বর–কনে প্রস্তুত তো?

bv cbj

বিয়ের অনুষ্ঠান তিন-চার দিনে শেষ হয়ে গেলেও এর প্রস্তুতি কিন্তু চলতে থাকে অনেক দিন থেকেই। বিয়ের মূল কেন্দ্রে থাকেন বর-কনে, তাই তাঁদের প্রস্তুতি নেওয়ার একটা ব্যাপার থাকে। বিয়ের দিনটিতে সবাই চায় তাঁকে সুন্দর দেখাক। নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য তাই রূপচর্চার প্রস্তুতিও শুরু করে দেওয়া উচিত অনেক দিন আগে থেকেই।
রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় খুঁটিনাটি সব বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে বিয়ের কাজগুলো দায়িত্বশীল কয়েকজনের হাতে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে। মাথায় দুশ্চিন্তা থাকলে তার প্রভাব পড়বে চেহারাতেও। এ জন্য নিজের রূপচর্চা ও শারীরিক পরিচর্যার কাজটি বিয়ের কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু করে দেওয়া প্রয়োজন।
বর ও কনে কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা ও কাজী কামরুল ইসলাম।
কাজী কামরুল ইসলাম মনে করেন, নিজেদের সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিয়ের আগেই বর-কনেকে একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে রূপচর্চাবিষয়ক পরামর্শ নিতে হবে। ব্যস্ততার কারণে হয়তো দুই-এক মাস আগে থেকে সময় বের করে নিয়মিত রূপচর্চা করা সম্ভব নয়।
গায়েহলুদের অনুষ্ঠান দিয়েই সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি গায়েহলুদের এক বা দুই দিন আগে থেকেই শুরু করতে হবে। রাহিমা সুলতানাও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

চুল
বিয়ের একদম আগে বর বা কনের চুলের কাট বা রং নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়। কারণ চেহারার সঙ্গে তা মানিয়ে যাওয়ার একটি বিষয় আছে। তাই অন্তত সাত দিন আগে এই কাজগুলো সেরে ফেলা উচিত।

ওয়্যাক্স ও থ্রেডিং
হলুদের অনুষ্ঠানের আগে এগুলো শেষ করে ফেলতে হবে। তবে অনেকেরই দ্রুত লোম গজানোর প্রবণতা থাকে। তাই দরকার হলে অনুষ্ঠানের আগের দিন ওয়্যাক্স ও থ্রেডিংয়ের কাজ করা উচিত।
ছেলেদের কানের কাছের লোমও ওয়্যাক্স করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন কাজী কামরুল ইসলাম।

ফেশিয়াল
বিয়ের কয়েক দিনে মেয়েদের ত্বকের ওপরে মেকআপের বড় রকমের একটা ধকল যায়। তাই বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে নয় বরং পরেই ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে ফেিশয়াল করিয়ে নিতে হবে। গায়েহলুদের আগে ত্বক ভালোমতো পরিষ্কার করার জন্য ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস ওঠানোর জন্য একটি ফেস ক্লিনিং করানো যেতে পারে। অবশ্য ছেলেরা ফেশিয়ালের কাজটি হলুদের আগেই সেরে নিতে পারেন।

হেয়ার ট্রিটমেন্ট

এ ক্ষেত্রেও মেয়েরা অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ার পর হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিতে পারেন। ক্লান্তি দূর করার জন্য দুই দিন আগে একটি হট অয়েল ম্যাসাজ নেওয়া যেতে পারে। ছেলেরা হেয়ার ট্রিটমেন্ট বিয়ের আগে করিয়ে ফেললে সমস্যা নেই।

স্পা
বিয়ের আগের ক্লান্তি কাটাতে ফুল বডি স্পা করাতে পারেন। বর-কনে দুজনের জন্যই এটি প্রয়োজনীয়।

হাত ও পায়ের যত্ন

মেহেদি পরতে হবে বিয়ের ঠিক আগের রাতে। এর আগেই পেডিকিওর ম্যানিকিওর ও ওয়্যাক্সিং করে ফেলা ভালো।

পরিচ্ছন্নতা ও মেকআপ তোলা
কাজী কামরুল ইসলাম শরীর দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে এক মাস আগে থেকে রোজ এক বালতি পানিতে এক চামচ ফিটকিরি মিশিয়ে গোসল করার পরামর্শ দেন। দাঁতে স্কেলিংয়ের প্রয়োজন হলে তা বিয়ের ১৫ বা ৩০ দিন আগেই করিয়ে ফেলা উচিত।

অনুষ্ঠানের দিন

ঘুম থেকে উঠে ভালো করে গোসল করতে হবে অনুষ্ঠানের দিনটিতে। চুল শ্যাম্পু করে এরপর কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ভালোমতো শুকিয়ে নিন। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ত্বক শুষ্ক হলে কাঁচা হলুদ বা কোনো উপটান এদিন ব্যবহার করা উচিত হবে না, এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাবে।
চুলে জেল লাগালে তা পরদিন ভালোমতো ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যতই ক্লান্তি থাকুক, কনেরা যেন ঠিকমতো মেকআপ তুলতে ভুলে না যান। জলপাই তেল ও ক্লেনজার দিয়ে সম্পূর্ণ মেকআপ ভালোমতো তুলে ফেলতে হবে।
দিন শেষে চুলের ক্লিপ ও কাটা আস্তে আস্তে খুলে ফেলতে হবে, সেদিন চুলে আর কিছু করার দরকার নেই। পরদিন সকালে অনেক বেশি পরিমাণ তেল পুরো চুলে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর ভালোমতো শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগানোর পর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আস্তে আস্তে করে চুলের জট ছাড়াতে হবে। তাড়াহুড়া করে জট ছাড়ানোর চেষ্টা করলে চুল ছিঁড়ে যাবে।

খাওয়া ও ঘুম
বিয়ের আগে উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনায় পাত্রপাত্রীর ঘুম গায়েব হবে, তবে এটি মোটেও কোনো কাজের কথা নয়। বিয়ের আগে নির্ভার থাকতে হবে। দুশ্চিন্তা করে ঘুম আর আহারে অনিয়ম করা যাবে না। বিয়ের দিন বেশির ভাগ মানুষই ঠিকমতো খেতে পারেন না, অনুষ্ঠানের সময় তখন দুর্বল বোধ করতে থাকেন। রাহিমা সুলতানা বিয়ের দিন কনে ও বরকে প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার পানের পরামর্শ দেন। সঙ্গে অবশ্যই কিছু খেতে হবে। ভাত জাতীয় কিছু খেতে না পারলে মিষ্টি, চকলেট, টাটকা ফলের রস, ডাবের পানি একটু পরপর পান করতে হবে। বিয়ের আগে ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ঝুম পূর্ণিমা দ্বীপ নিঝুম

tfrdr

ফাল্গুনী পূর্ণিমা রাত ছিল তখন। সেই পূর্ণিমার আলোয় ভেসে যেতে উতলা হয়েছিল আমার মতো আরও ২৬ জনের মন। কাজকে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদকে আপন করে ছুটে গিয়েছিলাম ঢাকা থেকে অনেক দূরে—জল-জঙ্গলের নিঝুম দ্বীপে।
অ্যাডভেঞ্চার যাদের নিত্যসঙ্গী, তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধেও ঘরে রাখা সম্ভব না। এই যাত্রার শুরুটাই হয়েছে লঞ্চ ধরার অ্যাডভেঞ্চার দিয়ে। যে লঞ্চ ছাড়ার কথা ঠিক বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে, সেই লঞ্চ আমরা টেনেটুনে ঘাটের সঙ্গে আটকে রেখেছি ৫টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত—আমাদের দুজন সময়মতো এসে পৌঁছায়নি বলে। হাদী ভাই আর তামান্না ভাবি সদরঘাটের তীব্র যানজটে সিএনজি ছেড়ে পাক্কা সাড়ে তিন কিলোমিটার দৌড়ে এসে যেই না লঞ্চে উঠলেন, তখনই সশব্দে হুড়হাড় করে ছেড়ে দিল আমাদের ভ্রাম্যমাণ এক রাতের বাড়ি। সেই মুহূর্ত থেকেই অ্যাডভেঞ্চারের শুরু।
এরপর লঞ্চ ছাপিয়ে অ্যাডভেঞ্চার ছড়িয়ে গেছে দোদুল্যমান ট্রলারে, এক আনাড়ি মাঝির হাতে পড়ে। হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাট থেকে রওনা দিলাম নিঝুম দ্বীপের উদ্দেশে। মাঝি সবাইকে ডান দিকে তাকাতে বলে চালায় বাঁ দিকে, আর বাঁ দিকে তাকাতে বলে সোজা ঠেকিয়ে দেয় কোনো এক বালুচরে! এভাবেই পৌঁছে যাই নোয়াখালী জেলায় বঙ্গোপসাগরের সর্বদক্ষিণের দ্বীপ নিঝুম দ্বীপে। কাদা, জল আর লোনা পানি ডিঙিয়ে যখন তীরে নামি, তখন পুব আকাশে উঁকি দিচ্ছে রুপালি চাঁদের আভা।
এরপরের গল্পটুকু তুমুল উচ্ছ্বাসের, বাঁধভাঙা আনন্দের আর অজানাকে আপন করে নেওয়ার, মধ্যরাতে মাঝপুকুরে কাদাজলে লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে গোসল করার, সারা নিঝুম দ্বীপ ঘুরে আটটা মুরগি এনে বারবিকিউ করার, বাঁশের আর গাছের সাঁকো পার হয়ে শুলোবনের মাঝ দিয়ে হরিণ খুঁজে বেড়ানোর, আর মধ্যরাতে চলল নিঝুম দ্বীপের সাদা বালুর সৈকতে জ্যোৎস্নায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
পরের দিনের শুরুটা হলো কবিরার চরের সবটুকু প্লাস্টিক আর অপচনশীল জিনিস খুঁজে বের করে আগুন জ্বালিয়ে। তাঁবু খাটিয়ে ইলিশ ও চেউয়া মাছ ভাজি দিয়ে বনভোজন শেষে যখন ঠিক হলো আমাদের সেদিনের রাত কাটবে নিঝুম দ্বীপের গহিন জঙ্গলে, তখনই বুঝতে পেরেছিলাম এ রাত হবে জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর রাত! তবে কে জানত সেই রাতে আমি, জাফর, কবির, মণ্ডল আর মাহফুজ জঙ্গলে ঢুকে যাব লাকড়ি টোকাতে! কে জানত, লাকড়ি খুঁজতে গিয়ে নিজের মাত্রই কিনে আনা মোবাইল ফোনটি জঙ্গলে হারিয়ে আসবে জাফর!
আমাদের ১১ জনকে নামিয়ে দিয়ে যে দলটা চলে গিয়েছিল বাকি সব বাক্সপেটরা নিয়ে আসতে, তারা পেয়েছে আরেক দারুণ দৃশ্য! ১৬ জনের দলটা রাত ১০টায় যখন বঙ্গোপসাগরে আবার নৌকা ভাসাল, ততক্ষণে তাদের পথ দেখাতে পুরো আকাশ আলো করে উঠল ফাল্গুনী পূর্ণিমার চাঁদ! উথালপাতাল বাতাস আর ঘোরলাগা চন্দ্রাহত হয়ে যখন তারা ভিড়ল মূল ক্যাম্পিং সাইটে, তখন সেটা একটা অন্য দুনিয়া—আগুন জ্বলছে তাঁবুগুলোকে ঘিরে। আর সেই আলোতে কেওড়াবনজুড়ে তৈরি হয়েছে মায়াবী এক লালচে মোহনীয়তা।
সেই রাতটা ছিল অস্থির এক মাদকতায় পূর্ণ! শহুরে যে ছেলেগুলো কোনো দিন নিজের বিছানা ছেড়ে মাটিতে ঘুমায়নি, তারাই ঘুমাল চাঁদের আলোয় ভেসে যাওয়া খোলা জঙ্গলের এক তাঁবুতে। ঠান্ডায় শিশিরভেজা তাঁবুর পর্দায় কাঁপতে কাঁপতে বের হয়ে সেই আগুন পোহাতে লাগল মাঝরাত্তিরে…এখানে-ওখানে ক্যাম্পফায়ার আর ভর্তা-ভাতের পাট চুকিয়ে যেই চোখ বোজার সময় হলো, ঠিক তখনই রাতের নিস্তব্ধতাকে চিরে দিয়ে আমাদের চারপাশে ডেকে উঠল শিয়ালের দল—বুনো শিয়াল। ভয়ার্ত আমরা দিগ্বিদিকজ্ঞান হারিয়ে টর্চলাইট ধরলাম তাদের চোখ বরাবর! জ্বলজ্বলে সেই চোখের ভাষা বুঝতে বাকি নেই কারও—যেন ঠান্ডা চোখে জানিয়ে দিচ্ছে আমরাই অনাহূত এখানে, এটা তাদের এলাকা।
কে শোনে কার কথা! ভোর চারটায় ধুম করে শাহেদ চেঁচিয়ে উঠল, ‘বস্তিবাসী জাগোওওও, হুঁশিয়ার, সাবধান’—আর পায় কে! ধুমধাম করে তাঁবু ফুঁড়ে বেরিয়ে এল ট্যুরিস্টের দল। সবাই ছুটে গেল আগমনরত শিয়ালের দিকে, ভয় পেয়ে ভেগে গেল শিয়ালের পাল, এরপর ঘণ্টা খানেক ধরে চলল এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ওরা দল বেঁধে আসে, আমরা দল বেঁধে ওদের তাড়াই। আবার আসে, আবার তাড়াই। শেষমেশ যখন ভোরের আলো ফুটল, তখন ২১ ফেব্রুয়ারি।
খালের পানিতে ভরা জোয়ারের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, কুয়াশাঢাকা ১৩টা তাঁবুর মাঝখানে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পতাকাটা, ধোঁয়া ওঠা ক্যাম্পিং সাইট, আর হিমশীতল ঠান্ডা বাতাসে হেলানো-দুলানো কেওড়াবাগান। আমাদের ফেরত নেওয়ার ট্রলার যখন আবার জঙ্গলের খালে আসছে, তখন পেছনে ফেলে যাচ্ছি শান্তস্নিগ্ধ এক জল-জঙ্গলের গল্প। আর সামনে অবারিত জলরাশি হাতছানি দিয়ে ডাকছে নতুন কোনো অ্যাডভেঞ্চারের নেশায়।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন একটামাত্র লঞ্চই হাতিয়ায় যায়। লঞ্চ ছাড়ে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে। সেই লঞ্চ পরদিন সকালবেলা হাতিয়া পৌঁছায়। হাতিয়া থেকে ট্রলারে করে সোজা নিঝুম দ্বীপ যাওয়া যায়। সময় লাগবে প্রায় দুই ঘণ্টা, আর ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে। ফেরার সময় একই পথে আসতে পারেন, অথবা হাতিয়া হয়ে চলে আসতে পারেন। ফেরার লঞ্চ কিন্তু দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে।

ক্রিকেটের চেয়েও টেন্ডুলকারের কাছে যা কঠিন

oi-0p

ব্রেট লির গতির ঝড়, ওয়াসিম আকরামের সুইং, কার্টলি অ্যামব্রোসের বাউন্সার—কোনো কিছুই খুব একটা আহামরি মনে হতো না, যেদিন শচীন খেলতেন শচীনের মতো। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের সেরা সেরা সব বোলারদের নাকের জল চোখে জল এক করা শচীন টেন্ডুলকার এখনো ব্যাট হাতে স্বপ্ন বুনতে জানেন। এই ৪২ বছর বয়সেও ভয়ংকর সব বোলারের বল খেলতে আগ্রহী টেন্ডুলকার, তাও ক্যামেরা সামনে দাঁড়াতে রাজি নন!

কিছুদিন আগে ক্রিকেট অলস্টার সিরিজেই তাঁর ব্যাটিং দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। কিন্তু অবসরে চলে যাওয়া এক ক্রিকেটারের জন্য সেটি ছিল বাড়তি কিছু। আর যে ব্যাট বলের মায়ায় পড়ে থেকে লাভ নেই সেটি খুব ভালো করেই জানেন টেন্ডুলকার। তবুও নিজের ফেলে আসা সে দিনগুলোর কথা ভেবে একটু স্মৃতিকাতর হতেই পারেন, বিশেষ করে নতুন এক উপলক্ষকে ঘিরে। ‘লিটল মাস্টার’কে নিয়ে ছোট এক আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র বানানো হচ্ছে—‘শচীন, এক শ কোটি স্বপ্ন’। সে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে হচ্ছে শচীনকেই।

জীবনের এই পর্যায়ে এসে আবারও ক্যামেরার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে অস্বস্তিতে পড়ে গেছেন টেন্ডুলকার। এর চেয়ে নতুন করে ব্যাট হাতে নামতেই আগ্রহী তিনি, ‘অনেকগুলো বছর আমি যা করতে চেয়েছি সেটাই করেছি, ক্যামেরা সেটি নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু এখন আমাকে বলে দেওয়া হচ্ছে কী করতে হবে, এবং তারপর সেটি ক্যামেরাতে ধারণ করা হবে। এটা বেশ কঠিন। বিশ্বাস করুন, প্রথম কাজটিই(ব্যাটিং) সহজ।’

আড়াই বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়া এই কিংবদন্তি ব্যাট হাতে যতটা স্বচ্ছন্দ, অভিনয়ে ঠিক ততটাই অপটু, ‘আমি কখনো অভিনয় করার স্বপ্ন দেখিনি। কোনো সন্দেহ নেই ক্রিকেট খেলার চেয়ে অভিনয় করা অনেক কঠিন। আমি খেলতেই ভালোবাসি।’

তবু নিজের চলচ্চিত্র বলে কথা, অভিনয় তো করতেই হবে। ভাগ্যিস, ক্যারিয়ারের পূর্ণ গগনে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে হালকা অভিনয় করে কিছুটা কাজ এগিয়ে রেখেছিলেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

প্রধানমন্ত্রী শুনলেন জাইন-অ্যারনের গান

jjhvg

দুই নাতি জাইন ও অ্যারনের কণ্ঠে দেশের গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন রুনা লায়লা। তাদের গাওয়া ‘আই লাভ মাই বাংলাদেশ’ গানটি ২৬ মার্চ ইউটিউবে অবমুক্ত করা হয়। দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের পর এবার সেই গানটি শুনলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে খালি গলায় গানটি গেয়ে শোনায় জাইন ও অ্যারন।

জাইন ও অ্যারনের কণ্ঠে গানটি শুনে প্রধানমন্ত্রী মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান তাদের নানী উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে রুনা লায়লা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাইন ও অ্যারনকে উৎসাহ দিয়েছেন। তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন, অনেক দোয়া করেছেন। তারাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পেরে গর্বিত ও আনন্দিত। অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণভবনে ‘আই লাভ মাই বাংলাদেশ’ গানের সিডি তুলে দিচ্ছে জাইন ও অ্যারনরুনা লায়লা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা খুবই ব্যস্ত একজন মানুষ। আমরা যোগাযোগ করার পর তিনি ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমাদের জন্য সময় বের করেন। খুব আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, এটা সত্যিই অনেক বড় একটা ব্যাপার। এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে।’

সুদীপ কুমার দীপের লেখা ‘আই লাভ মাই বাংলাদেশ’ গানটির একটি কপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন জাইন ও অ্যারন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতে শুভেচ্ছা বক্তব্য লিখে দিয়েছেন। এ সময় রুনা লায়লা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বামী চিত্রনায়ক আলমগীর এবং জাইন-অ্যারনের মা তানি লায়লা।
জাইন ও অ্যারনের জন্য শুভেচ্ছাবার্তা লিখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনালন্ডনে জন্মগ্রহণ করেছে রুনা লায়লার দুই নাতি জাইন ও অ্যারন। বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের বেড়ে ওঠাও সেখানেই। প্রবাসে থাকলেও বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ভাষা এবং শিল্প-সংস্কৃতি ও অর্জন সম্পর্কে তারা জানে। লন্ডনের টোটারিজ একাডেমির সপ্তম শ্রেণির ছাত্র জাইন আর হোয়াইটিংস হিল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র অ্যারন।

রাজা কাশ্যপের সুর ও সংগীতে ‘আই লাভ মাই বাংলাদেশ’ গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন মিনহাজ কিবরিয়া। গানটিতে আরও কণ্ঠ দিয়েছে নাজওয়া ও জায়না নামের আরও দুই প্রবাসী বাঙালি শিশু।

দুই রণবীরের এক দীপিকা

jhhjhy

হলিউডের শুটিং সেরে গত মাসে দেশে ফিরেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। ফিরেই নাকি রণবীর কাপুরের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তাঁর বাড়িতে। এ নিয়ে বলিউডে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাহলে কি পুরোনো প্রেমিক রণবীর কাপুরের কাছেই ফিরছেন তিনি?
বলিউডের সবার আগ্রহ এখন দীপিকাকে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে জড়াবেন এই বলিউড তারকা? তালিকায় আছে দুই রণবীর। শেষ সময়গুলোতে দুজনের সঙ্গেই সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখতে দেখা গেছে তাঁকে। রণবীর সিংয়ের সঙ্গেই ছিল বলিউডে তাঁর সাম্প্রতিকতম ছবি ‘বাজিরাও মস্তানি’। এ ছবির মাস কয়েক আগে মুক্তি পেয়েছিল রণবীর কাপুরের সঙ্গে ছবি ‘তামাশা’। আর এই ছবির শুটিং সেট থেকেই রণবীরের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগতে শুরু করে দীপিকার।
বছর খানেক ধরে রণবীর সিং ও দীপিকাকে নিয়ে বলিউডে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। রণবীর সিংও দীপিকাকে নিয়ে নানা রোমান্টিক মন্তব্য করেছেন। এমনকি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে দীপিকার হয়ে ট্রফিও নিয়েছেন তিনি। কিন্তু হলিউড থেকে ফিরে রণবীর কাপুরের বাড়িতে দীপিকার যাওয়া সব অঙ্ক এলোমেলো করে দিয়েছে।
জানা গেছে, দুই রণবীরের মধ্যে কার সঙ্গে কাজ করবেন—এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন দীপিকা। ইতিমধ্যে দুটি ছবির প্রস্তাব পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। এর একটির নায়ক কাপুর, অন্যটির সিং। কোনটিতে আগে চুক্তিবদ্ধ হবেন, আর কোনটিইবা ফিরিয়ে দেবেন! এ ছাড়া কবির খানের পরিচালনায় সালমান খানের বিপরীতে অভিনয়ের একটি প্রস্তাব তো আগেই ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।

সম্প্রতি হলিউডে ‘এক্সএক্সএক্স: দ্য রিটার্ন অব জ্যান্ডার কেজ’ ছবির শুটিং শেষ করে দেশে ফিরেছেন দীপিকা। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কায় এক বন্ধুর বিয়েতে যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। টাইমস অব ইন্ডিয়া

এক হাজার কণ্ঠে বরণ করা হলো নতুন বছরকে

jhyhjh

এক হাজার শিল্পী সমবেত কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গেয়ে বরণ করে নিলেন বাংলা নতুন বছরকে। হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণের এই আয়োজনটি করেছিল চ্যানেল আই ও সুরের ধারা। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে পয়লা বৈশাখের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ছিল বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন ‘সানসিল্ক-চ্যানেল আই হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ ১৪২৩ ’। গত কয়েক বছর ধরেই এই আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
সকালে সুরের ধারার সভাপতি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে বর্ষবরণের এই আয়োজনে অংশ নেন নানা বয়সী এক হাজার শিল্পী। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ‘ওঠো ওঠো রে’ গানটি পরিবেশন করেন। পরে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় বর্ষবরণের অন্যান্য গান। এ ছাড়া গান করেন শিল্পী রফিকুল আলম, শাহীন সামাদ, রথীন্দ্রনাথ রায়, তপন মাহমুদ, আজিজুর রহমান, কোনাল, চ্যানেল আই এর রিয়্যালিটি শো বাংলার গানের শিল্পীরাসহ চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠের শিল্পীরা। ছিল দলীয় নাচ ও বৈশাখী পোশাকের ফ্যাশন শো।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রাখেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ ও শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও আফজাল হোসেন।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড বিল্ডিং ডিরেক্টর জাভেদ আকতারসহ দেশ ও বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানের শেষ হয় এলআরবির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। দলটি তাদের বেশ কিছু জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে। সব শেষে দলের সবাই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’ গানের কয়েকটি চরণ গেয়ে বিদায় নেন।
গত সন্ধ্যায় এই অনুষ্ঠানস্থলেই ছিল চৈত্রসংক্রান্তি উৎসব। সেই উৎসব ও আজকের এই আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করেছে চ্যানেল আই ও ভারতের জি বাংলা।

‘প্রথম শাড়ি পরলাম’

bnhb v

ঢাকাই চলচ্চিত্র যে কজন ব্যস্ত অভিনেত্রী রয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজন মিষ্টি জান্নাত। বর্তমানে ‘তুই আমার’ চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এই নিয়ে ওপার বাংলা এপার বাংলা করছেন। মিষ্টির সাথে কথা হলো বর্ষবরণের দিন কেমন কাটলো? এমন প্রুশ্নের জবাবে মিষ্টি বেশ মজাই পেয়েছেন বলা যায়। জানালেন এই বৈশাখেই আমি প্রথমবারের মতো শাড়ি পরেছি। প্রথমবার? হ্যাঁ প্রথমবারের মতোই শাড়ি পরলেন। এমনটাই জানালেন এই অভিনেত্রী।

মিষ্টি বলেন, সারাদিন বেশ ব্যস্ত গেল। একটু ফ্রি হয়েই বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বের হলাম। রিলেটিভ ও বন্ধুদের বাসায় বেড়াতে যাব।

নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘হ্যাভেন মাল্টিমিডিয়া’ থেকে ‘তুই আমার’ নামের একটি চলচিত্র নির্মাণ করছেন মিষ্টি। মিষ্টি জান্নাতের নায়ক হিসেবে অভিনয় করছেন সাইমন সাদিক।

রোনালদোর অসাধারণ কিছু ব্যাপার

cxdsz

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আসাধারণ ফুটবলার। দুর্ধর্ষ অ্যাথলেট। হ্যান্ডসাম মানুষ। খেলা দিয়ে মুগ্ধ করে রেখেছেন বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের। কিন্তু এর বাইরেও আরো অনেক ব্যাপার আছে রোনালদোর যা আপনাকে অভিভুত করবে।

হার্টের সমস্যা:

১৫ বছর বয়সে রোনালদোর হার্টের গুরুতর সমস্যা হয়েছিল। তাকে সারিয়ে তুলতে বাবা-মায়ের অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছিল রোনালদোর। আবার খেলার কথা ভুলে যেতে বলা হয়েছিল তাকে। কিন্তু এখনকার রোনালদোকে দেখে কে বলবে এমন একটি সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তার টিনেজ বয়সেই!

মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা:

মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসার ইতিহাস আছে রোনালদোর। ৯ বছর বয়সী এক ছেলের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ তিনি নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ছেলেটি ক্যান্সারে ভূগছিল। রিয়াল মাদ্রিদের ফ্যান সে। তার কথা জেনে এগিয়ে যান রোনালদো।

ছেলেবেলার বন্ধুত্ব ও কৃতজ্ঞতা
ছেলেবেলার বন্ধু হোসে সেমেদো। পর্তুগালে এক সাথে বেড়ে উঠেছেন। একদিন একটি ক্লাব তাদের দলের নতুন সদস্য নিতে এলো। বলা হলো, ম্যাচে যে বেশি গোল করবে তাকে নেয়া হবে। সেমেদো গোল করে রোনালদোকে পেছনে ফেলতে পারতেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রোনালদোকে বল দিলেন, তিনি গোল করলেন। এরপর রোনালদো দ্রুত এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে পড়েন সেমেদো। তাকে ভোলেননি রোনালদো। বন্ধু বেকার। আর তার বিলাসবহুল জীবন ধারণের সব খরচই বহন করেন তিনি।

মদ-সিগারেট মুক্ত:
জীবন তার কঠিন ছিল। বাবা ছিলেন মদে আসক্ত। ৫২ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে তাতেই। মদের এক ফোটাও কখনো গ্রহণ না করার পণ আছে রোনালদোর। তার টিনেজার ও তরুণ ফ্যান অনেক। রোনালদো চান মদ-সিগারেট ছাড়াও যে অসাধারণ জীবন যাপন করা যায় সেই উদাহরণ ভক্তদের সামনে তুলে ধরতে।

অন্দরে বৈশাখ

tyr5

পয়লা বৈশাখের ছোঁয়া লাগে মানুষের পোশাকে, অন্দরে, খাবার থেকে সবখানে। বাংলা নতুন বছর বরণ করে নেওয়ার এই উৎসবে মানুষ নিজে যেমন সাজতে ভালোবাসে, তেমনি সাজাতে ভালোবাসে আপন গৃহকোণকেও। সাজানোর উপকরণে দেশি ভাব থাকলে পুরো বাড়িটিই সেজে উঠবে উৎসবের রঙে।

বসার ঘর

সাজানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন মাটির শোপিস, প্রদীপ, নকশি কাঁথা, হাতপাখা ইত্যাদি। মেঝের কোনো অংশে আঁকা যেতে পারে আলপনা। মেঝেতে বসার আয়োজনও করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শীতল পাটি, শতরঞ্জি, নকশি কাঁথা ইত্যাদির ওপর রঙিন কুশন ছড়িয়ে দিয়ে তৈরি করে নিন এই আয়োজন। হালকা কোনো রঙের স্বচ্ছ পর্দা লাগান। ঘরের কোনাগুলো সবুজ গাছ আর মাটির শোপিস দিয়ে সাজাতে পারেন। বিভিন্ন কোনায় রাখতে পারেন ল্যাম্পশেড। ভিন্নতা আনতে ঘরের এক কোনায় তিনটা ল্যাম্পশেড ঝুলিয়ে দিতে পারেন। প্রথমটি ছাদ থেকে ৭ ফুট, দ্বিতীয়টি সাড়ে ৬ ফুট ও তৃতীয়টি ৬ ফুট নিচে ঝুলবে। অন্দরসজ্জাবিদ গুলসান নাসরিন চৌধুরীর পরামর্শ, ‘এই সময়ে ঘরের সাজে লাল, সাদা, নীল, হলুদ, সবুজ রংগুলো প্রাধান্য দিতে পারেন।’


খাবার ঘর

এই ঘরের প্রধান অংশ হচ্ছে খাবার টেবিল। টেবিলটিকে সাজিয়ে তুলুন দেশীয় উপাদান দিয়ে। এ ছাড়া বাঁশ ও বেতের নান্দনিক ট্রের ব্যবহার আপনার বৈশাখের আয়োজনে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করবে। টেবিল রানারটি শীতল পাটি, বাঁশ অথবা নকশি কাঁথার তৈরি হতে পারে। রানারের ওপর মাটির মোমদানি, বাঁশের তৈরি গ্লাস স্ট্যান্ড ও মাটির ফুলদানিতে কিছু তাজা ফুল দিয়ে সাজালে টেবিলটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এই ঘরের পর্দা হিসেবে বাঁশের চিক ব্যবহার করলে ভালো লাগবে। এই ঘরের দেয়ালে টেরাকোটা ঝোলালে ঘরটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে।

দেয়াল ও দরজা সাজানো যায় দেশি উপকরণেশোবার ঘর
শোবার ঘরে বিছানার চাদর ও পিলো কভারে ব্যবহার করুন উজ্জ্বল রং। চাদরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন পর্দার রং। কাপড়ের ওপর আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, লোকশিল্পের নানা মোটিফ থাকতে পারে। ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর, কুশন কভার, টেবিল ক্লথ, টেবিল রানার ইত্যাদিতে দিতে পারেন রঙের ছোঁয়া। কাপড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদ্দি, খাদি, সুতি, ভয়েল ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন।
গুলসান নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন আকৃতির মাটির হাঁড়িতে নানা ধরনের ফুল এবং ইনডোর প্ল্যান্টসের ব্যবহার সুগন্ধি এবং সবুজের ছোঁয়া মন ভরিয়ে দেয় প্রশান্তিতে। ছোট-বড় কিছু পটারি দিয়ে সাজাতে পারেন সিঁড়িঘরকে। বাড়ির সদর দরজার দেয়ালে টাঙিয়ে দিতে পারেন মাটির, বেতের অথবা কাঠের কারুকার্য করা আয়না।’
অন্দরসজ্জা প্রতিষ্ঠান লুক লাইকের ডিজাইনার রাহেলা খাতুন নিজের বাড়ি সাজাতে প্রাধান্য দিয়েছেন দেশীয় উপকরণের ওপর। যান্ত্রিক ঢাকার ইট-কাঠের দালানে তিনি তুলে ধরেছেন নিজস্বতা। রাহেলা খাতুন বলেন, ‘বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসব। তাই অন্দরের সাজে দেশীয় জিনিসের ব্যবহার করে আনতে চেয়েছি নান্দনিকতা। ঘর সাজাতে হলে দামি উপকরণ লাগবে, এমন ধারণা অনেকেরই। এটা ঠিক নয়। ঘর সাজাতে চাই আন্তরিকতা ও নিজস্বতা।’ এ ছাড়া পুরো বাড়িতে আছে সবুজের স্নিগ্ধতা। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের গাছ।

কোথায় পাবেন

উত্তরার দুর্লভে মাটির পট, প্রদীপ, ধাতব ও বাঁশের মুখোশ এবং বাঁশের মগ পাওয়া যাবে। মাটির পুতুল, গ্রামীণ হুঁকো, হাতে বানানো মুখোশ, ওয়াল ম্যাট, বাঁশের তৈরি ফুলদানি, আয়না, বেতের টেবিল, টেবিল ল্যাম্প, ঝাড়বাতি ইত্যাদিও আছে সেখানো। আসাদগেটের আইডিয়াসে পাওয়া যাচ্ছে ঘর সাজানোর মাটির উপকরণ। আড়ংয়ে আছে কাঁসা-পিতলের নানা ধরনের শোপিসের মধ্যে বিভিন্ন জীবজন্তুর প্রতিকৃতি, রিকশা, ফুলদানি, ঘটি, গ্লাস, কলস, পানের বাক্স, মোমদানি, ফুলের টব, দেয়ালে সাজানোর থালা। অ্যান্টিক এবং ব্রাশ অ্যান্টিক দুটোই পাওয়া যায়। আসাদগেটের ‘সোর্স’-এ পাওয়া যায় নানা ধরনের কাপড়, কাগজ এবং বিভিন্ন উপকরণে তৈরি শোপিস। এ ছাড়া কাচ, মাটি, চীনামাটির বিভিন্ন ধরনের শোপিসে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। পিরানে পাওয়া যাবে বিভিন্ন ধরনের উইন্ড চাইম। যাত্রায় রিকশা পেইন্ট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে ঘড়ি, গয়না রাখার বাক্স, মোমদানি, ধূপদানিসহ অনেক কিছুই।

কৃতজ্ঞতা: রাহেলা খাতুন

আইপিএলের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে

gft7y

মহারাষ্ট্রের খরায় বেশ ঝামেলা হয়ে গেল এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আয়োজনে। এরই মধ্যে স্টেডিয়ামে পানির অপচয় বন্ধ করতে মুম্বাইয়ের আদালত ১৩টি ম্যাচ মহারাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায় মেনেও নিচ্ছে আইপিএল। ম্যাচগুলোকে কীভাবে আয়োজন করা যায় সেই পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে খরার সমস্যার কারণে এভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি আয়োজনে বাধা তৈরি করার পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
মহারাষ্ট্র জুড়ে এখন ভীষণ খরা চলছে। চারিদিকে পানির জন্য মানুষের হাহাকার, আর এমন সময়ে আইপিএলের ম্যাচ আয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্যালন গ্যালন পানি! এই অপচয় বন্ধ করতেই মুম্বাইয়ের আদালত ৩০ এপ্রিলের পর মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই, পুনে ও নাগপুর ভেন্যুতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ২৯ মের ফাইনালসহ এই তিন ভেন্যুতে ৩০ এপ্রিলের পর মোট ১৯টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে ১৩টিই এখন সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
আয়োজনের মাঝপথে এসে এভাবে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পাওয়ার পর আইপিএল নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিসিসিআই সচিব অনুরাগ ঠাকুর, ‘আমরা ভালো পানি ব্যবহার করছি না। বরং নর্দমার পানিই শোধন করে ব্যবহার করছি। এখানে কয়টি পাঁচ তারকা হোটেলের সুইমিং পুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে? মানুষ কী তাঁদের ঘরের বারান্দা ধোয়া বন্ধ করে দিয়েছে? এখন এমন একটা সময় এসেছে, যে প্রতিটি ইস্যুতে আমরা নেতিবাচক কিছু খোঁজার চেষ্টা করি। আইপিএলে মাত্র ০.০০০৩৮ শতাংশ পানি ব্যবহার করা হতো। এটা খুব বেশি তো নয়।’
খুব বেশি না হলেও আদালতের চোখে খরার মধ্যে এই পরিমাণ পানি ব্যবহারও অপচয়। অবশ্য খরার মধ্যে আইপিএল আয়োজনের বিষয়টি আদালতে গড়ানোর পর থেকেই আইপিএল কর্তৃপক্ষ অনেক বিকল্প পদ্ধতি প্রস্তাব করে আসছিল—সেটি অর্থ সাহায্যই হোক আর বিনামূল্যে পানি সরবরাহ। তবু আদালত আইপিলের বিপক্ষেই রায় দিয়েছেন। আয়োজনের মাঝপথে এসে হঠাৎ এই নির্দেশ নিয়ে কিছুটা বিপাকেই আইপিএল কর্তৃপক্ষ। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লাও বলেছেন, ‘মূল সমস্যা ছিল কৃষকদের জন্য পানি সরবরাহ করা নিয়ে। এ ব্যাপারে কিছু সমাধানের পথও খুঁজছিলাম। আমরা পানি দিতে চাইছিলাম, মূখ্যমন্ত্রীর তহবিলে অর্থ দিতে চেয়েছিলাম। এখন এভাবে ম্যাচ সরিয়ে নিলে ঝামেলা হয়ে যাবে। যদি ম্যাচ সরাতে হয়, তাহলে কোথায় সরিয়ে নেব, কীভাবে সরিয়ে নেব, এই বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।’

আইপিএলের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার এতদিন পর কেন এই প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েই প্রশ্ন শুক্লার, ‘সবকিছু হচ্ছে এখন, অথচ কিছুদিন আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২৪টি ম্যাচ হয়ে গেল তখন কেউ কিছু বলেনি। ছয় মাস আগেও সবাই চুপ ছিলেন। যা কিছু করার ছিল, আমরা করতে চেয়েছি। সত্যি বলতে, আরও অনেক খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে মহারাষ্ট্রে, যেগুলোতে পানির ব্যবহার হচ্ছে। সেগুলোও তাহলে বন্ধ করে দিন। চিনির ফ্যাক্টরিতে পানি লাগে, নির্মাণ কাজে পানি লাগে। সবগুলো গলফ কোর্স তো প্রচুর পরিমান পানি ব্যবহার করে। সেগুলো নিয়ে কিছু হচ্ছে না।’
ষড়যন্ত্রের দাবি করছেন, ঝামেলার কথাও উঁচুগলায় জানিয়ে দিচ্ছেন। তবে সেসবই অন্যদের বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশের প্রতি অবশ্য যথাযথ সম্মান রাখছেন রাজীব। নির্দেশ বাস্তবায়নের পথও খুঁজছেন, ‘এখনও লিখিত আদেশ আমরা পাইনি। পাওয়ার পর সেটি ভালোভাবে বুঝে নিয়ে বিকল্প কোনো পথ খুঁজে বের করব। আমরা সব সময়ই আদালতকে সম্মান করি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে কথা বলতে হবে। মহারাষ্ট্রের ১৯ ম্যাচের মধ্যে ১৩টি সরিয়ে নিতে হবে, এসব নিয়ে এখন কাজ করতে হবে।’ সূত্র: এনডিটিভি।

ইতিহাসও ছিল মেসিদের প্রতিপক্ষ

km mj

মাত্র সপ্তাহ তিনেক আগের কথা। বার্সেলোনা কেন আরও একবার মৌসুমের তিনটি শিরোপাই জিতবে না, সেটিই ছিল আলোচনায়।
কিন্তু তিন সপ্তাহের মধ্যেই কেমন যেন সব কিছু বদলে গেল। বার্সেলোনার ট্রেবলের আশা এখন হাওয়া। টানা দুটি ম্যাচ হেরে ‘পর্বত-প্রমাণ’ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার সুবিধা এখন নেমে এসেছে ‘টিলা’ সমান দূরত্বে। কে জানে, আর একটি ম্যাচে হোঁচট খেলেই লিগ জয়ের আশাতেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
লিগে ধাক্কা লাগতে পারে, চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা কাল লেগেই গেল বার্সার গায়ে। ভিসেন্তে ক্যালদেরনে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছেন মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা।
কেন এমন হলো, কী হলে কী হতে পারত—কাঁটাছেড়া চলছে এসব নিয়েই। বার্সেলোনা সমর্থকদের হতাশা, ক্রোধ সবকিছুর মধ্যে হয়তো সান্ত্বনার বাণী হয়ে আসতে পারে এই তথ্যটি—এমনটা হয়তো হওয়ার কথাই ছিল। ইতিহাসই বলছে, এবারও বার্সার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যই ছিল। ১৯৯২ সালে নতুন নামে, নতুন রূপে পথচলা শুরুর পর থেকে যে কখনো কোনো একটি ক্লাবকে টানা দুবার আপন করে নেয়নি চ্যাম্পিয়নস লিগ।
সব ইতিহাসেরই শুরু থাকে, শেষও থাকে। কোনো না কোনো সময় হয়তো এই ইতিহাসও ভাঙা হয়ে যাবে। তবে মৌসুমের শুরু থেকে সব সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকা বার্সার পক্ষে সেটি সম্ভব হলো না, এই যা। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিও কাল ম্যাচের পর এটিকেই কারণ হিসেবে তুলে এনেছিলেন। আগের মৌসুমের শিরোপাজয়ীদের প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘অভিশাপ’কেই বার্সার হারের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন ইতালিয়ান কোচ।

অভিশাপই তো! ১৯৯২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ থেকে নাম বদলে চ্যাম্পিয়নস লিগ নামকরণ করা হলো, ফরম্যাটটা বদলে দেওয়া হলো। ব্যাস, নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল ক্লাবগুলোর ভাগ্যও। সেখানেই সমাধি হয়ে গেল কোনো ক্লাবের ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন।
অথচ পরিবর্তনের আগের ইতিহাসটা দেখুন। ১৯৫৫ সাল থেকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস ক্লাব কাপ (সংক্ষেপে ইউরোপিয়ান কাপ) নামে শুরু হয়েছিল ইউরোপের ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতা। সে বছর শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তখন থেকেই শুরু ষাটের দশকের রিয়ালের ইউরোপ দাপিয়ে বেড়ানো। টানা পাঁচবার ইউরোপিয়ান কাপ গেছে ‘লস ব্লাঙ্কো’দের ঘরে।
রিয়ালের হাত থেকে ব্যাটনটা সরাসরি চলে যায় ইউসেবিওর বেনফিকার কাছে। ১৯৬০ ও ১৯৬১—টানা দুবার ইউরোপিয়ান কাপ জেতে পর্তুগালের ক্লাবটি। এরপর টানা দুবার বা এর বেশি ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে আরও ৬টি ক্লাব। ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে এই কীর্তি ইন্টার মিলানের, ১৯৭১ থেকে টানা তিনবার ইয়োহান ক্রুইফের আয়াক্সের।
ক্রুইফের পর ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। জার্মান কিংবদন্তি ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬—টানা তিনবার ইউরোপিয়ান কাপ জেতালেন বায়ার্ন মিউনিখকে। সত্তরের দশকের ইউরোপ মাতানো লিভারপুলও স্বর্ণযুগটাকে আলোকিত করে রেখেছে ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালে টানা দুবার শিরোপাটি জিতে।
লিভারপুলের পর টানা দুবার জেতে ইংল্যান্ডের আরও একটি ক্লাব—নটিংহ্যাম ফরেস্ট। কিংবদন্তি কোচ ব্রায়ান ক্লফ ও তাঁর সহকারী পিটার টেলরের অধীনে অবিশ্বাস্য সাফল্য পাওয়া নটিংহ্যাম ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালের ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল। এরপর শুধু আর একটি ক্লাবই এমন অর্জনের ভাগ নিতে পেরেছে—এসি মিলান। আরিগো সাচ্চির অধীনে ইতালিয়ান পরাশক্তিরা ইউরোপ সেরা হয় ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে।
ইতিহাসের পাঠ ওখানেই শেষ। এরপর আর কখনো কোনো ক্লাবের সৌভাগ্য হয়নি ইউরোপে টানা দুবার রাজত্ব করার। এই মৌসুমে বার্সেলোনার তেমন কিছু করার সম্ভাবনা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল। কিন্তু দিয়েগো সিমিওনে এবং তাঁর শিষ্যদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কাছেই বার্সেলোনার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।
ইতিহাস আরও একবার অলক্ষ্যে প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াল কোনো ক্লাবের টানা দুবার শিরোপা জয়ের স্বপ্নে। কেউ কী আদৌ খুলতে পারবে এই গেরো? তা জানতে অন্তত দুই মৌসুম অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

বর্ষবরণ পরম্পরায়

ghyp

অনুষ্ঠান যেমন প্রাণবন্ত হতো, শ্রোতারাও সে রকম আত্মঙ্গম করতে পারতেন, তখন বাঙালিদের মধ্যে একটা নিবিড় আত্মিক যোগাযোগ ছিল। বাঙালি সমাজের মানুষের মধ্যে একটা নিবিড় সম্পর্ক ছিল। যেটাকে আমরা একতা বলতে পারি। একই বোধে উদ্বুদ্ধ ছিল তারা। দেশটা ছিল পাকিস্তান। তখন ওই পাকিস্তানের চারপাশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বাঙালিরা যেভাবে তাদের প্রাণের সম্পদ, সংগীত, তাদের ঐতিহ্য, হাজার বছরের ইতিহাস—সবকিছু সামনে এনে সেগুলোকে অবলম্বন করে বাঁচতে চাইত, সেই চাওয়ার মধ্যে একটা প্রচণ্ড জোর ছিল। আর তার অত্যন্ত সুন্দর একটা প্রকাশ ছিল।

পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানগুলোতে যে গানগুলো গাওয়া হতো, সেগুলো আমাদের প্রাচীন কবিদের রচিত গান ও রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ছাড়াও আর যাঁরা আমাদের বড় কবি ছিলেন, গীতিকার ছিলেন—সবার গানই তালিকায় ঠাঁই পেত। আমি এই অনুষ্ঠানগুলো দেখেছি অত্যন্ত কম বয়স থেকে। মহড়া দেখেছি, অনুষ্ঠান দেখেছি। মা-বাবার সঙ্গে গিয়েছি এবং তখন মনে হতো যে এটা আমার অনুষ্ঠান, একদিন আমিও এ অনুষ্ঠানে গান গাইতে পারব। এ রকম মনে হতো। ওই সময়টা ছিল ষাটের দশকের শেষভাগে। আমার বোঝার বয়স তখনো হয়নি। এর আগে যদিও ছায়ানটের শুরু হয়েছে। তখন হয়তো আমি বুঝতে পারিনি কিছু। সে সময়টা শুরু হলো—আসলে মুক্তিযুদ্ধের একটা পটভূমি তৈরি হলো। সে সাংস্কৃতিক আন্দোলন দিয়ে হোক, যেভাবেই হোক। রাজনীতির একটা উত্তপ্ত অবস্থায় তখন মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিটা খুব শক্ত একটা মাটি পেল। সে রকম একটি বিশ্বাস-আস্থা ছিল বাঙালিদের মধ্যে।
মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক প্রস্ত্ততি, সর্বময়তার ভেতর দিয়ে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান বা বাঙালির যা কিছু নিজস্ব অনুষ্ঠান—প্রতিটি অনুষ্ঠানই হতে থাকল আরও জোরের সঙ্গে, অনেক বেশি ভালোবাসার সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী একটা ভঙিমায়। বাংলাদেশের আনাচকানাচে চলল অনুষ্ঠান আয়োজন। তখনই মুক্তিযুদ্ধের সময় এল। সে সময় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, নিত্যদিনের চলাফেরা, খাওয়া-ঘুম এসব কাজ অত্যন্ত দুরূহ ছিল। যখন-তখন মানুষ মারা যাচ্ছে। তখন কিছুটা ভাটা পড়েছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। কিন্তু আন্দোলনটা মনে দানা বাঁধছিল যেভাবে সেটার স্ফুরণ মুক্তিযুদ্ধেই ঘটে। এরপরে আমরা দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি।
ছবি: জিয়া ইসলামস্বাধীনতার পর আস্তে আস্তে আমাদের সর্বজনীন উৎসবগুলো আরও দানা বাঁধতে থাকল। আরও স্বাধীনভাবে ঘটতে থাকল। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত যে জীবনটা বাঙালি যাপন করেছে—মোটা চালের মোটা ভাত খেয়েছে, হয়তো মোটা কাপড় পরেছে, হয়তো রিলিফের কাপড়ও পরেছে। কিন্তু তারা মনেপ্রাণে সবকিছুতে যে স্বাধীনতা অনুভব করত, সাংস্কৃতিক যে স্বাধীন জীবনটা চিন্তা করত, যে জীবনটা তাদের অর্জিত হয়ে গেছে বলে ভাবত, সেটিতে অকস্মাৎ ছেদ পড়ল। ধীরে ধীরে দেশটা দাঁড়াবে—এই যে একটা গতি, সেটাকে একদম ঘুরিয়ে দিল ৭৫-এর ১৫ আগস্ট। এরপরও হয়েছে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান। হয়নি তা নয়। ভয়ের মধ্যে ভীষণ রকমের পুলিশি পাহারার মধ্যে শুধু পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান নয়, উদীচীর অনুষ্ঠান, সবই হয়েছে। তবে বাঙালির সর্বজনীন অনুষ্ঠান, উৎসবগুলোতে কেমন যেন ভাটা পড়তে থাকল এবং সেই উৎসবগুলোতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা যেন আটকে রাখল।
দেশের রাজনৈতিক পটভূমি, অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা সবকিছুই বেশ কয়েকবার পাল্টেছে। এখন যেটা বলতে পারি, এটা সব বাঙালিই জানে। তারপরও এ উৎসবগুলো এখন বাঙালির প্রাণে পৌঁছে গেছে। এটা শুধুই যে ছায়ানট, শুধুই যে কোনো সংগঠন, শুধুই যে কোনো গোষ্ঠী, এ রকম বিষয়ে আর বাঁধা থাকেনি। এটা বাঙালির প্রাণের উৎসব হয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকেই যেহেতু আমি দেখেছি আমার পরিবারের মানুষ এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। তাই আমার কাছে এটি পারিবারিক উৎসব বলেই মনে হয়েছে সব সময়। আমারা চাচা-চাচিসহ (ওয়াহিদুল হক ও সানজিদা খাতুন) অনেক শিল্পীর সঙ্গে আমিও মিশে যেতাম বর্ষবরণের আনন্দযজ্ঞে। ছোটবেলা থেকেই এসব অনুষ্ঠানের সূত্রে মালেকা আজিম খান, ইফফাত আরা দেওয়ান, সেলিনা মালেক, মাহমুদুর রহমান বেনু, শাহিন সামাদসহ অনেকের ভালোবাসা পেয়েছি। কাছ থেকে দেখেছি। এরপর একটু একটু করে আমিও জড়িয়ে পড়েছি আষ্টেপৃষ্ঠে। একই বিষয় দেখেছি আমার মেয়ে জয়িতার বেলাতেও। জয়িতা ছোটবেলা থেকে এই পরিবেশ দেখেছে। এর মধ্যে দিয়েই সে বেড়ে উঠেছে। তাই ওর কাছেও এটা একান্ত নিজেদের একটি আয়োজন। শুধু পয়লা বৈশাখ না, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বসন্ত, বর্ষা বা অন্যান্য আয়োজন। সবই আমাদের পরিবারে উদ্যাপন হয় উৎসাহ নিয়ে।
এখন পয়লা বৈশাখের উৎসব রমনা বটমূলে জাতীয় পর্যায়ে সবাইকে নিয়ে যেমন হয়, তেমন বাংলাদেশের সব জেলায়, আনাচকানাচেও হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলে হচ্ছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন করা হচ্ছে। এর পেছনে বাংলা ভাষা, একুশ ফেব্রুয়ারির একটা বড় অবদান রয়েছে। কোনো ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হয়তো আগে ভাবেনি। এখন তারাও ভাবছে। তারাও পয়লা বৈশাখ, বসন্ত উৎসব উদ্যাপন করছে।
আজ বাংলাদেশের চেহারায় পয়লা বৈশাখ এমন একটি মান পেয়েছে, এমন একটি জায়গায় চলে গেছে যে পৃথিবীর নানা দেশ থেকে বাঙালিরা তো বটেই বিদেশিরাও আসেন এই পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে, অংশগ্রহণ করতে। এই রকম উৎসব আরও হচ্ছে বাংলাদেশে—নবান্ন উৎসব, পৌষ উৎসব, শারদ উৎসব, বর্ষা উৎসব। এগুলোও বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে, বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল করছে। তো পরিবর্তন বলতে কিছু নেই। ব্যাপকতা বেড়েছে এবং একসময় স্বাধীনতার আগে মানুষ নির্ভয়ে করত। তখন ভয় থাকলেও সাহসটা তার চেয়ে শতগুণ বেশি ছিল। কিন্তু পঁচাত্তরের পরে যেন সাহসটা অনেকখানি গুটিয়ে রাখতে হয়েছে। এখন আবার আশা করি দিনটা ফিরছে। এখন আবার দিনটা হয়তো বাঙালির দিন হয়ে উঠবে।
লেখক: সংগীতশিল্পী

টেলিভিশনে বর্ষবরণ

cfrdtfd

কিছু ভুল কিছু অভিমান নাটকে তাহসান ও তিশা। আরটিভিতে আজ রাত ৯টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে নাটকটি। সাদিয়া আফরোজের গল্প থেকে নাট্যরূপ দিয়েছেন ও পরিচালনা করেছেন ইমরাউল রাফাতআজ পয়লা বৈশাখ। এ উপলক্ষে দেশের সব কটি টিভি চ্যানেলে থাকছে নানা অনুষ্ঠান। এর মধ্য থেকে বাছাই কিছু দেওয়া হলো এখানে।

.কিছু ভুল কিছু অভিমান নাটকে তাহসান ও তিশা। আরটিভিতেআজ রাত ৯টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে নাটকটি। সাদিয়া আফরোজের গল্প থেকে নাট্যরূপ দিয়েছেন ও পরিচালনা করেছেন ইমরাউল রাফাত

বদলে যাবার গল্প নাটকের দৃশ্য। গাজী টিভিতে আজ রাত ১১টায় প্রচারিত হবে নাটকটি। পরিচালনা করেছেন রেদওয়ান রনি। এতে অভিনয় করেছেন তানজিম ইমরান, ইফফাত তৃষা, সুমন পাটোয়ারী ও সৈকত প্রামাণিক।

এবং ভোরের গল্প নাটকে শখ ও নিলয়। বাংলাভিশনে আজ রাত ৯টা ৫০ মিনিটে প্রচারিত হবে নাটকটি। লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন শামীমা শাম্মীএবং ভোরের গল্প নাটকে শখ ও নিলয়। বাংলাভিশনে আজ রাত ৯টা ৫০ মিনিটে প্রচারিত হবে নাটকটি। লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন শামীমা শাম্মী

‘বন্ধু দয়াময়’ অনুষ্ঠানে সুষমা দাশ। লোকগানের এই অনুষ্ঠানটি দেশ টিভিতে প্রচারিত হবে আজ রাত পৌনে ১২টায়‘বন্ধু দয়াময়’ অনুষ্ঠানে সুষমা দাশ। লোকগানের এই অনুষ্ঠানটি দেশটিভিতেপ্রচারিত হবে আজ রাত পৌনে ১২টায়
জগতির এক রাত নাটকের দৃশ্য। মাছরাঙা টেলিভিশনেসন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে প্রচারিত হবে টেলিছবি জগতির এক রাত। পরিচালনা করেছেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড। এতে অভিনয় করেছেন আলিশা প্রধান, সুমনা সোমা, বিনয় ভদ্র, এস এম মহসীন প্রমুখ।
পাঁচফোড়ন
এটিএন বাংলায় আজ সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে প্রচারিত হবে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘পাঁচফোড়ন’। অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে পয়লা বৈশাখে এক দম্পতির মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়ে। আর এসব ঘটনার ফাঁকে ফাঁকে এসেছে নাচ, গান, নাটক ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন। এই দম্পতির চরিত্রে অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির ও শশী।
অনুষ্ঠানে বৈশাখ নিয়ে রয়েছে তিনটি গান। গেয়েছেন কিরণ চন্দ্র রায় ও শাহনাজ বেলী, রবি চৌধুরী ও দিনাত জাহান এবং মিলন মাহমুদ। রয়েছে মাটির তৈরি জিনিসপত্র আর বায়োস্কোপ নিয়ে দুটি প্রতিবেদন। বৈশাখের ওপর রয়েছে ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মক নাট্যাংশ।

জগতির এক রাত নাটকের দৃশ্যপ্রেম তুমি
এনটিভিতে আজ রাত নয়টায় প্রচারিত হবে নাটক প্রেম তুমি। লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন মিজানুর রহমান আরিয়ান। অভিনয় করেছেন অপূর্ব, মম, হিল্লোল, সুমন পাটওয়ারী, খালিকুজ্জামান প্রমুখ।
নয়নার পিছু পিছু যাচ্ছে সাইফ। নয়না তা বুঝতে পারে না। তার বাসার সামনে একটি গাড়ি এসে থামে। একটি ছেলে নেমে আসে। নয়নার হাতে তুলে দেয় একটি লাল শাড়ি। নয়নাকে সে ভালোবাসে। কিন্তু নয়নার হাতে আরেকটি লাল শাড়ি। দুই দিন পর তার বিয়ে।
জগতির এক রাত নাটকের দৃশ্য। মাছরাঙা টেলিভিশনে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে প্রচারিত হবে টেলিছবি জগতির এক রাত। পরিচালনা করেছেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড। এতে অভিনয় করেছেন আলিশা প্রধান, সুমনা সোমা, বিনয় ভদ্র, এস এম মহসীন প্রমুখ।

হাজারো কণ্ঠে নতুন বছরকে বরণ

ersr

এক হাজার শিল্পী সমবেত কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গেয়ে বরণ করে নিলেন বাংলা নতুন বছরকে। হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণের এই আয়োজনটি করেছিল চ্যানেল আই ও সুরের ধারা। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে পয়লা বৈশাখের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ছিল বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন ‘সানসিল্ক-চ্যানেল আই হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ ১৪২৩ ’। গত কয়েক বছর ধরেই এই আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
সকালে সুরের ধারার সভাপতি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে বর্ষবরণের এই আয়োজনে অংশ নেন নানা বয়সী এক হাজার শিল্পী। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ‘ওঠো ওঠো রে’ গানটি পরিবেশন করেন। পরে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় বর্ষবরণের অন্যান্য গান। এ ছাড়া গান করেন শিল্পী রফিকুল আলম, শাহীন সামাদ, রথীন্দ্রনাথ রায়, তপন মাহমুদ, আজিজুর রহমান, কোনাল, চ্যানেল আই এর রিয়্যালিটি শো বাংলার গানের শিল্পীরাসহ চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠের শিল্পীরা। ছিল দলীয় নাচ ও বৈশাখী পোশাকের ফ্যাশন শো।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রাখেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ ও শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও আফজাল হোসেন।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড বিল্ডিং ডিরেক্টর জাভেদ আকতারসহ দেশ ও বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানের শেষ হয় এলআরবির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। দলটি তাদের বেশ কিছু জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে। সব শেষে দলের সবাই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’ গানের কয়েকটি চরণ গেয়ে বিদায় নেন।
গত সন্ধ্যায় এই অনুষ্ঠানস্থলেই ছিল চৈত্রসংক্রান্তি উৎসব। সেই উৎসব ও আজকের এই আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করেছে চ্যানেল আই ও ভারতের জি বাংলা।

‘আমি মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছি’

bvgty
আপনাকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ। আপনাকেও শুভেচ্ছা। প্রথম আলোর সব পাঠককে জানাচ্ছি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন।
কী করছেন?
বাসায়ই আছি। আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুরা আসছেন। আড্ডা হচ্ছে আর খাওয়া দাওয়া তো আছেই।
শুনেছিলাম পয়লা বৈশাখে আপনার নতুন অ্যালবাম আসবে?
হ্যাঁ, তেমনটাই পরিকল্পনা করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত নানা কারণে হয়নি। অ্যালবামের নাম ‘পুষ্প বৃষ্টি’। আবদুল বারীর কথা ও সুর করা গান গেয়েছি এই অ্যালবামে। সংগীত পরিচালনা করেছেন বাপ্পা মজুমদার ও ইবরার টিপু। এখন ভাবছি অ্যালবামটি ঈদে শ্রোতাদের হাতে দেব।
সামিনা চৌধুরীঈদের জন্য আর কোনো প্রস্তুতি আছে?
আমার বোন ফাহমিদা নবীর সঙ্গে একটি অ্যালবাম করব। সবকটি গানের কথা লিখেছেন জুলফিকার রাসেল, সুর করেছেন নচিকেতা। সংগীত পরিচালনা করেছেন বাপ্পা মজুমদার ও পঞ্চম। এই অ্যালবামটিও ঈদে বাজারে আসবে।
‘বৈশাখ দেয় হাঁক’ গানটি তো আগেই শুনেছি।
এই গানটি আমার ‘বন্ধু চাই’ অ্যালবামের। লিখেছেন জুলফিকার রাসেল, সুর করেছেন রাঘব চট্টোপাধ্যায়। গত বছর বেরিয়েছে। এই অ্যালবামের উবে আপনারজন্য আমি এবার ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ আয়োজনে নমিনেশন পেয়েছি।
ইউটি এই গানের মিউজিক ভিডিও দেখেছি।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আজই দিয়েছি। যেহেতু পয়লা বৈশাখে অ্যালবামটি শ্রোতাদের দিতে পারিনি, তাই ‘বৈশাখ দেয় হাঁক’ গানের মিউজিক ভিডিও তৈরি করেছি। গানটির সঙ্গে বৈশাখ মিশে আছে, তাই আমি এই সময়টাকেই বেছে নিয়েছি। মিউজিক ভিডিওটি এখন গান বাংলায় নিয়মিত দেখানো হচ্ছে।
নিজের গানের মিউজিক ভিডিও আপনি নিজেই তৈরি করেন। এমন আগ্রহ কেন হলো?
আমি নিজে মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করব, এমনটা আগে কখনো ভাবিনি। বছর পাঁচেক আগের ঘটনা। এনটিভিতে ঈদে আমার একক গানের অনুষ্ঠান হবে। এনটিভির অনুষ্ঠানপ্রধান মোস্তফা কামাল সৈয়দ চাচা গানগুলোর মিউজিক ভিডিও আমাকেই পরিচালনা করতে বললেন। বলতে পারেন তাঁর অনুপ্রেরণাতেই আমিঅনু মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছি।
ষ্ঠানটির নাম মনে আছে?
‘দূর পারি’।
এরপর?
কয়েক বছর আগে আমি রবীন্দ্রসংগীতের একটি অ্যালবাম বের করেছিলাম। নাম ‘তোমার খোলা হাওয়া’। এই অ্যালবামের পাঁচটি গানের মিউজিক ভিডিও তৈরি করেছিলাম চ্যানেল আইয়ের জন্য। ওটা ছিল আমার একক অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে প্রচারিত হয়েছিল।
‘বৈশাখ দেয় হাঁক’ আপনার একাদশ মিউজিক ভিডিও?
হ্যাঁ।
মিউজিক ভিডিও পরিচালনার সময় আপনি কোন দিককে গুরুত্ব দেন?
যেহেতু গানগুলো আমার নিজেরই গাওয়া, তাই গানের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়, এমন একটি অণুগল্প তৈরি করি। সেই গল্পকে সামনে রেখে শুটিংয়ের পুরো পরিকল্পনা হয়। আমি চাই, দর্শক যেন পুরো ব্যাপারটি উপভোগ করেন।
‘বৈশাখ দেয় হাঁক’ গানের মিউজিক ভিডিওর গল্পে কী ভাবনা রেখেছেন?
বৈশাখ, প্রকৃতি, আনন্দ। উৎসবের একটা ভাব রাখতে চেয়েছি।
পয়লা বৈশাখের ব্যস্ততা কেমন?
সকালবেলায় তেমন কিছু নেই, তবে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েকটি অনুষ্ঠানে গান করব।
আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এই কামনা করছি।
ধন্যবাদ।
সাক্ষাৎকার: মেহেদী মাসুদ