রোদেপোড়া দূর করতে সবজি

fg6

গরমকালে রোদে ত্বক পুড়বেই। সহজলভ্য সবজি দিয়ে এই পোড়া ত্বকের যত্ন করা যায় সহজেই।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে রোদেপোড়া ত্বকের যত্নে উপকারী কিছু সবজির ব্যবহার উল্লেখ করা হয়।

টমেটো: টমেটো নিয়ে তা ভালোভাবে মিহি পেস্ট করে পোড়াত্বকে সরাসরি লাগিয়ে নিতে হবে। পুরো শুকিয়ে গেলে এর উপরে আরেক পরত পেস্ট লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

টমেটোতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা ত্বকের কোষের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সাহায্য করে। এতে রোদের তাপের কারণে হওয়া লালচে ও পোড়াভাব দূর হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্যও করে।

অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা পাতার উপরের চামড়া পাতলাভাবে কেটে ভিতরের জেলের মতো অংশ বের করে নিতে হবে। এর সঙ্গে খানিকটা লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের সুরক্ষা পরত হিসেবে কাজ করে ঘৃতকুমারীর নির্যাস। তাছাড়া ত্বকের ক্ষতি পুষিয়ে ত্বকে আর্দ্রতা জোগায় ও কোমল রাখতে সাহায্য করে।

আলু: আলু এবং লেবুর রসের মিশ্রণ ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই দুটি মিশ্রণ ঘন পেস্টের মতো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর আক্রান্ত ত্বকে মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ত্বকের পোড়াভাব দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে দারুণ কার্যকর এই মিশ্রণ।

ছবির প্রতীকী মডেল: শারমিন রমা। ছবি: ই স্টুডিও এবং দীপ্ত।

‘আর্টিস্টের ভৌগোলিক সীমারেখা নেই’

5

শুক্রবার সারাদেশে মুক্তি পাচ্ছে সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘র্পূণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি দুই’ সিনেমাটি। সিনেমাতে শাকিব খানের বিপরীতে আবারও দেখা যাবে জয়া আহসানকে। নিজের নতুন সিনেমা, টালিগঞ্জ ও ঢাকায় ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বললেন এই অভিনেত্রী।

গ্লিটজ:‘র্পূণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি দুই’ সিনেমায় নতুন কোনো অবতারে আবির্ভূত হচ্ছেন?

জয়া আহসান: নতুন অবতারে বলে তো কথা নয়..কারন এটাতো ফরমেটেড সিনেমা। তবে সিনেমার গল্পটা মৌলিক, সেই জায়গাটা থেকে একটা নতুনত্ব আছে। ক্রিকেটার ও একজন মডেল…দুই গ্ল্যামার ওর্য়াল্ডের দুইজন মানুষের সর্ম্পক..তাদের মধ্যেকার সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা যাবে সিনেমাতে। কিন্তু সেখানে পেশাগতভাবে একেবারে নতুনভাবে আমাকে উপস্থাপন করছে কিংবা চরিত্রগতভাবে আমাকে নতুন কোনো অবতারে দেখাচ্ছে মোটেও তেমনটি নয়।

গ্লিটজ:‘র্পূণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’ সিনেমার সিকুয়ালে কাজ করলেন। সিকুয়ালে কাজ করার বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

জয়া আহসান: আলাদা করে কিছু বলার নেই। সিকুয়ালের বিষয়টা বলতে..আসলে সেই আগের শিল্পীরাই এই সিনেমায় রয়েছে। নতুন একটা গল্পে ডিজাইনটা আলাদা। সেই একই দল আমরা কাজ করেছি, গল্পের নামটিও একই রাখা হয়েছে।

গ্লিটজ: ‘র্পূণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী দুই’ সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে ঢাকাই সিনেমার এক প্রথম সারির নায়িকার সিনেমার সঙ্গে। সেক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে মনে করেন?

জয়া আহসান
: আসলে এখানে আমার ব্যক্তিগত ঝুঁকির জায়গার তুলনায় সিনেমার র্নিমাতা কিংবা সিনেমাটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। কারন সিনেমার দর্শক ভাগ হয়ে যায়। মন্দার বাজারে এই বিষয়টি নিয়ে দর্শক, সিনেমার প্রযোজক কিংবা র্নিমাতা বলতে পারবেন। কিন্তু আমার জায়গা থেকে আমি বলবো একসঙ্গে অনেকগুলো ভালো সিনেমা মুক্তি পাওয়া খুবই জরুরী। তাই আমি চাই আমাদের সাথে যে সিনেমাটা মুক্তি পাচ্ছে সেই সিনেমাটাও ব্যবসাসফল হোক। কারণ সেই সিনেমাটি ব্যবসাসফল হলে এবং প্রেক্ষাগৃহে বেশি দর্শক গেলে আমাদের সিনেমাতেও তার একটি প্রভাব পড়বে। আবার আমাদের সিনেমাটি বেশি দর্শক দেখতে গেলে ঐ সিনেমার ওপরও একটা প্রভাব পড়বে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় না, আমি কোনোভাবেই চাই না শুধুমাত্র আমার সিনেমাটি ব্যবসাসফল হোক। আমি চাই এই সময়ে যতগুলো সিনেমা রয়েছে, যেগুলোই মুক্তি পাবে সবগুলোই ব্যবসাসফল হোক। এবং দশর্কের প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার প্রবৃত্তিটা বাড়াতে হবে, সেটা আমার সিনেমা থেকেই হোক..বিষয়টাকে আমি খুবই পজিটিভলি দেখতে চাই।

গ্লিটজ
: আপনি বাংলাদেশের পাট চুকিয়ে ভারতেই থিতু হয়ে যাচ্ছেন বলে চারিদিকে গুঞ্জন রয়েছে। আসলেই কি তাই?

ছবি: তানজিল আহমেদ জনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ছবি: তানজিল আহমেদ জনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
জয়া আহসান: আমার জায়গা থেকে মোটেই বিষয়টি এমন নয়। আমার হাতে বতর্মানে ঢাকায় দুটো সিনেমার কাজ রয়েছে। ঢাকায় এই সিনেমাগুলোর কাজ শেষ করেই আমি আবার কলকাতা ফিরে যাবো। সেখানে আমার আরেকটা সিনেমার কাজ রয়েছে। আমার যখন যেখানে কাজ থাকে আমি সেখানেই কাজ করি। আমি কখনোই ওখানে ‘ফোকাসড’ নই, এবং ‘ফোকাসড’ হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

গ্লিটজ: তাহলে কি আমরা বলতে পারি, কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন আপনি?

জয়া আহসান: বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি..ঢাকা আমার নিজের শহর..বাংলা আমার মাতৃভাষা..এটা আমার দেশ। আমি কেন এই জায়গা ছেড়ে ওখানে গিয়ে কাজ করবো। সেখানে (টালিগঞ্জ) সম্মানের সাথে আমাকে শিল্পী হিসেবে ডেকে নিয়ে যায়, আমাকে সম্মান করে..মৌলিক শিল্পী হিসেবে মুল্যায়ন করে..যৌথ প্রযোজনার শিল্পী হিসেবে নয়। তারা নিজেদের থেকে আমাকে খুঁজে বের করে তাদের সাথে কাজ করিয়েছেন। অন্য শিল্পীদের ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে কি না আমার জানা নেই। আমার ক্ষেত্রে যেহেতু এমনটি হয়েছে সেক্ষেত্রে আমি তো সেটার মুল্য অবশ্যই দেবো..কেনো দেবো না। সেটা যদি ভারতের না হয়ে যদি চাইনিজ, হিব্রু, জাপানিজ কিংবা ইরানী ভাষার সিনেমাও করতে হয় এবং তারা যদি আমাকে ডাকে তাহলে আমি অবশ্যই অভিনয় করবো। আমি সেটা করতে আগ্রহী। কারন আমি বিশ্বাস করি আর্টিস্টের কোনো ভৌগলিক সীমারেখা থাকে না। একজন শিল্পীর শিকড় থাকে একটি জায়গায়। মানুষ তার নিজের দেশে সবচেয়ে ভালো কাজটি করে বলে আমার বিশ্বাস। আমি আমার নিজের দেশে নিজের ভাষায় আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজটি করবো, আমি সেই অপেক্ষাতেই আছি। কিন্তু একই সাথে অন্যান্য জায়গাতেও আমি নিজেকে এক্সপ্লোর করতে চাই। বিশ্বায়নের এই যুগে আমাকে ভালো কাজের জন্য প্রস্তাব দিলে আমি অবশ্যই সেই কাজ করবো। যে কাজ করে আমার শিল্পী সত্তা তৃপ্ত হবে আমার মূল কাজ হলো সেটাই। সেটা বাংলাদেশে কিংবা অন্য যে কোনো জায়গায় হতে পারে। তবে আমার বাংলাদেশে কাজ করে..আমার আনন্দের জায়গাটা অনেক বেশি।

গ্লিটজ: ঢাকাই সিনেমা এবং টালিগঞ্জ – কোথায় পেশাদারিত্ব বেশি বলে মনে করেন?

