সৈকতে টেলরের নয়া অভিসার

রোড আইল্যান্ডের সমুদ্রসৈকতে নতুন প্রেমিকের সঙ্গে দেখা গেছে মার্কিন পপ সংগীতশিল্পী টেলর সুইফটকে। সমালোচনার বদলে যেন সমাদৃতই হচ্ছেন ২৬ বছর বয়সী জনপ্রিয় এই শিল্পী। কেননা, তাঁর এবারের প্রেমিক হলিউডে সাড়া ফেলা অভিনেতা টম হিডলস্টোন। তাঁকেই টেলরের যোগ্যতম প্রেমিক ভাবছেন টেলর-ভক্তরা। মাত্র ১৫ দিন আগে ডিস্ক জকি কেলভিন হ্যারিসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় টেলর সুইফটের। টুইটারে সে…

ইরফানকে কঙ্গনার ‘না’

কঙ্গনা রনৌতের বলিউড অভিষেক খুব বেশি দিন আগে নয়। ২০০৬ সালে ‘গ্যাংস্টার’ ছবি দিয়ে তিনি হিন্দি সিনেমায় নাম লেখান। কিন্তু দুর্দান্ত অভিনয়-প্রতিভা দিয়ে এই অভিনেত্রী এরই মধ্যে বলিউডে নিজের অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছেন। তিন-তিনবার জয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি তো আর যেই-সেই চরিত্রের জন্য ডাক পেলেই দৌড় দিতে পারেন না। ইরফান খানের বিপরীতে একটি…

বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিশাতের গল্প

আগামীকাল রাতে এবিসি রেডিওতে নিজের গল্প বলবেন পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার। শ্রোতাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন নানা অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও সমাজের জন্য তাঁর কাজগুলো নিয়ে। রকমারি ডটকমের সৌজন্যে শুক্রবার রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এই আড্ডা হবে রেডিওর ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ অনুষ্ঠানে। এবিসি রেডিওর এই আয়োজনের প্রথম এক ঘণ্টা নিশাতের সঙ্গে আাড্ডার পরই থাকবে ডায়েরি পাঠ। এই সময়…

ভিন্নরূপে ‘ইত্যাদি’তে মমতাজ

কোনো অনুষ্ঠানে মমতাজের উপস্থিতি মানেই তিনি গান গাইবেন। ইদানীং আবার তাঁকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবেও দেখা যায়। তবে ঈদের বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে ভিন্ন এক রূপে হাজির হলেন বাংলাদেশি লোকগানের জনপ্রিয় এই শিল্পী। ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন সে রকমই জানিয়েছে। আর বিষয়টি এখনই পুরোপুরি উন্মোচিত করতে চান না অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ ২৫ বছরেরও…

‘দাম বাড়ছে’ কঙ্গনার!

নিজেকে নায়কের সারিতে দেখতে চাইছেন নায়িকা কঙ্গনা রনৌত। আর এই স্তরবদলের মাপকাঠি ধরেছেন পারিশ্রমিককে। ফলে প্রতিনিয়ত তাঁর ‘দাম বাড়ছে’। ‘কুইন’ ও ‘তানু ওয়েডস মানু রিটার্নস’ ছবি দুটির সাফল্যের পর নিজের দাম বাড়িয়ে ১১ কোটি রুপি ঘোষণা করেছেন কঙ্গনা। এ ছাড়া নতুন ছবি ‘রাঙ্গুন’-এর জন্য তিনি নিয়েছেন দুই সহ-অভিনেতা সাইফ আলী খান ও শহীদ কাপুরের সমপরিমাণ…

রাজেশ খান্নার জায়গায় সিদ্ধার্থ

১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া বলিউড সিনেমা ‘ইত্তেফাক’-এ অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা রাজেশ খান্না ও অভিনেত্রী নন্দা। ৪৭ বছর পর এই ছবিটি পুনর্নির্মিত হচ্ছে। আর নতুন এই ‘ইত্তেফাক’-এ রাজেশ খান্নার চরিত্রে অভিনয় করবেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, এই ছবিতে দর্শক তাঁকে নতুন রূপে, নতুন চরিত্রে দেখতে পাবে। জনপ্রিয় এই ক্ল্যাসিক ছবির রিমেকে কাজ করতে পেরে ভীষণ…

