ফেরদৌসের ‘ধূম্রজাল’!

frds

রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দরের কাছে ফাঁকা একটি জায়গা। চারপাশে লোকজন নেই। হঠাৎ কয়েকটি গাড়ি সাঁই সাঁই করে এসে থামল। পেছনের গাড়ি থেকে একজন দৌড়ে এসে সামনের গাড়ির দরজা খুলে দিলেন। গাড়ি থেকে বের হলেন অভিনেতা ফেরদৌস! চোখে রঙিন চশমা। পরনে কালো পোশাক। গাড়ি থেকে নেমেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজনকে এক নজরে দেখে নিলেন। একজন তাঁর হাতে ধরিয়ে দিলেন কোটি টাকার একটি চেক। একটি টেলিছবির শুটিংয়ের কথা হচ্ছিল এতক্ষণ। টেলিছবিতে একজন গডফাদার চরিত্রে দেখা যাবে ফেরদৌসকে। আসছে ঈদ উপলক্ষে ধূম্রজাল নামে একটি টেলিছবিতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করলেন ফেরদৌস। টেলিছবিটি রচনা করেছেন সাফরাত কবির। এটি পরিচালনা করছেন আবীর খান।
অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘বলতে পারেন পারিবারিক অনুরোধেই কাজটি করা। তবে গল্পটি মজার ছিল। টেলিছবিটির নাম যেমন ধূম্রজাল, তেমনি পুরো গল্পটাই একটি জালের মতোই। গল্পটিতে অনেক রহস্য থাকবে।’
ফেরদৌস আরও জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে হুফমায়ূন আহমেদের একটি টিভি নাটকে কাজ করেছিলেন তিনি। বিশেষ চরিত্রে কাজ করলেও ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের আপাতত ইচ্ছা নেই।
পরিচালক জানালেন, থ্রিলারধর্মী এই টেলিছবিতে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের লোভ ও তার পরিণাম। যেখানে একজন ঘরসংসার ছেড়ে শুধু টাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ঢাকার উত্তরা, রূপগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে টেলিছবিটির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। আরও এক দিন দৃশ্য ধারণ বাকি রয়েছে। এটি আসছে ঈদে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, বাঁধন, প্রিয়া আমান ও সাফরাত কবির।

বিসিবির ছাড়পত্র পেলেন না পেসার শাহাদাত

fdd

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীবকে খেলার ছাড়পত্র দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শাহাদাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

ডিসিপ্লিনারি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের আসর। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম বৃহৎ এই আসরে খেলার জন্য বিসিবির অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব, যিনি শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছেন। তবে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ার আগ পর্যন্ত শাহাদাতকে নিষিদ্ধ রাখার বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, শাহাদাতের বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন। এ ব্যাপারে আমরা সুস্পষ্ট কিছু জানতে পারিনি। যে কারণে তার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। যদি আদালত তার পক্ষে রায় দেন, সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এবারের ডিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটে শাহাদাত হোসন রাজীবের নাম না থাকলেও পরবর্তীতে তাকে দলে নিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শনিবার মোহামেডানের হয়ে অনুশীলনও করেছেন তিনি। কিন্তু বিসিবি অনুমতি না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাঠে ফেরা হচ্ছে না বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলা এই পেসারের।

রাখাইনদের পানিখেলা উৎসবে

huyyr6te7

বাংলাদেশর প্রধান দুটি সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ও কুয়াকাটার আশপাশে বসবাস করেন রাখাইন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রচুর মানুষ। এ নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের আকর্ষণীয় অংশ হল পানিখেলা। কক্সবাজার শহর এবং আশপাশের রাখাইন আধিবাসীরা এ পানিখেলার আয়োজন করেন ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল।

সাগরকন্যা কুয়াকাটা এলাকায় বসবাসরত রাখাইন সম্প্রদায়ও একই সময়ে পানিখেলা বা জলকেলি উৎসবের আয়োজন করে।

কক্সবাজার

কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় বিভিন্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করেন বাংলা নববর্ষ। চৈত্র সংক্রান্তি থেকে এ উৎসব শুরু হয়ে চলে প্রায় সপ্তাহজুড়ে। তবে এর আকর্ষণীয় পর্ব পানি খেলা শুরু হয় বৈশাখের চতুর্থ দিন থেকে। আর চলে ষষ্ঠ দিন পর্যন্ত।

ইংরেজী তারিখ হিসেবে রাখাইনদের এ পানি খেলা হয় ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল।

কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের এ উৎসবের মূল জায়গা হল শহরের খ্যায়াং পাড়া, হাংগর পাড়া, মাঝপাড়া, বড় বাজার, মাছপাড়া, চাউল বাজার ও টেকপাড়া। বাড়ির আঙিনায় আঙিনায় এখানে চলে পানি খেলার আয়োজন। সঙ্গে রাখাইন সম্প্র0দায়ে সব বয়সের নারী পুরুষের সম্মিলিত নাচ আর গান।

মূল উৎসবে রাখাইন যুবকরা বাদ্য আর গানের তালে তালে এসে উপস্থিত হন বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায়। সেখানে ফুলে ফুলে সুজ্জিত প্যান্ডেলের ভেতরে পানি নিয়ে অপেক্ষা করেন রাখাইন তরুণীরা। চলে একে অপরকে পানি ছিটানো।

পানিকে পবিত্রতার প্রতীক ধরে নিয়ে রাখাইন তরুণ-তরুণীরা পানি ছিটিয়ে নিজেদের শুদ্ধ করেন। পুরানো বছরের সব কালিমা আর জীর্ণকে ধুয়ে নতুন বছর বরণ করে নেন তারা। এ উৎসব উপলক্ষে এ সময়ে সবাই নতুন পোশাক পরেন।

রাখাইনদের এ জলকেলি উৎসব দেখার পরে বেড়াতে পারেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও।

কক্সবাজার শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার হাইটুপি, টেকনাফের খ্যায়াংখালী ও চৌধুরী পাড়া এবং মহেশখালী উপজেলা শহরেও পানিখেলার আয়োজন করেন স্থানীয় রাখাইন অধিবাসীরা।

যাতায়াত ও থাকা

সড়ক ও আকাশ পথে ঢাকা থেকে সরসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে সড়কপথে টি আর ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন সার্ভিস, দেশ ট্রাভেলস, সোহাগ পরিবহন, গ্রিনলাইন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজের, এসি বাস কক্সবাজার যায়। ভাড়া ১ হাজার ৬শ’ থেকে ২ হাজর ৫শ’ টাকা। এছাড়া এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল প্রভৃতি পরিবহনের নন এসি বাসও চলে এ পথে। ভাড়া ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভো এয়ার, ইউএস বাংলা এয়ার, রিজেন্ট এয়ার ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান যায় সৈকত শহর কক্সবাজারে।

কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন মানের বেশ কিছু হোটেল রিসোর্ট রয়েছে। পাঁচ তারকা থেকে শুরু করে সব ধরনের হোটেল আছে এ জায়গায়। কক্সবাজারে সাধারণত ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকায় হোটেল কক্ষ মিলবে। এসময়ে কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে ‘অফ সিজন’ ছাড় পাওয়া যাবে।

কুয়াকাটা

রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম সামাজিক এ উৎসব দেখা ছাড়াও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দেখে আসতে পারবেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় জলকেলি উৎসবের আয়োজন থাকে গোড়া আমখোলা পাড়ায়। এতে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রাখাইন তরুণ-তরুণীরা এ উৎসবে যোগ দেন। তাদের বিশ্বাস এ দিনগুলোতে পরস্পরের প্রতি পানি ছুড়ে পাপ পঙ্কিলতাকে ধুয়ে ফেলা যাবে।

উৎসবে রাখাইন তরুণ-তরুণীদের সংগীত আর রাখাইন নৃত্যও উপভোগ্য।

যাতায়াত ও থাকা

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার সহজ উপায় হলো লঞ্চে বরিশাল কিংবা পটুয়াখালী গিয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা।

ঢাকার সদরঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র রকেট স্টিমার পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ এবং পিএস লেপচা, পিএস শেলা, পিএস টার্ন এবং এমভি বাঙ্গালী ও মধুমতিতে বরিশাল যাওয়া যায়।

এছাড়াও সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাতে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছাড়ে এমভি সুন্দরবন, এমভি সুরভী, এমভি ফারহান, এমভি দ্বীপরাজ, এমভি কীর্তনখোলা, এমভি কালাম খান, এমভি পারাবাতসহ বিভিন্ন লঞ্চ।

ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যায় এমভি দ্বীপরাজ, এম ভি সৈকত, এম ভি সুন্দরবন, এম ভি রেড সান ইত্যাদি লঞ্চ।

বরিশালের রূপাতলী বাস স্টেশন ও পটুয়াখালী আন্তঃজিলা বাস স্টেশন থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় কুয়াকাটার বাস আছে।

এছাড়া ঢাকার গাবতলী থেকে সাকুরা পরিবহন, সুরভী পরিবহন, দ্রুতি পরিবহনের বাসেও সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়া যায়।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ইয়ুথ ইন ও পর্যটন হলিডে হোমস ছাড়াও বিভিন্ন মানের হোটেল আছে।

বিপাশার ‘প্রাক্তন’বিহীন বিয়ে

ui9yub

আর মাত্র দু সপ্তাহ। তারপরই মিসেস কারান সিং গ্রোভার বনে যাচ্ছেন বিপাশা বসু। এরই মধ্যে অতিথিদের হাতে পৌঁছে গেছে দাওয়াতপত্র। তবে বিপাশার সাবেক প্রেমিকদের কেউ বিয়েতে নিমন্ত্রণ পাননি।

টিভি তারকা থেকে বলিউডের নায়ক হয়ে ওঠা কারান সিং গ্রোভারের সঙ্গে প্রেমটা খুব পুরোনো নয় বিপাশার। আর তার আগে বেশ কয়েক জন সহশিল্পীর সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করেছেন এই বাঙালি সুন্দরী।

মডেলিং-এর দিনগুলিতে তার সঙ্গী ছিলেন ডিনো মোরিয়া। ১৯৯৬ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত টিকেছিল তাদের সম্পর্ক। এরপর ‘জিসম’-এর সেটে পরিচয় জন অ্যাব্রাহামের সঙ্গে। ২০১১ পর্যন্ত জনের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বাস করেছেন তিনি।

প্রেমে জড়িয়েছেন হারমান বাওয়েজার সঙ্গেও। তবে সে প্রেম টিকেছিল মাত্র ১১ মাস।

২০১৫ সালের শুরু থেকেই প্রেম করছেন ‘অ্যালোন’ সহশিল্পী কারান সিং গ্রোভারের সঙ্গে। কিছুদিন আগেই ঘোষণা দিয়ে এই জুটি নিশ্চিত করেছেন বিয়ের খবর।

মজার ব্যাপার হলো, ডিনো মোরিয়াকে দাওয়াত না দিলেও, তার প্রেমিকা নন্দিতা মাঠানির হাতেই বিপাশা সঁপেছেন বিয়ের সকল দায়ভার। কারান-বিপাশার ওয়েডিং প্ল্যানার যে তিনিই। কাজেই শেষ পর্যন্ত ডিনোকে নিজের বিয়েতে এড়াতে পারবেন কি না সেটা সময়ই বলে দেবে।

‘গানের অ্যালবাম হয়ে গেছে স্মৃতিচিহ্ণ’

vg

২০০১ সালে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ গানেরটির মাধ্যমে হঠাৎ করেই গানের জগতে আগমন শিল্পী আসিফ আকবরের।

এক দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সিনেমায় প্লেব্যাক এবং ত্রিশটিরও বেশি অ্যালবামের মাধ্যমে এদেশের সংগীত জগতে গড়ে নিয়েছেন নিজের পাকাপোক্ত আসন। সম্প্রতি বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের বিদ্যমান সম্যসা, সংগীতের গতিপথ ও সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে গ্লিটজের সাথে কথা বললেন দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই শিল্পী।

গ্লিটজ: গানের কপিরাইট কার পাওয়া উচিত?

আসিফ আকবর: আন্তজার্তিক আইন অনুযায়ী কিংবা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও কোম্পানী, শিল্পী, সুরকার সবাই প্রতি মাসে একটি র্নিদিষ্ট পরিমানে রেভিনিউ পেয়ে থাকেন, যা ১৯৪৩ সাল থেকেই তাদের দেশে চালু রয়েছে। এছাড়াও তাদের দেশে শিল্পীদের যে সোসাইটি রয়েছে, তার মাধ্যমে যে কোনো শিল্পী কোথায় গান করছেন, কার গান গাইছেন ইত্যাদি বিষয়ে আগেই একটি তালিকা দেওয়ার মতো বাধ্যবাধকতাও কপিরাইট সোসাইটির মাধ্যমে রয়েছে।

এমন ধরনের কোনো ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে গড়ে ওঠেনি। এখন যা হচ্ছে তা বিচ্ছিন্নভাবে হচ্ছে। শিল্পী ও প্রযোজক মুখোমুখি হওয়ার কারণেই এই সম্যসাটা তৈরি হয়েছে। আমার মনে হয় আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টা শেষ করে ফেলা উচিত। নইলে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকতে থাকবে।

গ্লিটজ: গানের অ্যালবাম মানেই হলো সেখানে শ্রোতাদের জন্য ৮/১০টি গান থাকবে। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক গান নিয়ে বাজারে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শিল্পীর গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন এবং এক্ষেত্রে শ্রোতারা কি ঠকছেন বলে মনে করেন?

আসিফ আকবর:
না, এটা একদমই ঠিক না। এখন গানের অ্যালবাম হয়ে গেছে সুভেনিয়্যার (স্মৃতিচিহ্ণ)। ইনফ্যাক্ট এখন অ্যালবামের পাঁচশ, এক হাজার কপি প্রকাশ করা হয় শুধুমাত্র পরিচিত মানুষকে উপহার দেওয়ার জন্য। এখনকার সময়ে অ্যালবাম বলে আর কোনো শব্দ নেই। এখন সব কিছুই হয়ে গেছে অনলাইন প্রোডাকশন। টেলকো প্রোডাকশনও চলে আসছে।

একটি গান নিয়ে গানের অ্যালবাম প্রকাশ করা হলে এটা সেই শিল্পীর ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু শ্রোতাদের জন্য অ্যালবামের যে মূল কনসেপ্ট তা এখন আর নেই। সুতরাং অনলাইনে যে ডিস্ট্রিবিউশন হচ্ছে সেটার সাথে তাল মিলিয়ে একটা সময়ে হয়ত সুভেনিয়্যার প্রকাশ করা হবে; গানের অ্যালবাম না। আর শ্রোতারা কেন ঠকবে? আগে একটি গানের অ্যালবাম হয়তো দুই লাখ, তিন লাখ, পাঁচ লাখ কপি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন ইউটিউবের মাধ্যমে দশ লাখ, বিশ লাখ, পঞ্চাশ লাখ শ্রোতা গান শুনতে পারছেন। এটাতো আরো ভাল। আমি সব কিছু খুব ইতিবাচকভাবেই দেখি।

গ্লিটজ: আমরা অনলাইন বিতরণের দিকে যদি ঝুঁকে পড়ি সেক্ষেত্রে এতো আয়োজন করে গানের মোড়ক উম্মোচনের অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতা কী?

আসিফ আকবর: আমি তো কাউকে উপহার হিসেবে একটি গানের লিঙ্ক দিতে পারবো না। আমি কাউকে একটি টেলিফোনের কোড উপহার দিতে পারবো না। সেক্ষেত্রে আমাকে একটি ফিজিকাল অ্যালবাম প্রকাশ করতে হবে। এটা এক ধরনের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, আর কিছুই না। আর গানের অ্যালবাম প্রকাশের পরই মিডিয়ায়, পত্রিকায়, টেলিভিশনগুলোতে নিউজগুলো প্রকাশিত হয়। এটা একজন শিল্পীর জন্য অ্যাডভান্টেজ। কারণ এখন এতো বেশি কাজ হচ্ছে, এতো বেশি সংখ্যায় গান তৈরি হচ্ছে যেখান থেকে বের হওয়ার জন্য যথোপযুক্তভাবে কিছু করার কোনো উপায় নেই। সেক্ষেত্রে অ্যালবাম প্রকাশ করলে একটা ফোকাসে থাকে। এই ফোকাসটার জন্যই আসলে অ্যালবাম প্রকাশ করা।

গ্লিটজ: এখনকার সময়ে প্রতিনিয়ত নতুন শিল্পীরা আসার ফলে অগ্রজরা কি স্পটলাইটের বাইরে চলে যাচ্ছেন বলে মনে হয়?

আসিফ আকবর: না, মোটেই এমন কোনো কিছু হচ্ছে না। এখনও আমরা অনেক ভাল অবস্থানেই রয়েছি। সবাই গান করছেন। এখনকার পৃথিবী উম্মুক্ত। আমরা এখন গুগলগ্রামে বসবাস করি। এখনকার সময়ে কে গান গাইবে আর গাইবেনা, কে প্রমিনেন্ট, কে নতুন, বিখ্যাত কে আর কে অখ্যাত, কার সুরেলা কণ্ঠ কিংবা কে বেসুরে গান করলো- এসব বাছবিচার আর নেই। এখন পুরে বিশ্ব উম্মুক্ত। যে কেউই মানুষের কাছে নিজের গানটি উপস্থাপন করতে পারে। মানুষ গানটি গ্রহণ করলে করবে আর না করলে নাই।

গ্লিটজ: মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রিতে টেলিফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসাটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

আসিফ আকবর: এক্ষেত্রে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো পজিটিভলি কাজ করছে। তারা তাদের ভূলগুলোও শুধরে নিয়েছে। কিন্তু বাকি টেলিফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। তারা কোনো পারিশ্রমিক প্রদান করছেন না। তারা বিভিন্ন শিল্পীকে ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাওনা পরিশোধে বিলম্ব করছেন। কেবলমাত্র একটি টেলিফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোনো আসল প্রতিষ্ঠান নাই। সবগুলো ফেইক। সবাই ফেইক বিজনেস করছে। তারা মনোপলি ব্যবসা করছেন।

গ্লিটজ: ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও নির্মানের বিষয়টি একজন শিল্পীর জন্য কতটুকু ইতিবাচক?

আসিফ আকবর: এখন তো একটি গান শোনার সাথে সাথে দেখতেও হয়। ইউটিউবে একটি গান আপলোড করলে যতটুকু শুনবে কিন্তু একটা মুভমেন্ট থাকলে তা আরো বেশি দেখা হবে। ভিডিও স্ট্রিমিং এখন একটা কাউন্টেবল স্থানে চলে এসেছে, যেখান থেকে মুনাফা আসা সম্ভব। কাজেই এটা খুবই ইতিবাচক।

গ্লিটজ: পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে বাংলাদেশের গানের অবস্থান কোথায় আছে বলে মনে করেন?

আসিফ আকবর: বাণিজ্যিক জায়গা থেকে কলকাতা সফল। পাশাপাশি তারা নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এবং আমাদের কাছ থেকে তারা এখন লোক সংস্কৃতি শিখছে বা আমি বলবো এটা তারা নিজেদের ভেতরে ধারণ করছে। সেই দিক থেকে আমাদের সংগীত ওদের সংগীতের ওপর আগ্রাসান চালাচ্ছে! এই দিক থেকে আমরা বেশ এগিয়ে আছি।

আর কলকাতা হলো একটা শহর, পশ্চিমবঙ্গ একটা প্রদেশ কিন্তু আমরা একটা স্বাধীন দেশ। একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখবেন ভারতের দক্ষিণেও সারা বিশ্বে দেখানোর মতো ‘বাহুবলি’, ‘মাগাধিরা’র মতো সিনেমা তৈরি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের এমন একটি উপস্থাপনা দিতে হবে যেন আমাদের বাজারটা বড় হয়। আর এই বাজারটাকে বড় করতে হলে ঐ প্রান্তের বাংলা ভাষাভাষী ও এই প্রান্তের বাংলা ভাষাভাষী সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে হবে। আর এটা সংগীত ও সিনেমার মাধ্যমেই সম্ভব।

গ্লিটজ: বাংলাদেশের সংগীত কি আদৌ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের স্বীকার?

আসিফ আকবর: আমাদের যে সংস্কৃতি আছে তা একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাড়িয়ে আছে, দাড়িয়ে থাকবে। আমাদের প্রতিটি জেলায় আলাদা আলাদা সংস্কৃতি রয়েছে। প্রকারভেদে কখনো দেখা যায়, একটি জেলাতেই তিন-চারটে সংস্কৃতি রয়েছে। আমাদের সংগীতের নেটওয়ার্কিংটা অত্যন্ত শক্তিশালী। বতর্মানে যেসব লোক সঙ্গীতগুলো শুনে থাকি – লালন শাহ, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম তাদের মতো এমন শিল্পী আর কোথা থেকেই বা আবার আসবে কিংবা তাদেরকে কেউ মেরেও ফেলতে পারবেনা।

হয়তো কালের গর্ভে কিছু গান হারিয়ে যাবে। কিছু গান হয়তো মানুষ গ্রহণ করবে না। কিন্তু গান চলছে গানের গতিতে। গান তৈরি হচ্ছে, শ্রোতারা গান শুনছে, হয়তো আগের মতো গান টিকছে না। কিন্তু কোনো না কোনো ভাবে গান বেরিয়ে আসছে এবং শ্রোতারা গান শুনছে।

গ্লিটজ: আমাদের বাংলা গান কোন দিকে যাচ্ছেন বলে মনে করেন?

আসিফ আকবর: এখন সিস্টেম লস চলছে, পুরোটাই একটা ভ্যাকুয়্যামে রয়েছে। আমি আমার ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে পারদর্শী হলেও অনেক শিল্পীই এই ঝামেলার মধ্যে নিজেকে জড়াতে চাইবেন না। তারা কারিগরী দিকটি ভালমতো বুঝতে চাইবেন না। কারণ একজন শিল্পী কখনোই তা চাইবে না। তবে আস্তে আস্তে এই সচেতনা বাড়াতে হবে। আমি বিশ্বাস করি তা হয়ে যাবে। একটু সময় লাগবে, কারণ নতুন কিছু আসলে তা খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। বলতে গেলে আমরা একটা ট্রানজ্যাকশন পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আমরা ভালোর দিকেই যাচ্ছি।

শুষ্ক হাত পায়ের যত্নে

vy76gtf

মুখের ত্বকের যত্ন নিয়মিত নিলেও অনেক সময় হাত-পায়ের দিকে খেয়াল করেন না অনেকেই। ফলে হাত ও পায়ের ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে। ত্বকের এমন শুষ্কতা খুব অস্বস্তিদায়ক। অনেকের পানিতে হাত ধুলেই হাত সাদা হয়ে যায়। আঙুলের ফাঁকের ত্বক উঠে যায়। পায়ের ত্বকের এমন হতে পারে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় এসব সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অধ্যাপক রেজা বিন জাভেদ বলেন, বংশগত বা জিনগত কারণে অনেকের ত্বকে তেল গ্রন্থিগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকে। ফলে ত্বকের প্রয়োজনমতো তেল নিঃসৃত হয় না। তাই শুষ্কতা দেখা যায়। আবার কিছু রোগের কারণেও হতে পারে। যেমন একজিমা, সোরিয়াসিস ইত্যাদি চর্মরোগের জন্য ত্বক রুক্ষ হয়। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পানিশূন্যতার কারণেও ত্বক শুষ্ক হতে পারে। ময়েশ্চারাইজার লোশনে কাজ না হলে সমস্যা চিহ্নিত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ত্বক সুন্দর রাখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত যত্নের। রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন বলেন, ত্বক শুষ্ক হলে পানির কাজ করার পরেই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। অনেকের পা ফেটে চামড়া উঠে যায়। এমনকি রক্তও বের হতে পারে। তাই প্রয়োজন হাত-পায়ের ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখা, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন প্যাডিকিওর, মেনিকিউর করা। হাতের ত্বক মসৃণ করতে অলিভ অয়েল ১ চামচ, ৫ চামচ লবণ, ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে স্ক্রাব করতে পারেন।œএ ছাড়া বাজারে হ্যান্ড ক্রিম ও পা ফাটা রোধের জন্য বিশেষ ক্রিম পাওয়া যায়। সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
জেনে নিন
* সারা দিনে বারবার ময়েশ্চারযুক্ত লোশন ব্যবহার করুন।

* রাতে ঘুমানোর আগে হাত-পায়ে অলিভ অয়েল, গ্লিসারিন বা লোশন ব্যবহার করুন।
* শুষ্ক স্থানে মধু ও অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করে দু-তিন মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
* পরিমিত পানি পান করুন।
* অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করে সুষম খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করুন।
* প্রয়োজনে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান।

শিশুর ঘামাচি: কী করবেন

huiuh

গ্রীষ্মের দাবদাহে ছোটরা এমনিতেই অস্থির। এর মধ্যে শরীরে ঘামাচি হলে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়ে। এটি মূলত ঘর্মগ্রন্থির সমস্যা। শরীরে ঘাম তৈরি হলে ওই গ্রন্থির মাধ্যমে তা ত্বকের উপরিভাগে চলে আসে। প্রচণ্ড গরমে ঘাম অনেক বেশি তৈরি হয়, তখন এত বেশি পরিমাণ ঘাম ঘর্মগ্রন্থির ছিদ্রপথে বেরোতে পারে না। ফলে তা ত্বকের নিচে এসে জমা হতে থাকে এবং সে স্থান ফুলে ওঠে। এভাবেই ঘামাচি তৈরি হয়, সেই সঙ্গে থাকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া।
গরমে শিশুদের ঘামাচি থেকে বাঁচাতে করণীয়:
* ঘামাচিগুলোকে নখ দিয়ে খোঁচানো যাবে না।
* পাতলা কাপড় সামান্য ভিজিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিন। কাপড়ের ভেতর বরফকুচিও ব্যবহার করতে পারেন।
* শিশুকে যথাসম্ভব শীতল পরিবেশে রাখুন। ফ্যান বা পাখা চালাতে বাধা নেই। ফ্যানের বাতাসে শিশুর ঠান্ডা লাগার ভয় নেই, তার চেয়ে গরমে ঘাম থেকে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা বেশি।
* গরমের দিনে শিশুকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে কোনো অ্যান্টিসেপ্টিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
* শিশুকে হালকা সুতির কাপড় পরান ও প্রচুর পানি পান করান।
* গরমে তেল, লোশন একেবারেই ব্যবহার করবেন না। তবে ঘামাচি পাউডার দিতে পারেন।
লালচে দানার মতো দেখতে সব ফুসকুড়ি বা র্যাশই কিন্তু ঘামাচি নয়। তাই এ ধরনের র্যাশের সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য জটিলতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. আবু সাঈদ
শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: বেশিক্ষণ টিভি দেখলে কি চোখের ক্ষতি হয়?
উত্তর: দীর্ঘ সময় টিভি দেখলে চোখে ক্লান্তি আসে। চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং চোখে অস্বস্তি হয়। দীর্ঘদিন এভাবে অনেকটা সময় ধরে টিভি দেখলে ধীরে ধীরে চোখের স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
অধ্যাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ
বিভাগীয় প্রধান, চক্ষু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

‘অন্য গ্রহের’ মেসির কাছে রেকর্ড হারাতে দুঃখ নেই বাতিস্তুতার

ftcxu

কীভাবে ব্যাপারটা ঘটে গিয়েছিল, সেটা নাকি বুঝতেই পারেননি গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। ১৯৯১ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের পর একদিন দেখলেন, তিনি দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে! তবে দেশের জার্সিতে তাঁর ৫৬ গোল এখন হুমকির মুখে। আর ৬টি গোল করলেই বাতিস্তুতাকে ছুঁয়ে ফেলবেন লিওনেল মেসি। এত দিন শীর্ষে থাকার পর নিজের স্থানটি অন্যকে ছেড়ে দিতে কারই–বা ভালো লাগে! বাতিস্তুতাও ব্যতিক্রম নন। তবে তিনি সান্ত্বনা খুঁজছেন অদ্ভুত এক উপায়ে!
বাতিস্তুতা সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলে। ১৯৯৬ সালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলেছিলেন বাতিস্তুতা, ‘আমি একেবারেই বুঝতে পারিনি, কীভাবে ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেললাম। একদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, আমি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গিয়েছি।’
দেশের আকাশি-নীল জার্সিতে ৭৮ ম্যাচে ৫৬ গোল বাতিস্তুতার। বিশ্বকাপে দুই হ্যাটট্রিকসহ (১৯৯৪ সালে গ্রিস ও ১৯৯৮ সালে জ্যামাইকার বিপক্ষে) তাঁর গোলসংখ্যা ১০। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাতিস্তুতা বলেছেন, ‘নিজের রেকর্ড ভাঙতে দেখলে কার মনে দুঃখবোধ তৈরি হয় না, বলুন তো! তবে আমার একটা সান্ত্বনা আছে। আমার রেকর্ডটি এই গ্রহের কেউ ভাঙছে না!’
২০০৬ সালে খেলা ছাড়ার পর ফুটবলের সঙ্গে সেভাবে আর নিজেকে জড়াননি বাতিস্তুতা। কিছু দিন আগে নিজের পুরোনো ক্লাব ফিওরেন্টিনা থেকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তা গ্রহণ করেননি আর্জেন্টনার সাবেক নাম্বার নাইন। কেন করেননি? বাতিস্তুতার উত্তরটা খুব মজার, ‘ফিওরেন্টিনায় আমি অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। কোচ হয়ে সেটা হারানোর ঝুঁকি নিতে চাই না।’ সূত্র: গোল ডটকম।

আর্জেন্টিনার পক্ষে সর্বোচ্চ পাঁচ গোলদাতা
১. গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা—৫৬ গোল
২. লিওনেল মেসি—৫০ গোল
৩. হার্নান ক্রেসপো—৩৫ গোল
৪. ডিয়েগো ম্যারাডোনা—৩৪ গোল
৫. সার্জিও আগুয়েরো—২৯ গোল

সাকিবদের সঙ্গে পারলেন না মুস্তাফিজরা

bn gh

মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হয়ে গেলেন আন্দ্রে রাসেল। ছবি: এএফপিক্রিকেট এখন ব্যাটসম্যানদের খেলা, টি-টোয়েন্টি তো আরও বেশি। বোলারের গতিতে পরাস্ত হয়ে উইকেটের ওপর ব্যাটসম্যানের মুখ থুবড়ে পড়ার দৃশ্য তো এখন ভাবাই যায় না। হায়েদরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের দর্শকদের কাল সেই সৌভাগ্য হলো মুস্তাফিজের সৌজন্যে। মুস্তাফিজুর রহমানের দূদান্ত ইয়র্কারে আন্দ্রে রাসেল শুধু বোল্ডই হলেন না, একেবারে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে পড়লেন উইকেটের ওপরই। ম্যাড়মেড়ে ম্যাচে তবু ফিরল না উত্তেজনা। মুস্তাফিজের উচ্ছ্বাসও তাই সীমাবদ্ধ এক টুকরো হাসিতে।

কাল ছিল আইপিএলের ‘বাংলাদেশ’ ম্যাচ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-কলকাতা নাইট রাইডার্স ম্যাচটি তো রূপ নিয়েছিল ‘সাকিব-মুস্তাফিজ’ ম্যাচেই! তবে ম্যাচের আগেও অনিশ্চয়তা ছিল, শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের জায়গা হবে তো কলকাতা দলে? আগের দুই ম্যাচে তাঁর না খেলাই এই দুশ্চিন্তার কারণ। সব দুশ্চিন্তা দুরে সরিয়ে কাল মাঠে নামলেন সাকিব। বলও করলেন ৩ ওভার, ১৮ রান দিয়ে থাকলেন উইকেট শূন্য। অন্য বোলাররাও সাকিবের মতো কৃপণ থাকায় মুস্তাফিজের দল করতে পারল মাত্র ১৪২ রান।
তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে আসা ৯২ রানেই ম্যাচের ফল প্রায় নির্ধারণ করে ফলে কলকাতা। মুস্তাফিজের দুর্দান্ত সেই ইয়র্কার কিংবা অননুমেয় কাটারেও কোনো লাভ হয়নি। কলকাতা ম্যাচ জিতে যায় ৮ উইকেটে, ১০ বল হাতে রেখেই। সাকিবকেও নামতে হয়নি ব্যাটিংয়ে। ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে মুস্তাফিজ পেয়েছেন শুধু রাসেলের উইকেটটিই।

গানের শুটিংয়ে জ্ঞান হারালেন নার্গিস

btfc7l

চলছিল গানের দৃশ্যধারণ। চলমান ক্যামেরার সামনেই জ্ঞান হারিয়ে পরে যান বলিউড অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরি। চিকিৎসক এসে দেখলেন জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে তাঁর শরীর। ভারতের ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ আজহার উদ্দিনের জীবনের ওপর নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘আজহার’। এ ছবির নায়িকার চরিত্রে কাজ করছেন নার্গিস।
এক মাসের মধ্যে মুক্তি পাবে ছবিটি। অথচ বেশ খানিকটা কাজ এখনো কিছু বাকি রয়ে গেছে। তাই গায়ে জ্বর নিয়েই কাজ করছিলেন নার্গিস ফাখরি। এই ছবিতে আজহারের ক্রিকেট জীবনের উল্লেখযোগ্য সময়ের প্রায় সবটাই দেখা যাবে। এমনকি সঙ্গীতা বিজলানির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও বাদ যাবে না। আজহারের স্ত্রী সঙ্গীতা বিজলানীর চরিত্রেই অভিনয় করছেন নার্গিস।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন টনি ডি’সুজা। নার্গিসের নায়ক মানে আজহারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইমরান হাসমি। আগামী ১৩ মে মুক্তি পাবে ছবিটি। বলিউড হাঙ্গামা

সামিনা নাফিজের ‘বৈশাখ এবং দেশজ শিল্পের পুনর্বয়ন’

ygoly

শৈশবে দেখা ভালোবাসার জিনিসগুলো উদ্ভাসিত হয়েছে চিত্রশিল্পী সামিনা নাফিজের ক্যানভাসে। সব সময় একটা নতুন বর্ণ ও রূপের আবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন তিনি। এবার নববর্ষের বর্ণিলতাকে ধারণ করে তিনি তেমনই কিছু ছবি এঁকেছেন। এসব চিত্রকর্ম নিয়ে ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেসের জুম গ্যালারিতে মঙ্গলবার থেকে চলছে শিল্পীর একক প্রদর্শনী। শিরোনাম ‘বৈশাখ এবং দেশজ শিল্পের পুনর্বয়ন’।

শিল্পী সামিনা নাফিজের একটি চিত্রকর্ম।প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে ২৩টি ছবি। ক্যানভাসে উদ্ভাসিত হয়েছে রঙিন পাখা, শোলার বাঘ, পাখি, ফুল, মাটির পুতুল, শখের হাঁড়িসহ বাংলার লোকজ উপাদানের বর্ণিল সব বিষয়। কোলাজ পদ্ধতিরও কিছু ছবি আছে।

শিল্পী প্রথম আলোকে বললেন, সাম্প্রতিক সময়ে আঁকা তাঁর ছবিগুলোর মধ্যে ২১টি ছবি তেলরং-মাধ্যমে এবং দুটি ছবি মিশ্রমাধ্যমে আঁকা হয়েছে। সবগুলো ছবিতে আশ্রয় নিয়েছেন দেশজ শিল্পভাষার। সেই ধারার সঙ্গে ক্যানভাসে ব্যবহার করেছেন উজ্জ্বল সব রং।

প্রদর্শনীতে চিত্রকর্ম দেখছেন দর্শক।প্রদর্শনী শেষ হবে ২৫ এপ্রিল। সোম থেকে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা এবং শুক্র ও শনিবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।

সবগুলো ছবিতে দেশজ শিল্পভাষার আশ্রয় নিয়েছেন শিল্পী।শিল্পী সামিনা নাফিজের জন্ম ১৯৬১ সালের ১৩ জুন। তাঁর শিল্প শিক্ষার শুরু চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজ থেকে। পরবর্তী সময়ে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এমএফএ (চিত্রকলা) উত্তীর্ণ হন ১৯৮৬ সালে। তিনি অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘চিত্রকলায় স্যুরিয়ালিজম’ ও ‘ছবি আঁকি আর পড়ি’। তিনি শিশুদের জন্য প্রকাশিত বইও অলংকরণ (ইলাস্ট্রেশন) করেছেন।

মাহির সুন্দর জীবন

ygtov

একেক সময় একেক পোশাক পরেন। তবে সব সময়ই গুরুত্ব পায় আরাম। বাসায় ঢিলেঢালা পোশাক পরেন। বাইরে পশ্চিমা ঢঙের পোশাক পরা হয় বেশি।

মাহি বলেন, ‘কেনাকাটা কিংবা যেকোনো প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হলে জিনস, টি-শার্ট বা শার্ট পরে নিই। আরামদায়ক মনে হয়।’ দেশের বাইরে ঘুরতে বা শুটিংয়ে গেলে ভ্রমণের সময় হাফপ্যান্ট, টি-শার্টের মতো পশ্চিমা পোশাকই পরে নেন বড় পর্দার এই তারকা।
বিদেশ ভ্রমণে মাহি পশ্চিমা ঢঙের পোশাক পরেন। ছবি: সুমন ইউসুফছবির মহরত কিংবা প্রিমিয়ার শোসহ বিশেষ অনুষ্ঠানে গাউনই পরেন বেশি। গাউনের রং অবশ্যই লাল, নীল বা কালো হতে হবে। মাহি বলেন, ‘দিন বা রাতের অনুষ্ঠানের পরিবেশ বুঝে গাউনের রং ঠিক করে নিই।’ দেশীয় কোনো অনুষ্ঠানে শাড়ি বেছে নেন তিনি। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে কপালে লাল টিপ পরেন। মাহি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই লাল টিপ আমার পছন্দ।’
গয়নার প্রতি কোনোই দুর্বলতা নেই তাঁর। হাতে একটি প্লাটিনামের চুড়ি পরেন। আর হাতের আঙুলে সব সময়ই থাকে রুবি পাথরের আংটি। মাহি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরু থেকেই রুবি পাথরের আংটি পরি। এই আংটি আমার জন্য আশীর্বাদ মনে হয়।’
দেশি অনুষ্ঠানে পরেন দেশি শাড়িপায়ের জন্য স্লিপারে বেশি আরাম পান। তবে জিনসের সঙ্গে নাইকি ও অ্যাডিডাস ব্র্যান্ডের কেডস পছন্দ।
শীতকালে যেমন ঘুরতে মজা, আবার খাবারদাবারের উপাদানগুলো ভালো থাকে। আর এই পছন্দের ঋতুতে সালোয়ার-কামিজের ওপর শাল বা হুডি চাপিয়ে নেন তিনি। শীতকাল মাহির প্রিয় ঋতু।
সুগন্ধির প্রতি দুর্বলতা আছে এই চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর। বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের সুগন্ধির যেমন পছন্দ, তেমনি আতরও তাঁর বিশেষ পছন্দ। মাহি বলেন, ‘আতরের ঘ্রাণটা অন্য রকম মনে হয়। সেই ছোটবেলা থেকেই আমার পছন্দ।’ গিভেন্সি ও ভিক্টোরিয়া সিক্রেটসের সুগন্ধি তাঁর ভালো লাগে।
পার্টিতে দেখা যায় গাউনেটকজাতীয় খাবার তাঁর পছন্দ। গরুর কালো ভুনা পেলে সব ভুলে যান তিনি। আর সেটা নিজের হাতেই রান্না করতে পছন্দ করেন। তবে মায়ের হাতে শুঁটকি রান্না তাঁর খুব প্রিয়। পছন্দের তালিকায় তেহারীর কথা না বললেই নয়। তেহারী খেতে রাতবিরাতে বন্ধুরা মিলে প্রায়ই পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজারে ঢুঁ মারেন।
শুটিং থাকলে ভোর চারটা, না থাকলে বেলা করেই ঘুম থেকে ওঠেন মাহি। ঘুম থেকে উঠে নিয়ম করে প্রতিদিনই মধু-পানি পান করেন।
সিনেমার নায়িকা, সিনেমা না দেখলে কি হয়! মাহি জানান, বলিউডের নতুন নতুন ছবিগুলো দেখা হয় তাঁর। আর শাবনূর, সালমান শাহ অভিনীত ছবিগুলো নিয়মিতই দেখেন তিনি।
শুটিংয়ের জন্য প্রতিদিনই মুখে ভারী মেকাপ নিতে হয় তারকাদের। আর এ কারণে দরকার হয় ত্বকের বাড়তি যত্নও। মাহি বলেন, ‘ত্বকের বাড়তি যত্ন নিতে আমি নিয়মিত মুখে টমেটো লাগাই। এতটুকুই।’ শুটিংয়ে চুলের ওপরও কম ধকল যায় না। তাই যত্নে নিতে নিয়মিতই চুলে তিলের তেল ব্যবহার করেন তিনি। এতে চুল শক্ত থাকে।
আলো-ছায়া দিয়ে নিজের ঘর সাজিয়েছেন মাহি। কাঠ, মাটি বা চীনামাটির তৈরি জিনিসপত্র দিয়ে আলোর বিভিন্ন শেড বানিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন। নিজ হাতেই এই আলো-ছায়ার আবহ তৈরি করেন তিনি। আবার বিভিন্ন ধরনের ঝাড়বাতিও তাঁর পছন্দ।
মাহির স্কুলজীবনের বন্ধুরাই যেন প্রাণ। অবসর পেলেই বন্ধুদের নিয়ে মেতে ওঠেন এই তারকা। ঢাকার বাইরে দূরের রাস্তায় নিজেই গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কখনো সিলেট, কখনো বান্দরবান—পাহাড়ঘেরা অরণ্যে ঘুরতে চলে যান। কখনো কখনো গাড়ি রেখে বান্দরবানের পাহাড়ি রাস্তায় যাত্রীবাহী বাসের ছাদে দলবল মিলে উঠে পড়েন। মাহি জানান, বন্ধুরা মিলে দূরে কোথাও ঘুরতে গেলে নিজেকে আর অভিনেত্রী ভাবেন না। যা মন চাই, তা-ই করেন। ভাবেন, জীবনটা ছোট কিন্তু অনেক সুন্দর!

পরীমনির ‘ব্যাড এক্সপেরিয়েন্স’

rtj
কলকাতায় পৌঁছে পরীমনি ফেসবুকে লিখেছেন ‘লাভলি পিপল, লাভলি ডে, ইন্ডিয়া’। ঠিক দুদিন পর আবার লিখলেন ‘ব্যাড এক্সপেরিয়েন্স’। একটি মেহেদী প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে ১০ এপ্রিল কলকাতায় বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি। শুটিং শেষে গত বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরেছেন তিনি।

অভিজ্ঞতার এমন হাল কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গিয়েছিলাম মেহেদীর বিজ্ঞাপনের শুটিং করতে। তাই হাতে সুন্দর করে মেহেদী দিতে হবে। মেহেদী দেওয়ার পর সেই মেহেদী হাতে লেপ্টে গিয়েছিল। এরপর সেগুলো তুলে আবার নতুন করে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু কোনোভাবেই লেপ্টে যাওয়া মেহেদী মোছা যাচ্ছিল না। কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না যে কী করব। মেজাজটা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল।’

পরীমনিনতুন এই বিজ্ঞাপনচিত্র নিয়ে আপাতত বেশি কিছু বলতে রাজী হলেন না পরীমনি। শুধু বললেন, ‘বেশ বড় আয়োজন করে বিজ্ঞাপনটির শুটিং করা হয়েছে। শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।’
বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে নাচার কথা ছিল তাঁর। তাই বুধবার দেশে ফিরে আবারও ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। অনেক রাত পর্যন্ত নৃত্যপরিচালক সোহাগের সঙ্গে অংশ নিতে হয় নাচের মহড়ায়।

সবার সামনে ক্যাটরিনাকে অপমান করলেন রণবীর!

সন

রণবীর-ক্যাটরিনার সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে বেশ কিছু দিন হলো। সম্প্রতি এক বন্ধু আরতী শেট্টির জন্মদিনের পার্টিতে অনেক ক্ষণ দুজনকে কথা বলতে দেখা যায়। এই খবরে অনেকেরই ধারণা হয়, আবার হয়তো কাছাকাছি আসতে চলেছেন তারা। বি-টাউনে এমন জল্পনাও দানা বাঁধে যে, ক্যাটরিনা নাকি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাবও দিয়েছেন রণবীরকে। কিন্তু এটা জানেন কি ওই দিনেই শেষ বারের মতো কথা হয়েছিল দুজনের?

ওই জন্মদিনের পার্টিতেই নিমন্ত্রিত একজন জানিয়েছেন, পার্টির শুরুতে রণবীর-ক্যাটরিনা দুজন ছিলেন ঘরের দুই প্রান্তে। এর পর একটা সময় ক্যাটরিনা নাকি নিজেই উঠে যান রণবীরের দিকে। রণবীর তখন তাঁর কিছু বন্ধুর সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন। ক্যাটি তার সঙ্গে একটু আলাদা ভাবে কথা বলতে চান।

কিন্তু বন্ধুদের সামনেই রণবীর তাকে বলেন, আমার কোনো কথা বলার নেই। তবে তোমার যদি কিছু বলার থাকে তা হলে এখানেই বলতে হবে, সবার সামনে। অগত্যা সবার সামনেই ক্যাটি রণবীরকে তাদের সম্পর্কটাকে আর একটা সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। এর উত্তরে রণবীরের সাফ জবাব, আমার পক্ষ থেকে সব শেষ হয়ে গেছে। তুমিও এটা থেকে বেরিয়ে এলেই ভালো হয়।

রণবীরের এই উত্তর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্যাটরিনা। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, তিনি আর আরতী সে দিন সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন ক্যাটরিনাকে। কিন্তু সবার সামনে ওই অপমানের পর সান্ত্বনায় কোনো লাভ হয়নি। ক্যাটরিনাও হয়তো বুঝে গিয়েছেন যে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। সম্ভবত রণবীরকে এড়িয়ে চলতে বন্ধুদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছেন তিনি।
সূত্র : আনন্দবাজার

ফেসবুকের নতুন তিন ফিচার

tyt

ডেভেলপারদের কাছ থেকে প্রচুর ‘লাইক’ পাওয়ার আশা করছে ফেসবুক। মঙ্গলবার ফেসবুকের এফ ৮ নামের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে তিনটি নতুন টুল উন্মুক্ত করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এ ফিচারগুলো দিয়ে ডেভেলপাররা সহজে তাঁদের অ্যাপের মধ্যে গ্রাহকবান্ধব ফিচার যুক্ত করতে পারবে। ১৫ টি দেশের ৭০ জন ডেভেলপারকে দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে নতুন তিনটি টুল উন্মুক্ত করেছে ফেসবুক।
এ টুলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অ্যাকাউন্ট কিট যা নতুন অ্যাপ ব্যবহারকারীকে তাঁর শুধু ফোন নম্বর বা ইমেইলে অ্যাড্রেস দিয়ে সাইন ইন করতে দেবে। এতে ইন-অ্যাপ ফরম পূরণ বা ফেসবুকের পুরো নাম, পাসওয়ার্ড দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে।
ফেসবুকের প্ল্যাটফর্ম প্রডাক্ট ব্যবস্থাপক এডি ও’নেইল ইউএসএ টুডেকে বলেন, ‘সাইন আপ প্রক্রিয়ার ঝামেলা এড়াতে চেয়েছি আমরা। ভারতের মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম সাভন এই ফিচার ব্যবহার করে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ৩০ শতাংশ উন্নতি দেখেছে।’

কোট শেয়ারিং
ফেসবুকের ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম গ্রুপের প্রধান ডেব লিউ তাঁর কি নোট দেওয়ার সময় ফেসবুকের কোট শেয়ারিং ফিচারটির কথা বলেন। এই ফিচারটির মাধ্যমে ব্যবহারকারী তাঁর প্রিয় লেখাটির কোনো কপি-পেস্ট ছাড়াই হাইলাইট দেখতে পাবেন। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে প্রথম আলোর খবরে ফেসবুক কোট শেয়ারিং ফিচারটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ফেসবুক সেভ বাটন নামের আরেকটি নতুন ফিচার উন্মুক্ত করেছে, যা ২০১৪ সালে সেভ অন ফেসবুক ফিচারটির মতোই ব্যবহারকারীকে তাঁর প্রিয় লেখা, পণ্য, ভিডিও ফেসবুক সেভ ফোল্ডারে সংরক্ষণ করার সুবিধা দেয়। ও’নেইল বলেন, উন্নত যোগাযোগের সুবিধার্থে এ ফিচার আনা হয়েছে।
ও’নেইল বলেছেন, নতুন সেভ বাটন ডেভেলপারদের নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করতে কাজে লাগবে। প্রতি মাসে ফেসবুকের মধ্যে ২৫ কোটি ব্যবহারকারী ফেসবুকের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় সংরক্ষণ করে রাখে। অন্য অ্যাপের ক্ষেত্রেও এ সুবিধা যুক্ত করতে চাই।

ফেসবুকের লক্ষ্য
গত বছরে ফেসবুকের ডেভেলপার কমিউনিটি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অবশ্য ফেসবুক মোট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে অধিকাংশ ডেভেলপার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের। যুক্তরাষ্ট্রের আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে তৈরি শীর্ষ ১০০ টি অ্যাপের মধ্যে ৯৫ শতাংশ ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর ৮০ শতাংশ অ্যাপ ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে ফেসবুকে ১৬০ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। মঙ্গলবার ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনার কথা জানান।
তথ্যসূত্র: ইউএসএ টুডে।