে ছুলিতে আক্রান্ত স্থানে দিনে দুই বার আস্তে আস্তে ঘষুন। যতদিন পর্যন্ত না ছুলি ফ্যাকাশে হয় ততদিন এটি ব্যবহার করুন।

৫। ভেজিটেবল ফেস মাস্ক :
দুই টুকরো শশা ও দুই টুকরো স্ট্রবেরি নিয়ে ভালোভাবে ম্যাশ করে নিন। এবার এর সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। সবজির এই মাস্কটি ছুলির উপরে লাগিয়ে বাতাসে শুকাতে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ছুলি freckle face থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এবং ত্বকের টোন উন্নত করার জন্য সপ্তাহে চারবার এটি ব্যবহার করুন।

এছাড়াও সাওয়ার ক্রিম, মধু, কমলার খোসা, জোজোবা তেল Oil, হলুদ, ভিটামিন ই অয়েল, বাটার মিল্ক, পেঁপে, বেগুন, সজনে, আমন্ড তেল এবং কলা ও পুদিনার ফেস মাস্ক ছুলি দূর করার কাজে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

ত্বক উজ্জ্বল ও ব্রণ দূর করতে বেকিং সোডার জাদু

112

আমাদের রান্নাঘরে এমন অনেক জিনিসই আছে যা রূপচর্চায় অমূল্য সম্পদ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু আমারা অনেকেই তা জানি না। এমনই একটি নাম হল বেকিং সোডা। যা শুধু রান্না নয়, ব্রণ দূর করতে ও ত্বক উজ্জ্বল করতেও দারুণ কাজ করে।
ব্রণ কিংবা অ্যাকনে:
ছেলে কিংবা মেয়ে সবার কিন্তু এই সমস্যাটা আছে। এই ব্রণ তাড়াতেই পার্লার থেকে ডাক্তার কোথায় না কোথায় গিয়েছেন। কিন্তু সমাধান রয়েছে আপনার রান্নাঘরে। বেকিং সোডা জল দিয়ে গুলে লাগান ব্রণ কিংবা অ্যাকনের উপর। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দু’দিন লাগালেই দেখবেন অনেক কমে গেছে।

ত্বক উজ্জ্বল করতে:
বেকিং সোডায় রয়েছে সোডিয়াম ও পি-এইচ নিউট্রেলাইজার যা ত্বকের মরা কোষ দূর করে স্কিন করে উজ্জ্বল। পাশাপাশি ত্বকের ড্যামেজও রিপেয়ার করে। সপ্তাহে দু’দিন বেকিং সোডা ও লেবুর রসের একটি প্যাক বানিয়ে মুখে লাগান পরিবর্তন দেখতে পাবেন একমাসের মধ্যে।

নিজেদের ভুলে আবার হারল কলাবাগান

110

ক্রীড়া প্রতিবেদক : খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন জেতা ম্যাচও হারত বাংলাদেশ দল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেই বাংলাদেশ যেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবারের কলাবাগান ক্রীড়া চক্র! সম্ভাবনা জাগিয়ে গতকাল আরেকটি ম্যাচ হেরেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার কলাবাগান। সম্ভাবনার ‘মৃত্যু’ ঘটেছে ফতুল্লায়। ক্রিকেট কোচিং স্কুলের প্রথম জয়ের নেশায় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠার স্বপ্ন আপাতত ভুলে যেতে হয়েছে ভিক্টোরিয়াকে। তবে পয়েন্টে শীর্ষ দুই দলের সমান হওয়ার সুযোগ রয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের। বৃষ্টির কারণে গতকাল অসমাপ্ত ম্যাচটা আজ জিতে শেষ করলেই মোহামেডান আর প্রাইম দোলেশ্বরের সমান ১০ পয়েন্ট হবে গাজীরও।

