এবার শেষ বলের ছক্কায় নাটকীয় জয়

dsrtgaes

শেষ বল করতে তেড়েফুঁড়ে এলেন তাসকিন আহমেদ। বলটি কোথায় পড়ল ঠিক বুঝে ওঠার আগেই সর্বশক্তিতে হাঁকালেন মুক্তার আলী, বলের শরীরে যেন গজাল ডানা। উড়তে থাকা সেই বলের যখন মাটিতে নামার ইচ্ছে হলো, ততক্ষণে মাঠের এক প্রান্তে উদ্দাম উচ্ছ্বাস, আরেক প্রান্তে শুধুই হতাশা।
অবিশ্বাস আর হতাশায় সেদিকে চেয়ে রইলেন তাসকিন। আরেকটি অবিশ্বাস্য সমাপ্তি দেখল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এবার শেষ বলের ছক্কায় ম্যাচ জিতে গেল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।
শেষ ওভারটি শুরুই হয়েছিল অনেক নাটকীয়তা দিয়ে। ৬ বলে ৭ রান দরকার, হাতে আছে ৬ উইকেট। এ ম্যাচ তো শেখ জামালই জিততে যাচ্ছে। বিশেষ করে বল যখন তাসকিনের হাতে—আগের ৮ ওভারে ঠিক ৭ রান রেটে ৫৬ রান দিয়ে যিনি উইকেটশূন্য। কিন্তু প্রথম বলেই রান আউট অ্যাঞ্জেলো পেরেরা।
নাটক জমল দ্বিতীয় বলে। আগের ওভারে একটি করে চার ও ছয়ে জয় হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা নাজমুস সাদাত তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে গেলেন। পরের তিন বলে এল মাত্র দুই রান। শেষ বলে দরকার ৫ রান, টাই করতেও চাই ৪। কিন্তু মুক্তার কোনো ঝুঁকি নিলেন না, একেবারে ছক্কা!
স্থানীয় ক্রিকেটে ছক্কা মারার জন্য এমনিতেই ভালো নামডাক আছে মুক্তারের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে ১৬টি ছক্কা মেরে একসময় বিশ্বরেকর্ডও গড়েছিলেন। আজ সেই ছক্কা মারার ক্ষমতাই কাজে লাগল শেখ জামালের।
ম্যাচটি যে এমন উত্তেজনা ছড়াবে তা কে জানত? আবাহনীর ২৮৭ রানের লক্ষ্যকে যে একেবারে হাতের নাগালে নিয়ে এসেছিলেন মাহবুবুল করিম। তাঁর ১১০ বলে ১৩০ রানের ইনিংসে একপর্যায়ে জয়ের জন্য শেখ জামালের দরকার ছিল ৭৪ বলে ৭১ রান। কিন্তু মাহবুবুল আউট হওয়ার পরই খেলায় ফিরে আসে আবাহনী। ম্যাচও গড়ায় শেষ বল পর্যন্ত। কিন্তু একজন মুক্তার আলী যে অপেক্ষা করছিলেন তাদের জন্য, তা কে জানত!

দুদিন আগে লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ ও ভিক্টোরিয়া ম্যাচেও শেষ বলে ছক্কা হয়েছিল। সেবার অবশ্য ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ টাই করিয়েছিলেন রূপগঞ্জের তাইজুল।

শেষ তিন বলে তিন রান আউট!

fdyu

শেষ ওভারে ৯ রান দরকার, হাতে ৪ উইকেট। ক্রিজে ৮৪ বলে ৮৫ রান নিয়ে ব্যাট করছেন মেহরাব হোসেন জুনিয়র। ওপাশে মাশরাফি বিন মুর্তজার রান ৮ বলে ১২। ৯ রান কোনো ব্যাপার হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কলাবাগান ক্রীড়াচক্র সেটাই করতে পারল না। প্রাইম দোলেশ্বরের কাছে শেষ পর্যন্ত হেরে গেল ৪ রানে। শেষ তিন বলে হয়েছে তিনটি রান আউট—ম্যাচটা কতটা রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে! সব মিলিয়ে কলাবাগানের ইনিংসে রান আউট হয়েছে ৫টি!
ফতুল্লায় রুদ্ধশ্বাস একটা ম্যাচে শেষ ওভার যেন রোমাঞ্চের পসরা সাজিয়েই বসেছিল। আল আমিনের ওই ওভারের প্রথম দুই বলে মেহরাব কোনো রান নিতে পারে​ননি। পরের বলে ১ রান নিলেন, স্ট্রাইকে এলেন মাশরাফি। চতুর্থ বলে মাশরাফি দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে পারলেন না, রানআউট হয়ে গেলেন মেহরাব। পরের বলে আবারও সেই দ্বিতীয় রান নিতে গিয়েই রান আউট দেওয়ান সাব্বির। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৭ রান। সেই বলে আবারও রান আউট, এবারও দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন মাশরাফি নিজেই।
এর আগে নাসির হোসেনের ৯৭ ও ইমতিয়াজ হোসেনের ৭৩ রানে ভর করে প্রাইম দোলেশ্বর ৫০ ওভারে করেছিল ২৮৭। জসিম উদ্দিন (৪৫), তাসামুল হক (৪৪) ও তানভীর হায়দারকে (৪৪) নিয়ে সেটি টপকে যাওয়ার পথে ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিলেন মেহরাব জুনিয়র। কিন্তু শেষ ওভারের নাটকীয়তায় প্রাইম দোলেশ্বরের মুখেই হাসি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ মুখ অন্ধকার করে মাঠ ছাড়তে হলো মাশরাফিকে। এবার ​আক্ষরিক অর্থেই পরাজিত সৈনিকের মতো মাঠ ছাড়লেন তিনি।

ঘরে বানাই জুস

86tr

রোদ থেকে বাসায় ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা জুস! আহ্ সে কী শান্তি! এই গরমে আরাম দেবে তাজা ফলের রস। আর তার জন্য ঘরে
থাকতে হবে একটি জুসার। তবে ব্লেন্ডারেও কাজ চলে। ফল থেকে রস বের করে নেওয়ার এই যন্ত্রটির চাহিদা বেড়ে যায় গরম এলেই।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ট্রান্সকম ডিজিটালের বিক্রয় নির্বাহী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গরমের সময় এই ধরনের যন্ত্র বেশি বিক্রি হয়। তবে এবার বেশি চলছে একের মধ্যে অনেক সুবিধা আছে এমন যন্ত্রগুলো। যেমন ব্লেন্ডার। যেখানে জুস, মসলা, কিমার মতো বিষয়গুলো এক যন্ত্রেই সারা যায়।’
দামের ওপর নির্ভর করে লম্বা, গোলাকার ও নৌকার মতো বাঁকানো নকশার ব্লেন্ডার ও জুসার পাবেন। ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল দুই ধরনের জুসারই আছে। ফিলিপসের মাল্টি-ইউজ ব্লেন্ডারে জুস করার জন্য ছাঁকনি ব্যবহারের সুবিধা আছে। এ ছাড়া কিমা ও আদা-রসুন বাটার জন্য আছে আলাদা প্যানেল। দেড় লিটারের মিয়াকোর ব্লেন্ডারে চারটি জার ব্যবহার করে চার ধরনের উপকরণ ব্লেন্ড করা যায়। প্রেস্টিজের স্টেইনলেস স্টিলের ব্লেড দেওয়া ব্লেন্ডারটিতে ভিন্ন তিনটি জার রয়েছে। লম্বা আকারের এই ব্লেন্ডারের ক্ষমতা আড়াই শ ওয়াট। এ ছাড়া নোভার তিনটি জারের প্লাস্টিক বডির ব্লেন্ডারও পাওয়া যাবে। এই ব্লেন্ডারগুলো দিয়ে ফলের রস তৈরি করা যায়। শুধু জুসের জন্য মিয়াকোর দুই চেম্বারের দুটি সেফটি লক ও স্টেইনলেস স্টিলের ব্লেডযুক্ত জুসার পাওয়া যাবে এবং এতে শক্ত ও নরম ফলের জন্য দুই ধরনের স্পিড মোড রয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে আরও আছে প্যানাসনিক, মলিনেক্স, সেবেক ইত্যাদি। এ ছাড়া প্লাস্টিকের বিভিন্ন নন-ব্র্যান্ডের ম্যানুয়াল জুসার রয়েছে বাজারে।
গরম যেহেতু বেশি, এসব যন্ত্রের ব্যবহারও হচ্ছে বেশি। তাই যন্ত্র ব্যবহারের আগে-পরে একটু যত্ন নিলে আপনার জুসার বা ব্লেন্ডারটি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।
ব্লেন্ডার বা জুসারটি যে ব্র্যান্ডেরই হোক না কেন তার যত্ন কিন্তু চাই সঠিকভাবে। কীভাবে যত্ন নিলে ব্লেন্ডার বা জুসার যন্ত্রটি ভালো থাকবে সে সম্পর্কে রান্নাবিদ সিতারা ফিরদৌস বলেন, ‘জুসার বা ব্লেন্ডার যেহেতু বৈদ্যুতিক যন্ত্র, তাই খেয়াল রাখতে হবে যেন এর মোটরে পানি না ঢোকে। আবার একটানা অনেকক্ষণ ব্যবহার করলে মোটর পুড়ে যেতে পারে। তাই পাঁচ মিনিট ব্যবহারের পর একটু বিরতি দিতে হবে। আবার যেহেতু লোডশেডিং হয়, তাই ব্যবহারের পর প্লাগ খুলে রাখতে হবে। কারণ, তাতে মোটর ভালো থাকবে।’

বাজারে আছে নানারকম জুসার ও ব্লেন্ডার। ছবি: নকশাযেখানে পাবেন
জুসার ও ব্লেন্ডার পাওয়া যাবে রাজধানীর নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডের বিভিন্ন দোকানে। এ ছাড়া গুলশান ডিসিসি মার্কেটে, পল্টন ও গুলিস্তানের বিভিন্ন মার্কেটে ব্র্যান্ড, নন-ব্র্যান্ড—সবই মিলবে। ইলেকট্রনিকসের বিভিন্ন শোরুমে মিলবে জুসার ও ব্লেন্ডার। সিঙ্গার, ফিলিপস, ওয়ালটনের শোরুমে পাওয়া যাবে নানা ধরনের জুসার। তার পাশাপাশি নোভা, মিয়াকো, উসান, নোয়া, প্রেস্টিজের ব্লেন্ডার পাওয়া যাবে। আর নন-ব্র্যান্ড কিনতে চাইলে বিভিন্ন চীনা ও জাপানের জুসার ও ব্লেন্ডার রয়েছে দোকানগুলোতে। ব্র্যান্ডের জুসার কিনলে কয়েক বছরের ওয়ারেন্টিও পাওয়া যাবে। তবে যাঁরা ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহার করতে চান না, তাঁদের জন্য বাজারে ম্যানুয়াল জুসার রয়েছে। এসব জুসারের দাম পড়বে একটু কম।

দরদাম
বাজারে এখন ব্লেন্ডার বা জুসারের দাম একটু বাড়তি। ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডার বা জুসার ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। তবে ওয়ারেন্টি পেতে হলে ২ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে হবে। যদি নন-ব্র্যান্ড কিনতে চান তবে খরচ পড়বে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা। বাজারে ম্যানুয়াল ব্লেন্ডার ও জুসার পাওয়া যায়। এর খরচ পড়বে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