জয়া আহসান: কাজের ক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে বেশি প্রেম বাংলাদেশের প্রতি। কিন্তু পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে বলতে গেলে অবশ্যই কলকাতা। এটা কেবল আমি নই বরং আমাদের যেসব শিল্পী ও র্নিমাতারা বাইরে কাজ করেছেন তারাই এই কথা বলতে পারেন। এটা আমাদের একটি সীমাবদ্ধতা। আমাদের এখানে পেশাদারিত্বের জায়গা যদি বলি .. জুতো সেলাই থেকে চণ্ডিপাঠ পর্যন্ত সব কিছুই আমাদের র্নিমাতাদের করতে হয়। যেমন আমাদের এখানে এখনো কস্টিউম ডিপাটর্মেন্ট নাই যেমনটি ওখানে রয়েছে। ফলে এখানে সিনেমার কাজের সময়ে আমাকে আমার পোশাক নিয়ে সময় নষ্ট করতে হয়। অথচ এই সময়টা আমি অভিনয়ে দিতে পারলে তা আমার অভিনয়ের জন্য ভালো হতো। কিন্তু কলকাতায় আমাকে শুধুমাত্র মন দিয়ে অভিনয়টা নিয়েই ভাবতে হয়। সেখানে র্নিমাতা, ডিওপি, মেইকআপ আর্টিস্টসহ ইউনিটের প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কাজের ব্যাপারে সৎ। যেটা এখনো আমাদের এখানে অনুপস্থিত।

গ্লিটজ: ‘রাজকাহিনী’ সিনেমায় স্বল্প সময়ের উপস্থিতি আপনার ইমেজকে ক্ষুন্ন করেছে বলে মনে করেন কি?

ছবি: তানজিল আহমেদ জনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ছবি: তানজিল আহমেদ জনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
জয়া আহসান: সিনেমাটি মূলত ভারতের দেশভাগ নিয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বর্পূন সিনেমা। ‘রাজকাহিনী’ সিনেমায় আমার থেকে অনেক শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীরা মাত্র দুই লাইন পাঠ করার জন্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আমাকে যখন এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়, আমার দেশেরই সাথে মিলে যায় এমন কাছাকাছি চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমি কেন অভিনয় করবো না? সিনেমার দৃশ্য ধারণের পরে সম্পাদনার টেবিলে গিয়ে অনেক কিছুই বদলে যায়, যার দায়িত্ব র্নিমাতার, আমার নয়। সেক্ষেত্রে আমার কিছু করারও থাকে না..কিছু বলারও নেই। সিনেমার দৈর্ঘ্য বেশি হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক দৃশ্য কেটে ফেলতে হয়েছে। সেখানে আমার অভিনীত দৃশ্যও কেটে ফেলা হয়েছে। র্নিমাতা সিনেমাটি যেভাবে দেখাতে চায় দর্শক সেভাবেই দেখতে পারবে। ‘রাজকাহিনী’ সিনেমায় আমার চরিত্রটিতে আমি অভিনয় করেছি, কারণ এই চরিত্রটিতে অভিনয় করতে আমি গিয়েছি।

গ্লিটজ: ঢাকাই সিনেমা ও টালিগঞ্জের নায়িকাদের মধ্যে নিজেকে কোন কাতারে ফেলবেন?

জয়া আহসান:
র্শীষস্থানীয় নায়িকা নয় বরং আমি টেলিভিশনে অভিনয় করার সময় থেকেই বলেছি আমি ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। র্শীষস্থানীয় নায়িকা হয়ে আমি কোনো কিছুই বদলে ফেলতে পারবো না। আমি আমার জায়গা থেকে একটা নাড়া দিতে পারবো। সব সময় আমি মিনিংফুল জায়গায় কাজ করতে চাই। বাণিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রে অনেকটা জায়গা আমি নিজেকে যাচাই করতে চেয়েছি, সেখানে আমি সফল কি না অথবা সেই জায়গাটায় আমি কেমন করতে পারি। একজন অভিনেতা যেমনি নিজের ডাইমেনশন খোঁজেন তেমনি আমিও নিজের ডাইমেনশন খোঁজার চেষ্টা করেছি।

গ্লিটজ: এ সময়ের কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই..

জয়া আহসান:
সম্প্রতি কলকাতায় অরিন্দম শীলের ছবি ‘ঈগলের চোখ’-এর কাজ শেষ করলাম। এছাড়াও সেখানে ‘খাঁচা’ সিনেমার কাজও শেষ করেছি। এখন বাংলাদেশে নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমা নিয়ে চলছে ব্যস্ততা। ঢাকার কাজ শেষ হলেই আবার কলকাতায় কাজের জন্য পাড়ি জমাবো। সেখানে মনোজ মিশিগানের ‘আমি জয় চ্যাটার্জি’ ছবিতে অভিনয়ের কথা আছে।

রিয়াল মাদ্রিদের এমন হার!

rdf45

জিনেদিন জিদান বলছেন, রিয়ালের এই হার এল ক্লাসিকো জয়ের রেশ কাটিয়ে উঠতে না পারার ফল। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ভলফসবুর্গের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে যাওয়াটাকে বেশির ভাগ রিয়াল সমর্থকই ব্যাখ্যার ছকে আনতে পারছেন না। এটা কীভাবে সম্ভব?
অভিজ্ঞতা, খেলোয়াড়ি সামর্থ্য—সবকিছুতেই তো ভলফসবুর্গের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে জিনেদিন জিদানের দল। তারপরও এই হার! ইউরোপ-সেরা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ৩২ বার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে ২৬ বারই সফল রিয়াল মাদ্রিদ এখন শেষ আট থেকেই বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। টিকে থাকতে হলে ঘরের মাঠে ফিরতি ম্যাচে ভলফসবুর্গের বিপক্ষে জিততে হবে ৩ গোলের ব্যবধানে। সেটা সম্ভব কি না সময়ই বলবে। কিছুদিন আগেই বার্সেলোনার ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডে আঁচড় বসানো রিয়ালের জন্য ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব মনে করছেন অনেকেই। কিন্তু কাজটা খুব সহজ নয় বলেই যত শঙ্কা।
এই ম্যাচের আগে রিয়ালের সঙ্গী যদি ‘আত্মবিশ্বাস’ হয়, তাহলে ভলফসবুর্গের সঙ্গী ছিল শঙ্কা—বুন্দেসলিগার শেষ তিনটি ম্যাচে যে যে জয়ের দেখা পায়নি দলটি। কিন্তু এদিন মাঠে সবকিছুই হয়েছে উল্টো। শেষ পর্যন্ত রিয়ালের চোখে চোখ রেখেই দারুণ এই জয় তুলে নিয়েছে জার্মান ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরুটা ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ভলফসবুর্গের জালে বলও পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে ওটা গোল হয়নি। একটু পরে গ্যারেথ বেল পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেছিলেন, রেফারি সেটিও নাকচ করে দেন। বেলের সতীর্থ করিম বেনজেমাকে ‘খলনায়ক’ উপাধি দেওয়া যেতে পারে। ভলফসবুর্গের গোলরক্ষককে একা পেয়েও যে গোল করতে পারেননি।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে আসে ভলফসবুর্গের আঘাত। আন্দ্রে শুরলে বল নিয়ে রিয়ালের রক্ষণসীমায় ঢুকে পড়লে তাঁকে ফেলে দেন কাসেমিরো। পেনাল্টি থেকে সহজেই লক্ষ্যভেদ করলেন রিকার্ডো রদ্রিগেজ। এই পেনাল্টি গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের অপরাজিত থাকার স্বপ্নযাত্রায় ইতি ঘটে যায়।
ভলফসবুর্গ রিয়ালকে দ্বিতীয়বার আঘাত করতে খুব বেশি সময় নেয়নি। ডানপ্রান্ত থেকে ব্রুনো হেনরিকের পাস ধরে রিয়াল শিবিরকে স্তব্ধ করে দেন ম্যাক্সিমিলিয়ান আর্নল্ড।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বেশ এলোমেলো হয়ে পড়ে রিয়াল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেনজেমা চোট পেয়ে মাঠ ত্যাগ করলে তাদের আক্রমণের মাত্রা অনেকটাই কমে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময়টা কোনো দলই সেভাবে চোখ কাড়া কিছু করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে রোনালদোর একটি সুযোগ ব্যর্থ হয়ে গেলে রিয়ালের প্রত্যাশার শেষ দেউটিও নিভে যায়।
ম্যাচ শেষে দলের ওপর বিরক্তিই প্রকাশ করেছে রিয়াল কোচ জিদান, ‘খেলার প্রথম থেকেই খেলায় একাগ্রতা ও তীক্ষ্ণতার অভাব ছিল আমার দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে। এমনটা হলে যা হয়, সেটাই হয়েছে। আমরা শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছি।’
বার্সেলোনার বিপক্ষে ‘এল ক্লাসিকো’ জয়টা কোনো কাজে এল না দেখেই রাজ্যের আফসোস জিদানের, ‘আমরা বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচটি যেভাবে খেলেছি, আজকের ম্যাচটাও ঠিক সেভাবেই খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমার্ধের কিছু ভুল আমাদের ডুবিয়ে দিয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে আমাদের এল ক্লাসিকো জয়ের মোহাচ্ছন্নতাই আমাদের ক্ষতির কারণ হল।’ সূত্র: এএফপি।

স্যামির সঙ্গে একমত রিচার্ডস

dr5

ড্যারেন স্যামির সঙ্গে একমত ভিভ রিচার্ডস। ক্যারিবীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি তাঁদের পদত্যাগই দাবি করেছেন। বলেছেন, ‘স্যামি আর যা-ই করুক, বোর্ডের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনতে পারে না, সে মিথ্যাবাদী নয়।’
স্যামির প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে ভিভের। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের তোলা অভিযোগগুলো সম্পর্কে বোর্ড খুব শিগগির নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে বলে আশা তাঁর, ‘আমি এখন বোর্ডের জবাবের অপেক্ষায় আছি। আমি দেখতে চাই তারা কি বলে।’
বিশ্বকাপ জিতেই বোর্ডের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন স্যামি। এমন ক্ষোভ বেশ অনেক দিন ধরেই দানা বাঁধছিল তাদের মনে। সেটা তারা আর ভেতরে চেপে রাখেননি। সবাইকে জানানোর জন্য কি একটা উপলক্ষই না বেছে নিলেন! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চ, যেখানে জয়ীর আসনে তারাই। সেদিন, সেই মুহূর্তে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব তাদের কথা শুনতে একরকম বাধ্যই ছিল। ভিভ মনে করেন, স্যামি একদম সঠিক সময়ে ঠিক কাজটিই করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্যামির যা করা উচিত ছিল সেটাই সে করেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, স্যামি এটা বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিল। সবাই জানে স্যামি কী দারুণ একজন মানুষ। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম দিন থেকেই খুব চমৎকারভাবে সে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যে একজন প্রকৃত নেতা। সে দলের জন্যই এটা করেছে। আমি খুবই খুশি। অবশেষে পুষে রাখা এই যন্ত্রণাগুলো থেকে সে মুক্তি পেল।’
৫০ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দেওয়া ভিভ এখনকার সময়টাতে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের পুনর্জাগরণের ভালো সম্ভাবনাই দেখছেন। অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সাফল্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছেলে-মেয়ে দুইয়েরই শিরোপা জয়—ক্যারিবীয় ক্রিকেটে একটা ভিন্ন রকমের জোয়ার নিয়ে এসেছে। এখনই সময় তাদের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করার। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলেরই তৎপর হওয়া খুবই জরুরি।
ইতিমধ্যেই অবশ্য বোর্ডের টনক নড়েছে। বোর্ড থেকে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে দর্শক-সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বোর্ডের প্রধান ডেস্ক ক্যামেরন। আরও জানানো হয়েছে, যেসব বিষয়ে সমস্যার কথা বলা হয়েছে, বোর্ডপ্রধান তা গুরুত্বের সঙ্গে সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন।

বৈশাখ আয়োজন

2-5

মায়াসির
বর্ষবরণে নতুন কাজের পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউস মায়াসির। শাড়ির সংগ্রহে থাকছে শিফন, অ্যান্ডি সিল্ক ও মসলিন। এ ছাড়া শিশুদের জন্য পাঞ্জাবি, কামিজ, টপ, থ্রিপিসসহ নানা ধরনের পোশাকে করা হয়েছে এমব্রয়ডারি ও নকশি কাঁথার কাজ। উজ্জ্বল রং থাকছে পোশাকে।

ডুয়েটঅ্যাড ঐতিহ্যডুয়েটঅ্যাড ঐতিহ্য
বাংলা নতুন সনকে বরণ করে নিতে ফ্যাশন হাউস ডুয়েটঅ্যাড ঐতিহ্য নিয়ে এসেছে নতুন নকশার পঞ্চাশটির বেশি টি-শার্ট। ছেলে, মেয়ে ও শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা নকশা। ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেট ও মেট্রো শপিংমলে পাওয়া যাবে এসব পোশাক।

নিপুণনিপুণ
নানা রং দিয়ে বৈশাখের পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউস নিপুণ। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি থাকছে শিশু ও কিশোরদের সংগ্রহ। গরমের কথা মাথায় রেখে ব্যবহার করা হয়েছে আরামদায়ক কাপড়। পাওয়া যাবে নিপুণের সব শাখায়।

চেঞ্জ
ফ্যাশন হাউস চেঞ্জ বৈশাখে এনেছে লোকজ মোটিফের নকশা করা টি-শার্ট। আলপনা, ঢোল, তবলা, দোতরাসহ নানা ধরনের ছবি থাকছে টি-শার্টের বুকে।

ফড়িং

ফ্যাশন হাউস ফড়িং সেজেছে উৎসবের সাজে। অ্যাপ্লিক, ব্লক, হাতের কাজ, স্প্রে, টাইডাইসহ নানা ধরনের নকশা থাকছে বিভিন্ন পোশাকে।

সেইলরসেইলর
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস সেইলর পোশাকে বিভিন্ন বিষয় ধরে কাজ করেছে। কুর্তায় থাকছে লোকজ শিল্প, আলপনা ও ফুলেল মোটিফ। পোশাকে দেওয়া হয়েছে ফটো প্রিন্ট, ডিপ ডায়িং, ব্রাশ পেইন্টসহ নানা কাজের ছোঁয়া।

গ্রামীণ ইউনিক্লোগ্রামীণ ইউনিক্লো
নববর্ষের পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউস গ্রামীণ ইউনিক্লো। ছেলে ও মেয়েদের কামিজ, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট ইত্যাদি পোশাকে থাকছে বৈশাখের রং ও নকশা।

চুড়ি ফিতা গামছা…

zeddz

বৈশাখ মানেই অনেক রঙের খেলা। রঙিন বৈশাখকে আরেকটু রঙিন করে তোলে নানা রকমের অনুষঙ্গ। সেটি হতে পারে পোশাকের, হতে পারে সাজের। অনেকে তো ছবি ভালো করার জন্যও জোগাড় করে রাখেন ফুলের ব্যান্ড, গামছা বা পাখা। নিজেকে দেখতে একটু ভিন্ন লাগল। আবার ছবিটাও সুন্দর হলো।
ব্যাগ
পয়লা বৈশাখের সকালেই বেরিয়ে পড়েন অনেকে। ফলে খুব ভারী ব্যাগ না নেওয়াই ভালো। বটুয়া ধরনের ব্যাগ নিতে পারেন। আবার ক্লাচ ব্যবহার করা যেতে পারে। কম বয়সী মেয়েরা আজকাল একটু ঝোলানো ছোট আকারের ব্যাগ ব্যবহার করছে। সেদিনও তা নিতে পারেন। তবে পানির বোতল, ছাতা নেওয়া যায় কি না, তা খেয়াল করবেন আগেই। আর মেকআপ ঠিকঠাক রাখার জন্য কমপ্যাক্ট লিপস্টিক নিতে পারেন সেই ব্যাগে।
অনেকের মধ্যে একটু আলাদা কিছু করতে চাইলে পোশাকের কাপড়ের সঙ্গে মিলিয়ে গামছা দিয়েও তৈরি করতে পারেন ব্যাগ। পাটের তৈরি নকশা করা ব্যাগ, হাতের কাজ করা ব্যবহারের চলও আছে। বিডস, কুন্দনের ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
গরম থেকে রেহাই পেতে নানা রকমের পাখা পাওয়া যায়। মেলা থেকে কিনতে পারেন। আবার আগে কিনেও ব্যাগে রেখে দিতে পারেন। তালপাতার পাখার চারপাশে কাপড় দিয়ে কুঁচি দিলে বেশি ভালো দেখাবে। সেসব পাখা অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করে ছবি তুলে ফেসবুকে দিলে লাইক একটু বেশিই পড়তে পারে।
টিপ, চুড়ি, ফিতা.
‘ভালে সিন্দুরের টিপ, নয়নে কাজল/রক্তাম্বর পট্টবাস, সোনার আঁচল/শুধাইল দর্পণেরে-কহো সত্য করি/ধরাতলে সবচেয়ে কে আজি সুন্দরী’-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বিম্ববতী’ কবিতায় লিখেছিলেন এমন কথা। তখন আয়নার সামনে কপালে টিপ, চোখে কাজল দিয়ে নিজের মধ্যেই হয়তো মুগ্ধতা এসে পড়ত। পয়লা বৈশাখের সাজগোজ টিপ, চুড়ি, ফিতা না হলে যেন পরিপূর্ণ হয় না। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কাচের চুড়ি পরেন মেয়েরা। অনেকে মেলায় গিয়ে চুড়িওয়ালির কাছ থেকে হাতভর্তি করে কাচের চুড়ি কেনেন; চুড়ি ভেঙে হাত কেটে যাওয়ার ভয়ে কাঠ, মাটি বা তামার চুড়ি পরেন।
কম বয়সী মেয়েরা বেণিতে ফিতা দিয়ে নানা রকম নকশা করতে পারে। ফিতা দিয়ে মাথার দুই পাশে দুই বেণি বা বেণি করে খোঁপাও করা যায়। এবার গুঁজে দাও তাজা ফুল। নান্দনিক নকশার চুলের কাঁটা ব্যবহার করলেও ভালো দেখাবে।
যাঁরা টিপ পরেন না, পয়লা বৈশাখে তাঁদের টিপ পরতে দেখা যায়। একটা সময়ে কুমকুম দিয়ে কপালে টিপ আঁকতেন মেয়েরা। এখন বাজারে ভিন্ন রকমের নকশা করা টিপ পাওয়া যায়। ছোট টিপ, বড় টিপ যেকোনো ধরনের টিপ আরও অনন্য করে তুলবে আপনাকে।
শরৎচন্দ্রের অরক্ষণীয়া উপন্যাসেও মাধুরীর চওড়া লালপেড়ে শাড়ি, পিঠের এলো চুল, কপালে টিপের সাজে তাঁকে স্বর্ণপ্রতিমার মতো লাগছিল। চোখের পলক পড়ে না এমন অবস্থা। বোঝাই যাচ্ছে, আবহমান কাল ধরে এই সাধারণ বিষয়গুলো কবি-সাহিত্যিকের গল্প-উপন্যাসেও উঠে এসেছে।
পয়লা বৈশাখে সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে মুখচিত্র স্থান পেয়েছে। দেশীয় মোটিফ, যেমন: প্যাঁচা, ঢাক, ঢোল, একতারা, তবলা, পালকি, কলস, পাখা আঁকেন মুখে। রং-তুলির ছোঁয়া দিয়ে কেউ কেউ শুধু বাংলায় লিখে নেন ‘পয়লা বৈশাখ’। ব্যস, ঘুরতে ঘুরতে এটিও আনন্দ দেয় ছোট-বড় সবাইকে।.
ফুলের ব্যান্ড, ব্যান্ডানা ও গামছা
দুই-তিন বছর ধরে নানা রকম ফুল দিয়ে বানানো গোল ব্যান্ডের চল দেখা যাচ্ছে পয়লা বৈশাখে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারীরা এটি পছন্দ করছেন। একজন আরেকজনকে তাজা ফুলের ব্যান্ড পরিয়ে দিচ্ছেন। ঢাকার শাহবাগের ফুল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পয়লা বৈশাখের দিনে খুব চাহিদা থাকে ব্যান্ডের। অনেকে ফুল পছন্দ করে দিয়ে ব্যান্ড বানিয়ে দিতে বলেন। .
কম বয়সী ছেলেরা বেছে নেয় ব্যান্ডানা। পয়লা বৈশাখের দিনে ফেরি করে কিছু ব্যান্ডানা বিক্রি করতে দেখা যায়। সেখান থেকেও কেনেন তরুণেরা। রুমালকেও ব্যান্ডানার মতো করে ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে চাইলে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন ব্যান্ডানা।
তরুণদের একটা বড় অংশ বৈশাখের প্রথম দিনে মাথা ও কোমরে গামছা পরে। সাধারণত ওই দিন আবহাওয়া গরম থাকে। ‘গা মোছা’ থেকে গামছা শব্দটি এলেও ঘাম মুছতে বেশি ব্যবহার করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াসাত সারা বছর গামছা ব্যবহার করেন না, শুধু পয়লা বৈশাখের দিন পাঞ্জাবির সঙ্গে বেছে নেন ছোট গামছা। ‘আগেই গামছা কিনে ধুয়ে রাখি। নরম হয় তাহলে। গলায় ঝুলিয়ে রাখি। মাথায়ও ব্যান্ডানার মতো করে বাঁধি। বেশ একটা ভাব আসে। আমরা আটজন বন্ধু সবাই গামছা পরি সেদিন।’ বলেন রিয়াসাত।
স্যান্ডেল
দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে হয় বৈশাখের প্রথম দিনে। তাই পায়ের স্যান্ডেল বা জুতার দিকে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে। একেবারে নতুন স্যান্ডেল না পরাই ভালো-মনে করেন ডিজাইনার মাহিন খান। এতে পায়ে ফোসকা পড়তে পারে। যদি নতুন পোশাকের সঙ্গে নতুন স্যান্ডেল পরতে চান, তাহলে বাড়িতে কয়েক দিন আগে পরে হাঁটাচলা করতে হবে। মেয়েদের খুব উঁচু স্যান্ডেল না পরে পাম্প শু বা ফ্ল্যাট কিছু পরাই ভালো। একান্তই পরতে হলে ছোট হিলের স্যান্ডেল পরতে পারেন। পায়ে আরাম না থাকলে ঘোরাটাই বৃথা হয়ে যাবে। কোলাপুরি, পাথরের কারুকাজ করা স্যান্ডেল বেশ চলছে।
ছেলেরা জুতাও পরতে পারেন। আবার স্যান্ডেল শুও বেছে নিতে পারেন। যাঁরা স্লিপার পরে অভ্যস্ত, তাঁদের তা-ই পরা উচিত। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এমন কিছু পরবেন না। জিনস বা চুড়িদারের সঙ্গে নাগড়া বেশ ভালো মানায়।
*পয়লা বৈশাখ নিয়ে আরও নানা আয়োজন নিয়ে প্রথম আলোর বিশেষ ম্যাগাজিন ‘বর্ণিল বৈশাখ’ এখন বাজারে। বিস্তারিত পড়তে আপনার কপিটি সংগ্রহ করুন।
বিষয়:
স্টাইল বর্ণিল বৈশাখ ১৪২৩

সব পোশাকেই বর্ষবরণ

5rsd

পাঞ্জাবি তো বৈশাখেরই। তাই বলে এদিন কি অন্য পোশাক পরতে মানা? বৈশাখের নকশা তো আর শুধু পাঞ্জাবির গায়েই লেগে নেই। তা এখন ছড়িয়ে গেছে টি-শার্ট, ফতুয়া বা শার্টের মতো পোশাকেও। বিশেষ করে তরুণদের কথা ভেবেই ভিন্ন ভিন্ন পোশাকে বৈশাখের নকশা আঁকছেন ডিজাইনাররা। কী নেই এসব নকশায়। এবার প্রায় প্রতিটি ফ্যাশন হাউস ছেলেদের পোশাকের নকশা করেছে কোনো না কোনো বিশেষ থিম ধরে। সেখানে যেমন শখের হাঁড়ির রং লেগেছে পাঞ্জাবির জমিনে; তেমনি টি-শার্টের বুকের ওপরে বসেছে গোমড়া মুখের প্যাঁচা বা লোকজ মেলার রমরমা বাজার। লাল-সাদার একটা বড় সমন্বয় তো আছেই, সেখানে যোগ হয়েছে আরও কয়েকটি উজ্জ্বল রং। বিশেষ করে নীল রঙের তৈরি পোশাক এনেছে অনেক ফ্যাশন হাউস। পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়ায় ব্যবহার হচ্ছে পিওর নীল রং। কখনো তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে লাল-সাদা বুটি, ব্লক ইত্যাদি। ছেলেদের পোশাকের রং নিয়ে ব্যাঙের প্রধান ডিজাইনার সায়েম হাসানও জানালেন একই তথ্য, বৈশাখে এবার নীল রঙের একটা প্রচলন দেখা যাচ্ছে ছেলেদের পোশাকে। লাল আর সাদা রঙের আবেদন বৈশাখে চিরন্তন। এই দুটি রঙেই আসল রূপ ফুটে ওঠে। তবে এ বছর নীল, কমলা, কচি সবুজের মতো রংগুলো থাকছে বাঙালির একান্ত উৎসবে।

রং নিয়ে তো একটা ধারণা পাওয়া গেল, কিন্তু পোশাকের ধরন হবে কী? পাঞ্জাবি পরে সারা দিন অনেকেই ঘোরাফেরা করতে স্বস্তি পান না। এ ছাড়া মুঠোফোন বা মানিব্যাগ রাখা নিয়েও বিপত্তি দেখা দেয়। আবার এটাও ঠিক যে সারা দিনে একবার পাঞ্জাবি না পরলেও ঠিক মন ভরে না অনেকের। বিশেষ করে কোনো দাওয়াতে বা বৈশাখের সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এরও একটা সমাধান দেখা গেল অনেক ফ্যাশন হাউসের পাঞ্জাবিতে। নতুন পাঞ্জাবির দুই দিকে থাকা পকেটের মধ্যে আলাদা একটা কাপড়ের চেম্বার করে মুঠোফোন বা মানিব্যাগ সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা থাকছে। পাঞ্জাবিকে বৈশাখের রঙে রাঙাতে ব্যবহৃত হচ্ছে নানা ধরনের মোটিফ।
লাল, সাদা বা নীল—একরঙা পাঞ্জাবি তো থাকছেই, বৈশাখ ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার হচ্ছে লোকজ মোটিফ। গ্রামীণ বাংলাদেশের ছোট ছোট নানা দিক উঠে আসছে ছেলেদের পোশাকে। টেপা পুতুল, শখের হাঁড়ি, সরা, নৌকা, ধানখেত, তালগাছ, মাছ, প্যাঁচা, কবিতার পঙ্‌ক্তি দিয়ে করা হচ্ছে ছেলেদের পোশাকের নকশা। পাঞ্জাবি, ফতুয়া বা টি-শার্টের এই ট্রেন্ড নিয়ে ফ্যাশন হাউস দেশালের ডিজাইনার ইশরাত জাহান বলেন, নানা ধরনের ফোক মোটিফ থাকছে বৈশাখের পোশাকে। দেশাল এসব ফোক মোটিফকে আবার খানিকটা নিজেদের মতো করে সংযোজন করে নকশা করছে বৈশাখের কাপড়ে। পাখি, নানা ধরনের মাছ ও প্যাঁচার আদলে বানানো হচ্ছে পাঞ্জাবি, ফতুয়ার মতো পোশাকগুলো।
অনেকেই বৈশাখে শখ করে ফতুয়া পরেন। ডিজাইনারদের পরামর্শ সেটা ফুলহাতা না পরে হাফ বা হাতাকাটা হতে পারে। ফতুয়ার সঙ্গে চাইলে একটা লুঙ্গি পরে মিশে যেতে পারেন মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এতে শোভাযাত্রারও শোভা বাড়বে। ফিটিং ও লম্বা ঝুল দুই ধরনের ফতুয়াই চলবে বৈশাখে। এক রঙের স্ক্রিন প্রিন্ট করা বা নানা ধরনের গ্রামীণ চেকের সুতি ফতুয়াই ভালো দেখাবে পয়লা বৈশাখে। আর পাঞ্জাবির কাটে চলছে স্লিমফিট। ফ্যাশন হাউস ওটুর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার জাফর ইকবাল বলেন, ছেলেদের পাঞ্জাবির ঝুল খানিকটা কমে হাঁটুর একটু নিচে এসেছে। ঢিলেঢালা ভাব ছেড়ে এসব পাঞ্জাবিতে স্লিমফিট কাট জনপ্রিয় তরুণদের কাছে। কলার, বোতাম, পকেট বা বুকের সামনে বাটন প্লেটে ছোট ছোট পরিবর্তন পাঞ্জাবির চেহারা বদলে দিচ্ছে। ফতুয়ার চেয়ে একটু বড় ও নিচের দিকে খানিকটা গোলাকার কাটের পোশাক কাতুয়াও পরতে পারেন ছেলেরা। থ্রি-কোয়ার্টার হাতার এই নতুন পোশাকটাও বৈশাখের রং পেয়ে হয়ে উঠেছে বর্ণিল।
গত বছরের শেষ দিক থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়া শার্টের প্রিন্ট এবার বৈশাখের টি-শার্টেও দেখা যাচ্ছে। কলকা প্রিন্ট, ডট প্রিন্ট, আবহমান বাংলার আলোকচিত্রসহ নানা ধরনের প্রিন্ট করা হচ্ছে টি-শার্টে। বিশেষ করে তরুণদের কথা মাথায় রেখেই নকশা করা হচ্ছে টি-শার্ট। ফ্যাশন হাউস নিত্য উপহারের স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান বলেন, আলোকচিত্র দিয়ে টি-শার্ট করার চল বাড়ছে। তরুণেরাও পছন্দ করছেন। এ ছাড়া লোকজ মোটিফ বা আঁকা চিত্রকর্ম দিয়ে করা টি-শার্ট বৈশাখে দিব্যি মানিয়ে যাবে। এই সময়ের আবহাওয়া যেহেতু গরম, তাই পাতলা কাপড় বেছে নিতে হবে পোশাকে। পোলো বা গোল গলা—যে টি-শার্টই হোক, বৈশাখের রং বেছে নিলেই ভালো দেখাবে।
পাঞ্জাবি, শার্ট বা টি-শার্ট—যেটাই হোক, সেটা সুতি কাপড়ের হলেই ভালো বলে মনে করেন ডিজাইনাররা। আর তাই অধিকাংশ দোকানেই সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করা হয়েছে। কাপড়কে পাতলা ও আরামদায়ক করতে সফটনার ওয়াশ বা সিলিকন ওয়াশ করা হচ্ছে।

দরদাম
এক বা দুই রঙের সাদামাটা পাঞ্জাবি হলে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা, ব্লক বা প্রিন্টের কাজ করা পাঞ্জাবির দাম পড়বে ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা, ভারী কাজ হলে দাম আরও হাজার খানেক বাড়াতে হবে। ফতুয়ার দাম পড়বে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাতুয়া হলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি। টি-শার্ট হলে ২৮০ থেকে ৬০০ টাকা, পোলো শার্ট পাওয়া যাবে ৪০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। এ ছাড়া শার্ট কিনতে চাইলে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মতো খরচ হবে।

যেখানে কিনতে পারেন
রাজধানীর নিউমার্কেটে গেলে ফ্যাশন হাউসের মতো ট্রেন্ডি পোশাক না খুঁজে রং ধরে কিনে আনতে পারবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের মধ্যে আড়ং, যাত্রা, ক্যাটস আই, ওটু, লা রিভ, দেশী দশের সব ফ্যাশন হাউস, বিশ্বরঙ, স্টুডিও এমদাদ, কুমুদিনী, ইয়েলো, স্মার্টেক্স, স্বদেশীর সব ব্র্যান্ডে, ইজি, মনসুন রেইন, আর্টিস্টি, লুবনান, ফ্রিল্যান্ড, এক্সট্যাসি, ইনফিনিটি, কাপড় ই বাংলা, নিত্য উপহার, আজিজ সুপার মার্কেটের বিভিন্ন দোকান, প্লাস পয়েন্ট, সেইলর, ট্রেন্ডসসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। এ ছাড়া এলিফ্যান্ট রোড, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, স্বপ্ন, রাপা প্লাজা, কারুপল্লীসহ বিভিন্ন সুপারশপে মিলবে বৈশাখের পোশাক।

*পয়লা বৈশাখ নিয়ে আরও নানা আয়োজন নিয়ে প্রথম আলোর বিশেষ ম্যাগাজিন ‘বর্ণিল বৈশাখ’ এখন বাজারে। আপনার কপিটি সংগ্রহ করতে হকারকে বলুন।

কিশোর ত্বকে

hyfct

কৈশোরে পড়াশোনার চাপ থাকে প্রচুর। বয়স কম থাকে বলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও তেমন মনোযোগ দেওয়া হয় না অনেকের। অনেকে মনে করেন, এত কম বয়সে আবার রূপচর্চা! তবে একটু যত্ন নিলে কিশোরীর ত্বক থাকবে কোমল ও ব্রণমুক্ত৷ কিশোর বয়সেও প্রকৃতির হাওয়া বুঝে ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন রূপবিশেষজ্ঞরা। বয়ঃসন্ধিতে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে শারীরিক অনেক পরিবর্তন আসে৷ ১৩-১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মুখে ব্রণ ওঠা খুব পরিচিত একটি সমস্যা। ত্বকের যত্নের সঠিক নিয়ম না জানলে, অথবা এই সময়ে বড়দের নিয়ম অনুসরণ করতে গেলেই বাধতে পারে বিপত্তি। মিউনিস ব্রাইডালের স্বত্বাধিকারী তানজিমা শারমিন বলেন, এই বয়সী ছেলেমেয়েদের সুন্দর ও সুস্থ থাকার জন্য খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। ভালো থাকার জন্য খুব সাধারণ ও প্রচলিত কিছু নিয়ম অনুসরণ করলেই এ সময় ওরা ত্বক ও চুলের সুস্থতা ধরে রাখতে পারবে। এই বয়সটাতে পড়াশোনার বাড়তি একটা চাপ থাকে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। আর শীতকালে পানিও বেশি খেতে চায় না। ত্বক এভাবে পানিশূন্য ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে৷
কিশোর-কিশোরীদের ত্বক ও চুলে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞরা—
* ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে এসেই মুখ, হাত, পা কুসুম গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
* এই বয়সী ছেলেদের ত্বক বড়দের মতো পরিপক্ব নয়৷ তাই কিশোরদের বড় ছেলেদের বা মেনজ ফেসওয়াশ ব্যবহার করা ঠিক নয়। তার বদলে মাইল্ড বা মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বক শুষ্ক করে দেয় এমন কোনো সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যাবে না।
* ত্বক পরিষ্কার করার জন্য আঙুরের রস, শসার রস ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে।
* মুখ ধোয়ার পর ভেজা ভাব থাকতেই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। ত্বকে যদি ব্রণের সমস্যা খুব বেশি থাকে, তাহলে ওয়াটার বেজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
* এই বয়সে হোয়াইট হেডস, ব্ল্যাক হেডসের সমস্যাও অনেকের বেড়ে যায়। বাজারের স্ক্রাবের চেয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করলেই ভালো।
* চালের গুঁড়া, দুধ বা টক দই, পেস্তা বাদাম, মসুর ডাল অল্প পরিমাণে নিয়ে তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ মুখে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ব্ল্যাক হেডস ও ত্বকের মৃত কোষ দূর হবে।
* নিম পাতা, তুলসী পাতা এবং অ্যালোভেরা সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে ব্রণের সমস্যা দূর হবে, ত্বক হবে মসৃণ।
* শীতে খুশকির সমস্যা অনেক বেড়ে যায়, চুলের খুশকি চোখ ও ত্বকে লাগলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেথি, মেহেদি পাতা, টক দই ও লেবুর রস ভালো মতো মিশিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি দুই থেকে তিনবার ব্যবহারেই খুশকি কমে আসার কথা।
* হাত-পায়ে লোশন ব্যবহার করতে হবে, আর ত্বক বেশি শুষ্ক হলে এই ঋতুতে লোশনেও কাজ না দিতে পারে। তখন জলপাই তেল ত্বক কোমল করবে।
বিষয়:
রূপচর্চা

কোহলি-আনুশকার নৈশভোজ!

vbtyty

বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মার সম্পর্কটি আর আগের মতো নেই। গণমাধ্যমের কল্যাণে তাঁদের বিচ্ছেদের খবর এখন কমবেশি সবারই জানা হয়ে গেছে। কিন্তু আজও একজনের নাম নিলে কোনো না কোনোভাবে আরেকজনের নাম চলেই আসে। এখনো মাঠে বিরাটের খারাপ খেলার দায় ভক্তরা আনুশকার ওপরেই চাপান। অবশ্য সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে এমন টিটকারির প্রতিবাদ করতেও দেরি করেননি কোহলি। তাঁদের ‘ব্রেক আপ’ নিয়ে যখন এত আলোচনা, ঠিক তখনই ঘটল আরেক ঘটনা।
গতকাল বুধবার রাতে আনুশকা ও বিরাট—এই দুজনকে একসঙ্গে একটি রেস্তোরাঁ থেকে বের হতে দেখা গেছে। তাহলে কি নিজেদের মধ্যে সবকিছু মিটমাট করে ফেলেছেন দুজনে? এ বিষয়ে অবশ্য এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে ভক্তরাও তো আর গোয়েন্দাগিরিতে কম যান না। গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে আনুশকা শর্মাকে নিজের টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম থেকে আনফলো করে দিয়েছেন বিরাট। যদিও আনুশকা এখনো টুইটারে বিরাটকে ফলো করে যাচ্ছেন। আর এসবের কোনো কিছুই ভক্তদের চোখ এড়ায়নি। তার ওপর দুজনের নৈশভোজের বিষয়টা এখন কোহলি-আনুশকা আলোচনায় নতুন মোড় নিয়েছে।
২০১৩ সালে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের সুবাদে আনুশকার সঙ্গে বিরাট কোহলির ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। এ বছরের শুরুর দিকে দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে—অন্তত বলিউডের সংবাদমাধ্যমগুলো তেমন খবরই প্রকাশ করেছে। এনডিটিভি।
বিষয়
বলিউড

দিনে পঞ্চাশ সেলফি তোলেন রণবীর!

qw3

বলিউডের অভিনেতা রণবীর সিং ক্যামেরার সামনে থাকতে খুব ভালোবাসেন। ‘ক্যামেরাবান্ধব’ এই তারকা কেবল পর্দায় নয়, বাস্তবেও নিজের ফোনের ক্যামেরাটিকে খুব ভালোবাসেন। ‘সেলফিপাগল’ রণবীর দিনে নিদেনপক্ষে ৫০টি সেলফি তোলেন! সম্প্রতি নিজের সম্পর্কে এ কথা জানিয়েছেন এই ‘বাজিরাও মাস্তানি’ তারকা।

সেলফি ছাড়া ক্রিকেটের প্রতিও রণবীর সিংয়ের ব্যাপক নেশা। ৮ এপ্রিল আইপিএলের নবম আসরের পর্দা উঠতে যাচ্ছে। সেখানে মঞ্চ পরিবেশনায় অংশ নেবেন রণবীর। এই নিয়েও তিনি এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত।
আইপিএলে কোন দলকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এই ‘লুটেরা’ অভিনেতা বলেন, ‘আমি মুম্বাইয়ের ছেলে। তো স্বাভাবিকভাবে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকেই সমর্থন করব।’
রণবীর আরও জানিয়েছেন, বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি তাঁর পছন্দের ক্রিকেট তারকা। ডেইলি ভাস্কর।

দারাজ বৈশাখী মেলা ১৪২৩

cc

পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ উপলক্ষ্যে সানসিল্ক ও দারাজ ডটকম মিলিতভাবে আয়োজন করেছে ‘দারাজ বৈশাখী মেলা ১৪২৩’।

ই-কমার্স সাইট দারাজ ডটকমে এই অনলাইন মেলা চলবে ৮ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। মেলা উপলক্ষ্যে এই সাইটের নির্দিষ্ট পণ্যে মিলবে ৩৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

রাজধানীর গুলশানে এক নম্বরে অবস্থিত স্পেক্ট্রা কনভেশন হলে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার ঘোষনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দারাজ ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেঞ্জামিন দু ফোউসিয়ে এবং ইউনিলিভার বাংলোদেশের ব্র্যান্ড বিল্ডিং ডিরেক্টর জাভেদ আখতার। অনুষ্ঠানে ছাড়ের পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্য বাড়তি কিছু উপহারের আশ্বাস দেওয়া হয়।

দিব্যা ভারতী: উল্কার মতো জীবন

cdry

মাত্র ছয় বছরের অভিনয়জীবন। মৃত্যু হয়েছিল উনিশ বছর বয়সে। দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা না খুন ? তার মৃত্যুকে ঘিরে এমন অনেক প্রশ্ন তাড়িত করেছে তার ভক্তদের। তিনি দিব্যা ভারতী।

দিব্যা ভারতীর জন্ম মুম্বাইতে ১৯৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বাবা ওম প্রকাশ ভারতী এবং মা মিতা ভারতীর সন্তান দিব্যা ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন । প্রায়ই স্কুলের পড়া বাদ দিয়ে হিন্দি ছবির নাচ অনুশীলন করতেন। ছাত্রী হিসেবেও ছিলেন মাঝারি মানের। নবম শ্রেণিতে উঠে তিনি অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন।

দিব্যা ভারতী অনেকগুলো হিন্দি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান। তিনি নাচ শিখতে থাকেন। কয়েকটি ছবির কাজ শুরুও করেন। কিন্তু তার বয়স কম হওয়ায় অভিনয়ে পরিপক্কতা ছিল না। এজন্য দুয়েকটি ছবি থেকে বাদ পড়ে যান। রূপালি পর্দায় তার অভিষেক ঘটে তেলেগু ছবির মাধ্যমে। তেলেগু ছবির খ্যাতিমান প্রযোজক ডি রামানাইড়ু ‘ববিলি রাজা’ –সিনেমায় নিজের ছেলের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে তাকে সুযোগ দেন। ১৯৯০ সালে ‘ববিলি রাজা’ মুক্তি পায়। সুপার ডুপার হিট এ ছবির দৌলতে রাতারাতি তারকা বনে যান দিব্যা। পর পর বেশ কয়েকটি তেলেগু ছবিতে নায়িকা হন তিনি। প্রতিটি ছবিই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়। ফলে তেলেগু ছবির জগতে সুন্দরী দিব্যা ভারতী জনপ্রিয় তারকা হয়ে ওঠেন। তার তামিল ছবি ‘নিলা পেননে’ সাফল্য না পেলেও তেলেগু চলচ্চিত্রে তার দাপট বাড়তে থাকে। এমনকি তেলেগু সিনেমার মহাতারকা বিজয়া শান্তির সঙ্গে তুলনা করা হতে থাকে তার।

এবার বলিউডের নামকরা পরিচালকদের নজরে পড়েন তিনি। বলিউডে দিব্যার অভিষেক ঘটে রাজিব রাই পরিচালিত ‘বিশ্বাত্মা’ ছবির মাধ্যমে। সানি দেওলের বিপরীতে ছবিটি ব্যবসাসফল হয়। বিশেষ করে ছবির গানগুলো জনপ্রিয়তা পায়। ‘সাত সামুন্দার পার’ গানের সঙ্গে তার অভিনয় তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। সব সিনে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে দিব্যার অনিন্দ্য সুন্দর চেহারা ঠাঁই পেতে শুরু করে। পরবর্তী ছবি ‘দিল কা ক্যায়া কাসুর’ হিট না হলেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। এ ছবির গানগুলোও জনপ্রিয়তা পায়। ‘গা রাহা হু ইস মাহফিলমে’ গানটিতে দিব্যার অভিব্যক্তি ছিল অনবদ্য।

১৯৯২ সালে ডেভিড ধাওয়ানের পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘শোলা অউর শবনম’। গোবিন্দর বিপরীতে এই ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে দারুণ সফল হয়। এ ছবিতে সাঁতারের পোশাকে আবির্ভূত হয়ে সাড়া ফেলে দেন দেন দিব্যা। দর্শকের হৃদয়ে রাজত্ব করতে শুরু করেন তিনি।

এরপর মুক্তি পায় রাজ কানওয়ার পরিচালিত ‘দিওয়ানা’। ছবিটিতে ঋষি কাপুর ও নবাগত শাখরুখ খানের বিপরীতে দিব্যা ছিলেন অনবদ্য। শাহরুখ ও দিব্যা এর আগেই অবশ্য হেমা মালিনী পরিচালিত ‘দিল আশনা হ্যায়’তে অভিনয় করেছিলেন। তবে ছবিটি মুক্তি পায় ‘দিওয়ানা’র পরে। ‘দিল আশানা হ্যায়’তে মূলত নায়িকা ছিলেন ডিম্পল কাপাডিয়া, সোনু ওয়ালিয়া এবং অমৃতা সিং। আর ‘দিওয়ানা’তে দিব্যাই একক নায়িকা এবং ছবির কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৯২ সালের সেরা হিট ছবি ছিল ‘দিওয়ানা’। এ ছবির ‘তেরা নাম রাখ দিয়া’সহ সবগুলো গান ছিল সুপারহিট। সিনেমায় দিব্যার চমক জাগানো নিষ্পাপ সৌন্দর্য তাকে হিন্দি ছবির অন্যতম সেরা সুন্দরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। এ ছবিতে তার অভিনয়ও ছিল প্রশংসাযোগ্য। এই ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে ফিল্মফেয়ার আসরে দিব্যা ও শাহরুখ দুজনে লাক্স ফেইস অফ দ্যা ইয়ার পুরস্কার জয় করেন। ১৯৯২ সালে আরো মুক্তি পায় গোবিন্দর বিপরীতে ‘জান সে পেয়ারা’, অবিনাশ ওয়াধাওয়ানের বিপরীতে ‘গীত’, আরমান কোহলির বিপরীতে ‘দুশমন জমানা’ এবং নবাগত সুনীল শেঠির বিপরীতে ‘বলবান’। সবগুলো ছবিই ছিল ব্যবসাসফল। হিন্দি ছবিতে ব্যস্ততা সত্ত্বেও তেলেগু ছবিতে কাজ চালিযে যাচ্ছিলেন দিব্যা। সে বছর তার অভিনীত তেলেগু ছবি ‘চিত্তামা মগোদু’ দারুণ ব্যবসাসফল হয়। সিনেমায় তার নায়ক ছিলেন মোহন বাবু।

দিব্যা ভারতী অভিনীত ‘ক্ষত্রিয়’ মুক্তি পায় তার শোচনীয় মৃত্যুর মাত্র দশদিন আগে। ছবিতে আরো ছিলেন সানি দেওল, সঞ্জয় দত্ত এবং রাভিনা ট্যান্ডন। ছবিটি ছিল ব্যবসাসফল।

দিব্যার মৃত্যুর পর মুক্তি পায় তেলেগু ছবি ‘থোলি মুডধু’ এবং হিন্দি ‘রং’ ও ‘শতরঞ্জ’। সবগুলো ছবি সুপারহিট হয়। আরো অনেকগুলো ছবিতে তার অভিনয় করার কথা ছিল বা কিছুটা কাজ করেছিলেন। সেই ছবিগুলোতে পরে তার পরিবর্তে অন্য নায়িকাদের নেওয়া হয়। ‘লাডলা’, ‘মোহরা’, ‘কর্তব্য’, ‘বিজয়পথ’ প্রতিটি হিট ছবিতেই নায়িকা হওয়ার কথা ছিল দিব্যা ভারতীর।

‘শোলা আউর শবনম’ ছবির সেটে দিব্যার সঙ্গে পরিচয় হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার। পরিচয় খুব দ্রুতই প্রেমে গড়ায়। ১৯৯২ সালের ১০ মে তারা বিয়ে করেন। বিয়ে হয় ইসলামি রীতিতে। দিব্যা ভারতী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নাম হয় সানাহ নাদিয়াদওয়ালা।

১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত পৌনে বারোটার দিকে মুম্বাইয়ের ভারসোভায় পাঁচতলা ভবন তুলসীতে নিজের ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যান দিব্যা। গাড়ি পার্কিং- এ মাটির উপর আছড়ে পড়ে তার দেহ।

সে সময় দিব্যার ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন তার বান্ধবী ফ্যাশন ডিজাইনার নিতা লুল্লা ও তার স্বামী। তবে তারা তখন লিভিং রুমে বসে টিভি দেখছিলেন। তাদের পেছনে লিভিং রুমের বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে দিব্যা পড়ে যান।

দিব্যার পড়ার শব্দে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত দিব্যা ভারতীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ আসে। মুম্বাইয়ের কুপার হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দিব্যা ভারতী। শরীরের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু তার পড়ে যাওয়ার কারণ অস্পষ্টই থেকে যায়। এটিকে নিছক দূর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারেননি তার ভক্তরা। শাশুড়ি ও স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বেশ টানাপড়েন চলছিল। তিনি সেজন্য আত্মহত্যা করেন একথা অনেকের মুখে শোনা যায়। আবার সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে মুম্বাই ও দুবাইয়ের আন্ডার ওয়ার্ল্ডের লোকজনের যোগাযোগ ছিল বলে তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যু বলে তার মৃত্যুর তদন্ত বন্ধ করে।

দিব্যা ভারতীর মৃত্যু হয়েছে ২৩ বছর আগে। বলিউডের আকাশে উল্কার মতো ক্ষণস্থায়ী কিন্তু উজ্জল ছিল তার অভিনয়জীবন।

মাত্র উনিশ বছরের জীবনে তিনি পেয়েছিলেন নাম, খ্যাতি, অর্থ সবই। আর পেয়েছিলেন ভক্তদের অপরিসীম ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাই এই অকালমৃত সুন্দরী অভিনেত্রীকে অমর করে রেখেছে।

হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ পেলেন প্রিয়াঙ্কা

gl

অস্কারের লাল গালিচায় দ্যুতি ছড়ানোর পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে নৈশভোজ সারা সুযোগ পেলেন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

কদিন বাদেই পিসিকে দেখা যাবে ওবামার সঙ্গে সেলফি তুলতে। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনা সত্যি। এ বছরের হোয়াইট হাউস করেস্পন্ডেন্ট ডিনারে দাওয়াত পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ব্র্যাডলি কুপার, জেইন ফন্ডা, লুসি লিউর মতো হলিউড মহারথীদের সঙ্গে এবার মার্কিন রাষ্ট্রপতির বাসভবনে পা রাখবেন প্রিয়াঙ্কা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে করা বার্ষিক গালা অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।

এ বছরের হোয়াইট হাউস করেস্পন্ডেন্ট ডিনার হতে যাচ্ছে ওবামার আমলের শেষ ডিনার, এতে সঞ্চালক হিসেবে থাকবেন ‘দ্য নাইটলি শো’র উপস্থাপক ল্যারি উইলমোর।

প্রত্যেক বছর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ডিনারের আয়োজন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল তহবিল সংগ্রহ, যা ব্যবহার করা হয় সাংবাদিকতা বৃত্তির জন্য এবং এই পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি প্রদানের কাজে।

প্রেসিডেন্ট এবং ফার্স্ট লেডির সঙ্গে এই ডিনারে অংশ নিয়ে থাকেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মেসি-রোনালদোর সঙ্গে কোহলিরাও

c vuy

ব্যাটিং রেকর্ডে শচীন টেন্ডুলকারের ধারেকাছে পৌঁছাতে অনেক দূর যেতে হবে বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাকে। তবে টুইটারে ভক্তসংখ্যায় পূর্বসূরিকে ছাড়িয়ে গেছেন কোহলি। খুব একটা পিছিয়ে নেই রোহিতও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের আধিপত্যকে ছড়িয়ে দিতে এবার দুজনই নাম লিখিয়েছেন ‘আন্সক্রিপ্ট’ ওয়েবসাইটে।
এর আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, জেরার্ড পিকে কিংবা আন্দ্রে আগাসির মতো বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড়েরা নিজেদের ভিডিও প্রকাশ করেছেন এই সাইটে। নিজের ‘অন্দরমহল’ নিয়ে রোনালদোর ভিডিও তো তিন কোটি বারেরও বেশি দেখা হয়েছে। বিশ্বসেরা অ্যাথলেটদের নিজস্ব ভিডিও প্রচার করার এই সাইটে ভারতীয় তারকারাও আছেন। কোহলি তাঁর ভিডিওতে জানিয়েছেন ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত পাওয়া সেরা উপদেশের কথা। আর রোহিত কথা বলেছেন নিজের ‘আইডল’ টেন্ডুলকারকে নিয়ে।
দুজনের এই দুই ভিডিও প্রথম দুই দিনেই নয় লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। দেখা যাক, মেসি-রোনালদোদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেন কি না ক্রিকেটের দুই তারকা! টাইমস অব ইন্ডিয়া
বিষয়:
খেলা

মুস্তাফিজের আইপিএল-যাত্রা

yay

অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্স তো ভালোই হলো। এমন গুছিয়ে কথা বলেন, জানা ছিল না’—প্রশংসা শুনে মৃদু হাসলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে মুখের অভিব্যক্তি যেন বলছিল, ‘এ আর এমন কী’! বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি পেসার পরশু রাতে এসেছিলেন এবিসি রেডিওর ‘সেন্টার ফ্রেশ ম্যাজিক অব মুস্তাফিজ’ অনুষ্ঠানে। সংবাদমাধ্যমের সামনে বরাবর লাজুক থাকলেও সেখানে কিন্তু ভালোই ‘কথার জাদু’ দেখালেন কাটার-মাস্টার!
ছুটি কাটিয়ে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় ফিরেছেন ৩ এপ্রিল। দিনের বেলায় ভারতীয় দূতাবাসে দৌড়াদৌড়ি, নিজের গোছগাছ, রাতে রেডিও অনুষ্ঠান—বেশ ব্যস্ততায়ই কেটেছে পরশুর দিনটা। আর কাল বিকেলে তো ভারতেই চলে গেলেন। সামনে আইপিএল-অভিযান, খেলবেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএল খেলতে কাল ভারতে গেছেন সাকিব আল হাসানও।
ভারতের জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এই প্রথম খেলতে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে তাঁকে নিয়েছে হায়দরাবাদ। আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালের পর আইপিএলে মুস্তাফিজ ষষ্ঠ বাংলাদেশি খেলোয়াড়। রোমাঞ্চটা স্পষ্ট তাঁর কণ্ঠে, ‘এত বড় একটা টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, ভালো তো লাগছেই।’
বড় টুর্নামেন্ট, আশপাশে থাকবে না পরিচিত তেমন কেউ—একটু কি স্নায়ুচাপ অনুভব করছেন না? কাল বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে সাংবাদিকদের বললেন, ‘ভয় পাচ্ছি না। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন ভালো করতে পারি।’
আইপিএলে দল পাওয়ার পর কথা প্রসঙ্গে এর আগে একবার বলেছিলেন, হায়দরাবাদের চেয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলতে পারলেই বেশি ভালো হতো। কারণ দুটি—কলকাতায় খেলেন জাতীয় দলের সতীর্থ সাকিব আল হাসান। আরেকটি ভাষাগত সুবিধা। কাল ভারতে উড়াল দেওয়ার আগেও সেই আফসোসের পুনরাবৃত্তি করলেন, ‘সাকিব ভাইয়ের দলে খেলতে পারলে খুবই ভালো হতো। একসঙ্গে থাকতে পারতাম, খেলতে পারতাম…।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট মানেই বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির সম্মিলন, সারা বিশ্বের ক্রিকেট তারকাদের এক ছাদের নিচে আসা। বল হাতে বিধ্বংসী হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন মুস্তাফিজের সমস্যা হতে পারে এখানেই। জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজারও তাই ধারণা, ‘ও হিন্দি-ইংরেজিতে অতটা অভ্যস্ত নয়। খেলা নিয়ে সমস্যা না হলেও এটা একটা সমস্যা হলেও হতে পারে।’ তবে তাঁর আশা, ‘দলের সবাই নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করবে। তা ছাড়া মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে ও এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয়।’
মাশরাফি সব সময়ই বলেন, বাংলাদেশ দলের হয়ে ১০-১৫ বছর খেলবেন মুস্তাফিজ। আপাতত তাঁর চাওয়া একটাই, ‘সে খেলবে বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটায়। সব ম্যাচে খেলার সুযোগ পাবে কি না জানি না। পেলে সে-ই হবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।’
গত বছরের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আন্তর্জাতিক অভিষেক মুস্তাফিজের। তবে যে সংস্করণ দিয়ে তাঁর আগমন, সেটিতে সাফল্য পাচ্ছিলেন না বলার মতো। অভিষেক ম্যাচে পেয়েছিলেন ২ উইকেট। এরপর তো ওই ‘২’-এর চক্রেই আটকে গেলেন! পরের ১১টি-টোয়েন্টিতে আরও ছয়বার ২ উইকেট। অবশেষে ইডেন গার্ডেনে ভাঙলেন চক্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তুলে নিলেন ২২ রানে ৫ উইকেট। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই এটি সেরা বোলিং। মুস্তাফিজ বলছিলেন, ‘উইকেট যেমনই হোক না কেন, সেদিন আমার লক্ষ্য ছিল ভালো জায়গায় বল করা। সেটিই করেছি। বারবার বলি, উপরওয়ালা ভালো সময় দিয়েছেন। এই কারণে ৫ উইকেট পেয়েছি।’
চোটের কারণে বিশ্বকাপের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ড্রেসিংরুমে। মাঠে ফিরেই দেখালেন ‘জাদু’। ৩ ম্যাচে ৯ উইকেট, টুর্নামেন্টের সপ্তম সেরা বোলার। তবু আইসিসি ঘোষিত বিশ্বকাপের সেরা একাদশে মুস্তাফিজ কি না দ্বাদশ খেলোয়াড়! মুস্তাফিজ অবশ্য এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলতে রাজি হলেন না।
আইসিসির দলে না হলেও ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর একাদশে ঠিকই আছেন বাংলাদেশের বোলিং-বিস্ময়। শুধু কাগজে-কলমের দলে নয়, মুস্তাফিজ নিশ্চয়ই চাইবেন হায়দরাবাদের একাদশেও নিয়মিত হতে।
বিষয়:
খেলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট