চার বছরে বদলে যাবে ফুটবল!

154

উপলক্ষটা ছিল কাজী সালাউদ্দিন ও লোডউইক ডি ক্রুইফের সভা। খণ্ডকালীন চুক্তিতে ক্রুইফ ঢাকায় এসে জাতীয় দল নিয়ে কাজ শুরু করলেও বাফুফে সভাপতি ছিলেন মেক্সিকো ফিফা কংগ্রেসে। তাই দুজনের সাক্ষাতে চার দিন দেরি হলেও কাল সভাপতির সামনে দলের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছেন কোচ। আলোচনা শেষে কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমার নির্দেশনা একটাই— জিততে হবে। জানি এটা কঠিন কাজ তবে খেলার আগে তো আমি হারতে পারি না।’

এশিয়ান কাপের প্লে-অফ বাছাইয়ে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ উতরে নেওয়ার জন্য ক্রুইফকে ডেকে এনেছেন সালাউদ্দিন। সভাপতির চোখে এই ডাচ কোচই বাংলাদেশ ফুটবলের জীয়নকাঠি। ৪৭ বছর বয়সী কোচও দুটি ম্যাচে লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। ২ জুন দুশানবের অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র করে ৭ তারিখ ঢাকায় হোম ম্যাচ জেতার ছক কষেছেন কোচ। তাঁর চাহিদা অনুযায়ী ২ জুন দুশানবেতে অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে আরব আমিরাতে সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানোর চেষ্টা করছে বাফুফে। দুই ম্যাচে লক্ষ্য পূরণ না হলে ক্রুইফের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ফুটবলে বাঁধা থাকবে কি না, তা পরিষ্কার করেননি সালাউদ্দিন।

কোচের কথা শেষে বাফুফে সভাপতি তৃতীয় মেয়াদে করণীয়তে ঢুকেছেন। আগের দুবার অনেক সহজে বাফুফের নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও এবার ভীষণ কঠিন বাধা পেরোতে হয়েছে সভাপতির চেয়ার টিকিয়ে রাখতে। তাই সালাউদ্দিনের কাছে এটা নতুন চ্যালেঞ্জ, ‘নির্বাচনের পরে আমি কিন্তু আজই প্রথম সিরিয়াসলি অফিস করছি। মাঝে দু-এক দিন বাফুফেতে এলেও সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে আলোচনাতেই কেটে গেছে। কোনো কাজ করতে পারিনি। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাফুফের নতুন কর্মকাণ্ড দেখতে পাবেন।’ এরপর তিনি ফুটবলকে বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘গত চার বছর আর সামনের চার বছর এক হবে না। গত চার বছরে একটা জায়গায় এসেছে, কিন্তু সামনের দুই বছরে কিছু করতে হলে আমাদের আরো পেশাদার হতে হবে।’ ফুটবল গত আট বছর তাঁর হাতে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। ঢাকার ফুটবল নিয়মিতকরণটাই সালাউদ্দিনের সাফল্য বলা যায়। যেখান থেকে ফুটবলার তৈরি হয় সেই জেলা পর্যায়ে ফুটবলের হতশ্রী চেহারা ফেরেনি। বদলায়নি জাতীয় দলের চেহারাও, একসময়ের সাফ শিরোপাজয়ীরা এখন সাফ ফুটবলের গ্রুপের গণ্ডি পেরোতে পারে না। এই ব্যর্থতাই বড় হয়ে উঠেছিল বাফুফে নির্বাচনে। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল জেলা ফুটবলের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা। মজার ব্যাপার হলো, আট বছরে জেলা ফুটবলের সংস্কার না হলেও সেই জেলার ভোটেই তিনি নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন। এবার যদি জেলার প্রতি তাঁর সদয় দৃষ্টি হয়!

আরো চার বছরের দায়িত্ব পেয়ে বাফুফে সভাপতি প্রথমে ফিন্যান্স কমিটি ও অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করেছেন। নির্বাচনে বাফুফের আর্থিক অস্বচ্ছতাও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে বার্ষিক সাধারণ সভা না করায় প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছিলেন সালাউদ্দিন। তাই বোধ হয় নির্বাচন জিতেই অর্থ সংক্রান্ত উপ-কমিটিগুলোই আগে করা হয়েছে। বাকি উপ-কমিটিগুলো নতুন করে গড়ার কথা বলেছেন সভাপতি, ‘আজ (কাল) যেটা করেছি, সেটা হলো আগের সাব কমিটিগুলো বাতিল করেছি। পেশাদার লিগ কমিটি ও জাতীয় দল কমিটি বাদে বাকি সব উপ-কমিটি বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটিগুলো নতুন করে গঠন করা হবে।’ জাতীয় দল কমিটির অধীনে এখন তাজিকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচের প্রস্তুতি চলছে আর লিগ কমিটি কাজ করছে ফেডারেশন কাপ নিয়ে। তবে ফেডারেশন কাপে তারিখ ঘোষণা করে আবার পিছিয়ে যাওয়াটা সভাপতির পছন্দ হয়নি।

খেলা পেছানোটা যেমন আগের ধারা তেমনি জাতীয় দলের কারণে ফুটবল মৌসুমে ছেদ পড়া নতুন ঘটনা নয়। তেমনি তিরস্কৃত ক্রুইফকে ডেকে এনে আবার পুরস্কৃত করাটাও কাজী সালাউদ্দিনের নতুন শুরুর কথা বলে না। মেলে না ফুটবলের বদলে যাওয়ার ইঙ্গিতও।

বার্সার ২৮তম স্প্যানিশ কাপ জয়

152

তীব্র লড়াই শেষে ২৮তম বার স্প্যানিশ কাপ জিতে নিলো বার্সেলোনা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে সদ্য ইউরোপা লিগ জেতা সেভিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতে লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। গোলশূন্য নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন জরদি আলবা। অন্যদিকে শেষ বাঁশি বাজার আগে গোল করেন নেইমার। ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলে দুটো গোলেই অবদান রাখেন লিওনেল মেসি। কিন্তু দীর্ঘদিন পর কোপা দেল রে ফাইনাল ম্যাচে গোলশূন্য থাকেন তিনি।

প্রথমার্ধে ডিফেন্ডার হাভিয়ের মাসচেরানোর লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বার্সেলোনাকে দ্বিতীয়ার্ধে চেপে ধরেছিল সেভিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে তারাও ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর মেসি-নেইমারদের আর রোখা যায়নি। অতিরিক্ত সময়ে একতরফা খেলে ঘরোয়া ‘ডাবল’ জিতে নেয় লুইস এনরিকের দল।

সেভিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে জয় পেয়ে প্রতিযোগিতায় টানা ১৮ ম্যাচে অপরাজিত থাকল বার্সেলোনা। শেষ বার কাতালান দলটি হেরেছিল ২০১৪ সালের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। বার্সেলোনার এটি কোপা দেল রের ২৮তম শিরোপা। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ইনিয়েস্তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফিটা। পরক্ষণেই তা দখলে চলে যায় সব সতীর্থের। মাদ্রিদে আইনি লড়াই করে নেয়া বার্সেলোনার কাতালান পতাকা তখন গর্বের সঙ্গে উড়ছে গ্যালারি জুড়ে।

বিশ্বনবীর জন্য খাদিজা (রা.)-এর ত্যাগ

151

হিলফ আল ফুজুল : তত্কালীন আরবে কারণে-অকারণে গোত্র থেকে গোত্রে বছরের পর বছর নানা রকম লড়াই ও যুদ্ধ চলতেই থাকত। একটি যুদ্ধ মুহাম্মদ (সা.) তাঁর চাচা যুবায়ের ইবনে মুত্তালিবের সঙ্গে থেকে প্রত্যক্ষ করেন। ভাতৃঘাতী এই যুদ্ধের মধ্যে বিভিন্ন গোত্র প্রধানকে নিয়ে একটি সভা হয়। এতে মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুপ্রেরণায় হিলফ আল ফুজুল নামক একটি সংগঠনের জন্ম হয়।

হিলফ আল ফুজুলের সদস্যগণ শপথ করলেন, তাঁরা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, অত্যাচারীদের প্রতিরোধ, বিদেশিদের জানমাল রক্ষা এবং অসহায়দের সাহায্য করবেন। এই প্রথমবারের মতো হিজাজে গোত্রানুগত্যের গণ্ডি অতিক্রম করে ন্যায়ানুগত্যের সংকল্পে আন্তগোত্রীয় একটি সংঘ স্থাপিত হলো। এভাবে অক্ষরজ্ঞানহীন এক যুবক মুহাম্মদ কৈশোরে মক্কার জনপদে, সন্নিহিত পাহাড়-উপত্যকা-প্রান্তরের উন্মুক্ত চারণভূমিতে, যুদ্ধক্ষেত্রে এবং দেশ-বিদেশের বাজারে চরিত্র ও ব্যক্তিত্বের কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরতে সমর্থ হন। তখনো তিনি নবী হননি।

৫৯১ খ্রিস্টাব্দ : বয়স তখন ২০। কিশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করছেন মুহাম্মদ। চাচা আবু তালিবের পরামর্শে মক্কার ধনবতী নারী খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায় নিযুক্ত হলেন। ব্যবসায় নিযুক্ত হয়ে তিনি খাদিজার প্রতিনিধি হয়ে সিরিয়া গমন করেন। ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, খাদিজা (রা.)-এর প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসা উপলক্ষে তিনি ইয়েমেনও গিয়েছিলেন। (ইসলামী বিশ্বকোষ, দ্বিতীয় খণ্ড, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ২৯৩-২৯৪)

সিরিয়া যাত্রাকালে মুহাম্মদ (সা.) একটি গির্জার পাশে অবস্থিত গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গির্জার ধর্মযাজক এ দৃশ্য দেখে মন্তব্য করেন, ‘এই গাছের নিচে নবী ছাড়া আর কেউ কখনো বিশ্রাম নেয়নি।’ (ইবনে হিশাম, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ১৭৭)

ইতিহাসবিদরা বলেন, ৫০০ বছর আগে হজরত ঈসা (আ.) একবার এ পথে যাত্রাকালে এই গাছের নিচে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। সে কথা স্মরণে রেখেই পাদরি উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। মুহাম্মদ (সা.)-এর তত্ত্বাবধানে খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসার দ্রুত প্রসার ও শ্রীবৃদ্ধি ঘটে।

৫৯৪ খ্রিস্টাব্দ : এ বছর রাসুল (সা.)-এর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। মক্কার বিশিষ্ট ‘তাহেরা’ (পবিত্র) বলে পরিচিত খাদিজা (রা.), মুহাম্মদ (সা.)-এর সুচরিত্রের গুণে মুগ্ধ হয়ে বিবাহের প্রস্তাব দেন। মুহাম্মদ (সা.) এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। অথচ মুহাম্মদ (সা.) তখন মাত্র ২৪ বছরের এক তরুণ। [সূত্র : মাওলানা মমতাজ উদ্দীন আহমাদ : নবী পরিচয়, ইউপিএল, ঢাকা, ২০০০ (প্রথম প্রকাশ ১৯৬২), পৃষ্ঠা ৪১-৪২]

মুফতি শফি (রহ.) এ বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়ে বলেছেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তখন ছিল একুশ। কোনো কোনো ঐতিহাসিক ২৯, ৩০, ৩৭ বছর যে বলেছেন, তার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। (মুফতি শাফি, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ২৬)

পাশাপাশি খাদিজা (রা.)-এর বয়স তখন ছিল ৪০, মতান্তরে ৪৫। উপরন্তু খাদিজা (রা.) এ সময় পর্যন্ত আরো দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং দুই স্বামীরই মৃত্যু হয়। এ ছাড়া এ দুই স্বামীর ঘরেই অন্তত চারজন সন্তান ছিল।

বিবাহের প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে মুহাম্মদ (সা.)-এর সিদ্ধান্ত সঠিক বলে পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়। কারণ তাঁর জীবনে খাদিজা (রা.)-এর অবদান পরম আশীর্বাদ বয়ে এনেছিল। প্রথমত, তাঁর অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছিল। তবে সবচেয়ে বড় যে সমর্থনটি এ বিয়ের মাধ্যমে সংঘটিত হলো, তা হচ্ছে, খাদিজা (রা.) নবীর জীবনে নানা বিপদ-আপদে পরম অভিভাবকরূপে আবির্ভূত হলেন। এ বিয়েতে আল্লাহ তায়ালার সরাসরি ইশারা ছিল।

এই সময়টা ছিল মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত পাওয়ার সময়। তিনি নির্জনে ধ্যানে কাটাতে শুরু করেন। এমনকি জাবালে নূর পর্বতের সুউচ্চ হেরা গুহায় যখন নবী (সা.) দীর্ঘ ধ্যানে মগ্ন ছিলেন, তখন অধিকাংশ সময় খাদিজা (রা.) মক্কা শহর থেকে ওই পর্বতের উঁচু গুহায় উঠে তাঁর জন্য খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। নবুয়ত নিয়ে যখন মুহাম্মদ (সা.) বিভ্রান্ত, সন্দিহান এবং শঙ্কিত, তখন আশ্চর্যজনকভাবে খাদিজা (রা.) তাঁকে শক্তি জুগিয়েছেন। খাদিজা (রা.)-ই প্রথম বুঝতে পারেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, ফলে তিনি সাহসের সঙ্গে স্বামীর পাশে দাঁড়ান। মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে এই সময় এমন একজন ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন ছিল। তাঁদের দাম্পত্য জীবন সর্বমোট ২৪ বছর অব্যাহত ছিল। খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যু পর্যন্ত নবী (সা.) অন্য কোনো বিয়ে করেননি।

দাসপ্রথাবিরোধী অভিযানের শুরু : নবী (সা.) মানবজাতির মুক্তির জন্য পরবর্তীকালে আল্লাহ তাআলার প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামের যেসব সনদ উপস্থাপন করেছিলেন, তা ছিল সব মানুষের জন্য সাম্য প্রতিষ্ঠা। সবাই সবার ভাই, কেউ কারো প্রভু নয়। নবুয়তপ্রাপ্তির আগে থেকেই আল্লাহ সোবহানাহু তাআলা তাঁর দিলে এই চেতনা ঢেলে দিয়েছিলেন।

এর একটা প্রমাণ দেখি জায়েদ (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর একটি সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। বিবাহের পর খাদিজা (রা.) জায়েদ ইবন হারিছা নামক তাঁর ক্রীতদাসকে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সেবায় নিয়োজিত করেন। এই প্রথমবারের মতো মুহাম্মদ (সা.) ক্রীতদাসের মালিক হলেন। আরবের দাসপ্রথা তাঁর হূদয়কে আগেই ভারাক্রান্ত করে রেখেছিল। তিনি জায়েদকে মুক্ত করে দিলেন। পরে যখন জায়েদ তাঁর পিতার সঙ্গে স্বগৃহে ফিরতে অসম্মত হলেন, তখন তাঁর দাসত্বজনিত গ্লানি মুছে দেওয়ার জন্য মুহাম্মদ (সা.) কাবায় সমবেত ব্যক্তিদিগকে সম্বোধন করে বললেন : উপস্থিত ব্যক্তিগণ! তোমরা সাক্ষী রহিলে যে জায়েদ এখন হইতে আমার পুত্র; সে আমার উত্তরাধিকারী হইবে, আমি তাহার উত্তরাধিকার পাইব। পরবর্তীকালে জায়েদ এবং তাঁহার পুত্র উসামা (রা.) মুসলিম ইতিহাসে বহু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। (ইসলামী বিশ্বকোষ, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ২৯৪-২৯৫)

পৌত্তলিকতাবিরোধী মন : প্রথম থেকেই মুহাম্মদ (সা.) পৌত্তলিকতাবিরোধী মনোভাবের ছিলেন। মুসনাদ ইবন হাম্বলের বর্ণনায় দেখা যায়, খাদিজা (রা.)-এর এক প্রতিবেশিনী এক রাতে মুহাম্মদ (সা.)-কে বলতে শুনেছিলেন, হে খাদিজা, আল্লাহর কসম, আমি কখনো লাত আর উয্যার পূজা করব না, আল্লাহর কসম, কখনোই তাদের অর্চনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তখন খাদিজা (রা.) বললেন, দূর হোক লাত আর উয্যা।

লাত ও উয্যা ছিল আরবদের দুটি প্রতিমা, যাদের অর্চনা করে তারা ঘুমুতে যেত। আরবের সেই ঘোর পৌত্তলিকতার যুগেও ‘হানিফ’ নামে খ্যাত কিছু লোক ছিলেন, যাঁরা এক আল্লাহর বিশ্বাসমূলক লুপ্তপ্রায় ‘মিল্লাতে ইব্রাহিম’-এর অনুসারী ছিলেন এবং মূর্তিপূজার বিরোধিতা করতেন। মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বপুরুষরা বেশির ভাগ এই মতাবলম্বী ছিলেন।

ইসলামের দাওয়াতের আগে আরবে কাবা ঘরের পুনর্নির্মাণের পর কুরাইশ গোত্র তাদের কৌলীন্য এবং পৌরহিত্যের মর্যাদা বৃদ্ধির পরিকল্পনায় একটি নতুন নিয়ম চালু করল যে হজের সময় অন্যদের মতো তারা ‘আরাফাত’-এ যাবে না। হজরত (সা.) এই নিয়ম লঙ্ঘন করে আরাফাতের প্রান্তরে যান এবং কৌলীন্যগত প্রাধান্যের এমন দাবির সক্রিয় বিরোধিতা করেন। এই বিরোধিতা ছিল মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি সাহসী পদক্ষেপ।

পরবর্তীকালে পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৯৮-১৯৯ আয়াতে নবী (সা.)-এর এই প্রতিবাদের সমর্থন প্রদান করা হয়। জীবনে তিনি কোনো দিন প্রতিমা পূজা যেমন করেননি, তেমনি কোনো দেবদেবীর প্রসাদ ভক্ষণ করেননি। একবার কুরাইশ পৌত্তলিকরা তাদের কোনো দেবীর নামে বলি দেওয়া পশুর গোশ্ত তাঁকে খেতে দিয়েছিল। মুহাম্মদ (সা.) প্রত্যাখ্যান করেন এবং তা খেতে অস্বীকার করেন। এভাবে নবুয়তের আগেই পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধাচরণ করে একটি বিশেষ অবস্থানে তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

৬১১ খ্রিস্টাব্দ : এ বছর জুন মাসের যেকোনো সোমবার দুনিয়ার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনাটি ঘটে। এদিন মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রথম পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। জাবালে নূর পাহাড়ের হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন মুহাম্মদ (সা.)-কে একজন অলৌকিক ব্যক্তি হঠাৎ এসে বলেন, ‘পড়ুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ুন, আপনার পালনকর্তা মহান, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে, যা সে জানত না।’

এর উত্তরে মুহাম্মদ (সা.) বললেন, আমি তো পড়তে জানি না। কিন্তু আগন্তুক মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে বারবার আলিঙ্গন করতে থাকেন। মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীর ঘেমে যায়। তিনি ভয় পেয়ে যান, আর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে ওপরোক্ত পাঁচটি বাক্য। পরবর্তীকালে তা সুরা আলাকের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

ভীত ও কম্পিত মুহাম্মদ (সা.) জাবালে নূর পর্বত থেকে দ্রুত বাড়ি ফেরেন এবং অস্থিরতার সঙ্গে খাদিজা (রা.)-কে বলতে থাকেন, ‘আমাকে কম্বল দ্বারা জড়িয়ে ধরো, আমি হয়তো মরে যাব।’

খাদিজা (রা.) নবীকে আশ্বস্ত করলেন, তাঁর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু ঘটনার বিবরণে তিনিও সন্দিহান হয়ে উঠলেন। খাদিজা (রা.)-এর ভাই ওরাকা ছিলেন তাওরাত কিতাবের বিশিষ্ট পণ্ডিত। তাঁকে ঘটনা খুলে বলার পর তিনি বললেন, আগন্তুক জিবরাঈল (আ.)-ই হবেন, যিনি মুসা (আ.)-এর কাছেও এসেছিলেন। (মাওলানা মমতাজ উদ্দীন : নবী পরিচয়, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ৪৩-৪৪)

এভাবেই নবুয়তের ঘটনা শুরু হয়েছিল। ৬১১-৬১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অনেকটা গোপনে ইসলামের দাওয়াতি কাজ আরম্ভ হলো। এ অবস্থায় প্রথম যাঁরা মুসলিম হলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন :

১. খাদিজা (রা.) (নারীদের মধ্যে প্রথম), ২. আলী (রা.) (বালকদের মধ্যে প্রথম), ৩. আবু বকর সিদ্দিক (রা.) (বয়স্কদের মধ্যে প্রথম), ৪. জায়েদ ইবনে হারেছা (রা.) (দাসদের মধ্যে প্রথম)। এদের মধ্যে সবার আগে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) পাঁচজনকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে প্রথম দিনই নবী (সা.)-এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করান, তাঁরা হলেন :

১. যোবাইর ইবনে আওয়াম (রা.), ২. ওসমান ইবনে আফফান (রা.), ৩. আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.), ৪. তালহা (রা.), ৫. সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)।

৬১৫ খ্রিস্টাব্দ : নবুয়তের চতুর্থ বছরে মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় :

হে চাদর (বা কম্বল) আবৃত নবী

উঠুন (মানবজাতির উদ্দেশে) সাবধানবাণী প্রচার করুন

আপনার পালনকর্তার বড়ত্ব ঘোষণা করুন।

(সুরা মুদাসসির, আয়াত ১-৩)

প্রকৃতপক্ষে, তত্কালীন আরব সমাজের বাস্তব সমাজচিত্র পৌত্তলিক চরিত্রের। সব বিষয়েই এরা শিরক করত এবং মূর্তি পূজা ছিল এদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। আর এ কাজের ধর্মনেতা ছিল নবী (সা.)-এর বংশ ও বৃহত্তর পরিবারের লোকেরাই। ফলে নিজের আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত দেওয়ার মধ্য দিয়ে নবী (সা.)-এর তাবলিগ শুরু হলো।

লেখক : সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদপ্তর

আব্রামের কাছে আমির আঙ্কল বেস্ট!

150

বয়স মাত্র চার। আর এর মধ্যেই নিজের পছন্দ-অপছন্দের কথা তীব্র ভাবে জানাতে শিখেছে সে। সে হল আব্রাম। শাহরুখ খানের ছোট ছেলে। দিন কয়েক আগেই সে জানিয়েছে, আমির খান তার সবচেয়ে পছন্দের আঙ্কেল।

আসলে দিন কয়েক আগে ‘সরবজিত্’-এর স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের পর আফটার পার্টি সেরে শাহরুখের বাংলো ‘মন্নত’-এ গিয়েছিলেন আমির। তবে খালি হাতে নয়। আব্রামের জন্য প্রচুর খেলনা নিয়ে গিয়েছিলেন নায়ক। আর সে সব ছোটে খানের এতই পছন্দ হয়েছে যে, তার মতে এখন ‘আমির আঙ্কেল ইজ বেস্ট।’

টুইটারে শাহরুখ আমিরকে ট্যাগ করে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমির, খেলনাগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ। আব্রাম এখন রোজ ঘুম থেকে উঠেই খেলতে শুরু করে দিচ্ছে।’

এমনিতেই শাহরুখ-আমিরের মধ্যে পেশাদারি দূরত্ব কমে আসছে। প্রকাশ্যে তাঁরা বাড়িয়েছেন বন্ধুত্বের হাত। আব্রামের হাত ধরে তা আরও পোক্ত হল বলেই মনে করছেন বলি-টাউনের একটা বড় অংশ।

‘সাউথ এশিয়ান প্রিন্স’ এবার নজরুলের নায়ক

149

কাজী নজরুল ইসলামের গল্পের নায়ক হোক বা গানের নায়ক হোক যাই বলেন, নজরুলের নায়ক হিসেবে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করলেন অভিনেতা সাঈদ খান। র‍্যাম্প মডেল দিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন সাঈদ খান। এরপরে নার্গিস আক্তারের হাত ধরে বাংলাদেশে পদার্পণ। তারপরের গল্পগুলো এগিয়ে যাওয়ার। সাঈদ এবার নজরুল গীতির মডেল হলেন। ‘তোমার মনের ফুলদানিতে ফুল হবো বন্ধু’ শিরোনামে ফেরদৌস আরা’র গাওয়া গানে পরিচালনায় ছিলেন নারগিস আক্তার।

বিভিন্ন দেশের মডেলরা সেখানে ক্যারিয়ার গড়তে চান। তাঁদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই সুযোগটা পেতে হতো। আমেরিকান ডিজাইনার কেন জনের পোশাকের মডেল হয়ে প্রথম বড় সুযোগটা পেয়েছিলেন। শোটি এফটিভিতে প্রচারিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিকে হয়েছিল ‘জুয়েল অব ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতা। সেখানে ‘সাউথ এশিয়ান প্রিন্স’ খেতাব পান সাঈদ। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের মডেল। ৫০ প্রতিযোগীকে টপকে এই খেতাব পান সাঈদ। গত বছরই সাঈদ খান নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকেও হলিউড-বলিউডের বিখ্যাত তারকাদের পাশাপাশি জনপ্রিয় সব ফ্যাশন ডিজাইনারদের পোশাকে মঞ্চ মাতিয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, সোহা আলী খান, নেহা ধুপিয়াসহ অনেকের সঙ্গেই র‍্যাম্পে হেঁটেছেন।