শার্টে বৈচিত্র্য

্রিট্র

কাপড় এখানে ক্যানভাস। রং তো এতে লাগেই, কাঁচির কাটাকুটি আর সুই-সুতা, টানে ফুটে ওঠে নকশা। শিল্পীর ভূমিকায় থাকা ডিজাইনার চেষ্টা করেন নতুন কিছু তৈরি করার। গতানুগতিক পোশাকে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তনেই চলে আসে আধুনিকতা। মুগ্ধ হন ক্রেতারা। ধরা যাক সাধারণ শার্টের কথাই। ছেলেরা বোধ করি এ পোশাকটাই বেশি পরেন। মেয়েরাও পরেন শার্ট। পরিচিত শার্টগুলোই রং, নকশা আর কাটের পরিবর্তনে পাচ্ছে নতুন নতুন চেহারা। এ কারণেই এবার গরমের ফ্যাশনে ছেলেমেয়ে সবার জন্যই শার্ট নতুন মাত্রা যোগ করবে। এমনটাই মনে করছেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিশেষজ্ঞরা।
সারা দিনের ছোটাছুটিতে আরাম দেবে শার্টএক কাপড়েই সবকিছু। কলার, হাতা—সবকিছুতেই একই কাপড় ব্যবহার করা হতো। কিন্তু একটু খেয়াল করে দেখুন এখন কলারের ভেতরেও অন্য রঙের কাপড় দিয়ে ভিন্নতা নিয়ে আসা হয়েছে। হাতার কাফেও তা-ই। এখন দুই রং বা দুই রকমের নকশা করা কাপড় দিয়ে শার্ট বানানো হচ্ছে—জানালেন ফ্যাশন হাউস আরমাডিওর ক্রিয়েটিভ অ্যাডভাইজার ফারহিন লালারুখ খুররম। বাজার ঘুরে দেখা গেল রং আর নকশায় এ বছর বেশ ভিন্নতা আনার চেষ্টা করছে ফ্যাশন হাউসগুলো। বছরজুড়েই চলবে এ রকম পরিবর্তন। ফারহিন লালারুখ খুররম বলেন, ‘ছেলেদের শার্টে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফ্যাশন-সচেতনরা বুঝতে পারছেন। কাফে দুটো বোতাম থাকলে একটা হয়তো লাল, আরেকটা সাদা রঙের। শার্টে বোতাম লাগানোর জন্য বিপরীত রঙের সুতারও ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতি, ইজিপসিয়ান কটন, মিশ্র কাপড়, লিনেন দেখা যাচ্ছে।’ প্রিন্টেড শার্টে ছাপা নকশার কোনো একটা রং বেছে নিয়ে দেওয়া হচ্ছে গলা কিংবা হাতায়। ছেলেরা এখন স্লিম কাটের দিকে বেশি ঝুঁকছে। প্যান্টের ভেতরে টাক-ইন করে পরা যায়, প্যান্টের ওপরে রেখেও পরা যাবে। এখন শার্টেও টিকিং দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডিজাইনাররা।
.মেয়েদের শার্টে নজর কাড়ছে ফুলেল প্রিন্টের নকশা। পলকা ডট, বিমূর্ত প্রিন্টগুলো শার্টে নিয়ে এসেছে আভিজাত্য। মেয়েদের শার্টে এবার নতুনত্ব আনবে লম্বা কাট। পেছনের লেয়ারটা বেশি লম্বা থাকবে। সামনের দিকে লেয়ারটা একটু খাটো থাকবে। এ রকম শার্ট তাঁদের জন্য আদর্শ, যাঁরা ছোট শার্টে স্বস্তিবোধ করেন না। শার্টের নিচের দিকে রাউন্ড লেয়ার, ডিশ লেয়ার কাট দেওয়া হচ্ছে। ফ্যাশন হাউস দর্জিবাড়ির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাশন দুনিয়ায় প্রতিবছরই ডিজাইন বদলে যায়। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের সঙ্গে মিলিয়ে শার্টে কাট দেওয়া হয়ে থাকে। ছেলেদের শার্টে সুতি, ভয়েল কাপড় ব্যবহার করা হচ্ছে। রেগুলার ও ফিটেড দুটি কাটই থাকবে ফ্যাশনে।’
ছেলেদের শার্টে ফুলেল নকশা ছিল। তবে সেটা হাওয়াই শার্টে বেশি দেখা যেত। এখন সাধারণ শার্টে ফুলেল ছাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। দেখতে একদমই খারাপ লাগছে না। ছেলেদের ফুলগুলো সূক্ষ্ম আকারের হয়। মেয়েদের ফুলগুলোর আকার থাকছে বড়। ওটুর উইমেন্স বিভাগের প্রধান ডিজাইনার সৈয়দা রুমানা হক বলেন, ‘ঢিলেঢালা কাটের শার্টগুলো চলবে এবার।
মডেল: তুষারমেয়েদের শার্টেও বোতামের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যাবে। লেসের কাজের সঙ্গে মুক্তার বোতাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফুলের মতো বোতাম লাগানো হয়েছে ফুলেল প্রিন্টের শার্টের ওপর। শার্টে সব ধরনের হাতা থাকবে।’ মেয়েদের শার্টে এবার প্যাটার্ন বেসড কাট বেশি দেখা যাবে। শার্টে বিভিন্ন নকশার পকেটও দেখা যাবে।
মেয়েদের শার্টে দুটি কাট খুব চলছে। একটা একদম ঢিলেঢালা লম্বাটে। শেষের অংশটা কিছুটা কুর্তার মতো থাকছে বলে জানান ফারহিন লালারুখ খুররম। এগুলো ভালো মানাবে ফিটেড জিনস, টাইটসের সঙ্গে। অনেকে বেল্ট পরছেন। আবার অনেকে টাক-ইন করে পরছেন। সুতি কাপড়ের ওপর হালকা রঙের শেডের ব্যবহার করা হচ্ছে। পাতলা কাপড়ের ওপরে ফুলেল প্রিন্টগুলো গরমে স্নিগ্ধতা নিয়ে আসছে। ফিটেড শার্টগুলোর সঙ্গে স্কার্ট, পালাজ্জো ভালো মানাবে।
রঙের ক্ষেত্রে হালকা ও গাঢ় দুই ধরনের রংই পছন্দ করছেন ক্রেতারা। হালকা কাজ, লম্বা হাতার এক রঙের শার্টগুলো অনুষ্ঠানে বেশি মানাবে। প্রতিদিনের ছোটাছুটির জন্য প্রিন্টেড শার্টগুলোই ভালো।
কলারে এ বছর হালকা ভিন্নতা দেখা যাবে। ডবল কলার, বেন্ট কলার চলবে। হাতা লম্বা হোক বা ছোট—গুটিয়ে পরা হবে বেশি। শার্টে স্ট্রেট কাট থাকলেও পকেটের আশপাশে পিনটাকস, পেছনে কুঁচি থাকছে এখনকার ফ্যাশনে। কাঁধের অংশে শোল্ডার স্ট্র্যাপও ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যের উন্নতিতে উপাত্তের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি

sy6

স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যানের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। মানসম্পন্ন উপাত্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করে। এ জন্য এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে শুরু হওয়া ‘স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি ও সূচক পরিমাপ’ শীর্ষক আন্তর্দেশীয় সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, কম্বোডিয়া, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থাপনায় বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে নজরদারি ও মূল্যায়ন খাতে মোট বরাদ্দের মাত্র ৪ শতাংশ ব্যয় করা হয়। জবাবদিহি বাড়াতে নজরদারি ও মূল্যায়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়। সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উপাত্তের চাহিদা নিরূপণ, স্বাস্থ্য উপাত্ত পদ্ধতির উন্নতিতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিয়ম করার উদ্দেশ্যে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।
নেতৃত্ব, সুশাসন ও অংশীদারত্ব–বিষয়ক অধিবেশনে সেভ দ্য চিলড্রেনের (বাংলাদেশ) কর্মকর্তা ইশতিয়াক মান্নান বলেন, উপাত্ত যদি মানুষের জীবন নিয়ে হয়, তা হলে মানুষ সেই উপাত্ত সংরক্ষণ করে। মা নিরক্ষর হলেও উপাত্ত তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি তা ব্যবহার করেন। যেমন স্বাস্থ্যকর্মীর তথ্য তাঁর কাছে থাকে এবং প্রয়োজনে মুঠোফোনে তিনি ঠিকই স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইশতিয়াক মান্নান আরও বলেন, উপাত্ত ছাড়া বাকি সবকিছুই মতামত। উপাত্ত তৈরি ও প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
এই অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যানবিদ মোসিদি নেলাপো বলেন, ব্যক্তির তথ্য গোপন রাখা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইন থাকলে সবচেয়ে ভালো।
একাধিক আলোচক বলেন, উপাত্তের মান ভালো হলে তার চাহিদা অনেক বেশি হয়। আর জাতীয় উপাত্তের মান নির্ভর করে স্থানীয় পর্যায় থেকে আসা উপাত্তের মানের ওপর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি, জার্মানি দাতা সংস্থা জিআইজেড ও হেলথ ডেটা কলাবরেটিভ এ সম্মেলন আয়োজনে সরকারকে সহযোগিতা করছে।

বেস মেকআপ এখন

h

নেমন্তন্ন আসে এই গরমেও। আর সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে সাজটা কেমন হবে তা নিয়ে কি চিন্তায় পড়তে হয়? শাড়ি-গয়নার সঙ্গে এই সময়ে সাজটাই বা কেমন হবে? কেননা শুধু তীব্র গরমই নয়, ঘামের কথাও মাথায় রাখতে হয়। সাজার পর যদি ঘেমে গিয়ে মেকআপ নষ্ট হয়ে যায় তাহলে নেমন্তন্নই মাটি।

রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন বলেন, এই সময় একদিকে ত্বক খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে মেকআপ বাঁচিয়ে রাখাটাও কষ্টকর৷ ঘামের কারণেই অর্ধেক মেকআপ গলে যায়।

গরমে কীভাবে ঠিকমতো মেকআপ বসানো যায়, কোনো আয়োজনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় সে ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন।


বেস দেওয়ার প্রস্তুতি

দিন বা রাত, অনুষ্ঠানটা কখন হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে মেকআপের বেস করতে হবে৷ যদি দিনের অনুষ্ঠান হয় তবে বেসটা হালকা হবে৷ রাতের অনুষ্ঠানে একটু ভারী বেস হলে সমস্যা হয় না। প্রথমে ফেসওয়াশ এবং ক্লিনজার দিয়ে ত্বক খুব ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। মুখ ধোয়ার সময় এক টুকরো বরফ ঘষে নিলে ত্বকটা সতেজ দেখাবে। এতে করে মেকআপ ত্বকে বেশিক্ষণ ধরে থাকবে।

বেস দেওয়ার পদ্ধতি

প্রয়োজনীয় উপকরণ: ফেস প্রাইমার, ফাউন্ডেশন/প্যানকেক, কনসিলার, ফেসপাউডার, মেকআপ সেটিং স্প্রে ও ফেস ব্রাশ বা স্পঞ্জ।

শুষ্ক ও মিশ্র ত্বকে

প্রথমে প্যানস্টিক হাত দিয়ে ভালোভাবে পুরো মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। তবে যা-ই ব্যবহার করুন কমপ্যাক্ট পাউডার লাগাতে ভুলবেন না। এবার ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ফাউন্ডেশন ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন, যেন ত্বকে ভালোভাবে মিশে যায়। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতাযুক্ত বা ময়েশ্চারাইজার আছে এমন ফাউন্ডেশন প্রয়োজন। যেকোনো ক্রিম বেসড ফাউন্ডেশন কিনতে পারেন। কপালে, নাকে, থুতনিতে ফাউন্ডেশনের কালার টোনের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চেষ্টা করুন। চোখের পাতায়ও ফাউন্ডেশন লাগাবেন এবং ভালোভাবে স্পঞ্জ করবেন।

মডেল: আফরিন সাজ: মিউনিস ব্রাইডাল ছবি: নকশাতৈলাক্ত ত্বকে
ফেস প্রাইমার আঙুলের মাথায় নিয়ে পুরো মুখে ঘষে ঘষে লাগাতে হবে৷ প্রাইমার দেওয়ার পর মিনিট দশেক অপেক্ষা করতে হবে। প্রাইমারটা মুখে বসার পর মুখে গাঢ় কোনো দাগ থাকলে কনসিলার দিয়ে হালকা করে ঢেকে দিন। শুধু গাঢ় দাগ থাকলে এখন কনসিলিং করুন, দাগ হালকা হলে ফাউন্ডেশনের পর কনসিলিং করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ওপর দিলে ত্বকের তেল ফাউন্ডেশনে মিশে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্লেট বা প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করতে পারেন। ফাউন্ডেশন যদি ভারী হয় বিউটি ব্লেন্ডার বা স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। ব্লেন্ডার পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত পানি ফেলে দিয়ে তাতে ফাউন্ডেশন নিয়ে মুখে ব্লেন্ড করুন। আবার হালকা ধরনের ফাউন্ডেশনের জন্য ফেস ব্রাশ করা যায়। অনেকে আবার আঙুল দিয়ে ব্লেন্ড করতেই পছন্দ করেন। তবে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হাতের ব্যবহার না করাই ভালো। পরিষ্কার ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার করা উচিত। সাধারণত রাতের জমকালো অনুষ্ঠানের জন্য মেকআপে ভারী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা হয়। দিনের কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হলে প্যানকেক ব্যবহার করা যায়। কেননা প্যানকেক বেশি সময় ধরে তেলমুক্ত থাকে, গলে যায় না। দিনের সাধারণ পার্টি হলে হালকা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।
প্যানকেক ব্যবহার করতে চাইলে আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী দুটি প্যানকেক কিনে নিন। চাইলে একটা দিয়েও করতে পারেন। স্পঞ্জ ভিজিয়ে বাড়তি পানি ফেলে দিয়ে তারপর স্পঞ্জে প্যানকেক লাগিয়ে ধীরে ধীরে বেস তৈরি করুন। চাইলে প্রথমে হলুদ একটা শেড দিয়ে এক স্তর (লেয়ার) করে এর ওপর ন্যাচারাল শেড দিয়ে বেস তৈরি করতে পারেন। আবার দুই শেড মিশিয়েও করতে পারেন।
ফাউন্ডেশন বা প্যানকেক দিয়ে বেস হয়ে গেলে এবার যদি মেকআপ সেটিং স্প্রে থাকে, তবে স্প্রে করে দিতে পারেন এই বেসের ওপর।
এবার ফাউন্ডেশন বা প্যানকেকের বেসটা ফেস পাউডার দিয়ে ঠিক করে নিন। পাউডার পাফ দিয়ে হালকা করে বেসের ওপর বুলিয়ে সেট করে নিতে পারেন।

তানজিমা শারমিনের মতে মেকআপের অর্থ মুখোশ পরা নয়, আপনার চেহারার সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলাই মেকআপের উদ্দেশ্য। তাই যেকোনো সময়ের মেকআপে খেয়াল রাখতে হবে কোনটি আপনার উপযুক্ত সাজ, কী আপনার পছন্দ, কোনটি আপনাকে মানাবে এবং কোনটি ধারণ করতে পারবেন আপনি নিজে।

রজনীকান্তে মুগ্ধ রাধিকা

yuuft

রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করে কে না মজা পাবে? আমি তো অনেক উপভোগ করেছি। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। তিনি একজন অসাধারণ মানুষ। তাঁর মতো আর কেউ নেই।’ কথাগুলো বলেছেন ‘অহল্যা’ তারকা রাধিকা আপ্তে আর তা বলেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার রজনীকান্তের সম্পর্কে।

ভারতের দক্ষিণের ছবির সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে ‘কাবালি’ ছবিতে কাজ করছেন রাধিকা। তামিল এই ছবির মাধ্যমে এই প্রথম রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলেন তিনি। এখানে রজনীকান্তের স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে রাধিকাকে। এত বড় তারকার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যারপরনাই খুশি এই নায়িকা। ‘ফোবিয়া’ ছবির ট্রেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে এই নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

তামিল ছবি ‘কাবালি’-র শুটিং শেষ। এখন ডাবিংয়ের কাজ চলছে। খুব শিগগির ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে। রাধিকা ও রজনীকান্তের রসায়ন কতটা জমেছে, সেটা তখনই জানা যাবে। এনডিটিভি।

‘পিংক’ ছবির কাজ কঠিন ঠেকছে ‘বিগ বি’র!

6rf

প্রায় দীর্ঘ চার দশক ধরে চলচ্চিত্র জগতে আছেন ‘বিগ বি’ অমিতাভ বচ্চন। বলিউডের অসংখ্য ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয় এই তারকা অভিনেতার কাছে ‘বা হাতের খেলা’—ভক্তদের এমন মনে হতেই পারে! কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে অভিনয়ের ক্ষেত্রে এই গুণী অভিনেতাকেও মাঝেমধ্যে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। ‘বিগ বি’ এখন অভিনয় করছেন থ্রিলার ছবি ‘পিংক’-এ। এ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনকে দেখা যাবে একজন উকিলের চরিত্রে। অমিতাভ জানিয়েছেন, এখানে কাজ করাটা তাঁর কাছে নাকি কিছুটা কঠিনই ঠেকছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় অমিতাভ বচ্চন লিখেছেন, ‘“পিংক” ছবির কাজ আসলেই কঠিন হতে যাচ্ছে। দৃশ্য এবং মুহূর্ত…সামনের দিনগুলো শঙ্কার।’
একই দিনে শুটিং শেষে আরেকটি টুইট বার্তায় অমিতাভ লিখেছেন, ‘কাজ শেষ করে ফিরলাম। কিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে। আগামীকাল আরও কাজ হবে। সাউন্ডের কিছু জটিলতা ছিল…তাই।’
শুটিংয়ের সময় কারিগরি ত্রুটি, নাকি চরিত্রে রূপদান, ঠিক কোন বিষয়টা অমিতাভের কাছে কঠিন লাগছে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
‘পিংক’ পরিচালনা করেছেন বাঙালি পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী। এটি চলতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি দেওয়ার কথা। এনডিটিভি

ছবি মুক্তির দিনক্ষণ নিয়ে বিপাকে শাহরুখ!

এাক

এবারের ঈদেই মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল শাহরুখ অভিনীত ছবি ‘রইস’। এ দিকে সালমান খানের ‘সুলতান’ ছবিটিও মুক্তি পাচ্ছে এই ঈদেই। একই সময় দুই খানের ছবি মুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল বেশ। কেউ কেউ ভেবেছিলেন, খানে খানে লড়াইটা এবার ভালোই জমবে। একই দিনে ছবি মুক্তি নিয়ে অনেকে আবার চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন যে এর ফলে না আবার দুই খানের পুরোনো বিবাদ শুরু হয়ে যায়। তবে শাহরুখের সম্ভবত টনক নড়েছে এবার। ‘সুলতান’ ছবির ব্যাপক প্রচার ও সালমান খানকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা বোধ হয় শাহরুখকে কিছুটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। আর হয়তো এ কারণেই ‘রইস’-এর মুক্তির দিন পিছিয়ে দিতে চাইছেন ‘বলিউড বাদশা’।

কোনো বিশেষ দিনে ছবি মুক্তি মানেই বক্স অফিসে রমরমা ব্যবসা। আর তাই উৎসব বা ছুটির দিনে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা ছিল শাহরুখের। দিওয়ালির সময় মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সে সময় কোনো নির্দিষ্ট দিন পাননি এই ছবি মুক্তির জন্য। বড়দিনে যে ছবি মুক্তি দেবেন! তারও উপায় নেই। কারণ, ওই সময় মুক্তি পাবে আমির খানের ‘দঙ্গল’।

তাহলে কি ‘কিং খান’ তাঁর ছবি মুক্তির জন্য পছন্দসই কোনো দিন পাবেন না? শেষমেশ কি বাধ্য হয়ে ২০১৭ সালেই বড় পর্দায় আসবে ‘রইস’? সময়ই কথা বলবে। দেখা যাক, কী হয়! বলিউড লাইফ।

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুরু

wreyh

গতবার নেপাল থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরেছিল বাংলাদেশ। এবারও এএফসি অনূর্ধ্ব ১৪ ফুটবলে শুভসূচনা করল বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ তাজিকিস্তানের দুশানবেতে ভারতকে হারিয়ে দিল ৩-১ গোলে। যেকোনো পর্যায়ের মেয়েদের ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি প্রথম জয়।

৩৪ মিনিটে তহুরা ও ৪২ মিনিটে মারিয়ার গোলে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে তহুরা নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে। ৪৯ মিনিটে এক গোল শোধ দিলেও ভারত আর ফিরে আসতে পারেনি ম্যাচে। সুস্মিতার গোলটি শেষ পর্যন্ত হয়ে যায় ভারতের জন্য সান্ত্বনার।
গতবার গ্রুপ পর্বে ইরানের মতো দলকে হারানো বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে​ দিয়েছিল। এবার ভারতকে হারানোও দেবে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রতিপক্ষ নেপাল।

মাশরাফির ‘ছোটে’ মুস্তাফিজ

চট৮গদ

দলে তরুণ এসে রাজ্যজয়ের ইঙ্গিত দিলে ‘ছোটে’ নামকরণ হয়ে যায়। তাই মাশরাফি বিন মর্তুজা যখন টেলিফোনে সাকিব আল হাসানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ছোটের বোলিং দেখতেছিস’, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে এই ‘ছোটে’ কে? অবধারিতভাবে তিনি মুস্তাফিজুর রহমান। আগের রাতেই কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৯ রানে ২ উইকেট নেওয়া ‘ফিজ’ যে সুপারস্পেশাল—সাকিবের সঙ্গে মাশরাফির কথোপকথন তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি মাত্র। মুস্তাফিজুর রহমানকে তো সেই কবে থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা প্রতিভার মর্যাদা দিয়ে রেখেছেন মাশরাফি।

বিপথে যাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের প্রতিভা নিয়ে কোনো সংশয় নেই ক্রিকেটাঙ্গনের। মুস্তাফিজের আগমনের আগে পুরনো বন্ধুই ছিলেন মাশরাফির দেখা বাংলাদেশের সেরা প্রতিভা। কাল মিরপুরে ক্লাব প্র্যাকটিস শেষে মাশরাফি নির্দ্বিধায় বলে দিলেন, ‘আশরাফুলের চেয়েও বড় প্রতিভা মুস্তাফিজ। আমার মনে হয় না এমন কাউকে দেখেছি আগে। গড গিফটেড প্রতিভা যাকে বলে।’

বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে ‘ছোটে’ যুগে যুগে কম আসেনি, আবার ঝরেও গেছে। কিন্তু সেসব ‘ছোটে’র পরিণতি এ যুগের মুস্তাফিজকে নিয়ে মোটেও ভাবায় না মাশরাফিকে, ‘মুস্তাফিজ অনেক স্মার্ট, জানে কিভাবে নিজেকে পরিচর্যা করতে হয়। জাতীয় দলে তো কম দিন হয় না খেলছি। কিন্তু ওর মতো নিজের ব্যাপারে এত সচেতন কাউকে দেখিনি।’ উঠতি প্রতিভাকে সচেতন করার উদ্যোগ দলের পক্ষ থেকে বরাবরই নেওয়া হয়ে থাকে। খেলা না থাকলেও ফিজিও-ট্রেনার রুটিন ধরিয়ে দেন। সিংহভাগ প্রেসক্রিপশন মেনে চলেন। তবু অন্যদের সঙ্গে মুস্তাফিজের একটা পার্থক্য ধরে ফেলেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘একটা সময় স্টুয়ার্ট কার্পিনেনের সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছে মুস্তাফিজ। একাডেমির এ ট্রেনারের সঙ্গে আমরা অনেকেই কাজ করেছি। কিন্তু মুস্তাফিজের মতো করে কাজটা হয়তো আমরা করিনি। দেখা গেল স্টুয়ার্টের কথামতো সবই করেছি, কিন্তু সেসবের পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেইনি। মুস্তাফিজ এটা কখনোই করে না। নিজেকে তৈরি রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও সব সময় নেয়। ওকে দেখে আপনাদের কার কী মনে হয় জানি না, তবে ও ক্রিকেটটা খুব ভালো বোঝে। ব্যাটসম্যানকে তাড়াতাড়ি রিড করে ফেলতে পারে। এই স্মার্টনেসের তুলনা নেই।’

আইপিএলের দুনিয়ায় হোটেলরুমে বন্দি থাকার রেওয়াজ নেই। রাতে ক্রিকেট, গভীর রাতে পার্টিই রেওয়াজ। কিন্তু ম্যাচ আর প্র্যাকটিসের বাইরে যে যখন ফোন করেছেন মুস্তাফিজকে হোটেলরুমেই পেয়েছেন সবাই। গতকাল কালের কণ্ঠকে সাক্ষাত্কার দেওয়ার সময়ও রুমে মুস্তাফিজ, যা ক্লান্তি এবং চোটের আশঙ্কা দূর করার অব্যর্থ কৌশল বলেই মনে করেন মাশরাফি, ‘আইপিএলে কেন, সব সময়ই বিশ্রাম নেয় মুস্তাফিজ। ওকে দেখে মনে হয় জীবনে ক্রিকেট ছাড়া আর কিছু নেই।’

তাই বলে এই সেদিনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা সাতক্ষীরার এক তরুণ ভিনদেশি আইপিএল এভাবে মাত করে দেবে? কাটার-স্লোয়ার-ইয়র্কারে বিভ্রান্ত ব্যাটসম্যান ফুলটস পেয়েও ধন্দে পড়ে যাবেন!

মাশরাফির কাছে এর ব্যাখ্যাও আছে, ‘মুস্তাফিজ এমন একজন বোলার, যার কাছ থেকে প্রতিটা বলেই নতুন কিছুর আশঙ্কা করে ব্যাটসম্যান। ভাবে, হয় স্লোয়ার নয়তো কাটার দেবে। ফুলটসের জন্য মোটেও তৈরি থাকে না। সার্বক্ষণিক একজন বোলার চাপে রাখলে যা হয় আর কি! আর ওই যে বললাম, ও ব্যাটসম্যানদের খুব দ্রুত বুঝে ফেলে।’

সে যত বড় বোলারই হোক না কেন, বয়সে তরুণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও খুব বেশি দিন হয়নি। সেখানে ‘অচেনা’ আইপিএলের শুরু থেকেই নিজের ফিল্ডিং সাজানো থেকে শুরু করে ব্যাটসম্যানদের সম্মোহিত করে রাখা—সবই তো অবিশ্বাস্য রূপকথার মতো ঘটনা! সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচ রাতে দেখেন আর পরদিন অবিশ্বাস্য সেসব বিষয় নিয়েই চর্চা চলে দেশজুড়ে। মুস্তাফিজের ‘ভাই’ মাশরাফি কিংবা সাকিব আল হাসানও সোৎসাহে যোগ দেন সে চর্চায়।

মুস্তাফিজকে ঘিরে আরো বড় স্বপ্ন দেখেন সবাই, সঙ্গে উদ্বেগও তো আছে। কাল দুপুরে যেমন টেলিফোনে মুস্তাফিজকে জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের প্রথম প্রশ্নটাই ছিল, ‘কিরে, শরীর ভালো তো?’ প্রথমে কাঁধ এবং সাইড স্ট্রেইনের চোটে ভোগা মুস্তাফিজকে ঘিরে এ ভয় তাঁর সতীর্থদেরও। আইপিএল মানে একের পর এক ম্যাচই শুধু নয়, এ-রাজ্য ও-রাজ্য বিমানভ্রমণের ক্লান্তি আর দলের দাবি মেটাতে গিয়ে না আবার চোটে পড়েন মুস্তাফিজ! আর আইপিএলের প্রথমভাগেই যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তাতে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের সব ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেই ডাক পড়বে তাঁর। টানা খেলে চোটজর্জরিত হবেন না তো মুস্তাফিজ?

আশার কথা, মুস্তাফিজ নিজেও নিজেকে ফিট রাখার ব্যাপারে সচেতন। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরামহীন প্রলোভন কি তিনি ভুলে থাকতে পারবেন? একবার অবশ্য ‘ছাড়’ দিয়েছেন মুস্তাফিজ। পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগে লাহোর কালান্দার্স ৫০ হাজার ডলারে নিয়েছিল বাংলাদেশের বাঁহাতি এ পেসারকে। কিন্তু ‘জাতীয় স্বার্থে’ মুস্তাফিজকে সে আসরে খেলতে দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সে সময় বোর্ডের পক্ষ থেকে মুস্তাফিজকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার একটা আলোচনাও হয়েছিল। যদিও সে ক্ষতিপূরণ আর পাননি তিনি। তাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজকে ‘আটকে’ রাখা কঠিনও হতে পারে বোর্ডের জন্য। পেশাদার দুনিয়া যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাঁকে!

সালমান খান কেন ‘সুলতান’ ছবিটি করতে রাজি হয়েছিলেন?

cfh f

গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বলিউডে বেশ কয়েকটি ছবি ঘিরে দর্শকদের মনে জল্পনা তৈরি হয়েছে। শুধু জল্পনাই নয়, ছবিগুলিকে ঘিরে চূড়ান্ত প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। একদিকে বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের রইস। অন্যদিকে সালমান খানের সুলতান। প্রধানত এই ছবিদুটিকে ঘিরেই এখন আমাদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। মনে নানা প্রশ্ন। কেমন হবে ছবিটা। গল্পটাই বা কেমন। এই জাতীয় আর কী। কিন্তু এটা কি জানেন সালমান খান কেন সুলতান ছবিটি করতে রাজি হয়েছিলেন?

সালমান খান অনুষ্কা শর্মা অভিনীত সুলতান ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে থেকেই দর্শকদের কাছে হিট হয়ে গিয়েছে। ছবিটিকে ঘিরে আলোচনা এখন মুখে মুখে। কিন্তু এত বয়সে সুলতানের ওরকম একটা কুস্তিগীরের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য সালমান খান কেন রাজি হয়েছিলেন এটা কি জানেন?

সালমান খান সবসময় শিখতে পছন্দ করেন। তাঁর কাছে অভিনয় করার সময় ছোট বড় সকলের কাছ থেকেই কিছু না কিছু তিনি শেখেন। এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য তাঁকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। কুস্তিগীরের চরিত্রে অভিনয় করা খুব কঠিন। কিন্তু শিখতে গিয়ে কষ্ট করাটাকেই তিনি এনজয় করছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শেখার সময় যদি কষ্ট না পাওয়া যায়, তাহলে শীর্ষে পৌঁছনো যায় না। সুলতান ছবিতে তাঁর চরিত্রটাও খুব কঠিন। পর্দায় সেটা ফুটিয়ে তোলার জন্য তাঁকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। পরিশ্রম করতে হয়েছে। আর এই সব করার জন্যই তিনি এই ছবিটি করতে রাজি হয়েছিলেন।

সূত্র: জিনিউজ

জেনে নিন, কী ছিল সানি লিওনের জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

্টাপ

সানি লিওন বলছেন, তাঁর জীবনে তিনি অনেক বড় ঝুঁকি নিয়েছেন। কিন্তু এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটা ছিল চার-পাঁচ বছর আগে। ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’ সিনেমার প্রচারের পাশাপাশি সানি এখন ব্যস্ত তাঁর লেখা গল্পের কাজে।

সিনেমার প্রচারের মাঝে সানি নিজের জীবনের নানা জিনিস নিয়ে কথা বলছেন। এই যেমন ইন্দো-কানাডিয়ান পর্নস্টার থেকে বলিস্টার বনে যাওয়া এই অভিনেত্রী বলছেন, ভারত আসার সিদ্ধান্তটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির ছিল। কারণ সেই সময় তিনি পর্ন ইন্ড্রাস্ট্রিতে বেশ বড় নাম-খ্যাতি- ও অর্থের অধিকারী হচ্ছিলেন। সেই সময় বলিউডে এসে জায়গা পাকা করতে না পারলে তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে বলে আশঙ্কা করলেন সানি লিওন। ভারতে এসে প্রথম ক’টা মাস কেরিয়ার নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন সানি। কিন্তু যেভাবে ভারতীয় দর্শক গ্রহণ করে নিয়েছে তাতে আপ্লুত সানি। এখন তিনি বলিউডে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, কোনো ছবির চরিত্রে নয়, বাস্তবে কলম ধরতে চলেছেন সানি। অন্তত ১২ থেকে ১৫টি ছোট গল্প লিখবেন নায়িকা। প্রত্যেকটি গল্প প্রায় ২০০০ শব্দের মধ্যে হবে। বইটি লেখা শেষ হয়ে গেলে অনলাইনে পাওয়া যাবে।