রান আউটের কৃতিত্ব যোগ করলে টানা ৪ উইকেট মোহাম্মদ শরিফের। সে তো আর নিয়ম নেই। তাই শুধু হ্যাটট্রিকই যোগ হয়েছে কাল মোহাম্মদ শরিফের নামের পাশে। তবে মিরপুরে বৃষ্টির কারণে ৩৮ ওভারে কমে আসা ম্যাচে ইনিংসের শেষ বলেও উইকেট নেওয়ায় চার শিকার ঠিকই হয়েছে তাঁর। তাতে শেখ জামাল ধানমণ্ডির করা ৯ উইকেটে ১৬৮ রানের জবাবে শরিফের গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৩ উইকেটে ৮৩ রান তুলতেই আবার বৃষ্টি নামায় ম্যাচের বাকিটুকু অনুষ্ঠিত হবে আজ। অভাবিত ব্যাটিং ভরাডুবি না ঘটলে শীর্ষে থাকা মোহামেডান ও প্রাইম দোলেশ্বরের সমান পয়েন্ট হবে গাজীর।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শেখ জামালের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। জয়রাজ শেখ ও আবদুল্লাহ আল মামুনের উদ্বোধনী জুটি ১৪ ওভারে তুলেছিল ৬২ রান। ১৩ রানের ব্যবধানে আরেকটি উইকেটের পতনেও দুশ্চিন্তার কিছু ছিল না। কিন্তু হঠাৎ মুষলধারার বৃষ্টি এবং তাতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসায়ই সর্বনাশ মাহমুদ উল্লাহর দলের। আকস্মিক ওভার কমে যাওয়ায় চালিয়ে খেলতে শুরু করেন মাহমুদ। ব্যাটে-বলে হচ্ছিলও। সে মেজাজেই শরিফকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জামালের অধিনায়ক। পরের বলে গাজীর পেসারকে স্কুপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন জাবিদ হোসেন। এরপর শরিফের হ্যাটট্রিক বলটা শাফল করে খেলতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন নাজমুস সাদাত। বাংলাদেশের লিস্টে ম্যাচের ইতিহাসে এটা সপ্তম হ্যাটট্রিক, শরিফের প্রথম। পরের বলে ব্যাটসম্যানের সোজা ড্রাইভ শরিফের হাতে লেগে ভেঙেছে নন স্ট্রাইকিং এন্ডের স্টাম্প, তখন ক্রিজের বাইরে থাকায় রান আউট মুক্তার আলী। ইনিংসের শেষ উইকেটটা শরিফেরই, বোল্ড করেছেন শফিউল ইসলামকে। ‘শরিফময়’ অর্ধের পর গাজীর পঞ্চম জয়ের আশা ভালোভাবেই বেঁচে আছে ওপেনার এনামুল হক ও অলক কাপালির ব্যাটে। দুজনে ক্রিজে আছেন যথাক্রমে ৩৬ ও ১৪ রানে।

ওদিকে বিকেএসপিতে আরেকবার হৃদয় ভেঙেছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের। জয়ের জন্য ২৬৩ রানের পিছু নেওয়া দল ৩ উইকেটে ২৩৮ তুলে ফেললে ম্যাচের ফল অনুমান করাই যায়। এমনকি ব্রাদার্সের বিপক্ষে জিততে শেষ ৫ ওভারে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের দরকার ছিল মোটে ২৫ রান, হাতে ৬ উইকেট। তবু পারেনি, উল্টো ৪ বল বাকি থাকতে অল আউট হয়ে গেছে কলাবাগান। জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজার সেঞ্চুরিও তাই ম্লান ব্রাদার্সের বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদের সাফল্যে। ম্যাচের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ানের হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার গেলেও ৪৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নাবিলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক। বিশেষ দ্রষ্টব্যে কলাবাগানের ব্যর্থতাও ঠাঁই পাবে। ভাবা যায়, দলটির শেষ ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি! উল্লেখ্য, এ মাঠেই প্রাইম ব্যাংকের কাছেও সহজ ম্যাচ কঠিন করে হেরেছিল কলাবাগান।

লিগের পয়েন্ট টেবিল উল্টে দেওয়ার সম্ভাবনাময় ম্যাচটা ছিল অবশ্য ফতুল্লায়। ক্রিকেট কোচিং স্কুলকে হারালেই মোহামেডানকে টপকে শীর্ষে উঠে যেত ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং। সে আর হয়নি, এ মৌসুমে সিসিএসের প্রথম জয়ে ভেসে গেছে ভিক্টোরিয়ার শীর্ষারোহণের প্রথম সুযোগটি। পিনাক ঘোষ আর রাজিন সালেহর দারুণ শুরুর পর সাইফ হাসানের নজরকাড়া ফিফটিতে অল আউট হওয়ার আগে ২৫৯ রান করে সিসিএস। কিন্তু কার্যকারিতায় ব্যাটিংয়ে হেভিওয়েটের মর্যাদা পাওয়া ভিক্টোরিয়ার ব্যাটিং কাল বিপর্যস্ত সিসিএসের সালেহ আহমেদ শাওনের স্পিনে। ৭ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন সর্বশেষ যুব বিশ্বকাপ খেলা এই বাঁহাতি স্পিনার। তাতে ৪৪ বলে ফিফটি করেও বিজিত দলের অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরী, ভিক্টোরিয়া অল আউট ১৯৯ রানেই। ম্যাচসেরা প্রত্যাশিতভাবেই সালেহ আহমেদ। উল্লেখ্য, বৃষ্টির কারণে জয়ের জন্য ৩৫ ওভারে ২৫৩ রান করতে হতো ভিক্টোরিয়াকে।

আরো বেশি ভালো থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সম্পর্ক

109

জীবনটা সুস্থ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে অনেক কিছুর দিকেই খেয়াল দিতে হয়। কিন্তু প্রায় সময় তা হয়ে ওঠে না। সম্পর্কের বিষয়টাও এর থেকে ব্যতিক্রম নয়। মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস উইক উপলক্ষে নতুন এক গবেষণা পরিচালিত করে ব্রিটেনের মেন্টাল হেলথ ফাউন্ডেশন। তাতে বলা হয়, জীবনে ভালো থাকতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্ক। যারা সম্পর্কের যত্ন করেন তারা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সুখী থাকেন।