‘আমি দারুণ খুশি’

ওপাশ থেকে শোনা গেল সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর। প্রসঙ্গটি তুলতেই প্রথমে বিবি রাসেল বললেন, ‘আমি দারুণ খুশি। প্রীতিলতাকে নিয়ে সিনেমা নির্মিত হচ্ছে, আমি সেটার পোশাক পরিকল্পনা করছি। এটা যে আমার জন্য কত আনন্দের, তা বোঝাতে পারব না!’ ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী যোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী নারী শহীদ প্রীতিলতাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ নির্মাতা…

আমি সাধারণ

‘ হুমায়ূন আহমেদ কয়টা পুরস্কার পেয়েছেন? কিংবা হুমায়ুন ফরীদি?’ প্রশ্নটা করে উত্তরের অপেক্ষা করলেন না অভিনেতা মোশাররফ করিম। বললেন, ‘আমরা কিন্তু কেউই জানি না তাঁরা কতগুলো পুরস্কার, কেন পেয়েছেন? কিন্তু আমরা তাঁদের জানি। তাঁদের লেখা ও অভিনয় তৈরি করেছে হাজারো ভক্ত, অনুরাগী। আমার কাছেও পুরস্কারটা তাই কোনো ব্যাপার নয়। রাস্তায় বের হলে বাবার বয়সী বৃদ্ধ…

আবার নাটকে মিম

বিদ্যা সিনহা মিম চলচ্চিত্রে নিজেকে থিতু করেছেন। এর পাশাপাশি ছোট পর্দায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রে তাঁকে নিয়মিত দেখা গেলেও নাটকে অনেক দিন ধরেই অনুপস্থিত তিনি। সর্বশেষ বছর দুয়েক আগে তাঁকে দেখা গিয়েছিল মাহমুদ দিদারের স্বৈরাচার নাটকে। মিমের এবারের নাটকটির নাম সেই মেয়েটা। পরিচালনা করছেন মিজানুর আরিয়ান। হঠাৎ করেই নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে মিম বলেন, কয়েক দিন আগে একটি…

বিয়েটাই সেরা অর্জন!

এত দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তাঁর অর্জনের পাল্লাটা কম ভারী নয়। শুধু পুরস্কার কেন, যেসব বিখ্যাত চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, সেটাও তো বড় এক অর্জন। তবে সালমা হায়েক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখেন নিজের বিয়েটাকে। মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে সুখ-শান্তি না থাকলে কর্মজীবনের অর্জনের মূল্যই বা কী? হায়েক বলেন, ‘একটা ভালো বিয়ে, ভালোবাসায় পূর্ণ…

এক দৃশ্যে ১৭ আইসক্রিম!

রাত প্রায় সাড়ে ১২টা। তখনো পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের একটি বাড়ির ছাদে শুটিং চলছে। পরিচালক এসে নাটকের অভিনেতা সজলকে বললেন, ‘এখন আমরা আইসক্রিম খাওয়ার শট নেব।’ প্রথমে অভিনেতা সজল ভাবছিলেন, আইসক্রিম খেতে হবে, এ আবার এমন কী? কিন্তু যখন দৃশ্যধারণ শুরু হলো, তখন ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করলেন সজল, কাজটি আসলে এতটা সহজ নয়। নির্দিষ্ট এই…

জলকন্যা তারিন

মেয়েটির নাম জলকন্যা। জলে নয়, বসবাস ডাঙাতেই। এই জলকন্যা মানুষের চোখ-মুখ দেখে দিব্যি বলে দিতে পারেন তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। বিশেষ ক্ষমতার এই জলকন্যার চরিত্রে অভিনয় করছেন তারিন। নাটকটির নাম তোমার চোখে দুচোখ রেখে। সাত পর্বের এই ধারাবাহিক নাটক তৈরি হচ্ছে মাহফুজুর রহমান ও ইভা রহমানের সাতটি গানের কথা অবলম্বনে। চরিত্রের নাম জলকন্যা কেন?…