সূত্র: জিনিউজ

বিস্মিত নন মাশরাফি

৬ট৭

টক অব দ্য আইপিএল’ বলে যদি কিছু থাকে, সেটি এবার বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান। পাঁচ ম্যাচে ৭ উইকেট বিরাট কিছু হয়তো নয়, তবে মুস্তাফিজের সামনে ব্যাটসম্যানদের অসহায় নাচানাচিটাও তো উপভোগ করার মতোই ব্যাপার! আইপিএলের মুস্তাফিজ তাই প্রতিদিনই ছড়াচ্ছেন বিস্ময়।
মাশরাফি বিন মুর্তজা অবশ্য একটুও বিস্মিত নন। মিরপুরে কাল প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখতে দেখতে বলছিলেন, ‘ওদের কাছে মুস্তাফিজের এই পারফরম্যান্স চমক হতে পারে। তবে ও আইপিএলে যাওয়ার আগেই আমি বলেছিলাম, মুস্তাফিজ সর্বোচ্চ উইকেট পাবে অথবা সেরা তিনজনের মধ্যে থাকবে।’ এমন পূর্বানুমানের কারণটাও পরিষ্কার করলেন, ‘ওর বলে আন্তর্জাতিক ব্যাটসম্যানরাই সংগ্রাম করে, আর ওখানে তো বেশির ভাগই স্থানীয় ব্যাটসম্যান! ওদের চিন্তাই করতে পারার কথা নয় মুস্তাফিজের বলে কী হয় কী না হয়। সে জন্যই বলি, ওর বল খেলার মতো ব্যাটসম্যান ওখানে কমই আছে।’
মাশরাফির তো এমনও বিশ্বাস, ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এবারের আইপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েই ফিরবেন মুস্তাফিজ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারও মনে হচ্ছে মুস্তাফিজকে কাজে লাগানোর কৌশলটা শিখে ফেলেছেন। মাশরাফিরও তা চোখে পড়েছে, ‘আমরা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টগুলোতেই মুস্তাফিজকে বেশি ব্যবহার করি। ধরুন, বড় জুটি হয়ে যাচ্ছে, সে জুটি ভাঙতে মুস্তাফিজকে আনা। গত দু-তিনটি ম্যাচে দেখলাম, ওয়ার্নারও সেটা শুরু করেছে।’

মুক্তারের ম্যাচে জয়ী অভিজ্ঞতা

গহনরব

তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে লড়তে চেয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান। কিন্তু কাল ফতুল্লায় অভিজ্ঞতার কাছে মার খেল তারুণ্য। মাহমুদউল্লাহর শেখ জামাল ধানমন্ডির কাছে পাত্তাই পেল না মাহমুদুল হাসানের কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি। একতরফা ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতল শেখ জামাল। শেখ জামাল কলাবাগান একাডেমির ১৫২ রান পেরিয়ে গেছে ১৪০ বল হাতে রেখেই।
শেখ জামালের জয়ের নায়ক ডানহাতি পেসার মুক্তার আলী। স্কোরকার্ড ভুল বোঝাতে পারে, কিন্তু কাল ফতুল্লায় খেলা হয়েছে নিখাদ ব্যাটিং উইকেটে। আর সেখানেই বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি খেলা মুক্তার। ৭ ওভারে ১৯ রানে ৪ উইকেট—মুক্তারের বোলিংয়েই মুখ থুবড়ে পড়েছে কলাবাগান একাডেমি।
একাডেমির শুরুটা কিন্তু ভালোই ছিল। ৬ ওভারে ২৪ রান তুলে ফেলেছিলেন দুই ওপেনার ইরফান শুক্কুর ও মাইশুকুর রহমান। মাহমুদউল্লাহ তখনই ডেকে নেন মুক্তারকে। প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান, ১ রান পরের ওভারেও। গতি হারানো একাডেমির ইনিংস বড় ধাক্কা খেল মুক্তারের তৃতীয় ওভারে। তিন বলের মধ্যে আউট শুক্কুর ও নতুন ব্যাটসম্যান দিদার হোসেন। দুজনই বোল্ড। এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি একাডেমি, ৪৪.৩ ওভারেই অলআউট ১৫২ রানে।
প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ১১ রান দেওয়া মুক্তার আক্রমণে ফিরেছেন ৪২তম ওভারে। ফিরেই আরও ২ উইকেট। পরপর দুই বলে তাপস ঘোষ ও আবু জায়েদকে উইকেটকিপার জাবিদের ক্যাচ বানালেও হ্যাটট্রিক পাননি মুক্তার। ওই ওভারের পঞ্চম বলে আবদুল হালিমের ফিরতি ক্যাচটা ছেড়ে না দিলে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেটও পেয়ে যেতে পারতেন। তা হয়নি, তবে ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংই করেছেন মুক্তার।
দিন শেষে তাই তৃপ্তিই ঝরেছে মুক্তারের কণ্ঠে, ‘শুরুটা ভালো করার ইচ্ছে ছিল। আশা করছি, পুরো মৌসুমই ভালো যাবে। ফ্ল্যাট পিচে জায়গামতো বল ফেলেছি। উইকেটও পেয়ে গেছি তাড়াতাড়ি। ওটাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে আরও উইকেট নেওয়ার।’
মুক্তারের বোলিংয়ে মুগ্ধ মাঠে উপস্থিত জাতীয় নির্বাচক হাবিবুল বাশারও। রান তাড়া করতে নেমে দারুণ ব্যাট করছিলেন শেখ জামালের ওপেনার মাহবুবুল করিম। ৪১ বলেই ফিফটি করে ফেলেন, সেঞ্চুরিরই সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। তখনো বাশারের বিচারে মুক্তারই ছিলেন ম্যাচসেরা, ‘এই মরা উইকেটে সেঞ্চুরি কোনো বড় ব্যাপার না, আমি হলে মুক্তারকেই পুরস্কার দিতাম।’
শেষ পর্যন্ত অবশ্য মুক্তারের হাতেই উঠেছে পুরস্কার।