গবেষণায় বলা হয়, এতে অংশ নেওয়া ২ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের ৪৬ শতাংশ মনে করেন, সম্পর্কে পেছনে সময় ব্যয়ের কারণে কোনো অনুতাপ থাকে না। এদের মাত্র ১১ শতাংশ নতুন বছরের দিকেই বেশি নজর দেন।

গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে মেন্টাল হেলথ ফাউন্ডেশন মানুষকে সম্পর্কের পেছনে আরো বেশি সময় খরচ করতে উৎসা জোগাচ্ছে। যারা এ প্রোগ্রামে সাইন আপ করেছেন তারা আগামী নতুন বছরে একটি টেক্সট মেসেজ পাবেন। তারা নিজের জীবনের উন্নতি ও সুখের মাত্রা নতুনভাবে বিশ্লেষণ করবেন।

রিথিঙ্ক মেন্টাল ইলনেসের মুখপাত্র নিয়া চার্পেন্টিয়ার জানান, জীবনে বন্ধু ও পরিবারের গুরুত্ব কতটুকু তা ভাবাই যায় না। যারা আপনার সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন, বিপদে এগিয়ে আসেন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়া জীবনে আর বেশি কিছু চাওয়ার থাকে না। এই মানুষগুলোর সঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে ভালো সময় আসতে পারে না।

আধুনিক যুগে মানুষের একাকিত্ব বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। এতে করে মানুষের দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। এতে মানুষের অবচেতন মনে সম্পর্কের অভাববোধ তৈরি হচ্ছে।

একাকিত্ব দূর করার জন্যে আয়োজিত ক্যাম্পেইনে বলা হয়, সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণ মানুষের মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস করে। এ ছাড়া বেশ কিছু রোগের ঝুঁকিও কমিয়ে আনে। যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পরার্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ জন লুইস জানান, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের ১৪০ জন স্থানীয় মানুষ এ বিষয়ে কর্মযজ্ঞ শুরু করতে চলেছেন। তারা মানুষকে আরো বেশি সমাজের সঙ্গে যুক্ত করতে নানা পরামর্শ প্রদান করবেন। যারা মুখোমুখি কথা বলতে অস্বস্তিবোধ করেন, তারা অনলাইনে পরামর্শ নিতে পারেন। অসংখ্য মানুষ এ সংক্রান্ত জটিলতার ভুগছেন। তারা মন খুলে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারছেন না।

তেমনি সংস্যায় বহুকাল ভুগছেন লুকি টাইবারস্কি। লন্ডনের এই তরুণ এখন তার জীবনের অন্ধকার অংশ নিয়ে সাহসের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তবে অনলাইনকে তিনি সামাজিকতা পালনের তেমন গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মনে করেন না। কারণ মানুষের মুখোমুখি ও কাছাকাছি থেকে যতটা সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, অনলাইনে তা সম্ভব নয়। আবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অনন্য বলে মনে করেন ড্যারেল। বন্ধুত্বের মাধ্যমেই সঙ্গী-সঙ্গিনীর দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে বলেই মনে করেন তিনি।

সম্পর্ক যেমনটা গঠনমূলক হয়, তেমনি ক্ষতিকরও হতে পারে যদি এর অপব্যবহার করা হয়। স্বাস্থ্যকার সম্পর্ক তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন ড. নাতাশা বিজলানী। তিনি লন্ডনের প্রায়োরি হসপিটালেরন কনসালটেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট। তার মতে, হুমকি প্রদান, মানসিক অত্যাচার বা এসব উপায়ে একটা মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করা যায়। অনেক সময়ই সম্পর্কের নেতিবাচক প্রভাবে মনে সমস্যা ক্রনিক হয়ে যেতে পারে।

যাদের সম্পর্ক ভেঙে যায় বা এ সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েন, তাদের প্রতি যত্নবান হতে হবে। এর বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে মানসিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।

ড. বিজলানী বলেন, সাধারণত আমরা সম্পর্কে বিষয়ে সমাজ বা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাতিষ্ঠিত শিক্ষা লাভ করি না। কাজেই সবার মাঝে অজ্ঞতা কাজ করে। মানুষ জীবনের চলমান ঘটনা থেকে শিক্ষালাভ করতে থাকেন। কিন্তু তাদের যদি আগে থেকেই মৌলিক শিক্ষা দেওয়া যায় তবে ক্ষতির মাত্রা এত বেশি হয় না।

খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। প্রতিবেশীর প্রতি সামান্য ‘হ্যালো’ বলাতেই এ সম্পর্কের শুরু হয়ে যায়। সম্পর্কের গুণগত মান ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে না। বন্ধু, পরিবার, আত্মীয় বা অপরিচিতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হতে পারে ব্যবহার ও কথার মাধ্যমে।

পরিচিতদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। সঙ্গী-সঙ্গিনীকে বাইরে থেকে ফোন দিন। একটু কথা অনেক সমস্যা দূর করে দিতে পারে। মন খারাপ করে নিশ্চুপ বসে না থেকে কাছের কারো সঙ্গে একটু আলাপচারিতা মনটাকে ভারো করে দিতে পারে। কেন মিশবেন বা কি বিষয়ে কথা বলবেন তা কোনো ঘটনা নয়। সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং জীবনটাকে আরো বেশি স্বাস্থ্যকর করে তুলুন। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

ইউরোপায় সেভিয়ার ইতিহাস গড়া জয়

১০৭

বাসেলের সেন্ট জ্যাকব পার্কে ট্রফিটা হাতে তুলে ধরার কিছুক্ষণ পর টেলিভিশনে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে উনাই এমেরিকে বললেন, ‘আসলে ইউরোপা আমাদের টুর্নামেন্ট।’
এ দাবিটা এখন করতেই পারেন সেভিয়া কোচ। বুধবার রাতে লিভারপুলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই টুর্নামেন্টে নতুন ইতিহাসই তো লিখল সেভিয়া। প্রথম দল হিসেবে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলো ইউরোপা লিগে। সব মিলিয়ে ইউরোপের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ টুর্নামেন্টে এটি সেভিয়ার পঞ্চম শিরোপা। এর আগে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০৫-০৬ ও ২০০৬-০৭ মৌসুমে। ইউরোপায় অন্য কোনো দলই তিন বারের বেশি চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন সেভিয়া কোচ এমেরিকে তাই এটিকে সেভিয়ার টুর্নামেন্ট দাবি করতেই পারেন।
ইউরোপায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিন বার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান ও লিভারপুল।
এই জয়ের ফলে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলাও নিশ্চিত করল সেভিয়া।
গতকালের এই ট্রফি দিয়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন উনাই এমেরিকেও। কোচ হিসেবে তিনবার ইউরোপা লিগ জেতার কীর্তিটা এত দিন শুধু ছিল ইতালির জিওভান্নি ত্রাপাত্তনির। চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন জুভেন্টাসকে দুই বার (১৯৭৬-৭৭,১৯৯২-৯৩), ইন্টার মিলানকে (১৯৯০-৯১) একবার। সেন্ট জ্যাকব পার্কে ট্রফি জিতে তাঁকে ছুঁয়ে ফেললেন এমেরিকেও। তাঁর তিনটি ইউরোপার ট্রফিই অবশ্য সেভিয়াকে নিয়ে। ইএসপিএন

চোখের নিচে কালো?

১০৬

বাঁকা চাঁদের মতো একটু অংশ। কালো ছোপ পড়ে গেলে চাঁদের গায়ের দাগগুলোর মতোই অসুন্দর লাগে। পুরো চেহারার মধ্যে এই অংশটি খুবই পাতলা। ধাঁধার মতো লাগছে কি? বলছিলাম চোখের নিচের অংশটুকুর কথা। চোখের নিচে কালো ছোপ পড়ে গেলে চেহারায় একটা ক্লান্তির ভাবও চলে আসে। মুখের দিকে তাকালে সবার আগে কিন্তু চোখজোড়াই নজরে আসে, সঙ্গে এই কালচে ভাবটাও। কী করলে চোখের নিচের কালো ছোপটুকু কমানো যাবে।
চোখের নিচে কালি পড়ার কারণ অনেক। রূপবিশেষজ্ঞেরা জানালেন, কম ঘুমানো কিংবা রাতে না ঘুমানো চোখের নিচে কালি পড়ার প্রধান একটি কারণ। তবে অনেকের বেলায় এটা বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। চোখের এক কোনা থেকে আরেক কোনা পর্যন্ত জায়গাটি কিন্তু খুব স্পর্শকাতর। এমনটাই মনে করেন আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, ‘চোখের নিচের অংশে কালো ছোপ না থাকলে চেহারায় একটা সতেজ ভাব থাকে। এটা পাতলা হওয়ায় কালো ছোপটাও তাড়াতাড়ি পড়ে যায়। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে কিংবা শরীর খারাপ হলেও কালো হয়ে যায়। দেবে ভেতরে ঢুকে যায়।’
শসা বা আলু ব্যবহার করে চোখের নিচে কালো ছোপ কমানো যায়প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। শসা ও আলুর রসে তো উপকার পাওয়াই যায়—এ ছাড়া মাটির পাত্রে গম ভিজিয়ে রেখে দিন ৫ থেকে ১০ দিন। পাত্রটি রাখতে হবে কোনো স্যাঁতসেঁতে জায়গায়। গম থেকে চারা বের হওয়ার পর ওটা ভেঙে, ব্লেন্ড করে শসা বা আলুর রসের সঙ্গে মিলিয়ে চোখের নিচের অংশে লাগান। উপকার পাওয়া যাবে।
রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা মুন্নীর মতে, রোদে রোদচশমা না পরে যাওয়া কিংবা শারীরিক কোনো সমস্যা থেকেও এটা হতে পারে। তাঁর পরামর্শ—
* চোখের নিচে কালি পড়া শুরু হচ্ছে এমন সময় থেকেই যত্ন নিতে হবে। ছোপ পাকাপোক্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো।
ঠিকমতো ঘুম হলে চোখের নিচে কালো ছোপ পড়বে না* দিনের শেষে চোখের মেকআপ অবশ্যই তুলে ফেলুন।
* কমবেশি কাজল লাগান অনেকেই। কাজল প্রতিদিনই পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। এটা থেকে কালো ছোপ পড়ে যায়।
* শারীরিক চাপ থেকে অথবা বেশি চিন্তাতেও কিন্তু চোখের নিচটা কালো হয়ে যায়।
* পানি বেশি আছে এমন আইজেল ব্যবহার করা উচিত। এটি ভালো ব্র্যান্ডের হতে হবে।
* টি-ব্যাগ ভিজিয়ে চোখের ওপর রাখতে পারেন। কাজ করবে।
* ত্বক ময়েশ্চারাইজ করা প্রয়োজন প্রতিদিন।
আয়ুর্বেদ রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা সহজ ঘরোয়া পদ্ধতির কথা জানালেন। গোলাপ ফুলের পাপড়ি দুধ ও মধুর সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করুন। এ ছাড়া টমেটোর সঙ্গেও দুধ আর মধু মাখিয়ে দিতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যেন চোখের ভেতরে চলে না যায়।
রূপচর্চার বাইরেও মেকআপ দিয়ে কিছুটা ঢাকতে পারবেন। ত্বকের যে রং তার থেকে এক টোন গাঢ় কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন চোখের নিচের অংশটায়। আট ঘণ্টা ঘুমান। ভাজাপোড়া বেশি না খাওয়াই ভালো। বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অনেক দেরিতে। এ ছাড়া নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার ও এর যত্ন তো নিতেই হবে।

তাঁদের যত শখ

১০৫

শখের বশে মানুষ কত কিছুই না করে বসে। কিন্তু বারাক ওবামা, মার্ক জাকারবার্গ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, জে কে রাওলিং ও বাংলােদশের জেমেসর মতো যাঁরা নিজেদের ক্যারিয়ারকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়, তাঁদের কি সময় থাকে নিজেদের শখ মেটানোর। কেউ কেউ অবশ্য শখকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে কাজকে উপভোগ করছেন। আর যাঁরা বেছে নেননি তাঁরাও একটু সুযোগ পেলেই নিজের শখ মিটিয়ে ফেলেন। এবারের তারকা বিভাগে থাকছে এ কজনের শখের তথ্য

বারাক ওবামাবারাক ওবামা
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাজ, ব্যস্ততা সম্পর্কে সবারই ধারণা আছে। আর বারাক ওবামা কি না, নিজেকে ভালো পুল খেলোয়াড় দাবি করে বলেছেন আপনি যদি আমাকে পুল হলে খেলতে দেখেন তাহলে আমি আপনার সময় পুরিয়ে দেব। এই খেলার মাঝে এতটাই ডুবে যান তিনি। অবশ্য শখ বলে কথা! পাশাপাশি বাস্কেটবল খেলাও তাঁর শখ। সময় পেলেই ছুটে যান কোর্টে।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়াপ্রিয়াঙ্কা চোপড়া
হিন্দি, ইংরেজি দুই ভাষায়ই গান গেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এটি পুরোনো খবর। যাঁরা তাঁর সম্পর্কে একটু খোঁজখবর রাখেন তাঁরা বলে দিতে পারেন ইন মাই সিটি, এক্সটিক কিংবা আই কান্ট মেক ইউ লাভ মি গানের গায়িকা হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এ বলিউড অভিনেত্রী এসব গান করেছেন শখের বসেই। প্রিয়াঙ্কাভক্তদের তথ্যটি হয়তো জানা আছে। কিন্তু শখ থেকে যে কবিতা লেখেন তা মানুষ ততটা জানে না। এ বলিউড অভিনেত্রী নিজ ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন কবিতা লেখা এবং গান গাওয়া তাঁর শখ। হেল্প নিডি পিপল, মাই ফার্স্ট ট্রেন ট্রিপ, ন্যাচার, স্টপ চাইল্ড লেবার, টাইম ইজ ভেরি প্রেসিয়াস, হোয়েন আই ওয়াজ অ্যা চাইল্ড, হোয়াই টু ডিসোবি ইউর লিডার্স নামে কয়েকটি কবিতা ইতিমধ্যে তিনি লিখেছেন।

মার্ক জাকারবার্গমার্ক জাকারবার্গ
ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ শখের বশেই ফেসবুক তৈরি করেছিলেন। এখন তাঁর শখ সম্পর্কে ফেসবুকের পাতায় লিখে রেখেছেন মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিয়ে কাজ করা। তিনি শখ করে মাঝেমধ্যে কোট-টাই পরেন।

জেমসজেমস
সুরের জাল বুনে চলা জেমসের শখ হচ্ছে ছবি তোলা। যখনই কোথাও যান সুযোগ পেলেই নিজের ভালো লাগা দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দী করেন। এ জন্য সঙ্গে রাখেন ডিএসএলআর ক্যামেরা। আর নিজের তোলা সেসব ছবি প্রায়ই ফেসবুকে দেন তিনি। জেমস কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন নিজের তোলা আলোকচিত্রগুলো নিয়ে একটি প্রদর্শনী করার ইচ্ছার কথা। তাঁর এ শখ কৈশোর থেকে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
একটি গাড়ি খুব বেশি দিন ব্যবহার করেন না রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রতিবছরেই কেনেন নতুন কোনো গাড়ি। টাকার ভারে এত গাড়ি কেনা নয়, সিআর সেভেনের শখই হচ্ছে গাড়ি জমানো। আর সেসব গাড়ি রাখতে বানিয়েছেন গ্যারেজ, যেখানে শোভা পাচ্ছে এখন পর্যন্ত তাঁর জমানো ১৯টি গাড়ি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পরই বিএমডব্লিউ এম ৬ কেনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর গাড়ি সংগ্রহ। সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে ফেরারি ৫৯৯ জিটিও, ল্যাম্বরগিনি অ্যাভেন্টাডোর এলপি ৭০০-৪, পোরশে কাইয়েন টারবো, মার্সিডিজ বেঞ্জ সি ২২০ সিডিআইসহ নানা গাড়ি। তাঁর গাড়ির সংগ্রহ প্রতিবছর কেবলই বাড়ছে।

জে কে রাওলিংজে কে রাওলিং
বিখ্যাত লেখক জে কে রাওলিংয়ের শখ হচ্ছে অবসরে বই পড়া, লেখালেখি ও নতুন চরিত্র তৈরি করা। তাঁর এ শখ না থাকলে হ্যারি পটার চরিত্রের সৃষ্টি হতো কি না, সন্দেহ। এই লেখিকার শখের তালিকায় এসবের বাইরেও রয়েছে আরামে বসবাস করা।
গ্রন্থনা: এস এম নজিবুল্লাহ চৌধুরী
তথ্যসূত্র: প্রিয়াঙ্কা ডেইলি, রোনালদো সেভেন ডটনেট, এবিসি নিউজ, জে কে রাওলিং ডট উইবলি ডটকম।

কলার মোচার কত্ত গুণ

103

কলা গাছের দারুণ গুণ। কলা, কলার খোসা, কলার মোচা সবকিছুই খাওয়া যায়। কলার পুষ্টি গুণ সম্পর্কে অনেকে জানেন। কলার মোচারও কিন্তু কলার মতোই দারুণ কিছু উপকারী ঔষধি গুণ রয়েছে। ভিটামিন ই ও বিশেষ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কলার মোচাতে আছে ডায়েটারি ফাইবার ও প্রোটিন। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় তাই কলার মোচা রাখতে পারেন।

রক্তস্রাব নিয়ন্ত্রণে
নারীর খাদ্যতালিকায় কলার মোচা রাখা উচিত। অতিরিক্ত রক্তস্রাব নিয়ন্ত্রণে কলার মোচা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মোচা দই দিয়ে রান্না করে খেলে শরীরে প্রোজেস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ ঘটিয়ে রক্তক্ষরণ কমাতে পারে।

ডায়াবেটিস ও রক্তশূন্যতা দূর করতে
নিয়মিত কলার মোচা খেলে রক্তে চিনির মাত্রা কমে এবং ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক থাকে। কলার মোচাতে যে ফাইবার আছে, তাতে উচ্চমাত্রার লৌহ উপাদান থাকে, যা লোহিত কণিকার উৎপাদন বাড়ায়। এতে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে।

সংক্রমণ ঠেকায়
সংক্রমণ প্রতিরোধে কলার মোচা দারুণ কার্যকর। প্যাথজেনিক ব্যাকটেরিয়ার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কলার মোচার ইথানলযুক্ত উপকরণ কাজ করে।

প্রাকৃতিক উপায়ে বিষণ্নতা দূর করে
বিষণ্নতা দূর করে মেজাজ ভালো রাখতে পারে কলার মোচায় থাকা উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেশিয়াম। বিষণ্নতার বিরুদ্ধে লড়ে ইতবাচক মানসিকতা তৈরি জন্য খাদ্যতালিকায় কলার মোচা রাখতে পারেন।

মাতৃদুগ্ধ তৈরিতে ভূমিকা রাখে
যাঁরা নতুন মা হয়েছেন, তাঁদের জন্য কলার মোচা দারুণ উপকারী। মাতৃদুগ্ধ তৈরিতে কলার মোচার ভূমিকা রাখতে পারে।

বাড়িতে বসেই টাকা রোজগার করার বিভিন্ন উপায়

98

এখন প্রতিযোগিতার বাজার। প্রচুর ডিগ্রি নিয়ে কত মানুষ বেকার হয়ে বাড়িতে বসে রয়েছেন। কিন্তু চাকরি পাচ্ছেন না। আর ভালো ভালো ডিগ্রি নিয়ে বেকার বসে থাকায় কনফিডেন্সেরও বারোটা পাঁচ বাজছে। তাই চাকরি না পেলেও এত ভেঙে পড়বেন না। রোজগার করার আরও অনেক পথ খোলা রয়েছে। অনেক মানুষ চাকরি না করেও রোজগার করে বেঁচে রয়েছেন। কীভাবে বাড়িতে বসে টাকা রোজগার করবেন, তার কয়েকটি উপায় বলে দেওয়া হল।

১) কনটেন্ট রাইটার– এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা লিখতে ভালোবাসেন। অনেক কোম্পানি রয়েছে, যারা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য লোক চায়। যাঁরা ইংরেজিতে ভালো, তাঁরা সেই সমস্ত জায়গায় চেষ্টা করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার আয়টাও মন্দ হবে না।

২) পেট ক্রেশ- আপনি কি পোষ্য পছন্দ করেন। তাহলে আপনার জন্য খুবই ভালো একটি কাজের সুযোগ রয়েছে। নিজের বাড়িতে কিংবা কিছুটা বড় জায়গা ভাড়া নিয়ে পেট ক্রেশ খুলতে পারেন। পোষ্যদের দেখভালের জন্য প্রতি ঘণ্টা কিংবা দিনের হিসেবে পারিশ্রমিক নিন। এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা বেড়াতে যাওয়ার জন্য কিংবা সঠিক দেখভালের জন্য তাঁদের পোষ্যকে এমন একটা জায়গায় রেখে যেতে চান, যেখানে তারা নিরাপদে থাকবে। আপনি সেই সমস্ত পোষ্যদের দেখভালের কাজ করুন। আর বিনিময়ে টাকাও রোজগার করুন।

৩) কাউন্সিলিং– আপনি যদি ভালো কাউন্সিলর হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার বাইরে চাকরি করার কোনও প্রয়োজন নেই। বাড়িতেই চেম্বার খুলতে পারেন। আর সেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ সমস্ত মানুষের কাউন্সিলিং করুন।

৪) ইউটিউব- ইউটিউব
শুধু সিনেমা দেখা কিংবা গান শোনার জন্যই নয়। ইউটিউব থেকে টাকাও রোজগার করা যায়। ইউটিউবের ভিডিও আপলোড করে আপনিও টাকা রোজগার করতে পারেন। আপনার কাছে যদি যে কোনো বিষয়ের ওপর ভালো ভিডিও থাকে, তাহলে আপনি সেটা ইউটিউবে আপলোড করে টাকাও রোজগার করতে পারবেন।

৫) গ্যারাজ- আপনার বাড়ি যদি শহর জাতীয় জায়গায় হয়, আর আপনার বাড়িতে যদি বেশ খানিকটা জায়গা থাকে, তাহলে আপনি নিজের বাড়িতেই একটা গ্যারাজ খুলতে পারেন। অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা গাড়ি নিয়ে কাজের জায়গায় যান। আবার এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের বাড়িতে গাড়ি রাখার জায়গা নেই। তাঁদের গাড়ি আপনি আপনার গ্যারাজে রেখে দিলেন। আর তার পরিবর্তে ঘণ্টা কিংবা দিনের হিসেবে ভাড়া নিলেন।

সূত্র: জিনিউজ

ব্রণ বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জেনে নিন

97

১. ব্রণ বা একনি কী
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে মুখে ব্রণ কিংবা একনি দেখা দেয়। এ অবস্থায় উচ্চমাত্রার অ্যানড্রোজেনস ত্বকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল উত্পন্ন করে। এতে ত্বকের গ্রন্থিতে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং ব্রণ দেখা দেয়।
২. এর কারণ কী
সাধারণত দুই ধরনের ব্রণ দেখা যায়। ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস। লোমকূপের গোড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে ব্রণ ওঠে তার মুখ কালচে দেখায়। আর ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি বন্ধ হলে যে ব্রণ ওঠে সেটির মুখ দেখতে সাদা হয়।
৩. শেভিং কি দায়ী
আসলে শেভিংয়ের কারণে ব্রণ হয় না। তবে ব্লেডে ময়লা থাকলে ত্বকে সংক্রমণ ঘটতে পারে। এতে ব্রণ হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
৪. কারণ কি মোবাইল ফোন
কানের পাশে বা গালে ব্রণ উঠতেই পারে। দীর্ঘ সময় মোবাইল কানে চেপে রাখলেও কিন্তু ব্রণ উঠতে পারে। কারণ মোবাইলে প্রচুর ময়লা ও জীবাণু থাকে।
৫. মানসিক চাপও কি দায়ী
ব্যক্তিগত বা কর্মজীবনের প্রভাবে ত্বকে ব্রণ ওঠে। কাজের চাপ, টেনশন বা বিষণ্নতা দেহে হরমোনের ক্ষরণমাত্রা এলোমেলো করে দেয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অতিমাত্রায় হরমোন সৃষ্টি করে। এর প্রভাবে ব্রণ ওঠে।
৬. সাবান বা ময়েশ্চারও কি দায়ী
মুখের ময়লা দূর করে সাবান বা ফেসওয়াশ। আবার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চার উপকারী। কিছু সাবান ও ফেসওয়াশ ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে। এর ব্যবহারে ত্বক পুরোপুরি শুষ্ক হয়ে গেলে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এতে ব্রণ উঠতে পারে।
৭. দাগ কি স্থায়ী হয়
এটা নির্ভর করবে কী ধরনের ব্রণ উঠেছে তার ওপর। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দাগ স্থায়ী হয় না। তবে ব্রণ চুলকালে বা এতে সংক্রমণ হলে স্থায়ীভাবে দাগ পড়তে পারে।
৮. পুঁজ বের করা কি ঠিক
ব্ল্যাকহেড বা হোয়াইটহেড চাপ দিয়ে ফাটিয়ে দেওয়া মোটেও ভালো কাজ নয়। এতে ব্যথা হবে এবং লালচে ভাব দেখা যাবে। হতে পারে মারাত্মক ইনফেকশনও। আবার দাগ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও আছে।

সাধারণ ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত চুল পড়া কমিয়ে ফেলুন

Beauty Tips For Hair Loss Problems, hair beauty tips, lose hair beauty tips, lose hair tips, hair loss problem, hair loss remedies, hair treatment for hair loss, remedies hair loss, remedies for hair loss, hair care tips.http://www.fashionfash.com/c/beauty-tips/

চুল পড়ে যাচ্ছে! মহা টেনশনে আছেন তাই না? দুশ্চিন্তাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে যত্ন নিন চুলের। আর এই শীতের মৌসুমে কীভাবে চুলপড়া ঠেকাবেন? জেনে নিন সেই কৌশল। জানাচ্ছেন শামীমা সীমা।

এই শীতের সময়ে চুলের অধিক যত্ন নেয়া প্রয়োজন। এক্সপার্টদের মতে, ক্ষতিগ্রস্থ রুক্ষ-শুস্ক চুলের জন্যে নারিকেল অথবা কলা দিয়ে ঘরে তৈরি মাস্ক সবচেয়ে বেশি কাজ করে।

জেনে নিন চুল পড়া রোধে এই কার্যকরী মাস্কগুলো কিভাবে ঘরেই তৈরি করে ব্যবহার করতে পারবেন।

নারিকেল ক্রিমের মাস্ক –

এই মাস্কটি রুক্ষ ও জমাট বাঁধা চুলের জন্য সবচেয়ে ভাল কাজ করে। এর ময়েস্চারাইজিং উপাদানগুলো চুল Hair নরম করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ঢেউখেলানো চুল পেতে খুব সহজেই এই মাস্কটি ঘরেই তৈরি করে ফেলুন।

উপাদানঃ
* নারিকেল তেল
* অলিভ ওয়েল

প্রণালি:
দুটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে মাস্কের মত তৈরি করে আপনার চুলের গোড়ায় লাগান। লাগানোর পর আপনার চুলগুলো শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে এক ঘন্টার বেশি সময় ঢেকে রাখুন। আপনার চুলের সাথে মানানসই হারবাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চাইলে কন্ডিশনারও ব্যবহার করুন। তারপর দেখুন জাদু! এই মাস্কটি আপনার চুল শুধু নরম আর উজ্জ্বলই করবে না, এটি চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

কলা – মধুর মাস্ক –

এই মাস্কটি আপনার ক্ষতিগ্রস্থ ও দুর্বল চুলকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। কলা একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা আপনার চুলের গোড়া শক্ত করে। এটি চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছায় এবং শক্ত চুল গজাতে Hair grown সাহায্য করে। কলায় প্রচুর পরিমানে আয়রন ও ভিটামিন আছে যেগুলো এই মাস্কের মাধ্যম আপনার চুলে পুষ্টি জোগাবে।

উপাদানঃ
* একটি কলা
* এক চামচ মধু

প্রণালি:
একটি পাকা কলা খুব ভালোভাবে চটকে নিন। এর মধ্যে এক চামচ মধু মেশান। কলা ও মধুর এই প্যাকটি খুব ভালোভাবে মিশিয়ে আপনার চুলের গোড়া থেকে শুরু করে পুরো চুলেই লাগান। মাস্কটি আপনার চুলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন, তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরের বার ব্যবহার করার জন্য আপনি এই মাস্কটি ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন।