ব্রা পরতে যে ভুল করে মেয়েরা

ব্রা বা বক্ষ বন্ধনীর সাথে মেয়েদের ভালবাসা এবং ঘৃণার সম্পর্ক বিদ্যমান। আকর্ষণীয় ও সঠিক মাপের ব্রা সবাই পছন্দ করে। কেননা ভুল মাপের ব্রা নারীদের সৌন্দর্য কমিয়ে দেয় শুধু তাই নয়, এটা শরীরের জন্যও ক্ষতিকর। তাই ব্রা পরিধানের কিছু নিয়ম জেনে নিন।

১. অধিকাংশ মেয়েরাই তাদের ব্রা বা বক্ষ বন্ধীর ফিতা ভুল ভাবে পরিধান করেন। অনেকে অতিরিক্ত ঢিলা বা আটকা ভাবে ব্রা পরিধান করে থাকেন। যার কারণে তাদের স্তনের সৌন্দর্য হারিয়ে যায় এবং শারীরিক সমস্যাও হয়।

২. অনেক মেয়েরা এমন ব্রা পরিধান করে থাকেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

৩. দেহের জন্যে কোনটি সঠিক মাপের হবে তা জেনে নিতে একটি মেজারমেন্ট টেপ নিন। পিঠের পেছন থেকে ধরে টেপটি সামনের দিকে নিয়ে আসুন। যে মাপটি পাবেন তা বাড়তি মনে হলে সবচেয়ে কাছের পূর্ণ সংখ্যার মাপটি গ্রহণ করুন। এবার স্তনের ঠিক নিচেই পাঁজরের মাপ নিন। একইভাবে কাছের পূর্নাঙ্গ সংখ্যাটি গ্রহণ করুন।

৪. ব্রার কাপে স্তন পরিপূর্ণভাবে সেঁটে যাবে। ঢিলেঢালা বা বেশি আঁটোসাঁটো হবে না। এই মাপটি নিতে স্তনের সর্বোচ্চ স্ফীত অংশের মাপ নিন। যে মাপটি পাবেন তা থেকে এক একক মাপ কম নিন। যদি কাপ সাইজ পান ৩৬ ইঞ্চি এবং ব্যান্ড সাইজ পান ৩৪ ইঞ্চি, তাহলে পার্থক্য হলো ২ ইঞ্চি। এই পার্থক্য ‘বি’ কাপ নির্দেশ করে।

৫. ব্রার হুক লাগানোর পর পেছন দিকটা ওপরের দিকে টানটান অবস্থায় থাকবে না। এক্ষেত্রে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সেট হুক লাগিয়ে দেখুন, কোনটি স্বস্তিদায়ক হয়।

মনে রাখবেন, ব্রা আপনার সামনের অংশকে সাপোর্ট দেবে। কিন্তু পেছনের অংশ নয়। ব্রায়ের কাপের পাশ থেকে টিস্যুর কিছু অংশ বেরিয়ে পড়লে বুঝে নেবেন, এর সাইজ কিছুটা ছোট হয়ে গেছে। ব্রার দুটি কাপের সংযোগস্থলটি বুকের সঙ্গে টানটান হয়ে সেঁটে থাকবে। তবে স্তনের কোনো অংশ সামান্যতম কুঁচকে থাকলে কিছুটা ঢিল দেয়া প্রয়োজন।

৬. বক্ষবন্ধনী সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই ভাবেন, ডি সাইজ কাপটি গড় মাপের। আসলে তা নয়। সব সাইজের ডি মাপ আছে। যদি দুই হাতের নিচের নিকে ত্বক ব্রার বন্ধনীতে কুঁচকে থাকে, তবে আরেকটু বড় মাপের ব্রেসিয়ার লাগবে।

৭. এমন দোকান থেকে ব্রেসিয়ার কিনতে যাবেন না যেখানে বিভিন্ন ধরনের সরবরাহ কম। ছোট সাইজ যেমন ২৮ বা ৩০ ইঞ্চি থেকে শুরু করে বড় সাইজের সব ধরনের ব্রেসিয়ার এমন দোকানে কিনতে যাবেন।

৮. বর্তমানে যে সাইজের ব্রা ব্যবহার করছেন সেই সাইজটি যদি গত এক বছর ধরে ব্যবহার করতে থাকেন এবং বর্তমানে মাপের ফিতায় একই মাপ আসে, বুঝবেন কোথাও ভুল হচ্ছে। এক বছরের ব্যবধানে এই মাপ বদলাতে বাধ্য।

৯. যদি সঠিক সাইজ না খুঁজে পান, তবে কাজ চালানোর জন্যে হলেও ভুল সাইজটি নেয়ার প্রয়োজন নেই। অন্য কোনো শপে গিয়ে খুঁজুন। ভুল সাইজের ব্রেসিয়ার স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক হুমকি।

১০. ঘাম নিয়ে অনেকেই ব্রা পরে থাকেন। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই ব্রা পরিধানের সময় এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তাহলে অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

১১. অতিমাত্রায় স্তনের বোঁটা দেখা যায়, এমন ব্রা পরিধান করা উচিত নয়। এতে করে স্তনের বোঁটার ক্ষতি হয়। তাছাড়া সামাজিকভাবেও এটা দৃষ্টিকটূ।

নারীদের বশ করার গোপন কৌশল!..

নারীরা কেন সাধারণত আত্মনির্ভরশীল, ব্যক্তিত্ববান এবং রোমান্টিক পুরুষদের ভালোবাসেন? আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক পুরুষের মধ্যে কি কি বৈশিষ্ট্য থাকলে নারীর মন জয় করে নেয়া যায়?

রসবোধ ও বুদ্ধিমত্তা: পাত্রীর সঙ্গে প্রথম আলাপ? মেয়েরা সাধারণত একটু রসিক ছেলেদের ভালোবাসে। যে কোনো বিষয় নিয়ে উপস্থিত ভাবে রসালাপ করতে পারে এমন ছেলেদের প্রতি মেয়েরা বেশি আকৃষ্ট হয়। বুদ্ধিমান ছেলেরা নারীদেরকে বেশি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। আত্মবিশ্বাসী: আত্মবিশ্বাসী ছেলেরা মেয়েদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে সব সময়।

দ্বিধাগ্রস্ত ছেলেদের প্রতি মেয়েরা আকৃষ্ট হয় না। একজন পুরুষ যত সুন্দর বা রূপবানই হোক না কেন সে যদি আত্মবিশ্বাসী না হয় তাহলে তার প্রতি কোনো মেয়ে নির্ভর করতে পারবে না। উচ্চতা ও দৈহিক গড়ন: বিভিন্ন জরিপে সর্বদাই দেখা গিয়েছে যে নারীদের পছন্দ অধিক উচ্চতার পুরুষ। চেহারার সৌন্দর্যের চাইতে মেয়েরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে পুরুষের উচ্চতা ও বলিষ্ঠ গড়নকে।

আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী: নারীদের পছন্দের তালিকায় আত্মনির্ভরশীল পুরুষরা সব সময়েই অগ্রাধিকার পায়। নিজের উপার্জনে চলে এমন পুরুষই নারীর পছন্দ। বাবার উপার্জনে দিনযাপন করা ছেলেদের খুব একটা পছন্দ করেনা নারীরা।

সম্মানিত পদবীতে চাকরী করে এবং স্বচ্ছল পুরুষদেরকে নারীরা তাদের পছন্দের তালিকায় রেখে থাকে। পুরুষালী আচরণ: নিজের সঙ্গীর কাছ থেকে নারী খোঁজে নির্ভরতা ও নিরাপত্তা। যে পুরুষ তাকে নিরাপত্তা দিতে পারে, নারীর চোখে তারাই পুরুষালী আচরণের অধিকারী। আর এই ধরনের পুরুষদের জন্য নারীর আকর্ষণ সর্বাধিক।

শাহরুখ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে! (ভিডিওসহ দেখুন)

হঠাৎ করেই পুলিশ এসে হাজির। তারপর তাকে গ্রেফতার করে তুলে নেয়া হল পুলিশের গাড়িতে। মুহূর্তেই সব ঠাণ্ডা হয়ে গেল। কাল মাহিরা ও শাহরুখের নতুন ছবি ইন্টারনেটে আসার পর আজই তাকে গ্রেফতার করা হল। কিন্তু কেন? আগে কোন দুশ্চিন্তা করার আগে পুরো খবর জেনে নিন। শাহরুখ তার নতুন ছবি রইসে অভিনয় করছেন। সেখানে তিনি একজন মাফিয়া ডন চরিত্রে অভিনয় করছেন। তার সেই অভিনয়ের এক পর্যায়ে তাকে গ্রেফতার হতে হবে। প্রথমবারের মত এই সিনেমায় শাহরুখের বিপরীতে অভিনয় করছেন পাকিস্তানী মডেল মাহিরা খান। শাহরুখকে যখন গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তাকে অনেক বেশি চিন্তিত দেখা যায়। কারণ তার স্বামী মিয়ানকে (শাহরুখ খান) পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছিল।

গতকাল শাহরুখ ও মাহিরার অনেক আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি প্রকাশিত হয়। আবার আজই তাদের মাঝে শোকের ছায়া। বর্তমানে এই ছবির শুটিংয়ের জন্য সকলে মুম্বাইতে অবস্থান করছেন। এ বছরের ঈদে শাহরুখ ও সালমানের ছবি একত্রে মুক্তি পাবে। শাহরুখের রাইস এবং সালমানের সুলতান, দেখা যাক এই দ্বৈরথে জয়ের মুকুট কার অধীনে থাকে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তি সই – See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2016/03/21/338613#sthash.M9kNN4YU.dpuf

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এই চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইন অ্যাসিউরড সিকিউরিটি।

রাজধানীতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরে আজ সোমবার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শাহজালাল বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নুরুল ইসলাম ও রেডলাইনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল মেসন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন উপস্থিত ছিলেন।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2016/03/21/338613#sthash.M9kNN4YU.dpuf

সবার আগে সেমিতে নিউজিল্যান্ড

টানা ৩ ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম দুই ম্যাচে ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানো দলটি কাল ২২ রানে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। মার্টিন গাপটিলের ৮০ রানের ইনিংসে ভর করে ১৮০ রান তোলে কিউইরা। পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত ১৫৮/৫-এ থেমেছে তাদের ইনিংস।

কাল মোহালিতে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া দলকে একাই পথ দেখাচ্ছিলেন গাপটিল। সেঞ্চুরিটাও মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু গত তিন বছরে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপটা তাঁর থেকেই গেল। ৮০ রানে থামলেও তাঁর বিধ্বংসী ওই ইনিংসই অবশ্য কিউইদের নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮০ পর্যন্ত যাওয়ার পথ করে দিল।

পাকিস্তানকে হারালে শেষ চার নিশ্চিত হয়ে যায় এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অধিনায়ক উইলিয়ামসন আর গাপটিল ৬২ রানের দারুণ সূচনা এনে দেন। যদিও তাতে উইলিয়ামসনের (২১ বলে ১৭) সামান্যই! এরপর কলিন মুনরো ও কোরে অ্যান্ডারসনরাও পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও একাই পুষিয়ে দিচ্ছিলেন গাপটিল। ৩৩ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ফিফটি করে ফেলা এ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সামির ভেতরে ঢোকা গুড লেন্থ বল থার্ডম্যান দিয়ে গলাতে গিয়েই বিপদ ডেকে আনেন। বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে, তাতেই তাঁর ৪৮ বলে ৮০ রানের ইনিংসটির সমাপ্তি। দলের সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ১২৭, বল বাকি ৩৩। শেষ দিকে কোরে অ্যান্ডারসনের ১৪ বলে ২১ এবং দুই বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ২৩ বলে ৩৬ রানের রস টেইলরের আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসেই বড় সংগ্রহ গড়ে কিউইরা।

পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের জন্য শেষ পর্যন্ত তা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। শুরুতে শারজিল খান ৪৭ (২৫) রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও তাঁর দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি অন্যরা। শারজিল- আহমেদ শেহজাদের ওপেনিং জুটিতেই আসে ৬৫ রান। শেহজাদ অবশ্য ৩০ রান তুলতে ৩২ বল খরচ করেছেন। চারে নামা উমর আকমল ২৪ করেছেন ২৬ বল খেলে। শহীদ আফ্রিদির ৯ বলে ১৯ রানের ইনিংসও তাই কাজে আসেনি। ১৬ ওভারের সময় রান রেট পৌঁছে ১৪-তে। শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন হয় ৪৪ রানের। আকমলের বিদায়ের পর শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ মিলেও লড়াইটা জিততে পারেননি। ক্রিকইনফো

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/sports/2016/03/23/339245#sthash.wJUBJqge.dpuf

অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করুন

কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন দিনের’ আগমনের সূচনা বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিউবার রাজধানী হাভানার প্যালেস অব দ্য রেভল্যুশনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে মানবাধিকার প্রশ্নে দুই নেতা অবশ্য মতবিরোধেও জড়ান।

ওবামার ঐতিহাসিক সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার বৈঠকে বসেন ওবামা ও রাউল। পরে সংবাদ সম্মেলনে গুয়ানতানামো বে কারাগার, কিউবার রাজনৈতিক বন্দিসহ মানবাধিকার ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।

গতকাল মঙ্গলবার তিন দিনের সফরের শেষ দিন গতকাল মঙ্গলবার ওবামার কিউবাবাসীর উদ্দেশে টেলিভিশনে সরাসরি ভাষণ দেওয়ার কথা। ভাষণ শেষে তাঁর দেশটির ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সূচি নির্ধারিত ছিল।

কিউবায় অনেক ভিন্নমতাবলম্বীদের কারাগারে আটক রাখা হয়েছে—এর প্রতিক্রিয়ায় রাউল বলেন, যদি তাঁকে তালিকা দেওয়া হয় তবে তিনি ‘আজ রাতের (সোমবার) মধ্যেই তাদের মুক্তি দেবেন।’

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভিন্নমতাবলম্বীদের তালিকা কিউবার কাছে আগেই দেওয়া হয়েছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার ওপর ৫৪ বছর ধরে আরোপ করে রাখা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। গুয়ানতানামো নৌ-ঘাঁটিও কিউবাকে ফেরত দিতে হবে। ওবামা নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে বলেন, সময়ের সঙ্গে তা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।

কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতির নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে রাউল যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যার দিকে আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার রক্ষা করি, আমাদের দৃষ্টিতে বেসামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার আলাদা করা যায় না, এগুলো পরস্পর নির্ভরশীল এবং বিশ্বব্যাপী তা সত্য।’

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সম-অধিকারে কিউবা শক্তিশালী রেকর্ডের অধিকারী দাবি করে রাউল যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ, পুলিশি সহিংসতা এবং গুয়ানতানামো কারাগারে বন্দিদের ওপর অকথ্য নির্যাতনের বিষয় তুলে ধরেন। খোলাখুলি আলোচনার জন্য রাউলের প্রশংসা করে ওবামা বলেন, মানবাধিকারের ইস্যুতে অগ্রগতি হলে তাঁদের সম্পর্কের ফুল ‘পূর্ণভাবে ফুটবে।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/deshe-deshe/2016/03/23/339149#sthash.BQbm3vWp.dpuf

ক্ষমতার ভারসাম্য, গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার উপলব্ধি

এপ্রিল ২০০৩। চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা তখন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। তখন তিনি ঢাকার শেরাটন হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কার সংবিধান দেশটির প্রেসিডেন্টকে এত বেশি ক্ষমতা দিয়েছে যে তিনি নারীকে পুরুষ এবং পুরুষকে নারীতে পরিণত করা ছাড়া সবই পারেন। তাঁর সেই শ্লেষাত্মক জবাব শুনে অনেকেই তখন হো হো করে হেসেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সে বক্তব্য খুবই তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করি।

বাংলাদেশের সংবিধানও কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই সবকিছু নির্ভর করে। অন্যদের কিছুই করার নেই। অন্যরা শুধু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক কাজ করেন। বর্তমান ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা নেই। স্রেফ একটি আলংকারিক পদ।

এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছিলেন, মৃত ব্যক্তির জানাজায় অংশ নেওয়া ও কোনো অনুষ্ঠানের ফিতা কাটা ছাড়া রাষ্ট্রপতির আর কোনো কাজ নেই। তিনি এ-ও বলেছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি পদটিকে অপরিহার্য করে তুলবেন। তবে সেটা করতে গিয়েই তিনি বেশ বিপদে পড়েন এবং একপর্যায়ে পদত্যাগ করতেও বাধ্য হন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হয়তো তখনো উপলব্ধি করতে পারেননি, রাষ্ট্রপতিকে কিছু ক্ষমতা দেওয়া দরকার। তিনি পূর্ণ মেয়াদে দুবার এবং অতি অল্প সময়ের জন্য একবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সব কিছুই চলত তাঁর নির্দেশ মোতাবেক। একচ্ছত্র সেই ক্ষমতার ভাগ রাষ্ট্রপতিকে দেওয়ার কথা চিন্তাও করেননি; বরং বি. চৌধুরী একটু নড়াচড়া করতে গিয়ে রীতিমতো বিপদে পড়েছিলেন। এখন খালেদা জিয়াই বলছেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতার শেয়ার দেবেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর কিছু ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকেও দেওয়া হবে।

এ কথা শুনে বেরসিক লোকেরা বলা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খালেদা জিয়া হয়তো রাষ্ট্রপতির আসনে বসবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তো ছিলেনই। এখন তাঁর লক্ষ্য রাষ্ট্রপতি হওয়া। আসলে দেশের অভিভাবক তো রাষ্ট্রপতিই। সে কারণে তিনি আগে থেকেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি যে ক্ষমতা উপভোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ক্ষমতাশূন্য হবেন; তা কী করে হয়! শুধু ফিতা কেটে তো আর দিন পার করা যায় না!

তবে এটা ঠিক, বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা দরকার। একচ্ছত্র ক্ষমতা অনেক সময়ই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েও অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীকে একনায়ক করে তুলতে পারে। তাতে গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হয়। সহনশীলতা ও সহমর্মিতার পরিবর্তে স্বেচ্ছাচারী রাজনীতির উদ্ভব ঘটায়। গণতন্ত্রের স্বার্থেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রস্তাব ইতিবাচক বলে মনে করি।

একই সঙ্গে বিএনপি আরেকটি ভালো প্রস্তাব দিয়েছে। ক্ষমতায় গেলে তারা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ করবে বলে অঙ্গীকার করেছে। একসময় জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রব দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের ব্যাপারে খুব সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্যকে তখন বলা হতো পাগলের প্রলাপ। সেই একই ধরনের প্রস্তাব এবার বড় একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হলো।

আমাদের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সংসদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সংবিধানও পরিবর্তন করতে পারে। সংগত কারণেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সংবিধানকে ওলটপালট করে দিতে পারে। এটা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সব সময়ই যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় অতি জনপ্রিয় দলও সংসদের বাইরে থাকতে পারে।

বর্তমান ব্যবস্থায় সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলের কোনো ভূমিকা নেই। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হলে সংসদের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো বিতর্কিত বিল পাস হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়। সংবিধানকে কথায় কথায় কাটাছেঁড়া করাও কঠিন হবে। জনবিরোধী বিল পাসের ক্ষেত্রেও চরম বাধার মুখে পড়বে ক্ষমতাসীনরা।

ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু রয়েছে। এর ফলে সংসদেও একটা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’-এর ব্যবস্থা আছে। এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র পরিশীলিত হয়। গণতন্ত্রের মুখোশ পরে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায়, তাহলে আটকাবে কে? একটা ব্যবস্থা তো রাখতে হবে!  আমরা মুখে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে ফেনা তুললেও করি তার উল্টোটা। প্রতিপক্ষকে যতভাবে ঘায়েল করা যায়, তা করতে একটুও দ্বিধা করি না। আবার দেশের গণতন্ত্রের কথা যত বেশি জোর দিয়ে বলি, দলের গণতন্ত্রের ব্যাপারে ততটাই নীরব থাকি। আর ব্যক্তির গণতন্ত্র, সে তো অনেক দূরের ব্যাপার! খুব কম মানুষই আছেন, যাঁরা অন্যের মতকে গুরুত্ব দেন। সবাই ‘আমি’তে বিশ্বাসী। আর সেই আমিত্বই মানুষকে স্বেচ্ছাচারী করে তোলে।

আজকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যে সংকট, সেটা মূলত স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিএনপি বলতে বাধ্য হচ্ছে, তারা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না। কারো ওপর জুলুম করবে না। তার মানে কী? অতীতে তারা যে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে, জোরজবরদস্তি করেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে না করার অঙ্গীকার করেছে। এটা একটা শুভ লক্ষণ বলে মনে করি।

এ ধরনের উপলব্ধি ক্ষমতাসীন দলেরও হওয়া দরকার। ‘ধরি-মারি-খাই’ নীতি বাদ দিয়ে তারা যদি কিছুটা গণতন্ত্রের চর্চা করে, প্রতিপক্ষকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়, তাহলে দেশের অনেক উপকার হবে। তারা যে প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্র চর্চা করছে, তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ভিন্নভাবে রচিত হবে। প্রতিপক্ষকেও রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। প্রতিপক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সেই দৃশ্য কি আমরা দেখতে পাব?

২.

বিএনপি নেত্রী মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ান। অথচ তাঁর দলে কোনো গণতন্ত্র নেই। এত বছর পর একটা কাউন্সিল হলো; তার কোনো কার্যকারিতা আমরা দেখলাম না। শুধু লোকদেখানো কাউন্সিল করার কী দরকার ছিল? তিনি এবং তাঁর ছেলে তারেক রহমান তো আগেভাগেই নিজেদের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এটা না করে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে কী এমন ক্ষতি হতো? খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পদে কে লড়তে যেত? কার ঘাড়ে কয়টা মাথা? অথচ তাঁরা কাউন্সিলের আগেই কাজ সেরে ফেলেছেন। হাস্যকর সব কাণ্ডকীর্তি।

এবার কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষমতা নাকি আরো বাড়ানো হয়েছে। কাউন্সিলে দল পুনর্গঠন কিংবা পদ-পদবি পুনর্বণ্টনের কোনো ঘোষণা আসেনি। সব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে। তিনি যা ভালো মনে করেন তা করবেন এবং তাই মেনে নেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি বাতিল ও পুনর্গঠনের ক্ষমতা খালেদা জিয়ার হাতেই ন্যস্ত করা হয়েছে। ঠিক যেন এরশাদীয় কায়দা। সব নিজের হাতে! তিনি নাকি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতিকে আরো বেশি ক্ষমতা দেবেন! তিনি নিজে রাষ্ট্রপতি হলে হয়তো নিজের ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে পারেন। সেটাই হয়তো বলতে চেয়েছেন।

তবে মুক্তিযুদ্ধ এবং জামায়াত ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান আরো পরিষ্কার করা দরকার ছিল। এ বিষয়ে তাঁদের অবস্থান যদি হয় ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’, তাহলে তা দেশের মানুষ ভালো চোখে দেখবে না। রাজনীতিতে নানা কৌশল করা যায়। কিন্তু জনগণের সঙ্গে ছলচাতুরী করা যায় না। তারা তা মেনে নেবে না। তা ছাড়া খালেদা জিয়া কেন জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালন করবেন? এ বিষয়েও তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করা দরকার ছিল। তিনি বলতে পারতেন, জাতীয় শোক দিবসে তিনি জন্মদিন পালন করা থেকে বিরত থাকবেন। তাহলে তিনি আপামর জনগোষ্ঠীর বাহ্বা পেতেন।

আমরা মনে করি, দেশের এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা দরকার। একই সঙ্গে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদও বর্তমান বাস্তবতায় খুবই প্রয়োজন। এ দুটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। শুধু আলোচনার জন্য আলোচনা নয়, কার্যকর সমঝোতাও হতে হবে। এটা সময়ের দাবি।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/sub-editorial/2016/03/23/339210#sthash.PkpJdFK1.dpuf

সামনে তাকিয়ে সাকিব

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ছাপিয়ে অধিনায়কের ভেজা চোখ আর বুজে আসা কণ্ঠই হয়ে ওঠে বড় ঘটনা। কিন্তু ভারতীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দেখে সেটি বোঝার উপায় কী! আবেগ এক পাশে সরিয়ে রেখে বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ তাঁর কণ্ঠে।

আগেই এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির ঘটনা পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার বিষয়টি কিভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নে অবশ্য আলাদা করে দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নেই তাঁর কথায়। যদিও তিনি দলের সহ-অধিনায়ক, যদিও এক দশক জাতীয় দলের জার্সিতে খেলা সিনিয়র ক্রিকেটার। তবু নিজ থেকে কিছু করার ইঙ্গিত নেই সাকিবের কথায়, ‘এখানে সবাই পরিণত। কাউকে অনুপ্রাণিত করার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। সবচেয়ে বড় উৎসাহের জায়গা, আপনি আপনার দেশের জন্য খেলছেন। আপনার মাঠে নামা মানে দেশের জন্য কিছু একটা করার সুযোগ। একজন খেলোয়াড় সেভাবেই চেষ্টা করবে।’

তাসকিনকে হারিয়ে অধিনায়ক মাশরাফি যে একেবারে ভেঙে পড়েছেন, সেটি তাঁর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেই বোঝা গেছে। সাকিব অবশ্য এ ক্ষেত্রে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার পক্ষে, ‘অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুজন মূল খেলোয়াড়কে হারানো হতাশাজনক। তবে এখানে কিছু করার নেই। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, মনোযোগ দিতে হবে কালকের ম্যাচে।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের মানসিক অবস্থা নিয়েও আলাদা কিছু বলতে চাননি সাকিব। বলেছেন কেবল নিজের কথাই, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। সবার মনে কী চলছে সেটা বোঝা কঠিন। এ বিষয়ে কিছু বলাও কঠিন। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।’

অধিনায়ক মাশরাফি সেদিন তাসকিনের পাশে দাঁড়ান তরুণ পেসারের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে। ‘অবিচার’-এর উল্লেখ করেন বারবার; সম্ভাব্য শাস্তির পরোয়া করেননি। সে কারণেই তো তিনি সবার অধিনায়ক হয়ে উঠতে পেরেছেন! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর মাত্র এক ওভার বোলিং করা নিয়ে অনেক কথা উঠছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও। সেই ছোটখাটো ভুলের কথা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচের পরই তো স্বীকার করে নেন মাশরাফি। তবু কাল সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে, সিদ্ধান্তগুলো অধিনায়ক সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেন কি না। সাকিবের উত্তর, ‘ভালো প্রশ্ন। সব সময় পরামর্শ করেই হয়। কিন্তু সিদ্ধান্তটা থাকে অধিনায়কের। কোনো দিন এটাতে সফল হয়, কখনো হয় না। ক্রিকেটে এটাই নিয়ম। যেদিন সফল হবে, সবাই ভালো বলবে। যেদিন হবে না, সবাই ভুল ধরা শুরু করবে।’

অধিনায়কের আসনটা এমনই কাঁটার সিংহাসন। সেটি বাইরে থেকে যেমন, দলের ভেতর থেকেও তেমনি। সাকিবের কথায় কি এর একটু আঁচ পাওয়া যায় না?

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/sports/2016/03/23/339243#sthash.3iFINQj6.dpuf

আত্মবিশ্বাসে একই পাল্লায় দুই দল

বাংলাদেশ দলের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা আগে। পরে ভারতের। কিন্তু আশীষ নেহরা আগেই তা করে ফেলেন। পরে সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে তাদের যে উপলব্ধি, তাতে মনে হতে পারে, যেন পরামর্শ করেই ঢুকেছেন। তাসকিন আহমেদের প্রশংসা থাকল সেখানে। এরপর তাসকিনবিহীন বোলিং লাইনের ভালো করার সম্ভাবনাও।

‘তাসকিনকে হারিয়েছে ওরা, কোনো সন্দেহ নেই ওদের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বোলার ছিল। কিন্তু মুস্তাফিজ কয়েক ম্যাচ খেলেনি সাইড স্ট্রেইন নিয়ে, ও ফিরে এসেছে। আল আমিন আছে, সাকিব আল হাসান তো দারুণ অলরাউন্ডার। বোলিং গভীরতা ওদের অনেক। আমার মনে হয় না দু-একজন বোলার না থাকায় ওদের বোলিং দুর্বল হয়েছে’, আগে বলে যান নেহরা। পরে সাকিবের কথায়ও তাঁর অনুরণন, ‘তাসকিন শেষ ছয় মাস কিংবা তার বেশি সময় ধরে আমাদের হয়ে ভালো বল করছিল। সে দলের মূল খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। তবে যা হয়েছে তার মানে এই না যে সব শেষ হয়ে গেছে। সে হয়তো সামনের কয়েক ম্যাচ খেলতে পারছে না। তবে আমি এখনো বিশ্বাস করি, যে দল আছে সে দল আগামীকালের ম্যাচে ভালো করতে পারবে।’

এমনিতেই টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতে পারে না বাংলাদেশ। এবার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে সেই দুর্নাম ঘোচানোর আবহ তৈরি হয়েছিল। ধর্মশালার বাছাই পর্ব উতরে আরো বেশি করে। কিন্তু মূল পর্বে এসে যে ওলটপালট সব। টানা দুই হারের কারণে শুধু নয়, অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে দুই বোলারকে হারানোর ধাক্কাও তো কম নয়! সাকিব অবশ্য এখনো আশা ছাড়ছেন না, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমরা কখনোই ভালো পারফরম্যান্স করিনি। এ ব্যাপারে অনেক দিন ধরেই কথা হয়ে আসছে। অবশ্যই এটা আমাদের সুযোগ কিছু প্রমাণ করার। দুটি ম্যাচ আমরা ভালো করতে পারিনি। চেষ্টা থাকবে পরের দুই ম্যাচে এমন কিছু করি যেটা মনে রাখার মতো হয়।’

সেই দুই ম্যাচের প্রথমটি আজ ভারতের বিপক্ষে। তাদের বিপক্ষে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলায় জোর দেন সহ-অধিনায়ক, ‘ভারত খুব ভালো দল। তারা শিরোপার জন্য এখানে খেলতে এসেছে। আমরা যা করছি সেটাতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের নিয়ম ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং-বোলিং করতে হবে।’ ভারতের পরিকল্পনায় আবার বড় একটি অংশজুড়ে নিশ্চিতভাবে থাকবে মুস্তাফিজুর রহমান। নেহরার দুই কূল উপচানো প্রশংসায়ও সেটি বোঝা যায়, ‘ঈশ্বর প্রদত্ত স্লোয়ার বল পেয়েছে মুস্তাফিজ। অ্যাকশন দারুণ। দারুণ সম্ভাবনাময় এক ক্রিকেটার, বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর অধিনায়ক মাশরাফি ‘ছোট ছোট ভুল’-এর কথা বলেছিলেন। সহ-অধিনায়ক সকিবও কাল জোর দেন সে জায়গায়, ‘আমরা খুব একটা যে ভুল করেছি, তা বলা যাবে না। ছোট ছোট কিছু ভুল হয়েছে। এগুলো ঠিক করতে পারলে ভালো দল হয়ে মাঠে খেলতে পারব। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমরা ১৭০-১৮০ রান করতে পারলে খেলাটা অন্য রকম হতে পারত। বোলিংটা ভালোই ছিল। ফিল্ডিংয়ে আমরা যে ধরনের অবস্থা করে আসছি এত দিন সেটা করতে পারিনি।’

আর সচরাচর যে আগ্রাসন বাংলাদেশের খেলায় দেখা যায়, সেটিও তো ছিল না সেদিন। এর পেছনে তাসকিনের জন্য আবেগের কোনো ভূমিকা দেখছেন না সাকিব, বরং শুরুতে সাফল্য না পাওয়ার কথাই বললেন, ‘আমরা আগে থেকে অনেক আগ্রাসী। আমাদের খেলার ধরনটা পরিবর্তন হয়েছে। আগে থেকে অনেক ইতিবাচক চিন্তা করছি আমরা। বেশির ভাগ ম্যাচেই আমরা শুরুতে সাফল্য পাই। গত ম্যাচে ৫-৬ ওভার আমরা উইকেট পাইনি। তাতেই হয়তো শরীরী ভাষায় একটু ভিন্ন হয়ে উঠেছিল।’ এই আগ্রাসী ক্রিকেটের মতো মানসিকতায়ও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি সাকিবের। কারণ হিসেবে দলে এখন পারফরমারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার উল্লেখ করেন তিনি, ‘শেষ তিন-চার বছরে মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। এখন  আমরা জানি কিভাবে ম্যাচ জিততে হয়। আগে হয়তো দু-তিনজন ম্যাচে ভালো খেলত। এখন পাঁচ-ছয়জন আছে, যারা প্রতিনিয়ত ভালো করে যাচ্ছে। বড় পরিবর্তন এখানেই। ঘরের মাঠে আমরা ভালো খেলেছি। সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে বলেই আমরা দেশের বাইরে ভালো খেলছি।’

দেশের বাইরে সেই ভালো খেলার প্রমাণই আজ ভারতের বিপক্ষে দেওয়ার দায় বাংলাদেশের।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/sports/2016/03/23/339242#sthash.7Avjh0nG.dpuf

পর্ন সিনেমার অফার পেলেন বিতর্কিত মডেল আরশি খান

পুনম পান্ডের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছিল, আরশি খানের ক্ষেত্রেও তাই হল। আইপিএলে কেকেআর-এর জয়ের শর্তে নগ্ন হওয়ার কথা বলে বলিউডে ব্রেক থ্রু পেয়েছিলেন পুনম পান্ডে। আর এবার ইডেনে বিশ্বকাপে ভারত- পাকিস্তান ম্যাচে নগ্নতায় বাজি ধরা আরশি খানের কাছে বলিউডে পা রাখার সুযোগ এল। আরশির দাবি, তাঁর কাছে দুটো বলিউড সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছে। দুটোই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ছবি। তবে কারা তাঁকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন, তিনি রাজি হলেন কি না সেসব কিছু জানাতে রাজি হননি আরশি।

দীর্ঘদিন ধরেই মডেলিংয়ের সঙ্গে জড়িত আরশি। তিনি আফ্রিদির শয্যাসঙ্গিনী গার্লফ্রেন্ড দাবি করে খবরে এসেছিলেন। তারপর দিন যত গড়িয়েছে নিজের বিস্ফোরক দাবিতে তত মশলা দিয়েছেন আরশি। শেষ অবধি ইডেনে টি২০ বিশ্বকাপে ভারত জিতলে খোলা পিঠে ছবি আপলোড করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাস্তবেও করে দেখিয়েছেন। আরশির সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। শেষ অবধি সস্তার প্রচারে লাভই হল তাঁর। সূত্র: কলকাতা

– See more at: http://www.kalerkantho.com/online/entertainment/2016/03/22/339068#sthash.KmdNjWyY.dpuf

অভিনেত্রী ঈশানার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রযোজক অভিনেতা মারুফ খান প্রেমের দায়ের করা মানহানির মামলায় মডেল-অভিনেত্রী মৌনিতা খান ঈশানার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহের নিগার সূচনা এ পরোয়ানা জারি করে।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি উত্তরার নীলাঞ্জনা শুটিং স্পটে মেগা ধারাবাহিক ‘সহযাত্রী’ নাটকের শুটিংয়ের সময় ঈশানা বাদীর অনুপস্থিতে তাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে নিজের ফেসবুকেও প্রেমকে নিয়ে একটি মানহানিকর স্ট্যাটাস দেন তিনি। এতে বাদির মানহানি হয়েছে বলে মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি মানহানির অভিযোগে ঢাকার সিএমএম আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন প্রেম। ওইদিন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঈশানাকে ২২ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। মঙ্গলবার ঈশানা আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। আগামী ২৭ জুন পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/online/entertainment/2016/03/22/339062#sthash.58ym2aSE.dpuf

কিউবার ভাগ্য অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না

হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ঠিক ৪টা ২৯ মিনিটে বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করল এয়ারফোর্স ওয়ানের চাকা। চূড়ান্ত পরিণতি পেল কমিউনিস্ট রাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পথচলা।
এক রানওয়ে-বিশিষ্ট এই বিমানবন্দরেই গত শতকের ষাটের দশকে বোমা ফেলেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সেখানে থাকা রুশ নির্মিত জরাজীর্ণ উড়োজাহাজগুলো এবং মান্ধাতার আমলের টার্মিনাল কিউবার ওপরে গত ৫০ বছরের মার্কিন অবরোধের প্রভাবের সাক্ষ্য দিচ্ছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ছাতা মাথায় যখন সপরিবারে উড়োজাহাজের সিঁড়ি বেয়ে নামলেন, তখন তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনাই পেলেন। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এগিয়ে গিয়ে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ও ওবামা দম্পতির দুই মেয়ের হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া।
তিন দিনের এই ঐতিহাসিক সফরের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। হাভানায় প্যালেস অব দ্য রেভল্যুশনে বৈঠকে ওবামা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দিনের সূচনার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে কিউবার বিভিন্ন বিষয়ে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের নানা হস্তক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘কিউবার ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ নির্ধারণ করবে না।’
রাউল তাঁর দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ‘অবরোধের’ প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এটা তুলে নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে, যা চলতে দেওয়া যায় না। সেই সব বিষয় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে, যা আমাদের আরও কাছাকাছি আনবে।’
রাউলের সঙ্গে বৈঠকের আগে গতকাল স্পেনের বিরুদ্ধে কিউবার স্বাধীনতাসংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী বীর হোসে মার্তির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ওবামা। হাভানার কেন্দ্রে মার্তির ভাস্কর্যের পাদদেশে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ওবামার এই সফরে প্রধানত দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ অবহেলিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিবিড় করার ওপর আলোকপাত করা হবে। পাশাপাশি ওবামা কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থানও জানান দেবেন।
রোববার হাভানায় পৌঁছানোর পর ওবামা প্রথমেই যান মার্কিন দূতাবাসে। কিউবায় ওবামার পা রাখার আগে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল এই দূতাবাস পুনরায় খুলে দেওয়া। দূতাবাসে পৌঁছে তিনি এর কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখানে আসতে পারার বিষয়টি চমৎকার এক অভিজ্ঞতা। এটা একটি ঐতিহাসিক সফর, একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
৮৮ বছরের মধ্যে ওবামাই প্রথম ব্যক্তি, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে আসীন থাকা অবস্থায় কিউবায় গেলেন। দূতাবাসের কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যেও সেটি উল্লেখ করতে ভুললেন না তিনি। বললেন, এর আগে ১৯২৮ সালে প্রথমে ট্রেনে; তারপর যুদ্ধজাহাজে চড়ে কিউবা এসেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ। সময় লেগেছিল তিন দিন। আর এখন তিনি এলেন এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে। সময় লাগল মাত্র তিন ঘণ্টা। পরে ওবামা হাভানা শহরের পুরোনো এলাকা পরিদর্শনে বের হন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিশেল, দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়া এবং শাশুড়ি মারিয়ান রবিনসন। মৌসুমি ঝড়-বৃষ্টির কারণে তখনো তাঁদের মাথার ওপর ছাতা ধরে চলতে হয়। এরপরে যান কিউবার জাতীয় ক্যাথেড্রাল ও স্থানীয় একটি জাদুঘরে। এ সময় এক কিউবান চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘অবরোধ নিপাত যাক’। প্রেসিডেন্ট ওবামা ইতিবাচকভাবে হাত নেড়ে তাতে সায় দেন। যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ৫৪ বছরের এই বাণিজ্যিক অবরোধই এখন সবচেয়ে বড় বিষফোড়া।
সফরের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার কিউবার রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই সফরে যে গুটি কয়েক ইস্যু আলোচিত হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম এটি। হোয়াইট হাউস আগেই জানিয়ে দিয়েছে, কিউবা পছন্দ করুক বা না করুক, ওবামা এই বৈঠক করবেনই।
পর্দার অন্তরালে প্রায় দেড় বছর ধরে চলা সমঝোতার ফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে গত আগস্টে পাঁচ দশক পর আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু হয়। ওবামার এ সফরকে সেই সমঝোতার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যৌনপল্লি থেকে প্রতিবন্ধী তরুণী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লি থেকে এবার মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে (২০) গত রোববার রাতে উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ যৌনকর্মী মোমেনা বেগম (৩৫) ও স্থানীয় সোনাউল্লাহ ফকির পাড়ার নায়েব আলী শেখ (৪২) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে যৌনপল্লির যৌনকর্মী মোমেনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌনকাজ করানোর অপরাধে বাড়িওয়ালি ও তাঁর কথিত স্বামী নায়েব আলীকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া তরুণীর বরাত দিয়ে থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, যশোরের বেনাপোল পোর্ট এলাকার মানসিক প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে কাজ দেওয়ার কথা বলে তার দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল পোর্ট এলাকার ছোট আচড়া গ্রামের এক তরুণী (৩০) তাঁকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির কর্মী মোমেনার কাছে মাত্র ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করেন। মোমেনাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন তাঁরই কথিত স্বামী নায়েব আলী শেখ। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারেন রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এস এম শাহজালালকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ টি এম রফিক উদ্দিন অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।

সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দরপত্র ছাড়াই কাজ

কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়াই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের কাজ দেওয়া হলো যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইন এভিয়েশন সিকিউরিটি লিমিটেডকে। সরকার যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় হঠাৎ করে চাপের মুখে দ্রুত এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরে এ ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে এই ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের পক্ষে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নুরুল ইসলাম ও রেডলাইনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল মেসন এই চুক্তিতে সই করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক উপস্থিত ছিলেন। পরে বিমানমন্ত্রী চুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট ২০০৭ ও ২০০৯ সালে দুবার বাংলাদেশকে পণ্য পরিবহন স্থান, যাত্রী ও তাদের পণ্য তল্লাশি এবং বিমানবন্দরের কর্মরত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কী ধরনের নীতিমালা ও পদক্ষেপ নিতে হবে তা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছিল। অথচ ওই দুটি প্রতিবেদনকে সরকার বিবেচনায় নেয়নি। এমনকি যুক্তরাজ্য নিজেদের অর্থায়নে ২০০৬ ও ২০০৭ সালে বেবিচকের ৪০ জন জনবলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। তাদেরও বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত ওই লোকজন সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে যুক্তরাজ্য জানতে পারে, এদের বেশির ভাগই ঢাকার বাইরে বদলি হয়ে গেছেন চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সৈয়দপুরে। অথচ তাঁরা যে ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ বাংলাদেশের ওই তিন বিমানবন্দরে নেই।
সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় আগে থেকে ঠিকমতো কাজ না হওয়ার কারণেই আজকের এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তখন ছিলাম না, এ ব্যাপারে বলতে পারব না। আমি এসে গত বছর থেকে চেষ্টা করছি।’ কোনো রকম বাছবিচার না করে চাপের মুখে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের হাতে বিমানবন্দরের দায়িত্ব তুলে দিলেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে নয়, আমাদের যা করার দরকার ছিল তা আমরা করেছি।’
বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এটা মন্ত্রণালয় করেনি, প্রতিষ্ঠান বাছাই করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছে। অন্যরা প্রস্তাব দিতে পারেনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, যত দ্রুত সম্ভব অর্থাৎ ২০ মার্চের মধ্যে এটা চূড়ান্ত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে।’ মন্ত্রীর এ বক্তব্যের সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এত টাকার কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, না, এখানে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, এ ব্যাপারে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। তাদের অনুমোদন থাকলে দরপত্রের প্রয়োজন পড়ে না।
নিরাপত্তার ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে’ ঘাটতি থাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে যুক্তরাজ্য ৮ মার্চ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ চুক্তির ফলে এটা প্রত্যাহার হবে কি না, জানতে চাইলে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেটা বলতে পারব না। তবে তারা যেভাবে বলছে, আমরা সেভাবেই নিরাপত্তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন তারা নিশ্চয় সেটা বিবেচনায় নেবে।’
বিমানমন্ত্রী বলেন, চুক্তির আওতায় রেডলাইন চাইলে আজ থেকেই তারা কাজ করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটি তিনটি কাজ করবে। তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদারক, পরামর্শকের দায়িত্ব পালন এবং বিমানবন্দরে যেসব জনবল আছে তাদের পরিচালন ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করবে। তিনি জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরামর্শক সেবার জন্য দুই বছরে রেডলাইনকে ৭৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। ছয় মাস পরপর তাদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। পরামর্শক ও তত্ত্বাবধানের কাজে ১৫ জন এবং পরিচালনার কাজে (অপারেশন) ১৪ জন রেডলাইনের পক্ষে কাজ করবে।
তবে সাবেক বিমানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতার কারণে বিদেশি কোম্পানি এ কাজটি করছে। আমাদের যন্ত্রপাতি ছিল কিন্তু আমরা সেটা ব্যবহার করতে পারিনি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বমান বজায় রাখতে পারিনি, এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক।’
নিরাপত্তার ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে’ ঘাটতি থাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে যুক্তরাজ্য ৮ মার্চ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৩১ মার্চ দুই দেশের সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু না হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যুক্তরাজ্যগামী সরাসরি ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে এ কথা জানান। একই দিন যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ম্যাট্রিক ম্যাকলাউলিনও এসব বিষয়ে রাশেদ খান মেননের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পরে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েক দফা আলোচনার পর করণীয় সম্পর্কে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাজ্য সে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের একটিকে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ মার্চ ডেভিড ক্যামেরনকে চিঠির জবাব পাঠান। ওই চিঠিতে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড গত শুক্রবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে ফোন করে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

পেনাল্টি যখন রিয়ালের হাসি-কান্না!

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে ওই ডার্বির কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। নইলে জিনেদিন জিদান দায়িত্ব নেওয়ার পর বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ মানেই তো বড় জয়ের নিশ্চয়তা! কাল তাই সেভিয়ার সঙ্গে রিয়ালের ৪-০ গোলের জয়টা তেমন কোনো বিস্ময়ই নয়। তবে এই ম্যাচে পেনাল্টি যেমন রিয়ালকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছে, তেমনি অস্বস্তির কাটাও হয়ে থেকেছে।

আনন্দের উপলক্ষটাই এসেছে আগে। ৬ মিনিটে করিম বেনজেমার দুর্দান্ত এক ভলিতে এগিয়ে যায় রিয়াল। ২৭ মিনিটেই সেভিয়া পেনাল্টি পেলেও কেইলর নাভাসের কল্যাণে তা থেকে সমতায় ফিরতে পারেনি। নাভাস এর মধ্যেই গোলপোস্টের নিচে রিয়ালের বড় ভরসা, আর পেনাল্টি হলে তো কথাই নেই। গত কিছুদিনে সেই কাজে যেন তিনি দারুণ সিদ্ধহস্ত; তিনটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন এই মৌসুমেই। রিয়ালের হয়ে এক মৌসুমে তিনটি পেনাল্টি ঠেকানোর কীর্তি আছে শুধু ওই ইকার ক্যাসিয়াসেরই (২০০৮-০৯ মৌসুমে)।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অবশ্য কাল পেনাল্টির স্মৃতি মুছেই ফেলতে চাইবেন। ৫৮ মিনিটে স্পটকিক থেকে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নেওয়া পেনাল্টিটি চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। এই মৌসুমে পেনাল্টি যেন এক ধাঁধাঁয় পরিণত রোনালদোর জন্য, এর মধ্যেই তিনটি পেনাল্টি থেকে তিনি গোল করার সুযোগ নষ্ট করেছেন। রিয়ালের হয়ে এক মৌসুমে এর আগে কখনো এতগুলো পেনাল্টি রোনালদো নষ্ট করেননি।

রোনালদো অবশ্য সেই হতাশা ভুলেছেন ৬৪ মিনিটেই। ম্যাচে নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন, সেভিয়ার সঙ্গে লা লিগায় এটি ছিল ২০ তম। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটাই রোনালদোর সবচেয়ে বেশি গোল। ৬৬ মিনিটে ‘বিবিসির’ রাতটায় পূর্ণতা এনেছেন গ্যারেথ বেল, ম্যাচে নিজের প্রথম গোল করে। ৮৬ মিনিটে সেভিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন হেসে রদ্রিগেজ।

আগে বার্সেলোনা ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ড্র করায় রিয়াল-বার্সা ব্যবধান কমে এসেছে ১০ পয়েন্টে। তবে মৌসুমের যখন ৮ ম্যাচ বাকি, তখন এই ব্যবধানই অনেক বড়। শিরোপার বাতিঘরটা তাই রিয়ালের কাছে এখনো অনেক দূরেরই!