সঙ্গীর মনের ওপর দখল রাখুন ৫টি দারুণ কাজে

হ্যালোটুডে ডেস্ক: আপনার সাথে কি আপনার সঙ্গীর মানসিক যোগাযোগ ভালো? তাঁর মনটার ওপরে আপনার দখল আছে তো? ভাবছেন সঙ্গীর মন না বুঝলে সেটা আবার সম্পর্ক হয় কি করে, তাই না? এমন অনেক সম্পর্ক আছে যেগুলোতে দুজনের বোঝাপড়া এবং মানসিক যোগাযোগ একেবারেই কম, কিন্তু কোনো রকম টিকে আছে সম্পর্ক। এ ধরণের সম্পর্কে সুখ, শান্তি, স্বতস্ফুর্ততা কোনোটাই থাকে না। ফলে সম্পর্কটা একেবারেই একঘেয়ে হয়ে যায় একটা সময় পার করার পর। সম্পর্ক সুন্দর ও দীর্ঘমেয়াদী করার জন্য, সঙ্গীর মনের ওপরে চিরকাল আপনার দখল বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন দুজনের মধ্যে মানসিক যোগাযোগটাকে ভালো করা।

আর মানসিক যোগাযোগ ভালো করতে হলে দুজনকেই হতে হবে সচেষ্টা। আসুন জেনে নেয়া যাক ছোট্ট সেই কাজগুলো সম্পর্কে, যেগুলো সঙ্গীর মনকে চিরকাল রাখবে আপনারই! মন দিয়ে সঙ্গীর কথা শুনুন সঙ্গীর সাথে মানসিক যোগাযোগ বাড়িয়ে তোলার জন্য সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শুনুন। আপনার সঙ্গী যখন আপনার সাথে গল্প করে কিংবা খুব আগ্রহ নিয়ে কোনো কথা বলতে আসে তখন তার কথা গুলো আগ্রহ নিয়ে শুনতে চেষ্টা করুন। আপনি যদি তার কথা শুনতে আগ্রহ প্রকাশ না করেন তাহলে সে মনঃক্ষুণ্ণ হবে এবং পরবর্তিতে আপনার সাথে মন খুলে কথা বলতে চাইবে না। ফলে আপনার সাথে তার মানসিক যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। সারাদিনের কথা জিজ্ঞেস করুন দিনের শেষে আপনার সঙ্গীকে তার সারাদিনের কথা জিজ্ঞাসা করুন। দিনটি কেমন কেটেছে, কী করেছে সে সারাদিন, কী খেয়েছে ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করুন। তাহলে আপনার সঙ্গী বুঝতে পারবে যে আপনি তার ব্যাপারে আগ্রহী এবং যথেষ্ট যত্নশীল।

একই সঙ্গে নিজেদের প্রাত্যহিক সুবিধা অসুবিধা গুলোর কথা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মানসিক যোগাযোগটা আরো ভালো হবে। সর্বজান্তা ভাব দেখাবেন না আপনার সঙ্গী যখন আপনাকে কিছু বলে তখন সর্বজান্তা ভাব দেখাবেন না। এমন অনেক কিছুই আছে যা আপনি জানেন। সেই বিষয়টি যদি আপনার সঙ্গী খুব আগ্রহ নিয়ে আপনাকে বলতে চায় তাহলে আপনিও আগ্রহ নিয়েই শুনুন। সব সময়েই ‘জানি’ বলে সঙ্গীর কথা বলার আগ্রহ কমিয়ে দেবেন না। সর্বজান্তা ভাব দেখালে আপনার সাথে তার মানসিক দূরত্বটা আরো বেড়ে যাবে। সব কিছুতে নিজের মতামত চাপিয়ে দেবেন না আপনার সঙ্গীর উপর আপনার অবশ্যই কিছু অধিকার আছে। কিন্তু তাই বলে তার সব ব্যাপারেই আপনার নাক গলানো ঠিক হবে না। প্রতিটি মানুষেরই ব্যক্তিগত জীবনও নিজস্ব কিছু মতামত থাকে। তাই আপনার সঙ্গীর কোনো ব্যাপারে জোর করে নিজের মতামত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না। দোষারোপ করবেন না মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। হতে পারে নানান দোষ। কিন্তু একটি ভুলে হয়ে গেলে সঙ্গীকে কখনো দোষারোপ করবেন না। সেই ভুল শুধরে নিতে তাঁর পাশে দাঁড়ান। তাঁকে বুঝিয়ে বলুন যে কাজটি ঠিক হয়নি। “তুমি এটা কেন করলে?” – এমন বাক্য না বলে বলুন। “এটা করা ঠিক হয়নি সব মিলিয়ে “বিষয়টা অদ্ভুত ও মর্মান্তিক” বলেই ব্যাখ্যা করলেন রবার্টস। রবিবার থেকেই স্থানীয় থানার লক আপে বন্দি রয়েছেন মেগান। তাঁর কোনও আইনজীবী রয়েছেন কি না সে সম্পর্কেও কিছু জানাতে পারেননি রবার্টস।

আলিয়া ভাটের পাঁচ মিনিটের নোংড়া যে ভিডিওটি ইন্টারনেট মাতালো (ভিডিওসহ)

আলিয়া ভাট নামটা শুনলেই মিষ্টি একটা চেহারা মুখের সামনে ভেসে ওঠে৷ আলিয়ার এই ভোলাভালা চেহারার প্রয়োগ করেই পরিচালক বিকাশ বেহেল সমাজের একটি নোংড়া দিক সবার সামনে এনেছেন৷  ভিডিও নিচে

আলিয়ার সঙ্গে মিলে বিকাশ মহিলা সুরক্ষার মত একটি গম্ভীর বিষয় নিয়ে একটি শর্টফিল্ম বানিয়েছেন৷ ‘গোয়িং হোম’ নামের এই ফিল্মটি মাত্র পাঁচ মিনিটের৷ কিন্তু পাঁচ মিনিটেই এই ফিল্ম না বলা অনেক কথা বলে গেল৷‘গোয়িং হোম’ নামেক এই ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে যে, রাতের অন্ধকারে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে আসছে একটি মেয়ে৷ সেই মেয়ের চরিত্রেই রয়েছেন আলিয়া ভাট৷ মায়ের ফোন এলে মেয়েটি মাকে জানায় ১০ মিনিটের মধ্যেই সে বাড়ি পিরে আসবে৷ কিন্তু এরপরেই তার গাড়ি হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়৷ কিছুক্ষণ পরেই আলিয়ার গাড়ির পাশে আরও একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায় যেখানে পাঁচজন ছেলে ছিল৷

বলাই বাহুল্য গভীর রাতে একা একটচি সুন্দরী মেয়েকে দেখে সকলেরই মাথা ঘুরে যায়৷ এই ছবিতে বেশ কৌশলের সঙ্গেই দেখানো হয় ছেলেগুলি অনেক চেষ্টা করলেও আলিয়া নিজেকে বাঁচিয়ে নেয়৷ না, ঝগড়া বা মারামারি করে একেবারেই নয়, সেখানেও একটা ট্যুইস্ট৷ যে ছবি না দেখলে বোঝা যাবে না৷ তবে ওই ছেলেগুলির মধ্যে একজন তুলনামূলক ভদ্র থাকায় শেষে দেখা যায় ওই ছেলেগুলিই আলিয়াকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায়৷

সব ভাল যার শেষ ভাল তার৷ কিন্তু এই ছবির শেষ ভাগেই রয়েছে আসল সত্য৷ ছবি শেষ হতেই স্ক্রিনে একটা প্রশ্ন ফুটে উঠল৷ তাকে সাধারন মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, এই ঘটনা কে কি বাস্তবায়িত করা যায় না? সেখানে লেখা আমরা মেয়েদের ভদ্র সমাজ দিতে পারি যা বর্তমানে অসম্ভব৷ কিন্তু একজন মেয়ের মনে সবসময়েই এমনই সমাজের চিন্তা থাকে আর সেই কারণেই তারা অচেনা কারোর কাছে সাহায্যে আশা করে৷ এবার সেটা আমাদের উপরেই নির্ভর করছে যে আমার মেয়েদের এমন ভাবনাকে আমরা ভেঙে দেব নাকি সেটাকে আরও মজবুত করব৷

এই শর্ট ফিল্মের পরিচালক বিকাশ বেহেল জানিয়েছেন, মেয়েদর জন্য একটা সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই তিনি এই ভিডিওটি বানিয়েছেন, যাতে বাড়ি থেকে বাইরে বেরোনোর আগে নিরাপত্তা নিয়ে মেয়েদের একবারও ভাবতে না হয়৷ ইতিমধ্যেোই সোশ্যাল সাইটে এই ভিডিওটি বেশ ভাইরাল হয়েছে৷ এবার একটাই দেখার এই ফিল্মের প্রভাব সমাজের উপর পড়ে কিনা৷

অবশেষে পরিচালকের ব্যাপারে মুখ খুললন অভিনেত্রী মিমি!

আন্তর্জাতিক নারী দিবস? হ্যাঁ, ৮ মার্চের একটা পোশাকি নাম আছে বটে। তবে সেটা ক’জন নারী জানেন বলুন তো? এই যে আপনি পড়ছেন, আপনি জানেন সেটা মানছি। তবে আমার বাড়ির কাজের বুয়া, বা মাত্র আট বছরে পরিবারের মধ্যেই যৌন লালসার শিকার হওয়া মেয়েটি- তারা জানে কি? উত্তরটা সম্ভবত নেগেটিভ।

তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সেলিব্রেশন শুধুই একটা কাগুজে দিনে আটকে নেই বোধহয়। এই লেখাটা লিখতে বসে বছর পাঁচেক আগের কথা খুব মনে পড়ছে। আমি জলপাইগুড়ির মেয়ে। কলকাতায় পড়তে পড়তে শুরু হয় আমার স্ট্রাগল। তখন পকেটমানির জন্য কাজ শুরু করি। আমার প্রথম সিরিয়াল ‘চ্যাম্পিয়ন’। সিরিয়ালটা ছয় মাসের মতো চলে বন্ধ হয়ে যায়। মাসে ১৫ হাজার টাকা পেতাম। সেটাই তখন অনেক।

তাতে আমার হাতখরচা, হোস্টেলের খরচ চলে যেত। আসলে নিজের ইচ্ছেতে বাড়ির বাইরে এসেছিলাম। তাই কখনও চাইনি বাবা-মা আমার খরচা চালাবেন। একটা কথা কি জানেন, আমাকে কলকাতায় সারভাইভ করার জন্য খাটতে হয়েছিল। বাবা-মা এমবিএ পড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি এই প্রফেশন বেছে নিয়েছিলাম। তাই কলকাতার বাইরের মেয়েদের জন্য এটা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। আসলে কলকাতায় বাড়ি থাকলে একটা মরাল সাপোর্ট পাওয়া যায়। ঘুম থেকে উঠে হরলিক্সটাও নিজেকে করে খেতে হয়।

ঘুমতে যাওয়ার সময় ভাবতে হয়, কাল ব্রেকফাস্ট কী খাব? সে সময়ের কথা ভাবলে নারী স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক নারী দিবস এ সব নিয়ে আলোচনা আমার হাস্যকর মনে হয়। জানেন, এমনও সময় গিয়েছে, আমার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স জিরো হয়ে গিয়েছিল। ট্যাক্সি করে লুক টেস্টে যাওয়ার মতো ক্ষমতা ছিল না।

‘বাপি বাড়ি যা’র সময়ও অটোতে করে গিয়ে ওয়ার্কশপ করেছি। মা বলত বাড়িতে বসে থাকলে কেউ ভালো কাজ দেবে না। সব সময় একটা কথাই জানতাম, আই হ্যাভ টু স্ট্রাগল। তবে আই অ্যাম ভেরি ফোকাসড অ্যাবাউট মাই ক্যারিয়ার। রানাদা, সুদেষ্ণাদি আমাকে প্রথম ‘গানের ওপারে’র জন্য বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ), ঋতুদার কাছে নিয়ে যায়। তার পর শুরু করেছিলাম সেই স্বপ্নের জার্নি। তবে ফিনান্সিয়াল যতই খারাপ অবস্থা হোক টাকার জন্য কখনও যা খুশি কাজ করিনি।

‘গানের ওপারে’র পর অন্তত ৫০টা ফিল্ম ছেড়েছি। কারণ ওগুলোর গল্প প্রায় একই রকম ছিল। মেয়ে হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও একটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলাম। কারও নাম বলতে চাই না, তবে অনেকে বলেছিল তুই হিরোইন মেটিরিয়াল নোস। তুই পারবি না। তোর দ্বারা হবে না। তখন তাদের মুখের ওপর কিছু বলিনি।

কিন্তু সেটাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। গর্ব করছি না, তবে এটাও ঠিক, সে দিন ওই কথাগুলো আমাকে শুনতে হয়েছিল বলেই আজ আমি এখানে। এটাও ঠিক, হিরোইন হওয়াটা কঠিন। হয়ে যাওয়ার পর সেটা মেনটেন করা আরও কঠিন। মুশকিল হচ্ছে, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নিয়ে আমরা যারা বড় বড় কথা বলি, তারাই কিন্তু সুযোগ পেলেই মেয়েদের যে ভাবে খুশি অপমান করি, তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি। আমার সঙ্গে এমনই একটা ঘটনা ঘটেছিল।

‘চ্যাম্পিয়ন’-এর সময় একটা ফিল্মের অফার পেয়েছিলাম। তখন কাস্টিং কাউচের কবলে পড়েছিলাম। না! কাস্টিং কাউচ বোধহয় বলা যাবে না। সে সময় রিহার্সাল করতে গিয়ে আমার পরিচালক মিসবিহেভ করেছিলেন। একটা নন এসি রুমে রিহার্সাল করতাম। একদিন দুপুরে হঠাৎই ঘরের জানালা বন্ধ করে দিল।

আমি তো ভাবছি, জানালা কেন বন্ধ করল? কোনোদিন তো করে না! আর তার পরই রিহার্সালের নামে মিসবিহেভ করেছিল। তখন এতটা ছোট ছিলাম যে, বুঝতেই পারিনি কী হতে চলেছে। তবে একটা খারাপ কিছু যে হবে, তেমন একটা সিক্সথ সেন্স কাজ করেছিল। এক মিনিট আসছি বলে পালিয়েছিলাম। আর যাইনি সেখানে। এখন বিভিন্ন পেশার মেয়েদের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখি। এই লেখাটা যে মেয়েরা পড়বেন বা পড়বেন না সকলকে একটা অ্যালার্ম দিতে চাই।

একটা মানসিকতা বেশির ভাগের মধ্যেই তৈরি হয়েছে, আই হ্যাভ টু বি আ হিরোইন। আই ক্যান ডু এনিথিং ফর ইট। আসলে মেয়েরা এখন ওভার অ্যাম্বিশাস। এই মানসিকতা হলে ভালো-মন্দ চিন্তা করার ক্ষমতাটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই মেয়েদের একটা অনুরোধ, প্লিজ চোখ, কান, নাক, মুখ সব খুলে রেখে কাজ কর। কয়েক মাস আগে লেকটাউনের একটা ঘটনায় আমি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলাম। সে নিয়ে খবরও হয়েছিল। অনেকে ওই ঘটনাটা নিয়ে আমাকে নানা প্রশ্ন করেন।

আজ এখানে খোলাখুলি একটা কথা শেয়ার করি আপনাদের সঙ্গে। ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় ওটা হেডলাইন হওয়ার দরকারই ছিল না। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ সবারই করা উচিত। জলপাইগুড়িতে কারও একটু ধাক্কা লাগলেও অন্তত ৫০টা লোক চলে আসে। জানেন, ক্লাস ইলেভেনে আমার একবার গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল। মামা গাড়ি চালাচ্ছিল। বাড়ি থেকে তিন ঘণ্টা দূরে আমাদের অ্যাক্সিডেন্টটা হয়। ওখানে বাড়ির লোক পৌঁছনোর আগেই ওখানের লোকরাই আমাদের সব ব্যবস্থা করেছিল।

আমি এটা দেখে বড় হয়েছি। তাই প্রতিবাদ করতে আমি দুইবার ভাবিনি। এমন ঘটনা আবার আমার সামনে হোক তা চাইব না। তবে যদি এমন হয়, তা হলে আমি আবার প্রতিবাদ করব। অনেকে জানতে চান, আমি মানুষটা কেমন? মেয়ে হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে কেমন? আমি মধ্যপন্থী নই। স্পষ্টবাদী। ডমিনেটও করি না। আবার ডমিনেটেড হতেও পছন্দ করি না। আসলে আমার পরিবারের মধ্যে নারী-পুরুষের এই পার্থক্যটা দেখিনি।

আত্মীয়দের মধ্যে অনেক মহিলাই তাঁদের স্বামীদের থেকে উঁচু র‌্যাংকে কাজ করেন। কিন্তু কোনো ইগো সমস্যা হয়নি। বরং তাঁরা বেস্ট ফ্রেন্ড। এই ব্যালান্সটা খুব জরুরি। এটা দেখে আমি বড় হয়েছি। তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবস বললে আলাদা করে আমার কিছু মনে হয় না।