উপমা, নারগিস আক্তার, ফেরদৌস আরা, সাঈদ খান

ওয়েস্টার্ন থেকে ইস্টার্ন সবদিকেই যেন সমান তালে পা রাখতে চান সাঈদ খান। তাই তো নারগিস আক্তারের ‘যৈবতী কন্যার মন’-এ অভিনয় করছেন সাঈদ। আর এবার তো একেবারে নজরুলের নায়ক। সাঈদের সাথে সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন উপমা। দৃশ্যগুলোর চিত্রায়ণ হয়েছে গাজীপুরের সফিপুর আনসার একাডেমি।

সাঈদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা আমার জন্য একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। দেশে নতুন ধরনের কাজ করছি। তার মধ্যে নজরুলের গানের নায়ক, এটা আমার জন্য একটা স্পেশাল ব্যাপার। উপমার সাথে আমার রসায়নেরও প্রশংসা করেছেন নারগিস আপা। সব মিলিয়ে বেশ ভালো একটা কাজ হয়েছে।

বেঙ্গালুরুকে শেষ চারে নিলেন কোহলি

148

এই ম্যাচ হারলে আইপিএলের সেমিফাইনালের লড়াই থেকেই ছিটকে যেত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবে ছিটকে যেতে হয়নি বিরাট কোহলির দলকে। আজ দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় বিরাট কোহলির দল। এ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে বেঙ্গালুরু।

দিল্লির প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে তোলে ১৩৮ রান। জবাবে ১১ বল বাকি থাকতেই জয় পায় বিরাট কোহলির দল। ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি।
প্লে অফের সেরা চার দল হলো গুজরাট লায়ন্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কলকাতা নাইট রাইডার্স।

সালমান থাকছেন ‘নো এন্ট্রি’র সিকুয়েলে

147

নো এন্ট্রি’ ছবির সিকুয়েল নিয়ে সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন প্রযোজক বনি কাপুর। বেশ কিছুদিন আগেই সালমান খানের সঙ্গে ২০০৫ সালে নির্মিত ওই নামের ব্লকবাস্টার কমেডি ছবিটির সিকুয়েল তৈরির ব্যাপারে প্রাথমিক কথা হয়েছিল বনি কাপুরের। কিন্তু দুজনের কেউই দিন-ক্ষণ পাকা করার মতো সময় পাচ্ছিলেন না। স্ত্রী শ্রীদেবী অভিনীত ‘মাম’ ছবির কাজেই মূলত বনি কাপুরের ব্যস্ততা ছিল। বনি কাপুর জানিয়েছেন, দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি সালমানের সঙ্গে দেখা করবেন এবং এ ব্যাপারে কথা বলবেন।।
এ ছবির পরিচালক আনিস বাজমি দেড় বছর আগেই সালমানকে নতুন ছবির কাহিনি শুনিয়েছেন। সালমানের ভালোও লেগেছে তা। এই ছবিতে সালমানের সঙ্গে আরও অভিনয় করবেন অনীল কাপুর এবং ফারদিন খান। যাঁরা ‘নো এন্ট্রি’ দেখেছিলেন, তাঁদের নিশ্চয়ই জানা আছে, সে ছবিতেও এই তিন তারকা পর্দা কাঁপিয়ে​ছিলেন।
এ ব্যাপারে জানা গেছে আরেকটি চমকপ্রদ খবর। নয়জন নায়িকা অভিনয় করবেন এই ছবিতে। সালমানের সম্মতি পেলেই নায়িকাদের সঙ্গে আলাপ শুরু করবেন ছবির পরিচালক।
২০১৫ সালের ‘নো এন্ট্রি​’তে এই তিন তারকার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন লারা দত্ত, এশা দেওল, সেলিনা জেটলি ও বিপাশা বসু।

এ মুহূর্তে প্রযোজক, পরিচালক এবং মূল অভিনেতা—তিনজনই ভীষণ ব্যস্ত। বনি কাপুর ব্যস্ত আছেন তাঁর ‘মাম’ ছবিটি নিয়ে। আনিস কাজ করছেন অমিতাভের ‘আঁখি’ ছবির সিকুয়েল তৈরিতে, আর সালমান করছেন ‘সুলতান’–এ। টাইমস অব ইন্ডিয়া

গাগার পিয়ানো কেউ কিনলো না!

146

লেডি গাগার কোনো নতুন গান বাজারে এলে তা লুফে নেন শ্রোতারা। মার্কিন এই গায়িকার ভরাট কণ্ঠের ভক্ত ছড়িয়ে আছেন বিশ্বের নানা প্রান্তে। এমনকি অনেক পাগল ভক্তও তো রয়েছেন তাঁর। এই ভেবেই যুক্তরাষ্ট্রের এক নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি লেডি গাগার একটি পিয়ানো নিলামে তোলে। কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল, হয়তো মোটা দামে সেই পিয়ানো কিনে নেবে গাগার কোনো অন্ধভক্ত। কিন্তু তা আর হয়নি। নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি গাগার তেমন কোনো ভক্তই খুঁজে পায়নি। তাই বিক্রি হয়নি ‘বর্ন দিজ ওয়ে’ গায়িকার ছেলেবেলার স্মৃতি জড়ানো পিয়ানোটি।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে এই পিয়ানো দিয়েই নাকি নিজের প্রথম লেখা গানে সুর বসিয়েছিলেন লেডি গাগা। তাই জুলিয়েন নামে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ গাগার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই স্মৃতিচিহ্নটির দাম একটু বাড়িয়েই ধরেছিল। নিলামে সর্বনিম্ন এক লাখ ডলার থেকে দাম হাঁকা শুরু করতে চেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তারা আশা করেছিল, দুই লাখ ডলার পর্যন্ত এর দাম উঠতে পারে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, নিলামে অংশগ্রহণকারী কেউই সেই সবর্নিম্ন দামটিও হাঁকেনি। তাই বিক্রি হয়নি গাগার পিয়ানো।
তবে নিউইয়র্কের হার্ডরক ক্যাফেতে আয়োজিত ‘মিউজিক আইকনস’ নামে এই নিলামে সংগীত কিংবদন্তি এলভিস প্রিসলির কিছু স্মৃতিচিহ্ন বিক্রি হয় চওড়া দামে। এর মধ্যে ছিল ১৯৬৯ সালের একটি গিবসন ডাভ গিটার, যা প্রিসলিকে তাঁর বাবা উপহার দিয়েছিলেন। নিলামে গিটারটি ৩ লাখ ৩৪ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। এএফপি।

সিউলের প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি কৃতজ্ঞ বাপ্পা

145

আগেও দেশের বাইরে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন শিল্পী বাপ্পা মজুমদার। এবার আমন্ত্রণ এলো দক্ষিণ কোরিয়ায় দেশ সিউল থেকে। সিউলের প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে গতকাল সেখানে পৌঁছেছেন এই শিল্পী। আজ রোববার বিকেলে তাঁদের এক ঘণ্টা গান গেয়ে শোনালেন তিনি।
সিউলে গান গেয়ে সেখানকার বাঙালিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাপ্পা। অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে বাপ্পা মজুমদার লিখেছেন, ‘সাকসেসফুল শো অ্যাট কোরিয়া। থ্যাংকস টু অল মেম্বারস অব বাংলাদেশ কমিউনিটি কোরিয়া।’
অনুষ্ঠান নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হলে বাপ্পা মজুমদার জানালেন, ‘কোরিয়াতে এবারই প্রথম গান গাইতে এলাম।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সিউলে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে এক অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। ছবি: প্রথম আলোঅসাধারণ একটি শো হয়েছে। দর্শকেরা যেভাবে উল্লাস প্রকাশ করেছেন, তাতে মনে হয়েছে, এই অনুষ্ঠান কোরিয়াপ্রবাসী বাঙালিরা খুবই উপভোগ করেছেন।’
প্রবাসী বাঙালিদের আয়োজনের স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে এই কনসার্ট শুরু হয়। শুরুতেই গান করেন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের শিল্পী ঝিলিক। এরপর মঞ্চে ওঠেন বাপ্পা মজুমদার। সেখানে উপস্থিত এক দর্শক প্রথম আলোকে জানান, ওই এক ঘন্টা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন বাপ্পা। কোরিয়াপ্রবাসী বাঙালিরা দীর্ঘদিন এই অনুষ্ঠানের কথা মনে রাখবে

গায়ক শাফিন এবার মডেল

144

শুভেচ্ছাদূত হওয়ার বদৌলতে এর আগে ব্যান্ডশিল্পী শাফিন আহমেদকে স্থিরচিত্রের মডেল হতে হয়েছিল। এবার তিনি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করলেন। বিপণিবিতানের এই বিজ্ঞাপনচিত্রটির শুটিং গতকাল শনিবার ঢাকার একটি বহুতল বিপণিতে হয়েছে। শাফিন আহমেদ গতকাল বিজ্ঞাপনচিত্রে তাঁর অংশের শুটিংয়ে অংশ নেন। এটি তাঁর প্রথম কোনো টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্র।
সম্প্রতি একটি নাটকে অভিনয় করেছেন শাফিন আহমেদ।
আজ রোববার প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে শাফিন আহমেদ বলেন, ‘অনুরোধে কাজটি করা হয়েছে। এই বিজ্ঞাপনচিত্রে দেখা যাবে, আমি মার্কেটে কেনাকাটা করছি। কেনাকাটা শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় মার্কেটে আসা অন্য ক্রেতারা আমার সঙ্গে এসে কথা বলছেন। অটোগ্রাফ নিচ্ছেন। আমিও তাঁদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে অটোগ্রাফ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছি।’
শাফিন এ-ও বলেন, ‘গতকালই আমার অংশের শুটিং শেষ হয়েছে। অন্য রকম অভিজ্ঞতা। শুনেছি, এই বিজ্ঞাপনচিত্রে আরও আছেন ক্রিকেটার সাব্বির, মডেল ও অভিনয়শিল্পী নিরব আর পিয়া বিপাশা।
ঈদ উপলক্ষে নির্মিত এই বিজ্ঞাপচিত্রটির নির্মাতা তৌফিক হাসান অংকুর। শিগগিরই বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে এটির প্রচার শুরু হবে।

ঋতু পরিবর্তনের সময় কীভাবে করবেন রূপচর্চা

142

ঋতু পরিবর্তন ও ত্বকের ধরনভেদে রূপচর্চার নিয়মনীতি বদলে যায়। ত্বকের সতেজতা ধরে রাখতে প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞরা।

ব্ল্যাকহেডস –

নাকের ওপর আর ঠোঁটের নিচের থুতনির ওপরের অংশে ব্ল্যাকহেডসের সমস্যায় কম-বেশি সবাইকেই ভুগতে হয়। সাধারণত শরীরের হরমোন পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারনে ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা হয়। তাই নিয়মিত পরিচর্যা করা জরুরি।

মুখে ময়লা জমে ব্ল্যাকহেডস হতে পারে। এ থকে বাঁচতে চালের গুঁড়া, শসার রস, গাজরের রসের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

এ ছাড়াও ব্ল্যাকহেডস তোলার জন্য ডিমের সাদা অংশ মুখে লাগিয়ে তাতে একটি টিস্যু চেপে রাখতে হবে। টিস্যুটি শুকিয়ে গেলে ২০ মিনিট পর টেনে তুলে ফেলতে হবে।

বিঃ দ্রঃ যেকোনো একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

মরা চামড়া :
আমাদের ত্বকের ওপর মরা কোষগুলো জমলে ত্বক অনুজ্জ্বল দেখায়। নিয়মিত স্ক্রাবিংয়ের ফলে মরা কোষ ঝরে যায়। মাসে অন্তত দুবার মরা চামড়া তুলে ফেলা উচিত। এ জন্য কিছু স্ক্রাব কীভাবে বানাবেন তা দেখে নিন।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য :
কাঠ বাদামের পেস্ট, চালের গুঁড়া, দুধ ও মধু মিশিয়ে লাগাতে হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য :
চালের গুঁড়া, পাকা পেপের রস, শসার রস এবং যাঁদের ব্রণের দাগ আছে, তাঁরা মেথির গুঁড়া সামান্য মিশিয়ে লাগাতে পারেন।

সংবেদনশীল ত্বকের জন্য :
শুধু চালের গুঁড়ার সঙ্গে টকদই মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে।

স্ক্রাবিংয়ের পর মুখ ধুয়ে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বক শুষ্ক হবে না। বাজারে ভালো ব্র্যান্ডের ময়েশ্চারাইজার কিনতে পাওয়া যায়। এ ছাড়াও গ্লিসারিন, গোলাপজল, অলিভ অয়েল একত্রে মিশিয়ে একটি বোতলে রেখে দিন। শীতে নিয়মিত এটি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করুন।

মেহেদি পাতার ব্যবহারে ত্বকের ৫টি সমস্যার সমাধান করুণ

১৪১

শিরোনাম দেখে চমকে গেলেন? নিশ্চয়ই ভাবছেন যে, চুল আর হাত রাঙাবার মেহেদি কীভাবে ত্বকের সমস্যা দূর করবে! মেহেদি সাধারণত রঞ্জক হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। তবে এর কিছু ঔষধি গুণও রয়েছে যা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে ত্বকের বিভিন্ন রোগ।

১. পা ফাটা :
শীতকালে তো পা হরদম ফাটে। তবে কারো কারো বারোমাস পা ফাটার সমস্যা থাকে। এছাড়া চামড়া ওঠার সমস্যাও থাকে অনেকের। মেহেদিপাতা বেটে ফাটা জায়গায় পুরু প্রলেপ দিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে পা ফাটা প্রতিরোধ হবে।

২. খুশকি :
মাথার ত্বকে ফাঙ্গাসের আক্রমণে খুশকির মতো চর্মরোগ হয়। খুশকি দূর করতেও মেহেদি কার্যকর। একটি পুরো ডিম ফেটিয়ে নিন। এর সাথে মেহেদিপাতা বাটা ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মাথার ত্বকসহ পুরো চুলে লাগান। আধা ঘণ্টা রেখে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই দিন এ কাজ করুন। খুশকি দূর হয়ে যাবে, চুলও পুষ্টি পাবে।

৩. পানি পচা রোগ :
সাধারণত নোংরা, জীবাণুযক্ত পানি লেগে এই রোগ হয়। আবার দীর্ঘক্ষণ পানিতে কাজ করলেও এ রোগ হতে পারে। এতে আঙুলের মাঝের অংশে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষতে মেহেদির প্রলেপ লাগিয়ে রাখলে ঘা ভালো হয়ে যায়।

৪. বলিরেখা :
বলিরেখা দূর করতেও মেহেদির তুলনা নেই। ভাবছেন ত্বক লাল হয়ে যাবে কি না? মুখের ত্বকে মেহেদি ব্যবহারের নিয়মটি পুরো আলাদা। আপনার প্রতিদিনের ফেসপ্যাকে মিশিয়ে নিন কয়েক ফোঁটা মেহেদি পাতার রস। আর ফেসপ্যাক ১০ মিনিটের বেশি রাখবেন না। নিয়মিত ব্যবহারে বলিরেখা হবে বিলম্বিত।

৫. পুরোনো ক্ষত :
পুরোনো ক্ষত, যেগুলো বারবার ফিরে আসে, এসব ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে মেহেদি। মেহেদি পাতা বেটে এরকম ক্ষতে লাগিয়ে রাখুন।

সূত্র: প্রিয় লাইফ

১০ মিনিটেই পার্টি মেকাপ করার সহজ উপায়

140

সাজগোজ কে না ভালবাসে। এ কথা সব সময় সত্যি নয় যে মানুষ শুধু অন্যকে দেখানোর জন্যেই সাজে। সাজলে নিজের মনও ভাল থাকে। কিন্তু সময়ের অভাবে অনেকেই সুন্দর করে সাজতে পারেন না। সঠিক ভাবে মেকাপ করতে হলে বেশ কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। আসুন জেনে নেই মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই কিভাবে নিজেকে তৈরী করবেন।

যা যা প্রয়োজনঃ

– সানস্ক্রিন (Sunscreen)
– কনসিলার (Concealer)
– ফাউন্ডেশন (Foundation)
– আই স্যাডো (Eyeshadow)
– আই লাইনার (Eyeliner)
– মাশকারা (Mascara)
– ব্লাশ (Blush)
– লিপস্টিক (Lipstick / gloss)

যেভাবে করবেনঃ

প্রথমে আপনার মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এবার মুখ এবং ঘাড়ে ভালো ভাবে sunscreen লাগিয়ে নিন। রোদ-বৃষ্টি যাই হোক প্রতিদিন sunscreen ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন । যাদের শুষ্ক ত্বক তারা ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করে শুধুমাত্র SPF 15 বা তার অধিক Moisturizer ব্যবহার করুন। আর যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয় তবে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন এবং মুখ শুকানোর আগে sunscreen ব্যবহার করুন।

১. কনসিলার এর ব্যবহারঃ
কনসিলার দিয়ে আপনার মুখের অসম দাগকে মুছে দিতে পারেন। প্রথমে আপনার মুখের কালো বা সবচেয়ে প্রয়োজনীয় (চোখের নিচে, নাকের দুইপাশে, চিবুকের উপর) স্থানে অনামিকা (ring finger) দিয়ে Concealer বিন্দু বিন্দু আকারে প্রয়োগ করুন। তারপর ভালো ভাবে স্কিনের সাথে মিশিয়ে লাগিয়ে দিন। এবার আপনার মুখের অসম দাগ গুল আর দেখতে পাবেন না।

২. ফাউন্ডেশনের ব্যবহারঃ
ফাউন্ডেশন ব্যবহারের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে, আপনার মুখের রঙের সাথে সামানজস্য পূর্ন সঠিক ফাউন্ডেশনটি আপনি ব্যবহার করছেন। একবারে আপনার সারা মুখে ফাউন্ডেশন লাগাবেন না। মুখের এক অংশে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে প্রথমে তা মুখের স্কিনের সাথে ভালভাবে মিশিয়ে নিবেন। তারপর অন্য অংশে লাগাবেন। এভাবে সমস্ত মুখে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে ফাউন্ডেশন লাগাবেন।

৩. আই স্যাডোর ব্যবহারঃ
ফাউন্ডেশন লাগানোর পর আপনার মুখ মেক-আপের জন্য সম্পূর্ন ভাবে তৈরি আছে। এখন চোখের মেক-আপ করার সময়। সাধারনত আমরা সবাই ড্রেসের রঙের সাথে রঙ মিলিয়ে Eyeshadow ব্যবহার করে থাকি। তবে যে রঙই আমরা ব্যবহার করি না কেন চোখের কোনে হালকা Eyeshadow ব্যবহার করলে ভাল লাগে, আর চোখের শেষ দিকে ধীরে ধীরে কালো বা গাড়ো রঙ লাগালে সুন্দর লাগে। ব্রাশ দিয়ে Eyeshadow খুব ভাল ভাবে চোখের সাথে মিলিয়ে দিতে হবে।

৪. আই লাইনার ব্যবহারঃ
Eyeshadow এর মত আমরা বিভিন্ন ভাবে Eyeliner দিতে পারি। এর সঠিক কনো নিয়ম নেই, যার চোখে যেভাবে ভাল লাগে সে সেভাবেই লাগায়। Eyeliner সাধারনত চোখের উপরের অংশে প্রয়োগ করে। Eyeliner দিয়ে চোখের অনেক ধরণের লুক দিতে পারেন। এদের আবার আছে বাহারী সব নাম। যেমনঃ সাধারন eyeliner, Smokey চোখ, বিড়াল চক্ষু এবং আরো অনেক কিছু।

৫. মাশকারা ব্যবহারঃ
মাসকারা আপনার চোখের সাজকে আরো পরিপূর্ন করে তোলে। মাসকারা ব্যবহারে আপনার চোখ হয়ে ওঠে আরো বেশি সুন্দর। মাসকারার ব্রাশ ব্যবহার করে অতি সহজে চোখের আইল্যাস গুলো আরো ঘ্ন করতে পারেন।

৬. ব্লাশ এর ব্যবহারঃ
যারা একটু বেশি সাজগোজ পছন্দ করে তাদের জন্য ব্লাশ। গালের দুই পাশে নিচ থেকে উপরের দিকে ব্রাশ দিয়ে ব্লাশ দিতে হয়। যাদের রঙ ফর্সা তারা যেকোন রঙের ব্লাশ লাগাতে পারে আর যাদের রঙ একটু কম ফর্সা তারা একটু হালকা রঙ লাগাবেন। তবে রাতের অনুষ্ঠানে সবাই গাঢ় করে লাগাতে পারেন।

৭. লিপস্টিক এর ব্যবহারঃ
প্রথমে lip liner দিয়ে ঠোঁটের চারপাশে একে নিন। তবে lip liner যেন হালকা রঙের হয়। এরপরে আপনার পছন্দের বা আপনার ড্রেসের সাথে মিলিয়ে লিপস্টিক ব্যবহার করুন। আবার আপনার lip liner এর রংটি যদি বেশি সুন্দর হয়, তবে আপনি চাইলে সমস্ত ঠোঁটে lip liner দিতে পারেন, তারপর উপরে লিপ গ্লস বা লিপ balm লাগাতে পারেন। দিনে হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করুন আর রাতে একটু গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। আর খেয়াল রাখবেন যেকনো নামের বা মানের লিপস্টিক ব্যবহার করবেন না। লিপস্টিক ব্যবহারের সময় ভাল মানের লিপস্টিক ব্যবহার করবেন, নয়ত আপনার ঠোঁট কালো হয়ে যাবে।

শিখে নিন পার্লারের চাইতেও সুন্দর “পিনহুইল’ খোঁপার পদ্ধতি মাত্র ৫ মিনিটে (ভিডিও)

139
পার্লারে গিয়ে চুল বাধা মানেই সময় নষ্ট এবং অযথাই অনেকগুলো টাকা খরচ। সবচাইতে বড় কথা, আজ আমরা যে খোঁপাটি বাঁধা আপনাকে শেখাবো, সেটা বাংলাদেশের কোন পার্লারে আপনি করাতে পারবেন না। কেননা এটি একটি বিদেশী চুলের সাজ, যা সাধারণত ব্যালেরিনারাই করে থাকেন। তবে ব্যালেরিনাদের চুলের সাজ হলেও বাঙালি পরিবেশের সাথে দারুন মানিয়ে যাবে। খোঁপায় ফুল পরলে তো দেখতে লাগবে আরও অসাধারণ। চলুন, অসাধারণ এই খোঁপা করার কৌশলটি শিখে নিই ঝটপট।

যা লাগবেঃ
ক্লিপ, হেয়ার ব্যান্ড, চুলের কাঁটা, চিকন রাবার ব্যান্ড।

পদ্ধতিঃ
– সামনের চুলগুলো সুন্দর করে বেঁধে পনি টেইল বেঁধে নিন। তারপর গোল ও মোটা একটি রাবার ব্যান্ড আটকে নিন। খোঁপা করার জন্য ডোনাট শেপের যে ব্যান্ড পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

– এরপর পনিটেইল থেকে খানিকটা চুল নিন, পেঁচিয়ে দড়ির মত করে মোটা ব্যান্ডের সাথে পেঁচিয়ে দিন। যতক্ষণ চুল শেষ না হয়, পেঁচাতেই থাকুন। অবশিষ্ট অংশ পনিটেইলের গোঁড়ার সাথে আটকে দিন। এভাবে সমস্ত চুল করে নিন।

– ব্যস, তৈরি আপনার পিনহুইল খোঁপা!

ভালোভাবে বুঝার জন্য ভিডিওটি দেখুন…

খুব সহজে নিজেই করুন দারুণ এই মেহেদী ডিজাইন! (ভিডিও)

138

অনেকেই পার্লারের ভারী মেহেদী ডিজাইন পছন্দও করেন না। কিন্ত তাই বলে কি মেহেদী পরা হবে না? নিশ্চয়ই হবে। যারা খুব কম ঝামেলায় স্টাইলিশ ডিজাইনের মেহেদী পরতে চান হাতে, তাঁরা দেখে নিতে পারেন এই ভিডিওটি।

সাধারণত মেহেদীর ডিজাইনের ভিডিওগুলো এত দ্রুত চলতে থাকে যে কীভাবে ডিজাইনটি করা হবে তা স্পষ্ট বোঝা যায় না। কিন্ত এই ভিডিওটি ব্যতিক্রম। এখানে আপনি খুব আস্তে ধীরে মনোযোগ সহকারে দেখে নিতে পারবেন পুরো ডিজাইনটি। এবং ডিজাইনটি এত সহজ যে নিজের হাতে করে ফেলে পারবেন নিজেই। ডিজাইনটি শাড়ি বা সালোয়ার কামিজের সাথে যেমন ভালো লাগবে, তেমনই ভালো লাগবে পশ্চিমা পোশাকের সাথেও।

ভালোভাবে শিখে নিন এই ভিডিও দেখে।